সানা_শেখ
যারা অন্য পেজ থেকে গল্পটা পড়বেন তারা সাবধানে পড়বেন। ইতি মধ্যেই আমার নজরে এসেছে গল্পটার পরের পার্টগুলো চ্যাটজিপিটি দিয়ে লিখে পোস্ট করা হচ্ছে আমার নাম করেই। উল্টাপাল্টা কিছু পড়ে আমাকে বকাবকি করবেন না কেউ।
আমার টাইপিং সুবিধার জন্য আবরার সাহিলকে সাহিল থেকে আবরার ডাকা হবে এখন থেকে। সাহিল নামটা বারবার ভেঙে ভেঙে লিখতে হচ্ছে যার জন্য বিরক্ত লাগছে লিখতে।
রাত এগারোটায় বাড়ি ফিরল আবরার। সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যেতেই সোফায় বসে থাকা আবরারের বাবা বর্তমান সেতু মন্ত্রী আমজাদ খান বললেন,
“আবরার, দাঁড়াও।”
আবরার দাঁড়াল, কিন্তু বাবার দিকে ফিরল না। আমজাদ খান বললেন,
“অসুস্থ শরীর নিয়ে এত রাত পর্যন্ত কোথায় ছিলে?”
“বাইরে।”
“সারাদিন বাইরে কী তোমার? কতবার কল করেছি, রিসিভ করোনি কেন?”
“ইচ্ছে হয়নি তাই করিনি। আগেও বলেছি, আজকে আবার বলছি, আমার লাইফ নিয়ে আমি কাউকে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য নই। আমি কী করব না করব সেটা একান্তই আমার ব্যাপার, এসব নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না। ডোন্ট ইন্টারফিয়ার ইন মাই পার্সোনাল লাইফ।”
“তুমি দিনদিন অবাধ্য বেপরোয়া হয়ে যাচ্ছো সেটা কী বুঝতে পারছো?”
“আই নো, আমি জানি আমি কেমন। আমাকে নিয়ে ভাবতে হবে না আপনার, নিজের চরকায় তেল দিন।”
“আবরার!”
“জাস্ট শাট আপ।”
শকড হয়ে ছেলের দিকে তাকিয়ে রইলেন আমজাদ খান। আবরার ধুপধাপ পা ফেলে চলে গেল সিঁড়ি বেয়ে। এই ছেলে দিনদিন তার হাত ফসকে বেরিয়ে যাচ্ছে। অবাধ্য বেপরোয়া তো হয়েছেই, এখন বেয়াদবও হচ্ছে আস্তে আস্তে। তাকে কীভাবে শাট আপ বলে চলে গেল? ছেলের কথা শুনে তার মনে হচ্ছে সে ছেলের বাপ নয়, ছেলেই তার বাপ।
আমজাদ খানের দ্বিতীয় স্ত্রী মহুয়া কবীর স্বামীর দিকে তাকিয়ে বললেন,
“বলেছিলাম আবরারকে কিছু বলার প্রয়োজন নেই, তাকে তার মতো থাকতে দাও। শুধু শুধু কেন ছেলের কাছে অপমানিত হচ্ছো? সে কি এখনো ছোটো নাকি?”
“ওর বিহেভিয়ার দেখলে তুমি? কীভাবে কথা বলে গেল আমার সঙ্গে?”
“তুমি তার সঙ্গে কথা না বললেই তো সে বলতে পারে না। তুমি কেন বলতে যাও? তাকে ছেড়ে দাও নিজের মতো করে।”
“ও ভুল পথে গেলে শাসন করব না আমি?”
“সে তো এসব পছন্দ করছে না। সে চায় না আমরা কেউ তার লাইফে ইন্টারফিয়ার করি।”
আমজাদ খান চোয়াল শক্ত করে বসে রইলেন। এই ছেলেকে কীভাবে ঠিক করবেন বুঝতে পারেন না।
*****
পরদিন ভার্সিটিতে যাওয়ার জন্য রেডি হয়ে রুম থেকে বের হলো সারাহ। ফারিশ-ও রেডি হয়ে রুম থেকে বের হলো তাকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য। সারাহ ভাইয়ের দিকে একবার তাকিয়ে দ্রুত পায়ে সিঁড়ি বেয়ে নামতে শুরু করল। ফারিশের সঙ্গে যেতে হবে ভেবেই তার বুকের ধুকপুক বেড়ে গেছে। ফারিশের গম্ভীর অভিব্যক্তিই তার ভয়ের কারণ, তাছাড়া আর কিছুই নয়। ফারিশ তাকে কোনোদিন ধমক দেয়নি, রাগারাগি করেনি, কষ্ট দিয়ে কিছু বলেওনি, তবুও ফারিশকে ভয় লাগে। সে এই বাড়িতে আসার পর একবারের জন্যও ফারিশকে হাসতে দেখেনি, রাগারাগি করতেও দেখেনি। ফারিশ শান্ত স্বভাবের ভদ্র, চুপচাপ, গম্ভীর ছেলে। ফাইয়াজের সঙ্গেও খুব একটা কথা বলে না প্রয়োজন ছাড়া। তবে ছোটো ভাই ফাহিমের সঙ্গে তার বেশ ভাব। ফাহিম বড়ো ভাই বলতে পাগল।
গ্যারেজ থেকে বাইক বের করে নিয়ে এসে সারাহর দিকে তাকিয়ে স্বভাব বজায় রেখে ভারী কন্ঠে বলল,
“সারাহ, উঠে বসো।”
সারাহ মিনমিন করে বলল,
“ভাইয়া, আমি একাই যেতে পারতাম, আমার কোনো সমস্যা হবে না।”
“আর কোনো সমস্যা হতে দিলে তো হবে। উঠে বসো তুমি। রোজ রোজ কারো কাছে কৈফিয়ত দিতে পারব না।”
শেষের কথাগুলো শুনে চুপচাপ উঠে বসল সারাহ। ভাইকে না ধরে শক্ত করে বাইক ধরে বসল। ফারিশ বলল,
“ভালোভাবে ধরে বসো নয়তো পড়ে যাবে। পড়ে গেলে আবার আমার মাথা কলিজা জ্বালিয়ে ছাড়বে।”
সারাহ অসহায় মুখ করে ডান হাতে ভাইয়ের কাঁধ ভালোভাবে ধরে বসল। ফারিশ বাইক নিয়ে বেরিয়ে গেল বাড়ি থেকে।
নিজেদের রুমের বারান্দায় দাঁড়িয়ে দুজনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন নিতু সুলতানা। দুজন চলে যেতেই তিনিও রুমে ফিরে গেলেন। দুজনকে রেডি হয়ে একসঙ্গে বাইরে বের হতে দেখেই বারান্দায় এসে দাঁড়িয়েছিলেন। দুজন একসঙ্গে যায় নাকি আলাদা আলাদা যায় এটা দেখার জন্যই মূলত এসেছিলেন।
ভার্সিটির গেইটের কাছে এসে বাইক থামাল ফারিশ। সারাহ নেমে দাঁড়াতেই বলল,
“আমি এখান থেকেই নিয়ে যাব আবার।”
“আচ্ছা, ভাইয়া।”
“ভেতরে যাও।”
সারাহ গেইটের ভেতরে প্রবেশ করতেই ফারিশ চলে গেল।
ক্লাস শেষে গেইটের বাইরে আসতেই সারাহ দেখল তার ভাই বাইক নিয়ে তার অপেক্ষায় রয়েছে। সারাহ দ্রুত পায়ে ভাইয়ের কাছে এগিয়ে এলো। ফারিশ বাইক ঘুরিয়ে উঠে বসতেই সারাহ উঠে বসল। ফারিশের পরনে কালো প্যান্ট, শর্ট হাতা সাদা টিশার্ট। এতক্ষণ হেলমেট পরেই অপেক্ষা করছিল বোনের জন্য।
দুজন চলে যেতে যেতেই এগিয়ে এসে দাঁড়াল আবরার। সে সারাহর পেছন পেছনই আসছিল। বিড়বিড় করে বলল,
“ছেলেটা কে? ভাই, বয়ফ্রেন্ড, নাকি অন্য কিছু?”
মৃন্ময় বলল,
“বিড়বিড় করে কী বলছিস?”
“ওই ছেলেটা কে সেটা জানতে হবে।”
“কোন ছেলে কীসের ছেলে?”
জুনায়েদ বলল,
“কী হয়েছে তোর বলতো?”
“কিচ্ছু হয়নি, ছাড় এসব। আমি আসছি এখন।”
আবরার আর এক মুহূর্ত দেরি করল না। বাইক স্টার্ট দিয়ে ঝড়ের গতিতে বাড়ির দিকে ছুটল। তার চোখের সামনে বারবার ভেসে উঠছিল দুই মাস আগের শপিংমলের সেই দৃশ্যটা। সেদিন বিকেলে হুট করেই এক মেয়ে প্রায় তার পায়ের ওপর আছড়ে পড়েছিল। সম্ভবত কারো পায়ের সাথে হোঁচট খেয়েই ভারসাম্য হারিয়েছিল মেয়েটা। আবরার প্রথমে কিছুটা থতমত খেয়ে নিচে পড়ে থাকা মেয়েটির দিকে তাকিয়ে ছিল। পরক্ষণেই ঘোর কাটিয়ে তাকে টেনে তুলেছিল নিচ থেকে।
লজ্জায় মেয়েটি আবরারের দিকে চোখ তুলে তাকাতে পারছিল না। ব্যথায় আর লজ্জায় তার দুচোখ তখন টইটম্বুর, ধবধবে ফরসা গাল দুটো লাল হয়ে উঠেছিল। আবরার অপলক দৃষ্টিতে এক মায়াবিনীকে দেখছিল, গভীরভাবে, গভীর নজরে। এক অদ্ভুত মায়া যেন জড়িয়ে ছিল মেয়েটির মাঝে। মেয়েটি নিচু স্বরে একটা ‘ধন্যবাদ’ জানিয়েই দ্রুত ভিড়ের মাঝে চলে গিয়েছিল। আবরারের তখন আর কোনোদিকে খেয়াল ছিল না, মেয়েটা চোখের আড়াল হতেই যেন হুঁশ ফিরেছিল তার।
এরপর কতবার যে সে সেই মায়াবিনীকে খুঁজেছে, তার হিসেব নেই। মেয়েটা সেদিন তার সামনে আছড়ে পড়েছিল ঠিকই, কিন্তু আবরার নিজে আছড়ে পড়েছিল মেয়েটার প্রেমে, প্রথম দেখাতেই, গভীরভাবে। যাকে বলে ‘লাভ অ্যাট ফার্স্ট সাইট’।
অবশেষে একদিন ভার্সিটির ক্যাম্পাসে আবার দেখা মিলল সেই মায়াবিনীর—হ্যাঁ, মায়াবিনীই বটে। মায়াবিনী বলেই তো তাকে মায়ায় ফেলেছে। আবরার শুধু মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে দেখছিল তাকে। তার চোখের সামনেই তার মায়াবিনীকে তার বন্ধুরা র্যাগ দিচ্ছিল, তবুও সে কিচ্ছু বলেনি। শুধু চুপচাপ দাঁড়িয়ে সেই ভীত অসহায় মায়াবিনীকে অবলোকন করছিল। কি সুন্দর ছিল সেই মুহূর্ত টুকু! এরপর থেকে সুযোগ পেলেই সে মায়াবিনীকে দেখে যেত। নাম না জানায় মনে মনে তাকে ‘মায়াবিনী’ বলেই ডাকত।
কিন্তু ভাগ্যের কী নিষ্ঠুর পরিহাস! একদিন তার মায়াবিনীই তাকে ভুল করে ধাক্কা দিয়ে ময়লার ড্রেনে ফেলে দিল। আবরার কী তখন জানত যে ড্রেনে ফেলে দেওয়া সেই মানুষটাই তার মায়াবিনী ? জানলে কী ওভাবে বকাবকি করত? উল্টো তো তাকেও ওই ড্রেনে চুবিয়ে শোধ নিতে চেয়েছিল সে!
গতকাল যখন সারাহ তাদের দিকে এগিয়ে আসছিল, তাকে দেখে আবরার পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। তার মায়াবিনীই তাকে ফেলে দিয়েছিল! ভাগ্যিস অন্য কোনো ছেলেকে ধাক্কা দেয়নি, এই ভেবেই অদ্ভুত এক স্বস্তি কাজ করছিল তার ভেতরে।
আহারে, তার মায়াবিনীকে সেদিন এক বজ্জাত
কু/কুর তাড়া করেছিল!
সারাহর পুরো নামটা শোনার পর থেকেই আবরার যেন আরো বেশি ঘোরের মধ্যে আছে। সারাহর নামের রেশ কা’টছেই না। বারবার আনমনে উচ্চারণ করছে— ‘চেরি ব্লসম, আমার চেরি ব্লসম, আমার মায়াবিনী, আমার হৃদয় হরণকারী!’
*****
ফাইয়াজের সঙ্গে সোফায় বসে আছে সারাহ। ফারিশ নিজের রুমে, সে বাড়িতে থাকলে বেশির ভাগ সময় রুমেই থাকে। নিতু সুলতানা ফাহিমকে পড়াচ্ছেন নিজের রুমে বসে। ফাহিম পড়ে কম, দুষ্টামি করে বেশি। ফুয়াদ হাসান বাইরে রয়েছেন এখনো।
ফাইয়াজ হাত থেকে ফোন রেখে দিয়ে সারাহর দিকে তাকাল। সারাহ ফোনের স্ক্রিনে ডুবে আছে, মনোযোগ দিয়ে টাইপ করতে ব্যস্ত। ফাইয়াজ জোরে ডেকে উঠল,
“সারাহ।”
এত জোরে ডাক শুনে চমকে উঠল সারাহ। আতঙ্কিত হয়ে তাকাল ভাইয়ের মুখের দিকে। বলল,
“কী হয়েছে?”
“আয় খেলি।”
“না।”
“কেন?”
“তোমার সঙ্গে আর কোনো কিছু খেলবো না আমি।”
“তুই জিতলে আগামী এক সপ্তাহ আমি তোর সব কথা শুনবো, যা বলবি তাই করব।”
সারাহ নড়েচড়ে বসল। ছোটো ছোটো চোখ বানিয়ে বলল,
“আর যদি তুমি জিতে যাও?”
“আধা ঘণ্টা তুই আমার পা টিপে দিবি।”
“কী খেলা?”
“পাঞ্জা।”
“এ্যাহ, না।”
“কেন?”
“তোমার সঙ্গে আমি পারব না, তাই খেলবোও না।”
“পারবি, তোর শক্তি আছে অনেক।”
“বসে বসে বোরিং হচ্ছো তাই না? যাও ভাইয়ার সঙ্গে গিয়ে খেলো, আমি এসব পাঞ্জা লড়াইয়ের মধ্যে নেই।”
“ভাইয়ার সঙ্গে আমি পারব?”
“তো তোমার সঙ্গে আমি পারব? আমি খেলবো না।”
ফাইয়াজ বোনের হাত থেকে ফোনটা নিয়ে দূরে রেখে দিলো। ডান হাতটা পাঞ্জা খেলার মতো করে ধরে বলল,
“বলেছি না তুই জিততে পারলে এক সপ্তাহ তোর সব কথা শুনবো।”
সারাহ অসহায় বোধ করল। সে আজ পর্যন্ত একদিনও ফাইয়াজের সঙ্গে কোনো খেলায় জিততে পারেনি। প্রতিবার ফাইয়াজ জিতে যায় আর সারাহকে দিয়ে কাজ করায়, কখনো কান ধরে উঠবস করায়, কখনো এক পায়ে দাঁড় করিয়ে রাখে। এই জন্য অবশ্য আব্বু আর ভাইয়ার কাছে অনেক বকাও খায় ফাইয়াজ।
অনেক চেষ্টা করেও সারাহ জিততে পারল না। ফাইয়াজ জিতে গেছে। ফাইয়াজ দু-পা মেলে দিয়ে বলল,
“এখন থেকে আগামী ত্রিশ মিনিট পা টিপে দিবি। টিপতে হবে না। ফুটবল খেলে বাম পায়ে ব্যথা পেয়েছি, পা-টা ম্যাসাজ করে দে।”
সারাহ ম্যাসাজ না করে বসে রইল। ফাইয়াজ তাকে তাড়া দিচ্ছে ম্যাসাজ করার জন্য।
ফারিশ নিচে নেমে এসেছে। ফাইয়াজ সারাহকে কিছু করতে বলছে শুনে বলল,
“কী হয়েছে?”
ফাইয়াজ আর সারাহ দুজনেই তাকাল ফারিশের দিকে। ফাইয়াজ বলল,
“পাঞ্জা লড়াইয়ে সারাহ হেরে গেছে, তাই ও এখন আমার পা টিপে দিবে।”
সারাহ বলল,
“আমি খেলতে চাইনি, ভাইয়া জোর করে খেলেছে।”
ফারিশ বলল,
“চেরি, উঠে এসো।”
সারাহ উঠে যেতে নিতেই ফাইয়াজ তাকে ধরার চেষ্টা করল, কিন্তু পারল না। উঠে দাঁড়িয়ে সারাহর দিকে এগোতেই সারাহ বড়ো ভাইয়ের পেছনে এসে দাঁড়াল। ফারিশ সারাহর সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে বলল,
“নিজে হাতির মতো হয়ে মশার মতো একজনের সঙ্গে পাঞ্জা খেলছো লজ্জা করছে না?”
ফাইয়াজ তেতে উঠল বড়ো ভাইয়ের কথা শুনে। তাকে কোন অ্যাঙ্গেল থেকে হাতি মনে হয়?
“একদম উল্টাপাল্টা কিছু বলবে না, ভাইয়া। আমাকে কোন অ্যাঙ্গেল থেকে হাতি মনে হচ্ছে তোমার? সারাহ আমার পা টিপে দিবে এটাই ফাইনাল, ও হারলো কেন?”
ফারিশ শান্ত গলায় বলল,
“আচ্ছা তুমি আর আমি একবার খেলি, তুমি যদি জিততে পারো তাহলে আমি আর চেরি দুজনেই তোমার পা টিপে দিব।”
“আর যদি হারি?”
“হারলে চেরির জন্য কী করতে চেয়েছো তুমি?”
সারাহ বলল,
“এক সপ্তাহ আমার সব কথা শুনবে, আমি যা বলব তাই করবে।”
“গ্রেট।”
ফাইয়াজ দ্রুত দুদিকে মাথা নেড়ে বলল,
“আমি তোমার সঙ্গে খেলবো না?”
“কেন?”
“নিজেকে দেখেছো আর আমাকে দেখেছো? আমি পারবো তোমার সঙ্গে?”
সারাহ ফারিশের পেছন থেকে উঁকি দিয়ে ফাইয়াজকে মুখ ভেঙ্গালো। ফাইয়াজ খেপে গেল তাকে এমন করতে দেখে। সারাহকে ধরার জন্য আগাতেই ফারিশ ছোটো ভাইকে ধরে ফেলল। সারাহর দিকে না তাকিয়েই বলল,
“চেরি, রুমে গিয়ে পড়তে বসো।”
সারাহ নিজের ফোনটা হাতে নিয়ে সিঁড়ির দিকে দৌড়। সিঁড়ির গোড়ায় দাঁড়িয়ে পেছন ফিরে তাকাতেই দেখল ফাইয়াজ তার দিকে তাকিয়ে আছে খ্যাপাটে দৃষ্টিতে। সারাহ আবারো মুখ ভেংচি কে’টে দৌড়ে চলে গেল।
ফাইয়াজ চেঁচিয়ে বলল,
“বজ্জাত চেরি, তোকে ধরতে পারলে খবর আছে।”
ফারিশ বলল,
“ওকে কিছু করলে তোমার খবর আছে।”
ফাইয়াজ ভাইয়ের হাত থেকে নিজের হাত ছাড়িয়ে নিয়ে গজগজ করতে করতে বলল,
“পেয়ারের বোনের জন্য দরদ একদম উথলে উথলে পড়ে।”
“ফাইয়াজ—
ফাইয়াজ কিছু না বলে সোফায় বসে পড়ল। ফারিশ রান্নাঘরের দিকে এগোল, তার কফি লাগবে। মেইড রান্নাঘরেই রয়েছে, রাতের খাবার তৈরি করছে সে।
ফারিশ ছোটো ভাইকে কোলে নিয়ে নিজের রুম থেকে বের হলো। ফাহিম ঘুমিয়েছে মাত্রই, রাতের খাবার খাওয়ার পর থেকে তার সঙ্গেই ছিল এতক্ষণ। ফাহিম রাতে সারাহর সঙ্গে ঘুমায়, ফারিশ আর ফাইয়াজ আলাদা আলাদা রুমে থাকে। বাবা মায়ের রুমের পাশেই সারাহর রুম।
সারাহর রুমের সামনে এসে দরজা নক করল, সারাহর সাড়াশব্দ না পেয়ে নাম ধরে ডাকল কয়েকবার। তবুও সাড়া না পেয়ে হাত দিয়ে দরজা ঠ্যালা দিতেই খুলে গেল। বিছানার দিকে তাকিয়ে দেখল সারাহ ঘুমিয়ে গেছে।
বাবা-মায়ের রুমের দরজায় দাঁড়িয়ে নক করে বলল,
“ছোটো আম্মু, ঘুমিয়েছেন?”
নিতু সুলতানা মাত্রই শুয়েছিলেন। ফারিশের ডাকে ওড়না গায়ে জড়িয়ে বেরিয়ে এলেন রুম থেকে। ফারিশ বলল,
“ফাহিমকে শুইয়ে দিয়ে আসুন।”
“চেরি?”
“ঘুমিয়ে গেছে।”
ফাইয়াজ ড্রয়িংরুম থেকে মাত্র উপরে এলো। তিনজনের কাছে এগিয়ে এসে বলল,
“কী হয়েছে?”
ফারিশ বলল,
“কিছু হয়নি।”
“কিছু না হলে ফাহিমকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছো কেন এভাবে?”
নিতু সুলতানা বললেন,
“ফাহিমকে ফারিশের কাছে রেখেই চেরি ঘুমিয়ে গেছে। ঘুম কাতুড়ে মেয়ে, শুতে দেরি ঘুমোতে দেরি হয় না।”
কথাগুলো বলে নিতু সুলতানা ছেলেকে কোলে নিয়ে মেয়ের রুমে প্রবেশ করলেন। ছেলেকে শুইয়ে দিয়ে মেয়েকে ডেকে তুললেন দরজা লাগানোর জন্য।
সারাহ ঘুম ঘুম চোখের পাতা টেনে তুলে দরজার দিকে তাকাল। সে শুয়ে থাকতে থাকতে ঘুমিয়ে পড়েছে। ফারিশ তাকে বলেছিল ঘণ্টা খানিক পর গিয়ে ফাহিমকে নিয়ে আসতে।
ফাইয়াজ নিজের রুমের দিকে এগিয়ে যেতে যেতে সুর ধরে গান গাইতে শুরু করল।
“ঘুম ভালোবাসিরে, আমি ঘুম ভালোবাসি। সরি ভুল করে মিসটেক হয়ে গেছে। ঘুম ভালোবাসেরে, বজ্জাত চেরি ঘুম ভালোবাসে…..। ঘুমাইলে তার ভবিষ্যত জামাইকে স্বপ্নে দেখেরে….।”
ফারিশ দ্রুত পায়ে তার পিছু নিল। ফাইয়াজ বিপদ আঁচ করতে পেরেই দৌড়ে নিজের রুমে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দিলো। পুনরায় একই গান গাইতে গাইতে বিছানায় শুয়ে পড়ল চিত হয়ে। ভাইকে রাগাতে আর সারাহকে খাটাতে তার ভালোই লাগে।
চলবে……….
আমি হতাশ হবো নাকি শকড হবো? নাকি আপনাদের বিবেকহীন ভাববো? গল্পের প্রথম পর্বে এত রিচ এত ভিউ অথচ রেসপন্স কই? যারা ক্লিক করে গল্পটা পড়েছে তাদের মধ্যে থেকে তিন ভাগের এক ভাগ মানুষ রিয়েক্ট দিলেও অনায়াসে ছয়/সাত হাজার রিয়েক্ট উঠে যেত। গল্প পড়ে এত আলসেমি করলে চলবে? রেসপন্স করুন আপনারা।
Share On:
TAGS: মন বোঝে না, সানা শেখ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দিশেহারা পর্ব ২৫
-
দিশেহারা পর্ব ৭১
-
দিশেহারা পর্ব ২১
-
দিশেহারা পর্ব ৩৪
-
তোমার সঙ্গে এক জনম পর্ব ৯
-
দিশেহারা পর্ব ৬৬
-
দিশেহারা পর্ব ১১
-
মন বোঝে না গল্পের লিংক
-
তোমার সঙ্গে এক জনম পর্ব ১২
-
দিশেহারা পর্ব ৬৪