অ্যাঞ্জেল_অ্যাঞ্জেলিনা
[পর্ব ৫৮]
লেখিকাফারহানানিঝুম
(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয়।)
(🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
নিঃশ্বাসের স্নিগ্ধ স্পন্দনে রমণীর চক্ষুদ্বয় ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে। আবেশের ঘন আবরণে আচ্ছন্ন দৃষ্টি, তবু নীরব অশ্রুবিন্দু ধীরগতিতে গড়িয়ে পড়ছিল কার্নিশ বেয়ে। মন্থর ভঙ্গিতে পুরুষটি তার মুখাবয়ব গ্রীবার বাঁক হতে সম্মুখে উত্তোলন করল। দৃষ্টির সম্মিলনে এক অদ্ভুত স্থবিরতা। কম্পমান ওষ্ঠদ্বয় পুনরায় নিবিড় সংযোগে আবদ্ধ হলো ক্ষণস্থায়ী, তবু তীব্র অনুরণনে ভরপুর। গভীর এক চুমু এঁকে অতঃপর বিচ্ছিন্নতা। ন্যান্সি কোমল হাতে স্পর্শ করল আফরিদের বুকের ডান পাশে। এখানেই তো তার হৃদয়!
এতক্ষণ যাবৎ লোকটার অস্থির উন্মত্ততা সহিষ্ণুতার সঙ্গে স’হ্য করে এসেছে ন্যান্সি। অথচ আফরিদের মধ্যে কোনো বিরামচিহ্ন নেই সে যেন একাগ্র নিমগ্নতায় স্পর্শের আবর্তে আবদ্ধ। অন্তিম মুহূর্তে বক্ষদেশে এক নীরব চুম্বন এঁকে দিলো । ওমনি ব্যথাতুর চাহনিতে ওই নীলাভ মনি জোড়ায় তাকালো কন্যা। খামচে ধরল তার কাঁধ।নরম চামড়া ভেদ করে মাংসে নখ গেঁথে যাচ্ছে। অথচ তাতেও আফরিদের ভাবান্তর নেই। শেষবারের মতো কপালে ওষ্ঠো ছুঁয়ে পার্শ্ববর্তী বালিশে শির স্থাপন করল।
ন্যান্সি নির্বাক। নিজেকে সংবরণ করে প্রস্থান করতে উদ্যত হলো ফ্রেশ হওয়ার অজুহাতে। কিন্তু অবাধ্য, উদ্ধত পুরুষটি তাকে অবকাশ দিল না। আকস্মিক টানে পুনরায় আলিঙ্গনে আবদ্ধ করল, দৃঢ় বাহুবেষ্টনে আটকে ফেলল সম্পূর্ণভাবে। বিস্ময়ে স্তব্ধ হলো কন্যা।
“ছাড়ুন আমায়।”
প্রত্যুত্তরে নীরবতা, বরং আলিঙ্গনের দৃঢ়তা বৃদ্ধি পেল। চক্ষু মুদিত অবস্থায় নিস্পৃহ স্বরে উচ্চারিত হলো,
“পরে।”
সংযত ক্রো’ধে উত্তপ্ত হলো কন্যা। নাসারন্ধ্র স্ফীত, কণ্ঠে বিরক্তির কম্পন,
“আমি শাওয়ার নেব। ছাড়ুন।”
আফরিদের পুনরুক্তি,
“পরে।”
ন্যান্সির অন্তঃস্থলে ক্ষোভ দাউদাউ করে প্রজ্বলিত হলো। দৃষ্টিতে দহন, অভিব্যক্তিতে স্পষ্ট প্রতিবাদ। অথচ আফরিদ নির্লিপ্ত। সে মুখাবয়ব বক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে চেপে ধরে আচ্ছাদন বিস্তার করল। কম্ফোর্টারের আড়ালে নিজের সাথে মিশিয়ে নিল কন্যাকে।
মেয়েটি অনুধাবন করল এই মুহূর্তে মুক্তি দুর্লভ। পুরুষটির একগুঁয়ে আধিপত্যে সে সম্পূর্ণরূপে আবদ্ধ।!
স্পেন বার্সেলোনা….
রজনীর নিবিড় আবরণে হঠাৎই যেন এক হিমশীতল নৈঃশব্দ্যের অন্ধকারে গহ্বর। নগরীর স্পন্দন স্তব্ধ । দু’জন পুলিশ অপরাধ দমনয’ন্ত্রের দৃঢ় স্তম্ভ আজ র’ক্তের স্রোতে ভেসে গেলো। কে করেছে, কিভাবে করেছে তার কোনো উত্তর নেই। নিঃশব্দে, অদৃশ্য হাতের মতো, এই হ’ত্যাকা’ণ্ড ঘ’টিয়ে গেছে কেউ। কিন্তু কে করেছে সেটা বুঝতে বাকি নেই। আর পাঁচটা লা’শের মতো এটার গায়েও ঈগলের ট্যাটু লেপ্টে দেওয়া হয়েছে।
লুসিফার এলেন ইদ্রান নামটি উচ্চারিত হলেই সাহসিকতার অহংকার চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়; হৃদস্পন্দন ব্যতিব্যস্ত হয়ে ওঠে এক অজানা সন্ত্রা’সে। পুনরায়, কুটিল প্রজ্ঞা ও অদৃশ্য কৌশলের আবরণে আচ্ছন্ন হয়ে, সে অধরা হয়ে মিলিয়ে গেছে অতল অন্ধকারে।
ইস্ক্রিয়াসের অন্তঃস্থল যেন দহনশিখায় প্রজ্বলিত। মস্তিষ্কে ক্রোধের প্রলয়ঘূর্ণি, শিরায় শিরায় ক্ষোভের বি’ষবাষ্প। এত নিখুঁত পরিকল্পনা, এত সুদৃঢ় জাল বিস্তার সবকিছুকে উপহাস করে, কোন অজ্ঞেয় শক্তির ইঙ্গিতে ইদ্রান তার মুঠো ফসকে মুক্তি পেল?
“না না দিবাং এটা মেনে নিতে পারছি না। হাউ ইজ দিস পসিবল?”
বিক্ষুব্ধ উন্মত্ততায় নিজ কেশমঞ্জরী মুষ্টিবদ্ধ করে আকর্ষণ করছে ইস্ক্রিয়াস; তার চক্ষুদ্বয় র’ক্তাভ, শ্বাসপ্রশ্বাসে উৎকণ্ঠার দহন। চারিপাশে নিস্তব্ধতার আবরণ, অথচ সেই নীরবতার অন্তরালে যেন প্রতিধ্বনিত হচ্ছে অজানা কোনো বিপর্যয়ের অশুভ সংকেত। দিবাং, শীতল সংযমে আবৃত থেকে, ঘটনাস্থলের প্রতিটি প্রান্ত সুক্ষ্ম পর্যবেক্ষণে অন্বিষ্ট করছে কোথাও কি লুকিয়ে আছে কোনো সূক্ষ্ম প্রমাণচিহ্ন? ইতোমধ্যে তদন্তপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে আহূত হয়েছে আরও দু’জন দক্ষ অফিসার; তবুও রহস্যের জটিল গ্রন্থি বিন্দুমাত্র শিথিল হয়নি।
হঠাৎ র’ক্তরঞ্জিত পাথরের প্রান্তে দী’প্তিমান এক ক্ষুদ্র বস্তু দৃষ্টিগোচর হলো। একটি আংটি।
নিশ্চয়ই কোনো নারীর হাতের আংটি কিন্তু তার উপর লেপিত র’ক্তের ছোপ সেই কোমলতাকে রূপান্তরিত করেছে এক ভয়াল প্রতীকে।
“স্যার, এটা দেখুন!”
দিবাংয়ের স্বর নিম্ন, কিন্তু তার মধ্যে লুকিয়ে থাকা তীব্রতা উপেক্ষণীয় নয়।
ইস্ক্রিয়াস ধীরপদে অগ্রসর হলো, যেন প্রতিটি পদক্ষেপ তার চেতনার উপর আরো ভার আরোপ করছে। দিবাংয়ের প্রসারিত হস্ত হতে আংটি হাতে নিতেই তার অন্তঃকরণে এক অদ্ভুত শৈত্য সঞ্চারিত হলো।
অত্যন্ত পরিচিত, অতিশয় সন্নিকট কিন্তু অসঙ্গত, অসম্ভব।
র’ক্তলেপিত সেই আংটিটি যেন অতীতের কোনো গোপন অধ্যায় উন্মোচনের হুমকি দিচ্ছে।
ইস্ক্রিয়াসের মস্তিষ্কে চিন্তার প্রবাহ হঠাৎ স্তব্ধপ্রায়।
যুক্তি, বোধ সবকিছু যেন শূন্যতায় বিলীন।
এ কেমন প্রহেলিকা?এ কেমন নির্মম পরিহাস?
এটি তো? নাএটি হওয়ার নয়!
🌿___🌿
বাংলাদেশ……..
এদিকে, মঞ্জিলের বিশাল ডাইনিং টেবিলে আয়োজিত হয়েছে ব্রেকফাস্ট। সুসজ্জিত সার্ভেন্টরা নিঃশব্দ পদচারণায় একের পর এক খাবারের ডিশগুলো নিয়ে আসছে,
গত রাতে অশ্রুসিক্ত ছিল স্মাইলি; তার মা’তৃহারা ব্যথা মিসেস এনার অনুপস্থিতি তাকে করে তুলেছিল ভেঙে পড়া এক কোমল সত্তা। আজ সে নিঃশব্দে বসে আছে সারিবদ্ধ চেয়ারে, তার সঙ্গে উপস্থিত মাইমুনা এহসান, সাব্বির, নীলাদ্রি, কল্পনা ও ইদ্রান প্রত্যেকেই যেন নিজস্ব চিন্তার আবরণে আবদ্ধ।
প্রভাতের সূচনালগ্নেই আফরিদের নির্দেশে ঈশান ও ইভান বেরিয়ে গিয়েছিল কোথাও একটা তাদের পদচারণা যেন অনাগত ঘটনার পূর্বাভাস বহন করে।
অন্যদিকে, নিদ্রাভঙ্গের পর ন্যান্সির অনুপস্থিতি আফরিদের চিত্তে বিরক্তির স্ফু’লিঙ্গ প্রজ্বলিত করল।
“তুই বউ বউয়ের মতো থাকবি তুই কেন পাখির মতো এদিক সেদিক উড়ে বেড়াবি?”
অধীরতায় উচ্চারিত সেই বাক্য তার অন্তর্নিহিত অস্থিরতাকেই প্রতিফলিত করল।
বিছানা ত্যাগ করে, নিজেকে সজ্জিত করল আফরিদ গাঢ় নীল বর্ণের টি-শার্ট ও কৃষ্ণবর্ণ ট্রাউজারে আবৃত তার ব্যক্তিত্বে স্পষ্ট পুরুষালি দৃঢ়তা। এলোমেলো কুঞ্চিত কেশরাশি সামলে, সে যখন অগ্রসর হলো ড্রয়িং রুমের দিকে, উপস্থিত সকলের দৃষ্টি তার দিকে নিবদ্ধ হলো ক্ষণিকের জন্য।
ন্যান্সি কিচেন থেকে সবেই বেরিয়ে এসেছি , অনেক দিন পর শাড়ি পড়েছে ন্যান্সি। এখানে আসার পর একদিনও শাড়ি পরা হয়নি তার। এবং কি বিয়ের দিনও শাড়ি পড়েনি লেহেঙ্গা পড়েছিল।
সিঁড়ির অন্তিম দ্বিপদে এসে আচমকাই স্তব্ধ হয়ে যায় আফরিদের পদচারণা। দৃষ্টিপথে আবির্ভূত সেই শাড়ি-পরিহিতা রমণীর মাধুর্য তার দৃঢ়, পুরুষালী সত্ত্বাকেও এক মুহূর্তের জন্য কাঁপিয়ে তোলে সূক্ষ্ম কম্পনে।
ন্যান্সি আজ হালকা গোলাপি রঙের শিফন শাড়ি পরেছে। পাতলা পরতের ভাঁজে ভাঁজে দুলছে হাওয়া, আর সেই সাথে চোখে পড়ছে সূক্ষ্ম এমব্রয়ডারির খেলা।
আঁচলের সাদা ঢেউখেলানো। গলায় ভারী নেকপিস, কানে ঝুলছে ছোট দুলটা ।
খোলা কেশরাশি দীর্ঘ স্রোতের ন্যায় পৃষ্ঠদেশ বেয়ে নেমে এসেছে; তার কৃষ্ণবর্ণ দীপ্তি যেন রাতের আবরণকেও ম্লান করে দেয়। চক্ষুদ্বয়ে আঁকা গাঢ় কাজল আজও অপরিবর্তিত কিন্তু সেই দৃষ্টির গভীরতা যেন আজ আরও অধিক মাদকতায় আবিষ্ট।
আফরিদ এহসানের অন্তরকোষে হঠাৎই সঞ্চারিত হয় এক অজ্ঞেয় কম্পন; হৃদস্পন্দন অনিয়ন্ত্রিত, দুরু দুরু তালে বেজে ওঠে বক্ষগহ্বরের অন্তরালে। তার এই অপ্রত্যাশিত স্থবিরতা ন্যান্সির দৃষ্টিগোচর হতেই, সে বিস্ময়ে বিস্ফারিত নয়নে তাকায় গোলাকার চাহনিতে মিশে থাকে প্রশ্ন ও কৌতূহল।
দু’জনের দৃষ্টি যখন এক অদৃশ্য সেতুবন্ধনে আবদ্ধ হলো, সময় যেন এক মুহূর্তের জন্য স্থির হয়ে রইল।
আফরিদের মুখাবয়বে ভেসে ওঠে এক অসহায় অভিব্যক্তি নিজেকেই যেন সে আর চিনে উঠতে পারছে না। অন্তর্গত অস্থিরতাকে আড়াল করতে, নীরবে, মনের গভীরে নিজেকেই কঠোর ভাষায় তিরস্কার করে ওঠে সে।
এই ক্ষণিক দৃষ্টিবিনিময়।
মনে মনে আচ্ছা করে গালি দিলো।
“মাতারি রেএএ তুই ভীষণ চালাক হইয়া গেছোস, না হলে এমনে শাড়ি পরে সিস্টেমে বারোটা বাজিয়ে দিতি না। এবার আমি সিস্টেম ঠিক করতে মেকানিক কই পাবো?”
আফরিদ আর এক মুহূর্তও স্থির রইল না দ্রুত, প্রায় পালানোর ভঙ্গিতে পদক্ষেপ বাড়িয়ে পুনরায় সিঁড়িপথ ধরল । তার দেহমুদ্রা কাঁপমান, অন্তর্গত স্নায়ুপ্রবাহে যেন অস্থিরতার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। ত্রস্ত হস্তে এলোমেলোভাবে ড্রয়ার খুলে বের করল ডিজিটাল ব্লাড প্রেসার মেশিন টা বের করলো। প্রেশার ফল্ট হয়েছে মাফিয়া কিংয়ের। ভাবা যায়?
এ এক ভ্রম, নাকি নির্মম বাস্তব?
যে ব্যক্তি মৃ’ত্যুর ছায়াকেও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে, সে আজ নিজ হৃদস্পন্দনের কাছে পরাজিত!
“ইশ্ এই নারী আমাকে শেষ করে দেবে একদিন।”
অন্তর্গত ক্ষোভে নিজেকেই অভিশাপ দিল সে। তবুও হৃদপিণ্ডের অপ্রতিরোধ্য স্পন্দন তখনও বক্ষপিঞ্জর ভেদ করে বেরিয়ে আসতে উদগ্রীব।
কিছুক্ষণ নিজেকে সংযত করে, মানসিক স্থিতি পুনরুদ্ধারের ব্যর্থ প্রচেষ্টায়, পুনরায় নিচে নেমে এলো।
“মাফিয়া কিং আসেন একটু গল্প করি।”
ইদ্রানের ডাকে ঘোর কা’টে। স্মাইলি মুগ্ধ নয়নে দেখছে ওই পুরুষকে। একটি পুরুষ ঠিক কতটা সুদর্শন হতে পারে তার জলজ্যান্ত প্রমাণ হচ্ছে আফরিদ এহসান। তার সৌন্দর্যে ঝলসে যাচ্ছে স্মাইলি। ইদ্রান তো আফরিদের সমকক্ষ হওয়ারও যোগ্য নয়। ইদ্রানকে তার পাশে বড্ড বেমানান লাগবে।
ন্যান্সি চুপচাপ গিয়ে স্মাইলির পাশে বসলো। স্মাইলি আড়চোখে দেখে ন্যান্সি কে।
আফরিদ গিয়ে চেয়ার টেনে ইদ্রানের ডান দিকে বসলো।
নীলাদ্রি চওড়া হেসে বলল।
“হঠাৎ বাংলাদেশ কেন ইদ্রান ভাইয়া?”
সাব্বির রুটির টুকরো মুখে পুরে বলল।
“হ্যাঁ সেটা তো বললেই না ইদ্রান ভাইয়া!”
ইদ্রান স্যুপের বাটিটা রেখে ঠোঁট টা মুছে বলল।
“এসেছি হানিমুনে,ওই যে আমার বিউটিফুল ওয়াইফ।”
সাব্বির আর নীলাদ্রি দুজনেই স্মাইলি কে দেখলো। ন্যান্সি ফিক করে হেসে ফেলল।
আফরিদ বিরক্তিকর কন্ঠে বলল।
“তোর বউ আর তুই দুজনেই কাফনের কাপড় রেডি রাখ আমার বাড়িতে হানিমুন করতে আসায় তোদের কবর উপহার দেব।”
তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো ইদ্রান। ন্যান্সি ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে দেখে আফরিদ আর ইদ্রানের কর্ম কান্ড। শেষমেষ আর চুপ থাকতে পারলো না মৃদু স্বরে বলল।
“আপনারা একে অপরের কি হন?”
ইদ্রান কিছু বলার আগেই আফরিদ বলে উঠে।
“ও আমার খাস শত্রু হয়। ওকে মা’রতে পারলে শান্তি লাগতো!”
ইদ্রান বাঁকা হেসে বলল।
“রাইট আমরা একে অপরের শত্রু।”
ন্যান্সি ক্ষিপ্ত হলো।
“আমি কি বোকা? আমার মুখে লিখা আছে আমি বোকা? শত্রুরা একই বাড়িতে থাকছে যত্তসব।”
কল্পনা ন্যান্সির উদ্দেশ্যে বলে উঠে
“সব জানো হাসব্যান্ডের ব্যাপারে এটা জানো না কে বন্ধু কে শত্রু?”
ন্যান্সির আর বুঝতে বাকি নেই আফরিদ আর ইদ্রান দু’জনে বন্ধু। ইদ্রানের ঘাড়ে ট্যাটু টা রয়েছে তার মানে সে আগুন্তকের হয়ে কাজ করে। তাহলে তো আফরিদও সেই আগুন্তক কে চিনে থাকবে?
মস্তিষ্কে সব গুলো প্রশ্ন ঝট পাকিয়ে যাচ্ছে!
স্মাইলি চুপচাপ বসে আছে ,তাকে খেতে না দেখে ন্যান্সি মৃদু স্বরে বলল।
“কি হলো স্মাইলি খাচ্ছো না কেন?”
স্মাইলি চোখ গরম করে তাকালো ন্যান্সির দিকে।
“কথা বলবে না তুমি আমার সাথে ইলহাম।”
স্মাইলির রাগের কারণ টা ধরতে খুব একটা সময় লাগল না ন্যান্সির।
স্মাইলি স’হ্য করতে পারছে না ন্যান্সি কে। প্রথমত সে বলেনি সে প্রথম থেকেই ইদ্রান কে চিনতো। তার সাথে তাদের সম্পর্ক আছে। উল্টো তাকে মিথ্যে বলেছে। তার মানে আমেরিকার ফ্লাইট থেকে স্পেনে যাওয়ার অব্দি যা যা হয়েছে সব মিথ্যে। মিথ্যে বলেছে ন্যান্সি।
খাওয়া ছেড়ে উঠে গেল স্মাইলি। ন্যান্সি হতাশ হলো , মনক্ষুণ্ণ হয় মেয়েটার। তারও আর খাওয়া হলো না শেষমেশ।
স্মাইলি উপরে চলে যেতে যেতে দেখলো তিতলি উপর থেকে নিচে নামছে, একটু আগে তাকে উপরে যেতে দেখেছিল স্মাইলি।
“শুনো।”
স্মাইলির কথায় থামলো তিতলি , স্বভাব সুলভ হাস্যোজ্জ্বল মুখে বলল।
“জ্বি বলুন।”
স্মাইলি আড়চোখে একনজর ডাইনিং টেবিলে দৃষ্টি বুলিয়ে ফের বলল।
“আচ্ছা ইলহাম কি হয় এই বাড়ির? আর আফরিদ এহসান উনারই বা কি হয়?”
স্মাইলির কথায় ফিক করে হেসে উঠলো তিতলি। ভ্রু কুঁচকে নিল স্মাইলি।
“তুমি হাসছো কেন? আমি হাসির মতো কিছু বললাম?”
তিতলি চনমনে বলে উঠে।
“আরে আপনি জানেন না ইলহাম আপু আফরিদ ভাইয়ার কি হয় সেটা শুনেই অবাক হলাম। যাই হোক ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা হচ্ছে এই রাজ্যের রানী। আফরিদ ভাইয়ার প্রাণ। আফরিদ ভাইয়ার বিবাহিত স্ত্রী! উনার জানকি বাচ্চা।”
মেয়েলি ওষ্ঠো যোগল ফাঁক হয়ে এলো স্মাইলির। অবিশ্বাস্য নয়নে আবারো ফিরে তাকালো ন্যান্সির যাওয়ার পথে।
🌿__🌿
নিশীথের স্নিগ্ধ আবরণে ছাদের প্রান্তে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে ন্যান্সি ও স্মাইলি। আকাশে নক্ষত্রের ক্ষীণ আলোক রশ্মি । ন্যান্সির দৃষ্টি বারংবার গিয়ে স্থির হচ্ছে স্মাইলির মুখাবয়বে; তার অন্তর্গত দ্বিধা, অপরাধবোধ ও গোপন ভার যেন চাহনির গভীরতায় প্রতিফলিত।
“সরি, স্মাইলি। তোমার কাছে অনেক কিছুই গোপন রেখেছি আমি।”
স্মাইলির অধরে ফুটে ওঠে এক তীক্ষ্ণ তাচ্ছিল্যের রেখা।
“তুমি এই মহলের রাণী, এহসান মঞ্জিলের। আফরিদ এহসানের স্ত্রী। অথচ সেই তুমি একের পর এক মিথ্যার জাল বুনে চলেছো। তুমি তো ওই কলেজের ছাত্রীই ছিলে না তবে কেন সেই প্রতারণা? আর চার্ম তাকে কি তুমি পূর্বপরিচিত ছিলে না?”
ন্যান্সি দীর্ঘনিশ্বাস ত্যাগ করে, যেন বুকের অন্তঃস্থলে জমে থাকা ভার লাঘবের এক ব্যর্থ প্রয়াসে বলল,
“সব বলছি..
স্মাইলির দৃষ্টি তীক্ষ্ণ, প্রতিটি কথা গ্রাস করতে প্রস্তুত। ন্যান্সি মৃদু হাসল একটি ক্লান্ত, বেদনাময় হাসি।
“আমিও একসময় ছিলাম একেবারেই সাধারণ এক ছোট্ট বেকারিতে কাজ করতাম। হঠাৎ একদিন রাস্তায় আফরিদকে বাঁচিয়েছিলাম। সেখান থেকেই সবকিছুর সূত্রপাত।”
স্মাইলির ভ্রুকুটি গভীরতর হয়,
“মানে?”
“মানে আফরিদ এহসান আমার প্রতি এক অদম্য আসক্তিতে আবিষ্ট হয়ে পড়েন। জোরপূর্বক বিয়ে করে এই মঞ্জিলের রাণীর আসন দেয় সবই তারই ইচ্ছার প্রতিফলন। সবাই তাকে ভয় করে আর সে ভয় পায় আমার রাগকে, আমার কষ্ট, আমার কান্নাকে। আমাকে আঘা’ত করার সাহস কেউ পেলে, সেই যন্ত্র’ণাকে সে নিজের বুকে ধারণ করে।”
স্মাইলি সংশয়ে ভ্রু উঁচিয়ে পুনরায় প্রশ্ন করে,
“তাহলে স্পেনে যাওয়া? আর চার্ম তাকে চিনলে কীভাবে?”
ন্যান্সির অধরে আবারও সেই অস্পষ্ট হাসি।
“তোমার চার্ম মানে ইদ্রান ভাইয়া তাকে আমি চিনতাম না, চিনে আফরিদ। আমি পরিস্থিতির প্রয়োজনে তাকে জেনেছি। আর স্পেন সেখানে যাওয়ার পেছনে লুকিয়ে আছে এক ভয়াল সত্য।”
কণ্ঠ ক্রমে ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠছে কন্যার। চোখ দুটো অশ্রুসজল।
“আমার পালিত পরিবার। তাদের জীবন্ত দগ্ধ করা হয়েছে অগ্নিকু’ণ্ডে। মা’রা গেছে আগু’নে পুড়ে।আমি জানতে চাই কারা করেছে এই নির্মম হ’ত্যাকান্ডে জড়িত? আর সেই মানুষটিকে যার ছবি আমি “রেড সাইলেন্ট ম্যানর এ খুঁজে পেয়েছি। তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক গভীর অত্যন্ত গভীর তাই তো আমি তার সম্পর্কে ছিলাম।”
বাক্যের শেষপ্রান্তে এসে কণ্ঠ ভেঙে যায়।
অশ্রুবিন্দু টপটপ করে ঝরে পড়ে তার আঁখিপুট বেয়ে নীরব যন্ত্রণার ভাষ্য হয়ে। হঠাৎই এক অপ্রত্যাশিত শক্তি তার কব্জিকে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ করে টেনে ধরে।
আকস্মিকতায় চমকে ওঠে দু’জনেই।
“আফরিদ, আপনি?”
আফরিদের দৃষ্টি তখন দহনশিখার ন্যায় জ্বলন্ত তীক্ষ্ণ, শাসনময়। সে কটাক্ষে তাকায় স্মাইলির দিকে,
“এই মেয়ে আর একবার যদি আমার স্ত্রীর কাছে আসো, যদি তাকে কাঁদাও তাহলে তোমাকে এমন পরিণতি করব যার কল্পনাও করতে পারবে না।”
স্মাইলি স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে ভয়, বিস্ময় ও স্তব্ধতার মিশ্র প্রতিক্রিয়া তার মুখে স্পষ্ট।
পরমুহূর্তেই ন্যান্সির মুষ্টি সজোরে আ’ঘাত হানে আফরিদের উদরে।
আফরিদের ওষ্ঠ থেকে অস্ফুট আর্তনাদ নিঃসৃত হয়।
“বোকা নারী! এই তুচ্ছ মেয়েটার জন্য আমাকে আ’ঘাত করলি?”
ন্যান্সির চাহনি তখন অগ্নিদগ্ধ।
“ওর সামনে আর একবারও এমন অশালীন ভাষা ব্যবহার করবেন না। আমি নিষেধ করছি।”
আফরিদ দাঁতে দাঁত চেপে, ক্রোধ সংবরণে ব্যর্থ হয়ে বলে ওঠে,
“একশো বার বলব! এই মূর্খের বংশধর ,এখনই এখান থেকে সরে পড়ো। নইলে এই ছাদ থেকেই নিচে ফেলে দেব। তখন তোমার চার্ম তোমাকে খুঁজেও পাবে না।”
তার শীতল, নির্মম হুমকিতে মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় পরিবেশ। ন্যান্সি নির্বাক, আর স্মাইলি ভয়ে সংকুচিত অবশেষে নিঃশব্দ পদক্ষেপে সরে যায় সেখান থেকে।
চলবে………..।✨
(📌সবাই কষ্ট করে একটু রেসপন্স করার চেষ্টা করবেন। একটা রিয়্যাক্ট দিতে, কমেন্ট লিখতে মাত্র এক থেকে দুই মিনিট লাগে। পেইজে কেউ রেসপন্স করেন না বলে ফেসবুক আপনাদের পেইজের কোনো কিছুই সাজেস্ট করেনা। প্লিজ আপনাকে একটু এক্টিভ হন।)
আমার আইডি Farhana Nijum
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫৭ এর শেষাংশ
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫৬ প্রথম অর্ধেক
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৭
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪২
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৪
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৬
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৮
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫৬ শেষাংশ
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৬
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১২