Golpo romantic golpo বাঁধন রূপের অধিকারী

বাঁধন রূপের অধিকারী পর্ব ১৬


#বাঁধন_রূপের_অধিকারী

#লেখিকা_সুমি_চৌধুরী [১৬]

[•••অনুমতি ব্যতীত কপি করে নিষিদ্ধ•••]

বাঁধনের মনে হলো কেউ যেন সজোরে তার মাথায় ভারী কোনো পাথর দিয়ে আঘাত করল। মস্তিষ্ক যেন কাজ করা বন্ধ করে দিল। সে পাথরের মতো স্থির হয়ে রূপার দিকে তাকাল। তার মানে এই মেয়েটিই তার সেই সৎ বোন যাকে সে এতদিন মনে মনে ঘৃণা করে এসেছে। আর চিনতে না পেরে তার সাথেই লিপ্ত হয়েছে চরম ভালো লাগায়।

এদিকে রূপার অবস্থা আরও করুণ। তার পুরো শরীর যেন অবশ হয়ে আসছে। চারপাশের দেয়ালগুলো দুলছে বলে মনে হচ্ছে। এক তীব্র যন্ত্রণাদায়ক সত্য তার অস্তিত্বকে দুমড়ে-মুচড়ে দিচ্ছে। যেই পুরুষের প্রতি তার মনে এক অদ্ভুত ভালো লাগার অনুভূতি দানা বাঁধতে শুরু করেছিল সেই পুরুষটিই তার নিজের ভাই। মুহূর্তেই রূপার চোখের সামনে সব কিছু ঝাপসা হয়ে এল। চারপাশটা গাঢ় অন্ধকারে ঢেকে গেল। সে জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যেতে নিলে বাঁধন নিজের চোট পাওয়া হাতের তীব্র ব্যথা উপেক্ষা করেই তাকে শক্ত করে ধরে ফেলল। রূপার কোল থেকে ক্যান্ডিকে লুফে নিল বৃষ্টি।

বৃষ্টি রূপার মাথা নাড়াতে নাড়াতে আর্তনাদ করে উঠল,

“এই রূপা, কী হয়েছে তোর? তুই এভাবে জ্ঞান হারালি কেন?”

কিন্তু রূপার কোনো সাড়াশব্দ নেই। বাঁধন এক পলক রূপার ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া মুখটার দিকে তাকাল। তার বুকের ভেতরটা এক অজানা আশঙ্কায় ধক করে উঠল। পরক্ষণেই কঠিন বাস্তবতায় চোখ ফিরিয়ে নিল সে। নিজের ক্ষতবিক্ষত হাতের যন্ত্রণা তুচ্ছ করে রূপাকে সযত্নে কোলে তুলে নিল। আকাশ ব্যতিব্যস্ত হয়ে বলল,

“মনে হয় জ্ঞান হারিয়েছে। বাঁধন, তোর শরীর তো জখম, আমার কাছে দে ওকে।”

বাঁধন কোনো কথা বলল না। একটা পাথরের মূর্তির মতো নির্বিকার মুখে রূপাকে পাঁজাকোলা করে নিয়ে নিচে নেমে গেল। বৃষ্টি ছাদে হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। সে বুঝতেই পারল না কয়েক মুহূর্তের ব্যবধানে ঠিক কী ঘটে গেল। আকাশ বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে শান্ত স্বরে বলল,

“সন্ধ্যা হয়ে আসছে, তুমি নিচে নেমে আসো।”

আকাশ নেমে গেল, আর তার পিছন পিছন ঘোরের মধ্যে থাকা বৃষ্টিও পা বাড়াল। বাঁধন রূপাকে নিচে ড্রয়িং রুমে নিয়ে এল। হঠাৎ বাঁধনের কোলে নিথর রূপাকে দেখে আহসান রহমান আর হাজি রহমান দুজনেই সোফা ছেড়ে আঁতকে উঠে দাঁড়িয়ে গেলেন। আহসান রহমান দ্রুত এগিয়ে এসে উদ্বিগ্ন কণ্ঠে বললেন,

“কী হয়েছে রূপার?”

বাঁধন কোনো উত্তর দিল না। সে রূপাকে সোফায় সাবধানে শুইয়ে দিয়ে শুধু ছোট করে বলল,

“জ্ঞান হারিয়েছে।”

বলেই সে সেখানে এক মুহূর্তও আর দাঁড়াল না। কারো কোনো প্রশ্নের জবাব দেওয়ার মতো মানসিক অবস্থা তার নেই। বড় বড় পা ফেলে নিজের রুমে ঢুকে সজোরে দরজাটা বন্ধ করে দিল সে। আহসান রহমান তড়িঘড়ি করে পানি এনে রূপার চোখেমুখে ছিটিয়ে দিলেন। কয়েক মুহূর্ত পর রূপা ধীরে ধীরে চোখ মেলল। সে ফ্যালফ্যাল করে আশেপাশে তাকিয়ে সবকিছু বোঝার চেষ্টা করছিল। হাজি রহমান ওর মাথায় হাত বুলিয়ে ব্যাকুল হয়ে বললেন,

“তুই ঠিক আছিস তো দিদিভাই? হুট করে এভাবে জ্ঞান হারালি কেন?”

রূপার মস্তিষ্কে তখন সেই রূঢ় সত্যটা হাতুড়ির মতো বাড়ি দিচ্ছে। বাঁধন তার ভাই। এই চিন্তাটা আসতেই তার বুকটা আবার ধক করে উঠল। নিজের মনের গোপন অনুভূতিগুলোর কথা ভেবে সে এক চরম অস্বস্তিতে কুঁকড়ে গেল। সে হাজি রহমানের দিকে তাকিয়ে কোনোমতে নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,

“আসলে দাদু জানি না হঠাৎ মাথাটা কেমন জানি ঘুরে গেল।”

রজনী রহমান খবর পাওয়া মাত্রই উদ্বেগ নিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে এলেন। রূপাকে সোফায় ওভাবে পড়ে থাকতে দেখে তিনি বরাবরের মতোই বকাঝকা শুরু করে দিলেন।

“কতবার বলেছি না খেয়ে থাকবি না, শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। শুনলি তো আমার কথা। এখন দেখ কী অবস্থা হয়েছে।”

আহসান রহমান একটু বিরক্ত হয়ে বললেন,

“আহা, চুপ করো তো তুমি। মেয়েটাকে পেলেই বকাঝকা শুরু করো। ওকে আগে রুমে নিয়ে যাও, একটু রেস্ট করুক।”

বৃষ্টি আর রজনী রহমান মিলে রূপাকে ধরে ধরে রুমে নিয়ে আসলেন। রজনী রহমান আরও কিছুক্ষণ মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে সেখান থেকে চলে গেলেন। তিনি যেতেই বৃষ্টি বেশ উত্তেজিত হয়ে রূপার পাশে বসল।

“এই, তুই কি তোর ভাইয়ের রূপ দেখে জ্ঞান হারিয়েছিস নাকি অন্য কিছু? না মানে, বাঁধন ভাইয়া দেখতে তো পুরাই অস্থির। এক কথায় ক্রাশ খেয়েছি রে, যদিও জানি এইটা ক্রাশ নামক বাঁশ।”

রূপা বিরক্ত হয়ে বলল,

“ফালতু কথা বন্ধ কর তো। ব্যাপারটা ওরকম মোটেও না।”

বৃষ্টি অবাক হয়ে শুধাল,

“তাহলে কী?”

রূপা আর চেপে রাখতে পারল না। রাস্তা থেকে শুরু করে ডিআইজি অফিস পর্যন্ত বাঁধনের সাথে তার যত কথা আর ওই অদ্ভুত অনুভূতির কথা ছিল, সব বৃষ্টির কাছে বলে দিল। সব শুনে বৃষ্টি হাসতে হাসতে বিছানা বালিশ সব এলোমেলো করে ফেলল।

“বলিস কী। পৃথিবীতে তুই মনে হয় একমাত্র বোন, যে নিজেরই সৎ ভাইয়ের ওপর অন্য রকম অনুভূতি অনুভব করেছিস।”

রূপা এবার রাগে ফেটে পড়ে বলল,

“দেখ, হাসবি না একদম। মুখ ভেঙে দেবো তোর। আমার কী করার ছিল? আমি কি জানতাম যে উনিই আমার ভাই হবেন?”

বৃষ্টির হাসি থামছেই না, আর রূপার বুকের ভেতরটা সেই অস্বস্তিতে এখনো তোলপাড় করছে।

রাত দশটা বেজে গেছে, কিন্তু বাঁধন এখনো রুমের দরজা খোলেনি। ওদিকে রূপাও খাওয়ার নাম করে নিচে আসছে না। সবাই ডাকতে গেলে বারবার শুধু বলছে পরে খেয়ে নেবে। বৃষ্টির প্রচণ্ড খিদে পাওয়ায় সে খেয়েদেয়ে নিজের মতো ঘুমিয়ে পড়েছে, কিন্তু রূপার চোখে এক ফোঁটা ঘুম নেই। তার বুকের ভেতরটা এক বিশ্রী অস্বস্তিতে ধকধক করছে। এই কয়েক দিনে ওই মানুষটার প্রতি নিজের মনে যে ভালো লাগার বীজ বুনেছিল, এখন সেটা ভাবতেই নিজের ওপর ঘৃণা হচ্ছে তার। সে নিজেকেই নিজে শাসাচ্ছে কীভাবে এখন বাঁধন ভাইয়ের সামনে যাব।

রাত বাড়ার সাথে সাথে রূপার পেটের ক্ষুধাটাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। মনে মনে ভাবল, এতক্ষণে নিশ্চয়ই বাড়ির সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। এই সুযোগে চট করে খেয়ে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। যেই ভাবা সেই কাজ। সে পা টিপে টিপে রুমের দরজা খুলে বের হলো।

নিচে নেমে ড্রয়িং রুমের আলোটা জ্বালাল সে। ডাইনিং টেবিলে গিয়ে দেখল, খাবারগুলো আগে থেকেই যত্ন করে বেড়ে ঢাকা দিয়ে রাখা হয়েছে। সে নিঃশব্দে খেতে বসল। কিন্তু বিপত্তিটা ঘটল মাঝপথে। খাওয়ার মাঝে হঠাৎ তার প্রচণ্ড কাশি উঠল। কাশির চোটে রূপার নাজেহাল অবস্থা, চোখ-মুখ লাল হয়ে গেছে, অথচ সে উত্তেজনায় পানির গ্লাসের কথা ভুলেই গেছে। সমান তালে কেশেই যাচ্ছে সে।

হঠাৎ অগোচরেই কেউ একজন ঠান্ডা পানির গ্লাসটা তার সামনে এগিয়ে দিল। রূপা তখন কাশির চোটে এতটাই অস্থির যে কে পানি দিল তা দেখার সময় পেল না। তড়িঘড়ি করে গ্লাসটা নিয়ে এক ঢোক দিয়ে সবটুকু পানি সাবাড় করে দিল। তারপর একটা লম্বা শ্বাস নিয়ে নিজেকে স্বাভাবিক করে নিচু স্বরে বলল,

“থ্যাংক ইউ।”

শব্দটা উচ্চারণ করতেই রূপা নিজেই নিজের জায়গায় থমকে গেল। মাঝরাতে ডাইনিং টেবিলে তাকে পানি দেওয়ার মতো কে জেগে আছে? সে ধীরপায়ে ঘাড় ঘুরিয়ে সামনে তাকাল, আর সাথে সাথে তার বুকের স্পন্দন এক মুহূর্তের জন্য থেমে গেল। গলার কাছে দলা পাকিয়ে এল একরাশ জড়তা।

সামনে দাঁড়িয়ে আছে বাঁধন। তার দুই হাত পকেটে গোঁজা, পরনে ছাই রঙের টি-শার্ট আর সাদা ট্রাউজার। গোছানো চুলগুলো এখন অবিন্যস্ত আর এলোমেলো হয়ে আছে, তবে সবথেকে বেশি ভীতি জাগাচ্ছে তার অস্বাভাবিক লাল হয়ে থাকা চোখ জোড়া। সেই রক্তবর্ণ দৃষ্টি স্থির হয়ে আছে রূপার ওপর। রূপার সারা শরীরের লোম দাঁড়িয়ে গেল। হৃদপিণ্ডটা যেন বুকের ভেতর দুমড়ে-মুচড়ে যাচ্ছে। সে বুঝতে পারছে না এই মুহূর্তে তার ঠিক কী করা উচিত। কথা বলবে নাকি এক দৌড়ে রুমে পালিয়ে যাবে।

এভাবেই নিস্তব্ধতায় কয়েক মুহূর্ত কেটে গেল। অবশেষে রূপা সাহস সঞ্চয় করে ধীরে ধীরে চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াল। যেই না পাশ কাটিয়ে চলে যেতে নেবে, ওমনি সেই গম্ভীর পুরুষালি কণ্ঠস্বর পাথরের মতো তার পা থামিয়ে দিল।

“দাঁড়া।”

রূপা ভয়ে চোখ বন্ধ করে ফেলল। প্রবাদ আছে না যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যা হয়, রূপার অবস্থাও ঠিক তাই। সে ধীরপায়ে ঘুরে দাঁড়াল, মাথাটা একদম নিচু করে রাখল। ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে অস্ফুট স্বরে বলল,

“জ্বি ভাইয়া, বলুন?”

বাঁধনের কণ্ঠস্বর এবার আরও ধারালো হয়ে এল।

“তুই রূপা, এই কথাটা আগে বলিসনি কেন আমাকে? ইউ সুড হ্যাভ ইনফর্মড মি বিফোর?”

রূপা মাথা নিচু রেখেই কোনোমতে তোতলাতে তোতলাতে বলল,

“আমি জানতাম না যে আপনি আমার ভাই, জানতাম না তো।”

বাকিটুকু উচ্চারণ করার আগেই বাঁধন সজোরে একটা ধমক দিয়ে উঠল।

“শাট আপ। কে বলেছে আমি তোর ভাই?”

বাঁধনের এই রণমূর্তি দেখে রূপার আত্মা কেঁপে উঠল। ভাই হয়েও সে এভাবে অস্বীকার করছে কেন? রূপার দুচোখ বেয়ে অবাধ্য জল গড়িয়ে পড়ার উপক্রম হলো। সে থরথর করে কাঁপতে লাগল। রূপাকে চুপচাপ থরথর করে কাঁপতে দেখে বাঁধন তার দিকে আরও এক পা এগিয়ে এল। তার কণ্ঠস্বরে জমাট বাঁধা বরফের মতো শীতলতা।

“কী হলো, উত্তর দিচ্ছিস না কেন? টেল মি?”

রূপা চোখ মুছে এবার মাথা তুলে তাকাল। তার কণ্ঠেও এবার জমে থাকা অভিমানটা ফুটে উঠল। সে ধরা গলায় বলল,

“হয়তো আপনি আমার মা আর বাবার সম্পর্কটা মেনে নিতে পারেননি, তবে সমাজের চোখে আপনি আমার আপন না হলেও আপনি আমার ভাই। এই ট্রুথটা আপনি চাইলেই অস্বীকার করতে পারবেন না।”

কথাটা শেষ হয়ে না হতেই বাঁধনের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল। তার ভেতরকার দীর্ঘদিনের পুষে রাখা ঘৃণাটা আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ল। সজোরে একটা থাপ্পড় বসিয়ে দিল রূপার গালে। থাপ্পড়ের সেই তীব্র শব্দে পুরো হলরুম যেন একবার কেঁপে উঠল। রূপা টাল সামলাতে না পেরে পেছনের ডাইনিং টেবিলটা ধরে ফেলল, তারপর গালে হাত দিয়ে মাথা নিচু করে ডুকরে কেঁদে উঠল।

বাঁধন এবার নিচু হয়ে রূপার একদম মুখের কাছে মুখ এনে দাঁত চেপে বলল,

“ডোন্ট ইউ ডেয়ার। ওই মুখ দিয়ে আরেকবার আমাকে ভাই ডাকলে তোর চিবুকের সব কটা দাঁত আমি থাপ্পড় দিয়ে ফেলে দেব। হার্টলেসলি তোর জিভ টেনে ছিঁড়ে ফেলব আমি।”

রূপা অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে ঝাপসা চোখে বাঁধনের দিকে তাকাল। বাঁধন তখন উন্মত্তের মতো চিৎকার করে উঠল।

“তুই আমার বোন? ইন হুইচ লাইফ? কোন জন্মের বোন তুই আমার? না তুই আমার বাবার রক্ত, আর না তুই আমার মায়ের রক্ত। তুই হলি জাস্ট একটা আউটসাইডার, একটা বাইরের মেয়ে। অন্যের রক্ত শরীরে বয়ে নিয়ে অন্যের বাড়িতে রাজরানীর মতো বসে খাচ্ছিস, আর এখন আমাকে ভাই বানিয়ে সম্পর্ক পাতাতে এসেছিস?”

রূপা আর কোনো কথা বলতে পারল না। বাঁধনের প্রতিটি শব্দ বিষাক্ত তীরের মতো তার বুক চিরে দিচ্ছে। মাথা নিচু করে সে শুধু অঝোরে কাঁদতে লাগল। আজ সে হাড়হিম করা এক সত্যের মুখোমুখি। বাঁধন তাকে কেবল অপছন্দই করে না, বরং মনেপ্রাণে ঘৃণা করে। এতদিনের সব ধোঁয়াশা যেন মুহূর্তেই পরিষ্কার হয়ে গেল কেন বাঁধন কখনো তার সামনে আসত না, আর কেনই বা বাড়ির বড়রা কখনো তাকে বাঁধনের সামনে যেতে দিত না।

দাঁড়িয়ে থাকার মতো শক্তিটুকুও রূপা হারিয়ে ফেলেছে। সারা শরীর যেন ভেঙে আসছে। সে ফোঁপাতে ফোঁপাতে দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠে গেল। নিজের রুমে ঢুকে সজোরে দরজা বন্ধ করে দিয়ে খাটের ওপর আছড়ে পড়ল। তার কান্নার শব্দ দেয়াল ভেদ করে বাইরে না এলেও, ভেতরের হাহাকার যেন পুরো ঘরটাকে ভারী করে তুলল।

নিচে নিস্তব্ধ হলরুমে একা দাঁড়িয়ে রইল বাঁধন। কয়েক মুহূর্তের জন্য তার মনে হলো কাজটা কি ঠিক হলো। সে কি সত্যিই মেয়েটাকে একটু বেশিই কষ্ট দিয়ে ফেলল। ওর কান্নারত ফ্যাকাশে মুখটা মনে পড়তেই বুকের ভেতর কোথাও একটা সূক্ষ্ম টান লাগল। কিন্তু পরক্ষণেই একরাশ ঘৃণায় মুখ কুঁচকে ফেলল সে। নিজের মনকে শক্ত করে বিড়বিড় করল।

“নো। যা করেছি একদম ঠিক করেছি। দিস ইজ হোয়াট শি ডিজার্ভস।”

বাঁধন ধীরপায়ে রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে গেল। আসলে সে নিচে নেমেছিল এক কাপ কড়া কফি বানিয়ে নিতে, যাতে রাতের ঘুমটাকে তাড়ানো যায়। কিন্তু এসে দেখে রূপা বিষম খেয়ে কাশছে, অথচ মেয়েটা কাশির চোটে এতটাই অস্থির যে পানির গ্লাসটা পর্যন্ত নিতে পারছে না। তখন ঘৃণা ভুলে স্রেফ মানবিকতার খাতিরেই সে চুপচাপ পানিটা বাড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু রূপার ওই ভাই ডাকটা তার মস্তিষ্কের সব কটা শিরায় আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল।

#চলবে

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply