তোমার_হাসিতে
ফারহানাকবীরমানাল
২৭.
জায়েদার বাবা মাকে বাড়িতে পাওয়া গেল না। ঘরের দরজায় তালা ঝুলছে। আশেপাশের কাউকে কিছু বলে যায়নি। এতদূর এসে একদম খালি হাতে ফিরতে হবে ভাবতেই খারাপ লাগছে। অবশ্য বাদশাকে তেমন হতাশ দেখাচ্ছে না। সে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে।
“এখন কী করবি?”
“আপাতত আর কিছু করার নেই। ফিরে যেতে হবে। রাতে আবার আসব।”
“সবকিছু কেমন বিরক্ত লাগছে। এখন আর কিছুতে মন টানছে না।”
“জীবনে বিরক্তি আসা অস্বাভাবিক কিছু না। চোখ বন্ধ করে কিছু ভালো মুহূর্ত মনে কর। বিরক্তি কে’টে যাবে।”
বাদশার কথা শুনে চোখ বন্ধ করে ফেললাম। চোখ বুঁজে লম্বা শ্বাস টেনে বললাম, “ঘুম পাচ্ছে। বাড়িতে যাব।”
বাদশা কিছু বলল না, আঁড়চোখে তাকাল। বেলা পড়ে এসেছে। সূর্যের আলো নরম হতে শুরু করেছে।
মা শেষ বিকেলে ঘুমতে দেয় না। আজকেও দিলো না। কোমল গলায় বলল, “এখন ঘুমালে সন্ধ্যার আগে উঠতে পারবি না। মাথা ব্যাথা করবে।”
মায়ের কথা মেনে নেওয়া আমার কাছে একটা অভ্যাসের মতো। কারণ আমি জানি, মায়ের কথা মেনে নিলে সে খুব খুশি হয়। মা’কে খুশি দেখতে আমার ভালো লাগে। যেনতেন ভালো নয়, ভীষণ রকমের ভালো লাগে। তাই তো মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে সোনার আংটি বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কত-শত পরিশ্রম, বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে টাকার জোগাড় হলো। আংটিও বানিয়েছি। তবে সেই অনুভূতি পাইনি। কোথায় যেন একটু ফিকে হয়ে গেছে। চকচকে রঙের কোথাও ফিকে থাকলে সৌন্দর্য নষ্ট হয়। আমি এই সৌন্দর্য নষ্ট করতে চাই না। কোনভাবেই না।
বাড়িতে মায়ের অবস্থান আগের চেয়ে ভালো। বেশ কিছুদিন হলো দাদি মাকে তেমন কথা শোনায় না। ফুফু তো না-ই। সে আমার উপর ভীষণ খুশি। বাবাও আমাকে নিয়ে গর্ব করেন। বাড়ির সবার চোখে আমি খুব ভালো ছেলে। একমাত্র ছোট চাচা আমাকে তেমন পছন্দ করে না। কেন করে না জানি না। তবে তার চাহনিতে ঘৃণা দেখা যায়। সেই ঘৃণা ভীষণ রকমের কুৎসিত।
ঘুমের ভাব কাটাতে ছাঁদে পায়চারি করছিলাম। তিমু এলো। চায়ের কাপ বাড়িয়ে দিয়ে বলল, “চা খেলে ঘুম চলে যাবে।”
মুচকি হেঁসে মাথা দোলালাম। তিমু বলল, “মানুষের জীবন কোন হিসেবে চলে না, খুব গোছানো পরিকল্পনাও শেষ পর্যন্ত কাজে আসে না। তাই না সাজ্জাদ ভাই?”
“হঠাৎ এ কথা জিজ্ঞেস করছিস যে? কিছু কী হয়েছে?”
“নতুন করে কিছুই হয়নি। আগের কথা ভেবে বললাম।”
চায়ের স্বাদ ভালো। আদা কুচি করে দিয়েছে। চুমুক দিতে আরাম লাগছে।
“নানি আপু ছোট মামার বিয়ের জন্য মেয়ে দেখা শুরু করেছে। এ ব্যাপারে তুমি কিছু জানো?”
“না, তেমন কিছু আমার কানে আসেনি।”
“আজ দুপুরে ঘটক এসেছিল। তখন তুমি বাড়িতে ছিলে না।”
“কী কথা হলো?”
“বিশেষ কোন কথাবার্তা হয়নি। ঘটক সাহেব কয়েকটা মেয়ের ছবি দেখালো। নানি আপু ছবি দেখে না করে দিয়েছে। মেয়ের বয়স বেশি হয়ে যায়।”
“ছোট চাচা ছিল?”
“না সে বাড়িতে নেই। সকালে বেরিয়েছে, এখনও বাড়ি ফেরেনি। অফিসে গেছে বোধহয়।”
“তোকে একটা প্রশ্ন করব?”
তিমু একটু নড়েচড়ে দাঁড়াল। যথাসম্ভব স্বাভাবিক গলায় বলল, “কী প্রশ্ন?”
“দাদি আজ-কাল মায়ের সাথে তেমন ঝামেলা করে না। হঠাৎই আচার-ব্যবহার পাল্টে গেছে। এর কারণ বলতে পারিস?”
“পারি। এর আগে বড় মামানির পায়ের নিচের মাটি নরম ছিল। তাকে কিছু বললে প্রতিবাদ করার মতো কেউ ছিল না। বড় মামা কখনো এগুলো নিয়ে বিশেষ কিছু বলতেন না। এখন মামানির হয়ে কথা বলার জন্য তুমি আছো। শুধু মুখে আছো ব্যাপারটা এমন না। কাজেও আছো। গহনা নিয়ে ঝামেলা শুরু হয়েছিল, নিজের রোজগারের টাকায় সেই গহনা বানিয়ে দিয়েছ। কাজেই ব্যবহার বদলে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু না।”
“তুই যে সব বললি সে-সব আমিও ভেবে দেখেছি। বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করেনি।”
“তোমার বিশ্বাস হওয়া না হওয়ায় তেমন কিছু আসে যায় না। এই পৃথিবীর প্রতিটা মানুষের টাকা এবং ক্ষমতার উপর অদ্ভুত রকমের দূর্বলতা আছে। টাকা, ক্ষমতা থাকলেই মানুষ সমীহ করে চলে। তোমার নিজের পরিবারে দেখো। একটা সময়ে বড় মামার কথাই শেষ কথা ছিল। নানি আপু, মা এরা কেউ কোন সিদ্ধান্ত নিলে ছোট মামাকে জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন মনে করত না। হয়তো মুখের বলা বলত শুধু। সরকারি চাকরি পাওয়ার পর থেকে এসব ব্যাপারে ছোট মামার কদর বেড়েছে। এখন কিছু হলেই সবার আগে তাকে জানানো হয়। সে সব ব্যাপারে পরামর্শ দেয়। ছোট মামা কী আগের চেয়ে বদলে গেছে? না, ছোট মামা বদলায়নি। মামার অবস্থান বদলেছে। এই পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষ মানুষকে ভালোবাসে না, তাদের অবস্থানকে ভালোবাসে।”
“তুই কাদের ভালোবাসিস তিমু?”
তিমু চুপ করে গেল। শুকনো ঢোক গিলে বলল, “ছোট মামার বিয়ে ভেঙেছে। যে মেয়ের জন্য গহনা নিয়েছিল তার পরিবারের কাজকর্ম। তার উপর বড় মামা মামানিকে বাপের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। এর আগে কখনো এমন কিছু ঘটেছে বলে আমার মনে পড়ে না। সব মিলিয়ে সবাই থম খেয়ে আছে। সময়ে সাথে এদের এই আচরণ বদলে যাবে। হয়তো আগের মতো হবে, নয়তো আর একটু ভালো হবে।”
“জায়েদা খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তানহার বাবার কে’স সেভাবেই পড়ে আছে। কোর্ট তারিখ দিচ্ছে না। এভাবে আর কতদিন চলবে বুঝতে পারছি না।”
“বুঝতে না পারলেও কিছু করতে হবে। জায়েদা তোমার হয়ে খোঁজ খবর করতে গিয়ে এই বিপদে পড়েছে৷ ওর কিছু হলে তুমি নিজেকে মাফ করতে পারবে?”
“না, পারব না।”
“যদি তেমনটাই হবে তাহলে তোমার মধ্যে ওকে খোঁজার কোন চেষ্টা নেই কেন? কেন তুমি ওকে নিয়ে কোন দুশ্চিন্তা করছ না?”
“দুশ্চিন্তা আছে তিমু। তবে দেখানোর জায়গা পাচ্ছি না।”
“আমি ঠিক বুঝলাম না।”
“বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলেছি। প্রাইভেট ডিটেকটিভের সাহায্য নেব। আমাদের পক্ষে পুলিশের সাহায্য ছাড়া জায়েদাকে খুঁজে বের করা প্রায় অসম্ভব।”
“তেমন কাউকে পেলে?”
“না, এখনও তেমন কারো সন্ধান পাইনি। খোঁজ চলছে।”
“তোমার কী মনে হয় জায়েদার সাথে কী করেছে? মে’রে ফেলেছে নাকি বাঁচিয়ে রেখেছে?”
“তানহার বাবা কী বলেছিল মনে করতে পারছি না। ওই পরিস্থিতিতে সবকিছু মনে রাখা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।”
“আমার কী মনে হয় জানো? জায়েদা এমন কোথাও আছে যেখানে পুলিশের সন্দেহ পৌঁছাতে পারছে না।”
“এমন কোন জায়গা আছে নাকি?”
“অস্বাভাবিক কিছু তো না। এমনও হতে পারে জায়েদা ওদের বাড়িতেই আছে। গোপন ঘরে অথবা তানহাদের বাড়িতে।”
“পুলিশ দুটো বাড়িই ভালো করে সার্চ করেছে। কিছু পায়নি। আজ সকালে ওদের বাড়িতে গিয়েছিলাম। রাতে আবার যাব।”
“আচ্ছা।”
তিমু আর কিছু বলল না। ছাঁদ থেকে নেমে গেল। সন্ধ্যা নামার সময় হয়েছে। সূর্যের আলো গাঢ় লাল রঙের। ভীষণ সুন্দর। তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে।
রাতে জায়েদাদের বাড়িতে গেলাম। বাদশা আর আমি। আমাদের দু’জনকে দেখে জায়েদার মা একটু ঘাবড়ে গেল। থমথমে গলায় বলল, “তোমরা এখানে! তোমরা এখানে কী চাও?”
“জায়েদার বাবা বাড়িতে আছে? আসলে আপনাদের সাথে একটু কথা আছে। জায়েদার ব্যাপারে।”
“না, জায়েদার বাবা বাড়িতে নেই। একটা কাজে গিয়েছে। যা বলার আমাকে বলো।”
“এখানে দাঁড়িয়ে বলব?”
“হ্যাঁ, এখানে দাঁড়িয়েই বলো। বাড়িতে পুরুষ মানুষ নেই। আমি তোমাদের আমার ঘরে ঢুকতে দিতে পারি না।”
আঁড়চোখে বাদশার দিকে তাকালাম। বাদশার চোখ-মুখ শান্ত। যেন সে কিছু মনে করেনি। আমিও কিছু মনে করিনি। ভদ্রমহিলা ভুল কিছু বলেনি।
“আপনারা কোথায় গিয়েছিলেন? সকালে একবার এসেছিলাম।”
“কাজে গিয়েছিলাম।”
“কী কাজ?”
“কী কাজ তোমাদের বলতে হবে কেন?”
বিরক্ত স্বরে কথাগুলো বলে আমার দিকে আঙুল তুলে বলল, “তোমার জন্য আমার মেয়েটা ঝামেলায় পড়েছে। পুলিশকে বলেছিলাম যেন তোমার নামে মা’ম’লা দিয়ে দেয়। পুলিশ আমার কথা শুনল না।”
আমি কিছু বললাম না। বাদশা বলল, “আমরা আমাদের ভুলের মাশুল দিতে চাই। জায়েদাকে খুঁজে আপনার কোলে ফিরিয়ে দেব।”
“তোমাদের এত উপকার করতে হবে না। আর কিছু বলবে?”
“জায়েদাকে কীভাবে কিডন্যাপ করেছে বলে আপনার মনে হয়?”
“আমার মেয়ের প্রসঙ্গে তোমাদের সাথে আর একটা কথাও বলতে চাই না। বাজে ছেলে কোথাকার। তোমাদের পাল্লায় পড়ে আমার মেয়ের জীবনটাই শেষ।”
সে আমাদের মুখের উপর দরজা লাগিয়ে দিলো। বাদশা বলল, “বুঝতে পারছিস?”
“বুঝেছি। কিন্তু কী বুঝেছি সে কথা আবার বুঝতে পারছি না।”
“চল। এখান থেকে বেরিয়ে গিয়ে বলছি।”
দু’জনে বেরিয়ে এসে চায়ের দোকানে বসলাম। বাদশা দু’টো লাল চা অর্ডার দিতে দিতে বলল, “এক কাপে চিনি এক চামচ বাড়িয়ে দিও।”
“জায়েদার মায়ের ব্যবহার কেমন অদ্ভুত লাগল, তাই না?”
“হ্যাঁ, যেন ইচ্ছে করে আমাদের এড়িয়ে গেলেন। বেশি শুনিয়ে দিলেন যেন তাকে কোন প্রশ্ন না করি।”
“বিশাল বড় একটা ঘাপলা আছে। সকালে কোথায় গিয়েছিল জানতে হবে।”
“একটা ব্যাপার খেয়াল করলি? ভদ্রমহিলার চোখ-মুখ থেকে দুশ্চিন্তার ছাপ সরে গিয়েছে।”
“দেখেছি।”
“হয়তো জায়েদার খোঁজ পেয়েছে। তাই দুশ্চিন্তা কে’টে গেছে।”
“নিশ্চিত হচ্ছিস কীভাবে?”
“অনুমান করছি। দেখ, যার মেয়েকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না সে এমন ব্যবহার কেন করবে? আমরা তো জায়েদাকে খুঁজতে চাচ্ছিলাম।”
চায়ের দোকানদার আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তার চোখ-মুখে রাজ্যের কৌতুহল। বাদশা একটু এগিয়ে গিয়ে তার কাছে বসল। জায়েদার নাম ধরে বলল, “এই মেয়েটা নিখোঁজ হয়েছে জানেন নাকি?”
“জানব না কেন? এলাকার কথা। সব জানি।”
“কীভাবে কী হয়েছে?”
“সন্ধ্যাবেলা মেয়ে ঘরে ঢুকেছে। সকালে তার আর কোন খোঁজ খবর নেই। ঘর দরজা ঠিক আছে। ভাঙাচোরা হয়নি।”
“বলতে চাইছেন জায়েদা নিজের ইচ্ছেতে চলে গেছে।”
“দেখো বাবা, এখনকার যুগ হচ্ছে মোবাইল ফোনের যুগ। মায়ের পেট থেকে পড়েই বাচ্চাদের হাতে মোবাইল। নাটক, সিনেমা, প্রেম পিরিতি।”
দোকানি একটু থামল। এক পলক আমার মুখের দিকে তাকিয়ে চোখ ঘুরিয়ে নিলো। নিচু গলায় বলল, “আমার মনে হয় ওই মেয়ে কোন ছেলের হাত ধরে পালিয়ে গেছে। মাঝেমধ্যেই দেখতাম শাড়ি চুড়ি পরে ফ্যাশান করতে করতে যাচ্ছে।”
“কার সাথে পালিয়েছে জানেন কিছু?”
“সেভাবে কিছু জানি না। তবে আমার একজনকে সন্দেহ হয়। কাউকে বলিনি কারণ প্রমাণ ট্রমান নেই। জায়েদার মায়ের চোপা ভীষণ বিশ্রী। মুখ লাগানো যায় না।”
“কাকে সন্দেহ হয়?”
“জায়েদার মায়ের এক মামাতো ভাই আছে। বয়স বেশি না। তোমাদের চেয়ে দুই তিন বছরের বড় হবে। ছেলেটা প্রায়ই ওদের বাড়িতে আসে। জায়েদাকে সাথে নিয়ে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়ায়।”
“আত্মীয় স্বজন তো আসতেই পারে। তার উপর মামা মানুষ। সাথে নিয়ে ঘুরলে কী সমস্যা?”
“এই জন্যই তো কিছু বলতে পারি না। তবে হাঁটা চলার একটা ভাব আছে। কে মামা আর কে কী দেখলে বোঝা যায়।”
“ওই ছেলে শেষ কবে এসেছিল জানেন কিছু?”
“জায়েদা যেদিন নিখোঁজ হলো তার আগেরদিন এসেছিল। আমার দোকানে বসে চা বিস্কুট খেল।”
“তারপর?”
“জায়েদা হারিয়ে যাওয়ার পর থেকে ওই ছেলেকেও আর এদিকে দেখিনি। আমার মন হয় জায়েদা ওই ছেলের সাথেই পালিয়েছে। ওর বাপ মা কথাটা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য এই নিখোঁজ নাটক সাজিয়েছে। এমনিতে সব জানে। আজ সকালেই তো দেখলাম– স্বামী স্ত্রী দু’জনে মিলে কোথায় যেন গেল। জিজ্ঞেস করতে বলল– কাজ আছে।”
“আপনি ওই ছেলের বাড়ির ঠিকানা জানেন?”
“বাড়ির ঠিকানা জানি না। তবে এলাকার নাম জানি। আমাকে একবার বলেছিল।”
দোকানদারের কাছ থেকে এলাকার নাম জেনে নিলাম। বাদশা চায়ের বিল মিটিয়ে দিয়ে উঠে দাঁড়াল। আমি অল্প হাসার চেষ্টা করে বললাম, “আসি তাহলে, ভালো থাকবেন।”
দোকানদার হাসল।
রাত বাড়ছে। আজ হঠাৎই বেশ ঠান্ডা পড়েছে। শীত শীত লাগছে। বাদশা বাইক স্টার্ট দিলো। সহজ গলায় বলল, “রাতের কোথাও যাব না। কাল খুব ভোরে ওই এলাকায় যাব।”
“যাওয়ার আগে থানায় বলে যাব। সুবিধা হব।”
কথা অনুযায়ী কাজ। পরদিন খুব ভোরে দু’জনে মিলে রওনা করলাম। বাদশা বাইক নিয়ে এসেছে। দুই একজনের কাছে জিজ্ঞেস করে এলাকা সম্পর্কে কিছু কিছু জেনেছে৷ এলাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে খুব বেশি কাঠখড় পোড়াতে হলো না। ইন্টারনেট, লোকেশনের যুগে একটা জায়গা খুঁজে পাওয়া আহামরি কঠিন কিছু না। ছেলেটার নাম সবুজ। দুই একজনের কাছে জিজ্ঞেস করতেই সবুজের বাড়ির ঠিকানা পেয়ে গেলাম।
সবাই বেশ সহজেই সবুজকে চিনলো। এলাকায় ভালো ছেলে হিসাবে নামডাক আছে। তাছাড়া সে নিজেও বেশ অদ্ভুত রকমের। জঙ্গলের ভেতরে মাঝারি ধরনের একটা কুটিরে একা থাকে। বাবা মা আছে। তাদের আলাদা বাড়ি। দোতলা বিল্ডিং। সবুজ সেখানে থাকে না। জঙ্গলের মধ্যে নিরিবিলিতে থাকতে তার বেশি ভালো লাগে। সারাদিন বসে কিসব গল্প কবিতা লেগে।
একটা চায়ের দোকানের সামনে বাইক রেখে হাঁটতে শুরু করলাম। দু’জনের মনে চাপা উত্তেজনা। যেন বড়সড় একটা এডভেঞ্চারে এসেছি। বাদশা সাবধানে ভঙ্গিতে পা ফেলে নিঃশব্দে হাঁটার চেষ্টা করছে। তবে খুব বেশি সফল হচ্ছে না। শুকনো পাতার মড়মড় শব্দ হচ্ছে।
খানিকটা যেতেই অদ্ভুত এক জিনিস দেখলাম। তানহার নানি হেঁটে আসছে। তার হাতে বাজারের থলে। আমরা দু’জনে গাছের আড়ালে লুকিয়ে পড়লাম। গলার স্বর অনেকখানি নিচু করে বললাম, “এই মহিলা এখানে কী করে?”
বাদশা বলল, “সবুজের সাথে দেখা করতে এসেছে। আমাদের ধারনাই ঠিক। জায়েদা এখানে। ওর বাবা মা দু’জনেই এই কথাটা জানে।”
“জানলে পুলিশকে কেন বলছে না?”
“সে কথা জানি না। তবে আমার মনে হচ্ছে আবারও আমরা ফাঁদে পড়েছি। আমাদের এই পর্যন্ত নিয়ে আসাও কোন এক পরিকল্পনা অংশ।”
“তানহার বাবা এসব করছে?”
“তুই কীভাবে আশা করিস সে এত সহজে নিজের হাত গুটিয়ে ফেলবে। আমাদের কিছু না বলেই ছেড়ে দেবে।”
“জে’লে বসে এতকিছু করা সম্ভব?”
“টাকা থাকলে মৃ’ত মানুষও অনেক কিছু করতে পারে। আর জে’ল তো জে’ল।”
তানহার নানি রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে ফোনে কিছু খুঁজছে। বাদশা খুব সাবধানে আর এক পা পিছিয়ে গেল। পকেট থেকে ফোন বের করে বলল, “এই এলাকায় নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না নাকি? ফোনে সিগন্যাল নেই কেন?”
পকেটে হাত ঢুকিয়ে নিজের ফোন বের করলাম। একটুও নেটওয়ার্ক নেই। নো-সার্ভিস লেখা দেখাচ্ছে।
চলবে
Share On:
TAGS: তোমার হাসিতে, ফারহানা কবীর মানাল
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
তোমার হাসিতে পর্ব ১১
-
তোমার হাসিতে পর্ব ১৩
-
তোমার হাসিতে পর্ব ২৩
-
তোমার হাসিতে পর্ব ২০
-
তোমার হাসিতে পর্ব ২৩
-
তোমার হাসিতে পর্ব ২৪
-
তোমার হাসিতে পর্ব ৬
-
তোমার হাসিতে পর্ব ১২
-
তোমার হাসিতে পর্ব ১০
-
তোমার হাসিতে পর্ব ২১