যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব ১৬
ইশরাতজাহানজেরিন
পর্ব_১৬
সাইকোলজিস্ট রাজ তার চেম্বারে বসে আছে। তার চেম্বারের দেয়ালে ঝুলানো বিমূর্ত চিত্রকর্ম, বুকশেলফে সারি সারি মনোবিজ্ঞানের বই, আর মাঝখানে একটি টেবিল। যার দু’পাশে মুখোমুখি বসে আছে দু’জন মানুষ। একজন চিকিৎসক, অন্যজন তাঁর চিকিৎসাধীন। অবনী এখন আর আগের মতো নয়। তার চোখের নিচের ক্লান্তির ছাপ অনেকটাই ম্লান, কথার ভেতর আর সেই ভাঙাচোরা আতঙ্ক নেই। রাজ ফাইলের পাতা উল্টে একবার তাকাল অবনীর দিকে। “আজকে কেমন লাগছে, অবনী?” অবনী হালকা হাসল।
“অনেকটা ভালো। আগের মতো ভয়গুলো আর তেমন করে আসে না। মাঝে মাঝে মনে পড়ে… তবে সেটা আর আমাকে ভেঙ্গে দেয় না।” রাজ মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল। “এটাই তো আমাদের লক্ষ্য ছিল। স্মৃতিগুলো থাকবে, কিন্তু তারা তোমাকে নিয়ন্ত্রণ করবে না।”
অবনী আবার বলল, “আপনি জানেন, আগে আমি ভাবতাম আমি আর কখনো স্বাভাবিক হতে পারব না। কিন্তু এখন মনে হয়… আমি পারছি। ধীরে ধীরে হলেও।”
রাজের ঠোঁটের কোণে একটুখানি হাসি ফুটল। “তুমি নিজেই নিজেকে সুস্থ করে তুলছ, অবনী। আমি শুধু পথটা দেখিয়েছি।” কথাটা বললেও, তার ভেতরে অন্য এক সত্য নীরবে নড়ে উঠল। এই ‘পথ দেখানো’-র ভেতরেই কখন যে তিনি নিজেই পথ হারিয়ে ফেলেছ তা কি সে বুঝতে পেরেছে? সে দৃষ্টি সরিয়ে নিল, যেন নিজের ভেতরের অস্বস্তিটাকে আড়াল করতে চান।
“আজ আমরা একটা এক্সারসাইজ করব। তুমি তোমার অতীতের সেই মুহূর্তটা কল্পনা করবে যেটা তোমাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিত। কিন্তু এবার তুমি সেই দৃশ্যের ভেতরে আগের অবনী নও। তুমি বর্তমানের অবনী যে জানে সে নিরাপদ।” অবনী চোখ বন্ধ করল। কয়েক সেকেন্ডের জন্য তার মুখে হালকা টান পড়ল, তারপর ধীরে ধীরে সেটা নরম হয়ে এলো। “আমি… ওখানে আছি,” সে ফিসফিস করে বলল। “কিন্তু এবার… আমি ভয় পাচ্ছি না।” রাজ মনোযোগ দিয়ে শুনছ।
“তুমি এখন কী করছ?” রাজ জিজ্ঞেস করলেন।
অবনী ধীরে বলল, “আমি নিজেকে বলছি সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি একা নই।”
রাজের বুকের ভেতর মৃদু একটা কম্পন উঠল। সে একা নয়… কিন্তু এই ‘না-একা’ হওয়ার জায়গায় কি সে নিজেই জড়িয়ে পড়ছে? সেশন শেষের দিকে এগোতে থাকলে রাজ ফাইল বন্ধ করলেন। “তুমি অনেক ভালো প্রোগ্রেস করছ, অবনী। এই ধারাটা ধরে রাখলে খুব শিগগিরই তুমি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।” অবনী চোখ তুলে তাকাল। সেই দৃষ্টিতে কৃতজ্ঞতা আছে, বিশ্বাস আছে। আর এমন কিছু আছে, যা রাজকে অকারণে অস্থির করে তোলে। “আপনি না থাকলে পারতাম না,” অবনী নরম স্বরে বলল।
রাজ কিছুক্ষণ চুপ রইলেন। তার পেশাগত সীমারেখা আর ব্যক্তিগত অনুভূতির মাঝখানে এক অদৃশ্য দ্বন্দ্ব যেন তীব্র হয়ে উঠছে। শেষমেশ তিনি শুধু বললেন,
“তুমি নিজেই পেরেছ, অবনী। আমি… শুধু পাশে ছিলাম।” কথাটা বললেও, তার নিজেরই মনে হলো
এই ‘পাশে থাকা’ কি ধীরে ধীরে অন্য কোনো অর্থ নিচ্ছে?
“আজকের সেশনটা এখানেই শেষ করা যায়।” রাজ বলল।
অবনী মাথা নাড়ল। “ঠিক আছে।” সে উঠে দাঁড়াতে গিয়েও থেমে গেল, যেন কিছু বলতে চায়। তারপর আস্তে বলল, “আপনার সাথে কথা বললে… ভালো লাগে।”
রাজের আঙ্গুল থেমে গেল কলমের ওপর। এক সেকেন্ড খুব ক্ষুদ্র, তবু তার ভেতরের ভারসাম্য কেঁপে ওঠার জন্য যথেষ্ট। সে চোখ তুলল, কিন্তু দৃষ্টিটা দ্রুত সরিয়ে নিল।“এটা স্বাভাবিক,” সে নিরপেক্ষ স্বরে বলল,
“থেরাপির একটা অংশ।” কথাটা একদম সঠিক। নিখুঁত।
তবু তার নিজের কানে সেটা অদ্ভুত রকম ফাঁপা শোনাল।
অবনী কিছু না বলে হাসল। সেই হাসিটা অদ্ভুতভাবে নির্মল। তাতে কোনো দাবি নেই, কোনো জটিলতা নেই।
আর ঠিক সেটাই রাজকে আরও দুর্বল করে তোলে।
অবনী দরজার দিকে এগিয়ে গেল। হাত বাড়িয়ে হ্যান্ডেলটা ধরল। “কাল দেখা হবে, ডক্টর।”
“হ্যাঁ… কাল,” রাজ বলল।
দরজাটা বন্ধ হয়ে গেল। রাজ চুপচাপ বসে রইলেন। কিছুক্ষণ পর ধীরে করে পেছনে হেলান দিলো চেয়ারে। চোখ বন্ধ করল না। বরং সোজা তাকিয়ে রইল দরজার দিকে, যেখানে একটু আগেও অবনী দাঁড়িয়ে ছিল।
“এটা ঠিক হচ্ছে না…” সে খুব আস্তে বলল। তবু মন মানতে চায় না। তার চোখে ভেসে উঠল অবনীর সেই শান্ত মুখ। রাজ হঠাৎ উঠে দাঁড়াল। টেবিলের ওপর রাখা ফাইলটা বন্ধ করে রাখল একটু জোরে, যেন নিজের ভেতরের অস্থিরতাকে দমন করছেন। সে জানে এটা একটা সীমা, যা অতিক্রম করা উচিত নয়।
একজন চিকিৎসক হিসেবে, একজন দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে তার অনুভূতিগুলো অপ্রাসঙ্গিক, অনুচিত।
তবুও অনুভূতি তো যুক্তির কাছে জবাবদিহি করে না।
জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল রাজ। সে খুব আস্তে বলল,
“তোমাকে সুস্থ করে তোলাটাই আমার কাজ… তার বেশি কিছু না।” তবে এই প্রথম মুখে এসব বললেও মন অন্য কিছু চাইল। চাইল কেবল অবনীকে।
সন্ধ্যা হয়েছে কেবল। যদিও পুরোপুরি নয়। জানালার ফাঁক দিয়ে গলে ঢুকে পড়ছে মৃদু কমলা রোদ। মীর বাড়ির ড্রয়িংরুমে বসে আছেন এই বাড়ির চার গিন্নি। এমন সময় হলেই গল্পের জমে উঠে। পা দুটো ছড়িয়ে সোফায় বসে আছে সাঁঝ। তার কাঁধে বসে আছে তার আদরের শালিক পাখি ‘চিকু’। আদুরে কম বাদুরে। মাঝে মাঝেই চিকু তার মাথার ওপর উঠে কামড় দিচ্ছে,সাঁঝ বিরক্ত হয়ে হাত দিয়ে সরিয়ে দিচ্ছে তাকে। বলতে না বলতে আমার মাথায় উঠে গেল। সাঁঝ রেগে বলল, “এই চিকু, আরেকবার মারলে কিন্তু তোকে বাইরে ছুঁড়ে ফেলব!” মুখ গম্ভীর করে বলল সাঁঝ। চিকু “চিক চিক” করে ডেকে আবার মাথায় ঠোকর দিল। সবাই তা দেখে হেসে উঠল। এটা হাসির কিছু হলো? সবার মাথায় সমস্যা।
মেঝো আম্মু হেসে বললেন, “এই পাখিটার স্বভাব তো একদম সাঁঝের মতোই হয়েছে। দুষ্টু আর একগুঁয়ে!”
সাঁঝ ভ্রু কুঁচকে বলল, “ আমি কিন্তু একদম দুষ্টু না।”
সাঁঝের মা হেসে বললেন, “না না, তুমি তো একদম ফেরেশতা! ছোটবেলার কথা ভুলে গেছো নাকি?”
সাঁঝ একটু সতর্ক হয়ে গেল, “কোন কথা?”
সাঁঝের মা আবারও বললেন, “ওই যে, গ্রামে গিয়ে গরুর দুধ ধোয়ানোর কাহিনি!” সবাই একসাথে হেসে উঠলেন।
সাঁঝ লজ্জায় লাল হয়ে বলল, “ওটা আবার বলার মতো কিছু নাকি!”
“কেন বলব না? ওইসব কি ভুলা যায়? এই ভাবী মনে আছে? সাঁঝের যখন পাঁচ বছর চলে, তখন আমরা গরমের কালে আরভিদের মায়ের বাপের বাড়িতে সবাই বেড়াতে গিয়েছিলাম? সকাল সকাল সাঁঝ ঘুম থেকে উঠে বাইরে গিয়ে দেখেছিল গাভীর দুধ ধোঁয়াচ্ছে৷ ওমা সে ভেবে বসল চার পা ওয়ালা সবাই গাভী। এই পাকনা মেয়েটা শেষে ওদের বাড়ির কুকুরটাকে গরু ভেবে গিয়েছিল দুধ ধোয়াতে?” বলেই হেসে উঠলেন তিনি৷ পাশ থেকে আরভিদের মা বলে উঠছেন, “পরের ঘটনা বলো না কেন? ওই কুকুর যে ব্যাটা কুকুর ছিল ভাগ্যিস ঝামেলা পাকানোর আগেই আরযান ওখানে চলে এসেছিল। নইলে গাভী ভেবে ওই ন্যাড়ি কুকুরটার কোথায় কি করে ফেলতে আল্লাহ মাবুদ জানে।” ড্রয়িংরুমে হাসির রোল পড়ে গেল।
সাঁঝ মুখ ঢেকে বলল, “আল্লাহ! প্লিজ, থামো তোমরা!”,
আরযানের মা বলে উঠলেন,
“ভাগ্যিস কুকুরটা পালিয়ে গিয়েছিল। না হলে ওইদিন তো নিশ্চিত কামড় খেয়ে বসত!”
আরেকজন মজা করে বলল, “আরযান না থাকলে কে বাঁচাত তখন?” সবাই আবার হেসে উঠল।
সাঁঝ এবার একটু রাগ মিশ্রিত লজ্জায় বলল,
“তোমরা না, একদমই ভালো না! এসব পুরনো কথা টেনে আনো কেন?”
চিকু আবার টোকা মারতেই সে বিরক্ত হয়ে বলল,
“আর তুই! তুইও আমার সাথে শত্রুতা করছিস!”
ঠিক তখনই দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কাজের মেয়েটা একটু ইতস্তত করে বলল, “ম্যাডাম…”
সবাই তার দিকে তাকাল। আরযানের মা বললেন,
“কি হয়েছে?”
মেয়েটা বলল,
“একটা মাইয়া আইছে। তাজ স্যারের খোঁজ করতাছে।”
কথাটা শুনে ড্রয়িংরুমের হাসি থেমে গেল। সবাই একে অপরের দিকে তাকালেন।
সাঁঝ ভ্রু কুঁচকে বলল, “তাজ ভাইয়ার জন্য? এই সময়? ওমাগো যাই আগেভাগে দূরবীন নিয়ে প্রস্তুত থাকি।”
চিকুও ডাক দিল, যেন সেও কৌতূহলী হয়ে গেছে।
তাজের মা এবার ধীর গলায় বললেন, “ওকে ভেতরে নিয়ে আসো। দেখি কে এসেছে।” মেয়েটা মাথা নেড়ে চলে গেল। সে যেতেই তিনি আবার বললেন, “দোয়া করো এবার যদি আমার ছেলেটার একটা গতি হয়। নাতি-নাতনির মুখ দেখার অপেক্ষায়।”
সাঁঝ পাশ থেকে বলল, “আগে দেখো তো কে এসেছে? আর নাতি-নাতনিদের মুখ দেখার জন্য আমাকে বিয়ে দিলেই তো।”
“কিছু বললি?”
“কিচ্ছুই না।”
–
মাঝখানের সোফায় বসে আছে সিয়া। সাদা-নীল সালোয়ার কামিজ গায়ে। তার সামনে টেবিল ভরে গেছে নানান রকম নাস্তা দিয়ে। সমুসা , কাটলেট, পায়েস, ফল কোনটা বাদ পড়েছে? তাজের মা ইলমা তার সামনে বসে আছেন, মুখে একগাল হাসি। চোখে স্পষ্ট আগ্রহ। “এই নাও মা, আরেকটা সমুচা নাও,” বলে তিনি নিজেই প্লেট থেকে তুলে সিয়ার হাতে দিতে গেলেন।
সিয়া হকচকিয়ে গেল, “না না, আমি আসলে”
“লজ্জা পাচ্ছ কেন? নিজের বাড়ির মতো করে খাও,” তিনি থামতে দিলেন না। পাশ থেকে আরযানের মা হেসে বললেন, “এই বয়সে একটু লজ্জা থাকতেই হয়। দেখছো না, মুখটাই কেমন লাল হয়ে গেছে!”
সবাই মৃদু হেসে উঠল। সিয়া এবার স্পষ্ট অস্বস্তিতে পড়ে গেল। সে কিছু বলতে চায়, কিন্তু সুযোগ পাচ্ছে না।
ইলমা আবার শুরু করলেন, “তোমার নাম কী বললে মা?”
“জি… সিয়া।”
“মাশাআল্লাহ, খুব সুন্দর নাম!” তিনি মুগ্ধ গলায় বললেন। “কোথায় থাকো? বাবা কি করেন? ভাইবোন কয়জন?” এক নিঃশ্বাসে প্রশ্নগুলো ছুঁড়ে দিলেন তিনি।
সিয়া একটু থেমে ভদ্রভাবে উত্তর দিল, “আমি ঢাকাতেই থাকি। বাবা বিমানবাহিনীতে জব করতেন। এখনো রিটায়ার্ড। আর আমরা দুই বোন…” কথা শেষ হওয়ার আগেই আবার তার সামনে প্লেট এগিয়ে দেওয়া হলো।
“এই পায়েসটা খাও, আমি নিজের হাতে বানিয়েছি,” তাজের মা বললেন গর্বের সঙ্গে। সিয়া এবার একদম বিপাকে পড়ে গেল। “আসলে আমি…”
সাঁঝ পাশে বসে চিকুকে কাঁধে নিয়ে মুচকি হেসে ফিসফিস করে বলল, “তোমার কথা বলার চান্স নেই রে, আগে খাও তারপর ইন্টারভিউ!” চিকু “চিক চিক” করে পাশ থেকে সায় দিল। আবারও হাসির রোল উঠল।
সিয়া লজ্জায় হেসে ফেলল, কিন্তু চোখে স্পষ্ট অসহায়তা। তাজের মা এবার একটু ঝুঁকে এসে নরম গলায় বললেন, “একটা কথা বলো তো মা… তাজকে কিভাবে চিনো?” এই প্রশ্নে ঘরের ভেতরটা আবার একটু চুপ হয়ে গেল। সবার চোখ এখন সিয়ার দিকে।
সিয়া এবার সত্যি করে কথা বলার সুযোগ পেল। সে গলা পরিষ্কার করে বলল, “আসলে… আমি তাজ….”
“না না থাক এসব আমরা কেমন করে জিজ্ঞেস করি? তাজ শুনলে রাগ করবে।”
সিয়া তবুও বলে উঠল “ তার আন্ডারে কাজ করি। বলতে পারেন তার স্টুডেন্ট?” তাজের মা একটু থমকে গেলেন।
পাশ থেকে কেউ চাপা গলায় বলল, “ওহ্…” সাঁঝ ঠোঁট চেপে হাসি আটকানোর চেষ্টা করছে। সিয়া এবার দ্রুত যোগ করল, “জি। একটা জরুরি ব্যাপারে স্যারের সাথে কথা বলা দরকার ছিল, তাই…” তাজের মায়ের মুখের উজ্জ্বলতা একটু নরম হয়ে এলো, তবে পুরোটা মিলিয়ে গেল না। বরং তিনি দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে হেসে বললেন, “ওহ্, তাই বলো! তাতে কী হয়েছে? স্টুডেন্ট হলে কি আর মানুষ না নাকি?” পাশ থেকে আরভিদের মা হেসে বললেন, “এই তো, শুরুতেই এত কিছু ভেবে ফেলেছিলে কেন?”
তাজের মা হালকা বিরক্তি মেশানো সুরে বললেন, “আমি কি কিছু ভেবেছি নাকি? আমি তো শুধু মেয়েটার খোঁজখবর নিচ্ছিলাম!” সাঁঝ এবার আর ধরে রাখতে না পেরে বলে উঠল, “হ্যাঁ হ্যাঁ, খোঁজখবর তো নিচ্ছিলেই… একেবারে বিয়ের বায়োডাটা লেভেলের!”
ঘর আবার হাসিতে ভরে উঠল। সিয়া এবার একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। পরিবেশটা হালকা হয়ে এসেছে।
তাজের মা মৃদু হেসে সিয়ার দিকে তাকালেন, “ঠিক আছে মা, তুমি আগে খাও। তারপর তাজকে ডেকে দিচ্ছি। যা কাজ আছে, শান্তিতে কথা বলো।”
সিয়া কৃতজ্ঞ চোখে তাকাল, “ধন্যবাদ, আন্টি।”
পাশে বসে সাঁঝ আবার ফিসফিস করে বলল, “তবে একটা কথা… তাজ ভাইয়া কিন্তু খারাপ না!”
সিয়া চমকে তার দিকে তাকাল। খারাপ না? ভয়ানক খারাপ!
ড্রয়িংরুমের আড্ডা ধীরে ধীরে ভেঙ্গে এলেও কৌতূহলটা কিন্তু কারো কমেনি। বরং নতুন আগন্তুককে ঘিরে আগ্রহ যেন আরও বেড়ে গেছে। আরযানের মা নাজিরা নিজ ভাবনা নিয়ে চারদিকে তাকালেন। তারপর ধীরে করে বললেন, “মেয়েটা কিন্তু খারাপ না। চেহারা-চলন, কথা বলার ভঙ্গি সবকিছুতেই ভদ্রতা আছে।”
ইলমা সাথে সাথেই এগিয়ে এলো, “আমি তো প্রথম থেকেই বুঝেছি কিছু একটা আছে!”
হাফসা ভ্রু তুলে তাকাল, “কি আছে শুনি?”
ইলমা ঠোঁট বাঁকিয়ে মুচকি হেসে বলল, “এই যে হঠাৎ করে সন্ধ্যার বেলা ‘স্যার’-এর খোঁজে চলে আসা… এটা কি এমনিতেই হয় নাকি? আমার মনে হয় ওদের ঠিকই কিছু একটা আছে। এসব কি আর আমাদের সামনে বলবে?”
সাইরা মুখে হাত চেপে হেসে ফেলল, “ওমা! তাহলে তো ব্যাপারটা জমজমাট!”
নাজিরা একটু গম্ভীর ভঙ্গিতে বললেন, “দেখো, আন্দাজ করে বেশি কিছু বলা ঠিক না। তোমার যা ছেলে। তবে যদি সত্যি কিছু থাকে… তাহলে সেটা ভালোভাবেই শেষ করা উচিত।”
“ইশ ভাবী আমার ছেলের কথা বলছ কেন? স্বভাব তো তোমার ছেলেরই পেয়েছে।”
হাফসা এবার আগ্রহ নিয়ে বলল, “মানে… বিয়ের দিকে ঠেলে দেওয়া?”
নাজিরা মাথা নেড়ে মৃদু হেসে বললেন, “ঠিক তাই। তাজ তো এমনিতেই কিছু করে না। কেউ না এগোলে ওর দিয়ে কিছুই হবে না।”
সাইরা হেসে বলল, “তাহলে আমরা আছি না!”
ঠিক তখনই সাঁঝ ভেতর থেকে এসে বলল, “কি গো, তোমরা সবাই এখানে গোল হয়ে কি ষড়যন্ত্র করছো?”
ইলমা সাথে সাথে বলল, “তোকেই দরকার ছিল! আয়, আয়।”
সাঁঝ ভ্রু কুঁচকে এগিয়ে এলো, “কেন? আমাকে দিয়ে আবার কি করাবে?”
নাজিরা শান্ত গলায় বললেন, “তুই মেয়েটাকে তাজের রুমটা দেখিয়ে দিয়ে আয়। আমরা দেখি এরপর কি হয়।”
সাঁঝের চোখ চকচক করে উঠল, “ওহহ… বুঝেছি!”
সে আর কিছু না বলে ভেতরের দিকে হাঁটা দিল। একটু হিসু করতে গিয়েছিল তার মধ্যে কত কি হয়ে গেল। যে প্রেম ভালোবাসা চায় না, তাকে বিয়ে করানোর জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। আর এদিকে সাঁঝ একেবারে মন-প্রাণ দিয়ে বিয়ের জন্য তৈরি। ওমা তাকে তো চোখেই লাগে না। সিয়া সাঁঝের পেছন থেকে আসে। সেও তার সাথেই ওয়াশরুমে গিয়েছিল। ভয়ে এত শরবত খেয়ে ফেলেছে যে ওয়াশরুমে না গিয়ে আর থাকা গেল না। সে আসতেই সাঁঝ তার দিকে তাকিয়ে বলল, “চলুন, আমি আপনাকে তাজ ভাইয়ার রুমটা দেখিয়ে দিচ্ছি।”
সিয়া একটু স্বস্তি পেল, “ধন্যবাদ।”
দু’জনে করিডোর দিয়ে হাঁটতে লাগল। বাড়িটা বড়, চারদিকে হালকা আলো, দেয়ালে পুরনো ছবির ফ্রেম। রাজকীয় বাড়ি। সিয়া জানত যে তাজ বড়লোক কিন্তু বড়লোক তা তো জানাই ছিল না। একটা দরজার সামনে এসে সাঁঝ থামল। “এইটাই তাজ ভাইয়ার রুম,” সে বলল। সিয়া দরজার দিকে তাকাল, তারপর হালকা ইতস্তত করে বলল, “আমি… ভেতরে যাব?”
সাঁঝ দুষ্টু হেসে বলল, “যাবেন না কেন? আপনি তো এসেছেনই ওনার সাথে কথা বলতে।”
সিয়া আস্তে করে দরজাটা ঠেলে ভেতরে ঢুকল।
আর ঠিক তখনই করিডোরের কোণ থেকে একে একে উঁকি দিতে শুরু করল বাড়ির বউরা।
নাজিরা একটু সামনে ঝুঁকে, “দেখতে পাচ্ছিস?”
ইলমা ফিসফিস করে বলল, “আরেকটু সরে দাঁড়াও, কিছুই দেখা যাচ্ছে না!”
হাফসা প্রায় ঠেলে দিল ইলমাকে, “এই, আমার জায়গায় দাঁড়াস না!”
সাইরা হেসে ফেলতে গিয়েও মুখ চেপে ধরল, “চুপ! শুনতে পাবে!”
সাঁঝও এসে তাদের সাথে যোগ দিল, “আমাকেও দেখতে দাও!” সে একেবারে দূরবীন নিয়ে হাজির। চার-পাঁচটা মাথা এখন দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি মারছে। একেবারে গুপ্তচরের মতো। ইলমা আবার ফিসফিস করে বলল, “দেখছ? কত স্বাভাবিকভাবে ঢুকে পড়ল! নিশ্চিত কিছু আছে!”
নাজিরা এবার মৃদু ধমক দিলেন, “চুপ করো তো! আগে দেখো কি হয়।”
সাঁঝ নিচু গলায় বলল, “আমার কিন্তু মনে হচ্ছে আজ কিছু একটা হবেই…”
চিকু কোথা থেকে উড়ে এসে সাঁঝের কাঁধে বসে “চিক চিক” করে ডাকল।
হাফসা ফিসফিস করে বলল, “এই পাখিটাকেও চুপ করাও! না হলে সব ফাঁস হয়ে যাবে!” হাফসা তা বলতে দেরি মুহূর্তেই চিকু বোধ-হয় রেগে গেল। তড়িৎ গতিতে হাফসার মাথার ওপর বসে হাগু করে জলদি সাঁঝের কাঁধে এসে বসতেই হাফসা চেঁচিয়ে উঠতে গেল। তা দেখে ইলমা দাঁত কটমট করে বলে উঠল, “কিরে ছোটুন, আমার ছেলের মেয়ে হোক তা কি তুই চাস না? আর পাখিই তো। টিস্যু দিয়ে যা গিয়ে পরিষ্কার করে আয় মাথা।” হাফসা আর কিছু বলল না। তাকে যা বলা হলো সে কেবল তাই করল।
–
তাজের রুমটা প্রশস্ত, কিন্তু অপ্রয়োজনীয় কিছু নেই। সবকিছুই গোছানো, নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা। এক পাশে বড় জানালা, বাইরে ডুবে যাওয়া বিকেলের আলো এসে মেঝেতে লম্বা ছায়া ফেলেছে। দেয়ালে টাঙানো এভিয়েশন ম্যাপ, টেবিলের ওপর ছড়ানো ফ্লাইট লগ, হেডসেট। দরজার ভেতরে দাঁড়িয়ে সিয়া একবার চারপাশে তাকাল। বুকের ভেতরটা কেমন ধকধক করছে। এখানে আসাটা ঠিক হয়েছে তো? ঠিক তখনই বাথরুমের দরজা খুলে বের হলো তাজ।
হালকা ভেজা চুল, চোখে ক্লান্তি। কিন্তু সিয়াকে দেখার সাথে সাথেই তার দৃষ্টি ঠান্ডা হয়ে গেল।
“তুমি? স্পষ্ট বিরক্তি তার গলায়।
সিয়া তড়িঘড়ি সোজা হয়ে দাঁড়াল, “জি… স্যার, আমি আসলে”
“এখানে?” তাজ ধীরে দরজাটা বন্ধ করে ভেতরে এগিয়ে এল। “অফিস কম পড়ে গেছে নাকি? এখন বাসায় চলে আসতে হয়?”
সিয়া গিলল, “স্যার, আমি একটু কথা বলতে চেয়েছিলাম…”
“কাজের সময় কথা বলা যায় না?” তাজ থামাল। “না কি আবার নতুন কোনো কারণ লাগবে ছুটি নেওয়ার জন্য?”
শব্দটা বলার সময় তার ঠোঁটের কোণে কটাক্ষ।
সিয়ার চোখ নামিয়ে গেল, “আমি… একটু ছুটি চাইছিলাম।” এক মুহূর্ত নীরবতা। তারপর তাজ হালকা হেসে উঠল। “ছুটি?” সে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে। “তোমার তো প্রায় প্রতিদিনই কিছু না কিছু লাগে কখনো অসুস্থ, কখনো বাড়িতে সমস্যা… কখনো ‘মেন্টালি প্রস্তুত না’।” সিয়া এক পা পিছিয়ে গেল।
“স্যার, আমি চেষ্টা করি”।
“চেষ্টা?” তাজ এবার একদম সামনে এসে দাঁড়াল।
“এই ‘চেষ্টা’ দিয়ে কোনো ফ্লাইট সেফ থাকে না, মিস সিয়া। এটা খেলনা না।”
সিয়ার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেল। আর জায়গা নেই।
তার কণ্ঠ কাঁপছে, “প্লিজ… আমি সত্যি চেষ্টা করছি…” তাজ এক সেকেন্ড তাকিয়ে রইল তার দিকে। তারপর ধীরে হাত তুলে সিয়ার থুতনি ধরে উপরে তুলল। স্পর্শটা খুব জোরে না, কিন্তু এড়িয়ে যাওয়ার মতোও না। “আমার দিকে তাকাও,” সে নিচু গলায় বলল। সিয়া বাধ্য হয়ে চোখ তুলল। তার চোখ ভেজা, ভয় স্পষ্ট। “তুমি জানো তোমার জন্য পুরো টিম কতবার সমস্যায় পড়ে? একটা ভুল, একটা গাফিলতি এগুলো এখানে ‘মাইনর’ না।”
সিয়ার শ্বাস কেঁপে উঠছে, “স্যার… প্লিজ… লাগছে… এমন করবেন না…”
তাজ থেমে গেল। তার আঙুল একটু শক্ত হয়েছিল সেটা ঢিলে হয়ে এলো। কিন্তু হাত সরাল না এখনও।
চোখ দুটো গভীরভাবে দেখল সিয়াকে৷ কিন্তু পরক্ষণেই সে নিজেকে শক্ত করল। ধীরে হাত নামিয়ে নিল। এক পা পিছিয়ে গেল।
“নিজেকে ঠিক করো,” নিয়ন্ত্রিত গলায় বলল। “না হলে এই কাজটা তোমার জন্য না।”
সিয়া চুপ। শুধু মাথা নিচু। তার চোখের কোণ বেয়ে একটা অশ্রুবিন্দু গড়িয়ে পড়ল, কিন্তু সে মুছে ফেলল দ্রুত। তাজ মুখ ঘুরিয়ে টেবিলের দিকে গেল। ফাইল তুলে নিয়ে যেন ব্যস্ত হয়ে পড়ল। “ছুটির দরকার হলে অফিশিয়ালি আবেদন করো,” সে আরেকবার বলল, “এভাবে বাসায় এসে দাঁড়ানোর কোনো মানে নেই।”
সিয়া ধীরে ধীরে সোজা হয়ে দাঁড়াল। গলা শুকিয়ে গেছে। “জি… স্যার,” খুব আস্তে বলল সে।
দরজার দিকে হাঁটতে গিয়ে একবার থামল।
মনে হলো কিছু বলতে চায়। কিন্তু বলল না।
তাজ স্থির দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ। তারপর ধীরে চোখ বন্ধ করল। হাতটা যেটা কিছুক্ষণ আগে সিয়ার থুতনিতে ছিল সেটা মুঠো করে ফেলল।
“ডিসিপ্লিন…” খুব আস্তে বলল সে নিজের কাছে, “শুধু ডিসিপ্লিন।” কিন্তু তার নিজের গলার ভেতরেই শব্দটা কেমন ফাঁপা শোনাল। সিয়া চলে যেতে নিলে হঠাৎ পেছন থেকে ডাক হলো। “দাঁড়াও।” সিয়া থমকে গেল। কিছু বলল না। কেবল দাঁড়িয়েই থাকল। তাজ এবার এগিয়ে এসে হাত হাত ধরে তাকে কাছে এনে দাঁত চেপে বলল, “আর কোনোদিন যদি আমার বাসায় আসতে দেখে তবে এক হলে বিমানের চাকার সাথে তোমায় বেঁধে আকাশে উড়াব। নয়তো বিমান থেকে ধাক্কা মেরে ফেলব। এখন চুক্তিপত্রে সাইন করবে। আরেকবার ছুটি চাইলে আমি যেই শাস্তি দিব তাই মাথা পেতে নিতে হবে। নইলে আজকে কোনো ছুটি দিবো না।”
“কিন্তু আপনি তো চলে যেতে বলেছিলেন।”
“মুড সুইং।” সে আরেকটু কাছে এগিয়ে এসে শক্ত করে চেপে ধরে সিয়ার হাত। সিয়া ব্যথায় কেবল ছটফট করে।
–
বাইরে এখনো সব দাঁড়িয়ে আছে। নাজিরা সামনে একটু ঝুঁকে দাঁড়িয়ে আছেন, চোখ দরজার ফাঁকে। তার ঠিক পেছনে ইলমা, হাফসা, সাইরা। একজন আরেকজনকে ঠেলে জায়গা নিচ্ছে। সাঁঝ তো একদম দেয়ালে লেগে আছে, চিকুকে বুকে চেপে ধরে ফিসফিস করছে, “চুপ থাক, নইলে তোকে বাইরে রেখে আসব! শয়তান আরযান ভাইয়ের মতো শয়তান একটা।” চিকু “চিকু” করে একবার ডাক দিয়ে চুপ হয়ে গেল। হয়তো সেও পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝেছে। ভেতরে তাজের গম্ভীর কণ্ঠ ভেসে আসছে, মাঝেমধ্যে সিয়ার কাঁপা গলা… ইলমা চোখ বড় বড় করে বলল, “ওমা… কেমন করে ধমক দিচ্ছে!”
হাফসা ফিসফিস করে, “এইটা কি বেশি হয়ে যাচ্ছে না?”
সাইরা ঠোঁট চেপে, “চুপ! এখন মেইন অংশ দেখতে দে!”
হঠাৎভেতর থেকে পায়ের শব্দ হলো। নাজিরা চাপা গলায় বললেন, “মনে হয় শেষ… মেয়েটা এখন বের হবে।”
সাঁঝ তাড়াতাড়ি সোজা হয়ে দাঁড়াল, “দাঁড়াও দাঁড়াও, সবাই নরমাল হও!” সবাই হুড়মুড় করে নিজেদের ঠিকঠাক করার চেষ্টা করল। কেউ আঁচল ঠিক করছে, তো কেউ অন্যদিকে তাকাচ্ছে। দরজার হ্যান্ডেলটা সামান্য নড়ল। সবাই একসাথে জমে গেল।
“আসছে!”সাঁঝ প্রায় নিঃশব্দে বলল।
এক সেকেন্ড… দুই সেকেন্ড…
কিছুই হলো না। হ্যান্ডেলটা আবার স্থির। করিডোরে আবার নীরবতা। ইলমা ধীরে বলল, “কই? বের হলো না তো!”
সাইরা চোখ টিপে, “তাহলে ভেতরে এখনো চলছে!”
হাফসা আবার উঁকি দিল, “আরেকটু সরে দাঁড়াও না! কিছুই দেখা যাচ্ছে না!”
নাজিরা এবার একটু কৌতূহলী হয়ে গেলেন, “এতক্ষণ ধরে কি কথা হচ্ছে?”
সাঁঝের চোখ চকচক করছে, “আমি তো বলছিলাম আজ কিছু একটা হবেই! সরো দূরবীন আমাকে দাও।”
ঠিক তখনই পেছন থেকে ভেসে এলো ভারী গলা,
“এইখানে তো দেখি মেলা বসছে!”
সবাই চমকে ঘুরে তাকাল।
সাঁঝের দাদা। সাঁঝ দৌড়ে গিয়ে ফিসফিস করে বলল, “দাদা… বড় খবর! তাজ ভাইয়া আর ওই আপু”
সব শুনে দাদার চোখেও কৌতূহল জ্বলে উঠল।
“তাই নাকি…” তিনি ধীরে বললেন।
তারপর একটুও দেরি না করে সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন, “সরে দাঁড়া তোরা। সিনিয়র মানুষ আগে দেখবে।”
ইলমা চাপা হেসে, “এইটা তো দেখি সিরিয়াস ব্যাপার হয়ে গেল!”
দাদা এবার সত্যি সত্যি দরজার কাছে গিয়ে কান পাতলেন। ভেতর থেকে তাজের নিচু গলা, তারপর এক মুহূর্তের নীরবতা… সবার বুক ধড়ফড় করছে।
হাফসা ফিসফিস করে, “এইবার বের হবে মনে হয়…”
আবার হ্যান্ডেলটা একটু নড়ল। সবাই একসাথে সোজা হয়ে গেল। সাঁঝ দেয়ালের দিকে তাকিয়ে অভিনয় করছে, “আমি তো কিছুই করিনি…”
কিন্তু আবারও দরজা খুলল না। সবাই একসাথে হতাশ-উত্তেজিত দৃষ্টিতে একে অপরের দিকে তাকাল।
সাইরা এবার হেসে ফেলল, “না বের হলে তো আরও মজা!”
ইলমা মাথা নাড়িয়ে বলল, “এখন আমার সন্দেহ আরও বেড়ে গেল।”
নাজিরা ধীরে বললেন, “কিছু একটা হচ্ছে ভেতরে… না হলে এতক্ষণ লাগে?”
সাঁঝ ফিসফিস করে, “আমি বলি কি আমরা একটু কাছে যাই?”
দাদা হাত তুলে থামালেন, “না। বেশি এগোলে ধরা খাবি।”
তারপর নিজেই আবার একটু ঝুঁকে কান পাতলেন।
সবাই তার পেছনে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে। দাদা আসতে করে দরজার হাতল ধরল। একটু ফাঁক করে দেখলে মন্দ হবে না। আচ্ছা কেমন হবে যদি একটা কট দিয়ে বিয়ে করিয়ে দেওয়া যায় ওই জাউরা নাতিকে? সে হাতল ধরে সামান্য একটু চেষ্টা করল দরজা খোলার। এমনিই হঠাৎ সাঁঝের হাঁচি চলে এলো। সেই হাঁচির শব্দে সাঁঝের দাদা ঠিক থাকতে পারল না। দরজার হাতল খুলে গিয়ে ওমনেই হুড়মুড় করে সবগুলো ঘরের দরজার সামনে বসে যেতেই বিকট শব্দ হলো। তাজ আর সিয়া উভয়েই তাকালো সবার দিকে। মুখে কোনো শব্দ নেই। সবাই আর কি বলবে? বুড়োটা তো চ্যাপ্টা লেগে গেছে। সবগুলো কেবল তাজ আর সিয়ার দিকে তাকিয়ে হাসল। কারো আর মুখে কোনো কথা নেই। হঠাৎ মাঝ থেকে চিকু বলে উঠল, “ভাগো ভাগো ভাগো।”
চলবে?
( কত বড় পর্ব দিয়েছি দেখেছেন? সবাই কমেন্ট করবেন, কেমন হয়েছে জানাবেন। আর রেসপন্স করবেন। ধন্যবাদ।)
Share On:
TAGS: ইশরাত জাহান জেরিন, যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব ৭
-
যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব ৩
-
প্রেমতৃষা পর্ব ২৯+সারপ্রাইজ পর্ব
-
প্রেমতৃষা পর্ব ৪+৫
-
প্রেমতৃষা পর্ব ৪৭
-
প্রেমতৃষা পর্ব ৪৯
-
যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব ১৫
-
যেখানে প্রেম নিষিদ্ধ পর্ব ১২
-
প্রেম আসবে এভাবে পর্ব ৫
-
পরগাছা পর্ব ৮