Golpo ডার্ক রোমান্স ডার্ক সাইড অফ লাভ

ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ২১


ডার্কসাইডঅফ_লাভ (১৮+ এলার্ট কঠোরভাবে❌🔞)

দূর্বা_এহসান

.
ওয়াশরুমে শাওয়ারের উদ্দেশ্যে সদ্য ঢুকেছে তরু। টাওয়াল জরিয়ে যখন সে দাড়ালো ঠিক তখনই অনভব করলো পিছে এসে কেউ দাঁড়িয়েছে। চমকে পিছু ফিরতেই ধাক্কা খেলো মৃন্ময়ের বুকে। সত্যি সত্যি চলে এসেছে! তরু সামান্য কেঁপে উঠলো। ভিডিও কলে বলা মৃন্ময়ের সেই কথাটা মনে পড়ল।
“বাসায় এসে আরেকটা…..” তরুর এখন অবস্থা এমন হয়েছে যে চিক্কুর মেরে কান্না করতে ইচ্ছে হচ্ছে।কেনো ওয়াশরুমের দরজাটা বন্ধ করেনি। শার্টলেস বুক থেকে মুখ তুলে চাইলো তরু। মৃন্ময় গভীর দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে।

— বলেছিলাম রেডি থাকতে।

তরু কিছু বলার উদ্দেশ্যে মুখ খুলতেই যাবে তার আগেই মৃন্ময় ওর ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ধরলো। আচমকা তরুকে উঁচু করে দেয়ালে চেপে ধরলো।তরু নিজেকে সামলাতে মৃন্ময়ের কোমড় জরিয়ে ধরলো দুই হাতে। উন্মাদের মত ঠোঁটের উপর নিজের ঠোঁটের ছোঁয়া ভরিয়ে দিতে লাগলো।

তরু সামলে নিলো নিজেকে। কোমর থেকে একটা হাত ধীরে ধীরে মৃন্ময়ের মাথার চুল খামচে ধরলো। মৃন্ময়কে এতটা কন্ট্রোলেস আগে দেখা হয়নি তার।পুরো ডেসপারেট হয়ে গেছে বেচারা।

— খোলো

তরুর ঠোঁট ছেড়ে জোরে শ্বাস নিতে নিতে বলল মৃন্ময়। দুজনার ঠোঁট লাল বর্ণ ধারণ করেছে। তরু বুঝতে পারল না কি খুলতে বলছে।

—কি খুলবো?

—টাওয়েল। তখন ভিডিও কলে যেটা দেখতে পারিনি ওটা বের করো। খাবো….

সত্যি সত্যিই তরু কথা শুনল।থাকলো না টাওয়েল। উন্মুক্ত করে দিল। মৃন্ময়ের উন্মাদ রূপটা শান্ত হয়ে গেলো। তরুকে আরো উচু করে তুলল।তরু দুই পা দিয়ে মৃন্ময়ের কোমর জড়িয়ে ধরলো। অর বুক সরাসরি মৃন্ময়ের মুখের কাছে এলো।যত্ন করে ধীরে মৃন্ময় টেস্ট করলো।সময় লাগিয়ে ধীরে ধীরে একটার উপরেই চলল আর আদুরে অত্যাচার।

মিনিট বিশ এর মধ্যে থেমে গেলো মৃন্ময়। বুক থেকে মুখ তুলে তাকালো তরুর পানে। তরু তখন দেয়ালে মাথা ঠেকিয়ে চোখ বন্ধ করে ঠোঁট কামড়ে রেখেছে।মৃন্ময় অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো।এই রকম রিয়েকশন দেখে নিজেকে যতটুকু কন্ট্রোল করে নিয়েছিল সেটুকুও শেষ হয়ে গেলো।মৃন্ময়ের কোনো সারা না পেয়ে তরু সেভাবেই বললো,

—থেমে গেলেন কেন, মৃন্ময়? আই নিড মোর।

অতিরিক্ত এক্সাইটমেন্টে বলে ফেললো।মৃন্ময় হা হয়ে গেলো। তরু ছটফট করছে।

—আর ইউ সিউর,বেব?

—ইয়েস, আ’ম সিউর। প্লীজ সাক ইট।

মৃন্ময় তাই করলো।আগের তুলনায় হার্ড হলো সে। প্রেয়সী নিজে মুখে বলেছে।সেখানে কি আর নিজেকে কন্ট্রোল করা যায়! একটার উপরেই ঘণ্টা খানেক ট র্চা র চলল। নাতো কেউ থামছে,আর নাতো কেউ বাধা দিচ্ছে। বরং দুজনই সমান তালে সাপোর্ট করছে একে অপরকে।

এর মধ্যেই শাওয়ার অন করে দিয়েছে মৃন্ময়।দুজনে ভিজে জুবুথুবু। মৃন্ময়ের পরণে প্যান্ট থাকলেও তরু সম্পুর্ণ ড্রে স লে স । মৃন্ময় মুখ তুললো।তরুকে ধীরে ধীরে নামিয়ে দিলো ফ্লোরে। দুই গাল হাতের মাঝে নিয়ে চোখে চোখ রাখলো।

—Do you want to suck it, Honey?

চোখ বন্ধ করে ফেললো তরু।মৃন্ময় বুঝে গেলো। হাত সরিয়ে নিলো সে তরুর মুখ থেকে। দেয়ালে রাখলো হাত দুটো।তরু ফ্লোরে হাঁটু গেড়ে বসলো। হঠাৎ মৃন্ময় চোখ বন্ধ করে ফেললো।তার মুখ থেকে কিছু শব্দ বেরিয়ে এলো।

— আহ্, ফা*ক বেবী।


মাঝখানের দিনগুলো যেন অদৃশ্য সুতোর মতো ধীরে ধীরে গেঁথে গেছে তরু আর মৃণ্ময়ের জীবনে। একসময় যাদের মধ্যে অস্বস্তি, দূরত্ব আর অজস্র ভুল বোঝাবুঝি ছিল, তারা এখন একে অপরকে ছাড়া থাকতে পারেনা। সেই অচেনা ভাব, সেই দ্বিধা,সবকিছু যেন সময়ের সাথে মুছে গিয়ে জায়গা করে দিয়েছে গভীর ভালোবাসা আর নির্ভরতার।

তরু এখন আর আগের মতো নিজেকে গুটিয়ে রাখে না। মৃণ্ময়ের পাশে দাঁড়িয়ে সে যেন নতুন করে নিজেকে খুঁজে পেয়েছে। মৃণ্ময়ও তার জীবনের প্রতিটা মুহূর্তে তরুকে জড়িয়ে রাখতে চায়। তাদের সম্পর্ক এখন এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে, যেখানে চোখের ভাষাই অনেক কিছু বলে দেয়কথা বলারও প্রয়োজন হয় না সবসময়। একে অপরকে ছাড়া যেন দিনগুলো অসম্পূর্ণ লাগে তাদের।

ছোট ছোট অভিমান, মিষ্টি ঝগড়া, আর হঠাৎ করে হাসিতে ভরে ওঠা মুহূর্ত,সব মিলিয়ে তাদের দিনগুলো এখন জীবন্ত, রঙিন।তবে সবকিছু বদলালেও একটা জিনিস এখনো আগের মতোই রয়ে গেছে,মৃণ্ময়ের সেই কন্ট্রোললেস স্বভাব।

আজকের ভোর অন্য দিনের মতো ছিল না। ঘুম ভাঙতেই তরু খেয়াল করলো, পাশে মৃণ্ময় নেই। বিছানার একপাশ ঠান্ডা হয়ে আছে।মানে অনেক আগেই বেরিয়ে গেছে সে। এমনটা আগে খুব একটা হতো না। কোথাও গেলে অন্তত একটা কথা বলে যেত। আজ কিছুই বলেনি।

তরুর বুকের ভেতর হালকা একটা অজানা শঙ্কা ধীরে ধীরে জমতে লাগলো। গত কয়েকদিন ধরেই মৃণ্ময়কে অদ্ভুত চুপচাপ লাগছিল। আগের মতো দুষ্টুমি করা, কিংবা বিনা কারণে তরুকে জড়িয়ে ধরা,সব যেন কমে গেছে। চোখে সবসময় একটা চাপা ক্লান্তি, আর ভেতরে জমে থাকা চিন্তার ভার স্পষ্ট বোঝা যায়।
ব্যবসার চাপটা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তার ওপর বাবা-মায়ের খুনিদের এখনো ধরতে না পারার যন্ত্রণা তাকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খাচ্ছে। মৃণ্ময় বাইরে থেকে যতই শক্ত থাকার চেষ্টা করুক, ভেতরে ভেতরে সে ভেঙে পড়ছে,তরু সেটা বুঝতে পারে। কিন্তু সে চাইলেও পুরোটা জানাতে চায় না, যেন নিজের কষ্টটা একাই বয়ে নিতে চায়।

রজনী দেশে ছেড়েছে কিছুদিন আগে।হয়তো বুঝে গেছে এখানে থেকে লাভ নেই। মৃন্ময়কে পাবেনা সে।

তরু মৃন্ময়কে ফোন করতে গিয়েও থেমে গেলো। একলা সময় দেওয়া উচিত মানুষটাকে। সে উঠে ফ্রেশ হয়ে সোজা কিচেনে চলে গেলো।পাক্কা গিন্নি এখন সে। তারও আজকে মন খারাপ লাগছে। বোনকে ভীষণ মনে পড়ছে। মৃন্ময়কে কি বলবে একবার ? নাহ্ থাক,আবার রেগে যাবে। জুড়ে যাওয়া সম্পর্ক টায় হয়তো আবার ফাটল ধরবে।কিন্তু বোনের জন্য তো তার মন পুড়ছে। মৃন্ময় তাকে নিয়ে এসেছে মাস দেড়েক প্রায় হলো।

ড্রয়িং রুমে বসা ইখতিয়ার খান চা চাইলে তরু পাঠিয়ে দিলো রেশমার হাতে। বাসায় কয়েকদিনে একবার দেখা যায় ইখতিয়ার খানকে।তরু তখন একটু ভয়ে ভয়ে চলে।খুব একটা মিশুক না।

সেদিনের ঘটনা মৃন্ময়কে বলেনি তরু। চাচাকে মৃন্ময় কি পরিমান সম্মান আর ভালোবাসে তা দেখার পর আর সাহস হয়নি।

আকাশপাতাল ভাবতে ভাবতেই রান্না করছিল তরু। রেশমা চা দিয়ে ফিরে এসে ওর পাশে দাঁড়ালো।

—ভাবীইই…

—হ্যাঁ বলো।

— ভাইয়ে মনে হয় বেশি আদর করে?

— এরকম কেন মনে হলো?

— গলায় তো দাগ বাড়তাছে, কমতে দেখলাম না একবারও।

তরু গলায় হাত দিলো।একটু একটু ব্যাথা। পুরো গলা জুড়ে কামড়ের দাগ। শাড়ির আচল দিয়ে ভালো করে ঢেকে রেশমার দিকে চোখ গরম করে তাকালো।

—মারবো একটা,কাজ কর।বিয়ের সাধ জাগছে তোর?

— না মানে

— হোপ,কাজ কর।

কলিং বেল বাজলো হঠাৎ।রেশমা দরজা খুলতে চলে গেলো।তরু লজ্জা মাখা মুখটা নিয়ে কাজে মন দিলো।দরজা খুলতেই রেশমা হকচকিয়ে গেলো। সামনে দাঁড়িয়ে মৃণ্ময়।ক্লান্ত, তবে ঠোঁটের কোণে হালকা একটা চাপা হাসি। তার পাশে একটা মেয়ে…চেনা, খুব চেনা। আর একজন পুরুষ।মুহূর্তের জন্য রেশমা স্থির হয়ে তাকিয়ে থাকলো, তারপর হঠাৎ চিৎকার করে উঠলো,

—ভাবীইই! দেখো কে আসছে!

তরু কিচেন থেকে বিরক্ত গলায় বলতে বলতে বের হলো,

—কি হয়েছে আবার এত চিৎকার করছো কেন?

কথা শেষ করার আগেই তার চোখ আটকে গেলো দরজার দিকে। শরীর যেন জমে গেলো। চোখের পলক পড়ছে না। সামনে দাঁড়িয়ে অরু।
—আপু!

পরের মুহূর্তেই সবকিছু ঝাপসা হয়ে গেলো। তরু দৌড়ে গিয়ে জড়িয়ে ধরলো অরুকে। দুজনেই একসাথে কেঁদে উঠলো। এতদিনের জমে থাকা কষ্ট, অভিমান, না বলা কথা,সবকিছু যেন সেই আলিঙ্গনের ভেতরেই গলে গেলো।

—আপু, তু-তুমি?
—চুপ কর, আগে জড়িয়ে ধরতে দে

চলবে…….

(৩k রিয়েক্ট হলে নেক্সট পার্ট আসবে, জমজমাট ভাবে🤪😎)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply