#অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা
[পর্ব ৬৫ +৬৬ ]
#লেখিকা_ফারহানা_নিঝুম
( দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়)
(কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
রুম জুড়ে পিনপতন নীরবতা বিরাজ করছে। একপাশে ঘৃণার তীক্ষ্ণ স্রোত, অন্যপাশে অনির্বচনীয় ভালোবাসার নিঃশব্দ গভীরতা দুই বিপরীত অনুভূতির সংঘর্ষে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।
দেয়ালের সাথে অবলম্বন করে দাঁড়ানো ন্যান্সি নির্লিপ্ত, প্রায় শীতল কণ্ঠে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিল,
“একটা সত্যি কথা বলবেন আফরিদ? আমার পালিত মা-বাবাকে কে মে’রেছে?”
আফরিদ নির্বিকার দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে তার ব্যথিত মুখাবয়বের দিকে। হাত ভাঁজ করে বুকে রেখে সে ধীর, সংযত স্বরে বলল,
“যদি বলি আমি?”
ন্যান্সির ওষ্ঠে এক ক্ষীণ বাঁক। মৃদু বিদ্রূপমিশ্রিত হাসি ফুটে উঠল তার মুখে। দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে সে বলল,
“যদি কখনো জানতে পারি আপনি মে’রেছেন, তাহলে সেদিন,,,,,
এক মুহূর্ত থেমে গেল ন্যান্সি।আফরিদ ধীর পদক্ষেপে আরও কাছে এগিয়ে এলো। আঙুল দিয়ে আলতো করে তার চুল স্পর্শ করল।কণ্ঠে কৌতূহল ও অদ্ভুত স্থিরতা।
“তাহলে সেদিন কী?”
ন্যান্সি পুনরায় হালকা হাসল। নিস্তেজ ,দৃঢ় কণ্ঠে বলল,
“সেদিন আপনাকে নিজের হাতে মে’ রতে একটুও দ্বিধা হবে না। আপনার বুকে ছু’ রি বসাতে হাত কাঁপবে না।”
আফরিদ কিছুক্ষণ নীরব রইল। নিস্তব্ধতা আরও ঘনীভূত হলো। তারপর হঠাৎ এক গূঢ়, প্রায় অদ্ভুত হাসি ফুটে উঠল তার মুখে।
“এই বান্দার জান তার বান্দির জন্য কুরবান।”
ন্যান্সি নিঃশব্দে পাশ কাটিয়ে ওয়াশরুমের দিকে চলে গেল।তার ভেতর তখন এক অস্থির ঝড়।সবকিছু এলোমেলো, অসংলগ্ন, রহস্যাবৃত।মনে প্রশ্নের পাহাড় ক্রমাগত জমাট বাঁধছে মিস্টার আলবার্ট কে?
তার সঙ্গে তার সম্পর্ক কী?কে এই অচেনা আগন্তুক?
কেন তাকে অপহরণ করা হয়েছিল?ইদ্রান কেন আফরিদের পাশে?আর আফরিদ তার জীবনের এই জটিল গোলকধাঁধার কোথায় দাঁড়িয়ে?প্রশ্নগুলো যেন মস্তিষ্কের ভেতর বিষাক্ত কাঁটার মতো বিঁধে আছে।
অবশেষে আর সহ্য করতে না পেরে সে শাওয়ারের নিচে বসে পড়ল।কাঁপতে কাঁপতে তার শরীর ভেঙে পড়ল মেঝেতে। নিঃশব্দে ফুঁপিয়ে উঠল সে। তার জীবন কেন এত দুর্বোধ্য, এত জটিল?মামুন হায়দারের সঙ্গে তার জীবন তো ছিল সরল, নির্দোষ, নির্বিঘ্ন। মামুনই তো একমাত্র মানুষ, যিনি মিস্টার আলবার্ট সম্পর্কে কিছু বলতে পারতেন। হঠাৎ এক নির্মম উপলব্ধি তার বুকে আ’ঘাত করল। যদি এই সব কিছুর পেছনে সত্যিই আফরিদ জড়িত থাকে?তাহলে সে কীভাবে বাঁচবে এই সত্য নিয়ে?সে তো ভালোবেসে ফেলেছে এক নিষিদ্ধ বাস্তবতাকে এক মাফিয়া, এক অপরাধ জগতের ছায়ামূর্তি মানুষকে।
মাফিয়াদের অন্ধকার জগৎ সম্পর্কে তার জ্ঞান সীমিত, অস্পষ্ট।তবুও সেই অজানা অন্ধকারেই সে জড়িয়ে গেছে অনুভূতির সুতোয়।হঠাৎ তার কান্না আরও তীব্র হয়ে উঠল।ওয়াশরুমের ভেতর থেকে ভেসে আসা সেই কান্নার শব্দ পৌঁছে গেল ঘরের অন্য প্রান্তে।বিছানার ধারে বসে থাকা আফরিদ নিঃশব্দ।তার দাঁত চেপে ধরা, পেশি শক্ত।
প্রতিটি কান্নার শব্দ তার বুকের ভেতর অদৃশ্য শূন্যতা সৃষ্টি করছে।হাত অজান্তেই মুঠো হয়ে যাচ্ছে।
কিন্তু সে নড়ছে না।শুধু স্থির দৃষ্টিতে শুনে যাচ্ছে
তার ভালোবাসার ভেতর ভেঙে পড়া এক নারীর নীরব আর্তনাদ।
দরজায় পরপর কয়েকবার ঠকঠক শব্দ হতেই ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালো আফরিদ। দরজার ওপারে স্মাইলিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেই তার দৃষ্টি মুহূর্তে তীক্ষ্ণ হয়ে উঠল।
চোয়াল শক্ত হয়ে এলো।এক ঝটকায় বিছানা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো সে।ভারী পদক্ষেপে দরজার দিকে এগিয়ে আসতে দেখে স্মাইলির বুক ধক করে উঠল। অজান্তেই এক পা পিছিয়ে গেল সে।আফরিদ কর্কশ স্বরে বলে উঠল,
“এই মেয়ে, তোমার সাহসের প্রশংসা করতেই হয়! সরাসরি আমার রুমে? তাও আবার আমি থাকা অবস্থায়?”
স্মাইলি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেল।কিছুক্ষণ ইতস্তত করে মাথা নিচু করে বলল,
“আমি… আমি আসলে সরি বলতে এসেছি। আমার জন্যই ইলহাম এত বড় বিপদে পড়েছে।”
আফরিদের মুখমণ্ডল কঠোর হয়ে উঠল।মুষ্টিবদ্ধ হয়ে এলো দু’হাত।তার কণ্ঠে তখন দমিত ক্রোধের ভার,
“তোমার সরি তোমার কাছেই রাখো। আমার বউয়ের কিছু হয়ে গেলে তোমাকে এই বাড়ির মাটির নিচেই পুঁতে রাখতাম। তখন তোমার সেই চার্ম, সেই কান্নাকাটি কিছুই কাজে আসতো না।”
স্মাইলির মুখ মলিন হয়ে গেল।অপরাধবোধে ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলল,
“আমি সত্যিই দুঃখিত, আফরিদ ভাই। তবে আপনি যাতে একটু হলেও খুশি হন, সেই জন্য ইলহামের একটা জিনিস আপনাকে দিতে চাই।”
আফরিদ ভ্রু কুঁচকাল। সন্দেহভরা চোখে তাকিয়ে বলল,
“এই দাও দেখি। আশা করি এটাও নষ্ট করার কোনো পরিকল্পনা করো নি।”
বলেই স্মাইলির হাতে থাকা ব্যাগটা টেনে নিল নিজের কাছে। ভেতরে হাত ঢুকিয়ে যা বের করল, তা দেখে কিছুক্ষণের জন্য থমকে গেল। একটি সফেদ রঙের পাঞ্জাবি। নিঃশব্দে কাপড়টির দিকে তাকিয়ে রইল সে।
স্মাইলি নিচু স্বরে বলল,
“শপিং মলে ইলহাম এটা নিয়েছিল। বলেছিল, আপনি সবসময় শার্ট-প্যান্ট পরেন, কিন্তু কখনো পাঞ্জাবি পরেন না।”
কথাগুলো শুনে আফরিদের কঠিন দৃষ্টি ধীরে ধীরে কোমল হয়ে এলো। আরও একবার পাঞ্জাবিটার দিকে তাকালো সে।অদ্ভুত এক অনুভূতি বুকের ভেতর নিঃশব্দে দোলা দিয়ে গেল। তারপর যথারীতি মুখ গম্ভীর করে বলল,
“যাও এখন। তোমাকে এত ব্যাখ্যা দিতে বলিনি।”
একটু থেমে আবার যোগ করল,
“আর হ্যাঁ, আমার বউয়ের থেকে দশ হাত দূরে থাকবে।”
স্মাইলি আর কিছু বলল না।নিঃশব্দে সরে গেল সেখান থেকে।দরজা বন্ধ হতেই আফরিদ আবার পাঞ্জাবিটার দিকে তাকালো।তৃতীয়বার।মাপ একদম নিখুঁত।নকশাটাও রুচিসম্মত।ঠোঁটের কোণে অজান্তেই ক্ষীণ হাসি ফুটে উঠল।তার অ্যাঞ্জেলিনার পছন্দ যে বেশ ভালো, সেটা স্বীকার করতেই হয়।ঠিক তখনই ওয়াশরুমের দরজা খুলে বেরিয়ে এলো ন্যান্সি।চুল ভেজা।মুখে ক্লান্তির ছাপ।
তাকে দেখেই আফরিদ দ্রুত পাঞ্জাবিটা আড়াল করে ফেলল। ন্যান্সি ভ্রু উঁচিয়ে প্রশ্ন করল,
“কার সঙ্গে কথা বলছিলেন?”
আফরিদ ওষ্ঠ বাঁকিয়ে নির্লজ্জ ভঙ্গিতে উত্তর দিল,
“কারো সঙ্গে না। নিজের সঙ্গে আলোচনা করছিলাম।”
“কীসের আলোচনা?”
“তোরে কীভাবে বিরক্ত করা যায়, সেটা নিয়ে।”
ন্যান্সি দীর্ঘশ্বাস ফেলল। এই মানুষটার মুখে স্বাভাবিক কোনো কথা আছে কিনা, সে বিষয়ে তার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। মাথা নেড়ে বিছানার দিকে এগিয়ে যেতে যেতে ভাবল দুনিয়া এদিক-ওদিক হয়ে গেলেও, আফরিদ এহসান সম্ভবত একই রকমই থাকবে। নির্লজ্জ, অসহনীয়, আর অদ্ভুতভাবে আপন।
_________________
রিসার্চ সেন্টার হল রুম (০২)
অনেক গুলো লাশ কে টে আজকেও আবার সেগুলোতে অস্ত্র থেকে শুরু করে ড্রাগ অনেক অনেক কিছুই স্মাগলিং করা হবে।
আজকে আফরিদের বদলে এসেছে ইদ্রান। মুখে মাস্ক লাগানো,তার সাথে এসেছে ইভান আর ঈশান দুজনেই।
মন্টু দাস আর গোলাম মোস্তফা বরাবরের মতো নিজেদের কাজ করে চলেছে!
তবে সবচেয়ে বড় কথা এটাই যে আজকে বসের জায়গায় অন্য কাউকে দেখে দুজনেই বেশ অবাক হয়েছে!
ইদ্রানের ঘাড়ে ট্যাটুর উপর আঙ্গুল বুলায় সে। ঘাড় বাঁকিয়ে বলল।
“কাজ কতদূর? আজকে মাল সাপ্লাই করতে হবে।”
মন্টু দাস তটস্থ ভঙ্গিতে বলে উঠে।
“আর ঘন্টা খানেক সময় লাগছে স্যার এরপর আমরাই পাঠিয়ে দিচ্ছি।”
ইদ্রান লোক গুলোর কথা শুনলো।
“ওকে।”
ইদ্রান আর বাকি দু’জন আবারো গাড়িতে গিয়ে বসলো।
আপাতত এখন উদ্দেশ্যে বাড়িতে যাওয়া।
ইদ্রান এখনো আন্দাজ করতে পারছে না আফরিদ কেন মিস্টার আলবার্ট এবং মিস্টার কামাল কে বাঁচিয়ে রেখেছে?কেন এসব করছে? এই মূহুর্তে তো তাদের শেষ করে দেওয়া উচিত।ওদিকে ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা হাত ধুয়ে পিছনে পড়ে আছে তাদের! যেকোনো সময় যাতা হওয়ার সম্ভবনা আছে।
বাড়িতে প্রবেশ করতেই করিডোরের একপ্রান্তে নিস্তব্ধ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকা স্মাইলির উপর গিয়ে স্থির হলো সকলের দৃষ্টি। মেয়েটি ইদানীং ভীষণ রকমের নীরব হয়ে গেছে। হাসি, উচ্ছ্বাস, চঞ্চলতা সব যেন কোথাও বিলীন হয়ে গেছে। ইদ্রান ধীর পদক্ষেপে এগিয়ে গিয়ে পেছন দিক থেকে আলতো করে তাকে জড়িয়ে ধরল।
ঘটনার আকস্মিকতায় সামান্য কেঁপে উঠল স্মাইলি।
ইদ্রান মৃদু হেসে স্বচ্ছ কণ্ঠে বলল,
“আই লাভ ইউ, প্রিন্সেস!”
কথাটা শুনেই যেন বারুদের স্তূপে আগুন পড়ল।
মুহূর্তেই ক্রোধে জ্বলে উঠল স্মাইলি।যে মানুষটাকে সে নিজের জীবনের সর্ববৃহৎ অন্ধকার মনে করে, যে মানুষটির কারণে তার মায়ের কোনো সন্ধান নেই, সেই মানুষটির মুখে ভালোবাসার স্বীকারোক্তি তার কাছে নিছক বিদ্রুপ বলে মনে হলো।বিতৃষ্ণায় শরীর শিউরে উঠল তার।এক ধাক্কায় ইদ্রানকে নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দিল সে।এই আচরণে স্পষ্টতই আ’ঘাতপ্রাপ্ত হলো ইদ্রান।স্মাইলি তীক্ষ্ণ কণ্ঠে চিৎকার করে উঠল,
“আপনার মতো নোংরা মানুষকে আমি ভালোবাসি না! আপনি একটা শয়’তান! আপনার নাম লুসিফার আর আপনি যে শয়তান, এটাই তার প্রমাণ!”
মুহূর্তের মধ্যেই ইদ্রানের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল।
সপাটে এক চড় বসিয়ে দিল সে।
“স্টুপিড কোথাকার! এত ভালোবাসার পরেও বলছিস আমি শয়তান?”
করিডোরজুড়ে হট্টগোল ছড়িয়ে পড়ল।
চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলো বাড়ির সবাই।ন্যান্সিও দ্রুত এগিয়ে এলো।
তার ঠিক পেছনেই ভারী পদক্ষেপে এসে দাঁড়াল আফরিদ।ইদ্রান রূঢ় ভঙ্গিতে স্মাইলিকে সরিয়ে দিয়ে বলল,
“আসলে তোর এখানে থাকারই কথা না!”
স্মাইলিও আর নিজেকে সংযত রাখতে পারল না।
অন্তরে সঞ্চিত সমস্ত ক্ষোভ, অপমান আর অভিমান এক নিমিষে বিস্ফোরিত হলো।
“আপনার মতো মানুষের সঙ্গে আমি থাকতেও চাই না! না মানে না!”
ক্রোধ ও হতাশার সংমিশ্রণে পাশের পিলারে সজোরে ঘুষি মারল ইদ্রান।তার শিরাগুলো ফুলে উঠেছে।চোয়াল শক্ত।
চোখে দাউদাউ আগুন।আফরিদ সূচালো দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল তার দিকে।অতঃপর ইদ্রান ধুমধাম পদক্ষেপে স্থান ত্যাগ করল।ন্যান্সি পুরো ঘটনাই বুঝে উঠতে পারছে না।
এদিকে স্মাইলি অঝোর ধারায় কেঁদে ফেলল।
মেয়েটার কান্না দেখে ন্যান্সির বুকটা মোচড় দিয়ে উঠল।
সে এগিয়ে গিয়ে আলতো করে স্মাইলির হাত ধরল।
সন্দিগ্ধ কণ্ঠে বলল,
“কি হয়েছে স্মাইলি? আমাকে বলো প্লিজ।”
ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে স্মাইলি বলে উঠল,
“ওই লোকটা আমার মমকে আমার জীবন থেকে সরিয়ে দিয়েছে। উনি কোথায় আছেন, আমি কিছুই জানি না!”
ন্যান্সি আরও কিছু জিজ্ঞেস করবে, ঠিক তখনই আফরিদের বজ্রকঠোর কণ্ঠ করিডোর কাঁপিয়ে উঠল,
“তোর মা একটা প্রস্টিটিউট! খাস বাংলায় যাকে বলে বে***!”
কথাগুলো যেন ছুরির ফলার মতো গিয়ে বিঁধল স্মাইলির অন্তরে। ইদ্রানের দেওয়া মানসিক আঘাতের উপর আফরিদের নির্মম বাক্য আরও গভীর ক্ষত সৃষ্টি করল।স্মাইলি কাঁপা কণ্ঠে বলে উঠল,
“চুপ করুন! আপনার এত সাহস হয় কীভাবে আমার মমকে নিয়ে এসব বলার?”
আফরিদের দু’হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়ে উঠল।সে স্মাইলির দিকে তেড়ে যেতে উদ্যত হতেই ন্যান্সি তড়িঘড়ি করে তাকে আটকে দিল।
“প্লিজ! প্লিজ! এসব বলবেন না। আপনি আমার সঙ্গে চলুন।”
আফরিদ দাঁতে দাঁত চেপে হিসহিসে স্বরে বলল,
“সত্যি কথা কেউ সহ্য করতে পারে না। এটাই সত্যি। তোর মা তোকে বহু আগেই বিক্রি করে দিত। জানিস সেটা? কিন্তু যাকে তুই শয়তান বলছিস, সেই লুসিফার তোর জন্য প্রতি মাসে টাকা পাঠিয়েছে। যত টাকা চাওয়া হয়েছে, ততই দিয়েছে। শুধু তোকে নোংরা লোকগুলোর হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য।”
করিডোরজুড়ে নেমে এলো ভয়ঙ্কর নীরবতা।ন্যান্সি দ্রুত দু’হাতে আফরিদের মুখ চেপে ধরল।ঘনঘন শ্বাস ফেলতে ফেলতে বলল,
“আপনি আর একটা কথাও বলবেন না! এগুলো কী বলছেন?”
স্মাইলি সম্পূর্ণ নির্বাক।মনে হলো ভাষা হারিয়ে ফেলেছে সে। কাঁপতে থাকা কণ্ঠে কোনোমতে উচ্চারণ করল—
“কি বললেন আপনি? কি বললেন এগুলো?”
আফরিদ ন্যান্সির হাত সরিয়ে দিয়ে ধীর অথচ বিষাক্ত স্বরে বলল,
“এটাই সত্যি। বিশ্বাস না হলে খোঁজ নিয়ে দেখ। তোর মা এখন কার সঙ্গে নিউজিল্যান্ডে আছে, জেনে নে।”
পরক্ষণেই ন্যান্সির কব্জি শক্ত করে ধরে টেনে নিয়ে গেল সে।ধপ করে রুমের দরজা বন্ধ হয়ে গেল।করিডোরে স্তব্ধতা নেমে এলো।স্মাইলি পাথরের মূর্তির ন্যায় স্থির দাঁড়িয়ে রইল।তার সমগ্র সত্তা যেন অবিশ্বাস, অপমান আর মানসিক অভিঘাতে অবশ হয়ে গেছে। মস্তিষ্কে একটাই বাক্য বারবার প্রতিধ্বনিত হতে লাগল,
“তার মা,একজন প্রস্টিটিউট?”
____________
রুমে প্রবেশ করেই দরজাটা সশব্দে বন্ধ করে লক করে দিল আফরিদ।ন্যান্সি এক ঝটকায় তার শার্টের কলার চেপে ধরল। চোখেমুখে তীব্র অসন্তোষ।
রুষ্ট কণ্ঠে বলে উঠল,
“কি বললেন আপনি এসব? কারও মাকে নিয়ে এভাবে কথা বলার স্পর্ধা হয় কী করে আপনার?”
আফরিদ নির্বিকার ভঙ্গিতে উত্তর দিল,
“আমি শুধু সত্যিটাই বলেছি। ইদ্রান এতদিন ওকে আগলে রেখেছিল। তা না হলে ওর পরিণতিও ওখানেই গিয়ে ঠেকত।”
ন্যান্সি কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে রইল।
সত্যিই কি তাই? কপালের ভাঁজ আরও গভীর হলো তার।
“আচ্ছা, প্রস্টিটিউট তো আপনাদের মতো লোকেরাই তৈরি করে, তাই না?”
আফরিদ হালকা হেসে ফেলল।
“কি জানি! কারণ আমি কাউকে তৈরি করিনি।”
ন্যান্সি তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাল।
“তাহলে কি নিজেকে খুব শুদ্ধ পুরুষ বলে দাবি করছেন?”
আফরিদ ধীরে ধীরে ঝুঁকে এলো তার মুখের দিকে।উষ্ণ নিঃশ্বাস এসে ছুঁয়ে গেল ন্যান্সির মুখমণ্ডল। স্নিগ্ধ স্বরে ফিসফিস করে বলল,
“আমার বউ-ই আমার সমগ্র পৃথিবী। দুনিয়ার হাজারো উলঙ্গ নারী আমার সামনে এসে দাঁড়ালেও আমার দৃষ্টির একবিন্দু বিচ্যুতি ঘটে না। অথচ তুই যখন কেবল আঙুলের ডগা ছুঁয়ে যাস, আমার অস্তিত্বের প্রতিটি স্নায়ুকোষে যেন প্রণয়ের বিদ্যুৎপ্রবাহ বয়ে যায়।”
ন্যান্সি অপলক তাকিয়ে রইল আফরিদের নীলাভ চক্ষুযুগলের দিকে। আফরিদ নাক ছুঁইয়ে দিল তার নাকে।
আলতো করে থুতনি স্পর্শ করে নিখাদ কণ্ঠে বলল,
“আমি ভীষণ খারাপ। খারাপ বললেও কম বলা হয়, আমি নিকৃষ্ট। কিন্তু তুই ছাড়া আরও দু’জন নারী আমার জীবনে আছে আমার মম আর ফাহমিদা। আর এখন তুই।”
এক মুহূর্ত থেমে দুষ্টু হাসল সে।
“কিছুদিন পর চতুর্থ নারীও আসবে আমার জীবনে আমার মেয়ে।”
বজ্রাহত মানুষের মতো সরে গেল ন্যান্সি।চোখ বড় বড় করে তাকাল সেই নির্লজ্জ হাসির দিকে। অতঃপর বিরক্তি মিশ্রিত স্বরে উচ্চারণ করল,
“বেহায়া!”
*****************
স্পেন, বার্সেলোনা,
অমানবিক জিজ্ঞাসাবাদ, মানসিক চাপ, নিরবচ্ছিন্ন নির্যাতন কোনো কিছুই রাইসার মুখ থেকে একটি শব্দও বের করতে পারেনি।গুনে গুনে দু’দিন অতিক্রান্ত হয়েছে।
শেষপর্যন্ত বাধ্য হয়ে আরও কঠোর পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে।তবুও ফলাফল শূন্য। ইস্ক্রিয়াস টেবিলের অপরপ্রান্তে দাঁড়িয়ে কর্কশ স্বরে বলল,
“তুমি কি সত্যিই চাও আমি আরও নির্মম হয়ে উঠি?”
রাইসা মৃদু হেসে ফেলল।
“হও। যতটা ইচ্ছা নির্মম হও, ইস্ক্রিয়াস। কিন্তু আমি কিছুই বলব না।”
ইস্ক্রিয়াসের দু’চোখ রক্তাভ হয়ে উঠেছে। ক্রোধে সজোরে টেবিলে আ’ঘাত করল সে।
“খুব শীঘ্রই তোমাকে এখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। জাস্ট ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ।”
রাইসা অসহায় দৃষ্টিতে তাকাল তার দিকে। ব্যথাতুর কণ্ঠে বলল,
“তুমি আমাকে ভালোবাসো না, ইস্ক্রিয়াস? আমার খুব কষ্ট হচ্ছে!”
কথাটা শুনে কেঁপে উঠল ইস্ক্রিয়াসের প্রশস্ত বক্ষ আকস্মিকভাবে রাইসার হ্যান্ডকাফবন্দী দু’হাত নিজের মুঠোয় নিয়ে বলল,
“প্লিজ কিউটিপাই সব বলে দাও। আমি কথা দিচ্ছি, তোমাকে এখান থেকে বের করে নিয়ে যাব।”
হঠাৎ করেই উচ্চস্বরে হেসে উঠল রাইসা। তার হাসিতে উপহাসের বিষাক্ত সুর।
“ইশ্, ইস্ক্রিয়াস! তুমি একজন অপরাধিনীকে ভালোবাসো? এতটাই ভালোবাসো যে তার সামান্য অভিনয়ও বুঝতে পারো না? ইটস ভেরি ব্যাড।”
এতক্ষণ ধরে যে সে অভিনয় করছিল, তা বুঝতে আর বাকি রইল না ইস্ক্রিয়াসের। তার চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল।
দাঁতে দাঁত পিষে বলল,
“তুমি যা-ই করো না কেন, এই ইস্ক্রিয়াস মাস্টারমাইন্ডকে ধরবেই।”
রাইসা কোনো উত্তর দিল না।শুধু ঠোঁটের কোণে রহস্যময় এক হাসি ফুটে উঠল। আর ইস্ক্রিয়াস দীর্ঘ পদক্ষেপে
_____________
নিশ্ছিদ্র নৈঃশব্দ্যের মধ্যে রুমের এক কোণে স্মাইলি চুপচাপ বসে আছে, যেন সময়ও তার পাশে থেমে গেছে। চোখের কোণে জমে থাকা অশ্রু গুলি ভরসাহীন মনে হলেও, তারা যেন বহুদিনের বেদনাকে সযত্নে জমিয়েছে। বুকের ভেতর একটা নিঃসঙ্গ কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে।
মনের অন্ধকারে ঘেরা প্রশ্নগুলো একে একে ধাক্কা মারছে।
মা কি সত্যিই সেই মিথ্যা পথে? সে কি সত্যিই প্রস্টিটিউট? কিন্তু চোখের পলকের নিচে সেই মা শুধু মা যে মায়ের আদরে পৃথিবীর সমস্ত কষ্ট মুছে যায়, যার আঁচলেই নিরাপত্তা খুঁজে পাওয়া যায়।
মায়ের জন্য হৃদয় ভাঙে, যিনি তার সন্তানকে সুরক্ষিত রাখতে অজস্র রাত কাঁপানো, মাসের পর মাস অব্যাহত ত্যাগ করেছিলেন। প্রতিটি পয়সা, প্রতিটি বোঝা সবই যেন স্মাইলির জন্য। এই উপলব্ধি ‘কাঁটা হয়ে ঘা দিলেও, তার মনে দানা বাঁধলো অপরাধবোধের । তবে কি আমি অন্যায় করেছি? তার প্রিয় লোকটার সাথে? তার সঙ্গে কি আমার সম্পর্ক অন্যায় ছিলো আদতেও? সে ভালোবেসে এভাবে তাকে সুরক্ষিত রেখেছিল অথচ স্মাইলি? সে কতটা কটু কথা বলেছে!
বেদনার গভীরে ডুবে থাকা মেয়েটার মন যেন এক প্রাচীরের মতো ভেঙে যাচ্ছে প্রেম, বিশ্বাস, মা, এবং নিজের অপরাধবোধের মিলিত ঝড়ের মধ্যে। প্রতিটি নীরবতা, প্রতিটি অশ্রু, প্রতিটি কেঁচো ঘেরা।
“স্মাইলি?”
পিছন থেকে পরিচিত কন্ঠস্বর শুনতে পেয়ে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলো মেয়েটা। দু’হাতে তাকে আগলে নিল ন্যান্সি।
শান্তনা স্বরুপ বলে উঠে।
“তুমি প্লিজ কেঁদো না স্মাইলি!”
স্মাইলি ব্যতিত কন্ঠে আওড়ালো।
“আমার সাথে কতবড় অন্যায় হয়েছে ইলহাম! এতদিন ধরে মনে করতাম পৃথিবীতে বোধহয় বাবার পরে একমাত্র মা আমাকে ভালোবাসতো! কিন্তু এখন তো আমাকে রক্ষা করতে কি-না টাকা নিতো? আমি মানতে পারছি না ইলহাম! সত্যি পারছি না।”
ন্যান্সি নির্বিকার দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে স্মাইলির দিকে। ন্যান্সি নির্লিপ্ত কন্ঠে বলে উঠে।
“মা তো মা-ই হয় সন্তানের কাছে। সে মা যতই খারাপ হোক না কেন! তুমি তো মা বাবা কে পেরেছিলে। কিন্তু আমি তো জানিই না আমি কার মেয়ে? একজন ছিলো যে আমাকে বড় করেছে ,একটা পরিবার ছিলো যারা আমাকে এতগুলি বছর পেলে পুষে বড় করছে। অথচ আজ তারাও নেই!”
স্মাইলি কাঁপা কাঁপা স্বরে বলল।
“চার্ম কোথায় ইলহাম? আমি তার সাথে অন্যায় করে ফেললাম তাই না? আমি তার সাথে কথা বলতে চাই!”
ন্যান্সি ভাবুক কন্ঠে বলে।
“রেগে বাইরে চলে গেছে , তুমি টেনশন করো না এখুনি ফিরে আসবে।”
_________________
রাত্রি প্রায় দ্বিপ্রহর স্পর্শ করেছে। সদ্য ফিরেছে ইদ্রান। নিজেকে সতেজ করে কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসতেই তার দৃষ্টি গিয়ে স্থির হলো দরজার পাশে নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থাকা স্মাইলির উপর। এক পলক তাকিয়েই নির্লিপ্ত স্বরে বলল,
“আগামীকাল তোমার ফ্লাইট। তুমি লন্ডনে ফিরে যাবে। সেখানেই থাকবে।”
কথাগুলো বজ্রাঘাতের ন্যায় আছড়ে পড়ল স্মাইলির উপর।মুহূর্তেই তার মুখশ্রী বিবর্ণ হয়ে এলো। কাঁপা কণ্ঠে বলল,
“মানে? লন্ডনে কেন?”
ইদ্রানের কণ্ঠে কোনো আবেগের ছাপ নেই।
“কারণ আমি চাই না তুমি এখানে আর থাকো।”
কথা শেষ করে সে এগিয়ে যেতে উদ্যত হতেই আচমকাই তার প্রশস্ত বক্ষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল স্মাইলি।দু’হাতে শক্ত করে আঁকড়ে ধরল তাকে।কণ্ঠস্বর কান্নায় রুদ্ধ হয়ে আসছে।
“আই অ্যাম সরি… আই অ্যাম রিয়েলি ভেরি সরি। আমি আপনাকে ছেড়ে যেতে চাই না। আমি আপনাকে ভীষণ ভালোবাসি, চার্ম। আমি শুধু মায়ের জন্য আপনার থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছিলাম। কখনোই আপনাকে হারাতে চাইনি। প্লিজ আমাকে পাঠিয়ে দেবেন না। আমি আপনাকে ছাড়া থাকতে পারব না।”
বাকিটুকু কান্নার স্রোতে বিলীন হয়ে গেল।সে দু’হাতে মেয়েটির কাঁপতে থাকা দেহখানি নিজের বাহুবন্ধনে আবদ্ধ করল। কম্পিত স্বরে প্রশ্ন করল,
“প্রিন্সেস, সত্যিই ভালোবাসো?”
“খুব ভালোবাসি , আমি আপনাকে খুব ভালোবাসি।”
মেয়েটা কাঁপছে থরথরিয়ে ,তার কান্না ভেজামুখখানি নিজের হাতের আঁজলায় তুলে নিল ইদ্রান। চোখের পাতায় পুরুষ্ট ওষ্ঠো জোড়া ছুঁয়ে দিলো আলগোছে!
স্মাইলি দুহাতে খামচে ধরে তার পৃষ্ঠদেশ , ফুঁপিয়ে কেঁদে ফেলল ফের। কাঁপা ওষ্ঠো জোড়া নিজের দখলে নিল প্রেমিক পুরুষ। এই প্রথম বারের মতো তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চুম্বনে মেতে ওঠে রমণী।
___________________
রুমে এসেই ড্রয়ার থেকে আফরিদের ল্যাপটপ টা বের করে আনে ন্যান্সি। অথচ আফরিদ কিছু বললো না , উল্টো বিছানায় লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ল।
ল্যাপটপে পাসওয়ার্ড দেওয়া আছে , সেদিনের মতো জানকি বাচ্চা নামটা ট্রাই করলো অথচ খুললো না। বিরক্তিতে চোখ মুখ খিঁচিয়ে নিল।
“আফরিদ পাসওয়ার্ড বলুন।”
আফরিদ মৃদু স্বরে বলল।
“আদরের বউ।”
থতমত খেয়ে গেল ন্যান্সি। এটা পাসওয়ার্ড?
“মজা করবেন না বলছি , বিরক্ত হচ্ছি আমি।”
“আরে বা'” বললাম তো!”
ক্ষিপ্ত হলো ন্যান্সি , এগুলো কোনো পাসওয়ার্ড হলো? অবশ্য যেখানে আফরিদ এহসান এরকম আজব পাসওয়ার্ড তো আজব হবেই।
ন্যান্সি পাসওয়ার্ড দিয়ে ল্যাপটপ ওপেন করলো , যদি কোনো কিছু পাওয়া যায়? আচ্ছা আদতেও কি কিছু থাকবে?
আচানক তার হাতটা টেনে ধরলো আফরিদ। ভ্রু উঁচিয়ে তাকালো ন্যান্সি।
“কি সমস্যা হাত ধরেছেন কেন?”
পিঠে মারাত্মক ব্যথা করছে আফরিদের , ম্যাসাজ প্রয়োজন।
বাচ্চাদের মতো ঠোঁট উল্টে বলল।
“যা ইচ্ছে তাই কর কিন্তু সবকিছুর আগে পিঠটা ম্যাসাজ করে দে ব্যথা করছে।”
চক্ষুদ্বয় তীক্ষ্ণ হয়ে উঠে ন্যান্সির।
“এ্য্য শখের শেষ নেই। ছাড়ুন আমার হাত।”
আফরিদ উপুড় হয়ে শুয়ে বলল।
“যদি এই মূহুর্তে পিঠ ম্যাসাজ না করিস তাহলে অন্য কিছু করব? চার্জের ক্যাবলের সাথে কিন্তু ফোনের পোর্ট লাগিয়ে দেব বলে দিচ্ছি।”
ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল ন্যান্সি ,বলে কি এই লোক?
“মানে কি? কিসের চার্জার কিসের পোর্ট?”
আফরিদ ঠোঁট কামড়ে হাসলো ।
“বোকা মাতারি রেএএ শরীরে কারেন্ট বেশী হয়ে গেছে ভাবছি কিছুটা তোকে সাপ্লাই করে দেই!”
এতক্ষণে কথার মর্মার্থ বুঝতে পেরে রাগে বেলুনের মতো ফুঁসে উঠে ন্যান্সি। একটা মানুষ এত বেহায়া হয় কি করে?
আফরিদ কপাল কুঁচকে তাকাতেই ল্যাপটপ রেখে পিঠে হাত দিলো ন্যান্সি। ধুমধাম করে একের পর এক কিল বসিয়ে দিচ্ছে। আফরিদ ঠোঁটে ঠোঁট টিপে হাসে। ন্যান্সি চায় সে ব্যথা পাক অথচ হাসছে? ভেতরের রাগটা আরো বেশি বাড়লো , উপায় না পেয়ে উঠে দাঁড়ালো। একপা তুলে দাঁড়িয়ে পড়ল আফরিদের পিঠের উপর।এদিক ওদিক চাপ প্রয়োগ করতে লাগলো।
আফরিদ মেকি বলে উঠে।
“উফ্ প্রতিবেশী বাপের মেয়ে ব্যথা লাগে,নাম বলছি।”
আফরিদ ব্যথা পাচ্ছে ভেতরে মজাই লাগছে ন্যান্সির। ইচ্ছে মতো পা দিয়ে চাপ দিতে লাগল।
“আর কোনো দিন বললে পিঠে আচ্ছা করে বসিয়ে দিবো শয়তা’ন লোক কোথাকার।”
পিঠ থেকে নেমে আবারো ল্যাপটপ নিয়ে বসলো ন্যান্সি। অনেক গুলো ফাইল দেখতে পাচ্ছে এদিক তার দিকে মুখ ঘুরিয়ে তাকিয়ে আছে আফরিদ। মেয়েটার চোখ গুলো গোল গোল। তাকালে মায়া মায়া লাগে। ন্যান্সি খুব মনোযোগ দিয়ে একের পর এক ফাইল চেক করছে। অকস্মাৎ নতুন একটা ফাইল দেখে সু মসৃণ কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়লো।
অনেক গুলো ভিডিও রয়েছে সেখানে। সব গুলোতে ন্যান্সি রয়েছে।
ন্যান্সি রুমে চেঞ্জ করছে আনমনা হয়ে , হ্যা এটা বোধহয় লন্ডনে যে মেয়েটার ফ্ল্যাটে ছিলো তার রুম মনে হচ্ছে?
চোয়াল ঝুলে এলো ন্যান্সির ,তার মানে এটা দেখে আফরিদ বলেছিল কোমড়ের তিলটা মিস করছে?
“অস’ভ্য ,জানোয়ার, নির্লজ্জ চরিত্রহীন লোক একটা!”
রাগে দুঃখে আফরিদের গলা চেপে ধরে ন্যান্সি। আফরিদ শব্দ করে হেসে উঠলো , এতক্ষন ধরে তার রিয়েকশন দেখছিল সে। এভাবে রাগতে দেখে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে।
“ইশ্ রে বান্দি আমার। আমি কি বলছি দেখ?”
ন্যান্সি সর্বশক্তি দিয়ে তাকে আঘাত করলো।
“আপনি আমাকে এভাবে দেখছিলেন হাউ ডেয়ার ইউ?”
“যা দেখার জিনিস দেখেছি! তুই আমার দশটা না পাঁচটা না একটা মাত্র আদরের টুকটুকে লাল কালারের বউ। তোকে দেখবো না তো কাকে দেখব?”
“কি কালারের বউ?”
আফরিদ বাঁকা হেসে বলল।
“লাল কালারের বউ।”
“বেহায়া লোক কোথাকার আপনার উপর গজব পড়ুক।”
চলবে……….।
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৫
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৮ {প্রথম অর্ধেক}
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩২(প্রথমাংশ +শেষাংশ +বোনাস)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৫
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৪(প্রথমাংশ + মধ্যাংশ + শেষাংশ)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৬
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৫
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৩
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৭
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১০