#দ্যা_ব্ল্যাক_মার্ক
#লেখনীতে_আশু_ও_নিশু
#পর্বসংখ্যা_৩২
নিহান আর তুবা মাত্র বাড়ি ফিরেছে ভিজে টাইটুম্বর হয়ে।কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়েছে আজ।আজকের দিনটাই বাইরে উপভোগ করছিলো তারা।একেবারে দুপুরে খেয়ে দেয়েই বাড়ি ফিরেছে।তুবা ভেজা কাপড় ছেড়ে বিছানায় এসে বসল।নিহান পাশে বালিশে হেলান দিয়ে শুয়ে কিছু ভবাছে মনযোগ দিয়ে।নিহান মৃদুস্বরে তুবাকে বলল,
“মন ভালো হয়েছে সোনা?”
“হুম।”
“বাইরে বৃষ্টি পড়ছে কি সুন্দর।”
“হু।”
এর মাঝেই হঠাৎ নিশান রুমের দরজায় আসায় তুবা উঠে বাইরে চলে যায়।দুই ভাইয়ের ব্যাক্তিগত কথোপকথনে সে থেকেই বা কি করবে?তুবা নিচে নামতেই সোফায় নোভা বসে থাকা অবস্থায় বলল,
”এদিকে বসো তোমার সাথে কথা আছে।”
তুবা নোভার পাশে বসল।নোভার মুকের দিকে তাকিয়ে দেখল মুখটা চিন্তিত।ভ্রু কুঁচকে বলল,
”কি হয়েছে?”
“এখান থেকে চলে যাবে?”
“মানে কি বলছো?”
“আমি জানি নিহান তোমাকে ভালোবাসে না।”
”না আপু তুমি ভ..ভুল বুঝছো।উনি আমাকে…
এর মাঝেই নোভা বলে উঠল,
“শোন নিহান,নিশান,এর তিনভাই ই হাজারো হাজারো মেয়েদর নেশায় আসক্ত।অনেক মেয়েদের সাথে রিলেশন,আর ইন্টিমেট হয়ে তারপর ছেড়ে দেয়।আমি সব জানি সব তাই আমি তোমাকে নিজের ছোট্ট বোন মনে কীে বলছি আমরা ঢাকা থেকে অনেক দূরে চলে যাবো। হাতে কিছু টাকা আছে তা দিয়ে একটা বাড়ি ভাড়া নিবো তারপর কোনো একটা জব করে ভালো থাকবো।এই নরক থেকে বাঁচতে পারবো।”
তুবার মাথা যেনো এক সেকেন্ডের জন্য কাজ করছে না।নোভার কথাগুলো কানে বাজতেি কিছুদিন আগের সব মনে পড়ল নিমিষেই নোভার কথাগুলোকে ঠিক মনে হলো তুবার।তুবা তারপর ও কিছুক্ষণ ভেবে বলল,
“আমি তোমার সাথে একমত নোভা আপু।নতুন করে জীবন শুরু করতে রাজি এতদিন অনেক বাধা পেয়েছি কিন্তু আর না।”
নোভা হেসে তুবার হাত ধরল।কিন্তু তুবার বুকটা ভার লাগছে কেনো জানি কিছুতেই মনকে সাই দিতে পারছে না।চোখে ভাসছে সেই ধূসর বাদামী চোখজোড়া।যেগুলোতে সে একবার হলেও নিজের প্রতি ভালোবাসা দেখেছিলো কিন্তু আজ তুবা নিজেই তার থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছে।সে নিজের মতো করে বাঁচবে এখন!
নোভা ফিসফিস করে তুবাকে বলে,
”আজ রাতেই আমরা চলে যাবো তুবা।রাতে নিহান আর বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে যাওয়ার পর আমি তোমাকে ডাকতে যাবো।”
“আচ্ছা।এখন আমি যাই কাজ আছে।”
“আচ্ছা।”
*****
অন্ধকারাচ্ছন্ন রুমে বসে আছে নাহিয়ান।জানালার ফাক দিয়ে স্পষ্ট বাইরের ঝিরিঝিরি বৃষ্টি দেখা যাচ্ছে। মনে পড়ে সেই এক বৃষ্টির দিনে একটি মেয়ের সাথে দেখা হয়েছিলো তার
আজ থেকে ঠিক তিন-চার বছর আগেকার কথা।নাহিয়ান ভার্সিটিতে পড়তো তখন।কিছুদিন পর পরীক্ষার পরেই নাহিয়ানের ভার্সিটি জীবন শেষের পথে। তাই লাস্টের ক্লাসগুলো করার জন্য ভার্সিটিতে গিয়েছিলো সে।ঠিক এমন ভাবেই বৃষ্টি পড়ছিলো সেদিনটাতে।নাহিয়ান তাড়াহুড়ো করে ভার্সিটির ভেতরে ঢুকছিলো তখন একটা মেয়ের সাথে ধাক্কা খেয়ে বিরক্তিকর ভঙ্গিতে তাকালো নাহিয়ান। মেয়েদিকে দেখে এক পলকের জন্য থমকে গেলো।উজ্জ্বল শ্যামলা গায়ের রং মেয়েটির গোলাপি অধরজুড়ে হাসি ছিলো এতক্ষণ কিন্তু এখন তা আর নেই অধরে।মেয়েটি সহসা বলে উঠল,
“স্যরি স্যরি ভাইয়া আমি আসলে দেখতে পাইনি।”
নাহিয়ানের এতক্ষণের শান্ত মুখটা আবারো বিরক্ত হয়ে উঠল আবারো।রাগী স্বরে বলল,
“যাকে তাকে দেখলে ভাই বানাতে ইচ্ছে হয় নাকি?মেয়ে মানুষের এই একিই সমস্যা রাস্তায়,কলেজে,ভার্সিটিতে বিয়ে বাড়িতে যেখানে সেখানে ছেলেদের দেখলে খালি ভাইয়া ভাইয়া করে।ডিজগাস্টিং!”
নাহিয়ানের কথার ভঙ্গিতে মেয়েটি রাগ করলো না বরং কেঁদে উঠল।নাহিয়ান অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকলো মেয়েটার পানে।
ভেবেছিলো এমন কথা শুনে হয়তো রাগ করবে কিন্তু উল্টে কেঁদে দিলো।নাহিয়ান বলল,
”কি ব্যাপার?আপনি কাঁদছেন কেনো?”
কিন্তু মেয়েটা সেই কেঁদেই যাচ্ছে।নাহিয়ান শান্ত কন্ঠে বলল,
“ঠান্ডা হন প্লিজ।স্যরি আমি এরকম করে বলতে চাইনি।আপনি প্লিজ কাঁদবেন না মানুষ ভুল বুঝবে।”
বলেই মেয়েটার হাত ধরে ক্যান্টিনে নিয়ে যায়।আর বলে,
”কি খাবেন? যা ইচ্ছে কিনে দিব তাও কাঁদবেন না।”
নাহিয়ান মেয়েটা একটা জিনিস চেয়েছিলো তাই নিয়ে দিলো।নাহিয়ান মনে মনে ভাবল এমন বাচ্চা স্বভাবের মেয়েরা ও ভার্সিটিতে আসে বুঝি এই যুগে?নাহিয়ান আর আহিরার মধ্যে বেশ সময় কথা হতো আস্তে আস্তে দেখা হতো হঠাৎ একদিন নাহিয়ান নিজের প্রেম প্রস্তাব দেয় আহিরাকে।আহিরাও রাজি হয়ে যায়।আহিরার ইচ্ছে ছিলো ভার্সিটি শেষ করার পর বিয়ে নিয়ে ভাববে যেহেতু সে নতুন নতুন ভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছিলো।
এরমাঝেই হঠাউ কয়েকদিন ধরে আহিরা কল,মেসেজ কিছু দেয় না নাহিয়ান দিলেও উত্তর দেয় না।নাহিয়ান আহিরার বাড়ির কাছে গিয়ে জানতে পারল আহিরা আর তার পরিবার এখানে আর থাকে না কোথায় গিয়েছে তা ও জানে না।
তাও নাহিয়না বেশ চেষ্টা করলো মেয়েটাকে খোঁজার খুজলো ও কিন্তু আর পেলো না।
তারপর ই নাহিয়না কানাডা চলে যায় আজ এত বছর পর ও মেয়েটাকে সে ভুলতে পারেনি আর না পেরেছে কাউকে ভালোবাসতে।
বর্তমান~
নাহিয়ান বিছানায় শুয়ে আছে আর চোখ থেকে ঝরঝর করে বৃষ্টির ফোঁটার মতো পড়ছে অশ্রুকণা। নাহিয়ান শুনেছিলো ছেলেরা নাকি সহজে কাঁদে না কিন্তু নাহিয়ানের বেলায় ব্যাতিক্রম একটা মেয়ের জন্য সে আজ ও কাঁদে।
****
তুবা অন্যমনস্ক হয়ে নোভার কথাগুলো ভাবছে সে তো নোভাকে বলে দিলো কিন্তু সাহসে তো বলছে না যেতে।
আর নিহান যদি পরে কিছু করে।তুবা এসব ভাবতে ভাবতে হঠাৎ দেখল নিহান নিচে নামছে একপলক তাকাতেই বুকের ভেতরটা ধক করে উঠল।কীভাবে আজ মানুষটাকে ছেড়ে যাবে?সত্যিই কি তাকে ভালোবাসে না মানুষটা?
পরক্ষণেই হাজারো নারীর নেশায় আসক্ত ছিলো সেটা মনে পড়ল তুবার।তুবা নিজের মনকে শক্ত করে নিলো এবার। হঠাৎ নিহান সোফার কাছে এসে গম্ভীর কন্ঠে বলল,
“এখানে বসে বসে কি ভাবছো?সেই কখন নিচে এসেছো উপরে যাওয়ার খবর ই নেই।”
“ইয়ে মানে আসলে আমি কাজ করছিলাম।”
“তোমাকে না মানা করেছিলাম কাজ করতে?”
“আচ্ছা আর করবো না।”
তুবা এগুলো বলতে বলতে দেখল নিহান তার গা ঘেষে বসছে।তুবা ধীর আওয়াজে বলল,
”আরেকটু দূরে গিয়ে বসুন কেউ দেখবে।”
”দেখলে দেখুক!আমার বউয়ের সাথে আমি বসে আছি।”
নিহান তুবার ডানহাতকে নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে আসে।তুবা একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে চোখগুলোর দিকে।কিন্তু মনের কথা পড়তে পারলো না লোকটার!তুবাকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে দেখে নিহান বলে,
“প্রেমে পড়েছেন?”
”না।”
”পড়বেন না?”
“দেখা যাক সেটা!”
#চলবে??
(দুপুরে লিখতে বসে ঘুমিয়ে গেছিলাম।পরে উঠে মাথাব্যাথা তাই লিখতে পারিনি বকা দিবেন না।
Share On:
TAGS: আশু ও নিশু, দ্যা ব্ল্যাক মার্ক
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২৭(শেষাংশ)
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২০
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২২
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৮
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৩১
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৭
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২৫ এর সকল পর্ব
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২৬
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৮
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১১