খাঁচায়বন্দীফুল
jannatul_ferdous_জান্নাতুল_ফেরদৌস
অন্তিম পর্ব
বিশাল গল্পের বর্ননা করতে করতে হাঁপিয়ে উঠেছে ফুলমালা। মাহিয়ার চোখ দুইটা ছলছল করছে। উৎসুক হয়ে তাকিয়ে আছে দাদির মুখের দিকে।
“তারপর কী হলো দাদি। বলো না। তার সেই চিঠিটা তুমি পড়েছিলে কি? কি লেখা ছিলো তাতে?”
দুদিকে মাথা নাড়ে বৃদ্ধ ফুলমালা। শাড়ির আঁচলে হাতখানা মুছতে মুছতে বলল
“তোর দাদা মাথার দিব্যি দিয়েছিলো। তাই পড়িনি। ওই খাতা খানার ভাজেই আছে। বহুদিন আলমারির শাড়ির ভাজে, তোশক এর তলায় রাখার পর অবশেষে তার জায়গা হয়েছে এই সিন্দুক টয়। দীঘির আপার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর এই খাতাটা আমার কাছে আসে।”
মাহিয়া চোখ মুছে জিজ্ঞেস করলো
“তার সাথে তোমার আর দেখা হয়নি?”
ফুলমালা মলিন হেসে ওপর নিচ মাথা নাড়লো।
“হয়েছিলো। শেষবার তার সাথে দেখা হয়েছিলো কবিতার বিয়েতে। ছোট্ট কবিতাকে সে ডাক্তার বানিয়েছিলো। তাও আবার আমেরিকার। কিন্তু বিয়ে তার বাংলাদেশেই হয়েছে। আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম। তোর বাবা তখন ১২ বছরের।”
বড় একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ফুলমালা বলল
“পরবর্তী প্রজন্মের কাছে প্রধান বাড়ির ছোট সাহেব আস্ত একটা উদাহরণ। কীভাবে প্রিয়জন কে ভালোবাসতে হয়। সে পৃথিবীতে থাকুক কিংবা না থাকুক তাতে কিচ্ছু যায় আসে না। ভালোবাসলে হাজার মাইল দূর থেকেও বাসা যায়। আবার অস্তিত্ব না থাকলেও বাসা যায়। ভালোবাসা অনুভব করার জিনিস। সে বড়ই ভাগ্যবতী নারী ছিলো। দুনিয়ায় না থাকা সত্ত্বেও তার অধিকার এর জায়গা হারায় নি। তার স্থানে সে কাওকে বসায় নি। এক মনে ভালোবেসে গেছে আজীবন।”
আরেকটু থেমে বলল
“ সে আমেরিকা চলে গেছিলো কবিতা কে নিয়ে। সকলে প্রথমে একটু মন খারাপ করলেও, পরবর্তী তে ওইদেশে তার সুখের জীবন দেখে সকলে খুচিও হয়েছিলো বড্ড। ওখানেই ব্যাবসা শুরু করেছিলো। কবিতাকে খুব যত্নে নিষ্ঠাবান করে বড় করেছে সে। আজ কবিতা এক সন্তানের মা। সে ও হয়তো তার সন্তান কে তার বাবার মত করেই বড় করবে। তার ঘরে আরেকটা তুযাউন এর সৃষ্টি হোক। সেও কোনো নারীকে ভীষণ ভাবে ভালোবাসুক। ঠোঁট কাটা নির্লজ্জ হোক, তবুও পরিবার কে আগলে রাখবে দুহাতে”
মাহিয়া কৌতূহলি হয়ে জিজ্ঞেস করলো
“আর সাইফ চৌধুরী?”
“সে তো আজীবন সুখের ঘাটি গেড়েছিলো দুনিয়ায়। তার স্ত্রী নিয়ে তার সুখের সীমা ছিলো না। শেষ বাড়ের মত তার কথা মনে করতে গেলে বড় সুখ সুখ অনুভব হয় রে”
সেদিন ছিলো মুষলধারে বৃষ্টি। বাহিরে বেরোনোর মত অবস্থা নেই। গভীর রাত।
ঢাকার আকাশ যেন ফেটে গেছে, মুষলধারে বৃষ্টি নামছে। বারান্দার রেলিং বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে, সামনের রাস্তায় স্ট্রিটলাইটের আলোয় বৃষ্টির ফোঁটাগুলো ঝাপসা পর্দার মতো নাচছে। দূরে কোথাও একটা গাড়ি ছুটে গেল, তারপর আবার সবকিছু নিস্তব্ধ শুধু বৃষ্টির শব্দ।
এমন সময় ধীরে ধীরে লোহার গেট খুলে ভেতরে ঢুকল সাইফ।
ছাতা বন্ধ করে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকল।
শার্টে এখনও বৃষ্টির ফোঁটা। চুলগুলো একটু ভেজা। দীর্ঘ দিনটার ক্লান্তি নিয়ে সে ভেতরে পা রাখতেই তার চোখ থমকে গেল। ড্রইংরুমের সোফায় আধশোয়া হয়ে ঘুমিয়ে আছে অদিতি।
মাথাটা সোফার হাতলে হেলান দিয়ে আছে, পা দুটো কার্পেটের উপর। হাতে ধরা মোবাইলটা পাশে পড়ে গেছে। বোঝাই যাচ্ছে অপেক্ষা করতে করতেই ঘুমিয়ে পড়েছে।
সাইফ কিছুক্ষণ দরজার কাছে দাঁড়িয়ে রইল।
তারপর ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল।
অদিতির গায়ে হালকা গোলাপি একটা ঘরোয়া শাড়ি। চুলগুলো খোলা, কাঁধ পেরিয়ে সোফার উপর ছড়িয়ে আছে। ঘুমের মধ্যে মুখে অদ্ভুত শান্ত একটা ভাব। সাইফ মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল।
তার চোখে যেন একটু দুষ্টু হাসি ফুটে উঠল।
ধীরে ধীরে ফিসফিস করে বলল
“এই বাচ্চা বিড়াল, ড্রইংরুমেই ঘুমিয়ে পড়েছ?”
সে একটু ঝুঁকে অদিতির মুখের সামনে হাত নাড়ল।
“ম্যাডাম? উঠবেন?”
কোনো সাড়া নেই অদিতির সাইফ আরও একটু কাছে গিয়ে তাকাল।
“বাহ! আমার জন্য অপেক্ষা করতে করতে শহীদ হয়ে গেছে দেখি!”
তার ঠোঁটে দুষ্টু হাসি ফুটে উঠল। আস্তে করে অদিতির নাকটা চেপে ধরল। অদিতি ঘুমের মধ্যেই বিরক্ত হয়ে নড়েচড়ে উঠল।
“উঁহু… কে…?”
সাইফ গম্ভীর গলায় বলল,
“চোর।”
অদিতি আধো ঘুমে চোখ খুলে তাকাল।
তারপর এক সেকেন্ড তাকিয়ে থেকে ফিসফিস করে বলল—
“ওহহ….আপনি…?”
সাইফ কাঁধ ঝাঁকালো।
“না, আমি তো প্রেসিডেন্ট।”
অদিতি হালকা ভ্রু কুঁচকে বলল,
“এত রাতে প্রেসিডেন্ট আমার বাড়িতে কী করছে?”
সাইফ হেসে ফেলল।
“তার বউকে নিতে এসেছে।”
অদিতি চোখ কচলাতে কচলাতে উঠে বসতে গেল, কিন্তু হঠাৎ মাথা ঘুরে আবার সোফায় হেলে পড়ল।
“উফ… ঘুম পাচ্ছে…”
সাইফ মাথা নেড়ে বলল,
“অবশ্যই পাবে। রাত একটা বাজে। তুমি এখানে বসে অপেক্ষা করছ কেন?”
অদিতি আধো ঘুমেই বলল,
“ভাবলাম… আপনি ভিজে আসবেন… দরজা খুলে দেব…”
সাইফ একটু চুপ করে তাকিয়ে রইল। তার চোখে এক মুহূর্তের জন্য কোমলতা নেমে এল।
তারপর আবার দুষ্টু ভঙ্গিতে বলল,
“কিন্তু এই অভাগা দরজা টা নিজেই খুলেছে।”
অদিতি চোখ আধখোলা রেখেই বলল,
“আমি… মানসিকভাবে খুলেছিলাম।”
সাইফ হেসে উঠল।
“বাহ! মানসিক দরজা!”
অদিতি এবার একটু লজ্জা পেয়ে বলল,
“আপনি হাসছেন কেন?”
“কারণ তুমি পাগল।”
অদিতি ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,
“আমি পাগল না।”
“তাহলে?”
“আমি… ভালো স্ত্রী।”
সাইফ একটু ঝুঁকে তার মুখের দিকে তাকাল।
“হুম। সেটা ঠিক।”
তারপর হঠাৎ দুহাত বাড়িয়ে অদিতিকে কোলে তুলে নিল।
অদিতি চমকে উঠল।
“এই! এই! কী করছেন!”
সাইফ নির্বিকার মুখে বলল,
“মানসিক দরজা খুলে দেওয়া স্ত্রীর জন্য শাস্তি।”
“শাস্তি?”
“হুম।”
অদিতি কাঁধে হাত দিয়ে বলল,
“আমাকে নামান! আমি নিজে হাঁটতে পারব।”
সাইফ সিঁড়ির দিকে হাঁটতে হাঁটতে বলল,
“না। তুমি এখন অর্ধেক ঘুমন্ত। পড়ে গিয়ে আবার আমাকেই হাসপাতালে নিতে হবে।”
অদিতি হালকা হেসে বলল,
“আপনি তো ভয়ানক নাটক করেন।”
“আমি না, তুমি।”
সিঁড়ি বেয়ে ধীরে ধীরে ওপরে উঠল সাইফ।
বৃষ্টির শব্দ ওপরে আরও পরিষ্কার শোনা যাচ্ছে।
বেডরুমে এসে খুব আলতো করে অদিতিকে বিছানায় শুইয়ে দিল।
অদিতি চুপচাপ তাকিয়ে রইল তার দিকে।
তারপর একটু ঠাট্টা করে বলল,
“আপনি ভিজেছেন।”
“হুম।”
“ঠান্ডা লাগবে।”
“তুমি ডাক্তার নাকি?”
অদিতি ঠোঁট টিপে হাসল।
“আপনার স্ত্রী।”
সাইফ এক মুহূর্ত চুপ করে তাকিয়ে রইল।
তারপর ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে অদিতির কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল। খুব নরম একটা চুমু। অদিতি একটু লজ্জা পেয়ে বলল,
“এইসব কি করছেন?”
সাইফ কপাল কুচকে বলল
“এমন ঢং করছো মনে হয় এর আগে কখনো করিনি এসব”
অদিতি লাজুক হেসে বলল
“তা আজ এত আদর কিসের জন্য?”
সাইফ মৃদু হেসে বলল,
“কারণ আমার স্ত্রী কত কষ্ট করে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করছিল।”
অদিতি মুখ ঘুরিয়ে বলল,
“আমি অপেক্ষা করি নি।”
“ও?”
“আমি… এমনি বসেছিলাম।”
“হুম।”
“ঘুমটা ভুল করে চলে এসেছে।”
সাইফ বিছানার পাশে বসে তার চুলে হাত বুলিয়ে দিল।
“ভুল করে যদি এমন ঘুম আসে, তাহলে প্রতিদিন আসুক।”
অদিতি এবার সত্যি লজ্জা পেল।
তারপর ধীরে ধীরে হাত বাড়িয়ে সাইফের শার্ট ধরে বলল,
“আপনি কোথাও যাবেন না।”
“কোথায় যাব?”
“এখানেই থাকবেন।”
সাইফ মৃদু হাসল। বাইরে তখনও বৃষ্টি পড়ছে। বাইরে তখনও মুষলধারে বৃষ্টি।
জানালার কাঁচে টুপটাপ শব্দ উঠছে। ঘরের মৃদু আলোয় সবকিছু নরম আর শান্ত। অদিতি বিছানায় শুয়ে আছে। সাইফ তার পাশে বসে কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে রইল। বৃষ্টির পানিতে ভেজা চুল থেকে এখনও ফোঁটা ফোঁটা পানি ঝরছে। অদিতি হাত বাড়িয়ে সাইফের শার্টের হাতা ছুঁল।
ভেজা কাপড়টা আঙুলে ঠেকতেই সে বলল,
“এভাবে ভেজা থাকবেন না… ঠান্ডা লাগবে।”
সাইফ কোনো উত্তর দিল না। শুধু তার হাতটা নিজের হাতে নিয়ে একটু শক্ত করে ধরল।
অদিতি তাকিয়ে আছে তার দিকে। চোখে এক অদ্ভুত কোমলতা।
সাইফ ধীরে ধীরে এগিয়ে এল। তার ভেজা আঙুলগুলো আলতো করে অদিতির গালের উপর ছুঁয়ে গেল। তারপর কপাল থেকে সরিয়ে দিল ছড়িয়ে থাকা চুল। অদিতির শরীর কেঁপে উঠল সামান্য। সাইফ ঝুঁকে তার কপালে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল। একটা দীর্ঘ, নরম চুমু।
তারপর খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে তাকে কাছে টেনে নিল। অদিতির শরীর এসে ঠেকল তার বুকের সঙ্গে। সে নিঃশব্দে সাইফের কাঁধে মুখ লুকিয়ে ফেলল। সাইফের হাত ধীরে ধীরে নেমে এল তার পিঠে। আলতো করে তাকে জড়িয়ে রাখল।
বাইরে বৃষ্টির শব্দ আরও ঘন হয়ে উঠেছে।
ঘরের ভেতর শুধু দুজন মানুষের নিঃশ্বাসের শব্দ।
অদিতি মাথা তুলে তাকাতেই সাইফ তার ঠোঁটে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিল। ধীর, গভীর একটা চুমু। অদিতির আঙুলগুলো শক্ত হয়ে ধরল সাইফের শার্ট। তার চোখ ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে এল। সাইফ তাকে আরও কাছে টেনে নিল। আলতো করে শুইয়ে দিল বিছানায়। অদিতির খোলা চুল ছড়িয়ে পড়ল বালিশের উপর। সাইফ ঝুঁকে আবার তার কপাল, গাল আর ঠোঁটে নরম নরম চুমু রাখতে লাগল। অদিতির হাত ধীরে ধীরে উঠে এল সাইফের কাঁধে। সে নিঃশব্দে তাকে জড়িয়ে ধরল।
বৃষ্টির শব্দ, ঘরের নরম আলো আর দুজন মানুষের উষ্ণতা।
সবকিছু মিলিয়ে রাতটা যেন আরও গভীর হয়ে উঠল। সাইফের বাহুর ভেতর নিজেকে আরও কাছে টেনে নিল অদিতি। সেই রাতের বৃষ্টিভেজা নীরবতায় তারা একে অপরের খুব কাছাকাছি এল।
নিঃশব্দে, ধীরে, স্বাভাবিক ভালোবাসার স্পর্শে।
ঘরের আলো নিভে গেল কিছুক্ষণ পর। বাইরে তখনও বৃষ্টি ঝরছে। আর ভেতরে, একই চাদরের নিচে, দুজন মানুষ একে অপরকে জড়িয়ে রইল অনেকক্ষণ। সেই জড়ানো টা ছিলো আজীবন এর জন্য। এরপর বহু রাত এসেছে, গেছে। কোনো রাতে হয়তো এমন তুমূল বর্ষণ ছিলো, বা কোনো রাত মেঘলা, ঝড়ো হাওয়া। কোনো রাতে আকাশে ছিলো বিশাল চাঁদ, জোৎস্না মাখা। সবেতেই তাদের ভালোবাসা ছিলো একই রকম। একে অপরের পরিপূরক হয়ে তারা আজন্ম কাটালো।
জীবনের প্রথম লেখা এই খাঁচায় বন্দী ফুল। সাইফ আর তার বন্দিনী কে লিখতে গিয়ে পরিচিত হলাম কতগুলো চরিত্র দের সাথে। মায়ায় জড়িয়ে গেছিলাম যেন। আজ আমারই কেমন কষ্ট হচ্ছে তাদের ছাড়তে। প্রিয় পাঠক/পাঠিকা, প্রত্যেকটা জিনিসের ই সমাপ্তি হয়। এমনকি আমাদের জীবনেরও। আপনাদের হয়তো এমন টা মনে হতে পারে তুযা অপূর্ণ রয়ে গেলো, ফুল কে পেলে বুঝি সে পূর্ণ হতো।
কিন্তু আমার তা মনে হলো না। যৌবনে যাকে প্রথম ভালোবেসেছে, তার নামেই তুযা গোটা জীবন কাটালো। এটাই তার পূর্ণতা। সুদূর প্রবাসে কবিতার সাথে তার জীবন কাটলো জোৎস্না কে অনুভব করে। গোটা একটা গল্পে আপনাদের অনুভূতি কেমন ছিলো? তাদের স্মৃতি সাথে রাখতে বইটি ঘরে রাখতে পারেন। মন চাইলেই বই খুলে তুযার দুষ্টুমি গুলো পড়ে মুচকি মুচকি হাসতে পারবেন। মন্দ হবে না কিন্তু।
দুই একটা প্রশ্ন থেকে গেলো ভাবছেন? মাঝে মধ্যেই বোনাস পর্ব নিয়ে হাজির হবো সেসব নিয়ে।
আর হ্যা, নূর-এ-সাহাবাদ পড়ছেন তো? আশা করি খাঁচায় বন্দী ফুল এর মতো নূর-এ-সাহাবাদ ও আপনাদের মন জয় করবে। আমার জন্য দোয়া রাখবেন। আপনাদের যেন এমন এবং এর চেয়ে আরও ভালো লেখা উপহার দিতে পারি।
দ্বিতীয় খন্ড হয়তো আসবে না। তবে ক’দিন পর পরই তাদের বোনাস পর্ব আসবে গ্রুপ এটুকু কথা দিতে পারি। গ্রুপ লিংক কমেন্ট বক্সে
Share On:
TAGS: খাঁচায় বন্দী ফুল, জান্নাতুল ফেরদৌস
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ১৯
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৪৮ এর শেষাংশ
-
খাঁচায় বন্দী ফুল ৪০ এর প্রথমাংশ
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২৪
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৩৩
-
খাঁচায় বন্দী ফুল ৩৮ এর শেষাংশ
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ২১
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৪৪ এর প্রথমাংশ
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৫
-
খাঁচায় বন্দী ফুল পর্ব ৩০