Golpo romantic golpo দ্যা ব্ল্যাক মার্ক

দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১০


দ্যাব্ল্যাকমার্ক

লেখনীতেআশুও_নিশু

পর্বসংখ্যা_১০

এবার নিহান তুবার ঘাড়ে ঠোঁট ডুবালো। তুবা হালকা নড়তেই নিহান দাঁত বসিয়ে দেয়। তুবা কেপে উঠল।তুবা কি করবে বুঝে উঠতে পারার আগেই নিহান তুবার জামা খুলে ফেলে।নিহান বারবার তুবার ঠোঁটে কামড় বসানোর কারণে ঠোটগুলা ফুলে হালকা লাল বর্ণ ধারণ করেছে।কি-স করতে করতে তুবাকে খাটে শুইয়ে দেয় নিহান।তুবা উঠতে নিলেই নিহান তুবার উপরে উঠে দুহাত চেপে ধরে।তুবা নিহানকে ছেড়ে উঠতে চাইছে কিন্তু নিহানের শক্তির কাছে সে কিছুই নয়।তুবা হাত-পা ছড়াতে লাগল।নিহান অবশিষ্ট কাপড় গুলো খুলতে খুলতে বলে উঠল,

—”নিজের বিপদ নিজে ডাকছো বেবি?”

তুবা নিহানের কথা শুনে কোনো প্রতিক্রিয়া করল না।নিহানের হাত দিয়ে তুবার শরীরের সব জায়গায় ছোঁয়াতে লাগল।তুবা কেঁপে উঠছে বারবার।তুবা কাঁপা কাঁপা স্বরে বলে,

—”নিহান প্লিজ ছেড়ে দিন।”

—”আজকে একটু কষ্ট করো বেবস।”

★★★
সকালের আলো মুখে পড়তেই নিহান চোখ মুখ কুঁচকে উঠলল।হালকা হালকা চোখ ঘড়ির দিকে তাকাতেই দেখল ১১ টা বাজে।নিহান বিরক্ত কন্ঠে বলে,

—”ওহ্ শীট কত দেরী হয়ে গেল।

হঠাৎ করে চোখ পড়ল পাশে।তুবা শুয়ে আছে। ঠোঁটগুলা হালকা কাপছে। গায়ে এক টুকরো কাপড় ও নেই।
নিহান কপালে হাত দিয়ে দেখল জ্বরে গা পু’ড়ে যাচ্ছে। নিহান নিজের উপর একরাশ বিরক্ত প্রকাশ করল।এতো ওভার কীভাবে করে ফেললো সে।নিহান গায়ে শার্টে জড়িয়ে তুবাকে জামা পড়িয়ে দেয়।নিহান আবারো নিচু হয়ে তুবার কপালে হাত রেখে বলে,

—”তুবা?”

কোনো সাড়া নেই।

নিহানের বুকের ভেতর ধক করে উঠল।গত রাতের কথা মাথায় আসতেই তার মুখ শক্ত হয়ে গেল।

—”ড্যাম ইট…আমি এতো বেশি করে ফেললাম কেমনে।
★★★★
নিশান আজ অফিসে দেরি করেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।রেডি হয়ে বসে আছে সোফায়।নাহিয়ান পাশে বসে ফোন ঘাটছে।নাহিয়ান নিশান কি ভাবছে দেখে বলে,

—”কী ভাবছো ভাইয়া?কার কথাই বা ভাবছো?

—”অপ্সরার কথা।”(ধীরে বলে উঠে)

—”কী বললে?”

—”না কিছু না।”

—”আচ্ছা নিহান ভাই কোথায়?”

নিশান স্বাভাবিক ভাবে বলে,

—”জানিস না ওই মেয়েটাকে নিয়ে রুমে ঢুকেছে কাল রাতেই এখনো বের হওয়ার নাম নেই।”

নাহিয়ান ঠোঁট চেপে হাসি দিয়ে বলে,

—”কেনো তোমারও কী কারও সাথে এমন করার ইচ্ছে আছে নাকি?”

নিশান চোখ রাঙিয়ে বলে,

—”আমি তোর বড় ভাই অন্তত এই কথাটা মাথায় রাখিস।নিহান তো সম্মান দেয়না দেয়না তুই তো এর ডাবল।”

নাহিয়ান কিছু বলল না।তখনিই তাড়াহুড়ো করে নিহান সিড়ি দিয়ে নেমে নিশানের কাছে আসল।নিশান ভ্রু কুঁচকে বলে,

—”এমন দৌড়াচ্ছিস কেনো?”

—”তোমার কাছে ডাক্তার একটার নাম্বার আছে না?”

নিহানের চোখে মুখে চিন্তাার ছাপ স্পষ্ট। এত ব্যাকুল হতে ভাইকে কখনো দেখেনি। নিশান মুখের ভাবভঙ্গি পাল্টে বলে,

—”কার জন্য।”

—”তোমার কাছে আছে নাকি জিজ্ঞেস করেছি এতো কিছু জানার প্রয়োজন নেই।”

নিশান পকেট থেকে মোবাইল হাতে নিয়ে ডাক্তারের নাম্বার বের করে নিহানকে দেয়।নিহান নিশানের হাত থেকে ঝাপটা মেরে ফোন নিয়ে ডাক্তারকে কল করে।
কিছুক্ষণ পর ডাক্তারের সাথে কথা বলে নিশানকে ফোন ফেরত দেয়।নিশান আবারো জিজ্ঞেস করে,

—”তুবা অসুস্থ হয়ে পড়েছে?”

—”হুম।”

নিশান কিছু বলতে যাবেই তখনিই তার ফোনে কল বেজে ওঠে। ফোনের স্ক্রিনে ভেসে উঠে ❝অপ্সরা❞ লেখা নাম্বারটি।
নিহান এটা খেয়াল না করলেও পাশে থাকা নাহিয়ান খুব ভালো করেই দেখতে পেয়েছে।নিশান কল তুলতেই অপর পাশ থেকে চিরচেনা কন্ঠ ভেসে এল,

—”হ্যালো স্যার।”

—”হুম।”

ওপাশ থেকে আর কোনো সাড়া শব্দ নেই।নিশান নরম কন্ঠে বলে,

—কিছু বলবে?”

—”ইয়ে মানে আমার বিয়ে ঠিক হ’য়েছে স্যার।

—”কখন?”

—”আজকে।”

—”বিয়ে কখন?”

—”আর এক সপ্তাহ পর ই আমার বিয়ে।আজকেই হঠাৎ করে দেখতে এসে রিং পড়িয়ে দিয়ে গেছে।”

নিশান গম্ভীর কন্ঠে বলে,
—”অফিসে আসবে না আজকে?”

—”না স্যার।”

—”ভালো।কল রাখি এইবার।”

নোভা কিছু বলল না।কল কেটে দিল।নিশান হাতে থাকা ফোনটা ছুড়ে মারল ফ্লোরে।নাহিয়ান অবাক চোখে তাকাল নিশানের দিকে।নিশান দাঁতে দাঁত চেপে বিড়বিড় করে বলে,

—”নারীরা এমনিই হয়।নারীর জন্মই হয় ছলনার জন্য।”
★★★★
ডাক্তার এসেছে নিহানের রুমে।রুমটা পরিপাটি করে গোছানো।তুবা শুয়ে আছে।গলা পর্যন্ত কম্ফোর্ট দিয়ে ঢাকা।
ডাক্তার টাও নিহানদের বয়সী।চোখে গোল গোল ফ্রেমের চশমা লাগানো। নাম আবরার খান মাহিম। তুবাকে দেখল এক পলক। এক পলক না বেশ কিছুক্ষণ ই তাকিয়ে থাকল।নিহানের নজর এড়ালো না সেটা।
কিছুক্ষণ তুবাকে চ্যকাপের পর নিহানকে বলে,

—”কাল রাতে কি কিছু খেয়েছিলো?”

—না মনেনয়।”

—”একেতো রাতে কিছু খায়নি তার উপর বেশি স্ট্রেস নিয়ে ফেলেছিলো বোধহয়।”

—”হুম।”

—”আমি কিছু ঔষুধ দিয়েছি সেগুলা খাওয়াবেন কয়েকদিন।”

—”আচ্ছা। “

ডাক্তার চলে যাওয়ার পর নিহান তুবার মাথার পাশে বসল।
মাথায় হাত বুলিয়ে দিল কিছুক্ষণ।তুবা একটু একটু করে চোখ খুলে আবারও বন্ধ করে ফেলে।নিহান তা দেখে মাথা থেকে হাত সরিয়ে নেয়।
★★★
নিশান সিদ্ধান্ত নিয়েছে আজ অফিসে যাবে না।নিশান মনে মনে কিছু একটার ছক কসছে।
হঠাৎ মোবাইলে কল বেজে উঠল। অপরিচিত নম্বর থেকে কল করছে কেও একজন।কল ধরতেই অপর পাশ থেকে বলে,

—”বলেছিলাম না হেরে যাবি।হারিয়েই দিয়েছি।”

নিশান তাচ্ছিল্য হেঁসে বলে,

—”নিশান এহসান হারার পাত্র নয়। জানিস ই তো।”

অপাশ থেকে অট্টহাসি দিয়ে বলে উঠল,

—”পারবি না এবার কিছুতেই পারবি না।চ্যালেন্জ দিয়ে বললাম।”

—”চ্যালেন্জ দিয়ে বলবি বল আর যাই বলস না কেন। নিশান এহসান ই জিতবে।জিতবেই জিতবে।কথাটা মাথায় ঢুকিয়ে রাখিস।কু*ত্তার বাচ্চা।”

—”দেখা যাবে সব।আমার কী বা*ল করবি আমিও দেখবো।”

নিশান কল কেটে দেই।মনে দাউদাউ করে যেন আগুন জ্বলছে।রাগে ক্ষোভে কি করবে বুঝতে পারছেনা। টেবিলে থাকা ফুলদানিটা ছুড়ে মারল ফ্লোরে। কাচের শব্দে লিভিংরুমটা যেনে কেঁপে উঠল।রান্নাঘর থেকে আতিয়া বের হয়ে বলে,

—”কী হয়েছে স্যার?”
—”কিছু না তুমি তোমার কাজ করো।”
আতিয়া বেগম মাথা নেড়ে রান্নাঘরে চলে যায়।নিশান এখনো রাগে ফুসছে।
★★★★
নিহান ওয়াশরুম থেকে লম্বা একটা শাওয়ার নিয়ে বের হয়।কোমড় পর্যন্ত টাওয়াল জড়ানো।ওয়াশরুম থেকে বেরিয়প দেখে তুবা মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে বিছানায়।তুবাকে উদ্দেশ্য করে বলে,

—”ফ্রেশ হয়ে ঔষুধ খেয়ে নাও।”

তুবা মাথা তুলে দেখল নিহান।নিহানকে এমন অবস্থায় দেখে তুবা মাথা নিচু করে ফেলল।নিহান বুঝতে পারল সেটা।ঠোঁট বাকিয়ে হাসি দিল।তুবা শান্ত কন্ঠে বলে,

—”আপনি টাওয়াল গায়ে দিয়ে এদিকে ওদিকে ঘুড়ছেন কেনো?”

—”এদিকে ওদিকে কই ঘুরলাম। আমি নিজের রুমে। উল্টো তুমি আমার রুমের বিছানা দখল করেছো।”

—”আমি কি নিজ ইচ্ছায় এসেছি নাকি?আপনিই তো কালকে রাতে….”

তুবা নিজেকে মনে মনে গালি দিতে থাকে।কী বলে ফেলল ও।নিহান ঠোঁট কামড়ে হেসে বলে,

—”বলো?পরেরটা বলো।”

তুবা নিশ্চুপ। মাথা নামিয়ে রেখেছে।নিহান আবারো বলে,

—”কী হয়েছে? বলো?”

তুবা এবারো কিছু বলে না।নিহান এবার বলে উঠল,
—”তুমি বলবে নাকি কালকে রাতের মতো…”

আর কিছু বলতে যাবে তার আগেই তুবা বিছানা থেকে উঠে দৌড়াতে গেলেই মেঝেতে পড়ে যায়।নিহান ধমক দিয়ে বলে,

—”দৌড়ানোর কি আছে?আমাকে কি তোমার জা’নোয়ার মনে হয়?কালকে রাতে করেছি তো করেছি তোমার এই অবস্থায় ও যে আমি ওইসব করব..”

তুবা এবার চিল্লিয়ে কেঁদে উঠল। নিহান তুবার কাছে গিয়ে ঝুঁকে বলে,

—”কাঁদছো কেন?বেশি লেগেছে?পাখি?

চলবে??

(সবাই রেসপন্স করবেন প্লিজ।আর ১ কে রিয়েক্ট করে দিবেন।)

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply