Golpo romantic golpo তোমাতেই আসক্ত তোমাতেই আসক্ত সিজন ২

তোমাতেই আসক্ত পর্ব ২৭


তোমাতেই_আসক্ত

পর্ব:২৭

তানিশা সুলতানা

আব্দুল রহমান অফিসে বসে আছে মন মরা হয়ে। তার সকল চিন্তার মূল কারণ আবরার। ছেলেটা একটা কথা শোনে না৷ বাইক রেস, কার রেসে লাইভ রিক্স রয়েছে।
কতবার বারণ করেছে। কিন্তু কথা শোনে নি।।
বড্ড জেদি কিনা
একবার যেটা বলবে যে করব সেটা করেই ছাড়বে। এখন তার নজর পরেছে আদ্রিতার দিকে। আব্দুল রহমান ঠিক জানে যে কোনো মূল্যে সে আদ্রিতাকে পেয়ে ছাড়বে। তবে উনি এমনটা চায় না।
আদ্রিতা ভীষণ নরম প্রকৃতির একটা মেয়ে। বড্ড আদূরে। বলা বাহুল্য নিজের ছেলে মেয়ের থেকে অদ্রিতাকে উনি একটু বেশি ভালোবাসে। জীবন্ত ফুলটাকে সে কোনো মতেই আবরারের হাতে দিবে না। এতে যদি নিজের ছেলের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয় তবে তিনি তাতে প্রস্তুত।
এমন মুহূর্তে আরিফ ভেতরে ঢোকে।।

“ভাইয়া ইয়াং ইউ আমাদের সঙ্গে বিজনেস করতে ইন্টারেস্টেড। উনি চাচ্ছিলেন একান্তে আপনার সঙ্গে কথা বলতে।

আব্দুল রহমান দীর্ঘশ্বাস ফেলে আরিফকে বসার ইশারা করে।
“আরিফ
আদ্রিতাকে নিয়ে কি ভাবছো?

আরিফ ঠিক বুঝতে পারল না। একটু হাসার চেষ্টা করে বলে
“কি ভাববো?

“মেয়ে বিয়ে দিবে না?

“ভাইয়া ওসব ভাবার জন্য আপনি আছেন।

“আমি যা বলব তুমি তাই শুনবে?

“চোখ বন্ধ করে

“যদি বলি আমার ছেলের সঙ্গে তোমার মেয়েকে বিয়ে দিতে চাই?

এ যাত্রায় আরিফ ঘাবড়ে গেলো। হাসিমাখা মুখ খানা ফ্যাকাসে হয়ে গেলো। মেয়েকে সে বড্ড বেশি ভালোবাসে। স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো নয়। কখনোই দুজনের মত মিলে না। অনেকবার ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে আরিফ জোরজবরদস্তি সম্পর্ক টিকিয়ে রেখেছে।
তার ইচ্ছে মেয়েকে ভালো একটা ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেবে।
যার প্রচুর ধন সম্পদ না থাকলেও চলবে তবে মানুষটা ভালো হতে হবে।
আবরার ভালো ছেলে। দেখতে সুন্দর, ক্যারিয়ার ভালো।
তবে আরিফের তাকে পছন্দ না। নিজের মেয়ের জন্য তো একদমই না।

আরিফের মনোভাব বুঝলো আব্দুল রহমান। সে সহসা হেসে বলে ওঠে

” তোমার মেয়ের জন্য আমি রাজপুত্র খুঁজে আনবো। কোনো ভিলেন কে আদ্রিতার দিকে তাকাতে ওবদি দিবো না।

আরিফ দোনোমোনো করে বলে
“আবরারকে আমার অপছন্দ নয়। সে ভালো।
তবে আমার মেয়ে তার যোগ্য নয়। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মত শক্তি আমার মেয়ের নেই।


“আমি ঠিক আছি।

আদ্রিতা শুকনো ঢোক গিলে বললো। আবরার শান্ত হলো। মুহুর্তের মধ্যেই মুখোভঙ্গিমা বদলে ফেললো এবং ছেড়ে দিলো ওকে। এতোক্ষণ যে চোখে ভয় ছিলো এখনই সেই চোখে একরাশ গম্ভীরতা এবং অনল।
এ্যানিটা আবরারের মুখ পানে তাকিয়ে কয়েকবার মিউ মিউ আওয়াজ তুলে। যেনো সে বলতে চাচ্ছে আমাকে কোলে নাও। তবে আবরারের সেদিকে তাকানোর সময় হলো না।
বরং সে চোখ মুখ শক্ত করে বলে
” এখানে কেনো এসেছো?

টিশানও দৌড়ে চলে আসলো। হাঁপাতে হাঁপাতে বলে
“আদ্রিতা আর ইউ ওকে? ওভাবে দৌড়ে আসলে কেনো?

আবরার একবার টিশান এর মুখ পানে এবং পরপরই আদ্রিতার মুখ পানে তাকালো।
আদ্রিতার হাতে থাকা ফুল গুলোও আবরারের নজর এড়ালো না। তবে কিছু বললো না।
” হেই আবরার
কনগ্যাচুলেশনস

টিশান হাত বাড়িয়ে বলে। আবরার হাত ধরলো না জবাবও দিলো না। এতে একটুখানি অপমানিত হলো টিশান। তারপর নিজেই পরিস্থিতি সামাল দিতে হে হে করে হেসে বলে
“তোমার বোন একা একা হাঁটতেছিলো।।আমি জাস্ট একটু সঙ্গ দিচ্ছিলাম।।

আদ্রিতা বিরক্ত হলো। মিথ্যুক একটা। কখন সঙ্গ দিলো?
“আমি আর এ্যানি হাঁটতে এসেছিলাম। উনি কোথা থেকে এসেছে আমি জানিনা। উড়

আবরার পুরো কথা শুনল না। আদ্রিতার হাতের কব্জি ধরে টানতে টানতে তাকে নিয়ে যেতে থাকে। টিশান পেছন থেকে ডাকলো কেউই ফিরে তাকালো না।
আদ্রিতা হাতে বেশ ব্যাথা পাচ্ছে কিন্তু কিছু বলার সাহস পেলো না।
গাড়ির কাছে এসে ঠাস করে দরজা খুলে গাড়ির মধ্যে এক প্রকার ছুঁড়ে ফেললো। গাড়ির জানালায় মাথা বারি খেলো আদ্রিতার। এ্যানিটা ছিঁটকে পড়ে গেলো দূরে। ব্যাথা পেলো কি বাচ্চাটা? কেমন মিউ মিউ করে উঠলো।
আবরারও পাশে বসে।
আদ্রিতা এক হাতে মাথা ডলতে ডলতে এ্যানিকে কোলে তুলে নিলো তারপর বিরবির করে বলে
” ফকিন্নি মার্কা বিহেভিয়ার। একটা মানুষকে আদর করে হাতে ডাকি। তাই বলে তাকে সবসময় হাতির মতো বিহেভিয়ার করতে হবে।
ম্যানার্স এর অভাব।

আবরার হাত ঘড়িতে সময় দেখে নিলো। ড্রাইভার ততক্ষণে গাড়ি চালানো শুরু করে দিয়েছে।

“তারপর বলো
কেনো এসেছিলে এখানে?

আদ্রিতা ঠোঁট বাঁকিয়ে বলে
” আমার ইচ্ছে। আসবোই তো

“ফুল গুলো কে দিয়েছে?

” ওই ছেলেটা
কি যেনো নাম? টিশান

মুহুর্তেই আবরার চেপে ধরলো আদ্রিতার গলা এবং ওকে জানালার সঙ্গে ঠেসে ধরলো। চোখ দুটো টকটকে লাল রং ধারণ করেছে।।কপালের রগ গুলো ফুলে উঠেছে। দাঁতের ওপরে দাঁত চেপে আছে বলে চোয়াল নরছে।
আদ্রিতা প্রচুর ব্যাথা পাচ্ছে। মনে হচ্ছে এখুনি মরে যাবে। চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গিয়েছে এবং চোখের কুর্নিশ বেয়ে পানি পড়ছে।
এ্যানিকে ফেলে দিয়েছে আবারও।
দুই হাতে আবরারের হাত ধরে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। নিঃশ্বাস নিতে পারছে না।
আবরার ভয়ানক স্বরে বলে
“জানোয়ার
আবরার ব্যতিত দ্বিতীয় কোনো পুরুষের নামটা মুখে আনলে তোর জিভ আমি কে/টে ফেলবো।
তোর পৃথিবী জুড়ে শুধু একটাই নাম থাকবে। আবরার আবরার আর আবরার

বলেই গলা ছেড়ে দেয়। ড্রাইভার ভয়ে কাঁপছে। ছাড়া পেয়ে আদ্রিতা কাশতে থাকে। মাথা ঘুরছে। গলা দিয়ে র/ক্ত চলে এসেছে। গাড়ির জানালা খোলার চেষ্টা করে। পারে না শেষ মেষ গাড়ির মধ্যেই বমি করে দেয়। র/ক্ত বমি।।
আবরার ফিরেও তাকালো না।
ড্রাইভার গাড়ি থামিয়ে পানি এগিয়ে দিলো। পানি খেয়েই জ্ঞান হারালো আদ্রিতা।
যতক্ষণ জ্ঞান ছিলো ততক্ষণ ও ভেবেছে
” আর কখনো আবরার তাসনিন এর মুখোমুখি হবো না।।আমি তাকে ভালোবাসি না। কখনো বাসবো না। সে ভীষণ খারাপ। বাবাকে বলবো কালকেই আমায় নিয়ে যেতে। এখানে আর থাকবো না।।
কোনো মতেই না

জ্ঞান হারাতেই আদ্রিতাকে কোলে তুলে নিলো আবরার।
ঢলে পরা মাথা খানা নিজের বুকের সঙ্গে চেপে চুলের ভাজে চুমু খেতে থাকে অনবরত।
এমন দৃশ্য দেখে ড্রাইভার বিরবির করে বলে
” ভালোবাসে না কি বাসে না এটাই তো বুঝতে পারছি না।


আজকে কোনো কারণ ছাড়াই অহনার মনটা খুব ভালো লাগছে। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিজেই রান্না করবে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিচেনে ঢুকে পড়ে। একমাত্র গরুর মাংসটাই সে বেশ ভালো রান্না করতে জানে। তার জন্য গরুর মাংস এবং পোলাও রান্নার তোর জোর শুরু করে দেয়।
রান্না প্রায় শেষের পথে মনে হয় আরও কিছু রান্না করা দরকার। তাই পুনরায় ফ্রিজ থেকে বোয়াল মাছ এবং ইলিশ মাছ বের করে। তখনই সিয়াম প্রবেশ করে কিচেনে।
অহনা কে রান্না করতে দেখে একটু অবাকই হলো। বলে
“নারী তুমি রান্না জানো
বলো নি কেনো আগে?
তবে আমি করতাম বিয়ে
তোমায় পটাতাম আগেভাগে

সিয়ামের কবিতা কখনোই অহনার ভালো লাগে না। তবে আজকে হাসি পেলো।
সহসা হেসে বলে ওঠে
“সিয়াম ভাই আপনি খুব বাজে কবিতা লিখেন।

“তুমি ভুল বললে অহনা
আমি তো কবিতা লিখি না
বলি

“যেটাই হোক
খুব বাজে

” তবে তুমি দেখা দিও সাজে
তোমায় নিয়ে ঘুরতে যাবো চাঁদে

“ফ্লাটিং ভালোই পারেন
কিন্তু আমি যে আপনার বোন হই সেটা ভুলে যান।

সিয়াম এমনভাবে মুখ বাঁকালো যেনো অনেক বড় মিথ্যে কথা বলে ফেলেছে অহনা। বোনের গল্প শুনতে আর ভালো লাগছে না। তাই প্রসঙ্গ পাল্টে বলে ওঠে

“দাও তোমার সাহায্য করে দিচ্ছি।

বলেই চাকু দিয়ে পেঁয়াজ কাটতে শুরু করে।

আদ্রিতাকে কোলে নিয়ে বাড়ি ফিরে আবরার। ওর বাড়িটাতে চার ভাবে লক করা।।
১.ফিঙ্গার
২.কার্ড
৩.চাবি
৪.ফেইস

আবরারের ফেইস শো হলে আপনাআপনি দরজা খুলে যায়। তাই আর কাউকে ডাকার প্রয়োজন পড়লো না।
আদ্রিতা নিয়ে ওর রুমে শুয়িয়ে দিয়ে আসে। এ্যানিটা ওদের পেছন পেছন আসে।


সকালবেলা ফুলের গন্ধে ঘুম ভাঙ্গে আদ্রিতার। পিটপিট করে চোখ খুলতেই দেখতে পায় গোটা কক্ষ জুড়ে ফুলের সমাহার।

চলবে

“আবরার তাসনিন” ইবুক কিনুন বইটই থেকে।

https://link.boitoi.com.bd/R7Hs

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply