Golpo romantic golpo নতুন প্রেমের গান

নতুন প্রেমের গান পর্ব ৩৩


#নতুন_প্রেমের_গান(৩৩)

“ তুমি বোধহয় ঠোঁটে চুমু চেয়েছিলে ,কিন্তু আমি তোমার মৌণ ভাষ্য বুঝতে পারি নি। বোকার মতো কপালে চুমু দিয়েছি।সরি! নেক্সট টাইম এমন ভুল আর হবে না।গড প্রমিস।”

সিয়াদাতের মুখে এমন রসালো কথা শুনে সুপ্রভা লজ্জায় মিশে গেল ভূপৃষ্ঠে। লজ্জার এক তীব্র লাল আভা তার ফর্সা গাল বেয়ে কান পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ল। সিয়াদাত তার গম্ভীর মুখের আড়ালে এতটা রসিকতা লুকিয়ে রাখতে পারে, সে সম্পর্কে সুপ্রভা অবগত ছিল। কিন্তু শ্রান্ত শরীর,মনেও সে এমন রসিকতা করবে এটা কল্পনাতীত ছিল তার। সে তড়িঘড়ি করে সিয়াদাতের হাত থেকে নিজের হাতটা টেনে নেওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু সিয়াদাতের শক্ত আঙুলের বাঁধন আলগা হলো না। বরং সে সুপ্রভাকে নিজের আরও একটু কাছে টেনে নিল।

সুপ্রভা দুই হাত দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে ধরা গলায় বলল,

“কী যা তা বলছেন! ছাড়ুন প্লিজ!কেউ দেখে ফেলবে।”

সিয়াদাত সুপ্রভার লজ্জাবনত রূপ দেখে শব্দ করে হেসে উঠল। সুপ্রভার হাত দুটো আলতো করে মুখ থেকে সরিয়ে দিয়ে বলল,

“দ কে দেখবে? এটা আমাদের ঘর সুপ্রভা। আর এখন এই ঘরে আমাদের একান্ত নিজস্ব সময়। এখানে কোনো সমাজ নেই, কোনো লোকলজ্জা নেই। শুধু তুমি আছ, আর আমি আছি।”

সিয়াদাতের কথায় সুপ্রভা আর কোনো উত্তর খুঁজে পেল না। সিয়াদাত পরম আবেশে সুপ্রভার হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় পুরে রাখল।

হুট করেই সুপ্রভার খেয়াল হলো তারা তখনও জায়নামাজের ওপর বসে আছে। সে একটু অপ্রস্তুত হয়ে সিয়াদাতের হাত থেকে নিজের হাতটা আলতো করে ছাড়িয়ে নিল। নিচু গলায় বলল, “আমরা এখনও জায়নামাজের ওপর বসে আছি। উঠুন এবার।”

সিয়াদাত নিজের ভুল বুঝতে পেরে মৃদু হাসল। দুজনে একসাথে জায়নামাজ থেকে উঠে দাঁড়াল। সিয়াদাত পরম যত্নে দুটো জায়নামাজ সুন্দর করে ভাঁজ করে আলমারিতে তুলে রাখল। আর সুপ্রভা ততক্ষণে নিজেকে কিছুটা সামলে নিয়ে বিছানার এক কোণে গিয়ে বসল।

ঠিক তখনই দরজায় আবার হালকা ধাক্কা লেগে সেটি সামান্য খুলে গেল। সারা ট্রে হাতে ঘরে ঢুকল। ট্রেতে দুটো প্লেটে ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত, আর সাথে বাহারি পদের তরকারি। ঘরে ঢুকেই সারা বিছানায় বসা সুপ্রভা আর সিয়াদাতকে দেখে মুচকি হেসে বলল, “বাবা বললেন তোমরা দুপুর থেকে কিচ্ছু খাওনি। তাই নিচে যাওয়ার আর দরকার নেই। আজ ঘরে বসেই পেটপুজো করে নাও। মমের রাগ ভাঙানোর মিশন নিচে এখনও চলছে।তাই ডিনারটা তোমরা এখানেই সারো।”

ট্রে টা টেবিলের ওপর রেখে সারা সিয়াদাতকে উদ্দেশ্য করে বলল, “ভাইয়া, ভাবীকে ভালো করে খাইয়ে দিও কিন্তু।ভাবীর উপর দিয়ে আজ অনেক ধকল গেছে।”

কথাটা বলেই সারা আর এক মুহূর্ত না দাঁড়িয়ে দ্রুত পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

সিয়াদাত এক লোকমা ভাত সুন্দর করে মেখে সুপ্রভার মুখের সামনে তুলে ধরল ।ধীর গলায় বলল, “হাঁ করো।”

সুপ্রভা লজ্জায় আর সংকোচে এক হাত দিয়ে সিয়াদাতের হাতটা মৃদু সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালালো। কপালে চোখ তুলে বলল, “আরে! একী করছেন? আমি নিজের হাতে খেতে পারব। আমি কি ছোট বাচ্চা নাকি যে আপনি খাইয়ে দেবেন?”

সিয়াদাত হাতটা সরাল না।বরং আরও একটু কাছে এনে চোখের কোণ দিয়ে দুষ্টুমির হাসি হাসলো। আহ্লাদী স্বরে বলল, “বাচ্চা নও, তবে এই শেখ পরিবারের সবচেয়ে আদুরে মেম্বার তো বটেই।তাছাড়া আমার বউকে আমি খাইয়ে দেব, এতে বাচ্চার কী সম্পর্ক? নাও, লক্ষ্মী মেয়ের মতো লক্ষ্মী বউ হয়ে হাঁ করো তো। দুপুর থেকে পেটে একটা দানাও পড়েনি, মুখটা শুকিয়ে একদম আমসি হয়ে গেছে।”

সিয়াদাতের আদুরে কণ্ঠ আর ভালোবাসাময় জেদের সামনে সুপ্রভা আর না করতে পারল না। তার চোখের কোণটা আবার একটু ভিজে উঠল।তবে এবার আর ভীতি বা সংশয়ে নয়, এক বুক পূর্ণতা আর সুখে। সে আলতো করে মুখ খুলে সিয়াদাতের হাত থেকে প্রথম লোকমাটা মুখে তুলে নিল।

সুপ্রভাকে গিলতে দেখে সিয়াদাতের মুখে এক স্বর্গীয় তৃপ্তির হাসি ফুটে উঠল। সে নিজের হাতে সুপ্রভার ঠোঁটের কোণে লেগে থাকা সামান্য ঝোল আঙুল দিয়ে মুছে দিয়ে বলল, “ব্যাস, এবার থেকে এই মুখে শুধু হাসি থাকবে। আর কোনো চোখের জল নয়, বুঝলে?”

সুপ্রভা চিবিয়ে চিবিয়ে মাথা নাড়ল। সিয়াদাত এক লোকমা নিজে খাচ্ছে, আর পরের লোকমাটা পরম যত্নে সুপ্রভাকে মুখে তুলে দিচ্ছে।সুপ্রভা জলভর্তি চোখে সিয়াদাতের দিকে তাকালো।মনে মনে বলল, “ এমন একটা ভালো মানুষকে ভালো না বেসে থাকা যায়?”

চলবে ইনশাআল্লাহ।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply