অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ সিজন ২ পর্ব ১৫
অবন্তিকা_তৃপ্তি
(রোমান্টিক)
শোয়েব এবার আলগোছে তিতলির মাথার ভেজা চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে ওর টাওয়াল এ হাত রাখতেই; তিতলি আচমকা বলে উঠে,
—- ‘আপনি. . প্লিজ. . আমি, আমি রেডি না. .আসলে….’
শোয়েব সবেই ঝুঁকে মাথাটা নামিয়ে এনেছিল তিতলির গলার ভাজে। তিতলির এমন চোখ-মুখ খিঁচে পাথরের মতো শক্ত হয়ে এ কথা বলার পর শোয়েব অবাক হয়ে মাথাটা তুলে তিতলির দিকে তাকাল। ভ্রু কুচকালো,
—‘রেডি. .রেডি না মানে?’
তিতলির ভয়ে কপালে ঘাম জমে গেছে ততক্ষণে। দুহাতে টাওয়ালটা বুকের সাথে চেপে ধরে হাপড়ের মতো শ্বাস ফেলে বলল——‘আমার ভয় করছে ভীষন। এগুলো. . আমি. .প্লিজ আজ না। আজকে না এসব, আই বেগ ইউ, প্লিইজ বুঝেন।’
‘বেগ ইউ?’ —— শোয়েব থমথমে চোখে তিতলির মুখটার দিকে তাকিয়ে থাকে।
শোয়েবের এভাবে তাকানো দেখে তিতলি বুঝে ফেলে ও কতবড় ব্লান্ডার করে ফেলেছে। তিতলির সাথেসাথেই শোয়েবের চোখের দিকে তাকায় বলতে গেল,
—-‘আমি এটা মিন করতে চাইনি আসলে। আমার নার্ভাসনেস. .রাগ করবেন না প্লিজ।’
শোয়েব উত্তর দিল না। চুপ করে তিতলির ঘামে ভেজা মুখটার দিকে চেয়ে উঠে এলো তিতলির উপর থেকে। তারপর. .শোয়েব মুনতাসীর আর একটা কথাও বলল না। জানতেও চাইল না একবারের জন্যে— তিতলির কেন ওর সতিত্ব শোয়েবের থেকে ভিক্ষা চাইল। শোয়েবকে কেন কাপুরুষের মতো ট্রিট করল? কেন তিতলি শোয়েবের আদর-ভালোবাসাকে কেবলই কামনা ভাবল, কিছু জিজ্ঞেস করলো না শোয়েব। শুধু চুপচাপ টাওয়াল নিয়ে বাথরুমে ঢুকে শব্দ করে দরজাটা আটকে ফেলল। একটাবার ফিরেও তাকাল না তিতলির দিকে।
তিতলি বুঝে— বেচারি কতবড় ভুল করে ফেলেছে। কিন্তু তখন তো বড্ড দেরি হয়ে গেছে। তিতলি হা করে একটা শ্বাস ফেলল, এরপর আস্তে করে উঠে বসলো বিছানাতে। টাওয়ালটার দিকে একবার তাকাল ফিরে। টাওয়ালটা থেকে নাকে একটা সুন্দর ম্যানলি পারফিউমের গন্ধ আসছে। তিতলি চোখ বুজে ঘ্রাণটা টেনে নিলো নিজের মধ্যে, গভীরে! পরপর আবার তাকাল বাথরুমের দরজাটার দিকে।
তিতলির প্রচণ্ড খারাপ লাগছে। মুখ ফসকে শোয়েবকে এমন একটা কথা বলা উচিত্ই হয়নি ওর। শোয়েব যথেষ্ট আত্মসম্মান; ওজন নিয়ে চলা নিপাট ভদ্রপুরুষ। তিতলির ওভাবে বলতে হার্ট হবে স্বাভাবিক। তিতলির উচিত শোয়েবের থেকে ক্ষমা চাওয়া। চাইলে কি দিবে ক্ষমা?
তিতলিরই বা কি করার ছিলো। ওর নার্ভাস লাগছিল ভীষণ। ভয় হচ্ছিল কেন যেন। কেন করছিলো তিতলির নিজেও জানেনা। শোয়েবকে ও মোটেও আটকাতে চায়নি; অন্তত আজকে তো না। কিন্তু তখন কেমন একটা. .
দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিতলি উঠে এসে টাওয়াল পাল্টে একটা শাড়ি পড়ে নিলো। কালো রঙের ফিনফিনে শাড়িটা, শালীন কোমরঢেকে রাখা ফুল হাতা ডার্ক রেড ব্লাউজ দিয়ে পড়ে আয়নাআর সামনে এসে দাঁড়াল। চুল হেয়ার ড্রায়ার দিয়ে শুকতে শুকাতে আরো একবার বাথরুমের দিকে তাকাল। পরপর খারাপ লাগাটাও তীব্র হলো আবারও।
নিজেকে নিজের থাপ্পড় দিতে ইচ্ছে করছে। কি দরকার ছিলো ওভাবে বলার? শোয়েবকে ভালোভাবে বুঝিয়ে বললেই ও বুঝত। তারপরও এমন একটা শব্দ উচ্চারণ করার কি জরুরি ছিলো। কি ফালতু একটা কথা তিতলি বলে ফেলেছে: শোয়েব এখন ওকে আস্ত চিবিয়ে না খেলেই হয়।
তিতলি হেয়ার ড্রায়ার টা রেখে, শাড়ির আঁচল ঠিক করে বাথরুমের দিকে এগুলো। হ্যাজিটেশন করে আস্তে করে একটা টোকা দিল দরজাতে,
‘শুনছেন? আপনার কি দেরি হবে?’
ওপাশ থেকে উত্তর দিল না কেউ। তিতলি ফুস করে একটা শ্বাস ফেলে আবার টোকা দিতে যাবে; তার আগেই বাথরুমের দরজাটা আচমকা খুলে ফেলল শোয়েব। তিতলি হঠাৎ এমন করাতে ভয় পেয়ে দু কদম পিছিয়ে গেলো, বুকে ফু দিয়ে শোয়েবের দিকে চেয়ে বললো -—-‘আল্লাহ, এভাবে কেউ দরজা খুলে? ভয় পেয়েছি আমি।’
শোয়েব শুধু থমথমে চোখে তিতলিকে দেখে তারপর চুপ করে বেরিয়ে এলি বাথরুম থেকে। খালি গায়ে স্রেফ টাওয়াল কোমরে প্যাচানো। ওভাবেই আয়নার সামনে এসে দাড়িয়ে ম্যান ফেসক্রিম দিচ্ছিল। তিতলি উসখুস করতে করতে শোয়েবের পেছনটায় দাঁড়াল। মিনমিন স্বরে বললও—-‘স. . সরি।’
শোয়েব আয়নাতেই তিতলির মুখটার দিকে তাকাল। তিতলিও তাকাল তখন, আবারও বলল——-‘সরি শোয়েব।’
শোয়েবের নাম ধরে ডাকল ইচ্ছে করেই। কিন্তু শোয়েব তাতেও গলে না। ভ্রু কুচকে তিতলিকে দেখে বিছানা থেকে কালো শার্ট: সাদা প্যান্ট পরে নিলো।তিতলি রুমের একটা কর্ণারে চুপ করে দাড়িয়ে রইলো পুরোটসময়। শোয়েব শার্ট-প্যান্ট পড়া শেষ হলে তিতলি আবারও এসে দাঁড়াল ওর পেছনে। দোনামোনা করতে করতে শোয়েবের হাতটা ধরার চেষ্টা করল——-‘এই. .রাগ করবেন না। সরি তো আমি।’
শোয়েবের হাতটা তিতলি তখন ধরে রেখেছে নিজের হাতে। শোয়েব কিছু বললনা, শুধু ওর থেকে আলগোছে হাতটা ছাড়িয়ে নিলো, বলল গম্ভীর স্বরে——‘টাওয়াল মেলে দিয়ে আসি।’
বলেই বারান্দাতে চলে গেল। তিতলি দীর্ঘশ্বাস ফেলে। শোয়েব ভালোই রাগ করেছে। ভাঙবে কি করে এখন এই রাগ!
দেখা গেল সারাদিন ঘুরাফেরা করেও শোয়েব জরুরি ছাড়া তিতলির সাথে তেমন একটা কথাবার্তা বলল না। বেচারি তিতলির এখন শুধু কান্না করে পায়ে ধরার পালা বাকি রেখেছে। কিন্তু তিতলি কোনদিন সেটা করবে না। অন্য উপায় করতে হবে হয়তো। আর কিবা করার আছে। মানুষটার পুরুষত্বে আঘাত করেছে তিতলি। এত সহজে মাফ তো মিলবে না।
ফারদিনরা কটেজের স্টাফকে বলে বারবিকিউ আয়োজন করেছে। ফারদিন দূরে বারবিকিউর আগুনের সামনে দাড়িয়ে মাংস পোড়াচ্ছে; পাশেই তাহমিনা ফারদিনের মুখের উপর বাতাস করছে; আর দুজন গল্প করছে। ওপাশে বসে আছে শোয়েব আর ওর পাশে তিতলি।
শোয়েব বসে আছে হুতুম পেঁচার মতো, আর তিতলি ওর পাশটায় কাঁদো-কাঁদো মুখে বসে ওকে মানানোর জন্যে নিজেকে আবারও তৈরি করছে। কিন্তু যতবার শোয়েবের সাথে কথা বলতে চাইছে: শোয়েব মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বারবার।
একসময় সাহস নিয়ে তিতলি ডাকল,
‘আমি সরি। প্লিজ রাগ করে থাকবেন না। আসলে আমার তখন. . আমি!’
শোয়েব তিতলির থেকে হাতটা ছাড়িয়ে নিলো আলগোছে। গম্ভীর স্বরে সামনে তাকিয়ে বার্বিকিউ হওয়ায় দেখতে দেখতে জবাব দিল,
‘এক্সপ্লেইন করার দরকার নেই। আমি বুঝেছি।’
‘না, আপনি বুঝেননি। রেগে আছেন আমি জানি, রেগেই আছেন আপনি।’
তিতলি আবার শোয়েবের হাতটা ধরতে চাইলে; শোয়েব সাথেসাথে সরিয়ে ফেলল। তিতলি তাকায় আহত চোখে, ওর দিকে। শোয়েব নিষ্প্রাণ কণ্ঠে বলল,
‘আমার রাগ আসেনা সহজে।’
বলেই অন্য জায়গায় চলে গেল। তিতলিকে রেখে গেল পেছনে। তিতলির চোখ টলমলিয়ে উঠে। দূর থেকেই তাহমিনা দেখতে পেল এসব। এদের দুজনের মধ্যে যে টুকটাক মান-অভিমান চলছে তাহমিনা বুঝতে পারল। ও ফারদিনের কাছে শোয়েবকে রেখে এগিয়ে এলো তিতলির দিকে।
তিতলির পাশটাতে বসল; অথচ তখনও তিতলি টলমল চোখে শোয়েবের দিকেই চেয়ে আছে। শোয়েবও আড়চোখে ওর দিকে চেয়েই পরপর চোখ ফিরিয়ে নিচ্ছিল।
তাহমিনা অল্প হাসে; শাড়িটা সামলে বসে তিতলির দিকে তাকিয়ে বলে উঠে——‘কি ব্যাপার? রাগ নাকি দুজন?’
তিতলি পাশ ফিরে তাকাল। পরপর অপ্রস্তুত হয়ে বলল——-‘হু? না না; তেমন কিছু নয়।’
‘হু দেখতেই পাচ্ছি এটা তেমন কিছু না হলে কেমন কিছু। যদি এমন তেমন কিছু না কে ঠিক করতে চাও: তাহলে আমার কাছে টিপস আছে। চাও কিনা বলো আগে।’
তিতলির তাহমিনার দিকে তাকায় উৎফুল্ল হয়ে——‘কি টিপস?’
তাহমিনা সাথেসাথে ভ্রু বাঁকায়——‘তাহলে সত্য এটা তেমনি কিছু? ভুল ধরিনি আমি।’
তিতলি জবাবে বলে—-‘আপনি কি করে বুঝলেন?’
তাহমিনা চেয়ারে হেলান দিয়ে বাবু হয়ে বসে ভাব নিয়ে বলল,
‘আমার থার্ড আই দিয়ে। জোকস এ পার্ট। শোয়েবকে দেখেই বুঝেছি। এখানে আসার আগে তোমার চোখে একটা লজ্জা-লজ্জা ভাব দেখেছিলাম , রাস্তাতেও দেখেছি। এখন যেটা দেখতে পাচ্ছি সেটা হচ্ছে তোমার চোখে পানি। শোয়েবও অস্থিরতা দেখাচ্ছে। বারবিকিউ করবে বলে দুই বন্ধু কত প্ল্যান করল, বিভিন্ন এক্টিভিটিজ রেখেছিল একসাথে করবে বলে— এখন ওকে দেখো। একপাশে গোমড়া মুখে বসে থাকছে নাহলে দাড়িয়ে থাকছে। ফারদিনের সাথেও তেমন কথা বলছে না। ফারদিন তো বলেছে আমাকে, শোয়েবের কি হয়েছে তোমার থেকে জানতে। এক বন্ধুর টেনশনে আরেক বন্ধু পাগল হয়ে গেছে।’
তাহমিনা কথাটা বলতে বলতে হেসে ফেলে। তিতলিও অল্প হাসে। পরপর তিতলি মনমরা হয়ে বলল,
—-‘ব্যাডা মানুষদের রাগ এত ভয়ানক কেন আপু? উনাকে মানানোর কোনো চেষ্টাই বাকি রাখিনি, তাও যেই লাউ সেই কদুই।’
তাহমিনা আস্তে করে বলল———‘তাহলে কাটা দিয়েই কাটা কেন তুলছ না?’
‘মানে?’
‘মানে হচ্ছে যে কারণে রাগটা করেছে সেই কারণটাই শেষ করে দাও।’
‘যেমন?’
তিতলি বুঝে না কিছুই। তহমিনাও বোঝাল,
‘এই ধরো ও তোমাকে আপনি থেকে তুমি বলার জন্যে ফোর্স করছে। তুমি বলছো না, ও রাগ করেছে। এখন তোমার কাজ হচ্ছে ওকে ঘটা করে আপনি না বলে তুমি করে বলা শুরু করে সারপ্রাইজ দিবে। আবার ধর ও তোমাকে কিস করতে বলছে, তুমি মানা করায় রাগ করেছে। তোমার এখন প্রথম কাজ হচ্ছে ওকে একা ঘরে হুট করে চুমু খেয়ে ওকে চমকে দেওয়া।’
তিতলি ওদিকে তাহমিনার এসব শুনে লজ্জাতেই শেষ। মুখটা ফিরিয়ে নিয়ে লজ্জায় কাটা হয়ে বলল,
‘এই রাগ কাটা দিয়ে আমি কোনদিনই তুলতে পারব না। লজ্জায় শেষ হয়ে যাব আপু।’
‘ধুর বোকা। হাজবেন্ডের সামনে আবার কিসের লজ্জা? একসময় এই শোয়েবই তোমার পরনের; তোমার শরীরের চাদর হবে। তখন লজ্জা পাবে না, বরং ভালো লাগবে।’
‘তাও. . আমি নিজে থেকে. .ইস. না না।’
তিতলি ভাববার আগেই তওবা করে ফেলে। তাহমিনা হাসে, বলল,
‘আরে চিল। আমি তো শুধু তোমাকে উপায় বলে দিয়েছি; বাকিটা তুমি করবে কি করবে না আপটু ইউ। এখন আমি আসি। ফারদিন একা কাজ করছে। তোমার স্বামী তো হুতুম পেচার মতো পাশে দাড়িয়ে আছে শুধু।’
তাহমিনা চলে গেল। তিতলি খাবার টেবিলেও শোয়েবকে চোখের ইশারায় মানানোর চেষ্টা করল, পারল না তেমন।
কটেজ থেকে বার্বিকিউ পার্টি বেশ দূরে হওয়ায় আসার সময় টুমিম বৃষ্টিতে শোয়েব-তিতলি একটা ছাউনির নিচে দাঁড়ালো। তিতলি বৃষ্টি দেখছিল, পাশে থাকা শোয়েবকে বলল—-
‘এই আসুন না. .একসাথে ভিজতে ভিজতে যাই? ছাউনিতে কেন দাড়ালাম আমরা। কি বোরিং।’
শোয়েব ওর ফোনটা চেক করছে পানি লেগেছে কিনা, ওভাবেই বলল, ——‘মোটেও না। ঠান্ডা লাগবে তোমার।’
‘লাগবে না ঠান্ডা। আসেন না, যাই।’
‘তিতলি, না বলেছি না আমি?’
শোয়েবের এমন কঠিন স্বরে বলা কথাতেই তিতলির মুখটা বেজার হয়ে গেল। ও রাগী চোখে তাকাল শোয়েবের দিকে। শোয়েব তখন মহা ব্যস্ত। ও ফোনটার সাউন্ড স্পিকার পরিষ্কার করেছে, পানি ঢুকেছে অল্প ওদিকে।
‘আপনি না গেলে নাই, আমি একাই যাব। যাবই যাব।’
বলেই তিতলি শোয়েবকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বেরিয়ে এলি ছাউনি থেকে। শোয়েব তো ওদিকে হতবম্ব; দ্রুত ডাকল,
‘ঠান্ডা লাগবে তিতলি। ভেতরে আসো দ্রুত।এই তিতলি. . !’
‘না। আসা যাবে না এখন। ভিজব আমি।’
তিতলি বৃষ্টিতে ভিজে হাত নাড়তে নাড়তে শোয়েবকে হাই দিল দূর থেকে। শোয়েব ভ্রু কুচকে দেখল সেটা। দাঁত কিরমির করে বললো
‘ঠান্ডাটা শুধু লাগাও, তারপর খবর আছে তোমার।’
‘ইস; রাখেন তো জ্ঞানের কথা। পানি ভীষন ঠান্ডা এই বৃষ্টির। কেন?’
তিতলি রাস্তার পাশটায় দুহাত মেলে বৃষ্টির পানি গায়ে মাখায়।
শোয়েবের চোখ একসময় নরম হয়ে আসে। ও ওভাবেই তিতলির বৃষ্টিতে ভেজা দেখতে দেখতে জবাবটা দিল,
‘পাহাড়ি বৃষ্টি। তাই ঠান্ডা।’
তিতলি শুনলো কি না জানে না শোয়েব। কিন্তু শোয়েবের নেশা ধরে আসে তিতলিকে ওভাবে ভিজতে দেখে। ইচ্ছে করছে তিতলির পাশটায় গিয়ে দাঁড়াতে।
তিতলির ফিনফিনে কালো রঙের শাড়িটা তুমুল, এলোমেলো বৃষ্টিতে ভিজে একাকার! তিতলি ঘুরে ঘুরে পাকা রাস্তাতে নেচে নেচে হাত মেলে গায়ে-শরীরে বৃষ্টির পানি মাখামখি করছিল। দূর থেকে ছাউনির নিচে থাকা শোয়েব তখন একদৃষ্টিতে তিতলির দিকে চেয়ে আছে। শোয়েবের চুল অল্প ভিজে কপালে লেপটে আছে। ও বুকে হাত ভাঁজ করে হেলান দিয়ে দেখে যাচ্ছে তিতলির ভিজতে থাকা।
তিতলি একবার পেছন ফিরে; ডাকে,
—‘এই যে বর. বৃষ্টিবিলাস করবেন না? আসুন আসুন। একসাথে ভিজি। আসুন না রে বাবা।’
শোয়েব তখনো চেয়ে আছে। হয়তো সম্মোহনই হয়েছে বেচারা, তুমুল সম্মোহন। তিতলি ওকে ওভাবেই দাড়িয়ে থাকতে দেখে দৌড়ে ভিজতে ভিজতে এলো। এসে শোয়েবের হাতটা টেনে টেনে নিয়ে গেল রাস্তার ওদিকে, সাথে চোখ-মুখ পানিতে খিচে বলছে,
—‘বুদ্ধু একটা। একটু ভিজলে কি হয়? হু? আজ আমরা সারারাত ভিজব। শুনেছেন? ইস, ঝড়ও আসবে মনে হচ্ছে।’
শোয়েব এগুচ্ছে। ওর দৃষ্টি তিতলির ভেজা এলোমেলো কার্ভ চুলের দিকে। শোয়েবের হাত ছেড়ে দিল তিতলি। আবারও শোয়েবকে পাশে রেখে বৃষ্টি গায়ে মাখতে থাকে।
শোয়েব পাশে দাড়িয়ে একমাত্র তিতলির দিকেই তাকিয়ে থাকে পুরোতাসময়। একসময় বড্ড অসহায়, গো বেচারার মতো শোয়েবের অবস্থা লেজে-গোবরে হয়ে গেল।
সমস্ত রাগ চলে গেল, সমস্ত কিছু পানির সাথে ধুয়েমুছে যেতেই শোয়েব হাত বাড়িয়ে তিতলিকে কোমর পেচিয়ে ধরে ওকে ছিটকে এনে ফেলল নিজের বুকের উপর।দেহের-সাথে দেহের ঘর্ষণে তিতলি চোখ তুলে বড়বড় চোখে তাকায় শোয়েবের দিকে।
শোয়েব তিতলির ভেজা পাপড়িতে ঢাকা চোখের দিকে চেয়ে থাকে অপলক। তিতলিও তাকিয়ে থাকে একইভাবে। দুজনের চোখে চোখে কি যে কথা হয়। দুজন অনেকটাক্ষণ আর আশপাশ জানতেই পারেনি।
তিতলির ঠোঁট বেয়ে পানি পড়তেই তিতলি সেটা দুই ঠোঁটের ভাজে পিষে ফেলছে। এই এক দৃশ্য দেখামাত্রই শোয়েবের তৃষ্ণায় বুকটা খাঁ খাঁ করে উঠল রীতিমত।
শোয়েব আলগোছে তিতলির ভেজা চুল কানের পেছনে গুঁজে দিয়ে কানের পাশটায় হাত গলিয়ে ধরল। তিতলিও শোয়েবের শার্টের অংশ মুঠোতে চেপে শোয়েবের চোখের দিকে চেয়ে আবার ওর পুরুষালি ঠোঁটের দিকে তাকায় একবার।
শোয়েব আলগোছে মুখ এগোয়। তিতলি ওকে এগুতে দেখেই সাথেসাথেই চোখ খিছে বন্ধ করও শার্ট খামচে ধরে রাখে আঙুলের ফাকে। ঠোঁটে চুমুটা খাবে, সাথেসাথেই শোয়েবের মাথায় ধাক্কা খেলো দুপুরের কথাটা,
‘আই বেগ ইউ: শোয়েব।’
শোয়েবের কি হলো কে জানে। সাথেসাথেই ও তিতলিকে ছেড়ে দিল। তিতলি শোয়েবের ওভাবে সরে যাওয়াতে চোখ খুলে অবাক হয়ে শোয়েবের দিকে তাকাল,
—-‘কি. .কি হলো?’
শোয়েব লম্বা একটা শ্বাস ফেলে,
—‘কিছুনা। কটেজে চলো। দেরি হচ্ছে।’
বলেই শোয়েব আগে আগে হাঁটতে থাকে, আর পেছন ফিরে তিতলিকে দেখেনা। তিতলি দাড়িয়ে থাকে। পরপর ওর মাথাতে কিরমির করে উঠে রাগের পারদ। কারণ তিতলি জানে— শোয়েব কেন এতটা কাছে এসে ওকে ছেড়ে দিয়েছে। আর সেটাই ওর মেজাজ ছাপ্পান্ন করে দিয়েছে। কতবড় সাহস এই লোকের! তিতলিকে রিজেক্ট করে?
তিতলি সাথেসাথে বড়বড় পা ফেলে শোয়েবের দিকে এগুলো। মুহূর্তের শোয়েবের পেছনে এসে দাড়িয়ে ওর পিঠে হাত দিয়ে টোকা দিল। শোয়েব ডাকতে দেখে পেছন ফিরে তাকাল।
সাথেসাথেই তিতলি এক দৌড়ে এসে ঝাপটে এসে পা উঁচিয়ে শোয়েবের গলা পেঁচিয়ে ধরে ওর অধরে অধর মিলিয়ে দিয়ে চেপে ধরল। শোয়েব আচমকা এমন করে দৌড়ে এসে চেপে ধরাতে ব্যালেন্স হারিয়ে দু কদম পিছিয়ে গেলেও সাথেসাথেই তিতলির কোমর চেপে ব্যালেন্স করে ফেলে।
তিতলি চোখ বুজে; দু পা উঁচিয়ে শোয়েবের ঠোঁটে চুমু খেতে থাকে—
সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগে।
শোয়েব আহাম্মকের মতো শুরুতে দাড়িয়ে থাকলেই: পরপর রেসপন্স করতে থাকে। ঠোঁটচুমুর শুরুটা তিতলির পক্ষ থেকে হলেও: শেষটার সম্পূর্ণটাই শোয়েব দখল নিয়ে নেয়। তিতলির কোমর চেপে ধরে ওকে নিজের সাথে মিশিয়ে আরো ঠোঁটের গভীরে যায়।
তিতলি একসময় জোর করে শোয়েবকে ছাড়িয়ে দিতে চায়; বেচারির শ্বাস ফুরিয়ে আসছে প্রায়। শোয়েবের থেকে নিজের মুখ সরিয়ে আনতেই; শোয়েব অস্থিরতা নিয়ে বলল,
‘কিহ? সরলে-হ কেন? আই অ্যাম. .আই অ্যাম নট ফিনিশড ইয়েট। নিড মোর টাইম। সো. . ‘
তিতলি বড়বড় শ্বাস ফেলে হাপাচ্ছে, কোনরকমে বলতে চাইল——-‘আমি শ্বাস নি. .’
বলেই কথাটা শেষ করার আগে শোয়েব অধৈর্যের মতো আবারও তিতলিকে ছিটকে ধরে নিজের সাথে চেপে ধরে ঠোঁটে চুমু খেতে থাকে।
এবার আগের থেকেও আরও গভীরভাবে। তিতলিও নিজেকে সামলে, যতটুকু আনাড়িভাবে পরছে রেসপন্স করছে, ডুবে যাচ্ছে ও বেচারিও স্বামীর আদরের গভীরতাতে।
গভীর রাতে,সাজেকের আকাশ থেকে বৃষ্টির পানি তুমুল বেগে মাটিতে পড়ছে। রাতের চাঁদটা তখন অবলোকন করছিল—
রাস্তার মাঝেখানে বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে গভীর রাতে একজোড়া হালাল দম্পত্তি; একে অন্যকে কি নিবিড় আদরে চুমু খেয়ে যাচ্ছে।
চলবে
সবাই রিঅ্যাক্ট-কমেন্ট করবেন। আমি আজ সবার কমেন্টের রিপ্লাই করব।
Share On:
TAGS: অবন্তিকা তৃপ্তি, অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ সিজন ২
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৪৯
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৪৬
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৪০
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৩৯
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৩৮
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ২৯
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৪১
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ২০
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ১৭
-
ডেনিম জ্যাকেট পর্ব ৫৪