Golpo romantic golpo মন বোঝে না

মন বোঝে না পর্ব ৬


মনবোঝেনা (০৬)

সানা_শেখ

ডিনার সেরে বাড়িতে ফিরতে ফিরতে ঘড়ির কাঁটা দশটার ঘর পেরিয়ে গেছে। ফাইয়াজ মুখটা কালো করে রেখেছে। তার সব টাকা শেষ করে ফেলেছে তিনজন। টাকার শোকে সে ভালোভাবে কিছুই খেতে পারেনি।
কোনোদিকে না তাকিয়ে ধুপধাপ পা ফেলে চলে গেল নিজের রুমের দিকে।
সারাহ আগে আগে উঠল সিঁড়ি বেয়ে, তার পেছন পেছন এলো ফারিশ। ফারিশের কোলে ঘুমন্ত ফাহিম। বাড়ি ফেরার পথে ফাহিম ঘুমিয়ে গেছে ভাইয়ের কোলে।

ফারিশ সারাহর রুমে ঢুকে ফাহিমকে শুইয়ে দিয়ে সারাহর দিকে তাকিয়ে বলল,

“তুমি চেঞ্জ করে ফাহিমকে চেঞ্জ করিও দিও।”

“আচ্ছা, ভাইয়া।”

“দরজা লাগিয়ে দাও।”

ফারিশ বেরিয়ে গেল রুম থেকে। সারাহ দরজা লাগিয়ে দিয়ে চেঞ্জ করে ফ্রেশ হয়ে এলো। ফাহিমের জামা কাপড় খুলে তাকে ছোটো প্যান্ট আর টি-শার্ট পরিয়ে দিয়ে শুয়ে পড়ল নিজেও।

গিটার হাতে ছাদে উঠে এলো আবরার। তার ঘুম আসছে না আজকেও। চেরি ব্লসমকে মনে পড়ছে খুব, তাকে দেখার জন্য মন ছটফট করছে। চেরি ব্লসম কী ঘুমিয়ে পড়েছে? সারাহর কথা ভাবতে ভাবতে মুচকি হাসল আবরার।
ছাদের রেলিংয়ের উপর বসল গিটার কোলের উপর নিয়ে। শীতল বাতাস বইছে। বাতাসে তার সিল্কি চুলগুলো এলোমেলো হয়ে উড়তে শুরু করেছে। আকাশ পানে তাকিয়ে দেখল আকাশে মেঘ জমেছে, চাঁদের আলোয় সাদা ধবধবে মেঘের ভেলা দারুণ লাগছে দেখতে। মেঘের ফাঁক ফোকর দিয়ে কিছু কিছু তারাও দেখা যাচ্ছে।

গিটারে টুংটাং সুর তুলতে তুলতে আবরার গাইতে শুরু করল,

Chal diyaaa……
Dil tere peeche peeche
Dekhta ……
main rah gaya
Kuch toh hai…
tere mere darmiyan
Jo ankaha
sa reh gaya

Main jo kabhi
keh na saka
Aaj kehta hoon pehli dafaa.aa.aa
Dil mein ho tum….
Aankhon mein tum….
Pehli nazar se hi yaara….
Dil mein ho tum….
Aankhon mein tum….
Pehli nazar se hi yaara….

আবরার গান শেষ করে থামতেই মেয়েলি কন্ঠস্বর শুনে ছাদের দরজার দিকে তাকাল। সিমি তার দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বলছে,

“মিস্টার খান, দারুণ গান তো আপনি।”

সিমিকে দেখে আবরারের ফুরফুরে মেজাজটা খারাপ হয়ে গেল। এই মেয়ে এখানে কেন? তার পিছু পিছু এসেছে?
সিমি তার দিকে আরও কিছুটা এগিয়ে আসতেই আবরার রেলিংয়ের উপর থেকে নেমে ধুপধাপ পা ফেলে চলে গেল ছাদ থেকে। তার সুন্দর মুডের বারোটা বাজিয়ে দিলো অসভ্য মেয়েটা।
সিমি হাঁ করে তাকিয়ে রইল আবরারের যাওয়ার পথে। তাকে পাত্তাই দিলো না!

                                  *****

জিম থেকে বাড়িতে ফিরল আবরার। ড্রয়িংরুমে বেশি কেউ নেই। সে আশপাশ না দেখে সোজা নিজের রুমের দিকে এগোল। ফ্রেশ হয়ে নাশতা সেরেই ভার্সিটিতে দৌড় দিবে।
রুমে প্রবেশ করতেই থমকে দাঁড়াল আবরার। চোয়াল শক্ত করে হাত মুষ্ঠিবদ্ধ করল। বজ্র কণ্ঠে বলল,

“এই মেয়ে, এখানে কী?”

চমকে উঠে পিছু ফিরল সিমি। আবরারকে রুদ্রমূর্তি রূপ ধারণ করে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে জোর পূর্বক হাসার চেষ্টা করে বলল,

“ওই এমনিই এসেছি। আপনি কোথায় গিয়েছিলেন?”

আবরার দেখল তার গাঢ় নীল রঙের প্রিয় গিটারটা সিমির হাতে। আবরার ঝড়ের গতিতে সিমির হাত থেকে গিটারটা নিয়ে এক আছড়ে ভেঙে ফেলল। তার এমন কাজে হতভম্ভ হয়ে গেল সিমি। আবরার পুরো বাড়ি কাঁপিয়ে চিৎকার করে বলল,

“এই মেয়ে, বের হ এক্ষণই।”

ভয়ে সিমি কেঁপে উঠল আবরারের চিৎকার শুনে। এই ছেলে এমন করছে কেন? সে গিটারটা ধরেছে বলে এভাবে ভেঙে ফেলল!
আবরার রাগে দিশেহারা হয়ে মহুয়া কবীরকে ডাকতে শুরু করল তার নাম ধরে। আবরারকে এত বেশি রিঅ্যাক্ট করতে দেখে জড়সড়ো হয়ে গেল সিমি।
রাগে আবরারের কপাল আর ঘাড়ের রগগুলো ভেসে উঠেছে। হাতের শিরাগুলোও ভেসে উঠেছে। চোখজোড়া হতে যেন আঙুল ঝরছে। ফরসা চেহারায় রক্তিম আভা ছড়িয়ে পড়েছে।

আবরার আবার তাকাল সিমির দিকে। মেয়ে মানুষ সে এমনিতেই সহ্য করতে পারে না, গায়ে পড়া মেয়ে তো আরও সহ্য করতে পারে না। এই গায়ে পড়া মেয়ের জন্য তার জীবনের অনেক বড়ো ক্ষতি হয়ে গেছে। সেদিনের পর থেকে সে মেয়ে মানুষ দেখতেই পারে না। মেয়ে মানুষ সহ্য করতে না পারার মধ্যেও সে বিভোর হয়েছে চেরি ব্লসমের প্রেমে।

মহুয়া কবীর সহ আরও অনেকেই ছুটে এলো আবরারের রুমের সামনে। আবরার মহুয়া কবীরকে দেখেই বজ্র কণ্ঠে বলল,

“আপনার গেস্ট আমার রুমে ঢুকল কেন? কোথায় থাকেন আপনি? গেস্ট যদি সামলাতে না পারবেন তাহলে এনেছেন কেন বাড়িতে?”

মহুয়া কবীর সিমির দিকে তাকিয়ে ভাঙা গিটারটার দিকে তাকালেন। তিনি কিছু ভাঙার আওয়াজ পেয়েছিলেন, তবে বুঝতে পারেননি যে আবরার গিটার ভেঙেছে। এত প্রিয় গিটার আবরার কেন ভাঙল?
সিমির দিকে তাকিয়ে বললেন,

“সিমি তুমি এই রুমে কেন এসেছো? তোমাকে তো আগেই বলেছি এই রুমে প্রবেশ করবে না।”

সিমি কিছু বলতে পারল না। আবরার আগের মতো করেই বলল,

“এই মেয়েকে বের করুন এখান থেকে নয়তো ঘাড় ধরে বের করে দিবো।”

মহুয়া কবীর দ্রুত সিমির হাত ধরে টেনে নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন। তার পেছন পেছন বাকিরাও চলে গেল। সবাই হতভম্ভ হয়ে গেছে আবরারের এমন আচরণে।
আবরার রাগে ফেটে পড়ে ভাঙা গিটারটা হাতে নিয়ে আবার আছাড় মা’রল। পা দিয়ে লাথি মে’রে সরিয়ে দিলো সামনে থেকে। জোরে জোরে শ্বাস নিতে নিতে তাকিয়ে রইল ভাঙা গিটারটার দিকে।

রেডি হয়ে আগে আগে নিচে নেমে এলো ফারিশ। ফাইয়াজ এখনো রেডি হতে যাচ্ছে না দেখে বলল,

“তুমি কী আজ ভার্সিটিতে যাবে না? তোমার ক্লাস কখন?”

“যাব। দেরি আছে।”

“চেহারার এই হাল কেন?”

ফাইয়াজ কিছু না বলে ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। ফারিশ মানিব্যাগ থেকে কিছু টাকা বের করে ফাইয়াজের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,

“ধরো।”

“কীসের জন্য দিচ্ছ? ওই চেরি বেরিকে আমি শপিং করাতে নিয়ে যেতে পারব না।”

“শপিংয়ের জন্য দিচ্ছি না। তোমার হাত খরচের জন্য দিচ্ছি।”

ফাইয়াজ ছো মেরে টাকাগুলো নিয়ে উচ্ছসিত হয়ে বলল,

“সত্যি?”

“হ্যাঁ।”

ফাইয়াজ টাকাগুলো গুণে দেখল সে গতকাল যত টাকা খরচ করেছে তার চেয়ে বেশিই পেয়েছে এখন।
টাকা যখন দিবেই তখন গতকালই দিয়ে দিত। শুধু শুধু সে টাকার শোকে কাতর হয়ে সারারাত ঘুমোতে পারল না। যাই হোক সে এতক্ষণে এসে টেনশন মুক্ত হলো।
ফারিশ মানিব্যাগ পকেটে ভরতে ভরতে বলল,

“টাকার শোকে সারারাত ঘুমাওনি নাকি?”

“অন্যদের ব্রেকআপ হলেও বোধহয় এত কষ্ট পায় না যতটা কষ্ট আমার টাকার জন্য হয়েছে। মাত্র মাসের অর্ধেক, আর আমার কাছে টাকা নেই, বুঝতে পারছো ব্যাপারটা কেমন কষ্টের?”

ফারিশ তাকিয়ে রইল তবে মুখে কিছু বলল না।
ফাইয়াজ টাকাগুলোতে চুমু খেয়ে পকেটে ভরল।
সারাহ নিচে নেমে আসতেই ফারিশ বাইরের দিকে হাঁটা ধরল। তার পেছন পেছন এগোল সারাহ। ফাইয়াজ পেছন থেকে চেঁচিয়ে বলল,

“এই সারাহ, হবু জামাইয়ের টাকায় শপিং করবি তাই কিপটামি না করে যা যা পছন্দ হবে সব নিয়ে চলে আসবি, পারলে পুরো শপিংমল মাথায় নিয়ে চলে আসবি।”

সারাহ পিছু ফিরে বলল,

“শপিংয়ের জন্য আব্বু টাকা দিয়েছে।”

ফারিশ সামনের দিকে তাকিয়েই গলার আওয়াজ বাড়িয়ে বলল,

“সারাহর হবু স্বামী এখনো বেকার ভুলে যেও না।”

“বেকার যখন তখন বিয়ে করবে কেন? আমি আমার বোন বিয়ে দিবো না কোনো বেকার ছেলের কাছে। আজকেই বিয়ে ক্যানসেল করে দিবো আমি।”

ফারিশ ততক্ষণে বেরিয়ে গেছে বাইরে। সারাহ একবার পিছু ফিরে সিঁড়ি বেয়ে নেমে গেল।
সে আগে ভার্সিটিতে যাবে, ক্লাস শেষ করে তারপর শপিংমলে যাবে।

.

সাড়ে তিনটা বাজতেই গেইটের বাইরে বেরিয়ে এলো সারাহ। ফারিশ তার অপেক্ষায় বাইকের উপর বসে আছে। সারাহর আরো একটা ক্লাস আছেই কিন্তু সারাহ সেই ক্লাস করবে না আজ। বাইকের পেছনে উঠে বসতেই ফারিশ বাইক নিয়ে শপিংমলের উদ্দেশ্যে রওনা হলো। সে দুপুরের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল, সারাহর ফোনকলে ঘুম ভেঙেছিল, তারপর দ্রুত রেডি হয়ে চলে এসেছে।

আবরার-ও শপিংমলে এসেছে নিজের প্রয়োজনে। সারাহকে দেখতেই দাঁড়িয়ে গেল সেখানে। আজ সে ভার্সিটিতে যায়নি। সারাহকে আজ দেখতে পাওয়ার সৌভাগ্য হবে কল্পনাও করেনি।
সারাহ আবরারকে খেয়াল না করেই ভাইয়ের পাশাপাশি হেঁটে ভেতরে প্রবেশ করল। তার কী কী প্রয়োজন সেসবই মনে করছে আবার।
আবরার দুজনের পেছন পেছন এগোল ভেতরের দিকে।

ফারিশ সারাহকে নিয়ে লেডিস কর্নারে এলো। সারাহর দিকে তাকিয়ে বলল,

“তোমার কী কী লাগবে এখান থেকে নিতে থাকো, আমি একটু আসছি। কোথাও যাবে না, এখানেই থাকবি। পাঁচ মিনিটেই চলে আসবো আমি।”

“আচ্ছা ভাইয়া। আপনি যান, আমি এখানেই থাকবো।”

ফারিশ দ্রুত পায়ে হেঁটে চলে গেল। আবরার দূরে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ দেখল সারাহকে তারপর এগিয়ে এসে সারাহর পাশে দাঁড়াল। সারাহ তাকাল না তার দিকে। তার কী কী লাগবে সেসব দোকানে থাকা সেলস গার্লকে বলছে থেমে থেমে। মেয়েটা একে একে সারাহর বলা সবকিছু এনে তার সামনে রাখছে।

আবরার গম্ভীর গলায় বলল,

“ওই কালো চুড়িগুলো দিন তো।”

পরিচিত কন্ঠস্বর শুনে তড়িৎ গতিতে মুখ তুলে তাকাল সারাহ। আবরারকে দেখে বড়ো বড়ো চোখ করে তাকাল। এই ছেলে এখানে কেন? কোথা থেকে এলো এখানে?
মেয়েটা চুড়ি এনে আবরারের হাতে দিলো। আবরার কোনো প্রকার ভনিতা না করে চুড়িগুলো সারাহর দিকে এগিয়ে দিলো। সারাহ বিস্মিত হয়ে বলল,

“এ এ এগুলো আমাকে দিচ্ছেন কেন?”

আবরার গলার আওয়াজ যতটা সম্ভব হয় নরম করে বলল,

“একটু মাপ দিয়ে দেখো লাগে কি-না।”

“কে কে কেন? আমি মাপ দিবো কেন?”

“আমি চুড়িগুলো যার জন্য নিব তার হাত তোমার হাতের মতোই। একটু কষ্ট করে মাপ দিয়ে দিলে উপকার হতো।”

“কার জন্য নিবেন?”

“স্পেশাল একজনের জন্য।”

“গার্লফ্রেন্ড?”

“উঁহু। গার্লফ্রেন্ড না, একেবারে বউ বানানোর ইচ্ছে আছে। দেখো লাগে কি-না।”

সারাহ আর কিছু না বলে চুড়িগুলো দ্রুত মাপ দিয়ে আবরারের হাতে দিয়ে দিলো। ঠিকঠাক মতোই লেগেছে চুড়িগুলো তার হাতে। চুড়িগুলো পরে তার হাতটা সুন্দর লাগছিল। বলতেই হয় ছেলেটার পছন্দ সুন্দর, তার চেয়েও বেশি সুন্দর বোধহয় ওই মেয়েটার ভাগ্য যে এই ছেলের বউ হবে।

আবরার নিজের পছন্দে আরও অনেকগুলো চুড়ি নিল একই মাপে। চুড়িগুলো প্যাকেট করা হয়ে যেতেই আবরার পেমেন্ট করে দিলো। চুড়ির ব্যাগটা হাতে নিয়ে বিনা বাক্যে সারাহর হাতে ধরিয়ে দিয়ে চুপচাপ চলে যেতে লাগল। সারাহ তাকে পিছু ডেকে বলল,

“এই, এই যে ভাইয়া, এগুলো আমাকে দিলেন কেন?”

আবরার পিছু ফিরে তাকাল কিন্তু কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাল না। পুনরায় সামনের দিকে তাকিয়ে এগিয়ে গেল। শপে থাকা একটা মেয়ে বলল,

“উনি চুড়িগুলো মূলত আপনার জন্যই নিয়েছে, ম্যাম।”

সারাহ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে আবার তাকাল আবরারের যাওয়ার পথে। আবরার চোখের আড়ালে চলে গেছে।
মেয়েটা আবার বলল,

“ম্যাম, আপনার আরও কিছু লাগবে?”

সারাহ চুড়িগুলো মেয়েটার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,

“এগুলো আমি নিতে পারব না, আপনারা রেখে দিন।”

“সরি, ম্যাম। আমরাও নিতে পারব না। আপনি না নিলে বরং ওনাকেই ফিরিয়ে দিয়েন।”

সারাহ বিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
ফারিশ পাঁচ মিনিটের কথা বলে গেলেও সারাহর কাছে ফিরল পনেরো মিনিট পর। তার হাতে দুটো প্যাকেট। সারাহর মুখের দিকে তাকিয়ে বলল,

“কী হয়েছে? চোখমুখ এমন দেখাচ্ছে কেন?”

সারাহ দুদিকে মাথা নেড়ে বলল,

“কিছু না, ভাইয়া।”

“তোমার হয়ে গেছে?”

“হ্যাঁ।”

ফারিশ পেমেন্ট করে দিয়ে প্যাকেটগুলো নিজের হাতে নিল। সারাহর কাপড়চোপড় কেনার জন্য এগোল আবার।
সারাহ কেমন যেন হয়ে গেছে। বারবার আবরারের বলা কথাগুলো কানে বাজছে।
.

সাতটার পর পরই কলিং বেল বেজে উঠল। সারাহ তাকাল ফাইয়াজের দিকে। ফাইয়াজ ভিলেইনি হাসি দিয়ে বলল,

“আমি যেতে পারব না।”

সারাহ উঠে দাঁড়াল সোফা ছেড়ে। সে ভাবছে ফুয়াদ হাসান বাড়ি ফিরেছেন।
দরজা খুলে দিতেই দেখল আবরার দাঁড়িয়ে আছে দরজার সামনে। আবরার মৃদু হেসে বলল,

“হেই, চেরি ব্লসম। কেমন আছো?”

সারাহ আর এক সেকেন্ডও দাঁড়াল না। উল্টো ঘুরেই দৌড়ে ফাইয়াজের কাছে চলে এলো। তাকে এমন করতে দেখে আবরার তার যাওয়ার পথে তাকিয়ে রইল ঘাড় কাত করে। এভাবে পালাল মেয়েটা?

আবরার ভেতরে প্রবেশ করল। কত বছর পর সে এই বাড়িতে এলো? আট বছর, হ্যাঁ আট বছর পরই এলো আবার। ফাইয়াজ তাকে দেখেই লাফিয়ে উঠে দাঁড়াল। বিস্মিত হয়ে বলল,

“মিস্টার আবরার সাহিল খান, পথ হারিয়ে চলে এলেন নাকি এই বাড়িতে?”

আবরার কপাল কুঁচকে তার দিকে তাকাল। মুহূর্তেই ঠোঁটে হাসি ফুটিয়ে বলল,

“ফাইয়াজ?”

ফাইয়াজ এগিয়ে এসে জড়িয়ে ধরল তাকে। হাসি মুখে বলল,

“এত বছর পর মনে পড়ল আমাদের কথা?”

“রোজই পড়ে। কেমন আছিস?”

“ভালো। তুমি কেমন আছো?”

“ভালো। বাকি সবাই কোথায়?”

“আব্বু ফেরেনি এখনো। আম্মু ফাহিমকে নিয়ে নিজেদের রুমে রয়েছে, ভাইয়া নিজের রুমে, আর সারাহ—

সারাহর দিকে তাকিয়ে বলল,

“ও সারাহ, আমাদের একমাত্র বোন।”

সারাহকে বলল,

“সারাহ, ইনি আমাদের একমাত্র মামাতো ভাই, আবরার সাহিল খান।”

সারাহ আবরারের দিকে আরেকবার তাকিয়ে দ্রুত পায়ে চলে গেল সিঁড়ির দিকে। আবরারকে প্রথমে দেখে ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিল বেচারি। মামাতো ভাই হয় শুনে ভয়টা আরও বেড়ে গেল।
আবরার সারাহর যাওয়ার পথে তাকিয়ে বলল,

“বোনকে বিয়ে দিবি না?”

“সারাহ তো অলরেডি এঙ্গেজড।”

“এঙ্গেজড!”

“হ্যাঁ।”

ফারিশ নিজের রুম থেকে বেরিয়ে সারাহর রুমের সামনে এসে দাঁড়াল। দরজায় টোকা দিয়ে সারাহর নাম ধরে ডেকে উঠল। ফারিশের গলার আওয়াজ শুনে দরজার দিকে তাকিয়ে বলল,

“হ….হ্যাঁ, ভাইয়া।”

“কী করছো? কল রিসিভ করছো না কেন?”

“ক ক করছি, ভাইয়া।”

“নিচ থেকে এলে?”

উপর নিচ মাথা নাড়ল সারাহ। ফারিশ বলল,

“কলিং বেলের শব্দ শুনলাম। আব্বু এসেছে?”

“না।”

“কে এসেছে তাহলে?”

“আপনার মামাতো ভাই, আবরার সাহিল খান।”

“আবরার!”

“হ্যাঁ।”

ফারিশ সিঁড়ির দিকে পা বাড়াল দ্রুত। সারাহ নিজের ফোন খুঁজতে ব্যস্ত হলো। ফোনটা কোথায় রাখল আবার?

চলবে……

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply