#প্রণয়ঘোরের_সন্ধিতে (১০)
#লেখনীতে_সালমা_চৌধুরী
প্রত্যুষের নির্মল হাওয়ায় পাখির গুঞ্জন। সোনালি রোদের ঝলমলে আলোতে শিশির কণারা ঝলক দিচ্ছে। পথের বাঁকে গাছে গাছে মিনজিরি ফুলের মেলা বসেছে। হলুদ রঙের ফুলগুলো দূর দূরান্ত থেকেও অবাধে সকলকে আকৃষ্ট করছে। ছাঁদের মাঝখানটায় নৌমি চোখ বন্ধ করে দু’হাত ছড়িয়ে বসে আছে। টিভিতে মেডিটেশনের গুরুত্ব শুনতে শুনতে মনের মধ্যে আগ্রহ জেগেছিল। আব্বুকে বলে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও কিনিয়েছে। কিন্তু মেডিটেশন করার প্রবল ইচ্ছে থাকলেও তার দ্বারা এসব সম্ভব হয়ে ওঠছে না। তবে চেষ্টার কোনো ত্রুটিও রাখছে না। আজ শেষ রাতে স্বপ্ন দেখেছে, মেডিটেশন করার ফলে পড়াশোনায় মনোযোগ বেড়েছে। শুধু এক চান্সে সব সাবজেক্টে পাশই করেনি। সাথে ক্লাসে টপও করেছে। ঘুম ভাঙার পর স্বপ্নের কথা মনে হতেই ঠোঁটে রহস্যময় হাসি ফুটেছে। ভোরের আলো ফুটতেই মেডিটেশন করতে ছুটে এসেছে ছাঁদে।
নৌমি বন্ধ চোখ অকস্মাৎ আঁধারে ডুবে গেছে। কারো উপস্থিতি উপলব্ধি করতেই চট করে চোখ মেলল। তাজ নৌমির ঠিক সামনে ব্রাশ হাতে ছাঁদের ফ্লোরে বসে আছে। অতি সন্তর্পণে নিঃশ্বাস ছাড়ছে আর মিটিমিটি হাসছে। নৌমি প্রগাঢ় চোখে তাকিয়ে সহসা ভ্রু কুচকাল। তাজ এক হাতে হাঁটুতে ভর দিয়ে তার উপর মাথা এলিয়ে মোলায়েম কন্ঠে শুধাল, ” আপা আপনি কি মেডিটেশন করছেন?”
নৌমি নিঃশব্দে ঠোঁট বাঁকাল। বিরক্তির ভাব নিয়ে বলল, ” না। তোমার বিয়ের জন্য ডান্স শিখতেছি।”
” আমিও তো সেটায় ভাবছি। মেডিটেশন করার মেয়ে তো মুসকান না।”
” আজ আমি মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে এসেছি। যেভাবেই হোক ৩০ মিনিট মেডিটেশন করবই।”
” সর্বনাশ! তুই একটানা ৩০ মিনিট মেডিটেশন করলে সব ধ্বংস হয়ে যাবে। এত বড়ো অন্যায় তুই করিস না। নিজের হাতে সবকিছু ধ্বংস করিস না, প্লিজ। প্রয়োজনে ৫ মিনিট কর নয়তো ১০ মিনিট কর। এর বেশি ভাবতেও যাস না।”
” মজা করতেছো আমার সাথে?”
” তোর মুখে মেডিটেশনের গুরুত্ব শুনতে শুনতে আজ আমি ক্লান্ত। তারউপর ছাঁদে আসিস না, আসিস না ধূমকেতুর মতো হঠাৎ একদিন যেভাবে রেডি হয়ে মেডিটেশন করতে আসিস। আমার ভয়ই লাগে। এই বুঝি কিছু একটা ভর করল তোকে।”
“আমাকে কিছু ভর করলে সবার আগে তোমার ঘাড় মটকাব।”
“আমি আবার কি করেছি?”
নৌমি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলল, ” তুমি কি করেছো জানো না?”
“না। আমার জানা মতে কিছুই করি নি।”
“তুমি সেদিন কত রাতে আমাদের বাসায় এসেছিলে মনে আছে? বাসায় কার সঙ্গে কি কথা বলেছ কে জানে! আমাকে ঘুম থেকে ওঠিয়ে তুমি কথা বলে গিয়েছ। আব্বু, আম্মু এমনিতেই তোমাকে আমার অর্ধেক বউ ভেবে রেখেছে। একটার সাথে আরেকটা ফ্রী অফারের মতো বাসায় আমার সাথে তুমি ফ্রী হয়ে গিয়েছো। যেকোনো জায়গায় যেতে চাইলে তোমার নাম নিলে স্পেশাল ছাড়ও আছে। বাব্বাহ! তোমার এত ডিমান্ড আগে জানা ছিল না আমার। সে যাই হোক, তুমি যাওয়ার পর থেকে গতকাল সারাদিন ক্ষণে ক্ষণে জিজ্ঞেস করা হচ্ছিল। তুমি এত রাতে কেন এসেছিলে, কি বলেছিলে। আপু তো আমার মাথা খেয়ে নিচ্ছিল। এক্সিডেন্টের কথা বলতেও পারছিলাম না চেপেও রাখতে পারছিলাম না।”
তাজ মলিন গলায় বলল, ” সেদিন তোর উপর খুব রাগ হয়েছিল। সারাদিন সব কথা নির্দ্বিধায় বলতে পারিস অথচ এক্সিডেন্টের কথাটা একবারও বলতে পারলি না! সেজন্য তোকে বকা দিতেই মূলত গিয়েছিলাম৷ কিন্তু তোর সদ্য ঘুম ভাঙা মুখটা দেখে বড্ড মায়া হয়েছিল। তাই বকা দিতে ইচ্ছে হয় নি। “
“আহারে! বেচারা ভাই আমার। ভবিষ্যতে শিক্ষক হলে কি হবে তোমার? ভালো স্টুডেন্টকে এ+ দিবে ভালো কথা। ফেইল করা স্টুডেন্টদের খাতায় কি লিখে দিয়ে পাশ করাবে? আর যাই করো, চাকরির ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে মানুষের প্রতি মায়া দেখিয়ে নিজে ইন্টারভিউ না দিয়ে চলে এসো না।”
“কিসের সঙ্গে কি মেলাচ্ছিস ! তুই কি তাঁদের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করছিস?”
” না। আমি তোমার সঙ্গে তোমার মায়ার তুলনা করছি। এইযে তুমি আমাদের ছাঁদে এসেছো। আব্বু দেখলে কি করবে জানো?”
“কি করবে?”
” আজকেই মেজো মামাকে গিয়ে বলবে, ছেলের চাকরির দরকার কি! চাকরি তো পরেও নিতে পারবে। লুকিয়ে লুকিয়ে দেখাসাক্ষাৎ করার থেকে ভালো হয় না, দু’জনকে বিয়ে দিয়ে দেয়।”
তাজ তপ্ত স্বরে বলল, ” তাদের এসব আজগুবি কথার জন্য আমি কি এখন তোর সঙ্গে কথাও বলতে পারব না? ছোট থেকে একসঙ্গে বড়ো হয়েছি আমরা। রাগ, অভিমান, সুখ, দুঃখ সবই শেয়ার করে এসেছি৷
হুট করে ওনাদের সিদ্ধান্তের জন্য মেপে মেপে কথা বলতে হবে নাকি? আমার মগজ জুড়ে কথার বিচরণ, আমি তোকেই বলব আমরণ। কে আটকাবে আমায়?”
নৌমি ক্ষীণ হেসে বলল, ” কে আটকাবে সেটা বলতে পারব না৷ কিন্তু তুমি নিলু ভাবিকে দ্রুত বিয়ে না করলে আমি সহ ফেঁসে যাব৷ শুধু এটায় জানিয়ে রাখলাম তোমাকে।”
“সেসব পরে দেখা যাবে। তোর সঙ্গে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে।”
” হ্যাঁ, বলো।”
” আজ বিকেলে আমাদের বাসায় তোর স্পেশাল দাওয়াত। সেজেগুজে চলে আসিস।”
“ওমা! সেজেগুজে যাব? শাড়ি পড়ব নাকি?”
“তোর বিয়ে লাগে নি যে শাড়ি পড়ে যেতে হবে। লাল জামা, নীল প্লাজু, সাদা ওড়না, চুলে পাখির বাসা শুধু এভাবে যাস না। আমি তোর ভালোর জন্যই বলছি।”
” আমি অকারণে তোমাদের বাসায় গেলে তুমি দশটা কথা শোনাও আমাকে। সেই তুমি আজ যেভাবে স্পেশাল দাওয়াত দিচ্ছ। আমার মনে হচ্ছে, আম্মুর বিয়ের শাড়ি আর সব গহনা পড়ে হাজির হই।”
তাজ গম্ভীর মুখ করে প্রশস্ত চোখে তাকাতেই নৌমি এক গাল হেসে বলল, ” আরে আমি তো মজা করতেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ স্পেশাল দাওয়াত কিসের? আমাকে না জানিয়ে নিজের বিয়ে ঠিক করে ফেলনি তো?”
অকস্মাৎ নৌমির আব্বু ছাঁদে এসেছেন৷ কপালে ভাঁজ ফেলে বললেন, ” এত বড় বড় দুইটা বাড়ি থাকতে কথা বলার মতো জায়গা কি তোদের হয় না? এই রোদের মধ্যে ছাঁদেই কথা বলতে হবে?”
তাজ তৎক্ষনাৎ ওঠে দাঁড়াল। নৌমি দুচোখ বন্ধ করে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে মনে মনে আওড়াল, ” যে ভয়টা পাচ্ছিলাম! লোকে ঠিকই বলে৷ যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই সন্ধ্যে হয়।”
তাজ আমতা আমতা করে বলল, ” ও মেডিটেশন করতেছিল তাই দেখতে এসেছিলাম। চলে যাচ্ছি এক্ষুনি।”
“আমি কি যেতে বলেছি তোমাকে?”
” না। আসলে পড়তে বসতে হবে।
” নৌমি বিয়ের কথা কি বলতেছিল।”
” ঐসব কিছু না, ফুফা। এমনিতেই মজা করতেছিল।”
” শুনো, তাজ। নিজের মানুষদের মধ্যে কোনো লুকোচুরির প্রয়োজন নেই। মেজো ভাইজান তোমাদের বিয়ের কথা বলেছেন মানে আমার পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি নেই৷ তোমার আজ চাকরি নেই কাল হয়ে যাবে, এটাও কোনো সমস্যা না। তোমাদের দু’জনের সম্মতি থাকলে আমরা আর কিছুই ভাবব না।”
তাজ মাথা নিচু করে বলছে, ” না মানে। আসলে আমি..”
নৌমি ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে বসা থেকে ওঠে দাঁড়িয়ে স্বাভাবিক কন্ঠে বলল, ” তামজিদ ভাইয়া, তুমি যাও এখান থেকে। আর আব্বু তুমিও নিচে চলো। তোমাকে নিষেধ করার পরও আবার এই কথা বলছ।”
“আমি কি এমন বললাম?”
“কিছু বলতে হবে না তোমার। অনেক মেডিটেশন করে ফেলেছি৷ খুব ক্ষুধা লেগেছে। চলো, খেতে যাব।”
“তুই যা৷ আমি তাজের সঙ্গে একটু কথা বলে আসছি।”
নৌমি তাজের দিকে তাকিয়ে চোখ রাঙাল। সহসা রাগী স্বরে বলল, ” ভাইয়া, তোমার না কলেজে যেতে হবে। দেরি হয়ে যাচ্ছে না?”
তাজ অসহায় দৃষ্টিতে তাকাল কেবল৷ নৌমির আব্বু উদ্বিগ্ন কন্ঠে শুধালেন, ” কলেজে যাবে?”
সহায়হীন হয়ে ওপর-নিচ মাথা নাড়ল। নৌমির আব্বু বললেন, ” ঠিক আছে৷ তাহলে অন্য কোনো সময় কথা হবে।”
“জি, ফুফা।”
★
পশ্চিমের আকাশে রোদ্দুর হেলে পড়েছে। সূর্যের আলো থাকলেও তাপ নেই বললেই চলে। সঙ্গে মৃদুমন্দ সমীরণে শীতল সুর বাজছে। শীত আসতে খুব বেশি দেরি নেই। প্রকৃতি যেন তারই জানান দিচ্ছে। তাজের কথা মতো বাসায় বিস্তর আয়োজন চলছে। শুভ্ররা আজ আসতেছে এই খবর বাসার কেউই জানে না৷ তাজ নিজের মতো পরিকল্পনা করে সবাইকে বাসায় দাওয়াত দিয়েছে। তাজদের বড়ো চাচি, চাচাতো ভাই বোনেরাও এসেছেন। ইতোমধ্যে নৌমিদের বাসার সবাই চলে গিয়েছে। নৌমি এখনও সাজুগুজু করছে। নতুন একটা থ্রিপিস পড়ে কাঁধের নিচ পর্যন্ত চুলগুলো ছেড়ে তার উপর মাথায় ওড়না দিয়ে ভদ্র মেয়ের মতো সেজেছে। নৌমিদের বাসায় তালা দিয়ে তাজদের বাসায় এসেই দেখে বাড়ি ভর্তি মানুষজন৷ ছুটে এসে বড়ো মামীকে জড়িয়ে ধরল নৌমি। ভাইয়া, আপুদের সালাম দিয়ে গল্প করতে লাগল। কিছুক্ষণ পর তাজ নেমে এসেছে৷ বসার ঘরে সবাই আছে অথচ নৌমিকে খুঁজে পাচ্ছে না। তাজ অকস্মাৎ শুধাল,
” মুসকান আসেনি এখনও?”
নৌমি চোখ ঘুরিয়ে তাজের দিকে ঘুরে বলল, ” এই তো আমি।”
নৌমির থ্রিপিস পড়া ভদ্র সাজ আর মাথায় ঘোমটা দেখেই হতভম্ব হয়ে রইল। বিপাশা আপু বলে উঠলেন, ” তুই ছোটবেলা নৌমির ছায়া দেখলেও চিনে ফেলতিস আর এখন জলজ্যান্ত মানুষটা বসা তবুও চিনতে পারলি না।”
তাজ বিরক্তির স্বরে বলল, ” আপু, হাজারো মানুষের ভিড়ে পাগলকে কিন্তু ঠিকই চেনা যায়। কিন্তু সেই পাগল যদি স্বাভাবিক মানুষের মতো ভাবভঙ্গি ধরে বসে থাকে তখন তুমি চিনবে তো নাই উল্টো সে পাগল জানতে পারলে আরও চিন্তায় পড়ে যাবে।”
তাজ চলে গেছে। বিপাশা আপু নৌমির দিকে তাকিয়ে বলল, ” তোকে কিন্তু পাগল বলে নি৷ “
নৌমি গাল ফুলিয়ে উঠে গিয়ে তাজের সামনে দাঁড়াল। বিপাশা কপালে হাত চেপে বলল, ” আজকে তাজের খবর আছে। “
তাজ তপ্ত স্বরে বলল, ” কি চাই?”
” তুমি আমাকে পাগল বললে কেন?”
” আমি কি একবারও বলেছি নৌমি পাগল?”
” না। তুমি ইনিয়েবিনিয়ে বলেছো আমি পাগল।”
” তোর এত বুদ্ধি হয়ে গেছে যে ইনিয়েবিনিয়ে বলা কথাও আজকাল বুঝে যাচ্ছিস।”
” আমার বুদ্ধি বরাবরই একটু বেশি। তাই কথা দিয়ে ব্যথা ভুলানোর চেষ্টা আমার সঙ্গে করো না।”
তাজ দাঁতে দাঁত পিষে বলল, ” তোকে সাজতে বলেছি বলে এভাবে সেজে আসবি? এর থেকে ফুপ্পির বিয়ের শাড়িটায় পড়ে আসতে পারতি। সবার উপস্থিতিতে ঘাড়ে ধরে তোর সাথে আমার বিয়েটায় দিয়ে দিত।”
নৌমি ক্ষুদ্র চোখে পরপর কয়েক বার পল্লব ঝাপটে বলল, ” মানে?”
” মুখে ১৭৫ গ্রাম মেকআপ, ঠোঁটে লাল লিপস্টিক, চোখে কাজল, গালে টমেটো সস লাগিয়ে আসাটা কি খুব প্রয়োজন ছিল?”
“টমেটো সস?”
” গালে কি দিয়েছিস এসব?”
“ব্লাশন বলে এগুলোকে।”
“সে যাই বলুক। এত সাজতে বলেছিলাম তোকে?”
” এক্ষুণি বাসা থেকে মুখে ধুয়ে আসছি৷ ওয়েট।”
নৌমি এক দৌড়ে বাসার বসার রুম পেরিয়ে ছুটল। তাজ ডাকছে,
“এই মুসকান, কথা তো শুনবি।”
নৌমি তাজের দিকে তাকিয়ে থেকে মেইন গেটের বাইরে যেতে যেতে বলল, ” এসে শুনব।”
অকস্মাৎ শক্তপোক্ত কিছুর সঙ্গে জোরেশোরে ধাক্কা খেল। অনাকাঙ্ক্ষিত ধাক্কায় চঞ্চল পা থামল। মাথাটা সহসা চক্কর দিয়ে ওঠেছে। মাথার সাথে সাথে নাকটাতেও প্রচন্ড চাপ খেয়েছে। নৌমি ব্যথায় আর্তনাদ করল। দমকা হাওয়ার মতো দুইটা মজবুত হাত নৌমির বাহু চেপে শীতল কণ্ঠে ডাকল, ” নৌমি, তুমি কি ঠিক আছ?”
নৌমির অস্পষ্ট স্বরের আর্তনাদ তাজের কান পর্যন্ত পৌঁছেছে কি না কে জানে! কয়েক মুহুর্তের মধ্যে তাজও এসে মেইন গেটে দাঁড়াল। পরিচিত কন্ঠস্বর কানে পৌঁছাতেই নৌমি চমকে তাকাল। অজান্তেই দুচোখ প্রশস্ত হলো। হৃদয়ের সবটুকু কৌতুহল কন্ঠে ঢেলে ডাকল, ” শুভ্র ভাইয়া!”
চলবে…..
Share On:
TAGS: প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে, সালমা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ২৩
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ১৪
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ৩০
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ৩১
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ১১
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ২২+বর্ধিতাংশ
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে সূচনা পর্ব
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ১৮
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ২৭
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ১৫