Golpo romantic golpo অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ সিজন ২

অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ সিজন ২ পর্ব ১৪


অবন্তিকা_তৃপ্তি

(রোমান্টিক)

বাস স্টপেজে থেমেছে সবেই, খাগড়াছড়ি থেকে চান্দের গাড়ি করে পৌছাবে সাজেক। বাসে উঠার শুরুতে শোয়েব তিতলির কাঁধে মাথা রাখলেও;পরবর্তীতে তিতলি ঘুমের ঘোরে শোয়েবের কাঁধে মাথা ঠেকিয়েছে। শোয়েব তিতলিকে তখন খুব যত্নে, ভীষণ নরম হাতে ধরে নিজের বুকে শুইয়ে দিয়েছে।

খাগড়াছড়িতে আসার পর, তিতলি ক্লান্ত ছিলো ভীষণ। রাস্তার একটাপাশে এসে দাড়িয়ে বোতল থেকে পানি ছেটালো চোখে-মুখে। মুখ মুছতে মুছতে শোয়েব এসে ওর পাশে দাঁড়াল, রুমালটা বাড়িয়ে দিয়ে বলল,

‘মুখটা শুকিয়ে নাও। আর কিছু খাবে? এখানে আশেপাশে ছোটখাটো দোকান আছে। সম্ভবত পরোটা-বরোটা পাওয়া যেতে পারে। খাবে?’

তিতলির ক্লান্তিতে গা ম্যাজম্যাজ করছিল। বলল,

‘না। হোটেলে পৌঁছাতে টোটাল কতসনয় লাগতে পারে?’

শোয়েব ওর বা হাতের হ্যান্ডওয়াচ দেখে বলল,

‘২-৩ ঘণ্টা আই গেইজ। আর হোটেল না ওগুলা। কটেজ বলে ওগুলাকে।’
‘ওহ। জানতাম না। কাঠের কটেজ?’
‘ওমনই কিছু।’
‘আপনার ফ্রেন্ড আর উনার ওয়াইফকে দেখছি না।’

শোয়েব জবাব দিল,

‘তাহমিনা ওয়াশরুমে যাবে তাই ফারদিন নিয়ে গেছে ওকে।’

তিতলির শোয়েবের বন্ধু-বান্ধবের ব্যাপারে আরো জানার আগ্রহ হলো হঠাৎ কেন যেন। জিজ্ঞেস করল,

‘তাহমিনা। উনি আপনার ফ্রেন্ড লাগেন?’

‘হ্যাঁ, ব্যাচমেট। আমি, ফারদিন; তাহমিনা একই ব্যাচের।’

‘উনাদের কি লাভ ম্যারেজ?’

শোয়েব এ যাত্রায় হাসল, ——-‘হু।’

এবার, একদম কেমন করে যেন তিতলি বলে ফেলে——‘তাহলে আপনি কেন অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ করলেন? প্রেম করেনি কেউ আপনার সাথে?’

শোয়েব তাকাল তিতলির দিকে। তিতলি ওমন দৃষ্টিতে কুচকে গেল একপ্রকার।ও চোখ-মুখ কুচকে তেতো মুখে বলল,

‘বলতে না ইচ্ছে করলে বলবেন না। এভাবে তাকানোর কি আছে?’

শোয়েব মৃদু হাসল। তিতলির লাগেজটা ওর একহাতে নিতে নিতে বলল, ——-‘আসো। গাড়ি চলে আসবে।’

তিতলি মুখ বেজার করে ফেলে। শোয়েব কি ওর প্রশ্ন এড়িয়ে গেল মাত্রই? এই মানুষটা এত উইয়ার্ড কেন? এত লুকোচুরি! তিতলি এই মানুষটাকে একদম পড়তে পারেনা, একদমই না।

চান্দের গাড়িতে, ফারদিন-তাহমিনা একপাশে বসেছে। শোয়েব তিতলিকে নিয়ে অন্যপাশে বসেছে। গাড়ি চলছে, শীতল-আরামদায়ক বাতাসে তিতলির ভীষন ভালো লাগছিল।

ও একদৃষ্টিতে বাইরে তাকিয়ে আছে। মাঝেমধ্যে ছবি তুলছে, মাঝেমধ্যে স্ন্যাপ বানাচ্ছে। শোয়েব ফারদিনের সাথে গল্প করতে করতে এসব দেখছে। তিতলি এবার মোবাইল হাতে নিয়ে ছবি তুলতে তুলতে একটা সেলফি নিলো ওর। শোয়েবের দিকে তাকাল এবার— শোয়েব ওর দিকে না তাকিয়েই বুঝল তিতলি কি চাইছে।

শোয়েব মাথাটা ঝুঁকিয়ে আস্তে করে বলল——-‘কি? ছবি তুলবে?’

তিতলি ফারদিন-তাহমিনার দিকে একবার তাকিয়ে, শোয়েবের দিকে তাকাল। নিচু স্বরে বলল——‘হু, আমাদের দুজনের।’

শোয়েব হাসল——‘ওকে।’

বলে শোয়েব ওর ফোনটা বের করে তিতলির দিকে বাড়িয়ে দিল——‘এটা দিয়ে ছবি ভালো আসবে।’

তিতলিও হাসিখুশি ফোনটা নিলো। পরপর আবার অপ্রস্তুত হয়ে ফারদিন-তাহমিনার দিকে তাকালে; তাহমিনা এবার সানগ্লাস খুলে তিতলির দিকে হেসে তাকাল,

‘তুলো তিতলি. .ওহ সরি ভাবী। শোয়েবকে ধরেবেঁধেও আমাদের সময় ছবি-টবি তোলানো যেতনা। ওর নাকি ছবি তুলতে ক্রিঞ্জ লাগে: এখন তো ঠিকই বৌকে নিজের ফোন অব্দি এগিয়ে দিচ্ছে ছবি তোলার জন্যে। শোয়েবের ভালোই উন্নতি হয়েছে দেখছি।’

শোয়েব ভ্রু কুচকে তাহমিনার দিকে তাকাল——‘বেশি বকছিস তাহি।’

তাহমিনা কিছু বলার আগেই; ফারদিন বলে উঠে——‘ও বেশি বলছে? না তুই বেশি বেশি চেঞ্জ হয়ে গেছিস? আগে কেমন ভাব ধরে থাকতি; এখন ঠিকই তো ভেজা বেড়াল হয়ে যাস।’

শোয়েব রেগে-মেগে গেল——-‘ভেজা বেড়াল আমি মোটেও না। ওটা তুই।’

‘দেখাই যাচ্ছে কে বেড়াল আর কে বাঘ।’

ফারদিন টিটকারি করতেই তাহমিনা চোখ রঙিয়ে বলল,

‘আসছে রে। তোমরা কেউই বাঘ না। সবাই একই, বেড়ালই।’

তাহমিনার এমন কথাতে তিতলি হেসে ফেলে শব্দ করে। শোয়েব সাথেসাথে ওর দিকে ভ্রু খিছে তাকাল, ——‘এখানে হাসার কি আছে?’

তিতলি হাসি চেপে বলল——-‘কিছু না; এমনি হাসলাম জাস্ট।’

পুরোটা রাস্তা এভাবে দুই জোড়া কপোত-কপোতি মিলে গল্প করতে করতে পৌঁছাল সাজেক কটেজে। ফরমালিটিজ শেষ করে যে যার রুমের চাবি নিয়ে রুমে ঢুকে গেল।

তিতলি বেচারি রুমে ঢুকেই বিছানায় দু-হাত ছড়িয়ে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়েছে। হা করে বড় শ্বাস ফেলতেই, চোখ বুজে আসে বাইরে থেকে আসা দমকা বাতাসে। শোয়েব ওদিকে সুন্দর মতো লাগেজ নিয়ে একপাশে রাখল। তিতলির ব্যাগ একপাশ করে রাখল। দুজনের জুতো জোড়াও ঠিকঠাক করে রাখল।
ওদিকে তিতলি ততক্ষণে ঘুম। এই মেয়েটা একদমই জার্নি করতে পারেনা, ক্লান্ত হয়ে যায় অল্পতেই। শোয়েব ঠিক এইবার বুঝতে পারে— কেন পায়রা বলেন তিতলিকে নিয়ে কোথাও যাওয়া যায়না। এই মেয়েটা এত নাজুক!

শোয়েব টাওয়াল বের করল, তিতলিকে এসে ডাকে,

‘এই তিতলি। গোসলটা করে আসো। এই ময়লা শরীরেই বিছানায় শুয়ে পড়লে। উঠো; গোসলটা করো।’

তিতলি বিছানায় শুয়ে ওপাশ ফিরে, গুঙিয়ে উঠে আরামে,

‘পরে করব। একটু ঘুমাই প্লিজ।’

‘মোটেও না।’
শোয়েব এবার আর বাহানা না দেখিয়ে সোজা তিতলিকে বিছানা থেকে হাত ধরে টেনে উঠিয়ে ফেলল। তিতলি চুড়ান্ত বিরক্ত হয়ে তাকাল শোয়েবের দিকে।

শোয়েব ওসব পাত্তা না দিয়ে গম্ভীর কণ্ঠে বলল——-‘গো; গেট শাওয়ার রাইট নাও।’

তিতলি নাক-মুখ কুচকে তাকাল শোয়েবের দিকে। পরপর খিছে উঠে বলল——-‘শান্তি দিলেন না আপনি একটুও। ধুর।’

বলে বিড়বিড় করে কতগুলো কথা বলতে বলতে তিতলি শোয়েবের থেকে টাওয়াল কেড়ে নিয়ে বাথরুমে ঢুকে গেল। শোয়েব ও যেতে হাসল মৃদু। পরপর তিতলির ঘুমিয়ে এলোমেলো করে যাওয়া বিছানা একটা টান দিয়ে ঠিকঠাক করে ওর ব্যাগ থেকে কাপড় বের করে রাখল। তিতলি বের হলে ও ঢুকবে গোসলে।

তিতলি জামা নিয়ে যায়নি গোসলে।তখন শোয়েবের উপর রাগ করে এমনি ঢুকে গেছিল। কিন্তু এখন যে বিপদে পরে গেল একটা। ধুর! নিজের উপরেই রাগটা লাগছে এখন।

তিতলি বাথরুমের দরজা খুলে ফাঁক দিয়ে একবার রুমটাতে চোখ বুলালো। আরে. .রুমটাতে কেউ নেই কেন? শোয়েব কোথায় গেলেন?

তিতলি ডাকল, ——‘এই?এইযে? এই শুনছেন? এই? এইইই. কই আপনি?’

জবাব এলোনা। কি একটা অবস্থা। ওদিকে ঠান্ডাও লাগছে ভীষণ। তিতলি আরেকবার রুমে উকি দিল। না শোয়েব আসলেই নেই। তাহলে কি ফারদিন ভাইয়ের কাছে? হতে পারে।

দেখা গেল, তিতলি ভীষণ আড়ষ্ট ভঙ্গিতে টাওয়ালটা ভালো করে গায়ের সাথে জড়িয়ে নিয়ে বেরিয়ে এলো বাথরুম থেকে। পা টিপে টিপে বের হয়ে আয়নার সামনে দাঁড়ালো। বাহ, ভালোই তো হট দেখাচ্ছে এভাবে। ভ্যাগিস শোয়েব রুমে নেই। নাহলে তাণ্ডব করে ফেলতেন।

তিতলি হাফ ছাড়লো। দ্রুত জামা-কাপড় বের করতে হবে, শোয়েব আসার আগে আগে।

তিতলি লাগেজ উঠিয়ে এনে বিছানায় রাখল। তারপর চেইন খুলে জামা বের করছে।

‘তিতলি ডেকেছিলে? আমি বারান্দায়. .আস্তাগফিরুল্লাহ!’

তিতলির হাত থেকে জামা পরে গেল মাটিতে। তিতলি একবার নিজেকে একবার শোয়েবকে দেখে; বড়বড় চোখে। শোয়েব ওদিকে হা হয়ে আহাম্মকের মতো তাকিয়ে আছে তিতলির দিকে।

তিতলি সাথেসাথে বলে উঠে——‘আ .. .আপনি . .আপনি কই ছিলেন? এখন. . এভাবে——‘

তিতলি পুরোটা শেষ করতে পারেনা অত্যাধিক লজ্জাতে। শোয়েব ঢোক গিলে——‘বারান্দায় ছিলাম, কল এসেছিল একটা।’

বলতে বলতে শোয়েব আবারও আগাগোড়া তিতলিকে দেখে। তিতলি শোয়েবের অমন দৃষ্টি দেখে কুণ্ঠায় হাঁটুর কাছে টাওয়াল টেনে ধরে, কাপতে থেকে বলল——-‘আমি চেঞ্জ করে আসছি।’

বলে জামাটা মাটি থেকে টেনে তোলার সময়, বুক থেকে টাওয়াল সরে যেতেই শোয়েব হা করে ওদিকে তাকিয়ে থাকলো কেন যেন। তিতলি সাথেসাথে বুকের কাছের টাওয়াল চেপে ধরে চোখ পাকিয়ে শোয়েবের দিকে তাকিয়ে উঠে দাঁড়ালো।

তিতলির চোখ পাকিয়ে তাকাতে শোয়েবও কেশে উঠে চোখ সরিয়ে নিলো পরপর। তিতলি উঠে দাড়িয়ে জামা নিয়ে ওয়াশরুমে ছুটবে: হঠাৎ ওর হাতটা পেছন থেকে কেউ চেপে ধরে। তিতলি থমকে আটকায়। পা থামে ওর, বুকটা কেপে উঠে হঠাৎ ধড়াস করে। তিতলি আলগোছে মাথাটা হেলিয়ে পেছন ফিরে তাকায়। শোয়েব এক ভীষণ অপরিচিত দৃষ্টিতে ওর দিকেই তাকিয়ে আছে একদৃষ্টিতে। এই চোখের ভাষা দেখে তিতলির সমস্ত রুহ অব্দি যেন কেপে উঠল। ও আলগোছে শোয়েবের থেকে হাতটা ছাড়ানোর চেষ্টা করে———‘কি. .কি করছেন?’

শোয়েব হাতটা ছাড়ে না; একমুহূর্তের জন্যেও না। বরং হাতটা ধরে আলগোছে এগিয়ে এসে তিতলির ঠিক পেছনটায় এসে দাঁড়ালো। তিতলির শ্বাস-প্রশ্বাস বেড়ে গেছে অস্বাভাবিক মাত্রাতে। ও চোখ বুজে আবারও হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করল। এবারেও পারলোনা। বরং শোয়েব ততক্ষণে তিতলির পেছনটায় দাড়িয়ে ওকে নিজের বুকের সাথে মিশিয়ে দিয়েছে। তিতলি লাল দিয়ে গলা ভেজাল। পরনের টাওয়াল খামচে ধরে, বলল————‘এখন. . এখন. .না এস. .এসব। ছাড়ুন প. .প্লিজ।’

‘কখন তাহলে? কখন সময় এসবের?’ —- শোয়েব তিতলির কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিসায়। কানের লতিতে চুমুও খায় সেসময় একটা।

তিতলি হা করে শ্বাস ফেলে একটা। তিতলির ভেজা শরীরের গন্ধে শোয়েবের তখন প্রায় পাগল-পাগল অবস্থা! তিতলি বলতে গেল,
——-‘দুপু. .দুপুর . .এখন।’

‘তো? এসবের সময় কি শুধু রাতের বেলাতেই, মিসেস তিতলি?’ —— তিতলির শরীরের রোমকূপ অব্দি কাপিয়ে দিল শোয়েবের ফিসফিসানি। তিতলি একবার মাথা হেলিয়ে শোয়েবের মুখ দেখার চেষ্টা করে। অথচ শোয়েব এমন স্বৈরাচারের মতো পেচিয়ে ধরল যে তিতলি আবার মাথা ঘুরিয়ে ফেলল।

শোয়েব তিতলিকে আচমকা কোলে তুলে ফেলে। তিতলি তো ভয়ে একহাতে হাঁটুর কাছের টাওয়াল চেপে ধরে অপরহাতে শোয়েবের গলা পেঁচিয়ে ধরে। শোয়েব বিছানার দিকে যেতে যেতে বলে,

—-‘আসো আজকে আমি তোমার শেখাব একটা গুরুত্বপর্ণ টপিক, নাম সময়ের জ্ঞান। এসবের এক্সাক্ট সময় ঠিক কখন কখন হয় আমি আজ সেটা তোমাকে প্রাক্টিক্যালি শিখয়ে-পরিয়ে দেব। সো মে আই?’

তিতলিকে আলগোছে বিছানায় শুইয়ে দিতেই তিতলির হঠাৎ ভীষন ভয় করছে। ও শুকনো ঢোক গিলে বলল——-‘আমি শিখতে চাইনা এসব। এইচএসসি এক্সামে এগুলা আসবে না। শিখে কি করব?’

‘এইচএসসি এক্সামে না আসলে; আমি যতবার তোমাকে স্পেশালভাবে পার্সোনাল এক্সাম নিব, এই টপিক ততবার তোমার এক্সামে আসবে। তাহলে শিখিয়ে দেওয়াটা বেটার না, বলো মিসেস তিতলি?’

শোয়েব এই কথাটা বলতেই: তিতলি জোরে একটা শ্বাস ফেলে। শোয়েব এবার আলগোছে তিতলির মাথার ভেজা চুলে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে ওর টাওয়াল এ হাত রাখতেই; তিতলি আচমকা বলে উঠে,

—-

চলবে

আপনারা কমেন্ট করেননা কেন? বলুন তো?

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply