Golpo romantic golpo দ্যা ব্ল্যাক মার্ক

দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৯


দ্যাব্ল্যাকমার্ক

লেখনীতেআশু

পর্বসংখ্যা_৯

★★★
নিশান নিজের কেবিনে বসে আছে। কেবিনে থাকলেও তার দৃষ্টি বারবার চলে যাচ্ছে বাইরের দিকে। সে সাধারণত এতক্ষণ অফিসে থাকে না, কিন্তু আজ যেন সময়টা থমকে আছে তার জন্য।
কিছুক্ষণ পর দরজায় নক শোনা গেল। নোভা ভদ্র স্বরে বলল,

—”স্যার, মে আই কাম ইন?”

নিশান বিড়বিড় করে বলল,
—”কাম ইন বলার কী আছে! আমি কি ওকে ঢুকতে দেব না নাকি…”

ভেতর থেকে কোনো উত্তর না পেয়ে নোভা আবার ডাকল,

—”স্যার?”

এবার নিশান গম্ভীর কণ্ঠে বলল,

—”ইয়েস, কাম ইন।”

নোভা দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে বলল,

—”স্যার আপনি যে ফাইলটা রেডি করতে বলেছিলেন সেটা রেডি।”

কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে নিশান বলে,

—”টেবিলে রাখো।”

নোভা ফাইলটা এগিয়ে দুয়ে টেবিলের উপর রাখল।নোভা যেতে নিলেই নিশান ভ্রু কুঁচকে বলে,

—”আমি যেতে বলিনি কিন্তু।”

নোভা নরম কন্ঠে বলে,।

—”জ্বী স্যার কিছু বলবেন?”

—”বসো।”

নোভা চেয়ারে বসে নিশানের দিকে তাকাল দুজনের চোখাচোখি হতেই নোভা চোখ সরিয়ে নেয়।নোভাকে উদ্দেশ্য করে বলে,

—”তোমার কোন কালার সবচেয়ে বেশি পছন্দ?”

নোভা যেন অবাকের চরম পর্যায়ে।এ লোকের কি হয়েছে কয়েকদিন ধরে।নিশান আবারো বলে,

—”নোভা?”

—”হ্যা হ্যা।”

—”বলো।”

—”আমার লাইট কালার বেশি পছন্দ।”

নোভা কথাটা বলতেই নিশান নিজের ড্রেসের দিকে তাকাল।সাদা শার্টের উপর কালো কোট পড়নে আর ট্রাউজার।মনে মনে কিছু ভেবে বলে,

—”ওহ্ আচ্ছা।”

—”স্যার আমি যাই?’

—”হুম।কিন্তু বাসায় কখন যাবা?”

—”এখন তো পাঁচটা বাজে বিকাল আমি রাতে যাবো ৮ টার দিকে।”

—”এখন চলে যাও।”

—”না স্যার অনেক কাজ আছে।”

নিশান কিছু বলল না। নোভা চলে যায়।নিশান ল্যাপটপ খুলে কী যেন দেখতে থাকে।তখনিই ফোনটা বেজে ওঠে। ফোনের স্ক্রিনে ভেসে উঠে নিহানের নামটা।নিশান কল উঠিয়ে কিছু বলতে যাবে তখনিই নিহান বলে উঠে,

—”হ্যালো।”

—”হুম।”

—”বাসায় আসবা কখন?”

—”রাতে আসব ৮ টার দিকে।”

—”কেনো?”

—”কাজ আছে তাই।”

—”আচ্ছা। এর আগে আসার চেষ্টা করিও কথা আছে।”

—”ওকে।”
★★★★
তুবা মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে সোফায়।অবাকের চরম পর্যায়ে তুবা। অবাক হবে নাই বা কেন নিহানকে একটু আগেই বলল বোরকার কথা আর কিছুক্ষণ পর রুমে এসে দেখে কতগুলা প্যাকেট।প্যাকেটে অনেকগুলা রুহানি আবায়া।প্রায় ৪০ পিসের মতো।

কিছুক্ষণ পর তুবা হালকা করে হাসি দিল।
হাসিটা যেন নিজের অজান্তেই ঠোঁটে এসে বসেছে। সামনে সাজানো রুহানি আবায়াগুলোর দিকে তাকিয়ে।
সে একটা আবায়া হাতে তুলে নিল। কাপড়টা নরম, হালকা— যেন ছুঁলেই মেঘের মতো ভেসে যাবে। হাত বুলিয়ে ধীরে বলল,

—”লোকটা সত্যিই পাগল…”
ঠিক তখনই দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কণ্ঠটা ভেসে এলো

—”কার কথা বলছো?”

চমকে উঠে তুবা তাকাল। দরজায় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে নিহান। ঠোঁটে হালকা বাঁকা হাসি, চোখে সেই চিরচেনা দুষ্টু ঝিলিক।

তুবা গম্ভীর হওয়ার ভান করে বলল,
—”আপনার কথা না তো কার কথা বলব?”

নিহান ধীরে ধীরে ভেতরে ঢুকে সোফার সামনে দাঁড়াল।
—”ওহ্! তাহলে আমি পাগল?”

—”হুম। একদম পাগল নাহলে কেউ একসাথে ৪০টা আবায়া কিনে দেয়?”

নিহান কাঁধ ঝাঁকাল।
—”আমি দেই। সমস্যা?”

তুবা কিছু বলল না। শুধু তাকিয়ে রইল। তার চাহনিতে রাগ নেই, বিরক্তি নেই— বরং অদ্ভুদ অনুভূতি।
নিহান সেটা খেয়াল করল। একটু ঝুঁকে ধীর গলায় বলল,
—”তুমি বলেছিলে তোমার দরকার। আমি এনে দিয়েছি। এত অবাক হওয়ার কী আছে?”

তুবা নিচু স্বরে বলল,
—”একটা আনলেও হতো…

—”একটা কেন?”

কয়েক সেকেন্ড নীরবতার পর নিহান হঠাৎ বলল,
—”কালকে থেকে এগুলাই পড়ে যাবে।”
তুবা আস্তে করে বলে,
—”আচ্ছা।”
★★★★
নাহিয়ান সোফায় আধশোয়া হয়ে ফোনটা হাতে নিয়ে স্ক্রল করছে।মুখে তার চিরচেনা দুষ্টু হাসি। হঠাৎ ফোনটা পাশে ছুঁড়ে দিয়ে সোজা হয়ে বসল।
—”উফ্!আর ভালো লাগছে না।”
একটু পরেই ঠোঁটের কোণে শয়তানি হাসি ফিরে এল।
—”যাই… ওকে একটু জ্বালায়।”
সিড়ি বেয়ে উপরে উঠে একটা রুমের সামনে থামল।দরজার সামনে গিয়ে দাড়াল।তুবাকে উদ্দেশ্য করে বলে,
—”আসব?”
তুবা রুহানি আবায়াগুলাকে কানার্ডে গুছিয়ে রাখছিলো নাহিয়ানকে দেখে বলে,
—”জ্বী ভাইয়া আসুন।”
নাহিয়ান হালকা হাসি দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করল।নাহিয়ান বলে,
—”এতগুলা প্যাকেট কে দিলো তোমাকে?”
তুবা কয়েক সেকেন্ড চুপ থেকে বলে,
—”স্যার দিয়েছে।”
নাহিয়ান ভ্রু কুঁচকে বলে,
—”নিহান ভাই?”
—”হুম।”
নাহিয়ান হো হো করে হেসে দেয়।তুবা হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে নাহিয়ানের দিকে।পরক্ষণেই তুবা বলে,
—”হাসছেন কেনো?”
নাহিয়ান হাসি থামিয়ে বলে,
—”না না আমি এমনিতে হাসছি।”
তুবা ও হেসে দেয় নাহিয়ানের সাথে।তুবার নাহিয়ানকে বেশ ভালো লাগল। বাকি দুটো খুব গম্ভীর এটা অন্তত ওই দুটোর মতো গম্ভীর থাকে না। সবসময়।নাহিয়ান বিছানায় বসতে বসতে বলে,
—”তোমার বান্ধবী টা একদম এক নাম্বারের বেয়াদব।”
—”না না ও খুব ভালো।”
—”কচু ভালো। আমার সাথে কেমন করছে দেখেছোই তো।”
তুবা ভ্রু কুঁচকে বলে,
—”ও আবার কি করেছে।”
—”আমার সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে।”
—”মানে?”
—”মানে আমি কত ভদ্রভাবে কথা বলতাম আর সে কীরকম বিরক্তকর ভঙ্গিতে তাকাল আর রাগ করে কথাগুলা বলল।”
তুবা হেসে ফেলল।
—”আপনিই নিশ্চয় কিছু বলেছেন।”
নাহিয়ান চোখ সরু করে তাকাল।
—”তুমি আমার কথা বিশ্বাস করছো না।”
—”না না তা না।”
—তাহলে?”
—”এমনিই বলছিলাম।”
—”ওহ্!তাহলে আমি আসি।কাজ আছে।”
—”আপনি কাজ ও করেন।”
নাহিয়ান বিড়বিড়িয়ে বলে,
—”হুম অন্যরকম কাজ।”
তুবা হালকা ভ্রু কুঁচকে বলে,
—”কী বললেন?”
—”না কিছু না।আমি আসি।”
★★★★
রাতের দিকে এহসান বাড়ির সবাই ডিনার করার জন্য বসে।নিহান নিশানকে বলে,

—”ভাই ও নাকি রাজনীতিতে জড়াতে চায়।”

নিশান ছোট ভাই নাহিয়ানের দিকে শান্ত চোখে তাকায়।নিশান শান্ত কন্ঠে বলে,

—”দেখবো বিষয়টা।”

—”আচ্ছা। “

—”রাজনীতি খেলনা না নাহিয়ান এতে নামলে বের হওয়া সহজ না।ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

নাহিয়না চোখ তুলে তাকাল এবার।তার চোখে স্পষ্ট দৃঢ়তা।

—”আমি ভেবেই বলছি ভাই।”

—”আচ্ছা।”

নিহান খেতে খেতে হঠাৎ তুবার দিকে তাকাল।আজ যেন আবার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে সে।জোরে জোরে শ্বাস নিল কতক্ষণ। খাবার আর গলা দিয়ে নামল না।খাবার ছেড়ে উঠতে উঠতে তুবাকে উদ্দেশ্য করে বলে,

—”আমার রুমে এসো তো।”

সবাই তুবার দিকে তাকাল।তুবা লজ্জায় মাথা নামিয়ে রেখেছে। নাহিয়ান ঠোঁট চেপে হাসি দিল।
তুবা নিহানের পিছু পিছু রুমে গেল।নিহান পড়নের শার্ট খুলে বসল সোফায়।তুবা রুমে ঢুকে বলে,

—”ডেকেছিলেন কী বলবেন বলেন।”

—”দরজা বন্ধ করে এসো।”

তুবা চোখ গোল গোল করে তাকাল নিহানের দিকে।তুবাকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে নিহান গম্ভীর কন্ঠে বলে,

—”বলেছি না দরজা বন্ধ করে আসতে।’

তুবা তাড়াতাড়ি দরজা বন্ধ করে আসল।নিহানের সামনে এসে দাড়াল।নিহান তুবার দিকে নেশালো চোখে তাকিয়ে বলে,
—”আমি এখন যা করব তা তোমার ভালো না ও লাগতে পারে তাতে আমার কিছু করার নেই।”

নিহান উঠে দাঁড়াল। তুবা আলতা আমতা করে বলে,
—”ক..কি হয়েছে?দ..দূরে যান।”

—”আজকে দূরে গেলে আমি ম’রে যাবো। “

আর কিছু বলতে পারল না তুবা।নিহান তার ঠোঁট আঁকড়ে ধরল গভীরভাবে। সাথে আছেই সারা শরীরজুড়ে হাতের ছোয়া।তুবা কেঁপে উঠল।ছটফট করতে থাকে।নিহান ঠোঁট ছেড়ে বলে,
—”নড়লে অবস্থা আরো খারাপ হবে।”
তুবা নরম কন্ঠে বলে,
—”আমাকে ছেড়ে দিন না প্লিজ। “
নিহান তুবার কথার উত্তর দেয় না আর।নিহান এবার তুবার ঘাড়ে ঠোঁট ডুবালো।

চলবে?

(পর্বটা খুব ছোট হওয়ার কারণে খুবই দুঃখীত আমি।আপনারা তো সবাই জানেন নিশু লিখবে না আর আমাকেই কন্টিনিউ করতে হবে।আজকে এটা পড়ে নিন ইনশাআল্লাহ বড় পর্ব দিবো কালকে বা পড়শু)❤️‍🩹

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply