Golpo romantic golpo দ্যা ব্ল্যাক মার্ক

দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৭


দ্যাব্ল্যাকমার্ক

লেখনীতেআশুও_নিশু

পর্নসংখ্যা_৭

★★★
নিশান ডিংক্স করে প্রতিবারের মত এবারেও একজনকে নিজের জন্যে বুকিং করা হোটেল রুমের দিকে যায়। কিন্তু সব সময় আর আজকের মধ্যে পার্থক্য হলো সব সময় নারী নিয়ে যায় আর আজ নর।

নেশাক্ত নিশান কেন করছে এসব তা তার জানা নেই তবে মনের গহিনে কোথাও আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে। আর সেই আগুন তাকে জ্বালিয়ে পুরিয়ে ভষ্ম করে দিচ্ছে। নিশান লোকটাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। বিছানার সাইডে লেগে নিচে পরে যায় মধ্যোবয়স্ক লোকটা।

নিশান রাতে দাঁত কিড়মিড় করছে অনবরত। কি করে নিজের রাগ কমাবে বুঝে উঠতে পারছে না।
বেডের নিচ থেকে একটা ছোট্ট ছু*ড়ি বের করে লোকটার বুক বরাবর বসিয়ে দেয়। লোকটা কিছু বুঝে উঠার এগেই হলো এসব।
এতোক্ষনে লোকটার নেশা কেটে গিয়েছে।
নিশান আরো কয়েকটা একই জায়গাতে চা’কু ডাবিয়ে দেয়।
পরপর সেটা ওভাবেই রেখে অন্য একটা চাকু নিয়ে লোকটা বাম হাত ধরে বলে,

—”এই হাত এই হাত দিয়েই ছুঁয়েছিলি তাই না?”

প্রশ্ন করলেও উত্তরের আশায় থাকে না। চা’কু দিয়ে হাতটাই কেটে ফেলে। লোকটা নিজের হাতের দিকে তাকিয়ে গগনবিদারক এক চিৎকার করে। এতো সময়ে বুঝতে পারে তার বুকেও একই ভাবে চা’কু ডাবানো হয়েছে।

অনবরত করা চিৎকার নিশানের মনকে গলাতে পারে না আর না তার রাগকে কিছুটা কমাতে পারে।
নিশান আর থামে না একেবারে গলা কে’টে লোকটাকে ওভাবেই রেখে ওয়াশরুমে চলে যায়।

সুন্দর মত ফ্রেশ হয়ে নিশান আবার ক্লাবে ফিরে আসে। নোভা দাঁড়িয়ে আছে নিশানের অপেক্ষায়।
নিশান এসে বলে,

—”নোভা,তোমার কেমন ছেলে পছন্দ?”

এমন সময় এমন আকস্মিক প্রশ্নে নোভা বিষ্মিত হয়। নিজেও পাল্টা প্রশ্ন করে,

—”হটাৎ এই প্রশ্ন যে?”

—”আরেহ বলোই না।”

নোভা কিছু একটা ভেবে বলে,

—”এই ধরুন সুন্দর হতে হবে, লম্বা হবে, ভদ্র হবে, স্মার্ট হবে। আমাকে প্রচুর ভালোবাসতে হবে, আমার কথা শুনতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি।”

—”ওহ আচ্ছা।”

—”স্যার রাত অনেক হয়েছে আপনার বাসায় যেতে হবে।”

“হ্যা হ্যা চলো তোমারেও ড্রপ করে দিই।”

“সমস্যা নেই স্যার আমি গাড়ি নিয়ে এসেছি।”

—”বেশি কথা বলতে নেই চলো।”

নোভা আর কিছু না বলে নিশানের সাথে চলে যায়। গাড়িতে উঠার সময় নোভা নিশানের জন্যে ডোর খুলতে লাগলে নিশান বারন করে বলে,

—”উহু খুলতে হবে না।”

তারপর নিজেই নোভার পাশের ডোর খুলে দিয়ে বলে,

“উঠো।”

নোভা বিশ্বাস করতে পারে না আসলেই এমনটা হচ্ছে। সে অবাক নয়নের নিশানের দিকে তাকিয়ে থাকে। নিশান তারা দিয়ে বলে,

—”কি হলো উঠো?”

—”হু? হ্যা।”

নোভা গাড়িতে উঠে বসতেই নিশান সিট বেল্ট নিয়ে নিজেই বেধে দেয়। নোভা এবার এতোটাই বিষ্মিত হয যে, কিছু বলার ভাষা হারিয়ে ফেলে। পুরা রাস্তা আর কিছু বলতে পারে না।

★★★
ভোরের আলো সবেমাত্র ফুটেছে। এখনও এহসান মঞ্জিলের কেউই উঠেনি। সচরাচর এতো সকালে ম্যাডরা বাদে কেউই উঠে না। তবে আজ সবার আগে নিশান উঠেছে।
আতিয়া রান্না করতে যাওয়ার সময় খেয়াল করে নিশান ফোনে কি যেন ভিডিও দেখছে। রান্নার জিনিষের শব্দ শুনে আতিয়া একটু থেকে ফোনের দিকে উকি দেয়।

—”প্রথমে এলোভেরা জেল দিবেন, তার মধ্যে কাচা হলুদ পেস্ট দিবে।”

আতিয়া ভিডিও দেখে আর নড়তে পারে না। এইলোক এসব কি দেখছে? ফেসিয়াল করার সব কিছু?
আতিয়াকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নিশান বলে,

—”এখানে কি?”

আতিয়া ভয়ে সেখান থেকে চলে যেতে নিলে নিশান বলে,

—”এই শোনো, আমার কিছু জিনিষ লাগবে “

—”জি স্যার কি লাগবে?”

—”কিছুটা বেশন, বাগানের এ্যালোভেরা, কাচা হলুদ বাটা আর শশা কাটা।”

আতিয়া বিষ্মিত হয় কিন্তু প্রশ্ন করে না। কিছুক্ষনের মধ্যেই সব কিছু দিয়ে যায় আতিয়া।
নিশান সব কিছু মিক্স করে মুখে লাগিয়ে চোখের মধ্যে শশা লাগিয়ে বসে থাকে লিভিং রুমে।
সব কাজের মেয়েরা নিশানের এমন অবস্থা দেখে মুখ চেপে হাসছে। কেউ কিছু বলতে পারছে না। আবার হাসিও থামছে না।

কিছুক্ষনের মধ্যে নাহিয়ান এসে নিশানের এমন অবস্থা দেখে বলে,

—”একি ভাইয়া? তোমার এ অবস্থা কেন?”

নিশান চোখের উপর থেকে শশার স্লাইস দুইটা সরিয়ে বলে,

—”সুন্দর হতে হবে তাই একটু নিজের যত্ন নিচ্ছি।”

নাহিয়ান কি বলবে ভাষা খুঁজে পায় না। তার নিরামিষ ভাই নাকি যত্ন নিচ্ছে নিজের ভারা যায়?
নিশানের পাশে বসে বলে,

—”ভাইয়া তুমি এমনিতেই অনেক সুন্দর তোমার আর সুন্দর হতে হবে না, এমনিতেই মেয়েরা তোমার পিছু পরে থাকবে।”

—”সত্যি নাকি? “

—”হ্যা ভাইয়া সত্যি।”

নিশান তার ফোন বের করে নাহিয়ানকে কিছু হেয়ার স্টাইল দেখিয়ে বলে,

—”দেখ তো কোন কাটিং টা দিলে বেশি সুদর্শন লাগবে?”

নাহিয়ান কিছুক্ষন হা করে ভাইয়ের পানে তাকিয়ে থাকে। পরপর জিজ্ঞাসা করে,

—”ভাইয়া তোমার কি হয়েছে বলো তো? এমন আজব ব্যাবহার করছো কেন?”

—” যা বলেছি তার উত্তর দে! বেশি কথা বলিস না।”

★★★★★★★★

ভার্সিটিতে গিয়েছে তুবা। চোখে মুখে বিরক্তির ছোঁয়া স্পষ্ট। কত করে নিহানকে বললো সে আর পড়তে চায না কিন্তু কে শোনে কার কথা! ভর্তি করেই দিলো।
ক্লাস শুরু হতে এখনও কিছু সময় বাকি, তুবা একটা বিশাল গাছের নিচে বসে নিহানের চৌদ্দগুষ্টি উদ্ধার করতে ব্যাস্ত।
কত শত মানুষ আসছে যাচ্ছে, কেউ কেউ মাঠে বসে নিজেকের সিলেবাস কম্প্লিট করছে। কেউ কেউ গাছোর নিচের পাকা অংশে বসে পড়ছে তো কেউ গল্পে মজে আছে। সকলের এতো পড়া দেখে তুবা বিরবির করে বলে,

“এতো পড়ে এরা কি উদ্ধার করবে? সব পা*গলের দল।”

তুবা এক মনে ভাবে ভার্সিটি থেকে পালিয়ে যাবে কিন্তু নিহান বলে গিয়েছে সে এসে নিয়ে যাবে, এই জন্যে তুবা পালাতেও পারছে না। বিরক্ত নিয়ে চুপ চাপ বসে থাকলে দূর থেক একটা মেয়ে তুবাকে লক্ষ করে এগিয়ে আসে।
তুবার পাশে বসে বলে,

“হেই তুমি কি নতুন এডমিড?”

তুবা মেয়েটার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকে। দুবা এহেন চাহনিতে মেয়েটা কিছুটা ইতস্তবোধ করে। একটু নড়ে চড়ে বসে বলে,

“আমার নাম তিশা, তোমার নাম কি?”

“তুবা।”

তুবা শুধু নিজের নাম টায় বলে, তুবার এমন অল্প কথা শুনে তুলি মেয়েটা আবার কি বলে কথা শুরু করবে বুঝতে পারে না। কিছু খুঁজে না পেয়ে বলে,

“হেই আমাদের দুইজনার নামই T দিয়ে।”

তুবা এটা শুনে মেয়েটার দিকে একটু তাকায়। তাকিয়ে অবাক হয়। কেননা মেয়েটা কিছুটা তারই মত দেখতে। তুবা ভ্রু কুচকে জিজ্ঞাসা করে,

“তোমার বাবা মা আছে?”

তুবার এমন প্রশ্নে মেয়েটা কিছুটা হলেও থতমত খায়। কথা এড়িয়ে গিয়ে বলে,

“আমিও ফার্স্ট ইয়ারে, চলো ক্লাস শুরু হবে তো!”

তুবার উত্তরের আশায় থাকে না। তুবার হাত ধরে নিয়ে যেতে যেতে ভাবে,

“মেয়েটা প্রায়ই আমার মত দেখতে কেমনে? দুনিয়াতে একই রকমের সাতজন থাকে তাহলে এমন কিছু কি?”

বেশি না ভেবে তুবারে নিয়ে ক্লাসে চলে যায়।
★★★★★★
ক্লাস শেষে তিশা তুবাকে বলল,
—“তুবা, চলো গেটের বাইরে একটা ফুচকাওয়ালা মামা বসে। ওখান থেকে ফুচকা খাবো।”
—“না না তিশা, আমি যাবো না।”
—“প্লিজ চল না, প্লিজ প্লিজ!”
—“আচ্ছা, চলো।”
গেটের বাইরে এসে তুবা ফুচকার দোকানের সামনে দাঁড়াল। চারপাশে কেমন যেন সতর্ক দৃষ্টিতে তাকাতে লাগল—নিহান যদি কিছু বলে! ঠিক তখনই এক ছেলে এসে তার পাশে দাঁড়াল। তুবা ছেলেটার দিকে তাকাতেই দু’জনের চোখাচোখি হলো। ছেলেটা হাসিমুখে বলল,
—“হাই, নতুন নাকি?”
তুবা মৃদু হেসে উত্তর দিল,
—“হু।”
ছেলেটাও হাসল। তুবা খেয়াল করল—হাসলে ছেলেটার গালে টোল পড়ে। সে আগে কখনও কোনো ছেলের গালে টোল দেখেনি। কয়েক সেকেন্ড যেন অন্যমনস্ক হয়ে তাকিয়েই রইল। ছেলেটা আবার বলল,
—“বন্ধু হতে পারি?”
তুবা হেসে বলল,
—“অবশ্যই।”
—“নাম কী আপনার?”
—“তুবা রহমান। আর আপনার?”
—“ইফতিশাম জাওয়াদ।”
—“আপনার সাথে কথা বলে ভালো লাগল।”
—“আমারও।”
তুবা আর তিশা মিলে ফুচকা খেল। তারপর হঠাৎ তুবার চোখ পড়ল একটু দূরে—সাদা রঙের একটা গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে বুকের ওপর হাত গুঁজে দাঁড়িয়ে আছে নিহান। তুবা তিশাকে তাড়াতাড়ি বিদায় জানিয়ে দ্রুত পায়ে গাড়ির দিকে এগিয়ে গেল।
গাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই তার চোখে পড়ল—নিহানের চোখ দুটো অদ্ভুত লালচে, কপালের রগগুলো নীল হয়ে ফুলে আছে। সে কিছুই বুঝতে পারল না। নিহান শুধু তার দিকে তাকিয়ে আছে, কিন্তু কিছু বলছে না। তুবা নরম গলায় বলল,
—“যাবেন না?”
নিহান নীরব। কয়েক মুহূর্ত একইভাবে দাঁড়িয়ে থেকে সে গাড়ির দরজা খুলে ভেতরে বসে পড়ল। তুবাও পেছন পেছন গিয়ে বসলো। গাড়ি স্টার্ট দিল নিহান। কিছুক্ষণ পর গম্ভীর স্বরে বলল,
—“ছেলেটা কে?”
—“এমনিই… আজকেই ফ্রেন্ড হয়েছে।”
—“আমি ভার্সিটিতে পড়ালেখার জন্য পাঠিয়েছি, এসব করার জন্য নয়।”
—“আমি কিছুই করিনি। সবসময় অতিরিক্ত ভাবনা ভালো না, মিস্টার এহসান।”
কথাটা শেষ হতেই হঠাৎ জোরে ব্রেক কষল নিহান। রক্তিম চোখে তুবার দিকে তাকিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
—“কি বললি? আবার বল।”
তুবা চুপ। একদম নিঃশব্দ। ভেতরে ভেতরে ভয় তাকে গ্রাস করছে। সে বুঝতেই পারছে না—নিহান এভাবে আচরণ করছে কেন। হঠাৎই নিহান পরপর দুইটা থাপ্পড় মারল তাকে। এত জোরে যে মুহূর্তেই তুবার গালে পাঁচ আঙুলের স্পষ্ট দাগ ফুটে উঠল…
নিহান দাঁতে দাঁত চেপে বলল,
—“তোদের মতো বেয়াদবদের আর কাজই বা কী! আজ এই ছেলে, তো কাল ওই… হারামির বাচ্চা!”
নিহানের মুখ থেকে কথাগুলো বের হতেই তুবার বুকটা কেঁপে উঠল। শব্দগুলো যেন ছুরির মতো গেঁথে গেল তার ভেতরে। মুহূর্তেই তার চোখ ভরে উঠল পানিতে, ঠোঁট কাঁপতে লাগল, আর সে ফুপিয়ে কেঁদে উঠল।
নিহান আর কিছু বলল না। ঠান্ডা মুখে গাড়ি স্টার্ট দিল। গাড়ির ভেতর ভারী নীরবতা নেমে এল—ইঞ্জিনের শব্দ ছাড়া আর কিছুই শোনা যায় না। তুবার চাপা কান্নার শব্দও যেন সেই নীরবতার ভেতর হারিয়ে গেল।
কিছুক্ষণ পর গাড়ি এসে থামল এহসান মঞ্জিলের সামনে। ব্রেক কষতেই নিহান দরজা খুলে একটুও দেরি না করে নেমে গেল। একবারও পেছনে তাকাল না, তুবার দিকে চোখ ফেরানোর প্রয়োজনও বোধ করল না যেন।
তুবা কিছুক্ষণ স্থির হয়ে বসে রইল। তারপর ধীরে ধীরে দরজা খুলে নিজেই নেমে এল। তার চোখ এখনো ভেজা, গালে দাগ স্পষ্ট।

চলবে_ইনশাআল্লাহ

নোট:আসসালামু আলাইকুম। কেমন আছেন সবাই?
গল্পটা কেমন লাগছে আপনাদের কাছে?পর্বটাতে ১ কে রিয়েক্ট করে দিন তাহলে পরের পর্ব চলে আসবে তাড়াতাড়ি।
ভালোবাসা সবাইকে।😌🫶

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply