Golpo romantic golpo প্রেমের নিঃশব্দ সূচনা

প্রেমের নিঃশব্দ সূচনা পর্ব ৬


প্রেমেরনিঃশব্দসূচনা

ইরিন_নাজ

পর্ব_৬

তৃপ্তি সহকারে খাবার খাচ্ছিল তোহফা। ওয়াশরুমের দরজা খোলার শব্দে লাস্ট গাল চিবুতে চিবুতে সেদিকে তাকাল সে। কিন্তু আরসালানকে জাস্ট একটা ট্রাউজার পড়া অবস্থায়, গলায় টাওয়েল ঝুলিয়ে, উদোম শরীরে বেরিয়ে আসতে দেখে খাবার নাকে-মুখে উঠে গেল তার। কাশতে কাশতে বেডসাইড টেবিলে রাখা গ্লাস নিয়ে দ্রুত পানি খেলো সে। প্লেটে হাত ধুয়ে সামনে তাকালে একই অবস্থায় দেখল আরসালানকে। লোকটা ঘাড় সামান্য কাত করে তাকেই দেখছে। চোখে হাত রাখল তোহফা। বুকের ভেতর অস্বাভাবিক কম্পন টের পেলো সে। নাক, মুখ কুঁচকে মৃদু চিৎকার করে আটকে আটকে বলল,

“ছিইইহঃ! এভাবে,,, এভাবে ঘুরছেন কেনো আপনি? কাপড় পড়ুউউন। জলদি…”

তোহফার কথা পাত্তা দিলো না আরসালান। নিজের কাজ করতে করতে বেশ স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল,

“আমার রুম, আমার মর্জি। যেকোনোভাবে ঘুরতে পারি।”

আরসালানের ত্যাড়া কথা পছন্দ হলো না তোহফার। ফুসে উঠল সে।

“এখন এটা আমারও রুম। আমি একটা মেয়ে মানুষ, আপনি আমার সামনে এভাবে ঘোরাফেরা করতে পারেন না।”

আঙুল উঁচিয়ে বেখেয়ালে মুখ ফসকে কথাটুকু বলে ফেলল তোহফা। আরসালান অধর বাঁকিয়ে হাসল। ধীর পায়ে এগিয়ে আসলো তোহফার দিকে। আরসালানকে ওভাবে এগোতে দেখে নিজেকে খানিকটা গুটিয়ে নিলো তোহফা। আরসালান থামল না। ঝুঁকল তোহফার দিকে। হাত রাখল তোহফার একপাশে। তোহফা সরে যেতে চাইলে অপর পাশে আরেকটি হাত রেখে বন্দী করল ওকে মধ্যখানে। দুজনের উত্তপ্ত নিঃশ্বাস মিলেমিশে একাকার হলো। আরসালান নীরব চোখে দেখল তোহফার অস্থিরতা। অতঃপর স্লো ভয়েসে বলে উঠল,

“আসতে না আসতেই অধিকার দেখাচ্ছ?”

জবাব খুঁজে পেলো না তোহফা। মুখ ফসকে কথাটা বলেই বিপদে পড়ে গেছে বেচারি। আরসালান অবশ্য জবাবের অপেক্ষাও করল না। পুনরায় ফিসফিসিয়ে বলল,

“বাই দ্য ওয়ে, আজ কিন্তু আমাদের ফার্স্ট নাইট। অধিকার দেখাবো?”

আরসালানের ইঙ্গিতে শিউরে উঠল তোহফা। হৃদস্পন্দন বাড়লো বহুগুন। তড়াক করে আরসালানের মুখপানে তাকাল সে। চোখেচোখি হলো দুজনার। অদ্ভুত ঘোরে ডুবে গেল তোহফা। নাকে এসে ঠেকলো পরিচিত সুবাস। আরসালানের দৃষ্টি আরও গভীর হলো। একনজরে তোহফার ছোট্ট, গোলগাল মুখপানে তাকিয়ে রইল সে। যা রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে। কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমেছে। ঠিক সেই মুহূর্তে আরসালানের ভেজা চুল থেকে এক ফোঁটা পানি গড়িয়ে পড়ল তোহফার সরু, রক্তিম নাকের ডগায়। সেই ফোঁটা গড়াল তার হালকা গোলাপি অধর অবধি। কেঁপে উঠল তোহফা। নজর হটালো অন্যত্র। খেয়াল করল তার শ্বাস নিতে বড্ড কষ্ট হচ্ছে। বুঁকের ভেতরটায় যেনো কেউ ড্রাম বাজাচ্ছে। ওই ধূসরাভ চোখ দুটোর দিকে আর তাকানোর সাহস করল না সে। কেঁপে কেঁপে বলে উঠল,

“দূর,,, দূরে সরুন…”

আরসালান এবার বিনাবাক্যে সরে দাঁড়াল। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল তোহফা। বুকে হাত চেপে মিনিট দুই নীরবে বসে রইল সে। অতঃপর আড়নয়নে তাকিয়ে দেখল আরসালান একটা ব্ল্যাক টি-শার্ট পড়ে ফেলেছে অলরেডি।

হঠাৎ রুমের লাইট অফ হয়ে গেল। চমকাল তোহফা। কিছু বলার পূর্বেই বেডসাইড ল্যাম্প জ্বালিয়ে দিলো আরসালান। ফলে রুমটা মৃদু আলোয় আলোকিত হলো। আরসালান বেডে বসতেই তোহফা হাত মোচড়াতে মোচড়াতে শুধাল,

“আপনি, আপনি কি এখানেই ঘুমাবেন?”

ভ্রু কুঁচকে তাকাল আরসালান। বলল,

“এখানে কি নাটক-সিনেমা চলছে নাকি যে একজন বেডে তো একজন ফ্লোরে অথবা সোফাতে ঘুমাবো! তাও যদি তোমার প্রবলেম থাকে, ফ্লোরে ঘুমাতে পারো। আই ডোন্ট হ্যাভ অ্যানি অব্জেকশন।”

অপমানে মুখটা কালো হলো তোহফার। রাগে ভেতরটা জ্বলে উঠল। ইচ্ছে হলো রুম ছেড়ে বেরিয়ে যেতে। কিন্তু অপশন সেই অপশনটা তো নেই। মাথা ব্যথাটা কমানোর জন্য এই মুহূর্তে একটা ভালো ঘুম দরকার তার। তাই চুপচাপ বেডে থাকা এক্সট্রা বালিশ মাঝখানে রাখল সে। অতঃপর আঙুল উঁচিয়ে আরসালানকে উদ্দেশ্য করে বলল,

“আপনি ওপাশে, আর আমি এপাশে ঘুমাব। ভুলেও এই বালিশ ক্রস করবেন না বলে দিলাম।”

আরসালান শান্ত চোখে তাকিয়ে প্রশ্ন করল,

“যদি করি?”

বিচলিত হলো তোহফা। কিন্তু সামলে নিয়ে জবাব দিলো,

“ভালো হবে না একদম। এপাশে আসবেন না।”

আরসালান তোহফার কথা গায়ে মাখলো বলে মনে হলো না। টানটান হয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল সে। তোহফাও আর কথা না বাড়িয়ে গাল ফুলিয়ে শুয়ে পড়ল উল্টো দিক ফিরে। বুঁকের ভেতরটা ঢিপঢিপ করছে তার। এইতো, গতকালও তার লাইফটা অন্যরকম ছিল। এই সময়ে নিজের বেডে গড়াগড়ি দিয়ে ঘুমাচ্ছিল সে। অথচ আজ, এইটুকু সময়ের মধ্যে সব বদলে গেল। এই যে আজ অন্য একজনের বেডে ঘুমাতে হচ্ছে তার, একটা পুরুষ মানুষের সাথে বেড শেয়ার করতে হচ্ছে। তাও আবার এমন এক পুরুষের সাথে যে তাকে সহ্য করতে পারে না। উঠতে বসতে অপমান করে। কয়েকটা ঘন্টা আগেও কি সে ভেবেছিল তার লাইফে এমন পরিবর্তন আসতে চলেছে! না, ভাবে নি। কল্পনাও করে নি। দীর্ঘশ্বাস ফেলল তোহফা। সব অশান্ত চিন্তাভাবনা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে ঘুমানোর চেষ্টা করল সে। সারাদিনের ধকলের পর বড্ড ক্লান্ত হওয়ায় বেশ সহজেই ঘুম ধরা দিলো। চোখের পাতা ভারী হয়ে আসলো তার। কিছু সময়ের মাঝেই ঘুমের দেশে তলিয়ে গেল সে।


রাত কটা বাজে জানা নেই আরসালানের। সবে চোখের পাতা এক হয়েছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে দেহের উপর কিছুর উপস্থিতি অনুভব করল সে। ঘুম হালকা হওয়ায় সহজেই ঘুম ভেঙে গেল তার। ভ্রু কুঁচকে নিজের বাহুর দিকে তাকাতেই দেখতে পেলো সেথায় মাথা রেখে ঘুমিয়ে আছে এক বাচ্চা বাচ্চা মুখশ্রীর রমণী। বাহুর সাথে চাপ লেগে গাল এবং অধরযুগল ফুলে আছে মেয়েটার। কিছু চুল এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কপালে, গালে।

মাঝের বালিশ সরিয়ে গড়াগড়ি দিয়ে এই অবধি এসেছে তোহফা। হাত-পা তুলে দিয়েছে আরসালানের শরীরে ওপর। জাপটে ধরে বেশ শান্তিতে ঘুমাচ্ছে সে। আলো-আঁধারিতে তোহফার মুখপানে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল আরসালান। ভ্রুর মাঝের ভাঁজ শিথিল হলো। চোখে-মুখে খেলা করতে লাগল অন্যরকম কিছু। তাকে শাসিয়ে মেয়েটা নিজেই লাইন ক্রস করেছে। অধর বাঁকিয়ে সামান্য হাসল সে। তোহফার কপালে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা চুলগুলো আলতো হাতে সরিয়ে দিলো। অতঃপর ওকে সরানোর চেষ্টা করতেই হাত পড়লো ওর উন্মুক্ত সরু, নরম তুলতুলে কোমরে। থমকালো আরসালান। ঘুমের মাঝে হালকা কেঁপে উঠল তোহফাও। আরসালানের হুশ ফিরল। তৎক্ষণাৎ তোহফার পরনের শার্ট টেনে ঠিক করে দিলো সে। পুনরায় ওকে সরানোর চেষ্টা করল। কিন্তু এবার তোহফা আরও আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরল তাকে। হুট করে ডুকরে কেঁদে উঠল। ভরকালো আরসালান। খেয়াল করল তোহফা কিছু একটা বিড়বিড় করছে। ওর দিকে ঝুঁকতেই শুনতে পেলো তোহফা ঘুমের ঘোরে কাঁদতে কাঁদতে বিড়বিড় করে বলছে,

“ওই রাক্ষস লোককে বিয়ে করব না, করব না। আম্মু বাঁচাও, আব্বু বাঁচাও আমাকে।”

মাথার ভেতরে যেনো আগুন জ্বলে উঠল আরসালানের। কপালের রগগুলো ফুলে দৃশ্যমান হলো। হাতের মুঠো শক্ত করে জোরে শ্বাস টানলো সে। শক্ত হাতে তোহফাকে সরাতে চাইল। কিন্তু তোহফার কান্নার তীব্রতা বৃদ্ধি পেতেই থেমে গেল সে। তোহফা ততক্ষনে আদুরে বিড়াল ছানার ন্যায় বুকে মুখ গুঁজেছে। একটু পরপর ফুঁপিয়ে উঠছে। আরসালানের হাতের স্পর্শ রুক্ষ থেকে কোমল হলো। অবাধ্য হাত কোমলভাবে বেশ কয়েকবার চলল তোহফার চুলের ভাঁজে। অদ্ভূতভাবে তোহফা শান্ত হয়ে গেল। এখন আর কাঁদছে না সে। আরসালানের টি-শার্ট খামচে ধরে পরম শান্তিতে ঘুমাচ্ছে। আরসালান ফোঁস করে নিঃশ্বাস ছাড়ল। ঘুমন্ত তোহফার মুখপানে তাকিয়ে ধীর স্বরে প্রশ্ন করল,

“যাকে রাক্ষস বলো, তার বুকে মাথা রেখে এত শান্তিতে ঘুমাচ্ছ কিভাবে, হু?”

চলবে,

(গল্প পড়েন, কিন্তু রেসপন্স করেন না অনেকেই। যেহেতু পড়ছেন, একটু রেসপন্স তো করতেই পারেন। ছোটোখাটো একটা মন্তব্য করতেই পারেন। যাই হোক, রিচেক দেয়ার সময় পাই নি। ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইল।)

পেজ লিংক :
https://www.facebook.com/profile.php?id=100084228455276

গ্রুপ লিংক:
https://www.facebook.com/groups/793917018458290/?ref=share

আইডি লিংক:
https://www.facebook.com/profile.php?id=100078880801895

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply