Golpo romantic golpo দ্যা ব্ল্যাক মার্ক

দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২৪


দ্যাব্ল্যাকমার্ক

লেখনীতেআশুও_নিশু

পর্বসংখ্যা_২৪

তুবা দাঁড়িয়ে আছে আয়নার সামনে। আতিয়া বেগম তাকে শাড়ি পরিয়ে দিচ্ছেন। যদিও এখনো পুরোপুরি পরানো হয়নি—সবে কুঁচি ধরা হয়েছে।

তুবার মনে একরাশ খুশি, আবার খানিকটা ভয়ও কাজ করছে। আজকের দিনের জন্য তিশার সাথে কত প্ল্যান! অবশেষে সেই দিনটা এসেই গেল। তিশাও আজ শাড়ি পরবে—ভাবতেই তুবার ঠোঁটে অজান্তেই হাসি ফুটে ওঠে।

কিছুক্ষণ পর খেয়াল করল, আতিয়া বেগমের শাড়ি পরানো প্রায় শেষ। তিনি পিন সেট করছেন যত্ন করে। তুবা আয়নায় নিজেকে দেখে নিয়ে হালকা স্বরে জিজ্ঞেস করল—

“আমাকে কি সুন্দর লাগছে?”

আতিয়া বেগম মৃদু হেসে বললেন—

“হুম, পরীর মতো লাগছে।”

তুবা মুচকি হাসল। প্রশংসা পেতে তার ভীষণ ভালো লাগে।

শাড়ি পরানো শেষ হলে আতিয়া বেগম তাকে হালকা সাজিয়ে দেন। হাঁটু সমান লম্বা চুলগুলো খুলে দেন। চোখে কাজল দেওয়ার পর কানের পেছনে টিপের মতো করে একটা দাগ দিয়ে দেন।

তুবা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে—

“এটা কেন?”

“নজর লাগবে না তাই।”

তুবা আর কিছু বলে না।

এরপর আতিয়া বেগম তাকে নিয়ে নিচে লিভিংরুমে আসেন। বের হওয়ার আগে আবার বলে দেন—

“শোনো, সোজা ভার্সিটিতে যাবে আর তাড়াতাড়ি ফিরে আসবে। স্যার জানলে কিন্তু আমাকে ছাড়বে না।”

তুবা হেসে বলে—

“নো টেনশন! আমি তাড়াতাড়িই চলে আসব।”

আতিয়া বেগমকে বিদায় জানিয়ে তুবা ড্রাইভারকে বলে বেরিয়ে পড়ে ভার্সিটির উদ্দেশ্যে।

আজ তুবাকে সত্যিই অসাধারণ লাগছে। হালকা মেকআপ, চোখে কাজল, ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক এই সামান্য সাজেই যেন চোখ ফেরানো দায়।

কিছুক্ষণ পর গাড়ি এসে থামে ভার্সিটির সামনে। তুবা নেমে পড়ে।

আজ পুরো ভার্সিটিটাই সাজানো—প্রতিটি কোণ যেন উৎসবের রঙে রাঙানো। গেটের কাছে কয়েকজন সিনিয়র দাঁড়িয়ে আছে, হাতে ফুলের ডালা।

তুবা কিছু না বলে ভেতরে ঢুকে যায়।

ভিতরে ঢুকতেই সবার দৃষ্টি যেন এক মুহূর্তের জন্য তার উপর থমকে যায়। মেয়েটার দিকে না তাকিয়ে থাকা যেন অসম্ভব।

দূর থেকে তুবা তিশাকে দেখতে পায়। আজ তিশাকেও ভীষণ মিষ্টি লাগছে।

তিশা দৌড়ে এসে তুবাকে জড়িয়ে ধরে।

তুবা হেসে ফেলে।

তিশা মিষ্টি স্বরে বলে—

“তোমাকে আজ খুব সুন্দর লাগছে।”

তুবা জবাব দেয়—

“তোমাকেও। বেশ মিষ্টি লাগছে।”

“চলো, ছবি তুলি।”

দুজন মিলে ছবি তুলতে থাকে। ঠিক তখনই মাইকে একজন শিক্ষক ঘোষণা দেন,

“হ্যালো স্টুডেন্ড’স অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই আমাদের মাঝে উপস্থিত হতে যাচ্ছেন আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি। সবাই সুশৃঙ্খলভাবে থাকবা—ধন্যবাদ।”

তুবা তিশাকে জিজ্ঞেস করলো,

“প্রধান অথিতি কে?”

“নাম টা জানি কি ভুলে গেছি।তুমি এসব জেনে কি করবে?

“হু তাও তো ঠিক।”

“যাইহোক নাচের পারফরমেন্স করব কিন্তু আজকে।”

“কিন্তু আমার তো ভয় করছে।কোনোদিন এরকম স্ট্যাজে নাচিনি তো।”

“কিছু হবে না।আমি আছি তো।”

তুবার ঠোঁটে হালকা হাসি ফুটে উঠল।তিশাও তুবার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসি দেয়।


নোভা,নিশান নাহিয়ান বসে আচে কানাডার বিখ্যাত রেস্টুরেন্ট “ব্লু ওয়াটার ক্যাফে”তে।নোভা চারপাশের মানুষকে দেখছে।মেয়েগুলোর পোশাক,চাল চলন।নাহিয়ান হঠাৎ নোভাকে বলে,

“রিং পড়েছো?”

“হু।”

“পড়িয়ে দিয়েছে নাকি কেউ?হু হু?”

নিশান গম্ভীর আওয়াজে বলে,

“নাহিয়ান,রেস্টুরেন্টে খাবার খাবি নাকি আমার হাতের থাপ্পড় খাবি।”

“ভাইয়া আমি এখন বড় হয়েছি।”

“তো তোর কথাবার্তা এমন কেন?”

নোভা ধীরে বলে,

“আপনি এরকম করছেন কেনো ওনাকে হ্যা?সমস্যা কি?উনি কি খারাপ কিছু বলেছে নাকি?”

নিশান চুপ হয়ে যায়।নাহিয়না জোরে হেসে উঠল।হাসতে হাসতে বলল,

“বাঘ সবার সমানে বাঘ থাকলেও মুরগীর সামনে তো আর বাঘ থাকতে পারেনা।”

নিশান রাগী চোখে তাকাল নাহিয়ানের দিকে।নাহিয়না চুপ করে গেল।কিছুক্ষণ পর তাদের দুপুরের লান্চ আসল।নোভা’র এখানের খাবার মোটেও পছন্দ না সেই কারণেই বাংলাদেশকে এত মিস করে সে।মায়ের হাতের রান্না খেতে পাোর না,নিজের ইচ্ছে মত চলতে পারেনা,কতদিন মা-বাবার সাথে কথা বলেনা।এসব কানাডা এসব টাকাপয়সা নোভার কাছে বিষের মত লাগে।যেখানে সুখ শান্তিই নেই সেখানে টাকা?


কিছুক্ষণের মধ্যে হইচই পরল প্রধান অথিতি ভার্সিটির গেটে এসেছে।কেউ কেউ চেয়ারে বসে আছে আর কেউ গেটে তাকে ফুল দিতে গেছে।

হঠাৎ তুবা ঘাড় ঘুড়িয়ে ভিরের মাঝে যা দেখল তা দেখার কথা তুবা কোনোদিন ভাবেনি।ভিড়ের মাঝে দাড়িয়ে আছে সয়ং “নিহান এহসান।”নিহান কে দেখে তুবার আত্মা সহ শুকিয়ে আসল।তিশাকে কাঁপা কাঁপা গলায় বলে,

“ত..ত..তিশা চ চল ওদিকটাই যা যাই।”

“কেনো এখানে থাকি লোকটাকে দেখে যায়।”

তুবা তিশার হাত ধরে ভার্সিটির ভেতরে নিয়ে যায়।তিশা মেয়েটার এমন আচরণে অবাক হয়ে বলে,

“কি হয়েছে তুবা?এমন করছো কেন?”

“ও ওই বা বাইরে।”

“কুল তুবা।জোরে জোরে শ্বাস নাও তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে আতঙ্কে আছো এইযে হাত কাপছো,কথাগুলোও কেমন শোনাচ্ছে।”

তুবা এজটা ক্লাসের ভেতর গিয়ে বসল।কিছুক্ষণ নিজেকে শান্ত রেখে তিশাকে বলল,

“বাইরে যে অথিতি হিসেবে এসেছে সে নিহান এহসান ওইদিন ঝামেলা করলো যে লোকটা।”

“কিছু হবেনা এসেছে তো কি হয়েছে তুমি আসো তো আমার সাথে। কিছুক্ষণের মধ্যেই পারফরমেন্স শুরু হবে।”

তিশা তুবার কোনো কথা শুনল না।তুবাকে জোর করে এনে স্ট্যাজের সামনে চেয়ারে বসাল।স্ট্যাজের উপরে চেয়ারগুলোতে বসে আছে প্রিন্সিপাল আরো কিছু লোক আর সাথে নিহান।

ভার্সিটির বেশ কিছু মেয়ে নিহানকে পছন্দ করেছে।লোকটা যেমন সুন্দর, তেমনিই লম্বা চৌড়া।নিহানকে দেখে তুবা ভয়ে মাথা নিচু করে আছে।চোখমুখে ভয়,আতঙ্ক স্পষ্ট।একটু পর শুরু হলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।প্রথমেই তুবা আর তিশার নাচের পারফরমেন্সের এনাউসমেন্ট হলো।নিহান এখনে তুবাকে দেখেনি।তুবা আর তিশা স্টেজের উপরে উঠে।নিহান এবার মাথা তুলে তাকালো।পকেটে থাকা হাতটা মুষ্টিবদ্ধ করে রাখল।কত কত ছেলে লালসার চোখে তাকিয়ে আছে তুবার দিকে তা দেখে নিহানের সহ্য হলো না।নিহান তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে আছে তুবার দিকে।গান শুরু হলো।গানের তালে তালে নাচছে তুবা আর তিশা।চেয়ারে বসা এতগুলো মুখের সাথে সাথে আরেকটি চোখজোড়া মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তুবার দিকে।হ্যা চোখগুলো ইফতিশামের।তুবার সেই ইফতিশাম জাওয়াদের।হঠাৎ নিহান খেয়াল করল তুবার ব্লাউজটার হুক ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে পুরো পিঠ স্পষ্ট।নিহান কিছু করতে যাবে তার আগেই ইফতিশাম এসে নিজের জ্যাকেট গায়ে পড়িয়ে দেয়।ইফতিশাম খেয়াল করেছিলো কিছু ছেলেদের দৃষ্টি। ইতিমধ্যেই চারিদিকে ভিডিও,হইচই শুরু হয়েছে।গান ও বন্ধ নিহান এবার উঠে দাড়ায়।তুবা ভয়ে চোখ মুখ খিঁচে রয়েছে।ইফতিশাম তুবার একপাশে এবং আরেকপাশে তিশা দাঁড়ানো।নিহান ইফতিশামের পাশে দাড়িয়ে একটা ধাক্কা দিল ইফতিশামকে।ইফতিশাম নিচে পরে যায়।এরপর তুবার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল।নিজের রাগকে কন্ট্রোল করতে না পেরে শক্তপোক্ত এজটা থাপ্পড় মারল গালে পরপর চার পাঁচটা।চারপাশের পরিবেশটা যেনো ভারী হয়ে উঠছে।কপউ হাসছে বা কেউ তাকিয়ে আছে।অনেকের মবে প্রশ্ন লোকটা এমন করছে কেন?শুধুশুধু মেয়েটাকে মারলো ই বা কেন?

প্রিন্সিপাল উঠে বলে,

“নিহান স্যার প্লিজ কুল ডাউন।”

নিহান একবার গম্ভীর, রাগী দৃষ্টিতে তাকালো প্রিন্সিপাল মিহাল খানের দিকে।মিহাল খান চুপ করে রইলো কারণ এখন কথা বললে তার অবস্থাও খারাপ হতে পাের তার ছেলের মতো।নিহান আর এক সেকেন্ড ও অপেক্ষা করলো না তুবার হাত ধরে টেনে গাড়ির সামনে নিয়ে গিয়ে বসালো।নিহান ও বসল ড্রাইভিং সিটে।গাড়ি স্টার্ট দিলো কিন্তু বাকিদিনগুলো থেকে আজকের দিনের গাড়ি চালানোটা ভিন্ন।ভীষণ স্পীডে গাড়ি চালাচ্ছে নিহান।যেনো সব রাগ গাড়ির উপর দিয়ে বের করছে।তুবা আজকে সিটবেল্ট না পড়ার কারণে গাড়ির সাথে মাথায় ব্যাথা পেল।মাথায় হাত দিয়ে দেখল র’ক্ত।

নিহান সেদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ ও করলো না।তুবা ব্যাথায় কেঁদে উঠল।

চলবে?

(১কে করে দিয়েন।পরবর্তী পর্ব দিয়ে দিবো।আর শুনুন আজকের পর্ব টা আরো বড় করে দেওয়ার কথা ছিলো কিন্তু আমার সময়ের অভাবে আর আপনাদের গল্পের চাহিদায় দিতে পারলমনা।যাইহোক হ্যাপি রিডিং)💙

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply