#প্রণয়ঘোরের_সন্ধিতে
#লেখনীতে_সালমা_চৌধুরী
(০৬)
বিকেলদিকে নৌমির আম্মু আর দুই মামি মিলে শপিং এ গিয়েছিলেন। সবার জন্য কেনাকাটা করেছেন। বাড়ির সদস্য ছাড়া শুভ্র আর সুমির জন্যও ড্রেস কিনেছেন। নৌমির সবার মাঝখানে সোফায় বসে ছোট মামির ফোন থেকে শুভ্রকে ভিডিও কল দিল। এ সময় শুভ্র ছাড়া কেউ ই ফ্রী থাকে না তাই বাধ্য হয়ে শুভ্রকেই কল দিতে হলো। কল রিসিভ করে নৌমিকে দেখেই শুভ্রর দুচোখ প্রশস্ত হয়ে গেল। মোলায়েম কন্ঠে বলল,
” কি খবর?”
নৌমি হেসে বলল,
” খুব ভালো, তোমাদের জন্য আজও কেনাকাটা করা হয়েছে অথচ তোমরা আসছোই না। এমন করলে তোমাদের ভাগের জামাকাপড় কিন্তু আমি নিয়ে নিব।”
শুভ্র ঠোঁট কামড়ে হেসে বলল,
” নিয়ে নাও, কোনো সমস্যা নেই।”
নৌমি ক্যামেরা ঘুরিয়ে কিছুক্ষণ জামাকাপড় দেখালো। শুভ্র কপাল কুঁচকে ভারী কন্ঠে বলল,
” ভিডিও কলে জামাকাপড় দেখে শান্তি নেই তার থেকে ভালো ক্যামেরা ঘুরাও তোমাদের দেখি। “
নৌমি ক্যামেরা ঘুরিয়ে জানতে চাইল,
” সুমি কোথায়?”
” এখন ওর ঘুমের সময়।”
নৌমির পাশ থেকে বড় মামি, নৌমির আম্মুও শুভ্রর সাথে টুকটাক কথা বলছে। আচমকা তাজ আসছে। নৌমির মাথায় নিজের থুতনি ঠেকিয়ে কাঁধের উপর আলতোভাবে হাত রেখে অদম্য কন্ঠে বলল,
“কিরে শুভ্র, কি অবস্থা তোর?”
এমন দৃশ্য দেখে শুভ্র কিছুটা ভড়কে গেছে। নৌমি চোখ তুলে তাকাতে নিল, কিন্তু তাজের থুতনির ভারে ঠিকমতো তাকাতে পারল না। ওদিকে শুভ্র নিষ্পলক চোখে তাকিয়ে আছে। কিছু বলতে চেয়েও বার বার আঁটকে যাচ্ছে। কয়েক সেকেন্ড পর নিজেকে ধাতস্থ করে কড়া গলায় বলল,
” আমার অবস্থা সবসময় ভালো।”
তাজ হেসে বলল,
” ভেরি গুড।”
তাজ সামনের টেবিলের দিকে তাকিয়ে আম্মু আর ফুপ্পিকে উদ্দেশ্যে করে বলল,
” সবার জন্য কিছু না কিছু এনেছো আমার জন্য কি আনলে?”
নৌমির আম্মু একটা শপিং ব্যাগ থেকে দুটা টিশার্ট বের করে তাজের দিকে এগিয়ে দিলেন। তাজ নৌমির কাঁধ থেকে হাত সরিয়ে টিশার্ট দুটা হাতে নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো। নৌমিও সহসা ঘাড় ঘুরিয়ে তাজের হাতের টিশার্টের দিকে তাকালো। আচমকা ফোন মামিকে দিয়ে তাজের এক টি শার্টে টান দিল। টিশার্ট আঁকড়ে ধরে বলল,
“এটা আমার।”
প্যাকেটের উপর দিয়ে টিশার্টের এক মাথা ধরে নৌমি টানছে, আরেক মাথায় তাজ ধরে আছে। তাজ রাগান্বিত কন্ঠে চিৎকার করল,
“আমার সব জিনিসে ভাগ বসানোর অভ্যাস টা ছাড় বলছি। “
নৌমি নাছোড়বান্দা, সেও উঁচুস্বরে চেঁচাল,
” আমার এই টিশার্ট পছন্দ হয়েছে, এটা আমার লাগবেই। আগে দেখলে তুমি আসার আগেই আমি সরিয়ে দিতাম।”
“এজন্যই তোকে আগে দেখায় নি, ছাড় এখন।”
রাদ, নৌমির আম্মু, তাজের আম্মু হতবাক হয়ে চেয়ে আছেন। ফোনের অপর প্রান্তে থাকা শুভ্রর চোখ মুখে রাগ। কেমন যেন ফোঁস ফোঁস করছে। নৌমি আর তাজের লড়াই আজ বেশিক্ষণ টিকলো না। তাজ টিশার্ট নিয়ে চলে যাচ্ছে, নৌমি ঠোঁট উল্টিয়ে কাঁদো কাঁদো মুখ করে আম্মুকে বলছে,
” তুমি আমার সাথে এমনটা করতে পারলে?”
শুভ্র এবার মুখ খুললো। কন্ঠ স্বাভাবিক করে বলল,
” নৌমি, তুমি চাইলে আমার টিশার্টটা নিয়ে নিতে পারো। “
তাজ সিঁড়ি দিয়ে উঠছিল, অর্ধেক সিঁড়ি উঠে শুভ্রর কথা শুনে থমকে দাঁড়ালো।
নৌমি বিড়বিড় করে বলল,
” আমার ঐটায় ভালো লেগেছে।”
নৌমির আম্মু রাগী স্বরে বললেন,
” তোর কাজ ই তো তাজের পিছনে লাগা। সারা দুনিয়ার জামাকাপড় তোর সামনে রাখলেও তুই সেই তাজের জিনিসেই হাত দিবি। ছোট থেকে তোর এসব কাণ্ডই দেখে আসছি।”
তাজ নেমে এসে নৌমির হাতে টিশার্টটা দিয়ে গম্ভীর কন্ঠে বলল,
” নে তোর টিশার্ট।”
নৌমি টিশার্ট হাতে নিয়ে খুশিতে গদগদ হয়ে বলল,
” আহা! মনটা একদম শান্ত হয়ে গেছে।”
★
সময় চলছে নিজের গতিতে। নৌমির পরীক্ষা শেষ, এখন কিছুদিন পড়াশোনার চাপ নেই তাই খুব ঘুরতে ইচ্ছে করছে৷ কিন্তু ঘুরার মতো কেউ নেই। ২-১ টা বান্ধবী যাও আছে তারাও পরীক্ষা শেষে বেড়াতে নিজেদের গ্রামের বাড়ি চলে গেছে। এদিকে আন্নিরও পরীক্ষা চলে৷ শেষ ভরসা তাজ ছাড়া আর কোনো অপশনও নেই। যদিও তাজ পড়াশোনায় ব্যস্ত কিন্তু কিছু করার নেই। নৌমি সাজগোছ করে একেবারে রেডি হয়ে তাজদের বাসায় আসছে। রাফির সামনে HSC পরীক্ষা সে নিজের পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত, রাদের এখন খেলার সময়। নৌমি ছুটলো তাজের রুমে। রুমের বন্ধ দরজা খুলতেই দেখল রুম বেশ অন্ধকার। নৌমি গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে গেল, সূক্ষ্ম নেত্রে তাজকে খুঁজতে লাগলো। বিছানা মাঝ বরাবর তাজকে আবিষ্কার করল। সন্দেহের বশে হাত বাড়িয়ে তাজের উন্মুক্ত পিঠে হাত রাখল। নৌমির ঠান্ডা হাতের স্পর্শে তাজ ঘুমের মধ্যেই কেঁপে উঠেছে, লাফিয়ে উঠে চেঁচাল,
“কে?”
“ভূতনি”
নৌমি সঙ্গে সঙ্গে জানালার ভারী পর্দা টেনে সরিয়ে দিল, রুমের দরজা খুলতে খুলতে বলল,
“বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা হতে চলল আর তুমি এখনও ঘুমাচ্ছো!”
তাজ চোখমুখের ঘাম মুছে বলল,
” তুই এ সময়!”
নৌমি খেয়াল করল, তাজের গলা কাঁপছে। নৌমি নিরেট দৃষ্টিতে তাকিয়ে বিজ্ঞের ন্যায় প্রশ্ন করল,
” তুমি ভয় পাচ্ছো কেনো? আমি সত্যি সত্যি ভূতনি না তো।”
তাজের শরীর ঘামছে, ঠান্ডা কন্ঠে বলল,
“ফ্যান টা দে।”
নৌমি সঙ্গে সঙ্গে ফ্যান চালু করে তাজের পায়ের কাছে বসে উদ্বিগ্ন কন্ঠে শুধালো,
” কি হয়েছে তোমার?”
” বাজে একটা স্বপ্ন দেখছিলাম হুট করে তুই এসে ধরলি। বুকটা এখনও কাঁপছে। “
নৌমি জগ থেকে পানি ঢেলে গ্লাস এগিয়ে দিয়ে শীতল কন্ঠে বলল,
” রুম অন্ধকার ছিল, আমি বুঝতে পারছিলাম না। সরি।”
তাজ পানি শেষ করে জোরে নিঃশ্বাস ছাড়লো। নৌমি আবারও প্রশ্ন করল,
“কি স্বপ্ন দেখেছো?”
” পৃথিবীর সবচেয়ে নিকৃষ্টতম দুঃস্বপ্ন।”
“কি বিষয়ে?”
তাজ নৌমির দিকে তাকালো। আতঙ্কে নৌমির মুখ শুকিয়ে গেছে, চোখে উদ্বিগ্নতা। তাজ মলিন হেসে বলল,
” তুই এত সিরিয়াস হয়ে যাচ্ছিস কেনো? কোথায় যাবি?”
“শুনেছি নতুন একটা পার্ক হয়েছে। পার্কটা নাকি খুব সুন্দর। ঐখানেই ঘুরতে যাব। তুমি কি যাবে?”
” ১০ মিনিট অপেক্ষা কর, রেডি হচ্ছি।”
“আমি তাহলে নিচে যাচ্ছি।”
“হু। আমার স্বপ্নের বিষয়ে কাউকে কিছু বলিস না।”
“আচ্ছা।”
নৌমি আর তাজ পার্কে হাঁটছে। রাফিকেও কল দিয়েছে, রাফি কাছেই টিউশন পড়ে। টিউশন শেষ করে পার্কে আসবে। নৌমি পপকর্ণ খাচ্ছে আর তাজের সাথে গল্প করছে। হাঁটতে হাঁটতে নৌমি অকস্মাৎ ডেকে উঠল,
“তামজিদ ভাইয়া..”
“কি?”
“ঐ দেখো নিলু আপু।”
তাজ সঙ্গে সঙ্গে সেদিকে তাকালো। হ্যাঁ, এটা নিলুই। পড়নে কমলা রঙের হালকা কাজের একটা শাড়ি, সিম্পল সাজ। নিলুর পাশেই ফর্মাল ড্রেস পড়া এক লোক বসা। তাজের বুঝার বাকি রইল না কিছু৷ দুপুর থেকে নিলুর নাম্বার বন্ধ, নেটেও এক্টিভ নেই। ইদানীং খুব বেশি কথাও হয় না তাজের সাথে। তাজ নিজের কাজকর্ম, পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে নিলুকে কল দেয় ঠিকই কিন্তু নিলু এখন আর আগের মতো কথা বলতে চায় না।
আজ থেকে ৩ বছর আগে নিলু তাজ বলতে একদম উন্মাদ ছিল। বন্ধুত্বের সম্পর্কে হঠাৎ প্রেমের আভাস, জীবনের বিষাদ ভুলে সাজিয়েছিল নতুন সাজে। শরতের এক বেলায় নিলু কাশফুলের জন্য বায়না করছিলো। ৪-৫ বন্ধু বান্ধবী সেখানে উপস্থিত ছিল, তাদের মধ্যে তাজও ছিল। বাকি বন্ধুরা খুব একটা পাত্তা না দিলেও তাজের সে কথা শুনেছিল। সর্বক্ষণ নৌমির শখ, আহ্লাদ আর বায়না পূরণ করতে করতে তাজের অভ্যাস হয়ে গেছিল। সেখানে নিলুর কাশফুল চাওয়াটা তাজের কাছে কিছুই মনে হয় নি। দু’ একদিন পর তাজ, নৌমি, আন্নি, রাফি মিলে কাশফুল দেখতে গিয়েছিলো। বাসায় ফেরার সময় নৌমি কতগুলো কাশফুলও সঙ্গে নিয়ে আসছিলো। বাসায় আসতেই নৌমির আম্মুর ঝারি শুরু, কাশফুলে এমনিতেই জামাকাপড় নষ্ট হয়ে আছে তারউপর আরও কাশফুল সাথে নিয়ে আসছে। ওনি চিৎকার করে বলেন,
“বাসায় ঢুকলে এই কাশফুল ফেলে তারপর ঢুকবি।”
নৌমি অসহায়ের মতো ফুলগুলো দেখছিল। ফুলগুলোকে যেই ফেলতে যাবে ওমনি তাজের নিলুর কথা মনে পড়েছিল। তাজ সঙ্গে সঙ্গে বলল,
“ফুলগুলো ফেলতে হবে না, আমাকে দে।”
সেই ফুল নিয়েই নিলুকে দিয়েছিল তাজ। বন্ধুত্বের গন্ডি থেকেই ফুল দিয়েছিল তাজ, কিন্তু নিলু ভেবেছিল অন্য কথা। কারণ তাজ ছাড়াও এখানে আরও বন্ধু ছিল, তারা কেউ ফুল দেয় নি একবার ঘুরতে যাওয়ার জন্য সাধেও নি সেখানে তাজ কাশফুল এনে দিল। সেই থেকে নিলুর মনে তাজের জন্য আলাদারকম টান কাজ করতে লাগল। হুটহাট তাজের কাছে এটা সেটা বায়না করতো। তাজ যেহেতু এসবে অভ্যস্ত ছিল তাই সেভাবে বিরক্তও হতো না। তাজের কাছে বিষয়টা বন্ধুত্ব থাকলেও নিলুর কাছে সেটা ছিল প্রেমের সম্পর্ক। ১ বছর তাজের পিছু ঘুরে, পাগলামির শেষ সীমা অতিক্রম করে তাজকে সম্পর্কের জন্য রাজি করিয়েছিল। যার মূলে ছিল বেশ কিছু বন্ধু। সম্পর্কের শুরু থেকে এখন অব্দি তাজ নিজের অবস্থানে ১০০% ঠিক আছে। ভালোবাসার মানুষকে যতটুকু সময় দেয়া প্রয়োজন, খোঁজ রাখা প্রয়োজন সবটায় করেছে সে। অনার্স শেষ হতেই দু’জনের সম্পর্কের মাঝে অদৃশ্য চিড় ধরতে শুরু করে। তাজ বর্তমানে কঠিন বাস্তবতার সম্মুখীন, কারণ অনার্স পাশের সঙ্গে সঙ্গে তার নামের আগে যোগ হয়েছে একটা ছোট শব্দ “বেকার”। শব্দটা তিন অক্ষরের হলেও এই শব্দের সাথে জুড়ে আছে সমাজের তুচ্ছতাচ্ছিল্য, ব্যর্থতার সুর, পরিবারের মানুষের অবজ্ঞা, বন্ধুমহলের টিটকারি, প্রেমিকার অবহেলা, আরও কত কত বিষয়। এ সবের তাগিদে নিজের স্বপ্ন পূরণের হাহাকার না হয় বাদ ই গেল। এই কঠিন মুহুর্তে সাহস দেয়ার মতো একজন মানুষ প্রয়োজন, অথচ এ সময় থাকে শুধু মন ভাঙার মানুষ।
নৌমি তাজের দিকে তাকিয়ে ঠান্ডা কন্ঠে বলল,
” আপুর পাশে ঐটা কে ভাইয়া?”
তাজ আবারও নিলুদের দিকে তাকালো। এই তাকানোতে তীব্র আক্রোশ চেপে আছে, এক আকাশ সম রাগ মিশে আছে। তাজ রাগে ফোঁস ফোঁস করে এক কদম বাড়াতেই নৌমি দু’হাতে তাজের হাত আঁকড়ে ধরল। আর্তনাদ করে উঠল,
“প্লিজ, তুমি এখন যেয়ো না। “
তাজ হুঙ্কার দিল,
” ছাড় আমাকে।”
“না। তুমি যাবে না।”
“কেনো?”
“তুমি আসো, আমি তোমাকে বুঝাচ্ছি।”
তাজ শান্ত হতে পারছে না, এদিকে নৌমির থেকে হাতও ছাড়াতে পারছে না। কয়েকবার ঘনঘন নিঃশ্বাস ছেড়ে তাজ গম্ভীর গলায় বলল,
” কেনো যাব না, বল।”
“আসো, বলছি।”
নৌমি তাজকে টেনে নিয়ে পার্ক থেকে বেড়িয়ে আসছে। পার্কের সামনে থেকে দুটা আইসক্রিম নিয়ে একটা তাজকে দিল। নৌমি আইসক্রিম খেতে খেতে বলতে শুরু করল,
” দেখো ভাইয়া, তুমি যদি এখন এখানে যাও তাহলে বিষয়টা খুব খারাপ হবে। কারণ আমরা চারজন ছাড়াও এখানে আরও ১০০ মানুষ আছে। তারা বিষয়টা দেখবে, মজা নিবে এমনকি ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দিবে। এতে তোমার, আমার, নিলু ভাবির সাথে সাথে আমাদের পরিবার, আত্মীয়স্বজন পর্যন্ত জানাজানি হয়ে যাবে। যেই মেজো মামার ভয়ে তুমি নিলু ভাবির কথা বাসায় বলছো না, সেই মামার সামনে তুমি তখন কোন মুখ নিয়ে দাঁড়াবে? “
নৌমি নিঃশ্বাস ছেড়ে আবার বলতে শুরু করল,
” তার থেকে ভালো হয়, তুমি একটু ধৈর্য ধরো। ভাবির জন্য প্রতিনিয়ত ছেলে দেখছে এটা তুমিও জানো আমিও জানি৷ হতে পারে এই ছেলে তাদের মধ্যেই একজন৷ সন্ধ্যা নাগাদ দেখো, ভাবি তোমাকে নিজে থেকে সব জানায় কি না! যদি ওনার কথা জানিয়ে দেয়, তাহলে বুঝবা ভাবি পরিস্থিতির স্বীকার আর যদি ভাবি বিষয়টা আড়াল করার চেষ্টা করে। তারপর ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে। ওকে?”
তাজ কিছুক্ষণ চুপ থেকে হঠাৎ বলল,
” ঠিক আছে। “
রাফির সাথে রাস্তায় দেখা হয়েছে। সেখান থেকেই তিনজন বাসায় চলে আসছে। তাজ ফোন হাতে নিয়ে নিলুর ফোনের জন্য অপেক্ষা করছে। ভেতরে প্রবল রাগ থাকলেও নৌমির কথায় যুক্তি আছে দেখে শান্ত হয়ে আছে। দীর্ঘ সময় পর নিলুর নাম্বার থেকে কল আসলো। তাজ কল রিসিভ করেই জিজ্ঞেস করল,
“ফোন বন্ধ ছিল কেনো?”
“আর বলো না, আব্বু হুট করে বললেন এক ছেলের সাথে দেখা করতে হবে। ছেলে নাকি আগে আমার সাথে আলাদাভাবে কথা বলতে চায়। তুমি বিশ্বাস করবে না ৩০ মিনিটের মধ্যে রেডি হয়েছি, আব্বু নিজে আমাকে পার্ক পর্যন্ত দিয়ে আসছেন।”
“ওহ ভালো, তারপর বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে?”
” আরে না। আমি ছেলেকে তোমার কথা বলে দিয়েছি। “
” কতদিন কতজনের সাথে ঘুরতে গিয়ে আমার নামটা নিবে?”
“তুমি এভাবে কথা বলছো কেনো?”
” কিভাবে কথা বলতে হয় আমি জানি না তাই। আমি এতদিন বিয়ে নিয়ে চিন্তিত ছিলাম৷ এখন সেই সমাধানও বের করলাম। তোমার আব্বুর সাথে কথা বলে সিম্পলভাবে বিয়ে করে নিব তার প্রস্তারও দিলাম। তুমি কোনোকিছুকেই পাত্তা দিচ্ছো না৷ তুমি কি আদোও আমাকে চাও?”
নিলু ভারী কন্ঠে বলল,
” তোমাকে না চাইলে এতদিনে বিয়ে করে সংসার শুরু করে দিতাম। প্রতি সপ্তাহে সপ্তাহে ভিআইপি পরিবার থেকে লোক আসছে। আমি বার বার রিজেক্ট করছি। কার জন্য করছি?”
তাজ শীতল কন্ঠে বলল,
” চলো, বিয়ে করে ফেলি।”
নিলু কাঠকাঠ গলায় বলল,
“তোমাকে পরে কল দিচ্ছি।”
চলবে…..
Share On:
TAGS: প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে, সালমা চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ১৯
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ২৫
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ৩
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ২১(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ১৭
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ২৪(প্রথমাংশ+শেষাংশ)
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে গল্পের লিংক
-
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে গল্পের লিংক
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ১০
-
প্রণয়ঘোরের সন্ধিতে পর্ব ৩১