Golpo romantic golpo নতুন প্রেমের গান

নতুন প্রেমের গান পর্ব ২৩


নতুনপ্রেমেরগান (২৩)

“ সৌরভ তুমি?তোমার সাথে আমার বিয়ে হয়েছে? কথা বলো সৌরভ।প্লীজ চুপ করে থেকো না।”

সৌরভ শান্ত চোখে নোরার দিকে তাকিয়ে রয়। তার চোখে কোনো অবাক হওয়ার চিহ্ন নেই।বরং রয়েছে এক ধরনের শীতল স্থিরতা। সে ধীরে ধীরে নোরার আরও কাছে এগিয়ে আসে। ঘরভর্তি লোকজন, হৈচৈ ।অথচ নোরার কানে শুধু নিজের হৃদস্পন্দনের শব্দ‌ই বাজছে।সে মনে মনে প্রার্থনা করছে সৌরভ যেন বলে – “ আমি তোমার সাথে মজা করেছি।বেয়াইন লাগো তো।একটু মজা তো করতেই পারি ।তাই না?”

কিন্তু নোরার প্রার্থনা মঞ্জুর হয় না।সৌরভ নোরার দিকে তাকিয়ে স্মিত হেসে ফিসফিসিয়ে বলে–

“ ভাগ্যের পরিহাস বড্ড অদ্ভুত তাই না নোরা? তুমি যাকে পছন্দ করো না।যার ছায়াও মাড়াতে চাও না।তাকে কালা টাকি বলে সম্বোধন করো। আজ সেই কালা টাকির নামের সাথেই তোমার নাম জুড়ে গেলো।তুমি স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে তাকে কবুল করে নিয়েছো।বিয়ের আগে তুমি তোমার তেজ দেখিয়েছো।এবার আমার পালা নিজের তেজ দেখানোর।এটা নাটক বা সিনেমা নয় যে বিয়ের পরেও আমরা আলাদা আলাদা থাকবো। বছরের পর বছর চলে যাবে আমাদের মধ্যে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক তৈরি হবে না। তুমি আমার বিবাহিত স্ত্রী।তোমার উপর সম্পূর্ণ অধিকার আছে আমার। সেই অধিকার নিয়েই আমি তোমাকে কাছে টেনে নিব।এই কালা টাকির কালা স্পর্শ তোমার সর্বাঙ্গে ঝংকার তুলবে।বি রেডি ফর দিস।”বলেই বাম চোখ টিপ দেয় সৌরভ।

সৌরভের কথাগুলো বিষের মতো ছড়িয়ে পড়ে নোরার শিরা-উপশিরায়।মুহূর্তেই তার মুখের রং ফ্যাকাশে হয়ে উঠে। তার শরীর রি রি করে উঠে অপমানে আর এক অজানা আশঙ্কায়।সৌরভকে কালা টাকি বলে এতোদিন কতই না উপহাস করেছে। কিন্তু সেই উপহাস যে এভাবে বুমেরাং হয়ে তার জীবনেই ফিরে আসবে, সেটা কল্পনাতীত ছিল নোরার।নোরা জল ভর্তি চোখ নিয়ে সৌরভের সামনে থেকে সরে আসে।

ঈশিতা চৌধুরী আলেয়া বেগমের সাথে হৃষ্ট গলায় কথা বলছিলেন।তার আনন্দ ঝরে ঝরে পড়ছে।তার প্রসন্ন মুখ‌ই বলে দিচ্ছে তিনি এই বিয়েতে কতো খুশি হয়েছেন।নোরা শিথিল পায়ে ঈশিতা চৌধুরীর দিকে এগিয়ে আসে। অভিমানী গলায় বলে– “ আমি কি সত্যিই তোমার নিজের মেয়ে মম?”

ঈশিতা চৌধুরী হতভম্ব গলায় বলেন– “ এসব তুমি কি বলছো নোরা?”

নোরা ভেজা গলায় বলে– “ ভুল কিছু বলি নি তো মম! নিজের মেয়ে হলে কি আর নিজ হাতে আমার জীবনটা শেষ করে দিতে পারতে মম? আমাকে জলন্ত আগুনে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে তুমি এতো আনন্দ, ফুর্তি করতে পারতে বলো?”

ঈশিতা চৌধুরী মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে যান। তার গলার আনন্দটুকু যেন নিমেষেই হিম হয়ে যায়। চারপাশের মানুষের কোলাহল, আত্মীয়দের হাসাহাসি সবকিছু হঠাৎ স্তিমিত হয়ে এল নোরার এই আকস্মিক বিস্ফোরণে। তিনি নোরার হাতটা ধরার চেষ্টা করেন,

কিন্তু নোরা ঝটকায় নিজের হাত সরিয়ে নেয়।
রুষ্ট গলায় বলে “সবার সামনে এই বিয়ের নাটক করার আগে একবারও কি ভেবে দেখেছ আমার ভালো লাগা, আমার পছন্দ, আমার ইচ্ছের কোনো দাম আছে কি না? আমার মনে হচ্ছে আমি কেবলই একটা কাঠের পুতুল।যাকে তোমরা যখন ইচ্ছে, যেভাবে ইচ্ছে নাচাচ্ছো?যার তার সাথে আমায় জুড়ে দিচ্ছো!”

ঈশিতা চৌধুরী অস্ফুট স্বরে বলেন, “নোরা, তুমি ভুল বুঝছো। সৌরভ ছেলেটা খারাপ না, বরং সৌরভ অনেক আগে থেকেই…” বাক্য শেষ করার আগেই পেছন থেকে পুরুষালি কণ্ঠে ভেসে আসে – “ সৌরভ অনেক আগে থেকেই তোমাকে ভালোবেসে নোরা।”

নোরা পেছন ফিরে দেখে সিয়াদাত দাঁড়িয়ে রয়েছে।নোরা ক্ষুধার্ত বাঘিনীর ন্যায় তেড়ে আসে সিয়াদাতের দিকে। ক্রুদ্ধ গলায় বলে– “ আমাকে কেন ঠকালে সিয়াদাত? কেন আমাকে দ্বিতীয়বার স্বপ্ন দেখিয়ে সেই স্বপ্নগুলো ভেঙ্গে খানখান করে দিলে? কেন সিয়াদাত? কেন?”

সিয়াদাত নরম গলায় বলে– “ সৌরভ তোমাকে অনেক ভালোবাসে নোরা।আমার সাথে বিয়ে হলে তোমার হয়তো টাকা পয়সা সোনাদানার অভাব হতো না। কিন্তু যে অভাব টা হতো সেটা হলো ভালোবাসা।ভাতের অভাবে মানুষ না ম’রলেও ভালোবাসা, যত্নের অভাবে মানুষ ম’রে যায়।

আমি তোমাকে যথেষ্ট স্নেহ করি।আমি তোমার জীবনটা নিজ হাতে শেষ করে দিতে চাই নি নোরা।আমি এই বিয়েও নাটক টা না করলেও পারতাম । কিন্তু তুমি যেমন আমাকে ভালোবেসে কষ্ট পাচ্ছিলে, ঠিক তেমন‌ই সৌরভ‌ও তোমাকে ভালোবেসে কষ্ট পাচ্ছিলো।সৌরভ তোমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে তুমি কখনোই তাকে গ্ৰহন করতে না।তাই বাধ্য হয়ে বিয়ের নাটক টা করতে হয়েছে আমাদের।”

নোরার চোখদুটো ভাটার ন্যায় জ্বলছে।সে ঘৃণাভরা দৃষ্টিতে সৌরভের দিকে তাকায়। দাঁতে দাঁত চেপে বলে–

“ বিয়ে মাই ফুট।এ বিয়ে মানি না আমি।”

সিয়াদাত নোরাকে বোঝানোর চেষ্টা চালিয়ে বলে– “ দেখো নোরা জন্ম মৃত্যু বিয়ে আল্লাহর হাতে। আমাদের হাতে শুধু শপিং, খাওয়া দাওয়া। তুমি মানো বা না মানো সৌরভ তোমার স্বামী। এটাই নিরেট সত্য নোরা।সৌরভ এখন শারীরিক, মানসিক উভয় দিক থেকেই ভঙ্গুর।‌ওর এখন এক্সটা কেয়ারের প্রয়োজন। যা সুপ্রভা বা আন্টির দ্বারা সম্ভব নয়।এখন তোমাকে সৌরভের প্রয়োজন।”

সুপ্রভা এক কোণে দাঁড়িয়ে রয়েছে।তার কিছু বলা উচিত। কিন্তু বলতে পারছে না।তার গলা দিয়ে যেন স্বর বের হতে চাইছে না।সুপ্রভা বারকয়েক শ্বাস টেনে নিজেকে ধাতস্থ করে নোরার দিকে এগিয়ে আসে। ঠিক তখনই মোহনা শেখ হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসেন।তবে তিনি একা আসেননি। মোহনা শেখের সাথে তার একমাত্র মেয়ে সারা শেখ‌ও রয়েছে।সারা তার মাকে আটকানোর চেষ্টা করছে।

কিন্তু তিনি সারাকে উপেক্ষা করে সিদাতের দিকে সবেগে ধেয়ে আসেন। গর্জন তুলে বলেন – “ এসব কী শুনছি সিয়াদাত? তুমি নাকি নোরাকে বিয়ে করো নি? নোরার অন্য কারো সাথে বিয়ে হয়েছে?”

সিয়াদাত বাঁকা হেসে বলে– “ যা শুনেছো ঠিক‌ই শুনেছো মম।নোরার সাথে সৌরভের বিয়ে হয়েছে আমার নয়।”

মোহনা শেখ আদেশের সুরে বলেন–” তুমি এক্ষুনি আমার সাথে যাবে।”

সিয়াদত ভ্রু কুঁচকে বলে – “ কোথায় মম?”

মোহনা শেখ শক্ত গলায় বলেন– “ আমার বান্ধবীর বাড়িতে।আমি আজ‌ই তোমার বিয়ে দিব।”

সিয়াদাত ঠোঁটে বাঁকা হাসি ঝুলিয়ে বলে– “ আমাকে বিয়ে দিতে হলে যে ড্যাডের‌ও বিয়ে দিতে হবে মম?”

মোহনা শেখ স্তব্ধ হয়ে যান। হতভম্ব গলায় বলেন– “ মানে? কী বলছো তুমি?”

সিয়াদাত বক্র হেসে বলে– “ শেখ বংশের পুরুষেরা তো একটাই বিয়ে করে তাই না মম? এক নারীতেই আসক্ত থাকে।এটাই তো আমাদের বংশের রীতি।তাহলে শেখ বংশের ছেলে হয়ে আমি কেন দুইটা বিয়ে করবো?”

চলবে ইনশাআল্লাহ।।

[ প্রিয় পাঠক, আপনাদের কি মনে সিয়াদাত সত্যিই বিয়ে করেছে? আর বিয়ে করলেও কাকে করেছে?
জানাবেন সকলে‌।]

® Nuzaifa Noon

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply