Golpo romantic golpo নতুন প্রেমের গান

নতুন প্রেমের গান পর্ব ২২


নতুনপ্রেমেরগান (২২)

“আমায় ভালোবাসো লাল চমচম??”
সিয়াদাতের অকস্মাৎ প্রশ্নে সুপ্রভা হকচকিয়ে যায়।সে ফ্যালফ্যাল নয়নে সিয়াদাতের দিকে তাকিয়ে রয় কিয়ৎক্ষণ।সিয়াদাত স্মিত হেসে বলে– “ ভালোবাসলে বলে দাও।যদিও বিয়েটা নোরাকেই করব। তবুও কেন জানি তোমার মুখ থেকে সেই আদিম স্বীকারোক্তিটুকু শোনার তীব্র আকাঙ্ক্ষা জাগছে।”

সুপ্রভার মুখের রং ফিকে হয়ে আসে। অজান্তেই ঠোঁট টা বেঁকে যায় অসন্তোষে।সে তাচ্ছিল্যের স্বরে বলে– “আপনি বড্ড স্বার্থপর । আপনার মতো স্বার্থলোভী পুরুষকে ভালোবাসার প্রশ্ন‌ই আসে না।আপনি কারো ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য নন।না আমার না নোরার।”

সুপ্রভার তিক্ত কথা শুনে ফিচেল হাসে সিয়াদাত। সুপ্রভার দিকে ঝুঁকে এসে প্রসঙ্গ পাল্টে বলে–
“বিকালে নোরা কেনাকাটা করতে বের হবে।আশা করি আপনি নোরার সাথে থাকবেন।”

সুপ্রভা হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ে।সিয়াদাত একপল সুপ্রভার পাংশুটে মুখের দিকে তাকিয়ে দ্রুততার সাথে রুম থেকে বেরিয়ে আসে।


আজ শুক্রবার।নোরা, সিয়াদাতের বিয়ে।চৌধুরী ভিলার প্রতিটি কোণ আজ সেজে উঠেছে এক মোহময় আভিজাত্যে। শহরের নামীদামি ইভেন্ট প্ল্যানারদের তত্ত্বাবধানে বাড়িটি যেন এক রূপকথার প্রাসাদে পরিণত হয়েছে। বিদেশি অর্কিড, দামী ঝাড়লতি আর আলোকসজ্জার ঝলকানি সব মিলিয়ে এক এলাহি কাণ্ড।চৌধুরী ভিলার অন্দরমহলে মানুষের আনাগোনা থামছেই না যেন। সুপ্রভা এখন আর নিজেকে নিয়ে ভাবার সময় পাচ্ছে না। সে একটা যান্ত্রিক ঘড়ির কাঁটার মতো ছোটাছুটি করছে।তার কাঁধে যে বিয়ের যাবতীয় দায়িত্ব।সে নিজেই নিজের কাঁধে বিয়ের সব দায়িত্ব তুলে নিয়েছে।সিয়াদাত শাহারিয়ারকে শুধু এটা বোঝাতে যে, না এই বিয়েতে তার বিন্দুমাত্র মাথাব্যথা আছে আর না সিয়াদাত শাহারিয়ার প্রতি কোনো দূর্বলতা আছে। সিয়াদাতকে দেখিয়ে দেখিয়ে প্রসন্ন মুখে সবটা করছে সুপ্রভা।এই দুই তিন দিনে নোরার মনটা‌ও ধীরে ধীরে গলতে শুরু করেছে।

সুপ্রভাকে এখন আর বিরক্ত লাগছে না তার। বরং তার অনুশোচনা হচ্ছে।কেন সে সুপ্রভার সাথে এতো খারাপ ব্যবহার করেছে এটা ভেবে। তার সাজ কমপ্লিট হলে সুপ্রভাকে সরি বলার মনস্থির করে নোরা।

আয়নার সামনে বসে আছে নোরা। দীর্ঘ তিন ঘণ্টা পর তার সাজ কমপ্লিট হয়েছে।তার পরনে গাঢ় লাল শাড়ি।শাড়ির পাড়ে সোনালি জরির জটিল নকশা।আঁচলের কিনারায় নীল, বেগুনি আর সোনালির কারুকাজ।মাথায় টানা ভারী ওড়না। ওড়নার কিনারায় ঘন সোনালি কাজ, কপালের উপর নরম করে নেমে এসেছে। মাঝখান দিয়ে সিঁথি কাটা চুল।সিঁথির ঠিক কেন্দ্রে বসানো রত্নখচিত টিকলি। কপালে ছোট্ট লাল টিপ, চোখে গাঢ় কাজল আর নিখুঁত আইলাইনার।ঠোঁটে গাঢ় লাল লিপস্টিক, গালে হালকা গোলাপি রঙ।নাকে বড় গোল নথ।সেখান থেকে সরু চেইন কানের দুলে গিয়ে মিলেছে। কানে ভারী ঝুমকা। গলায় স্তরে স্তরে সোনালি হার।একটি গলা জড়িয়ে আছে, আরেকটি বুক ছুঁয়ে নেমে এসেছে। প্রতিটি অলংকারে সূক্ষ্ম পাথরের কাজ, রাজকীয় আর ভারী।
হাতে গাঢ় মেহেদির নকশা, আঙুল থেকে কব্জি পর্যন্ত ভরাট। কব্জিতে সারি সারি চুড়ি আর বালা। আঙুলে আংটি।

আয়নায় নিজেকে দেখে নিজেই মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। আহ্লাদী স্বরে বলে–

“ ও মাই গড! কী সুন্দর লাগছে আমাকে! এতো সুন্দর কেন আমি?আমি শিওর সিয়াদাত শাহারিয়ার আমাকে দেখে নজর সরাতে পারবে না।তার বুকের বাঁ পাশে চিনচিনে ব্যথা হবে। হার্টফেল‌ও করতে পারে। ইশ্ আমার এই রূপের আগুন সইবার ক্ষমতা কি তার আছে? আমার…”

বাক্য শেষ করার আগেই আয়নার মধ্যে সুপ্রভাকে দেখা যায়।সুপ্রভার পরনে লাল কালারের জামদানী শাড়ি।শাড়িটা ঈশিতা চৌধুরীর বিয়ের শাড়ি। এতো দিন শাড়িটা তিনি যক্ষের ধনের মতো আগলে রেখেছেন। কাউকে হাত দিতে দেন নি।হঠাৎ কী মনে করে তিনি আজ শাড়িটা বের করে সুপ্রভাকে পরতে বলেন।সুপ্রভা শাড়িটা পরতে চায় নি। কিন্তু ঈশিতা চৌধুরী জোর করেই সুপ্রভাকে শাড়িটা পরিয়ে দিয়েছেন। অবশ্য তিনি নিজের বিয়ের গয়নাও দিয়েছিলেন সুপ্রভাকে পরার জন্য। কিন্তু সুপ্রভার গায়ে না কোনো গয়না আছে আর না তার মুখে আছে কোনো প্রসাধনীর লেশ।তবুও আয়নার সামনে দাঁড়ানো সুপ্রভাকে দেখে মনে হচ্ছে, পৃথিবীর সমস্ত সৌন্দর্য যেন আজ তার নিরাভরণ রূপেই লীন হয়ে আছে।

নোরার সাজগোজ, প্রসাধন আর চাকচিক্য সবই যেন সুপ্রভার এই স্নিগ্ধ, পবিত্র সৌন্দর্যের কাছে তুচ্ছ হয়ে গেছে। নোরার মেকি জেল্লা সুপ্রভার স্বাভাবিক লাবণ্যের কাছে একেবারে ফিকে, মলিন। সুপ্রভার চোখেমুখে যে এক অদ্ভুত আভিজাত্য ফুটে আছে, তা কোনো দামী গয়না বা মেকআপ দিয়ে তৈরি করা সম্ভব নয়।নোরা মন্ত্রমুগ্ধের ন্যায় সুপ্রভার দিকে তাকিয়ে থাকে।

“ মাশাআল্লাহ! তোমাকে দারুন লাগছে নোরা।”

সুপ্রভার সুরেলা কণ্ঠ কর্ণকুহরে প্রবেশ করতেই সম্বিত ফিরে পায় নোরা।নোরা ত্বরিত চোখ নামিয়ে নেয়।তার ভেতরের দাম্ভিকতা বজায় রেখে বলে–

“ সুন্দরী মেয়েকে তো সুন্দর লাগবেই তাই না?”

সুপ্রভা হ্যাঁ সূচক মাথা নেড়ে বলে– “ বিয়ের কার্যক্রম নাকি শুরু হয়ে গিয়েছে।মা তোমাকে নিয়ে যেতে বললেন।”

নোরা ঈষৎ হেসে বলে– “ চলো।”

সুপ্রভা নোরাকে নিয়ে এসে বরের পাশে বসিয়ে দেয়। অতর্কিতে বরের দিকে নজর পড়তেই চমকে উঠে সুপ্রভা।বরের পরনে অফ হোয়াইট কালারের শেরওয়ানি।মাথায় সাজানো সোনালি সেহরা। পাপড়িগুলো নরম ঝালরের মতো তার চোখের উপর থেকে হালকা ভাঁজ করে মুখ ঢাকা দিয়ে রেখেছে। বর বেশে কে বসে রয়েছে বোঝার জো নেই।

বরের সাজ দেখে সুপ্রভার কেন জানি হাসি পায়। সে আড়ালে গিয়ে কিছুক্ষণ হেসে নেয়।মনে মনে বলে– “ ভন্ড প্রফেসর বলেছিলেন পুরুষের নাকি পর্দা করা ফরজ।তাই বলে তিনি বিয়েতেও পর্দা করে আসবেন?”

মিনিট পাঁচেক পর সুপ্রভা বিয়ের আসরে ফিরে আসে। ততোক্ষণে কাজি বিয়ে পড়ানোর কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছেন।বরকে কাজি কবুল বলার জন্য তাড়া দিচ্ছেন, কিন্তু বর নিশ্চুপ। বরের এহেন কার্যে উপস্থিত সকলের মধ্যে কানাঘুষা শুরু হয়ে যায়।বর তখনো নিশ্চুপ। ঈশিতা চৌধুরী দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন।সহসা তিনি বরের দিকে এগিয়ে আসেন।বরের কানে কানে কিছু একটা বলতেই বর নিচু গলায় কবুল বলে।

অতঃপর কাজি নোরাকে কবুল বলতে বলেন। নোরা সাথে সাথেই কবুল বলে দেয়।সকলে সমস্বরে আলহামদুলিল্লাহ বলে উঠে। মোনাজাতের মাধ্যমে বিয়ের কার্যক্রম শেষ হয়।

বিয়ে শেষ হতেই নোরা অস্থির হয়ে পড়ে।সে বরের দিকে এগিয়ে যায়। অধৈর্য গলায় বলে– “ মুখের উপর এগুলো কী দিয়ে রেখেছো তুমি?বিরক্ত লাগছে আমার। তুমি প্লিজ মুখের উপর থেকে এসব সরাও।তোমার চাঁদমুখখানা দেখাও আমাকে।আমার যে আর তর সইছে না।”

নোরার কথা শুনে বর ধীরে ধীরে তার মুখের উপর থেকে সেহরা সরিয়ে দেয়।বরের মুখ দেখা মাত্রই নোরার চক্ষু চড়কগাছ হয়ে যায়।সে গালে হাত দিয়ে পিছিয়ে যায় দুকদম। কাঁপতে থাকা গলায় বলে– “ তুমি এখানে? তোমার সাথে বিয়ে হয়েছে আমার?”

চলবে!!

[ নোরার কার সাথে বিয়ে হয়েছে বলে আপনাদের মনে হয়?]

® Nuzaifa Noon

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply