Golpo romantic golpo তোমাতেই আসক্ত তোমাতেই আসক্ত সিজন ২

তোমাতেই আসক্ত সিজন ২ পর্ব ১৬


তোমাতেই_আসক্ত ২

পর্ব:১৬

তানিশা সুলতানা

“অহনা তোমার বয়ফ্রেন্ড আছে?

হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ করে জিজ্ঞেস করে সিয়াম। অহনা এক পলক তাকালো সিয়ামের মুখ পানে৷ এ্যানিও তাকিয়ে আছে। যেনো সেও বেশ অবাক এমন প্রশ্ন শুনে৷
“আই হেইট লাভ

সিয়াম যেনো হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো। যাক তাহলে বয়ফ্রেন্ড নেই। ভালোবাসালে ঘৃণা করে সে আলাদা হিসেব। অতিরিক্ত ভালোবাসা দিয়ে সেটা ঠিক করা যাবে। কিন্তু যদি বয়ফ্রেন্ড থাকতো তাহলে তাকে সরানো মুশকিল ছিলো।
” তোমার কি করতে ভালো লাগে?

“বই পড়তে
আর খেতে

সিয়াম বিরবির করে বলে ” সে তো দেখতেই পাচ্ছি। যে হাতির মতো শরীর”
আর মুখে বলে
“আর কি করতে?

” ওই খেতেই ভালো লাগে।

“সারাক্ষণ শুধু খেতে মন চায়?

” হ্যাঁ

“কি খেতে ভালোবাসো?

” মাংস

“কলিজা ভুনাও খাও?

” হ্যাঁ খাই

“তাহলে একদিন আমার কলিজা আর মাংস দুইডা এক সাথে চালে ডালে মিশিয়ে খিচুড়ি বানিয়ে খেয়ে নিও।

অহনা পা থামায়। ঘুরে তাকায় সিয়ামের মুখ পানে। এ্যানিও দুই বার মিউ মিউ আওয়াজ তুলে কিছু একটা বোঝায়।
সিয়ামের একটু ভয়ই করছে। মেয়ে মানুষ বেডি মানুষ আর মহিলা মানুষ এই তিন প্রজাতির প্রাণী দেখে তার মারাক্তক ভয় করে। এরা সাপের থেকেও ভয়ংকর।
তবে সিয়ামকে অবাক করে দিয়ে অহনা বলে ওঠে
” আপনার মাংস মজাদার হবে না। আপনি বরং একটা আস্ত চিকেন তন্দুরি বানিয়ে খাইয়েন আমায়


উদ্বিগ্ন উতলা আবরার তাসনিনকে সচরাচর দেখা যায় না। বরাবরই গম্ভীর এবং মুডি। তার হৃদয় পাষাণ। সদাসর্বদা তাকে পাষাণ রূপেই দেখা যায়। তবে আজকে এমন আদূরে আর উদ্বিগ্ন দেখে উপস্থিত সকল মানুষের মধ্যে কোলাহল শুরু হয়ে গিয়েছে। একে অপরকে শুধচ্ছে।
“হু ইজ সী?”
মেয়েটির সঙ্গে আবরার তাসনিন এর কি সম্পর্ক এটাই ওদের প্রশ্ন। মনা নামক মেয়েটি পানির বোতল ধরে দাঁড়িয়ে আছে। তার ধারণা পানি পান করলে আদ্রিতা বেটার ফিল করবে। তবে সাহস করে আবরারকে সে কথা বলতে পারছে না।
বাকি বাইক গুলো নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছে। ফাস্ট হয়েছে আবরার তাসনিন। যার সেদিকে কোনো হেলদোল নেই। সে ব্যস্ত আদ্রিতাকে নিয়ে। সেকেন্ড হয়েছে টিশান। খুশিতে রীতিমতো লাফাচ্ছে। নিজেকেই নিজে বাহবা দিচ্ছে।
যেনো সেকেন্ড হতে পেরেই সে বিশ্ব জয় করে ফেলেছে। তবে জার্জ এবং মানুষদের রেসের প্রতি কোনো ইন্টারেস্ট নেই। কে জিতলো কে হারলো এসব তারা দেখছে না।
তাদের দৃষ্টি আটকে আছে আবরার তাসনিন এবং আদ্রিতার দিকে।

কিছু মুহুর্ত বাদে আদ্রিতার একটু সুস্থ ফিল হয়। অনুভব করে কেউ একজন তাকে অনবরত ডেকে চলেছে। পিটপিট করে চোখ খুলতেই আবরার তাসনিন এর মুখ খানা দৃশ্যমান হয়। কপালে র/ক্ত৷ আদ্রিতা শুকনো ঢোক গিলে। সময় ব্যয় না করে মুহুর্তেই জড়িয়ে ধরে শক্ত করে। শার্টের ওপর দিয়ে উন্মুক্ত বুকের হদিস পেলো না তবুও মুখ গুঁজে জোরে জোরে শ্বাস টানতে থাকে।
আস্তে আস্তে বলে
“আমার ভয় করছে আবরার।
শক্ত করে জড়িয়ে ধরুন আমায়। ঢুকিয়ে নিন নিজের বুকের মধ্যে।

আবরার শুনলো। প্রতিত্তোরে জবাব দেয় না বা জড়িয়েও নেয় না। স্তব্ধ হয়ে কিছু মুহুর্ত সেভাবেই বসে থাকে৷
মনা এবার বলে
” তাসিন পানি খেলে ওর ভালো লাগবে৷
আই থিংক সুগার ফল করেছে।

আবরার পানির বোতল হাতে নেয়। আদ্রিতাকে বলে
“এ’ম ওকে
তুমি পানি খাও৷

এতোক্ষণে যেনো হুশ ফিরলো আদ্রিতার। সে আবরারের বুক থেকে মুখ তোলে। আশেপাশে তাকায়। সবাই কেমন অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকেই দেখছে। নিশ্চয় নির্লজ্জ বেহায়া গায়ে পড়া মেয়ে ভাবছে।
একটুখানি লজ্জায় পরে যায়। আবরারের হাত থেকে পানির বোতল নিয়ে ঢক ঢক করে সব টুকু পানি খেয়ে নেয় ও।
তারপর রিনরিনিয়ে বলে
” আমি বাড়ি যাবো

আবরার হাত পা ঝেড়ে দাঁড়িয়ে পড়ে। পরণে মোটা জ্যাকেট খুলে ফেলে। হেলমেট তো অনেক আগেই খুলে পরে গিয়েছে।
এখন উন্মুক্ত শরীর স্পষ্ট দৃশ্যমান।
আদ্রিতার কথা বেমালুম ভুলেই গেলো সবাই। এবার এক বাক্যে আবরার তাসনিন নামটা যব করে যাচ্ছে। বড় স্টেজে দাঁড়িয়ে একজন ইংরেজিতে অনর্গল কিছু বলে চলেছে। সেসব আদ্রিতা বুঝতে সক্ষম হচ্ছে না। তবে বারংবার বলা তাসিন নামটা সে বুঝতে পারছে৷

“কি বোকা রে তুই আদ্রি
লোকটা মরুক বা বাঁচুক তোর কি?
এমন হাইপার কেনো হলি? হাতি তো মনে করবে তুই তার প্রেমে আঁচড়ে পড়েছিস”

আবরারের কপালে ব্যান্ডেজ করে দেয় মনা। একটা ছেলে শার্ট এনে দেয়। আবরার সেটা গায়ে জড়াতে জড়াতে আদ্রিতাকে উদ্দেশ্য করে বলে
“লেটস গো

স্টেজ থেকে পুরুষ্কার নেওয়ার জন্য ডাকা হচ্ছে তাকে কিন্তু সেদিকে নজর নেই। অগত্যা মনাই গিয়ে ট্রফি নিয়ে আসে।।


ধীর গতিতে গাড়ি চলছে৷ আদ্রিতা ক্ষণে ক্ষণে তাকাচ্ছে আবরারের মুখ পানে। লোকটা এমন গম্ভীর হয়ে থাকে কেনো?
আর এমন ছোট ছোট দাঁড়ি কেনো তার?
চোয়ালই বা এমন শক্ত কেনো?
সিগারেটই বা কেনো খায়?
একটু ভালো টালো হতে পারলো না?

” শুনুন

“বলো জান

স্পষ্ট শুনলো আদ্রিতা। বুকটা কেঁপে উঠলো। সঙ্গে তাকালো গম্ভীর মুখ পানে। হার্টবিট প্রচন্ড বেগে লাফাচ্ছে। সেই সঙ্গে হাত পা কাঁপছে। আশ্চর্য এমন হওয়ার মানে কি?
কি এমন বলেছেই বা সে?
ছোট্ট একটা শব্দ।

” ক…..কি বললেন?

আবরার দুই ভ্রু আড়াআড়ি ভাবে কুঁচকে তাকায় আদ্রিতার মুখ পানে
“কি বললাম?

আদ্রিতার উত্তেজনা বেড়ে যাচ্ছে। সে শুনতে চায়। আসলেই কি বলেছে? না কি মনের ভুল? কনফার্ম হতেই হবে তাকে।

” এ…খুনি বললেন।

“শুনেছো?

আদ্রিতা অনবরত মাথা নারিয়ে সম্মতি প্রকাশ করে।
” তাহলে?

জিভ দ্বারা ঠোঁট ভেজায় মেয়েটা। ওড়না মুঠো করে ধরে। কয়েকবার চোখের পলক ঝাপটিয়ে নিজেকে একটু স্টং করার চেষ্টা চালায়।
তারপর বলে
“আমি যা শুনেছি তাই ই বলেছেন?

” তুমি কি শুনেছো?

“জান

চলবে

” আবরার তাসনিন” ইবুক কিনুন বইটই থেকে।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply