ক্যাপ্টেনভিহানআরভিদ
লেখনীতে_সাদিয়া
পর্ব_১৫
সবাই রিয়েক্ট না করলে আগামী এক সপ্তাহেও পর্ব দিবো না। সবাই রিয়েক্ট করে যাবেন।
“আপনি সেদিন আমার কপালে চুমু দিয়েছিলেন। আর.. আআর আমায় আদুরে স্বরে ডেকেও কথা বলছিলেন ভিহান ভাই।”
দরজার কাছ পর্যন্ত চলে গিয়েছিল ভিহান। এমন সময়ই মাথা নিচু করে জড়তার সাথে কথাটা বলে ওঠল রাহা। সেই সাথে পাও থেমে গেলো ভিহানের। এমনিতে তার মেজাজ এই মুহূর্তে চটে আছে। এই স্টুপিড টা কবে বড় হবে? এ কি আদৌও তার লুকানো এই অনুভূতি বুঝতে পারবে? ভিহান থমকে দাঁড়িয়ে আছে পিঠ পিছন করে। রাহা কথাটা বলে ফেললেও এখন কেন যেন তার লজ্জা লাগছে। ছিঃ কথাটা বেশরমের মতো বলার কি ছিলো? লজ্জায় মাথা আরো নুয়ে রাখলো রাহা। অথচ এই লজ্জামাখা চেহারা দেখলো না ভিহান। ওভাবে খানিক সময় থম মেরে দাঁড়িয়ে ঘাড়টা খানিক ঘুরালো রাহার দিকে। কিঞ্চিৎ ক্ষিপ্ত গলাতেই বলল,
“তুই স্টুপিড এখনো ছোটই আছিস। তোর মতো বাচ্চা একটা মেয়েকে অসুস্থ সময় একটা চুমু দেওয়া খুব দোষের কিছু নয় ইডিয়েট। এর বেশি কারণ খুঁজা তোর মতো গাধার দ্বারা সম্ভব নয়।”
এরপর হনহন করে বের হয়ে গেলো। দরজার বাহিরে গুরুগম্ভীর মোটা গলায় বলেও গেলো, “মনে রাখিস সময় দুই মিনিট।”
রাহা তব্দার মতো দাঁড়িয়ে আছে অসাড় ভঙ্গিতে। বিস্ময়ে রেশ এত যে চোখের পাতাও নড়ছে না। পাথরের মতো দাঁড়িয়ে থেকে ভাবতে লাগল কেবল ভিহান ভাই এর বলা কথা। লোকটা কি বলে গেল এর কারণ বের করতে পারল না। মস্তিষ্ক কিছুক্ষণ উল্টেপাল্টে কারণ হদিস করতে লাগল। পরমুহূর্তে নিজে নিজেই এক পর্যায়ে উপনীত হয়ে কেঁপে ওঠল।
“সত্যি তো ভিহান ভাই আমার চাচাতো ভাই লাগে। উনাকে নিয়ে আমি আজেবাজে কথা কি করে ভাবি? ছিঃ ছিঃ ওমন এক গণ্ডার শেষে কিনা আমার মনে…. না না এ হতে পারে না রাহা। কিছুতেই হতে পারে না। রাহা তুই ছোট্ট একটা কিউট পরী আর ওই খাডাস লোকটা একটা গণ্ডার। তুই শুধুশুধু এসব নিয়ে পেরেশানি হচ্ছিস। কুল বেবি কুল। উনি সত্যিই তুই অসুস্থ ছিলি বলে সামান্য একটা চুমু খেয়েছে। এর বেশি কিছু না। তাই না? তাই তো? হ্যাঁ তাই। তুই শান্ত থাক। শান্ত…”
অবুঝ রাহা নিজের এই সামান্য অস্বস্তি সহ্য করতে না পেরে নিজেই নিজেকে বুঝ দিতে লাগল। নিজেকে দেওয়া তুচ্ছ এই বুঝ যদিও তাকে পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারলো না। মনের কোণায় তবুও একটা খচখচ খানিক ব্যগ্রতা দিলো তাকে। তবুও দুষ্টু চঞ্চল রাহা সেসব ঝেড়ে ফেলতে চেয়ে মাথা দুলালো।
“এই রে খাডাস লোকটা যে বলে গেলো দুই মিনিট। খাইছে রে। রাহা ওই রাক্ষস তোকেই না চিবিয়ে খেয়ে ফেলে।”
দরজার সামনে রাহা দাঁড়িয়ে আছে। ভিহান ভাই এর রুমের দরজা খুলা। পর্দার ফাঁকে মাথাটা ঢুকিয়ে আগে উঁকি দিলো। ওই তো রগচটা লোকটা বসে। তার কিছু বলার আগে ঘাড় না বাঁকিয়ে বলল সে,
“ভেতরে আয় ইডিয়েট।”
আচমকা কথাটায় একটু চমকায়ই রাহা। আশ্চর্যও হয়। লোকটা তার দিকে তাকালো না সে কোনো শব্দও করলো না অথচ ধুরন্ধর লোকটা কি করে বুঝে নিল সে এসেছে? সেকেন্ড কয়েক ওভাবে দাঁড়িয়েই ভাবতে বসল রাহা।
এদিকে আবার ধমকে উঠল ভিহান, “রাহা” বলে। নিজের নাম শুনেই আত্মা কেঁপে উঠার উপায় রাহার। সে দ্রুত করে ভেতরে ঢুকে বলল,
“উপস্থিত।”
ভিহান কুঁচকানো চোখমুখ নিয়ে এবার ফিরে তাকালো ওর দিকে। বিড়বিড় করে বলল, “ইডিয়েট”
ওমনি রাহার গাল দুটি ফুলে ওঠল। অভিমানী কন্ঠে নাক উঁচু করে বলল, “এভাবে বকার জন্যে আপনার রুমে এনেছেন ভিহান ভাই?”
রাহার আদুরে রঙ্গিম গাল দুটি দেখে হঠাৎ ভিহানের হৃদয় ছলকে ওঠল। ওর শক্ত কঠিম সংযমও যেন উত্তপ্ত হয়ে ওঠল। অজানা এক ইচ্ছা অন্তরটা কে উথলে দিলো। ভেতরের এই অশান্ত ঝড় সামলে উঠতে না পেরে হাত মুষ্টিবদ্ধ করে নিলো। চোয়াল দৃঢ় করে তড়িগতিতে ধমকে ওঠল সঙ্গেসঙ্গে,
“খবরদার স্টুপিড, গাল ফুলাবি না। তোকে ওয়ার্ন দিয়েছিলাম না তোর ওই ফুলকো ফেস নিয়ে আমার সামনে আসবি না?”
রাহার কপাল কুঁচকে এলো। মাথা নুয়ে মিনমিন গলায় বলল, “আমার ফেস ফুলকো হলে আমি কি করতে পারি? আর আমি তো ইচ্ছা করে আসিনি আপনার কাছে আপনিই তো ডেকেছেন ভিহান ভাই।”
ঘাড় বাঁকিয়ে ভিহান বিড়বিড় করে বলল, “আহ্লাদের খনি একটা।”
চোখ মুখ কুঁচকে জানতে চাইল রাহা, “কিছু বলছেন?”
তার জবাব দিলো না ভিহান। বরং চড়া গলায় বলল এবার, “কান ধর।”
আকস্মিক এমন কথায় হকচকিয়ে গেলো মেয়েটা। বিস্ময় হতভম্ব নজরে তাকালো ভিহান ভাই এর দিকে। কি এমন করলো যে কান ধরতে হবে তার।
“কান ধরবো?”
রাহার কন্ঠে জানতে চাওয়ার আগ্রহ। চোখ দুটি উত্তরের খুঁজে সরু।
“হ্যাঁ”
সরল স্বীকারোক্তি ভিহানের। যেন খুব স্বাভাবিক একটা কথা বলেছে সে।
“আমি কান ধরতে যাবো কেন ভিহান ভাই?”
“এই যে মুখেমুখে তর্ক করছিস আর আসতে বলার পরও আসিস নি তাই।”
অবাক হলো রাহা। এই লোকটা কতটা খাডাস হলে এই সামান্য কারণেও তাকে কান ধরতে বলে? কোনো কিছু হতে না হতেই তাকে শুধু কান ধরিয়ে রাখতে কি মজা পায় এই লোক? ধরবে না রাহা। নিজেকে শক্ত করে তাই জেদি স্বরে বলল,
“চলে যাচ্ছি আমি আপনার এখান থেকে।”
বলে পা বাড়াতেই গর্জে ওঠল ভিহান, “এক পা বাড়িয়ে দেখ শুধু তোর পা যদি ভেঙ্গে আমি হাতে না ধরিয়ে দিয়েছি তবে আমার নাম ভিহান আরভিদ খান না।”
এই শীতে হুমকি সেকেন্ডের মাঝে পা থামিয়ে দিলো রাহার। অসাড় শরীর নিয়ে আর পা না বাড়িয়ে ঠাই দাঁড়িয়ে রইল। গলাটা শুকিয়ে এলো রাহার।
গটগট পায়ের আওয়াজ তুলে ভিহান এগিয়ে গেলো। শক্ত ধারালো নজরে ওকে বিদ্ধ করে বলল,
“সাহস বেড়েছে না? তোর ওই সাহস গুঁড়িয়ে দিতে কিন্তু আমার এক বিন্দু সময়ও লাগবে না।”
রাহার শরীর বরফ হয়ে এলো। লাল ওই আগুন চোখ গুলির দিকে তাকিয়ে আর ঢোক গিলার সাহস হলো না। ভিহান ভাই কে ক্ষেপে যেতে দেখে হাসার চেষ্টা করলো। আধো স্বরে বলল, “আপনি রেগে যাচ্ছেন কেন? আমি তো মজা করছিলাম। এত রসকষহীন যে মজাও বুঝেন নাআআআ..”
বলতে বলতে থেমে গেলো রাহা। সঙ্গেসঙ্গে জিহ্ব কাটলো।
“এই রে, বেশি বলেছি নাকি? পাম দিতে গিয়ে কি বেলুনই ফুটিয়ে ফেললাম?”
ভিহান তখনো শানিত ক্রুদ্ধ নজরে তাকিয়ে আছে। দাঁতে দাঁত পিষে এক পা বাড়িয়ে দিয়ে বলল, “কি বললি আমি রসকষহীন?”
আচমকা ভিহান ভাই এগিয়ে আসাতে রাহা দুই কদম পিছিয়ে যাওয়ার জন্যে পা বাড়াতে গিয়ে পড়েই যাচ্ছিলো ওমনি ওর কব্জি ধরে নিলো ভিহান ভাই। গভীর নয়নে ওর মুখে নজর বলিয়ে হিসহিস করে বলল, “একবার আমার মাঝে ডুব দিয়েই দেখ। সাতার কেটেও কুল পাবি না।”
রাহা কিছু বুঝে উঠার আগেই ভিহান ধীর লয়ে ওর হাত ছেড়ে দিলো। ওমনি ধপাস করে মেয়েটা ফ্লোরে পড়ে গেলো। বেশি ব্যথা না পেলেও কোমরে হাত চেঁপে এমন ভান করলো যেন ভেঙ্গে গুঁড়ো হয়ে গিয়েছে।
“ও মাগো। ও বাবাগো আমার কোমরটা ভেঙ্গে ফেললেন আপনি ভিহান ভাই।”
বেশ শান্ত মুখে ভিহান সেটা পরোক্ষ করলো। স্থির স্বরে বলল, “অভিনয় রেখে ওঠে পড় ড্রামাবাজ।”
“আমি অভিনয় করছি?”
“অবিয়েসলি।”
“এটা আপনার অভিনয় মনে হয়?”
“ওকে। কোলে আয় একটা আছাড় মেরে সত্যি সত্যি তোর কোমরটা ভেঙ্গে দেই। তখন বেশি করে ন্যাকা কান্না কাঁদিস।”
এই বলে ভিহান ভাই সত্যিই ওর দিকে দুই হাত বাড়িয়ে দিলো। যেন এখুনি ওকে কোলে তুলে আছাড় মারবে। এই দেখে রাহা মনে মনে বলে উঠল, “খাইছে। জাঁদরেল টা সত্যিই মনে হয় আছাড় মারবে রে।”
ধড়ফড় করে রাহা ওঠে বসল। হাত ঝাড়তে ঝাড়তে বলল, “আমার কোমর ভালো হয়ে গিয়েছে।” ভুবন ভুলানো একটা হাসি হাসল আহ্লাদী টা। সেটা নীরবে বড্ড তৃপ্তি নিয়ে দেখল ভিহান।
“এবার আগে কান ধর।”
মুখটা করুণ করে বলল রাহা, “এবারের মতো মাফ করে দিন?”
ভিহান একটু এগিয়ে এলো। নরম সুরে বলল, “আজ পর্যন্ত কোনো দিন মাফ করেছি তোকে?”
হঠাৎ ভিহান ভাই কে এতো কাছাকাছি দেখে আবারও বুকটা ধড়ফড় করে লাফিয়ে ওঠল রাহার। অন্তরআত্মার ঢিপঢিপ ধ্বনি কলরব শুরু করো দিলো। আচমকা নিশ্বাসটাও ঘন হয়ে আসতে চাইলো। ভিহান ভাই এর শরীর থেকে আসা মেল সুঘ্রাণ টা ইন্দ্রিয় কাজ করা বন্ধ করে দিলো। রাহা ড্যাবড্যাব নয়নে মাথা উঁচু করে তাকিয়ে রইল ভিহান ভাই এর দিকে। এই লোকটা এত লম্বা যে তাকে কথা বলতে হলে মাথা উঁচু করতে হয়। কি আশ্চর্য! এই লোকের সামনে সে বুকে পড়ে থাকা এক পিচ্চি।
ভিহান ভাই মাথাটা কিঞ্চিৎ ওর দিকে ঝুঁকিয়ে ফিসফিস সুরে বলল আবারও, “কিরে বল? করেছি কখনো?”
রাহা অপলক চোখে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সুদর্শন ছেলে টাকে দেখে যাচ্ছে। অনুভব করছে তার অশান্ত মনটা খুব বেশি লাফাচ্ছে। আলোড়িত ধ্বনিতে বুক পিঞ্জিরা টা ধকধক করে কাঁপছে। মেয়েটা কেমন জাদুর কবলে বশবর্তী হয়ে মন্ত্রমুগ্ধের মতো মাথা দুই পাশে নাড়িয়ে না বুঝালো। রাহার ওমন নির্লিপ্ত আবেগঘন চাউনি দেখে ভিহানের বুকের ভেতর হঠাৎ তীব্র একটা ধাক্কা লাগল। রাহার সেই নির্লিপ্ত অথচ গভীর চাহনিতে তার সমস্ত স্থিরতা ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। সংযম ভাঙ্গল। অজান্তেই শ্বাসটা ভারী হয়ে ওঠল তার। এই মেয়েটা তাকে অদ্ভুতভাবে নিজের দিকে টেনে নেয় সবসময়, একেবারে অসহায় করে। তার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে চুরমার করতে এই আদুরে মেয়েটা সবসময় যেন অঙ্গীকার বদ্ধ।
রাগ, বিস্ময় আর অজানা এক কোমল অনুভূতি মিলেমিশে তাকে দিশেহারা করে তুলল ভিহান কে। সবসময় ভেতরের এই দ্বিমাত্রিক অনুভূতি তে তার ভেতরে জ্বলে। প্রতিমুহূর্তে পিষ্ট হয়। অথচ সবটাই নীরবে একাকী সহ্য করে এসেছে সে বহু বছর ধরেই। উত্তপ্ত শ্বাস বের হয়ে আসল ভিহানের। চোখ সরাতে চাইলো, তবুও পারল না। ওই চাউনিতে যেন অদৃশ্য কোনো বাঁধন ছিল, অজানা এক টান ছিলো যা তাকে আটকে রাখল নিঃশব্দে।
ভেতরের জ্বালাময় এই অনুভূতির মিশ্রণ হজম করতে ভিহান চোয়াল শক্ত করে নিলো। তর্জনী আঙ্গুল দিয়ে রাহার কপালে মৃদু টুকা মেরে সরে এলো। পরপরই ধমকে বলে ওঠল, “এবার ঝটপট কানে ধর। যত দেরি করবি ততসময় বাড়বে।”
হকচকিয়ে গেলো রাহা। এক মুহূর্তে বোকা বনে গেলো সে। আচমকা ভিহান ভাই এর এমন লঘু আক্রমণ বোধহয় সরল বোকা রাহা আশা করেনি। আর এক রাশ জমানো অনুভূতি গুলি খানখান হয়ে গেলো। অভিনয়ের ভঙ্গিতে কপালে হাত চেঁপে ধরে ব্যথিত সুরে বলে উঠলল, “উফফ..” যেন ভিহান ভাই এর আঘাতে তার কপাল ফেটে গিয়েছে। ন্যাকা গলায় কিছু বলবে তার আগেই ভিহান কর্কশ স্বরে গর্জে ওঠল,
“কান ধর ইডিয়েট।”
অকস্মাৎ এমন শিউড়ে তুলা কন্ঠ আর ভিহান ভাই এর রঙ্গিম মুখ দেখে মিয়ে গেলো রাহা। নাক ঠোঁট উল্টো কাঁদোকাঁদো মুখে কান ধরতে ধরতে আধো স্বরে বলল,
“আপনি খুব পাষাণ ভিহান ভাই।”
রাহার আহ্লাদী লাল টকটকে নাকের দিকে তাকিয়ে থেকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিলো ভিহান। ঠোঁট দুটি তার নড়ছে। রাহার ওই গোলগাল আদুরে মুখটা দেখে যে বেশ উপভোগ করছে।
কান্না আটকানোর জন্যে নাক টানতে টানতে রাহা কান ধরে দাঁড়িয়ে রইল। কাজের ছলে ছলে ভিহান আড়চোখে দেখল রাহার বিরক্ত তিক্ত মুখ। এই মুহূর্তে যেন ভিহান তার জীবনের সবচেয়ে প্রশান্তির দৃশ্য উপভোগ করছে। সরল বোকা মেয়েটাকে এভাবে কান ধরিয়ে রাখা যেন তার প্রশান্তির আরেকটা কাজ। ওভাবে দুই কান ধরে দাঁড় করে থাকা রাহার আদুরে মুখ আর নাক টানা দৃশ্য যেন ভিহানের কাছে পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্যের বিষয়। প্রতি বেলা রাহার ওই তুলতুলে বিরক্তমাখা মুখটা ভিহানের বুকে প্রশান্তির ঢেউ তুলে। অবিচ্ছেদ্য এক আরাম তার শিরায় শিরায় ছড়িয়ে যায়। বোকা রাহা কে কান ধরাতে ভিহানের খুব একটা বেগ পুহাতে হয় না। অবুঝ রাহা তার রাগী চোখ মুখ দেখে তড়তড় করে কান ধরে বসে থাকে।
ভিহান ঘাড় বাঁকিয়ে ঠোঁট টিপে মুচকি হাসে। এরপর টেবিলের দিকে এগিয়ে গিয়ে একটা প্লেটে প্যাকেট থেকে কিছু বের করতে থাকে। আড়চোখে সেটা দেখে অভিমানী রাহা রাগে দাঁত কটমট করে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেয়।
আড়ালে আরেকবার হেসে ভিহান গম্ভীর কন্ঠে বলে উঠে, “এদিকে আয়।”
চোরাচোখে রাহা সেটা একপলক দেখে মুখ ফিরিয়ে নেয়। ভেংচায় নীরবে। মনেমনে বকাবকি করে। আস্তো খবিশ খচ্চর একটা লোক।
এর মাঝে ভিহান রাহা কে পরোক্ষ করে বলে ওঠল আবারও, “কিরে? তোর পছন্দের কাচ্চি এনেছি দেখতে পাচ্ছিস না? খাবি আয়।”
লোভী রাহার জিহ্ব লকলক করে ওঠল। লোলুপ দৃষ্টি দিয়ে প্লেটে সাজানো গরমগরম কাচ্চি দেখে মুখ ফিরিয়ে নেয় আবারও। খাডাস জাঁদরেল একটা। এতক্ষণ কান ধরিয়ে দাঁড় করে রেখে এখন কাচ্চি সাধে। খাবে না। তাকে কি ছোঁচা মনে করে নাকি ওই লোক?
“স্টুপিড, ডাকছি তো আমি।”
“তো কি হয়েছে?”
“ঠান্ডা হয়ে যাবে। খেয়ে নে।”
“পানি হয়ে যাক। তাতে আমার কি? আমি কি আর বলেছি আপনার কাছে কাচ্চি আনার কথা?”
“নিচে তো দুই লোকমাও খাসনি। একটু পরই খিদের জ্বালায় চুরের মতো ঘুরঘুর করবি ড্রয়িংরুমে। সাথে আবার তোর ওই ডোরা না ফোরা কে নিয়ে।”
“একদম আমার সোনাবাচ্চা টাকে আজেবাজে নামে ডাকবেন না। আর চোর কি হ্যাঁ? আপনি সবসময় আপনাকে অপমান করেন ভিহান ভাই।”
“তোর ওই টুকুন শরীরে মান টা ঠিক কোথায় রাখিস এক্সপ্লেইন কর রাহা।”
থতবত খেয়ে গেলো রাহা।
“আ..আপনি কি বলতে চা..চাইছেন?”
“এটাই যে তুই এবং তোর বডি দুটোই আমার উপযোগী হোসনি এখনো।”
একটু থেমে আবারও বলে ওঠল ভিহান, “চুপ চাপ এখানে এসে খা এটা।”
মুখ ফুলিয়ে রাহা মোটা গলায় বলল, “না খাবো না আমি।”
দায়সারা ভাবে ভিহান জবাব দিলো, “ওকে ফাইন, তুই কান ধরে দাঁড়িয়ে থাক আমি খেয়ে ফিনিস করি।”
এবার রাহার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। পাষাণ জল্লাদ টা তাকে লোভ দেখিয়ে নিজে খেয়ে ফেলবে? অসম্ভব। রাহা কান থেকে হাত সরিয়ে তড়িতে ছুটে গেলো। ভিহান ভাই এর হাত থেকে কাচ্চির প্লেট টা এক প্রকার ছিনিয়ে নিয়ে মুখ ভার করলো। কাচ্চির ঘ্রাণে অনেকক্ষণ আগেই তার পেট বকবক করছিলো। রাগের কারণে এতক্ষণ নিজেকে আটকে রেখেছিল। এবার আর সম্ভব হলো না কাচ্চি পাগল রাহার। আশপাশ না তাকিয়ে সে কাচ্চিতে হাত ডুবিয়ে দিলো। এক লোকমা মুখে দিয়ে আরাম আর তৃপ্তিতে চোখ বন্ধ করে চিবুতে লাগল। পাশে ভিহান আবেশযুক্ত চোখে মুগ্ধ হয়ে দেখে গেলো রাহার খাবারের দৃশ্য টুক। চোখে যেন নীরব ভালোবাসার ঢেউ খেলছে তার। রাহার মুখের প্রতিটা ক্ষুদ্র নড়াচড়াও তার কাছে অমূল্য মনে হচ্ছে। কি আবেশঘন চাউনিতে এক দৃষ্টে তাকিয়ে আছে রাহা।
প্রায় অর্ধেক খেয়ে রাহা এবার পাশ ফিরে তাকালো। নিজের দিকে ভিহান ভাই কে এমন গভীর চোখে তাকিয়ে থাকতে দেখে খানিক লজ্জা পেলো। নিচু গলায় হাতের লোকমা একটু বাড়িয়ে দিয়ে বলল, “আপনি খাবেন ভিহান ভাই?”
ভিহান এখনো রাহার পানে নিস্তব্ধ গভীর নয়নে তাকিয়ে ছিল। মন্ত্রমুগ্ধ নয়নে যেন ঘোরের মাঝে থেকেই রাহার হাত ধরে টু শব্দ না করেই ওর বাড়িয়ে দেওয়া লোকমাটা মুখে তুলে নেয়। আস্তেধীরে মুখ নাড়ায় রাহার পানে তাকিয়েই।
আচমকা ভিহান ভাই এর এমন কাজ রাহা মুটেও আশা করেনি। ভিহান ভাই এর হাতের স্পর্শ, আঙ্গুলে উনার শীতল ওষ্ঠের ছোঁয় সর্বাঙ্গ কাঁপিয়ে দিলো রাহার। অন্তরটা এখনো যেন থরথর করে কাঁপছে। মনে হচ্ছে রগে রগে বুঝি এখনো তড়িৎ বইছে। থমকে যাওয়া দৃষ্টিতে ঘন নিশ্বাস নিতে নিতে তাকিয়ে থাকল রাহা।
ভিহান মুখের খাবারটুক শেষ করে বলল, “মজা।”
রাহার ভেতরটা এখনো উচাটনে মেতে আছে। ধুরু ধুরু করে লাফাচ্ছে হৃদপিন্ডটা। কি জ্বালা!
ভিহান মোহাচ্ছন্ন কন্ঠে নরম সুরে বলল, “তোর হাতে বড্ড টেস্ট আছে রাহা।”
রাহা পাথরের মতো জমে গেলো। গলায় তার খাবার আটকে গেলো। মনে হচ্ছে এই বুঝি তার বুকের ভেতর থাকা হৃদযন্ত্রটা ফেটে যাবে। হাতটা অসাড় হয়ে গেলো। দৃষ্টিটাও থমকে গেলো। রাহার এমন পাথুরে ভাব আর ভারী নিশ্বাস দেখে ভিহান মুচকি হাসে। আর কোনো কথা না বলেই বের হয়ে যায় নিজ ঘর থেকে।
চলমান…
Share On:
TAGS: ক্যাপ্টেন ভিহান আরভিদ, সাদিয়া
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রণয়ের ব্যাকুলতা পর্ব ৩৪
-
প্রণয়ের ব্যাকুলতা পর্ব ২১
-
প্রণয়ের ব্যাকুলতা পর্ব ৯
-
প্রণয়ের ব্যাকুলতা পর্ব ২৫
-
প্রণয়ের ব্যাকুলতা পর্ব ৩৭
-
প্রণয়ের ব্যাকুলতা পর্ব ৭
-
ক্যাপ্টেন ভিহান আরভিদ পর্ব ১৩
-
ক্যাপ্টেন ভিহান আরভিদ পর্ব ১০
-
ক্যাপ্টেন ভিহান আরভিদ পর্ব ৯
-
ক্যাপ্টেন ভিহান আরভিদ পর্ব ১৮