#অসম্ভব_রকম_ভালোবাসি_তোমায়
#লেখিকা_সুমি_চৌধুরী
#পর্ব ৬১
[•••অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষিদ্ধ•••]
রিদি ধীর পায়ে শুভ্রর রেখে যাওয়া ব্যাগটির সামনে গিয়ে দাঁড়াল। তার হৃদপিণ্ডটা তখন কিছুটা দ্রুত স্পন্দিত হচ্ছে, ঠিক কী আছে এর ভেতর? আলতো করে ব্যাগটি খুলতেই তার চোখজোড়া বিস্ময়ে বড় বড় হয়ে গেল। ব্যাগের ভেতরে পরম মমতায় ভাঁজ করে রাখা একটি গাঢ় সবুজ রঙের শাড়ি, সাথে মানানসই সবুজ কাঁচের চুড়ি, সাদা পাথরের চিকন কাজের ঝুমকো আর এক পাতা কালো রঙের ক্লিপ।
জিনিসগুলো হাতে তুলে নিতেই রিদির গলায় যেন ভাষা আটকে গেল। শাড়িটার কোমল কাপড় সে দুহাতে ভালো করে পরখ করল, যেন এর প্রতিটি সুতোর বুননে মিশে আছে শুভ্রর কোনো না বলা কথা। মনে পড়ে গেল গত রাতের সেই কথোপকথন, শুভ্র খুব স্বাভাবিক গলায় জানতে চেয়েছিল তার কাছে কোনো সবুজ শাড়ি আছে কি না। রিদির ঠোঁটে এক চিলতে মিষ্টি হাসি ফুটে উঠল। সে শাড়িটি বুকের কাছে টেনে জড়িয়ে ধরল, যেন শুভ্রর উপস্থিতির উষ্ণতাটুকু সে অনুভব করতে চাইছে।
—
বিকেল গড়িয়ে পড়লে সাহেরা চৌধুরী নিজ হাতে রিদিকে শাড়িটি পরিয়ে সাজিয়ে দিলেন। শাড়ির ভাঁজে রিদির শরীরের গড়ন যেন এক নতুন লাবণ্য পেয়েছে। সে নিজের সাজটা নিজেই সম্পন্ন করল। চুলগুলো ব্লাস্ট করে ছেড়ে দিতেই তা রেশমের ঝরনার মতো নেমে এলো একদম হাঁটু পর্যন্ত। এরপর শুভ্রর দেওয়া সেই ঝুমকো আর সবুজ চুড়িগুলো পরে নিল। চুলে কালো ক্লিপগুলো দিয়ে এমনভাবে আটকে নিল যেন কোথাও কোনো চুল এলোমেলো না থাকে।
শেষে চোখে গাঢ় কাজল আর ঠোঁটে হালকা লিপস্টিকের ছোঁয়ায় সে যখন আয়নার সামনে দাঁড়াল, এক মুহূর্তের জন্য রিদি নিজের দিকে তাকিয়ে রইল। আয়নায় প্রতিফলিত প্রতিচ্ছবিটা যেন অচেনা। এতটা মায়াবী আর উজ্জ্বল রিদি নিজেকে আগে কখনো দেখেনি। শুভ্রর দেওয়া এই উপহার আর তার এই নতুন রূপ যেন আজকের বিকেলটাকে এক বিশেষ অর্থ দিয়ে গেল।
রিদি রুমের নিস্তব্ধতায় শুভ্রর অপেক্ষায় বসে ছিল। বুকের ভেতরটা কেমন জানি ধুকপুক করছে, সময় যেন কাটছিলই না। হঠাৎ নিচ থেকে পরিচিত গাড়ির ইঞ্জিনের শব্দ কানে আসতেই তার প্রাণ চঞ্চল হয়ে উঠল। তাড়াহুড়ো করে ব্যালকনিতে এসে সে নিচে তাকাল, কিন্তু পরক্ষণেই তার চোখের উজ্জ্বলতা কিছুটা ম্লান হয়ে গেল। গাড়িটি শুভ্রর ঠিকই, কিন্তু চালকের আসনে বসে আছে ঈশান। গাড়ি থেকে নামল শুভ্রা। অর্থাৎ, শুভ্র আসেনি।
শুভ্রা ঘরে ঢুকে সবার সাথে কুশল বিনিময় সেরে সরাসরি রিদির রুমে চলে এল। রিদিকে না পেয়ে সে বারান্দার দিকে এগিয়ে গিয়ে যা দেখল, তাতে থমকে দাঁড়াল। পরনে সবুজ শাড়ি, খোলা চুল আর স্নিগ্ধ সাজে রিদিকে যেন এক অপার্থিব মায়াবী লাগছে। শুভ্রা মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল, তারপর উচ্ছ্বসিত হয়ে বলে উঠল,
“রিভা, তোকে যা লাগছে না বিশ্বাস করবি না, তোকে আজ অসাধারণ সুন্দর দেখাচ্ছে।”
শুভ্রার প্রশংসা শুনে রিদি লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলল। তবে তার মন পড়ে রইল নিচে, আড়চোখে সে বারবার গাড়ির দিকে তাকাচ্ছে। তার চোখ দুটি যেন ব্যাকুল হয়ে একজনকে খুঁজছে। রিদির এই লুকোচুরি চাহনি শুভ্রার বুঝতে বাকি রইল না। সে মুচকি হেসে রিদির কাঁধে হাত রেখে বলল,
“হয়েছে থাক! ভাইয়াকে আর খুঁজতে হবে না, চল আমার সাথে।”
রিদি ভুরু কুঁচকে জিজ্ঞাসা করল,
“কোথায়?”
শুভ্রা রহস্যময় হেসে বলল,
“গেলেই দেখতে পাবি, চল।”
শুভ্রা আর কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ না দিয়ে রিদিকে টেনে নিয়ে সোজা নিচে নেমে এল এবং তাদের সাথে গাড়িতে উঠে বসল। ঈশান ড্রাইভিং সিটে বসে গাড়িতে স্টার্ট দিল। রিদিকে দেখে ঈশানের চোখ ধাঁধিয়ে গেল, সে গাড়ির লুকিং গ্লাসে রিদির দিকে তাকিয়ে প্রশংসা করে বলল,
“আরে বাহ ম্যাম,আজকে তো আপনাকে দারুণ সুন্দর লাগছে।”
রিদি সামান্য লজ্জা পেলেও নিজেকে সামলে নিল। সে ঈশানের দিকে তাকিয়ে হালকা হেসে বলল,
“ধন্যবাদ। কিন্তু আপনার ‘ম্যাম’ কে? আমি ম্যাম নই। বোন ডাকতে চাইলে ডাকবেন, নয়তো ডাকার দরকার নেই।”
ঈশান একটা বাঁকা হাসি হাসল, আয়নায় রিদির দিকে একবার তাকিয়ে বলল,
“ওকে ওকে, বোনই ডাকব। এখন রাগ করো না। তবে মনটা একটু খারাপ মনে হচ্ছে, তাই না?”
রিদি খানিকটা হকচকিয়ে গিয়ে বলল,
“এই কথা কেন বলছেন?”
পাশ থেকে শুভ্রা রহস্যময় হেসে উত্তর দিল,
“কারণটা খুব সহজ। আমার ভাইয়া তো আসেনি! আর সত্যি বলতে, ভাইয়া আসবেও না। আর আসলেও আজ তোকে আর খুঁজে পাবে না।”
রিদি ভ্রু কুঁচকে অবাক হয়ে তাকাল,
“মানে?”
শুভ্রা এবার ঝুড়ি থেকে আসল খবরটা বের করল,
“মানে এটাই! আমরা সবাই ভাইয়াকে বলছিলাম ট্রিট দিতে, কিন্তু সে কিছুতেই রাজি হচ্ছিল না। তারপর জানতে পারলাম, ভাইয়া আজ তোকে বিকেলেই কোথাও নিয়ে বের হওয়ার প্ল্যান করেছে। ব্যস, সুযোগ বুঝে আমি আর ঈশান মিলে ভাইয়ার গাড়িটা নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। এখন তোকে নিয়ে অনেক দূরে চলে যাব, যাতে ভাইয়া তোদের বাসায় গিয়ে তোকে না পায়!”
শুভ্রার এই পরিকল্পনার কথা শুনে ঈশানের পেটে খিল ধরে যাওয়ার অবস্থা, সে স্টিয়ারিংয়ে হাত রেখেই হাসতে হাসতে শেষ। অন্যদিকে, রিদি পরিস্থিতি বুঝতে পেরে রীতিমতো ঢোক গিলতে লাগল,
“মানে? এসব কী বলছিস তোরা! গাড়ি থামা, আমি নামব!”
শুভ্রা হাত দিয়ে তাকে থামিয়ে দিয়ে বলল,
“কেন? ভাইয়াকে ছাড়া বুঝি একটা মুহূর্তও ভালো লাগে না?”
রিদি গাল ফুলিয়ে অভিমানে তাকিয়ে রইল। তার এই লাজুক অথচ অভিমানী চেহারা দেখে শুভ্রা আরও মজা পেল। রিদি ফিসফিস করে বলল,
“বুঝিসই যখন, তাহলে আমাকে এভাবে নিয়ে আসলি কেন?”
শুভ্রা খিলখিল করে হেসে উঠল,
“নিয়ে আসলাম এই কারণে, যাতে তোকে না পেয়ে ভাইয়া পাগলের মতো আমাদের খোঁজে আর শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে আমাদের ট্রিট দেয়!”
রিদি অবাক হয়ে জানতে চাইল,
“এতে আমার সাথে সম্পর্ক কী?”
সামনে থেকে ঈশান গাড়ির গতি সামান্য কমিয়ে আয়নায় চোখ রেখে বলল,
“সম্পর্কটা অনেক গভীর, বোন। বসের একমাত্র দুর্বলতা তো তুমি! তোমাকে চোখের সামনে না পেলে বসের মাথা যে ঠিক থাকবে না, সেটা আমরা জানি। আর সেই সুযোগেই তো বসের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত ট্রিটটা আদায় করে নেব!”
রিদি দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফিসফিস করে বলল,
“কাজটা কি করতেই হবে?”
শুভ্রা দৃঢ় গলায় উত্তর দিল,
“হ্যাঁ রে, করতেই হবে! এখন একদম চুপচাপ বসে থাক।”
রিদি আর কথা বাড়াল না। মন খারাপ করে জানালার কাচে মাথা ঠেকিয়ে বাইরের দিকে তাকিয়ে রইল। মাত্র কয়েক মিনিট আগেও যে মনটা ফুরফুরে ছিল, মুহূর্তের মধ্যে তা যেন ভারি হয়ে এল। শুভ্রর সাথে দেখা না হওয়ার অভিমানে তার চোখের কোণায় চিকচিক করে উঠল এক বিন্দু জল। ঈশান লুকিং গ্লাসে রিদির বিষণ্ণ মুখটা দেখে মুচকি হাসল, আর পেছনের সিটে বসা শুভ্রা ঈশানকে উদ্দেশ করে একটি ‘লাইক’ ইশারা করল।
দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গাড়ি এসে থামল পাহাড়ের পাদদেশে। চারিদিকে নিস্তব্ধতা, কেবল পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে আসা মৃদু বাতাসের শব্দ। তারা তিনজন গাড়ি থেকে নামল। রিদি অবাক হয়ে চারপাশটা ঘুরে ঘুরে দেখল, তারপর ফ্যাকাশে মুখে শুভ্রাদের দিকে তাকিয়ে বলল,
“এই পাহাড়ের নির্জন জায়গায় কেন নিয়ে এসেছিস?”
ঈশান গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়াল। বুকে দুহাত ভাঁজ করে বাঁকা হেসে বলল,
“আমাদের কাজ এখানেই শেষ, রিদি। এখন বাকিটুকু তোমার। চুপচাপ সামনের পথ ধরে হাঁটতে থাকো, সামনে তোমার জন্য একটা সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে।”
রিদি ভুরু কুঁচকে ইতস্তত গলায় বলল,
“সারপ্রাইজ? মানে?”
শুভ্রা একটু এগিয়ে এসে রিদির কাঁধে হাত রেখে বলল,
“এতো ‘মানে-মানে’ করিস কেন? একবার গিয়ে দেখলেই তো পারিস কী সারপ্রাইজ!”
ঈশান রহস্যময় হাসিতে চোখ টিপে যোগ করল,
“এবার চোখটা বন্ধ করো, আর নিশ্চিন্তে হেঁটে চলে যাও।”
রিদি আর দ্বিরুক্তি করল না। শাড়ির কুঁচি আলতো হাতে ধরে সে পাথুরে পথ বেয়ে সামনের দিকে এগিয়ে চলল। সবুজ শাড়ির আঁচল পাহাড়ের হাওয়াতে দুলছে, যেন পাহাড়ের গায়ে এক টুকরো বনলতা হেঁটে যাচ্ছে। শুভ্রা ঈশানের পাশে এসে দাঁড়াল, দুজনে মিলে তাকিয়ে রইল রিদির চলে যাওয়ার পথের দিকে।
শুভ্রা মৃদুস্বরে বলল,
“ঈশান ভাইয়া, এই মুহূর্তটা আসলেই খুব সুন্দর, তাই না?”
ঈশান আকাশের দিকে তাকিয়ে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। শান্ত গলায় সে উত্তর দিল,
“সুন্দর বললে ভুল হবে। এ এক অন্যরকম অনুভূতি, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তবে এই সৌভাগ্য সবার হয় না, যারা ভালোবাসা পরাজয় মানে না, তাদের জন্যই এই সৌভাগ্য টা হয়।”
বাতাসটা হঠাৎ স্তব্ধ হয়ে গেল। শুভ্রা আনমনে ঈশানের দিকে তাকাল। পাহাড়ের ঝোড়ো হাওয়া তার চুলে জট পাকিয়ে দিচ্ছে। শুভ্রা হঠাৎ বলে ফেলল,
“ঈশান ভাইয়া, আমি না কাউকে ভালোবেসে ফেলেছি। শুধু ভালোবাসি না, অসম্ভব ভালোবাসি।”
ঈশানের হাসি মুখটা মুহূর্তের মধ্যে পাথরের মতো স্থির হয়ে গেল। বুকের ভেতরটা কেমন যেন দুমড়ে-মুচড়ে উঠল, মনে হলো দম বন্ধ হয়ে আসছে। সে আড়ষ্ট গলায় শুভ্রার দিকে তাকাল। মেয়েটি সামনের পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে হাসছে, ঠোঁটের কোণে এক মিষ্টি আভা। ঈশান আর কোনো প্রশ্ন করতে পারল না, তার কণ্ঠস্বর যেন গলার কাছে আটকে গেল।
কিছুটা সময় কেটে গেল ভারী নীরবতায়। শুভ্রা ঈশানের নীরবতা দেখে কিছুটা কৌতুক করে বলল,
“চুপ করে আছেন যে? মন খারাপ?”
ঈশান নিজেকে সামলে নিল। সে একটা কৃত্রিম হাসি ফুটিয়ে বলল,
“আরে না, একদমই না। এমনিতে এমনিই একটু ভাবছিলাম।”
হঠাৎ শুভ্রা বায়না ধরে বসল, “ঈশান ভাইয়া, এই পরিবেশটা এত সুন্দর, একটা গান শোনাবেন? গাড়িতে গিটার আছে, আমি আসার সময় সেটা নিয়ে এসেছি!”
ঈশান হাসল, কিন্তু বিনয়ের সাথে বলল,
“আমি তো খুব একটা ভালো গান জানি না, শুভ্রা।”
“মিথ্যা কথা! আপনি গান পারেন, আমি জানি।”
“না, সত্যি বলছি, আমি একদমই পারি না।”
শুভ্রা গাল ফুলিয়ে অভিমানে মুখ ঘুরিয়ে নিল,
“ওকে, গাইতে হবে না!”
বলেই সে পাহাড়ের ঢালের দিকে হাঁটতে শুরু করল। হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ একটা ঝোপের পাশে রঙিন প্রজাপতি দেখে সে থমকে দাঁড়াল। আলতো করে হাত বাড়াতেই প্রজাপতিটা উড়ে এসে তার আঙুলের ডগায় বসল। শুভ্রার দুই চোখে তখন আনন্দের ঝিলিক। সেই আনন্দের মাঝেই হঠাৎ বাতাসে গিটারের টুংটাং সুর ভেসে এল।
সে চমকে পেছনে ফিরে তাকাল। দেখল ঈশান গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে চোখ বন্ধ করে পরম মমতায় গিটার বাজাচ্ছে। গিটারের সেই সুরের মূর্ছনায় বাতাসের হিল্লোলে মিশে ঈশানের পুরুষালি মায়াবী কণ্ঠস্বর শুভ্রার কানে আছড়ে পড়ল।
“তোর মন পাড়ায়,
থাকতে দে আমায়,
আমি চুপটি করে দেখব,
আর ডাকব ইশারায়,
তুই চাইলে বল,
আমার সঙ্গে চল,
ওই উদাস পুরের বৃষ্টিতে,
আজ ভিজব দুজনা,
অভিমানী মন আমার,
চায় তোকে বারেবার,
অভিমানী মন আমার,
চায় তোকে বারেবার,
তাই বলি আইরে ছুটে আয়,
তোর মন পাড়ায়,
থাকতে দে আমায়,
আমি চুপটি করে দেখব,
আর ডাকব ইশারায়,
তুই চাইলে বল,
আমার সঙ্গে চল,
ওই উদাস পুরের বৃষ্টিতে,
আজ ভিজব দুজনা,
অভিমানী মন আমার,
চায় তোকে বারেবার,
অভিমানী মন আমার,
চায় তোকে বারেবার,
তাই বলি আইরে ছুটে আয়,
Share On:
TAGS: অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায়, সুমি চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৪২
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৪৫
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৩৬
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ১২
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬৯
-
বাঁধন রূপের অধিকারী পর্ব ৫
-
বাঁধন রূপের অধিকারী পর্ব ৬
-
বাঁধন রূপের অধিকারী পর্ব ১৭
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ২৩
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোকে পর্ব ২