অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৫৫( প্রশেষ অংশ রিদির শেষ চিঠি)
#অসম্ভব_রকম_ভালোবাসি_তোমায়
#লেখিকা_সুমি_চৌধুরী
#পর্ব ৫৫ (শেষ অংশ রিদির শেষ চিঠি)
আমার প্রাণের পরিবার,,,
______________________
বাবা, মা জানি না এই চিঠিটা যখন তোমাদের হাতে পৌঁছাবে, তখন আমি কোথায় থাকব। হয়তো কোনো এক না ফেরার দেশে, যেখানে কোনো সামাজিক লোকলজ্জা নেই, কোনো হৃদয়ের রক্তক্ষরণ নেই। আজ আমার বিয়ের রাত। চারদিকে খুশির রোশনাই, সানাইয়ের সুর সবাই ভাবছে রিদি আজ রাজকুমারী সেজে অন্য এক প্রাসাদে চলে যাবে। কিন্তু কেউ আমার ভেতরের দাহটা দেখতে পেল না। কেউ বুঝল না, এই লাল বেনারসিটা আসলে আমার কাফনের কাপড়।
বাবা,,,,
___________________
তুমি আমাকে সবসময় তোমার রাজকন্যা বলে ডাকতে। আমার প্রতিটি আবদার তুমি হাসিমুখে পূরণ করেছ। কিন্তু বাবা, জীবনের সবথেকে বড় আবদারটা আমি তোমার কাছে করতে পারিনি। আমি জানতাম, তোমার সম্মান তোমার কাছে পাহাড়ের মতো উঁচু। আর সেই সম্মান বাঁচাতে গিয়ে আমি নিজের ভেতরটা পুড়িয়ে ছাই করে ফেলেছি। শুভ্র ভাইকে আমি কতটা ভালোবেসেছিলাম, তা হয়তো কাউকে বোঝাতে পারিনি। শুভ্র ভাই শুধু আমার প্রেম ছিল না বাবা, সে ছিল আমার নিশ্বাস। সে যখন আমাকে মাঝপথে একা ফেলে নিরুদ্দেশ হয়ে গেল, তখন থেকেই আমি প্রতিটা সেকেন্ডে মরে যাচ্ছিলাম। আজ যখন তুমি আমাকে অন্য একজনের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছ, তখন আমার মনে হচ্ছে তুমি আমাকে জীবন্ত কবরে পাঠাচ্ছ। ক্ষমা করে দিও বাবা, তোমার রাজকন্যা আর পারল না। তোমার মান রাখতে গিয়ে আমি আর নিজেকে সইতে পারছি না।
মা,,,
________________
তুমি তো আমার মনের সব খবর জানতে মা। আমার চোখের কোণে এক বিন্দু জল জমলে তুমি বুঝতে পারতে। তাহলে আজ কেন আমার এই চিৎকার তোমার কানে পৌঁছাল না? কেন তুমি আমাকে বুকে টেনে নিয়ে বললে না যেখানে সুখ নেই, সেখানে যাওয়ার দরকার নেই? মা, আজ যখন বিয়ের সাজে আমাকে আয়নার সামনে বসিয়ে দিলে, তখন আমার মনে হচ্ছিল আমার কলিজাটা কেউ ধারালো ছুরি দিয়ে কাটছে। আমি তো অন্য কারো হতে পারব না মা। শুভ্র ভাইয়ের নাম আমার রক্তে মিশে আছে। যে শরীরে অন্য কারো অধিকার আমি কল্পনাও করতে পারি না, সেই শরীর অন্য কাউকে সঁপে দিয়ে আমি বেঁচে থাকব কীভাবে? আমি জানি আমার পরপাড়ে যাওয়ার খবরে তুমি সবথেকে বেশি কাঁদবে। কিন্তু মা, বিশ্বাস করো, তিলে তিলে প্রতিদিন মরে যাওয়ার চেয়ে একবার মরে যাওয়া অনেক বেশি শান্তির।
তোমরা আমাকে অনেক আগলে রেখেছিলে। কিন্তু শুভ্র ভাইয়ের ওই মায়াবী আসক্তি থেকে আমাকে কেউ বের করতে পারলে না। শুভ্র ভাই এমন এক পুরুষ, যে দূরে গিয়েও আমার চারপাশটা বিষাক্ত করে দিয়ে গেছে। তার অবহেলা আমি সইতে পেরেছি, কিন্তু তার অভাব আমি সইতে পারছি না। আমি এই পথটা কেন বেছে নিলাম জানো? কারণ আমি চাই না আমার কারণে আমাদের পরিবারের গায়ে কোনো কলঙ্ক লাগুক। আমি যদি আজ পালিয়ে যেতাম, তবে সমাজের মানুষ তোমাদের দিকে আঙুল তুলত। আমি মরে গেলে হয়তো তোমরা কিছুক্ষণ কাঁদবে, কিন্তু সমাজের সামনে তোমাদের মাথা নিচু হবে না। আমি নিজের জীবন দিয়ে তোমাদের সম্মানটুকু বাঁচিয়ে গেলাম।
পুরো পরিবারের কাছে আমার শেষ কথা,,,
___________________________________
আমি তোমাদের সবাইকে অনেক ভালোবাসি। আমি কোনোদিনও তোমাদের অবাধ্য হতে চাইনি। কিন্তু ভালোবাসা জিনিসটা বড় অদ্ভুত। শুভ্র ভাই আমাকে শিখিয়েছিল কীভাবে তাকে ছাড়া এক মুহূর্তও বাঁচা যায় না। আজ তার সেই শিক্ষাটাই আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করছি। বিয়ের এই সাজে আমি নিজেকে বড় বেশি অপবিত্র বোধ করছি। আমার আত্মাটা অনেক আগেই মরে গেছে, আজ শুধু শরীরটা মুক্তি পাচ্ছে।তোমরা কেউ শুভ্র ভাইকে দোষ দিও না। হয়তো আমার ভাগ্যেই সুখ ছিল না। শুধু আমার ঘরের এক কোণে রাখা ডায়েরিটা পড়লে তোমরা বুঝতে পারবে, এই মেয়েটা গত কয়েক মাস ধরে কতটা যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গেছে। আমার বিয়ের জন্য যে টাকাটা জমিয়েছিলে বাবা, সেটা দিয়ে কোনো এতিমখানায় খাবার দিও। অন্তত আমার আত্মাটা একটু শান্তি পাবে।
বিদায় বাবা। বিদায় মা। এই অভাগী মেয়েটাকে যদি পারো তবে মাফ করে দিও। আমি এক সমুদ্র তৃষ্ণা আর শুভ্র ভাইয়ের প্রতি এক আকাশ আসক্তি নিয়ে চলে যাচ্ছি। পরপাড়ে হয়তো আমার আর শুভ্র ভাইয়ের কোনো বিচ্ছেদ থাকবে না।
চিঠির শেষে রিদির শেষ কথা,,,
___________________________
“আমি তোমাদের রিদি হয়েই মরতে চেয়েছিলাম, অন্য কারো অর্ধাঙ্গিনী হয়ে নয়। আজ আমি আমার নিজের সিদ্ধান্তে স্বাধীন হলাম। দয়া করে আমার লাশের পাশে যেন কোনো কান্নাকাটি না হয়, কারণ আমি আজ সব কষ্ট থেকে মুক্তি পেলাম।”
ইতি,,,
তোমাদের আদরিনী রিদি।
আমার আসক্তি শুভ্র ভাই,,,
________________________
আপনি এমন একটা আসক্তি, পুরুষ দূরে গেলে অভিমানের বদলে আমি আপনাকে আরও বেশি ভালোবেসে ফেলি। আমার সব থেকে বাজে অনুভূতি হচ্ছে আপনি যখন অনেক দূরে থাকেন। আপনি যখন কাছে থাকেন, তখন পৃথিবীটা আমার মুঠোয় মনে হয়, আর আপনি দূরে গেলে মনে হয় আমি এক জনশূন্য দ্বীপে দাঁড়িয়ে নিজের অস্তিত্বের সাথে লড়াই করছি।জানেন? আপনাকে ভালোবেসে আমি কোনোদিনও শান্তি পাইনি, কিন্তু এই অশান্তিটাই আমার জীবনের পরম পাওয়া। আপনি কি জানেন আপনার নীরবতা আমাকে কীভাবে কুরে কুরে খায়? আপনি যখন কথা বলেন না, তখন চারপাশের শব্দগুলো আমার কানে তপ্ত সীসার মতো বিঁধে। আমি চেয়েছিলাম আপনার বুকে মাথা রেখে এক আকাশ নীল দেখতে, কিন্তু আপনি আমাকে দিলেন এক গহীন অন্ধকার রাত।আপনি আমার সেই অসম্পূর্ণ কবিতা,যাকে আমি সহস্রবার লিখেও শেষ করতে পারিনি।আপনার চোখের ওই গভীরতা, আমাকে বারবার ডুবিয়ে মারে,তবুও আমি সেখানেই ডুবতে চাই, বারবার, হাজারবার।
আপনি চলে যাওয়ার পর থেকে প্রতিটা প্রহর আমার কাছে এক একটা যুগের মতো।আমি আকাশের নক্ষত্রের কাছে আপনার খোঁজ করি,বাতাসের ঘ্রাণে আপনার গায়ের গন্ধ খুঁজি,কিন্তু আপনি নেই। কোথাও নেই।শুভ্র ভাই, আপনি কি একবারও ভেবে দেখলেন না এই পাগলিটার কী হবে? আপনি তো জানতেন আপনার বাইরে আমার কোনো পৃথিবী নেই। তবুও কেন আপনি আমাকে পর করে দিলেন? কেন আমাকে বাধ্য করলেন অন্য কারো সাজে সাজতে? আজ আমার বিয়ে, অথচ আমার মনে হচ্ছে আমি আমার কাফনের কাপড়ে চন্দন মাখছি। এই লাল আমার কাছে রক্তের মতো লাল মনে হচ্ছে।
আপনি নেই বলেই আজ সব কিছু অর্থহীন,
বুকের ভেতরটা এক বিশাল শূন্যতা, যা কোনো কিছুতেই ভরবে না।
আমি আপনাকে ঘৃণা করতে চেয়েছিলাম, খুব চেয়েছিলাম,
কিন্তু যতবার আপনার কথা ভেবেছি,
ততবার ভালোবাসার পারদ আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
আপনি আমার রক্তে মিশে থাকা সেই বিষ,
যা আমাকে মারছেও না, আবার বাঁচতেও দিচ্ছে না।
আমি কি খুব বেশি কিছু চেয়েছিলাম আপনার কাছে? শুধু চেয়েছিলাম আপনার ছায়া হয়ে থাকতে। অথচ আপনি আমাকে দিলেন এক মরুভূমির তপ্ত বালু। লোকে বলে ভালোবাসা নাকি মুক্তি দেয়, কিন্তু আপনার ভালোবাসা আমাকে এক আদিম খাঁচায় বন্দি করে ফেলেছে। সেই খাঁচার চাবিও আপনার হাতে ছিল, কিন্তু আপনি তা অবহেলায় অতল সমুদ্রে ফেলে দিলেন।
আমার শব্দেরা আজ বড়ই ক্লান্ত,
তারা আর আপনাকে ডাকতে পারে না।
আমার কলমের কালি ফুরিয়ে আসছে চোখের পানির সাথে পাল্লা দিয়ে।
আপনি তো কবি হতে চেয়েছিলেন, অথচ আমাকে এক ট্র্যাজেডির জীবন্ত চরিত্র বানিয়ে দিলেন।
শুভ্র ভাই, আপনার কি মনে পড়ে সেই বিকেলের কথা? যখন আপনি বলেছিলেন রিদি, আমি থাকতে তোকে কেউ স্পর্শ করতে পারবে না। সেই ‘থাকা’টা কোথায় গেল ভাইয়া? আজ তো আমি সবার স্পর্শে নিজেকে অপবিত্র বোধ করছি। আপনি নেই, আর আপনার অবর্তমানে আমার জীবনটা একটা তামাশা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আপনি আমার সেই প্রার্থনা, যা সৃষ্টিকর্তা শোনেননি,
আপনি আমার সেই স্বপ্ন, যা দেখার মাঝেই ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে।
আমি আপনাকে লিখে শেষ করতে পারব না,
কারণ আপনাকে লিখতে গেলে আমার শব্দ শেষ হয়ে যায়,
কিন্তু আমার হাহাকার শেষ হয় না।
হয়তো একদিন আপনি ফিরবেন, কিন্তু সেদিন হয়তো আমি আর এই রূপে আপনার সামনে থাকব না।
আমি হয়ে থাকব শুধু এক ধূসর স্মৃতি।
ভালবাসি শুভ্র ভাই, ঘৃণার চেয়েও প্রবলভাবে ভালবাসি। আপনি দূরে গিয়ে আমাকে আরও বেশি নিজের করে নিলেন। এই আসক্তি মৃত্যুতেও কাটবে কি না আমি জানি না।
আমি পারলাম না, শুভ্র ভাই। আর নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে পারলাম না। কারণ আমি যদি নিজেকে বাঁচিয়ে রাখি, তবে আজ রাতেই আমার নামটা জুড়ে যাবে অন্য কারও পাশে। যে নামের পাশে শুধু আপনাকে কল্পনা করেছিলাম, সেই নামের সাথে অন্য কোনো পুরুষের নাম আমি সইতে পারব না।বুকের ঠিক বাম পাশে আপনার জন্য যে জায়গাটা আমি পবিত্র করে রেখেছিলাম, সেখানে অন্য কাউকে বসানোর চেয়ে নিজের অস্তিত্ব মিটিয়ে দেওয়া অনেক সহজ। আমার অতটুকু ক্ষমতা নেই শুভ্র ভাই যে আপনার জায়গায় অন্য কাউকে বসতে দেব। আমার শরীরটা হয়তো সমাজ অন্য কারো হাতে তুলে দিতে পারবে, কিন্তু আমার এই আত্মা? সে তো বহু আগেই আপনার চরণে নিজেকে সঁপে দিয়েছে।জানি আত্মহত্যা মহাপাপ। কিন্তু বিশ্বাস করুন, এই মুহূর্তে আমার কাছে এই পাপটাই সবথেকে বড় শান্তি মনে হচ্ছে। সারা রাত অন্য কারো শয্যায় গুমরে মরে যাওয়ার চেয়ে, এক নিমিষে বিলীন হয়ে যাওয়া অনেক বেশি স্বস্তির। একটুখানি শান্তির আশায় এই পাপটাই না হয় আমি করলাম।তবে একটা কথা শুনে রাখুন, পরপারে গিয়ে সৃষ্টিকর্তা আমাকে সাজা দেওয়ার।আগে আমি তাকে একটি প্রশ্নই করবো।
~যখন ভাগ্যেই লিখেননি, তবে কেন এত মায়া বাড়ালেন? কেন আমার মতো একটা সাধারণ মেয়েকে এমন এক আসক্তির মুখে ঠেলে দিলেন যার শেষটা ছিল শুধু বিষাদ? আমি সেই উত্তরা আমি তার কাছে চাইবো।
আমি আজ একা নই শুভ্র ভাই। আমার সাথে আছে আপনার দেওয়া হাজার হাজার স্মৃতি। আপনার ওই হাসিমাখা মুখটা আমার চোখের সামনে ভাসছে। আমি চোখ বন্ধ করলেই আপনার ওই গম্ভীর গলার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি রিদি, পাগলামি করিস না। কিন্তু ভাইয়া, আজ আমার এই পাগলামি থামানোর মতো আপনি পাশে নেই। আজ আমি আপনার অবহেলার বিজয় ঘোষণা করছি। আপনি জিতে গেছেন শুভ্র ভাই, আপনি আমাকে একা করে দিতে চেয়েছিলেন দেখুন আমি চিরকালের মতো একা হয়ে যাচ্ছি।শুভ্র ভাই, আমার শেষ অনুরোধ আপনি যখন আমার এই নিথর দেহটা দেখবেন, তখন একবারের জন্যও কি কাঁদবেন? নাকি আপনার ওই পাথরের মতো হৃদয়ে তখনও কোনো অনুশোচনা হবে না? আমি চাই না আপনি কাঁদুন। আমি চাই আপনি আপনার ওই জগত নিয়ে সুখে থাকুন। কিন্তু মনে রাখবেন, কোনো এক রিদি নামের মেয়ে আপনাকে এতটাই ভালোবেসেছিল যে, আপনার অবর্তমানে সে এই জগতটাকেই তুচ্ছ করে দিয়েছিল। আমি আপনাকে মুক্তি দিয়ে গেলাম শুভ্র ভাই। আপনার ওপর আর কোনো দাবি রইল না। আপনি এখন মুক্ত। আপনার জীবন থেকে এই ‘আপদ’টা চিরতরে বিদায় নিল।আমি চাইলে আরও অনেক আগেই মরে যেতে পারতাম। এই বিষাদময় পৃথিবী ছেড়ে চলে যাওয়া আমার জন্য খুব কঠিন কিছু ছিল না। কিন্তু জানেন কেন মরিনি? কারণ আমার হূদয়ের কোনো এক কোণে এক টুকরো ক্ষীণ আশা বেঁচে ছিল হয়তো আপনি আসবেন। শেষ মুহূর্তে হলেও সব বাধা ভেঙে আমাকে নিজের করে ছিনিয়ে নিয়ে যাবেন। আমি প্রহর গুনেছি, প্রতিটা সেকেন্ড আপনার পায়ের শব্দ পাওয়ার জন্য ছটফট করেছি। কিন্তু আপনি আসলেন না। আমার সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর ফুরাল না।সবাই বলে অপেক্ষার ফল নাকি খুব মিষ্টি আর সুন্দর হয় কিন্তু আমার বেলায় সেই ফলটা হলো নীল বিষে ভরা। আজ যদি আমি বেঁচে থেকে আপনার ফিরে আসার অপেক্ষা করি, তবে এই রিদি নামের মানুষটা স্রেফ একটা জ্যান্ত লাশ হয়ে পৃথিবীতে পড়ে থাকবে। এক চিমটি শান্তিতে নিঃশ্বাস নেওয়ার অধিকারটুকুও আমার থাকবে না। এই পাথরসমান কষ্ট সইবার শক্তি আমার এই কাঁচের মতো মনে নেই। তাই অসহ্য যন্ত্রণার হাত থেকে একটুখানি চিরস্থায়ী শান্তির আশায়, আমি পাষাণের মতো এই মরণপথটাই বেছে নিলাম। আর হ্যাঁ, আমি কিন্তু একা যাচ্ছি না। আমার সাথে কল্পনাতে আপনিও যাচ্ছেন। বুঝতে পারলেন না তো? তাহলে শুনুন কিছুক্ষণ পরেই আমার নিথর শরীরে সাদা কাফন মুড়িয়ে দেওয়া হবে। আমরা তো এই সাদা রঙটাকেই ভালোবেসে ‘শুভ্র’ নামে ডাকি, তাই না? আমি না হয় ওই সাদা কাফনের কাপড়টাকেই কল্পনাতে আপনি ভেবে নেব। মৃত্যুর পর যখন আমি কবরের ওই অন্ধকার ঘরে একাকী শুয়ে থাকব, তখন ভাববো যে আমি একা নই আমার সাদা কাফনের ভাঁজে ভাঁজে আমার শুভ্র ভাই জড়িয়ে আছে। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আপনাকে ছোঁয়া হলো না, তাই কাফনের শুভ্রতাকেই আপনার আলিঙ্গন ভেবে আমি চিরনিদ্রায় ডুব দিলাম।
আমার শব্দেরা আজ ঝরে পড়ছে,
কলমটা আর চলতে চাইছে না। চোখের জল ডায়েরির পাতায় পড়ে অক্ষরগুলোকে ঝাপসা করে দিচ্ছে। হয়তো এটাই শেষবার আপনার জন্য কিছু লেখা। ভালো থাকবেন আমার প্রিয় আসক্তি। আপনার ওই মায়াবী অবহেলা আমি সাথে করে নিয়ে যাচ্ছি কবরে। সেখানে হয়তো আপনি নেই, কিন্তু আপনার স্মৃতিগুলো আমার চিরসাথী হয়ে থাকবে। আপনার রিদি আপনার জন্য এক আকাশ ভালোবাসা রেখে চলে গেল।
ইতি,,,
___________
আপনার সেই চিরকালের অবহেলিত এবং আসক্ত,
রিদি
রানিং…. অতীত শেষ এখন যা আসবে সব বর্তমান, বাকি টুক আপনারাই বুঝে নেন,,
Share On:
TAGS: অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায়, সুমি চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৪
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় গল্পের লিংক
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৫৪
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৭৪
-
বাঁধন রূপের অধিকারী পর্ব ৫
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬৮
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৩৬
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৫৪
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ২০
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৯