Golpo ডার্ক রোমান্স ডার্ক সাইড অফ লাভ

ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ২২


ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ২২

ডার্কসাইডঅফ_লাভ ( ছেলেরা নিজ দায়িত্বে পড়বেন)

দূর্বা_এহসান

.

অরুকে নিয়ে মেতেছে তরু। মৃন্ময়কে যেনো দেখেও দেখছে না। দুই বোন হারিয়েছে নিজেদের আলাদা রাজ্যে। বিকেল গড়িয়েছে। তবুও এদের কোনো হুস নেই।সামনে সোফায় বসা মৃন্ময় তাকিয়েই আছে তরুর দিকে। তার যে চুমু চুমু পাচ্ছে সেটাকি বুঝতে পারছে না মেয়েটা।পাশে বসা আরবাজ ও একই দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে অরুর দিকে।কত ঘন্টা হয়ে গেলো বউকে কাছে পাচ্ছেনা। প্লেনে থাকতেই প্ল্যান করেছিল পৌঁছে আগে বউয়ের সাথে রোমান্স করবে।কিন্তু এটা কি হলো! বউ তাকে এখন পাত্তাই দিচ্ছেনা।

— ব্রো। তোমার জন্য বউটা আমার কাছ ছাড়া।

আফসোসের সুরে বলল আরবাজ। মৃন্ময় তাকালো তার দিকে। একই সুরে সেও বললো,

— তোমার বউয়ের জন্য আমার বউটা আমাকে আর চোখে দেখছে না।

—কিছু করতে হবে ব্রো।

মৃন্ময় মাথা নাড়ালো। তরুদের দেখে মনে হচ্ছে আজকে আর দুজন আলাদা হবে না।আরবাজ উঠে দাড়ালো।মৃন্ময় আগেই তাদের জন্য রুম রেডি করে রেখেছে।

— তরু, ড্রয়িং রুমেই সারাদিন বসিয়ে রাখবি?

আরবাজ ওদের কাছে এসে বলল।তরু মাথা তুলে তাকালো। মুখ বাঁকিয়ে বললো,

— তোমাকে বসতে দিয়েছি এটাই অনেক।আর কি চাও?

—সম্মান সে বেয়াদব।তোর বোনের হাসব্যান্ড লাগি।

— আগে তো খালাতো ভাই ছিলে।চলো রুম দেখিয়ে দিচ্ছি।

এটারই অপেক্ষা করছিল আরবাজ।তরু অরুকে নিয়ে আগে আগে দোতলার দিকে হাটা দিল। দুটোর বকবক থামছেই না।পিছে আরবাজ আর মৃন্ময়।
দোতলার কর্ণারের রুমটার দিকে এসে থামলো ওরা।

— যাও,এই রুমে থাকবে।

বলেই তরু অরুর হাত ধরে নিচে যাওয়ার উদ্দেশ্যে হাটা ধরলো। আরবাজ ধরে ফেললো অরুর আরেকটা হাত।

— আবার কি চাই?

— বউকে দিয়ে যা।

— না দিবো না।

—দিয়ে যা বলছি।

অরু লজ্জায় মাথা নিচু করে ফেলেছে। মৃন্ময় এখানে উপস্থিত।লোকটা কি দেখছে না।এভাবে তাকে চাচ্ছে।

— বলছি না দিবো না।

রেগে বললো তরু।

—আচ্ছা দিতে হবে না।হাত ছাড় তোর আপুর সাথে কথা আছে।

ছেড়ে দিলো হাত। তরু কিছু বুঝে ওঠার আগেই আরবাজ অরুকে নিয়ে রুমে ঢুকে গেলো এক মুহূর্তেই। ঠাস করে তরুর মুখের উপর দরজা লাগিয়ে দিল।ঘটনা টা এতো দ্রুত হলো যে তরু হতভম্ব হয়ে গেলো।

— দরজা খোলো,আপুকে দেও। ভাইয়া…

দরজায় ধাক্কা দিলো তরু।এতক্ষন চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকা মৃন্ময় এবার এগিয়ে এসে ওর হাত ধরে ফেললো।চোখের পলকেই তরুকে কোলে তুলে নিলো।

—রুমে চলো।

—আপু…

—হুসসস, আমার সাথে যাবে এখন। আপু পরে।


দেয়ালে চেপ ধরেছে অরুকে আরবাজ। ঠোঁটে ঠোঁট ডুবিয়ে দিয়েছে অনেকক্ষণ হলো। কা’ম’ড়ে কা’ম’ড়ে ঠোঁটের এক কোনা কে’টে ফেলেছে মেয়েটার।তবুও থামছে না।অরু ছাড়া পাওয়ার চেষ্টা করছে।কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হচ্ছে না। আরবাজের শক্তপোক্ত শরীর কাছে সে পিঁপড়ের মত।

অরুকে কোলে তুলে নিলো আরবাজ। ১ দিন মেয়েটাকে কাছে পায়নি।এখন আর এত সহজে ছাড়ছে না। বিছনায় আলতো করে শুয়ে দিল।

— ছাড়ো। এখানে এসব!

— আমি আর পারছি না ,অরু।তোমাকে এখন কাছে না পেলে অসুস্থ্য হয়ে যাবো আমি।প্লীজ জান, একবার শুধু।

— না,ছাড়ো।

— প্লীজ জান, একবার।প্রমিজ,একবার করেই ছেড়ে দিবো।

— সিউর তো? বেশি না কিন্তু..

অরুর পরণে থাকা জামাটা এক টা নে খু লে ফেললো আরবাজ।ইনারের উপরেই হা ম লে পড়লো সে।অরু আরো চে পে ধরলো ওকে। আরবাজ আলতো হাতে অরুর অবশিষ্ট কাপড় টুকুও রাখলো না,এমনকি নিজের টুকুও না। সে ধীরে ধীরে নেমে এলো কোমরের নিচে।

— জান, নিচে?

— হু

আরবাজ সাথে সাথেই মুখ ডুবিয়ে দিলো।পুরো সুখ যেনো তার এখানেই। ছটফট করতে লাগলো অরু।অসহ্যকর অনুভূতি। বিছানার চাদর শক্ত করে খামচে ধরলো সে।অনেকটা সময় নিয়ে আরবাজ কন্টিনিউ রাখলো। অরু আর সহ্য করতে পারলো না।
আরবাজকে টেনে বুকের উপর নিয়ে এলো।ঠোঁটে চুমু দিয়ে নেশা ভরা কন্ঠে বললো,

— প্লীজ,

আরবাজ হাত বুলিয়ে দিলো চুলে।চোখ বন্ধ করে ফেললো অরু। আরবাজকে সাথে সাথেই শক্ত করে জড়িয়ে ধরলো। নিজেকে অরুর মধ্যে মিশিয়ে নিলো আরবাজ।এক হাতে অরুর মুখ চেপে ধরলো।তবুও সুখময় চিৎকার টা আটকানো গেলো না।

— আহ্হ্


তরুকে কোলে সোজা বারান্দায় নিয়ে গিয়ে বসলো মৃন্ময়। এই মেয়ে বোনের কাছে যাওয়ার জন্য ছটফট করছে।এত অবুঝ কেন। বুঝতেছে না ওরা কি করছে।

— আমাকে যেতে দিন আপুর কাছে।

কোল থেকে নেমে গেলো তরু।মৃন্ময় হাত ধরে রেখেছে ওর।

— যাওয়া যাবে না।

—কেন?

— এদিকে আসো বলছি।

তরু মৃণ্ময়ের কাছাকাছি দাড়ালো।

— কোলে বসো।

— না

রাগ দেখিয়ে ফ্লোরে বসলো।মৃন্ময় বাকা হাসলো। মেয়েটা নিজেই সব সহজ করে দিচ্ছে।

— বলুন কেন যাবো না?

— রাতে কি করি আমরা?

— ঘুমাই।

সহজ উত্তর। মৃন্ময় হাসলো।তরুর গাল ছুঁয়ে বললো ,

— আর?

মৃন্ময়ের চোখে চোখ পড়তেই তরু বুঝে গেলো কি বলছে।মুখটা লজ্জায় লাল হয়ে গেলো বেচারির।মৃন্ময়ের কোলে মাথা ঠেকালো।চোখ বন্ধ করলো মৃন্ময়।তরুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো।

তরুকি বুঝতে পারছে তার এভাবে থাকায় মৃন্ময়ের সমস্যা হচ্ছে।বেচারার সামলে রাখা ছোট মিয়া প্যান্ট ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে চাচ্ছে। তরু তো বুকেও মাথা রাখতে পারতো। ওখানেই কেন রাখতে হবে?

— প্লীজ চেপে যা ,ছোট মিয়া।

— কন্ট্রোল হচ্ছে না আর ভাই।প্লীজ ,সেদিনের টা আরেকবার।

— রাজি হবে না।

— পারছি না আর।

মৃন্ময় ফ্লোরে পায়ের আঙুল চেপে ধরে রাখলো।তার বউকে ভালো করেই চেনা।বললে কি আর রাজি হবে?জীবনেও না।নিজের ইচ্ছার মালিক তার বউ।

—তরু
—হু
—আজকে আরেকবার করবে?
—কি?
—তাকাও আমার দিকে।

তরু তাকালো। মৃন্ময়ের চোখের চাহনি বুঝতে সমস্যা হলো না।অবশ্য সে আগেই বুঝেছিল এরকম কিছু। ছোটমিয়ার নড়াচড়া দেখে। তরু কোনো কথা ছাড়া মৃন্ময়ের প্যান্টের চেন খুলে ফেললো।এটারই যেনো অপেক্ষা করছিল ছোটমিয়া ।সে গা ঝাড়া দিয়ে সটান হয়ে দাঁড়ালো।

— বেয়াদবটা বেশি বার বেড়েছে।আজকে শায়েস্তা করবো একে।

— তরু..

—উু

— জান, ব্যাগে চকলেট আছে আনবো?

— নাহ্।

— এভাবেই?

— ইয়েস

— খারাপ লাগবে না?

— উহু…

খোলা বারান্দায় দুটো মানুষ।একজন চেয়ারে বসা,আরেকজন ফ্লোরে। অতি সুখে মৃন্ময় যেনো উড়ছে। কিন্তু তার এই সুখ বেশি সময় থাকলো না।হঠাৎ প্রেয়সীর দাঁতের তীব্র কামড়ে চোখে যেনো সর্ষেফুল দেখলো।আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে চিৎকার করে উঠলো। মানুষরুপী ভয়ঙ্কর জীব প্রেয়সীর দাঁত থেকে ছাড়া পেতে ছটফট করতে লাগলো।কিন্তু তার প্রতি বা ছোট মিয়ার প্রতি একটুও মায়া হলো না তরুর। ছোটমিয়া হয়তো এবার ছাড়া পেলে আর জীবনেও এই অদ্ভুত মহিলার মুখের ধারে কাছেও আসবে না।

চলবে,,,,

(পরের পর্বটি বড় করা হবে। ৩k রিয়েক্ট না আসলে নেক্সট পার্ট দেরিতে আসবে।প্রতিদিন গল্প পেতে অন্য পেজে রিয়েক্ট কমেন্ট না করে এখানে করুন)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply