#যেখানে_প্রেম_নিষিদ্ধ
#ইশরাত_জাহান_জেরিন
ছাদ থেকে নামার সময় সাঁঝের পা দুটো কাঁপছিল। আরযান মীরের ওই পাথরের মতো শক্ত হাতের টান আর বুকের ভেতরের চড়া ধুকপুকানি এখনো তার পুরো শরীরে অবাধ্য এক শিহরণ জাগাচ্ছে। সে নিজের ঘরে ঢুকে ধপাস করে দরজাটা বন্ধ করে দিল। আয়নায় তাকিয়ে দেখল, আরযান নিজের হাতে শাড়ির আঁচলটা যেভাবে তার পেটের ওপর টেনে পিন আটকে দিয়েছে, সেখানে পিনটা নিখুঁত হলেও সাঁঝের জর্জেট শাড়ির ভাজটা কেমন যেন আরযানের তীব্র অধিকারবোধের গল্প বলছে।
“জল্লাদ! হিটলারের বড় ভাই!” সাঁঝ বিছানায় মুখ গুঁজে কাঁদতে কাঁদতে বিড়বিড় করল। “ফোনটাও কেড়ে নিল? আবার বলে কিনা ‘আমার ঘরে তালাবন্ধ করে রাখব’! এই নিমপাতা কি জানে না এটা সাঁঝেরও ঘর? আসুক না তালা মারতে, চাবি যদি আমি গিলে না ফেলেছি!”
এদিকে ছাদের ওপর আরযান মীর তখনো একা দাঁড়িয়ে ছিলেন। পকেট থেকে সাঁঝের ফোনটা বের করে তিনি স্ক্রিনের দিকে তাকালেন। স্বাধীনের শেষ মেসেজটা দেখে তাঁর ফর্সা কপালটা আবার কুঁচকে গেল। আরযান খুব ভালো করেই জানেন, সাঁঝ মেয়েটা বড্ড অবুঝ আর ইম্যাচিউর। স্বাধীন তো সাঁঝের কলেজের ছেলে, কিন্তু এই বয়সের ছোকরাদের চোখের ভাষা আর নিয়ত বুঝতে আরযানের এক সেকেন্ডও লাগে না।
আরযান নিজের পার্সোনাল ফোনটা বের করে কলেজের প্রিন্সিপালকে কল দিলেন। গলার স্বর একদম বরফ শীতল, “হ্যালো প্রিন্সিপাল সাহেব, মীর আরযান বলছিলাম। কাল থেকে সাঁঝের আশেপাশে যেন বহিরাগত বা কোনো বখাটে ছেলেদের ভিড় না দেখি। কলেজের গেটে মীর এভিয়েশনের একটা স্পেশাল সিকিউরিটি টিম থাকবে। আর ‘স্বাধীন’ নামের যে ছেলেটা সাঁঝের ডিপার্টমেন্টে পড়ে, ওর অ্যাক্টিভিটির ওপর যেন কড়া নজর রাখা হয়। কোনো উল্টোপাল্টা দেখলে কলেজ থেকে সোজা আমাজনের জঙ্গলে পাঠানোর ব্যবস্থা আমি করব।”
ফোনটা রেখে আরযান ফোনের গ্যালারিটা খুলল। সেখানে সাঁঝের শাড়ি পরা সেই আধো-অগোছালো সেলফিগুলো রয়েছে। আরযান ডিলিট করতে গিয়েও থেমে গেলেন। ছবিগুলোতে সাঁঝকে বড্ড মায়াবী লাগছে, ঠিক যেন এক অবাধ্য রাজকুমারী। আরযান আঙুল দিয়ে স্ক্রিনে সাঁঝের গালে একটা কাল্পনিক ছোঁয়া দিয়ে বিড়বিড় করলেন, “অন্য পুরুষের চোখের পবিত্রতা রক্ষা করার শখ তোর আমি এক দিনেই ঘুচিয়ে দেব, সাঁঝ।”
–
এদিকে দোতলার শেষ প্রান্তের ঘরে আব্রাজ তখন যন্ত্রণায় ছটফট করছে। আরযান ভাই তার সমস্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়ায় তার পকেটের অবস্থা এখন একদম শূন্য। একজন নতুন নির্বাচিত অনারেবল এমপি, যার বাইরে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক ঘোরে, সে এখন নিজের ঘরে একটা ফুটো পয়সাও ছাড়া বসে আছে। তার ওপর বিকেলে বাসে করে পথসভায় যাওয়ার ডিক্টেশন তো আছেই!
সে ধীর পায়ে খাটের দিকে এগিয়ে গেল। নৈশি বেনারসি শাড়িটা বদলে একটা সাধারণ সুতি শাড়ি পরে খাটের একপাশে একদম দেয়াল ঘেঁষে শুয়ে আছে। তার চোখ বন্ধ, কিন্তু শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি আর টানটান শরীর বলে দিচ্ছে সে আসলে জেগে আছে। এই মেয়ে ঘুমাবার পাত্রী নয়। আব্রাজ খাটের ওপর বসে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজের শার্টের ওপরের বোতামটা আলগা করল। “নৈশি নেত্রী, আপনি কি ঘুমিয়ে পড়েছেন? নাকি পকেটের শোকে মৃত স্বামীর জন্য মনে মনে শোকসভা করছেন?”
নৈশি চোখ না খুলেই বলল, “আপনার সাথে কথা বলার কোনো রুচি আমার নেই, মীর আব্রাজ রোদ। আপনি এখন একজন দেউলিয়া এমপি। যার নিজের কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সচল নেই, তার সাথে পলিটিক্যাল ডিসকাশন করাও সময়ের অপচয়।”
“আরে, অ্যাকাউন্ট তো ভাই সাময়িকভাবে লক করেছে!” আব্রাজ একটু ক্ষুব্ধ হয়ে নৈশির দিকে কিছুটা ঝুঁকে বসল। “কিন্তু আমার ভেতরের পলিটিক্যাল পাওয়ার কি আর লক করতে পেরেছে? আপনি তো দেখছি বড্ড নিষ্ঠুর। বাসর রাতে স্বামী পকেটের শোকে মরছে, আর আপনি সুড়সুড় করে দেয়াল ঘেঁষে ঘুমোচ্ছেন? আপনার পলিটিক্যাল এথিকস কি এটাই বলে?”
নৈশি এবার ঝট করে উঠে বসল। তার চোখের ভেতরের সেই তেজ যেন নিঝুম ঘরের নীল আলোতেও জ্বলে উঠল। সে অবজ্ঞার হাসি হেসে বলল, “স্বামী? আপনাকে আমি কোনোদিন এই মর্যাদা দেব না। আপনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই বিয়েটা করেছেন। মনে রাখবেন, আরযান ভাই আপনার অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে খুব ভালো করেছেন। অহংকারী নেতার পকেট খালি হলে তবেই সে মাটির মানুষের কষ্ট বোঝে।”
নৈশির কড়া কথায় আব্রাজ দমে যাওয়ার পাত্র নয়। সে উল্টো আরও এক কদম এগিয়ে নৈশির ঠিক মুখোমুখি হয়ে বসল। ঘরের নীল আলোয় নৈশির রাগী মুখটাকে আজ অদ্ভুত সুন্দর দেখাচ্ছে। আব্রাজ একটু ধূর্ত হেসে বলল, “বাহ্! দারুণ স্পিচ তো! আপনি তো দেখছি আমার অপজিশন পার্টির চেয়েও ভালো বক্তৃতা দেন। মাটির মানুষের কষ্ট? নেত্রী, মাটির মানুষের কষ্ট তো আমি আজ বিকেলেই বুঝেছি যখন কন্ডাক্টর আমার পাঞ্জাবি টেনে ধরে বলল, ‘কিরে নেতা, স্টুডেন্ট হাফ পাস মারার চেষ্টা করছিস কেন?’ আমার পকেটে তখন একটা দশ টাকার নোটও ছিল না। আরযান ভাইয়ের এই ‘ইকোনমিক ইমার্জেন্সি’র কারণে আজ আমাকে বাসে পকেটমারের মতো দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে!”
নৈশি এবার বিছানা থেকে নেমে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। বাইরের বৃষ্টিটা এখন ঝিরঝির করে পড়তে শুরু করেছে। সে ঘুরে দাঁড়িয়ে আব্রাজকে উদ্দেশ্য করে বলল, “শুনুন মীর আব্রাজ রোদ, আপনার নাটক বন্ধ করুন। আপনি এমপি হয়েছেন মানুষের সেবা করার জন্য, বাসে চড়া বা পকেট খালি হওয়া আপনার জন্য একটা শিক্ষণীয় লেসন হওয়া উচিত। আর আমার কথা বলছিলেন না? আমি এখানে আপনার বউ হয়ে আসিনি, আমি এসেছি এই মীর বাড়ির ভেতরের হিপোক্রেসিগুলো এক্সপোজ করতে। আপনাদের এই ক্যাপিটালিস্ট সাম্রাজ্য আমি ভেতর থেকেই ভাঙব।”
আব্রাজ খাট থেকে নেমে নৈশির একদম পেছনে গিয়ে দাঁড়াল। তার গলার স্বরে এবার একটু দুষ্টুমি মিশে গেল। “ভেরি গুড! ক্যাপিটালিস্ট সাম্রাজ্য ভাঙতে হলে আগে তো এই সাম্রাজ্যের রাজকুমারকে বশে আনতে হবে। তা নেত্রী, আপনার এই ‘রিভল্যুশন’ কি আজ রাত থেকেই শুরু হবে? নাকি বাসর রাতের ডিনার হিসেবে আপনার ওই রাজনৈতিক ইশতেহারটাই শোনাবেন?”
নৈশি এক ঝটকায় ঘুরে দাঁড়াল। আব্রাজের চোখের গভীরতা দেখে তার কেন যেন এক মুহূর্তের জন্য বুকটা কেঁপে উঠল। সে নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, “আপনি বড্ড বেশি কথা বলেন। দয়া করে ওপাশে গিয়ে ঘুমান। দেয়ালের ওই দাগটা দেখছেন? ওটাই আজ থেকে আমাদের মাঝখানের পলিটিক্যাল বর্ডার। সীমানা পার হওয়ার চেষ্টা করবেন না।”
আব্রাজ মুখটা ব্যাজার করে খাটের এক কোণে কোনোমতে শরীরটা এলিয়ে দিল। পকেট শূন্য হওয়ার শোক তাকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খাচ্ছে। ঠিক তখনই তার নজরে পড়ল নৈশির ছোট ভ্যানিটি ব্যাগটা ড্রেসিং টেবিলের ওপর রাখা। তার মনে পড়ল, নৈশি যখন বাপের বাড়ি থেকে এসেছে, নিশ্চয়ই তার ব্যাগে কিছু ‘জরুরি ফান্ড’ আছে।
“আরযান ভাই আমার ব্যাংক লক করেছে, কিন্তু এই নেত্রীর ব্যাগ তো আর লক করেনি!” আব্রাজ মনে মনে একটা ফন্দি আঁটল।
সে অত্যন্ত সতর্কভাবে খাট থেকে নামল। বিড়ালের মতো পা ফেলে সে ড্রেসিং টেবিলের দিকে এগিয়ে গেল। নৈশি তখন গভীর ঘুমে জড়িয়ে আছে। আব্রাজ কম্পিত হাতে ব্যাগের চেইনটা খুলল। অন্ধকারের মধ্যে হাতড়াতে হাতড়াতে সে একটা মানিব্যাগ খুঁজে পেল। খুশিতে তার চোখ চকচক করে উঠল।
“সাবাশ আব্রাজ! তুই তো কেবল পলিটিশিয়ান নোস, তুই তো দেখছি বড় মাপের জাদুকর!” সে মানিব্যাগটা খুলতেই দেখল ভেতরে কয়েকটা চকচকে পাঁচশ টাকার নোট।
ঠিক তখনই ঘটে গেল মহাবিপদ। সাঁঝের বজ্জাত ‘চিকু’ পাখিটা কীভাবে যেন জানালার ঘুলঘুলি দিয়ে আব্রাজের ঘরে ঢুকে পড়েছিল। সে অন্ধকারে আলমারির ওপর বসে সব দেখছিল। আব্রাজ যখনই নোটগুলো বের করতে গেল, চিকু হঠাৎ ডানা ঝাপটে চিৎকার করে উঠল, “চোর! চোর! নেত্রীর টাকা চুরি!”
আব্রাজ আঁতকে উঠে নোটগুলো পেছনের দিকে লুকানোর চেষ্টা করল। কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে গেছে। নৈশি এক লাফে বিছানা ছেড়ে উঠে সুইচ টিপে আলো জ্বালিয়ে দিল।
“আপনি! আপনি আমার ব্যাগে কী করছেন?” নৈশির চোখ এখন আগুনের গোলার মতো জ্বলছে।
আব্রাজ থতমত খেয়ে চশমাটা নাকের ওপর ঠিক করল। “না… মানে নেত্রী… আমি আসলে চেক করছিলাম আপনার ব্যাগে কোনো ‘অবৈধ অস্ত্র’ বা ‘বিস্ফোরক’ আছে কি না। জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে একজন এমপির এইটুকু তল্লাশি করার অধিকার আছে!”
নৈশি ক্ষিপ্ত হয়ে এগিয়ে এসে আব্রাজের হাত থেকে মানিব্যাগটা কেড়ে নিল। “জাতীয় নিরাপত্তা? আপনি আমার টাকা চুরি করছিলেন! আপনি কি জানেন এটা একটা ক্রিমিনাল অফেন্স?”
“আরে বাবা চুরি কেন হবে? এটা হলো ‘পলিটিক্যাল ট্যাক্স’!” আব্রাজ তখনো আত্মপক্ষ সমর্থন করার চেষ্টা করছে। “আপনি এই বাড়িতে ফ্রি-তে খাচ্ছেন, থাকছেন, তার একটা ট্যাক্স তো আমাকে দিতে হবে!”
চিকু তখন আব্রাজের মাথার ওপর চক্কর কাটছে আর চেঁচাচ্ছে, “জেলে যাবে! আব্রাজ জেলে যাবে! কসাই ভাইকে ডাকব!”
চিকুর আর আব্রাজের চিৎকারে পুরো করিডোরে হুলস্থুল পড়ে গেল। পাশের ঘর থেকে আরভিদ আর আর্যা বেরিয়ে এলো। নিচ তলা থেকে রাজ আর অবনীও দৌড়ে এলো। সবার সামনে দাঁড়িয়ে স্বয়ং আরযান। আরযান ঘরের ভেতর ঢুকে দেখল আব্রাজ একহাতে একটা পাঁচশ টাকার নোট ধরে আছে, আর নৈশি তার হাত কামড়ে ধরার চেষ্টা করছে। “কী হচ্ছে এখানে?” আরযানের গলার স্বর শুনে সবাই জমে বরফ হয়ে গেল। চিকু পাখিটা ভয় পেয়ে আরযানের কাঁধে গিয়ে বসল।
আব্রাজ কাঁচুমাচু হয়ে বলল, “ভাই… আসলে… আমি নৈশির কাছে ছোট একটা ‘লোন’ চাচ্ছিলাম। কাল বাসের ভাড়া দেওয়ার মতো টাকা তো নেই…”
নৈশি নালিশের সুরে বলল, “মিথ্যা বলছে আরযান ভাই! ও আমার ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে টাকা চুরি করছিল। একজন এমপির এই হাল?”
আরযান একবার আব্রাজের দিকে তাকাল, তারপর নৈশির দিকে। সে অত্যন্ত শান্তভাবে আব্রাজের হাত থেকে নোটটা নিয়ে নিজের পকেটে পুরল।
“আব্রাজ!” আরযানের ডাক শুনে আব্রাজের কলিজা শুকিয়ে গেল।
“জি ভাই?”
“চুরি করা তো অন্যায়, কিন্তু ধরা পড়াটা তার চেয়েও বড় গাধামি। তুই মীর বংশের নাম ডুবিয়েছিস। আর নৈশি!”
নৈশি সোজা হয়ে দাঁড়াল। “জি?”
“আগামীকাল থেকে তোমার এই ভ্যানিটি ব্যাগটাও আমার হেফাজতে থাকবে। এই বাড়িতে কোনো ‘প্রাইভেট ফান্ড’ চলবে না। সব টাকা মীর বাড়ির কমন ফান্ডে জমা হবে। আর আব্রাজ…!”
আব্রাজ ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলল। “কাল সকালে তুই বাসে করে নয়, তুই কাল সাইকেলে করে নির্বাচনী এলাকায় যাবি। বাসের টিকিট কাটার যোগ্যতাই তোর নেই।”
আব্রাজ চিৎকার করে উঠল, “সাইকেল? ভাই! আমার নির্বাচনী এলাকা ১০ মাইল দূরে!”
আরযান আর কোনো কথা না বলে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। পেছনে আরভিদ মুখ চেপে হাসছে, আর রাজ তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল, “চিন্তা করিস না ভাই, সাইক্লিং করলে হার্ট ভালো থাকে। নো সাইড এফেক্ট!”
নৈশি নিজের ফাঁকা ব্যাগটার দিকে তাকিয়ে রাগে ফুঁসতে লাগল। আর আব্রাজ ঘরের কোণে বসে বিড়বিড় করল, “এই চিকুটাকে যদি আমি কাল ডাল ভাত দিয়ে না মেখেছি! আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারটাই শেষ করে দিল একটা পাখি!”
পুরো মীর বাড়ির এই মাঝরাতের গন্ডগোল আর হাসাহাসির মাঝে সাঁঝ আড়াল থেকে উঁকি দিয়ে দেখছিল আর মনে মনে ভাবছি, “যাক বাবা, আরযান ভাই শুধু আমার পেছনেই লাগেনি, মেজো ভাইয়ার তো পকেট আর ইজ্জত দুটোই সাইকেলের চাকার নিচে পিষ্ট করে দিল!”
চলবে?
Share On:
TAGS: ইশরাত জাহান জেরিন, যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব ১৫
-
যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব ৪
-
প্রেমতৃষা পর্ব ২১+২২
-
প্রেমতৃষা পর্ব ২৯+সারপ্রাইজ পর্ব
-
প্রেমতৃষা পর্ব ১৭+১৮
-
প্রেমতৃষা পর্ব ২৫+২৬
-
যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব ২২
-
প্রেম আসবে এভাবে পর্ব ১২
-
প্রেমতৃষা পর্ব ৪+৫
-
কমান্ডার তনয় জেইদি গল্পের লিংক