প্রেমবসন্ত_২ ।৫৫।
হামিদাআক্তারইভা_Hayat
ঝড়-বৃষ্টি আসার আগে পরিবেশটা কিছুটা শান্ত থাকে। আজ ভোর সকাল থেকেই গুমোট গুমোট ভাব। আকাশের দিকে তাকালে মনে হয় এখনই আকাশ ভেঙে বৃষ্টির রঙিন পানি ঝরে পড়বে। কায়নাত ভোরে উঠেছিল নামাজ পড়তে। সেই যে ভোর বেলায় উঠেছে আর ঘুম ধরা দেয়নি চোখে। বিছানায় আদি তার মামুর বুকের উপর উঠে শান্তিতে ঘুমোচ্ছে জড়িয়ে ধরে। কায়নাত মুচকি হাসল সেই দৃশ্য দেখে। কাল রাতে দুজন কী কাণ্ডটাই না ঘটাল। কায়নাত ভাবল নিচে গিয়ে সবার জন্য চা-নাস্তার ব্যবস্থা করবে। সেই ভাবনা মতোই বাইরে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালে হঠাৎ অর্ণর ফোন বেজে ওঠে। ফোনটা কায়নাতের পড়ার টেবিলের উপর রাখা। কাল আদি গেম খেলা শেষ করে যখন আবার ফোন ধরতে চেয়েছিল, তখন অর্ণ ফোন টেবিলের উপর রেখে দিয়েছিল। কায়নাত আড়চোখে অর্ণর ঘুমন্ত মুখ দেখে টেবিলের দিকে এগিয়ে গেল। আননোন নাম্বার দেখে প্রথমে রিসিভ করতে না চাইলেও পরে কী মনে করে যেন কানে ধরল। ওপাশ থেকে এক মেয়ে খানিক তাড়া দিয়ে বলল,
“আপনার কাণ্ড দেখে অবাক না হয়ে পারছি না মিস্টার চৌধুরী। গতকাল আমাদের দেখা করার কথা ছিল।”
কায়নাত ভ্রু কুঁচকে অর্ণর দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলল,
“আপনি কে বলছেন?”
ঈশা! ওপাশে ঈশা ছিল। সে ভাবেনি অর্ণর বউ কল রিসিভ করবে। তবু যেন খুশি-ই হলো।
“আপনি কে বলছেন?”
কায়নাত কণ্ঠস্বর শক্ত করে বলল,
“আমার হাসব্যান্ডকে কল করে বলছেন আমি কে?”
“ওহহো! মিসেস চৌধুরী বলছেন?”
“রঙ্গ না করে আসল কথায় আসুন। আপনি কে? আমার হাসব্যান্ড এর নাম্বার আপনার কাছে কী করে এলো?”
“সে নাহয় আপনার হাসব্যান্ডকেই জিজ্ঞেস করে নেবেন। আর হ্যা, উনাকে বলবেন আমি কল করেছিলাম। কাল আমাদের দেখা করার কথা ছিল। তিনি কথা দিয়ে কথা রাখেননি।”
প্রায় সঙ্গে সঙ্গে কল কেটে গেল। কায়নাত হতভম্ব হয়ে ফোনের স্ক্রিনের দিকে খানিকক্ষণ তাকিয়ে রইল। বিশ্বাসই হচ্ছে না কিছু। কে এই মেয়ে? কেনোই বা অর্ণ তার সাথে দেখা করবে? আর কেনোই বা কথা দিয়েছিল! চোখ দুটো জ্বলে উঠল ওর। তবে অর্ণকে ডাকল না। ডেকে জিজ্ঞাসাও করল না কিছু। নিঃশব্দে ফোন রেখে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
নিচে কাজ চলছে। বেহরুজ বেগমের মাথাটা বড্ড ধরেছে। কায়নাত শাশুড়ির নিকটে গিয়ে বলল,
“আপনার বেশি মাথা ব্যথা করছে মা? মালিশ করে দেব?”
বেহরুজ বেগম তাকালেন। বললেন,
“না থাক, তোমার কষ্ট হবে।”
“এভাবে কেন বলছেন মা? কষ্ট কেন হবে?”
বলতে বলতে কায়নাত রান্নাঘরের দিকে পা বাড়িয়ে বলল,
“আপনাকে আমি চা বানিয়ে দিচ্ছি। দেখবেন নিমিষেই মাথা ব্যথা গায়েব হয়ে যাবে।”
কায়নাত সবার জন্যই চা বানিয়েছে। শুনেছে শ্বশুর, দাদা সবাই ছাদে গিয়েছেন সকালের মিষ্টি পরিবেশ উপভোগ করার জন্য। কায়নাত চা নিয়ে এলো সবার জন্য। ছাদে দুই ভাই আর অজগর চৌধুরী বসেছিলেন। কায়নাত তাদের চা দিয়ে জিজ্ঞেস করল সকালে কী খাবেন তারা! আব্দুর চৌধুরী বললেন যা রান্না হবে তাতেই হবে।
দেখতে দেখতে দুপুর হলো। সংবাদ এলো আজ হাসান আসছে সবাইকে নিয়ে। বাড়ির দেখাশোনা করার জন্য দুজন লোক রেখে রওনা হয়েছে ঢাকার উদ্দেশ্যে। বিয়েটা বেশ বড় করেই হবে মনে হচ্ছে। কায়নাতের অবশ্য তেমন কোনো অনুভূতি হচ্ছে না। মনটা বড্ড খুঁতখুঁত করছে। সকালে পড়াতে এসেছিল তাকে। না চাইতেও পড়তে হয়েছে। পরীক্ষার বেশিদিন বাকি নেই। শিক্ষামন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন জুন মাসের মধ্যেই পরীক্ষা শুরু হবে। তাতে অবশ্য তার উপর খানিকও প্রভাব পড়েনি।
সারাদিন একবারও অর্ণর সাথে তার কথা হয়নি। অর্ণ অফিসে গেছে আজ। বেশ কয়েকবার কায়নাতকে কল করলেও কায়নাতকে সে কলে পায়নি।
নিশাকে নিয়ে বিকেল দিকে কায়নাত আর জারা হসপিটালে এলো। নিশাকে এক ডক্টর চেকআপ করছেন। কায়নাত আর জারা প্রেমের কেবিনে এসেছে। বসেছে দুজন। প্রেম আপাতত ফ্রি আছে। ছেলেটার মন ভার। বাবার সাথে কথা বলার সুযোগ হয়নি কাল। কায়নাতের খুব মায়া হলো দেবরের জন্য। এভাবে দুটো মানুষ কষ্ট পাচ্ছে সেটা তার সহ্য হচ্ছে না। কায়নাত বলল,
“আমি কী বাবার সাথে কথা বলব?”
প্রেম দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
“আমি নিজে বলতে চাই।”
কায়নাত আর কিছু বলল না। নিশাকে নিয়ে বাড়ি ফিরল সন্ধ্যার দিকে। নিশা পাগল প্রায়। স্বার্থর কোনো খবর সে পাচ্ছে না। দুদিন কেটে গেল; অথচ স্বার্থ লাপাত্তা। রাতে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাড়ি ফিরল অর্ণ। রাত তখন প্রায় ১১টার কাছাকাছি। অফিসে খুব চাপ পড়েছে। নতুন প্রজেক্টের জন্য সময় পাচ্ছে না হাতে। এতে কায়নাত ভেবে নিল অন্যকিছু। পুরুষ মানুষ তো, মন বোঝা কঠিন। বাচ্চা মেয়েটার মাথায় চলছে অন্যকিছু। গতকাল রাত থেকে যে কায়নাত অর্ণকে উপেক্ষা করছে সেটা খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে। অর্ণ ভাবল বাড়িতে এত কাজ তাই হয়তো মন মেজাজ খারাপ হয়ে আছে। বেশি ঘাটল না সে এই ব্যাপার। রাতে কায়নাত ঠিক মতো কথাও বলল না। জোর করেই আজও আদিকে নিয়ে শুলো ঘরে। অর্ণ খানিক বিরক্ত হলেও কিছু প্রকাশ করল না। তার উপর দিয়েও তো খুব চাপ যাচ্ছে।
পরের দিন সকাল সকাল ফারিহা হাঁটতে বাগানে বের হলো। তারা গতকাল রাতে এসে পৌঁছেছিল ঢাকায়। ফিরতে অনেক রাত হয়ে গিয়েছিল। সকাল সকাল ঘুম ভাঙতেই ভরা পেট নিয়ে এলো বাইরে। ঢাকা এর আগে কখনও তার আসা হয়নি। এই প্রথম। বাড়িটা তার খুব মনে ধরল। চারপাশে ফুলের বাহার। আর খুব পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন। বেলি বেগম এবং আতিয়া বেগম বসেছিলেন বাগানে। ফারিহাকে দেখে নিজেদের পাশে বসালেন। পরিবারের সবাইকে একসাথ পেয়ে সবাই খুব খুশি। এইতো কিছুদিন! তারপর তো সবাই চলেই যাবে নিজেদের নিজ নীড়ে।
ফারিহা বলল,
“গ্রামে অত বড় বাড়ি থাকতে মেজ আব্বা কেন এখানে বাড়ি করেছেন? সবাই একসাথে থাকলে কত ভালো হতো।”
আতিয়া বেগম বললেন,
“মানুষের ভাগ্য আমরা নিজ হাতে গড়তে পারি না। তা-ছাড়া সে এখানেই বড় হয়েছে। পড়াশোনা করে বিয়ে করে এখানেই নিজ নীড় বানিয়েছে।”
“কিন্তু এভাবে বছরের পর বছর কারোর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ হয় না। ব্যাপারটা ভালো লাগে না। আজ সবাইকে একজায়গায় দেখে ভালো লাগছে।”
আতিয়া বেগম হাসলেন। তার কিছু বলার নেই এখানে। তিনি চেষ্টা করেছিলেন ছেলেকে গ্রামে নেয়ার, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন।
খানিকক্ষণ পর সেখানে উপস্থিত হয় জয়া। ওড়নার কোণা আঙুলে পেঁচাতে পেঁচাতে বসে দাদির পাশে। ওর এই চঞ্চল স্বভাবে মাঝে-মধ্যে আতিয়া বেগম খুব রাগ করেন। বাড়ির কোনো মেয়ে ওর মতো এত চঞ্চল নয়। ওর মতো কোনো মেয়ে মুখে মুখে তর্কও করে না।
“তুই সকাল সকাল অমন করে উড়ছিস কেন? কায়নাতকে দেখেছিস? কী সুন্দর হাতে হাতে কাজ করছে।”
জয়া বোধহয় একটু বিরক্ত হলো। কাজ-কাম তার পছন্দ নয়। গ্রামেও সে তেমন একটা কাজ করে না। বলা চলে কাজ করার প্রয়োজন হয় না। যা একটু থাকে সেটা নাজনীনের। জয়া বলল,
“মেহমান হয়ে এসেছি এই বাড়ি কাজ করার জন্য?”
“এটা কেমন কথা জয়া? নিজের বাড়ি মনে করে কাজ করা উচিত। বিয়ে তো নিজেদের বাড়ির মেয়েরই হচ্ছে।”
বোকা জয়া না বুঝেই মুখ ফোঁসকে বলে ফেলল,
“নুসরাত আপু নিজেদের কিভাবে হয়? সে তো মেজ আম্মার বোনের মেয়ে।”
বেলি বেগম তাকালেন জয়ার দিকে। জয়া তাড়াতাড়ি নিজের মুখ চেপে ধরল। পেছনে তখন মৃদু পায়ে নুসরাত হেঁটে আসছিল। এমন কথা কানে পৌঁছাতেই কদম স্থির হলো তার। মসৃণ ঠোঁটের কোণার হালকা হাসি মলিন হলো। আতিয়া বেগম চোখ গরম করলেন।
“জয়া, কী হচ্ছে এসব?”
জয়া নিজের ভুল শুধরে তাড়াতাড়ি বলল,
“ক্ষমা করো দাদি। আমি অমন করে বলতে চায়নি।”
“দিন দিন আক্কেল হাঁটুতে নেমে যাচ্ছে তোর?”
নুসরাত এগিয়ে এসে বলল,
“ওকে বকবেন না দাদি। ছোট মানুষ।”
জয়া সত্যি অনুতপ্ত হয়ে বলল,
“আমি সত্যি অমন করে বলতে চায়নি। তুমি আমার কথায় কিছু মনে কোরো না।”
নুসরাত হেসে মাথা নাড়ল। সে সত্যি কিছু মনে করেনি। জয়ার বয়সী মেয়েদের বোধ সম্পর্কে তার ধারণা আছে। জয়া তবু ভাবল নুসরাত কষ্ট পেয়েছে। তাকে খারাপ ভাবছে। বাড়ির ভেতর থেকে বেহরুজ বেগম সবাইকে ডাকছেন। আজ শপিং করতে যাবেন সবাই। অবশ্য বাড়ির পুরুষরা কেউ যাবেন বলে মনে হয় না। গেলে আদাল আর আয়মানই যাবে। নিশার কারণে কায়নাত যায়নি মার্কেটে। মেয়েটাকে একা রেখে কী যাওয়া যায়? সে নাহয় পরে যাবে। এইতো খানিকক্ষণ আগেই সবাই বের হয়েছেন বাড়ি থেকে। শুধু থেকে গেছেন লতা বেগম, ফারিহা আর কায়নাত। কায়নাত নিশার সাহায্য নিয়ে ওকে পরিষ্কার করিয়ে খানিকক্ষণ আগেই নিচে এসেছে। নিশা তো হাঁটতে পারবে না তাই ভাবল খাবার নিয়ে ওর ঘরে বসেই দুজনে খাবে। সবার ফিরতে অনেক রাত হবে হয়তো। বাড়ির সব পুরুষ খেয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন নিজেদের ঘরে। লতা বেগম চুপচাপ পানির জগ নিয়ে রান্না ঘরের দিকে যাওয়ার সময় কায়নাত ডেকে বলল,
“তুমি তো খেলে না মা। খাবে না এখন?”
লতা বেগম বললেন,
“ফারিহাকে খাবার দেয়ার সময় খেয়েছিলাম। তুই এখনও না খেয়ে আছিস কেন?”
কায়নাত বলল,
“নিশা আপু এখনো খায়নি। ভাবলাম দুজনে একসাথে খাব।”
“বেশি দেরি করিস না। খেয়ে একটু বিশ্রাম নে।”
তিনি চলে গেলেন। কায়নাত মলিন মুখে তাকিয়ে রইল সেদিকে। লতা বেগমের মনোভাব সে বুঝতে পারে না। মানুষটা কেমন যেন অদ্ভুত! এই ভালো আবার এই খারাপ। কায়নাতের খুব করে ইচ্ছে করল মিলি বেগমের কাছে ছুটে যেতে। মা তাকে বুকে পেলে গাল ভরে হাসেন। ঝাঁপটে জড়িয়ে রাখেন নিজের বুকের ভেতর। আদুরে দুটো হাত গালে বুলিয়ে বলেন, “মা আছি না?” কিন্তু মা তো নেই। কায়নাতের আশেপাশে কোথাও নেই।
নিশার ঘরে এলো কায়নাত। মেয়েটা কাল থেকে কিছু খেতে চাইছে না। অর্ণকেও জিজ্ঞেস করা হয়নি স্বার্থর ব্যপারে। কায়নাত খাবার বিছানার উপর রেখে বলল,
“এত চিন্তা কেন করছ বলো তো? কিছু হলে তো তোমার ভাই বলতোই আমাকে, তাই না?”
নিশা বলল,
“মানুষটা আমার কল কেন ধরে না বলতে পারো?”
কায়নাত দীর্ঘশ্বাস ফেলল। কথা এড়িয়ে বলল,
“জয়াকে তো কখনও কাছে পাইনি তেমন করে। বোনের মতো কখনও ভালোও বাসতে পারিনি। আজ নাহয় বোন মনে করে তোমাকে খাইয়ে দিই?”
নিশা পল পিটপিট করে তাকাল। কী সুন্দর করে আবদার করল মেয়েটা। নিশার ফেলতে ইচ্ছে করল না। চোখের পানি মুছে সোজা হয়ে বসল। এমন করে নুসরাত তাকে কতবার খাইয়ে দিয়েছে তার হিসেব নেই। কায়নাত ঠোঁট টিপে ছোট হাতের মুঠোয় ভাত তুলে নিশার মুখে দিল। মেয়েটার বুক ভার হয়ে এলো এতেই। নিজের সব কিছু থাকতেও কেন নেই? তার জীবনটা তো বাকি মেয়েদের মতো হলেও পারত। হঠাৎ কায়নাত অর্ণর কণ্ঠস্বর শুনতে পেল। বাইরে থেকেই গোল ছেড়ে ডাকছে তাকে। নিশার খাওয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। কায়নাত ওকে পানির বোতল এগিয়ে দিয়ে দৌঁড়ে বের হলো ঘর থেকে। শুনতে পেল উপর থেকে এই শব্দ আসছে। তার মানে অর্ণ এই দুপুর বেলা অফিস থেকে ফিরেছে। কী হলো, লোকটা এই ভোর-দুপুরে কেন বাড়ি ফিরল? কায়নাত আগে নিচে গিয়ে হাত ধুইয়ে উপরে এলো। শুনতে পেল অর্ণর ঘরের ভেতর থেকে ভাঙচুরের শব্দ আসছে। সেআতঙ্কে শুকনো ঢোক গিলল। হঠাৎ কী এমন হলো যার জন্য অর্ণ এমন করছে? কায়নাতের ভয় হলো একটু। দরজা ঠেলে ভেতরে পা রাখতেই ব্যথায় মুখ চেপে ধরল সে। পায়ে কাঁচ বিঁধেছে। পায়ের তলায় কেটে গেছে বোধহয়। পা কে টে গলগল করে রক্ত বের হতে শুরু করল। অর্ণ রাগে তখন ফোঁসফোঁস করছে। কায়নাতকে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তেরে এলো নিকটে। হাতে রাখা কায়নাতের ফোন ফ্লোরে ছুড়ে মারল ক্রোধ সামলাতে।
“ধ্রুব কে? এই ছেলে কে?”
কায়নাত অর্ণর ধমক খেয়ে ছলছল চোখ খিঁচে বন্ধ করে ফেলল। শাড়ির দুইপাশটা শক্ত করে ধরল। অর্ণ উত্তর না পেয়ে ওর বাহু ঝাঁকিয়ে উঠল।
“মুখ না খুললে আজ হয় তোকে খু*ন করব নাহলে ওই ছেলেকে। কথা বল!”
কায়নাত ব্যথায় কুকরে উঠল। নরম শরীরে অর্ণর চাপ সহ্য হলো না। শব্দ করে কেঁদে উঠল। অর্ণ বিরক্ত হচ্ছে। বিরক্ত হয়ে কায়নাতকে ধাক্কা দিয়ে নিজের থেকে সরিয়ে দিল। সিঁড়ির দিক থেকে কেউ দৌঁড়ে আসছে মনে হলো। আব্দুর চৌধুরী আর হাসান আসছে। কায়নাত দরজাটা শক্ত করে ধরেছে। মাথার কাপড় নেমে পিঠে এসে ঠেকেছে। আব্দুর চৌধুরী থমকে দাঁড়ালেন মেয়ের অবস্থা দেখে। তার নজর গেল কায়নাতের ক্ষত পায়ের দিকে। চোখ খানা জ্বলজ্বল করে উঠল ক্রোধে।
“এই ছেলে, দিন দিন অমানুষ হচ্ছ? কোন সাহসে ওর গায়ে হাত তুলেছ তুমি?”
বলতে বলতে তিনি কায়নাতকে বুকে টেনে নিয়েছেন। থরথর করে কাঁপছে মেয়েটা। অর্ণ এই মুহূর্তে প্রচুণ্ড রেগে আছে। চাচার কথা তার সহ্য হলো না।
“আমার স্ত্রী, আমাকেই বুঝতে দিন।”
“কীসের স্ত্রী? অমানুষের মতো স্ত্রীর গায়ে হাত তুলে অধিকার দেখাতে আসছ? বিয়ে হয়েছে বলে মাথায় উঠে নাচবে? তোমার মতো ছেলে থাকলেই কী না থাকলেই কী?”
অর্ণ কিছুটা রুড হলো এবার।
“আপনি কেন আমাদের মধ্যে ঢুকছেন চাচ্চু? আর সব সময় কীসের এত দেমাগ আপনার? যখন পরের বাড়ি মাটিতে থুবলে পড়েছিল তখন মনে হয়নি আপনার আরও একটা মেয়ে আছে? আজ কীসের এত ভালোবাসা দেখাচ্ছেন?”
বুকটা কামড়ে উঠল তার। বুকের ভেতরটা ছিন্নভিন্ন হতে লাগল। কায়নাত তখন শক্ত করে বাবার বাহু জড়িয়ে ধরেছে। মুখ লুকিয়েছে বুকে। কাঁদছে হাউমাউ করে। তিনি বললেন,
“চাইলেই সব করা যায় না। যে নারী নিজের জীবন উৎসর্গ করে ওকে বুকের মধ্যে আগলে রেখেছিল সেই নারীর কলিজা টেনে ছিঁ*ড়ব কী করে? ভালোবাসা, মায়া—আদৌ এসব বোঝো তুমি? এতই যখন বউয়ের উপর অধিকার তোমার তাহলে এই ৭টা বছর কোথায় ছিলে তুমি? কোথায় ছিল তোমার অধিকার? আর কোথায়-ই বা ছিল তোমার এই ভালোবাসা?”
•
নোট টা সবাই পড়বেন দয়া করে। আমার সাফাই গাওয়া জিনিস একদম পছন্দ নয়, তবে যেহেতু আপনারা আমার কাজে সন্তুষ্ট নয় তাই আমার মনে হচ্ছে বিষয়টা নিয়ে কথা বলা উচিত। আমার পুরনো পাঠকরা জানেন আমি কখনও গল্প দেয়া নিয়ে এত হেয়ালি কোনোদিন করিনি। আগেও যে আমার রিচ ছিল না ব্যাপারটা মোটেও এমন নয়। #প্রেমবসন্ত যখন লেখা শুরু করি তখন থেকেই আলহামদুলিল্লাহ ভালো রেসপন্স এসেছে। তখন কিন্তু আমি মোটেও গল্প দিতে এত হেয়ালি করিনি। পার্সোনাল অনেক ব্যাপার থাকে যেটা আমি চাইলেও সবাইকে বলতে পারব না। আমি কথা দিচ্ছি, আমি আবার রেগুলার হব। আপাতত নতুন প্লট নিয়ে লেখা শুরু করেছি। খুবই সাধারণ একটা প্লট। অপেক্ষায় থাকবেন, যদি পারি আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু করব। ভালোবাসা নেবেন।
ভাবছি #প্রেমবসন্ত_২ গল্পটা তাড়াতাড়ি শেষ করে দিব। কয়েকদিন ধরে এলাকায় কারেন্ট অনেক ঝামেলা করছে। কারেন্ট থাকেই না বলতে গেলে। ফোনেও তেমন চার্জ দিতে পারি না। দুঃখিত আপনাদের এত অপেক্ষা করাচ্ছি আমি।😑💔)
চলবে..?
Share On:
TAGS: প্রেমবসন্ত সিজন ২, হামিদা আক্তার ইভা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৯
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৮
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৫২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩১.২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৫
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৫৪
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩৪.২
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ৩১.১
-
প্রেমবসন্ত সিজন ২ পর্ব ২৪