Golpo romantic golpo দ্যা ব্ল্যাক মার্ক

দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৫


দ্যাব্ল্যাকমার্ক

লেখনীতেআশুও_নিশু

পর্বসংখ্যা_১৫

★★★
তুবা নিহানের চোখে নিজের কান্নারত চোখজেড়া রাখল।
নিহানের চোখের তীক্ষ্ণ চাহনি।তুবা চোখের জল মুছে নেয়।
নিহানের পায়ের উপর থেকে নিজের পা তুলে নেয়।আরেকবার নিহানের চোখের দিকে তাকাল।নিহানের চোখগুলো লাল হয়ে আছে।কিছুক্ষণ পর তুবা চোখ ফিরিয়ে নেয়।তুবা দরজার দিকে পা বাড়ায় নিহান দেখেও এবার কিছু বলল না।তুবা তাড়াহুড়ো করে দরজা খুলে বের হয়ে নিজের রুমে চলে যায় দৌড়ে।নিহান একি জায়গায় দাড়িয়ে আছে ঠায়।তুবা নিজের রুমে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দেয়।
মনের ভেতর কষ্টগুলো যেনো বাসা বেঁধেছে।গলায় কান্নাগুলো আটকে ছিলো এতক্ষণ যেনো।ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠল আবারও।
“কেনো এমন করে বললেন?আমার মনটাকে এমন ভেঙে দিলেন কেনো নিহান এহসান?আমি তো আপনাকে আরো ভালো ভাবতে শুরু করেছিলাম আর এখন আপনি কিনা আমাকে কিনা রাস্তার মেয়ে বললেন?আপনিই কিনা আমাকে প’তিতা বললেন?”

কথাগুলো বলার সময় বুকের ভেতরে দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছে তুবার।কাঁদতে কাঁদতে বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ে।
নিজের মনকে কোনোভাবেই যে শান্ত করতে পারছেনা।
★★★
নাহিয়ান ছাদের এক কোণে বসে আছে। হাতে গিটার।
গান গাওয়া তার শখ,ভালোবাসা আর আসক্তি।কিন্তু বর্তমানে তার গান গাওয়া খুব কম হয়।ব্যাস্ততা কাটিয়ে উঠতে পারলেই মাঝেমধ্যে গান গাওয়া হয়।বেশিরভাগ সময় রাতেই ছাঁদে গান গাওয়া হয় তার।কিন্তু আজ হঠাৎ রাতে না এসে দুপুরের দিকে আসল ছাদে।কি গান গাইবে ভাবতে ভাবতে
গিটারে কয়েকবার টুংটাং শব্দ করে গেয়ে উঠলো,

“যদি ভালোবাসিস আমারে তুই মইনারে,
তোরে কিন্না দিমু খাঁটি সোনার গয়নারে,
যদি ভালোবাসিস আমারে তুই মইনারে,
তোরে কিনা দিমু খাঁটি সোনার গয়নারে।
নাকের নোলক কানের দুল
সোনার চুড়ি….

পিছন থেকে কেউ জোড়ে হেঁসে উঠল।নাহিয়ান হাসার শব্দ শুনে পেছনে তাকায়।নিশান হাসছে।তার নিরামিষ ভাই আজ জোড়ে হাসছে।নাহিয়ান ও হেসে ফেলল।
” হাসছো কেন ভাইয়া?”

নিশান হাসি থামিয়ে বলে,
“তোর গান শুনে।এতো ভালো ভালো গান থাকতে কি একটা গান গাইলি।এমনিই সুন্দর ই হয়েছে কিন্তু গানটা তোর মতো মানুষের সাথে যায়না।”

নাহিয়ান হো হো করে হেঁসে উঠে বলে,
“আসলে আমি গান খুজে পাচ্ছিলামনা,তাই এটা গাইলাম।গানটা কিন্তু খারাপ না।”

নিশান এসে নাহিয়ানের ওাশে দাঁড়ায়। নাহিয়ান কিছুক্ষণ নীরবতার পর বলে,
“ভাবি কই?”

নিশান এবার নাহিয়ানের দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে।
“নোভাকে তো আর আমি বিয়ে করিনি যে তোর ভাবি হবে।আর শোন নোভার সাথে আমাদের সম্পর্ক আলাদা।আজকে আমি কানাডা ওকে নিয়ে যেতামনা কিন্তু ওর বাবার জন্য নিয়ে যেতে হচ্ছে।”
নাহিয়ান ভ্রু কুঁচকে বলে,
“ওর বাবার সাথে পুরনো কিছুর জন্য হয়তো এমন করছে।”

” ওই হা’রামজাদা যদি চলে ডালে ডালে নিশান ও চলে পাতায় পাতায়।নিশানকে চিনতে পারলে ভালো আর না পারলে বিপদ।যদিও মানুষ বিপদকে বেশি ডেকে আনে নিজের জীবনে।”

“ঠিক বলেছো ভাইয়া।একটু থেকে একটু এপার ওপার হলেই সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যাবে।”

নিশান মাথা নাড়ায়।কিছুক্ষণ পর বলে,
“ওই তুবার কি খবর?আজকে খাবার টেবিলে তো যে নাটকটা না করল।আমি একটা জিনিস বুঝেছি যে নিহান ওই মেয়েকে ভালোবাসে না।ভালোই হয়েছে।কোথা থেকে নাকি কোথা থেকে ধরে নিয়ে এসেছে তাও নাকি আবার দুই কোটি দিয়ে।”

নাহিয়ান কিছু বলল না।তুবা মেয়েটাকে তার সহজ-সরল ভালো মনেহয়।কি নিষ্পাপ চেহারা।নিশান বললেও নিহান ভালোবাসেনা তুবাকে কিন্তু নাহিয়ানের মনেহয় নিহান তো ভালোবাসে তুবাকে।নাহিয়ান বুকে হাত গুজে দাড়িয়ে বলে,

“এখন ভাগ্যের লিখন তো আর বলা যায়না।”

“স্টপ নাহিয়ান!সবসময় ভাগ্যে ভাগ্যে করবিনা।আমার আর নিহানের রুলসে কোনো ভাগ্যের-অভাগ্যের কথা বলা নেই
আমাদের যেটা ভালো লাগে সেটাই করি।আমরা আমাদের রুলসে চলি।”

নাহিয়ান দমে যায়।ভাইয়ের মুখের উপর আর কিছু বলে না যতই হোক তার বড় ভাই।নাহিয়ান কথা ঘুড়িয়ে বলে,
“তে ভাইয়া কইটাই বের হচ্ছো?”
” রাত ১০ টার দিকে।রেডি হয়ে থাকিস।”
“আচ্ছা।”

নিশান আর দাঁড়ালো না ছাদে।সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে চলে যায় এহসান বাড়ির বাইরে।আজ ড্রাইভার আসেনি।নিশান ই আসতে মানা করে দিয়েছিলো আজকে।নিশান গাড়িতে উঠে ড্রাইভার সিটে বসে গাড়ি স্টার্ট দেয়।কিছুক্ষণ পর নোভার বাসার সামনে এসে থামে।নিশান বাইরে দাড়িয়ে বেল বাজায়।দুইতিনবার বেল বাজানের পরে নিরা খাতুন এসে দরজা খুলে।নিশান হেঁসে বলে,

“আসসালামু আলাইকুম শাশুড়ী আম্মা।”

নিরা খাতুন বেশ বিরক্ত হলো।
“বাসার ভেতরে ঢোকার সাহসটা করবে না।”

নিশান নিরা খাতুন কে পাশ কাটিয়ে বাসায় ঢুকে পড়ে।নিরা খাতুন অবাক দৃষ্টিতে দেখল নিশান কে।ছেলেটার সাহস দিন দিন বেড়েই চলেছে। নিরা খাতুন রাগান্বিত কন্ঠে বলে,

“আমার বাসা থেকে এক্ষুণি বের হয়ে যাও নিশান।”

“না বেরহলে কি করবেন?”

“তুমি জানো এর ফল খারাপ হবে।”

“আমার অবস্থা খারাপ করলে আপনার অবস্থা আমার থেকে দুইগুণ খারাপ হবে।”

“দিন দিন বেয়াদব হচ্ছো নিশান।”

নিশান তাচ্ছিল্য হেঁসে জবার দেয়,
“যখন ভালো ছিলাম তখন কি সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন?”

নিরা খাতুন রেগে ফুস করে উঠে।নিশান কিছুক্ষণ পর বলে,
“ইফতেখার শেখ কই?”

“যেভাবে বলছো যেন উনি তোমার বন্ধু হয়।”

“অবশ্যয়।”

“তোমার বাবা-মা বেঁচে থাকলে আমি জিজ্ঞেস করতাম যে তোমার মতো বেয়াদবকে কি খেয়ে জন্ম দিল।”

“আপনাকে মে*রে উপরে পাঠিয়ে দিই তাহলে আমার মা থেকে জিজ্ঞেস করতে পারবেন।”

নিরা খাতুন চুপ করে রাগান্বিত চোখে তাকায় নিশানের দিকে।তখনিই দেখতে পায় ইফতেখার শেখ দরজা দিয়ে বাসার ভেতরে ঢুকছে।নিশান হালকা হেঁসে বলে,
“আসসালামু আলাইকুম শশুড় আব্বা।”

ইফতেখার শেখ বেশ অবাক হয়ে তাকায় নিশানের দিকে।
পরমুহূর্তেই নিশানকে বলে,
“কেনো এসেছো এখানে?আমার মেয়ে কই?”
“আছে আরকি একজায়গায়।”

ইফতেখার শেখ কর্কশ স্বরে বলে,
“দেখো নিশান আমি আমার মেয়েকে খুব কষ্টে মানুষ করেছি আর ওকে কিনা এখন তোমার মতো খারাপের সাথে বিয়ে দিবো?এতোই সোজা?”

নিশান এবার বেশ জোড়ালো কন্ঠে বলে,
“কেন ভয় পাচ্ছেন বুঝি?”

“তোমাকে ভয় পাওয়ার মতো কোনো কারণ দেখছিনা আমি।”

“তো আমার সাথেই না হয় থাকুক।”
★★★
নিহানের নেশা এখন বেশ কিছুটা কেটেছে।ল্যাপটপ সামনে নিয়ে অফিসের কাজ করছে নিহান।অন্য কোনো দিকে তার খেয়াল নেই বললেই চলে।কিছুক্ষণ পর ফোনে কল বেজে উঠল। নিহান রিসিভ করতেই অপাশ থেকে বলে,
“হ্যালো নিহান।”

“কে বলছেন?”

“তুই আমার নাম্বার সেভ করিসনি?”
“আরু?”

“হুম।কেমন আছিস?তোকে খুব মিস করছি।”
“ভালো।তুই?”

“আমিও ভালো।”

“আমি কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরছি।”

“ভালো।আজ রাখি।”

“আচ্ছা।”

নিহান খুব ছোট ভাবেই কনভারশেসন শেষ করল।মাথাটা ধরে আছে তার হঠাৎ করে কিছু ভাল্লাগছেনা ।কিছুক্ষণ রুমে বসে নিচে নামল।রান্নাঘরে উঁকি মারতেই দেখে আতিয়া বেগম কি জানি কা’টাকুটি করছে।কিন্তু তুবা নেই।নিহান বাড়ির বাইরে যাই।বাগানের দিকে চোখ পড়তেই দেখে
তুবা দাড়িয়ে আছে।মুখটা মসৃণ হয়ে আছে।নিহান কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকল।কিছুক্ষণ পর ফুলে ঘটে ঘেরা বাগানের ভেতর যায়।বাগামের চারপাশে নানা রঙিন ফুল আর ফুলের মিষ্টি সুবাস।নিহান পেছন থেকে ডাকল,

“তুবা?”
তুবা কোনো জবার দিলো না।নিহান আবার ডাকে,
“তুবা?”

এবারেও কোনো শব্দ নেই।নিহান এবার বিরক্ত হলো বেশ।
তুবার কাছে গিয়ে হাত ধরে টেনপ নিজের পাশে ঘুরালো।তুবা চুপ কোনো প্রতিক্রিয়া নেই।নিহান চিল্লিয়ে বলে,

“কি সমস্যা? এড়িয়ে চলছো কেন?”

তুবা চুপ।নিহান এবার রেগে বলে,
“জবাব দেওয়ার প্রয়োজন মনে করছোনা বুঝি?”

তুবা ধীরে বলে,
“হুম।”

নিহানের রাগ যেনো এবার আরো বাড়ল।নিজের হাতদুটুকে আটকে রাখছে চাইছে।তুবা নিহানকে পাশ কাটিয়ে চলে যায়।নিহান তুবাকে চলে যেতে দেখে বিড়বিড় করে বলে,

“সহ্যর সীমা পাড় করো না।তোমাকে যতটা সহ্য করি আমি ততটা এই পৃথিবীতে কেনোদিন কাউকে করিনি।”

নিহান কিছুক্ষণ দাড়িয়ে থাকল বাগানের ওখানটাই।আগের কিছু মুহুর্ত মনে পড়তেই এজটা দীর্ঘশ্বাস নেয়।কিছুক্ষণ পর বাগান থেকে চলে যায়।এহসান বাড়ির লিভিংরুমে গিয়ে বসে।আতিয়া বেগম কে ডাক দেয়।আতিয়া বেগম এসে বলে,
“জ্বী স্যার কিছু লাগবে?”

“তুবাকে আজকে কিছু বলেছিলেন?”

আতিয়া স্বাভাবিক ভাবেই বলে,
“কই না তো স্যার।”

“আচ্ছা। আমার জন্য এক কাপ কপই দিয়ে যাও।”
আতিয়া বেগম মাথা নাড়ায়।নিহান ভাবতে ভাবতে মনে পড়ে সকালের কথা সকালে সে তুবাকে অপমান করেছিলো তাই কি এমন করছে।একেতো অসুস্থ তার উপর স্ট্রেস নিয়ে ফেলবে।পরক্ষণেই বিড়বিড় করে,

“ও বাচলো নাকি মরলো সেটা দিয়ে আমার কি?নিহান এহসান তার জায়গায় থাকবে।আর ওকে তো আমি কিছু ভুল বলিনি।”

★★★
নোভা এসেছিলো তুবার রুমে।দরজায় ঢুকতেই দেখল বিছানায় বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে।নোভা হেঁসে বলে,
“তুবা কেমন আছো?”

তুবা হালকা হাসার চেষ্টা করে।
“হুম ভালো?আপনি?”
নোভা তুবার দিকে তাকিয়ে বলে,
“আরেহ আপনি আপনি বলতে হবেনা।তুমি করে বলো।”

“আচ্ছা।”

“মন খারাপ এখন ও?”

“না। মন খারাপ না।”

“চেহারাটা কেমন হয়ে আছে।দেখেই বুঝা যায়।”

তুবা হাসে।কিন্তু বুকের ভেতর তো কত চাপা কষ্ট।এই কষ্ট নিয়েই সারাজীবন হেসে এসেছে।এবারও হাসল হালকা।
কিছুক্ষণ পর তুবা বলে,

“আচ্ছা।তোমাকে কি নিশান স্যার বিয়ে করেছে?”

“নাহ্!”

“তো?তুমি এরকম শাড়ি পড়া তাহলে কেনো এনেছে।”

“জানিনা কিছুই জানিনা।আমি নিশানের কর্মচারী ছিলাম বলতে গেলে।কাল হঠাৎ করে আমার বিয়ে ঠিকহয়।কাল বললে ভুল হবে ওই ছেলেকে অনেকদিন থেকেই চিনতাম।আহির ওর নাম।ওর পরিবাররের ও আমাকে বেশ পছন্দ হয়েছিল।লাস্ট মুহুর্তে এসে নিশান স্যার এসব করেছে।”

তুবা কিছুটা অবাক হয়ে বলে,
“আপনার বিয়ে ভেঙে দিল তাই বলে?”

নোভা লম্বা একটা শ্বাস নেয়।আর বলে,
“হুম।উনাকে তখন থেকেই একটু কেমন জানি লাগতো আমার।”

“না ভালোবাসলে তো আর কেউ ধরে আনবেনা।নিশ্চয় ভালোবাসে।”

“ভালোবাসা?এটা ওদের লিস্টে নেই।থাকলেও নাহিয়ানের লিস্টে থাকবে।কিন্তু নিহান আর নিশান স্যারের লিস্টে ভালোবাসা নামক কোনো শব্দই নেই।

” সত্যি?”

“তিন সত্যি।”

তুবা মনে মনে ভাবল আসলেই তো নিহান এহসানের মনে কোনো ভালোবাসা নেই অন্তত তার প্রতি কোনো ভালোবাসা নেই বাকি কারো প্রতি থাকলেও থাকতে পারে।সে তো রাস্তায় মেয়ে তার প্রতি আবার ভালোবাসা?

নোভা তুবার চোখের সামনে চুটকি মেরে বলে,
“কি ভাবছো?”

“ভাবছিলাম মানুষের জীবন এমন ও হয়।”

চলবে?

(এটা কিন্তু মোটামুটি বড় পর্ব।আরো লিখতে চেয়েছিলাম কিন্তু ইনবক্সে সবাই গল্প চেয়ে চেয়ে শেষ হয়ে যাচ্ছে তাই।যাইহোক ভালোবাসা সকলকে)❤️

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply