মনবোঝেনা (০৫)
সানা_শেখ
আবরার ক্লান্ত হয়ে সন্ধ্যার পর পরই বাড়ি ফিরল। দরজা ঠেলে ভেতরে পা রাখতেই কানে এলো বেশ কিছু মানুষের হইহুল্লোড়। আবরার সোজা সোফার দিকে তাকাল, আর সেদিকে তাকিয়েই তার চোয়াল শক্ত হয়ে এলো।
ধুপধাপ পা ফেলে ভেতরে প্রবেশ করতেই সোফায় বসে থাকা প্রায় সকলেই তার দিকে তাকাল। কয়েকজন জিজ্ঞেস করল সে কেমন আছে, কিন্তু আবরার কারো কথার কোনো জবাব না দিয়ে সোজা নিজের রুমের দিকে এগোল। এই মানুষগুলোকে তার একদমই সহ্য হয় না। তবুও মুখের ওপর বলতে পারে না—যেন তারা আর এই বাড়িতে না আসে।
সবাই তাকিয়ে রইল আবরারের যাওয়ার পথে। একটা মেয়ে দুই কান থেকে ইয়ার ফোন খুলে পাশে বসে থাকা মেয়েটাকে ফিসফিস করে বলল,
“কে এই ছেলে?”
“এটাই আবরার সাহিল খান, এই বাড়ির একমাত্র ছেলে।”
মেয়েটা আবার তাকাল সিঁড়ির দিকে। আগের মতোই ফিসফিস করে বলল,
“সো হট অ্যান্ড হ্যান্ডসাম। প্রথম দেখাতেই ক্রাশ খেয়ে গেছি, ইয়ার…..।”
“আবরার সাহিল খান দেখতে যেমন হট, তার মাথাও সবসময় তেমনই হট হয়ে থাকে। দেখলি না সবাইকে ইগনোর করে কীভাবে চলে গেল!”
“এমন করল কেন?”
“ফুপিকে দুই চোখে সহ্য করতে পারে না। ফুপির আত্মীয় স্বজনদেরও সহ্য করতে পারে না। সবসময় হট বয়ের কাছ থেকে দূরে দূরে থাকবি।”
“গুজুর গুজুর ফুসুর ফুসুর করে কী বলছো তোমরা দুজন?”
মহুয়া কবীরের ভাইয়ের মেয়ে ইভা ছোটো বোনের দিকে তাকিয়ে বলল,
“কিছু না, তুই গেম খেল।”
ইভার পাশে বসে থাকা তার ফ্রেন্ড প্লাস ভাইয়ের একমাত্র শালিকা সিমি ফিসফিস করে বলল,
“খান সাহেবের গার্লফ্রেন্ড আছে?”
“জানি না, ভাই। তুই দূরে থাকিস উনার কাছ থেকে।”
সিমি পুনরায় ইয়ার ফোন কানে গুঁজে গান শুনতে শুরু করল। আবরারকে তার ভীষণ মনে ধরেছে, কী হ্যান্ডসাম ছেলেটা! ইশ! আবরার যখন এগিয়ে আসছিল তখন থেকেই তাকিয়ে ছিল সিমি। কী অ্যাটিটিউড নিয়ে এগিয়ে আসছিল ছেলেটা! তীক্ষ্ণ ধারাল চাহনি, গম্ভীর চেহারা, ঘাড় আর কপালের রগ ভেসে উঠেছিল। সিমি তো কোনোদিকে না খেয়াল করে শুধু আবরারকেই দেখছিল। যখন সিঁড়ি বেয়ে সোজা চলে গেল তখনই সে কে এটা জানার জন্য জিজ্ঞেস করল ইভাকে।
সিমি মনে মনে বলল,
“যদি গার্লফ্রেন্ড না থাকে তাহলে ঠিক পটিয়ে ফেলব দুদিনে, আর গার্লফ্রেন্ড থাকলেও সমস্যা হবে না, বউ তো নেই। সিমির চোখের ইশারাতেই খান সাহেব পটে যাবে।”
মনে মনে বিস্তর হাসল সিমি। সে কী দেখতে কোনদিক থেকে কম নাকি? খান সাহেব ঠিক পটে যাবে।
নিজের রুমে এসে ঠাস করে দরজা লাগিয়ে সোজা ওয়াশরুমে প্রবেশ করেছে আবরার। ফুরফুরে মেজাজে বাড়িতে ফিরেছিল, কিন্তু মানুষগুলোকে দেখে তার মাথায় আগুন ধরে গেছে। মাথার ভেতর দপদপ করছে এখন।
আমজাদ খানের সঙ্গে মহুয়া কবীরের বিয়ের আগেই মহুয়া কবীর আবরারকে অপমান করেছিলেন, তখন আবরার বেশ ছোটো, মাত্র আট বছর বয়স। মহুয়া কবীর আবরারের স্কুলের টিচার ছিলেন তখন। আবরারের দোষ না থাকা সত্ত্বেও মহুয়া কবীর কটু কথা বলে আবরারকে অপমান করেছিলেন কয়েকজন স্টুডেন্ট আর প্যারেন্টসদের সামনে। মহুয়া কবীরের করা সেই অপমান কোনোভাবেই ভোলেনি ছোটো আবরার, এখনো না। বাবার সঙ্গে যখন মহুয়া কবীরের বিয়ের কথা শুরু হলো তখনই ডিরেক্ট নিষেধ করে দিয়েছিল আবরার, কিন্তু আমজাদ খান ছেলের কথা না শুনে মহুয়া কবীরকে বিয়ে করেছিলেন। সেই থেকেই বাবা-ছেলের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। বাবাকেও সহ্য করতে পারে না তখন থেকেই।
আবরার যেমন মহুয়া কবীরকে সহ্য করতে পারে না, আগে মহুয়া কবীর নিজেও আবরারকে সহ্য করতে পারতেন না। বিয়ের কয়েক বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরেও যখন তার গর্ভে সন্তান আসছিল না তখন ডাক্তার দেখানোর পর জানতে পারেন তিনি কখনো মা হতে পারবেন না, মা হওয়ার ক্ষমতা তার মধ্যে নেই।
তার পরও আরো কয়েক বছর চিকিৎসা করানোর পরও আশানুরূপ ফল পান না, প্রত্যেক ডাক্তারের একই কথা, তিনি কোনোদিন মা হতে পারবেন না।
ধীরে ধীরে মহুয়া কবীরের মধ্যে পরিবর্তন আসে। তিনি আবরারকে কাছে টানতে চান, কিন্তু আবরার? সে মুখের উপর বলে দিয়েছিল মহুয়া কবীর যেন কোনোদিন তার সঙ্গে কথা বলতে না আসে। সৎ মা, সৎ মায়ের মতনই যেন থাকে, যেমনটা প্রথম থেকে ছিল।
আবরারের রাগ আর ইগো এত বেশি যে সাহস করে আর কোনোদিন মহুয়া কবীর আবরারের সঙ্গে কথা বলতে যাননি আগ বাড়িয়ে। এক বাড়িতে, এক ছাদের নিচে থেকেও দুজন অপরিচিত মানুষ।
মাঝে মধ্যেই মহুয়া কবীরের আত্মীয় স্বজন খান বাড়িতে আসে বেড়াতে। দুই/চারদিন থেকে শুরু করে পনেরো/বিশদিনও থাকে তারা। আবরার রাগে শুধু ফোস ফোস করে, কিন্তু কিছু বলতে পারে না। সে কারো সঙ্গে কথাই বলতে চায় না। মহুয়া কবীরের মা এবং বড়ো ভাবিও তাকে সহ্য করতে পারত না। তারা চাইতেন যত দ্রুত সম্ভব মহুয়া কবীর বাচ্চা জন্ম দিয়ে এই বাড়িতে আসন শক্তপোক্ত করুক, কিন্তু সেই চাওয়া কী আর পূরণ হয়েছে?
গোসল সেরে ওয়াশরুম থেকে বের হলো আবরার। তার পরনে শুধু শুভ্র টাওয়েল। ভেজা চুলগুলো কপালময় লেপ্টে রয়েছে, জিমে গড়া সুগঠিত ফরসা শরীর চকচক করছে সদ্য গোসল করায়।
কাবার্ড থেকে ধূসর রঙের ট্রাউজার বের করে পরে নিল। চুলগুলো আবার মুছে গায়ে পারফিউম স্প্রে করে নিল। কাবার্ড থেকে কালো রঙের হাফ হাতা টি-শার্ট বের করে গায়ে জড়িয়ে চুলগুলো আঁচড়ে রুম থেকে বের হলো। তার খিদে পেয়েছে, দুপুরে কফি আর পানি ব্যতীত কিছু খাওয়া হয়নি।
ড্রয়িংরুমের সবাইকে ডিঙিয়ে সে সোজা ডাইনিংরুমে প্রবেশ করল। একজন কাজের মেয়ে দ্রুত পায়ে এগিয়ে এলো তাকে খাবার বেড়ে দেওয়ার জন্য।
খাবার বেড়ে দিতেই আবরার হাত ধুয়ে খাওয়া শুরু করল। মেয়েটা তার পাশেই দাঁড়িয়ে রইল চুপচাপ। আবরার খেতে খেতে মেয়েটার দিকে না তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,
“মানুষগুলো যতদিন বাড়িতে থাকবে ততদিন আমার খাবার রুমে পৌঁছে দিয়ে আসবেন।”
“জি, স্যার।”
আবরার আর কিছু না বলে খাওয়া শেষ করল। ডাইনিংরুম থেকে বেরিয়ে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেল দ্রুত পায়ে। সে একবারের জন্যও কারো দিকে তাকায়নি আর। তার ভাব এমন যে সে ব্যতীত ড্রয়িংরুমে অন্য কেউ নেই।
*****
মাগরিবের আজান হতে আধা ঘণ্টা বাকি। ফাইয়াজের সঙ্গে সোফায় বসে আছে সারাহ। সারাহ টিভি দেখছে, ফাইয়াজ বন্ধুদের সঙ্গে চ্যাটিং করতে ব্যস্ত। ফাইয়াজ অনুভব করল তার গলা শুকিয়ে গেছে। সে সারাহর দিকে তাকিয়ে বলল,
“সারাহ, ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা ঠান্ডা পানি নিয়ে আয় তো।”
সারাহ নাকমুখ কুঁচকে সোজাসুজি মানা করে বলল,
“আমি পারব না, তুমি নিজে গিয়ে খেয়ে এসো।”
“আমি তোর বড়ো ভাই না? বড়ো ভাইয়ের কথা শুনতে হয়। যা পানি নিয়ে আয়।”
“বড়ো ভাই নিজের রুমে রয়েছেন।”
“আমি তোর বড়ো না?”
“মাত্র এক বছরের।”
“তো? বড়ো ভাই তো তোর।”
“হ্যাঁ, বুড়ো ভাই তুমি।”
তেতে উঠল ফাইয়াজ। আঙুল তুলে বলল,
“কী বললি তুই?”
“বললাম বুড়ো ভাই তুমি।”
“আমি বুড়ো?”
“হ্যাঁ, অবশ্যই। সেজন্যই তো সারাদিন সোফায় পড়ে থাকো আর একে ওকে অর্ডার করো।”
“কোন এঙ্গেল থেকে আমাকে বুড়ো মনে হচ্ছে তোর?”
“সব এঙ্গেল থেকেই।”
“আমার চুল পেকেছে একটা? চামড়া কুঁচকে গেছে? হাঁটতে লাঠি লাগে?”
“খুঁজলে অবশ্যই কয়েকটা পাকা চুল পাওয়া যাবে।”
“খুঁজে বের কর, যদি করতে না পারিস তাহলে একটা একটা করে তোর সব চুল টেনে তুলব আমি।”
“পাকা চুল খুঁজে বের করতে পারলে কী দিবে আমাকে?”
ফাইয়াজ কিছুক্ষণ ভেবে বলল,
“যদি একটা পাকা চুল খুঁজে বের করতে পারিস তাহলে আজকে আমি তোকে ডিনার করাবো তোর পছন্দের রেস্টুরেন্ট থেকে। আর যদি করতে না পারিস তাহলে তুই করাবি আমাকে, আমার পছন্দের রেস্টুরেন্ট থেকে।”
সারাহ ফাইয়াজের চুলের দিকে তাকিয়ে রইল। এই কালো কুচকুচে চুলের মধ্যে পাকা চুল আছে কী? যদি না থাকে?
সারাহ দুদিকে মাথা নেড়ে বলল,
“আমি কিচ্ছু করতে পারব না এখন। আমাকে ডিস্টার্ব কোরো না তো, ভাইয়া।”
“এই চেরি বেরি, তুই ভয় পাচ্ছিস তাইনা?”
“ভয় পাব কেন?”
“যদি আমাকে খাওয়াতে হয় সেজন্য।”
“এই চেরি কাউকে কিছু খাওয়াতে ভয় পায় না বুঝেছো?”
“তাহলে পাকা চুল খুঁজে বের কর।”
সারাহ রিমোট রেখে ফাইয়াজের পেছনে এসে দাঁড়াল। প্রথমে দুই হাতে ফাইয়াজের চুলগুলো খামচে ধরে টানল। ব্যথা পেয়ে ফাইয়াজ চেঁচিয়ে বলল,
“বজ্জাত চেরি, তোর কিন্তু খবর আছে।”
সারাহ মুখ ভেংচি দিয়ে বলল,
“খবর আছে।”
“দিবো কানশা বরাবর একটা?”
“দিবো ভাইয়াকে ডাক একটা?”
“আজকাল ভাইয়ার সঙ্গে তো তোর ভালোই ভাব জমেছে দেখছি।”
“কীভাবে?”
“আগে ভাইয়াকে দেখলেই ফাটা বেলুনের মতো চুপসে যেতি, ভাইয়ার সামনে বেশিক্ষণ থাকতি না, কথা বলতে চাইতি না। এক কথায় ভাইয়াকে ভয় পেতি, এখন তো ভয় পাস না, উল্টো—
“উল্টো কী?”
“ভাব জমে যাচ্ছে। ভাইয়াকে আগের মতো ভয় পাস না। আমি কিছু বললে উল্টো ভাইয়াকে ডেকে আমাকেই ভয় পাইয়ে দিস।”
সারাহ কিছু না বলে পাকা চুল খুজতে লাগল। সত্যি বলতে ফারিশকে তার আগের মতো অত বেশি ভয় লাগে না এখন। একসঙ্গে ভার্সিটিতে যাওয়া আসার মাধ্যমে তার ভয় কিছুটা দূর হয়েছে। আগে সারাহ সিঁড়ি বেয়ে উঠছে, আর ফারিশ নামছে, এমন হলে একপাশে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে যেত সারাহ। আবার সারাহ নামছে, ফারিশ উঠছে, এমন কিছু হলেও মাথা নিচু করে একপাশে জড়সড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে পড়ত। ফারিশ চলে যাওয়ার পরই সারাহ হাঁটতে শুরু করতো। এখন আর তেমন কিছু করে না, শুধু মাথা নিচু করে চুপচাপ পাশ দিয়ে চলে যায়।
অনেক খুঁজেও পাকা চুলের দেখা পাচ্ছে না সারাহ। আশ্চর্য! এতগুলো চুলের মধ্যে একটা চুল তো পাকা থাকা উচিত, নেই কেন? ফাইয়াজ চোখ বন্ধ করে রয়েছে। তার আরাম লাগছে ভীষণ, ঘুম ঘুম ভাব চলে এসেছে।
ফারিশ নিচে নেমে এসেছে। সারাহ ফাইয়াজের চুলের ভাঁজে ভাঁজে কিছু খুঁজছে দেখে বলল,
“ওর চুলে কী খুঁজছো, চেরি?”
চমকে উঠে ফারিশের দিকে তাকাল সারাহ। হঠাৎ কথা বলায় ভয় পেয়ে গেছে বেচারি। সারাহ কিছু বলার আগেই ফাইয়াজ বলল,
“পাকা চুল খুঁজছে, ভাইয়া।”
“তোমার চুল পেকেছে?”
“না।”
“তাহলে?”
“চেরি বেরি বলেছে আমি বুড়ো, তাই পাকা চুল খুঁজতে দিয়েছি। যদি খুঁজে পায় তাহলে আজকে ওকে ওর পছন্দের রেস্টুরেন্টে ডিনার করতে নিয়ে যাব।”
ফারিশ কিছু না বলে বাইরের দিকে এগিয়ে গেল। ফাইয়াজ পুনরায় চোখ বন্ধ করে শরীর এলিয়ে বসে রইল। সারাহ মনোযোগ দিয়ে খুঁজতে লাগল একটা পাকা চুল। পাকা চুল তো দূরের কথা, একটা সোনালী চুলও নেই।
ফারিশ এসে দাঁড়াল দারোয়ানের কাছে। স্বভাব বজায় রেখে বলল,
“আংকেল, একটা পাকা চুল দিন তো।”
দারোয়ান ফারিশের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলেন। তার কাছে পাকা চুল চাইছে কেন ফারিশ? ফারিশ আবার বলল,
“বেশি লাগবে না, একটা হলেই হবে।”
দারোয়ান কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলেন,
“পাকা চুল দিয়া কী করবেন, স্যার?”
“ফাইয়াজের সঙ্গে চিটিংবাজি।”
“মানে?”
ফারিশ খুলে বলল সবকিছু। দারোয়ান বললেন,
“আমি কীভাবে তুলে দিবো? আপনে নিজেই তুলে নিয়ে যান।”
ফারিশ একটা পাকা চুল টেনে তুলে বাড়ির দিকে হাঁটা ধরল আবার। দারোয়ান তাকিয়ে রইলেন ফারিশের যাওয়ার পথে। এই শান্ত ছেলেটা ছোটো ভাইয়ের সঙ্গে চিটিংবাজি করবে?
ফারিশ সারাহর পাশে এসে দাঁড়াল নিঃশব্দে। পাকা চুলটা ফাইয়াজের চুলের উপর রেখে ইশারায় বুঝিয়ে দিলো সারাহকে। তারপর নিজে এসে ফাইয়াজের পাশের সোফায় বসল চুপচাপ।
আরো কিছুক্ষন পাকা চুল খোঁজার নাটক করে একটা কাঁচা চুল টেনে তুলল সারাহ। কাঁচা চুলটা ফেলে দিয়ে পাকা চুলটা হাতে নিয়ে খুশিতে লাফিয়ে উঠে বলল,
“ইয়ে… পেয়ে গেছি পাকা চুল!”
হঠাৎ সারাহর আনন্দ উল্লাসে হকচকিয়ে গেল ফাইয়াজ। মুহূর্তেই লাফিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
“কোথায় পাকা চুল?”
সারাহ চুলটা ধরল ফাইয়াজের সম্মুখে। ফাইয়াজ চুলটা ভালোভাবে দেখল, আসলেই তো চুলটা সাদা। কিন্তু এটা কীভাবে সম্ভব? তার মাথায় সাদা চুল কীভাবে সম্ভব এটা?
ফাইয়াজ ফারিশের দিকে তাকাল। ফারিশ বলল,
“চেরিকে নিয়ে এখন রেস্টুরেন্টে যাও।”
ফাইয়াজ স্তব্ধ হয়ে সারাহর হাতে থাকা চুলটার দিকে তাকাল আবার। ফাইয়াজের চেহারা আর প্রথমবারের মতো জিততে পেরে খুশিতে আত্মহারা হয়ে লাফাতে লাগল সারাহ। জিতুক না চিটিং করে, তাতে কী হয়েছে? জিতেছে তো।
ফাইয়াজ পাকা চুলটা হাতে নিয়ে বসে পড়ল সোফায়। সারাহ এখনো খুশিতে লম্ফ ঝম্প করছে। ফারিশ ছোটো ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। ফাইয়াজের চেহারা দেখার মতো হয়েছে।
ফাইয়াজ গত সপ্তাহে চুলে কালার দিয়েছিল, তাই সে শিওর ছিল হাজার খুঁজেও সারাহ তার মাথা থেকে একটা পাকা চুল খুঁজে পাবে না, তাছাড়া তার মাথার চুল পাকেওনি। ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে বলল,
“আমার মাথায় পাকা চুল কীভাবে সম্ভব?”
“কেন সম্ভব না?”
“গত সপ্তাহে চুলে কালার দিয়েছিলাম। তাছাড়া আমার চুল এখন কেন পাকবে?”
“সেটা আমি কীভাবে বলব? সারাহ পাকা চুল খুঁজে বের করতে পেরেছে, এখন ওকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে যাও।”
“পারব না আমি, আমার কাছে অত টাকা নেই।”
“কেন থাকবে না?”
“আব্বু টাকা দেয় হিসেব করে, সেই টাকায় মাস পার করতে হয়। মাস শেষ হওয়ার আগে টাকা শেষ হলে একটা টাকা দিতে চায় না। এখন সারাহকে খাওয়ালে আমার কাছে আর কোনো টাকা থাকবে না।”
“থাকবে না সেটা তোমার ব্যাপার, সারাহর না। তুমি হেরে গেছো, এখন ওকে খাওয়াবে।”
“সেদিনও সারাহ হেরে গিয়েছিল, কিন্তু তুমি ওকে আমার পা টিপতে দাওনি, তাই আজকে আমি ওকে খাওয়াবো না।”
ফারিশ ছো মে’রে সোফার উপর থেকে ফাইয়াজের ফোনটা নিজের কাছে নিয়ে বলল,
“সারাহকে না খাওয়ালে এক সপ্তাহের জন্য ফোন পাবে না।”
“দিস ইজ নট ফেয়ার, ভাইয়া। আমার ফোন দাও।”
“আগে সারাহকে ডিনার করিয়ে নিয়ে এসো।”
“আব্বু কী তোমার মতো আমাকে অত টাকা দেয় নাকি?”
“বেশি টাকা দিলে তো আবার তোমাকে নাগালে পাওয়া যায় না, ভাই।”
সারাহর দিকে তাকিয়ে বলল,
“ফাইয়াজ যদি তোমাকে ডিনারে না নিয়ে যায় তাহলে ওর মাথার সব চুল একটা একটা করে টেনে তুলবে।”
সারাহ হাসি মুখে দ্রুত মাথা নাড়ল। ফাইয়াজ তার মাথার চুল একটা একটা করে টেনে তুলতে চেয়েছিল, এখন সে ফাইয়াজের মাথার চুল টেনে তুলবে।
ফাইয়াজ দ্রুত উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
“একদম আমার চুলের কাছে আসবি না। একটা চুল তুললে তোর খবর আছে শ’য়’তানি।”
ফারিশ উঠে দাঁড়িয়ে বলল,
“সারাহ রেডি হয়ে এসো।”
সারাহ সঙ্গে সঙ্গেই চলে গেল রেডি হওয়ার জন্য। ফারিশ ভাইকে টেনে নিয়ে সিঁড়ির দিকে এগিয়ে বলল,
“আমি আর ফাহিম-ও যাব তোমাদের দুজনের সঙ্গে। আজ আমরা তিনজন তোমার টাকায় খাব।”
ফাইয়াজ বড়ো বড়ো চোখ বানিয়ে বলল,
“এত টাকা কোথায় পাব আমি?”
“সেটা আমি কীভাবে জানবো? সারাহকে শ’য়’তানি বলার আগে তোমার ভেবে বলা উচিত ছিল।”
ফাইয়াজ অসহায়ের মতো বড়ো ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। এদের ডিনার করলে তার কাছে একটা টাকাও থাকবে না। সে মাসের বাকি দিনগুলো কীভাবে পার করবে?
চলবে………..
Share On:
TAGS: মন বোঝে না, সানা শেখ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দিশেহারা পর্ব ৪৮
-
দিশেহারা পর্ব ৬০
-
দিশেহারা পর্ব ৩৩
-
দিশেহারা পর্ব ৬
-
দিশেহারা পর্ব ৩০
-
দিশেহারা পর্ব ১৬
-
দিশেহারা পর্ব ৩১
-
তোমার সঙ্গে এক জনম পর্ব ৩
-
দিশেহারা পর্ব ৭০
-
দিশেহারা পর্ব ৩৮