Golpo romantic golpo দেওয়ানা আমার ভালোবাসা দেওয়ানা আমার ভালোবাসা সিজন ২

দেওয়ানা (আমার ভালোবাসা)সিজন ২ পর্ব ৭৮


দেওয়ানা(আমার ভালোবাসা)সিজন_২

লেখিকাঃ_রিক্তা ইসলাম মায়া

(কার্টেসী বা কপি করা নিষেধ। শেয়ার করবেন)
৭৮
দূর্বল চোখে পিটপিট করে তাকাল মায়া। দৃষ্টি পড়ল সোজা ছাদের সিলিং ফ্যানে উপর। বিরক্তিতে কপাল কুঁচকে আসল ওর। শরীরটা ভিষণ ভারি আর দূর্বল মনে হচ্ছে কিন্তু কেন তা তখনো বুঝতে পারলো না। বাহির থেকে মানুষের তীব্র গুনগুন শব্দটাও মায়ার কানে গেল। তবে সেটা কি নিয়ে তাও ধরতে পারছে না। এক মূহুর্তের জন্য মায়া নিজের অবস্থানটা বুঝে উঠতে পারলো না। সে কোথায় আছে বা এতো মানুষের শব্দ কেন বুঝার চেষ্টা করে আশেপাশে চোখ বুলাতে চাইল। কিন্তু হঠাৎ করে মাথায় তীব্র ব্যথা অনুভব করতে মৃদু চিৎকারে ‘আহ করে উঠে বামহাতে মাথা চেপে ধরতে চাইলে এবার হাতের ক্যানুলাতে টান পড়ায় সে পুনরায় একি চিৎকার করল। হেনা খান তৎক্ষনাৎ বাঁধা দিল মায়াকে নড়াচড়া করতে। মায়ার বেডের সামনে চেয়ারে বসা অবস্থায় মায়ার হাত ধরে আটকাল নড়াচড়া থেকে। আতঙ্ক কন্ঠে বলল…

—” তুই ঠিক আছিস সোনামা? নার্স দেখুন! আমার সোনামার হুশ ফিরেছে।

মেয়েলি নার্সটি মায়ার বেডের শিরধারা বিছানায় দাঁড়িয়ে মায়ার বামহাতের নলটা ঠিক করে দিল। কারণ টান পড়ায় রক্ত উঠছিল তাতে। মায়া নিজের পাশে অপরিচিত নার্স আর হেনা খানকে দেখে প্রথমে তাদের উপস্থিতির কারণটা বুঝতে না পারলেও ঠিক তার কয়েক সেকেন্ড ব্যবধানে সবটা মনে পড়ল ওর। নিজের বেঁচে থাকা দেখে চমকে উঠল মায়া। ওর মাথায় তো বন্দুক চেপে ধরে দাঁড়িয়ে ছিল মহিলাটি তাহলে সেখানে মায়া মরলো না কেন? বাঁচল কিভাবে? কে বাঁচাল মায়াকে? আসিফ? নাকি অন্য কেউ? আতংকিত মুখে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল পাশে বসা হেনা খানের দিকে মায়া। চাপা স্বরে বলল…

—” দাদী আমাকে কে বাঁচাল?
হেনা খান মায়ার উদ্ধিগ্নতা বুঝে মাথায় আলতো হাত বুলিয়ে বলল…

—” আসিফ।
—” আমার গুলি লাগেনি?
—” না!
—” কিন্তু ওরা তো…
মায়াকে শেষ করতে না দিয়ে হেনা খান জানায়, মায়াকে যে মেয়েটি গুলি করতে চেয়েছিল তার আগে আসিফ সেই মেয়েটির হাতে গুলি করায় তাদের টার্গেটে মিস হয় এবং মায়া বেঁচে যায়। যার জন্য মায়া সেই যাত্রায় বেঁচে যায় এবং ছেলে-মেয়েটি নিজেদের জীবন বাঁচানোর তাগিদে মায়াকে ফেলে পূর্বে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি করে পালিয়ে যায় সেখান থেকে। মায়াকে সহ দারোয়ানকে সবাই মিলে হসপিটালের নিয়ে আসে এবং দীর্ঘ পাঁচ ঘন্টা পর মায়ার হুস ফিরে। মায়া সবটা শুনে স্বস্তির হতে গিয়েও হতে পারল না হুট করে আয়নের চিন্তা মাথায় আসতে। আতংকিত গলায় ফের প্রশ্ন করলো মায়া…

—” আয়ন ভাইয়া! তিনি কই? ভালো আছেন তো?
—” আয়ন ঠিক নেই। হসপিটালের আছে তবে আইসি-ইউতে। ইমার্জেন্সিতে আছে, অপারেশন চলছে। বাড়ির সবাই সেখানেই আছে। শুধু আমি তোর কাছে আছি। এখন বল কেমন লাগছে তোর…

স্বস্তিরে মায়া চোখ বুদের আসল সবকিছু ঠিকঠাক আছে শুনে। আজ মায়া সবকিছু শেষ মনে করেছিল। কিন্তু ভাগ্য মায়াকে ফের ভালোবাসার মানুষের সাথে বেঁচে থাকার সুযোগ দিবে ভাবেনি সে। কিন্তু মায়া ভাগ্যবতি না হলে নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে কিভাবে ফিরে আসে। অবশ্যই মায়া ভাগ্যবতি। আল্লাহ সহায় ওর। আচ্ছা আজ যদি মায়া মরে যেত তাহলে তার মিস্টার ভিলেন কি করতো? মায়াকে ভুলেতপ পারতো? নাকি মায়াকে ভুলার জন্য আবারও বিয়ে করে নিত সামাজিক পুরুষদের মতোন। মায়ার মাথায় রিদের চিন্তা আসতে চমকে উঠল। হঠাৎ মনে হলো রিদতো ভালো ছিল না। লাস্ট টাইম কেমন অদ্ভুত অস্বাভাবিক আরচণ করছিল। শরীর ঠান্ডায় জমে যাচ্ছিল। তারপর! তারপর গাড়ি করে কোথায় গেল? হসপিটালের আসেনি মায়ার খোঁজ নিতে? আতংকিত মায়া ফের ঘাড় ঘুরিয়ে হেনা খানের দিকে তাকিয়ে তড়িঘড়ি প্রশ্ন করে বলল…

—” দাদী উনি… উনি কই?
মায়ার উদ্ধিগ্নতা ক্ষুব্ধ হলো হেনা খান। তিনি অসন্তুষ্ট গলায় বলল…

—” অসুস্থতায় পড়ে এতো প্রশ্ন করছিস কেন তুই? তোর এতো সবার খুঁজ নিতে হবে? সবাই ভালো আছে এবার চুপচাপ শুয়ে রেস্ট কর।

হেনা খানের উত্তরে মন ভরলো না মায়ার। অস্থিরতায় মন ছটফট করলো উঠল। ওহ দেখেছিল রিদ ভালো নেই। অসুস্থ ছিল। ভিষণ অসুস্থ! ঠিকঠাক কথা পযন্ত বলতে পারছি না। এমনত অবস্থায় মায়া কি ঠিক থাকতে পারবে ওর স্বামীর খবর না নিয়ে। স্বস্তির রেস্ট তো তখনই মিলবে যখন শুনবে ওর স্বামী ভালো আছে। মায়া রিদের সঠিক অবস্থান জানতে ফের চাপা স্বরে আস্তে করে বলল…

—” দাদী উনি কোথায় বলোনা প্লিজ? উনি কি হসপিটালের আছে? উনাকে ডাকো না প্লিজ! আমি দেখতে চাই তাকে। প্লিজ দাদী উনাকে ডেকে দাও না।

মায়াকে বাঁধা না দিয়ে পাশের এতক্ষণ যাবত দাঁড়িয়ে থাকা নার্সটি হেনা খানের উদ্দেশ্য বলল..
—” ম্যাডাম পেশেন্টের সাথে এতো কথা বলা ঠিক হবে না। পেশেন্ট অনেক দূর্বল। এই মূহুর্তে উনার শরীরের রেস্ট প্রয়োজন। বেশি কথা বললে রক্তের চাপ বাড়বে। তখন আরও সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে পেশেন্টকে।

নার্সের কথা বুঝে মায়াকে কথা বলতে নিষেধ করল হেনা খান। কিন্তু মায়া শুনল না। রিদের চিন্তায় আরও বিচলিত হয়ে পড়ায় হেনা খান বাধ্য হয়ে জানান রিদ হসপিটালেরই আসে নি। এমনকি রিদ কোথায় আছে সেটাও কেউ জানে না। হয়তো আসিফ জানে। তবে উনারা কেউ জিগ্যেসা করেনি আসিফকে রিদের কথা। তাঁরা সবাই আয়ন আর মায়াকে নিয়ে ছিল বিদায় রিদের খবর জানে না কেউ। রিদ মায়ার খবর নেইনি ভেবে হুট করে যেন দলা পাকিয়ে আসা কষ্ট গুলো মায়ার গলা চেপে ধরল। এমনটা কখনো হয়নি মায়া বিপদে ছিল আর রিদ এগিয়ে আসেনি ওর সাহায্যের জন্য। তাহলে আজ কি হলো? হুট করেই মায়ার ফের মনে হলো রিদ তো সুস্থ ছিল না বরং ভিষণ রকমের অসুস্থ ছিল যার জন্য হয়তো রিদ মায়ার অবধি পৌছাতে পারেনি। মায়া ছটফট করলো রিদের চিন্তায় চিন্তায়। মনের ভিতর কেমন একটা গুমোট অস্থিরতা কাজ করল অজানা বিপদের ভয়ে। মনে হলো সবকিছু ঠিক থেকেও যেন কিছুই ঠিক নেই। নিশ্চয়ই মায়ার মিস্টার ভিলেন কোনো বিপদে আছে। তাই মায়ার এই মূহুর্তে তার কাছে থাকা জরুরি। মন ব্যাকুলে ছটফট করে মায়া জেদ করলো, সে হসপিটালের থাকবে না বাসায় চলে যাবে তাও এক্ষুনি। মায়ার কথায় হেনা খান বিচলিত ভঙ্গিতে মায়াকে বেশ করে বুঝাতে চাইল এই মূহুর্তে মায়ার হসপিটাল থেকে যাওয়াটা ঠিক হবে না। মায়া অসুস্থ! দূর্বল! তাই মায়ার শরীর জন্য অন্তত দুটো দিন হসপিটালের থাকাটা জরুরি। কিন্তু মায়া কারও কথা শুনলো। উত্তেজিত অস্থির হয়ে উঠল রিদের জন্য। সে বাসায় চলে যাবে। মানে যাবেই। তার মিস্টার ভিলেন হয়তো বাসায় আছে। রিদকে অসুস্থ অবস্থায় দেখেছিল সে। তাই এই মূহুর্তে মায়ার হসপিটালের নয় বরং রিদের পাশে থাকাটা জরুরি। মায়ার ক্রমাগত পাগলামি আর উত্তেজনা দেখে হেনা খান বাধ্য হয়ে ডাকল, আরাফ খান ও আরিফকে। মায়ার অস্থিরতা দেখে দ্রুত এগিয়ে আসল আরিফ। মায়াকে বুঝাতে চাইল এই মূহুর্তে হসপিটাল না ছাড়তে। দুয়েক দিনের মধ্যে এমনই মায়াকে হসপিটাল থেকে ডিসচার্জ করে দিবে। এখন পাগলামি না করতে। মায়া কারও কথা শুনলো না। কান্নাকাটি করে সবার মন নরম করলো। এবং হসপিটালের থেকে জোর পূর্বক ডক্টর থেকে মায়ার ডিসচার্জ করে নিল। রাত তখন শেষ। ৪ঃ৫০ বাজে। মানে প্রায় ভোর। মায়াকে নিয়ে খান বাড়িতে আসল হেনা খান ও আরিফ। আরাফ খান আসেনি। তিনি আয়নের অপারেশনের জন্য থেকে গেছেন হসপিটালের। সবাই কান্নাকাটি করছি আয়নকে নিয়ে এমনত অবস্থায় উনার বাসায় আসাটা উচিত মনে হয়নি বলে আরিফে পাঠিয়েছেন মায়াদের সাথে। আরিফ মায়াকে কোলে করে ড্রয়িংরুমে সোফায় বসিয়ে অল্প কিছু সময়ে মধ্যে ফের চলে যায় হসপিটালের মায়াকে নিজের হেয়াল রাখতে বলে। এই মূহুর্তে আরিফের ও সেখানে থাকাটা জরুরী মনে করলো। কারণ মায়া ব্যথা গুলো তেমন গভীর নয়। শুধু মাথার আঘাতটা ছাড়া। মায়ার কপালে মোটা করে ব্যান্ডেজ করা। গলায়, দু-হাতে এবং দুই হাঁটুতে ব্যথার জায়গায় গুলোতে মলম লাগানো। তবে ব্যান্ডেজ নেই। তখন মায়ার দৌড়াদৌড়িতে আর মাথা থেকে অতিরিক্ত রক্ত ঝড়ায় মায়া শরীর বেশ দূর্বল তবে দুইদিন রেস্ট নিলে ঠিক হয়ে যেত এমনটা ডক্টরদের ধারণা। কিন্তু মায়া পাগলামো করে বাসায় চলে আসায় কেউ বেশ খুশি হয়নি। হেনা খান মালাকে ডেকে মায়াকে উপুরে পাঠাল রিদের রুমে। মায়া মালার সাহায্যে কোনো রকম সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে আসল রিদের রুমে। লক খুলতে গিলে বুঝতে পারল রুমটি আগের থেকেই খোলায় আছে। লক নেই। শুধু ভিতর থেকে চাপিয়ে রেখেছে। তারমানে মায়ার মিস্টার ভিলেন রুমেই আছে। হঠাৎ আনন্দে যেন মায়ার মন নেচে উঠল। মালা চাপিয়ে রাখা দরজাটা খুলতে গিলে বাঁধা দিয়ে মায়া বলল…

—” তুমি চলে যাও মালা আপু। আমি বাকিটা যেতে পারবো।
মনের দ্বিধায় মালা বলে উঠে…
–” একা যাইতে পারবেন আফামনি?
–” পারবো।
মালা মাথা নাড়িয়ে চলে গেল। মায়া দরজা পাশে দেয়াল ধরে দাঁড়িয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আস্তে ধীরে দরজা টেনে খুঁড়ে খুঁড়ে ভিতর প্রবেশ করতেই দেখল রুমটি বেশ অন্ধকার। রুমের ডিম লাইটটাও অফ করা। তবে বারান্দার কাঁচের দেয়াল ধরে লাইটের তেজ রশ্মিতে রুমের ভিতরটা ঠিকঠাক দেখা যাচ্ছে। এমনকি রিদের বিছানায় মায়ার পাশে কেউ ঘুমিয়ে আছে সেটাও বুঝা যাচ্ছিল। রিদ বিছানার বামপাশে মায়ার সাইডে কখনো ঘুমাই না। তাহলে আজ কিভাবে? মনে অন্তত ভয় আর সন্দেহবোধ নিয়ে মায়া কপাল কুঁচকে দরজা পাশের থাকা সুইচ টিপে রুমের আলো জ্বালাতেই দেখল বিছানার পাশের রিদের জায়গায়টা খালি। তবে মায়ার পাশের জায়গায়টা খালি নেই। অর্ধনগ্ন অবস্থায় একটা গোল্ড রঙ্গা চুলের মেয়ে মায়ার জায়গায় শুয়ে আছে কাত হয়ে রিদের বালিশের দিকে মুখ করে। এলোমেলো বিছানা আর ব্ল্যাঙ্কেট দেখেই বুঝা যাচ্ছে রুমের ভিতরে স্বাভাবিক কিছু ছিল না। বরং সবকিছু অস্বাভাবিক ছিল। রিদের কাপড়ের সাথে মেয়েটির কাপড় গুলোও এলোপাতাড়ি ফ্লোরে ছড়িয়ে পড়তে দেখে মায়া যেন থমকে দাঁড়াল।
স্তব্ধ নিবাক হয়ে গেল। দূর্বল শরীরের খৈ হারিয়ে পরতে গেলে কাঁপা কাঁপা হাতে দরজার দেয়াল ধরে গা এলিয়ে দাঁড়াল। মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ার নেয় চমকিত মায়া। অসয্য কষ্টে ধুকছে গলা। নিশ্বাস টানতে কষ্ট হওয়ায় মায়স হা করে ঘন ঘন নিশ্বাস টানলো নিজের মাঝে। চোখের দেখা অনেক কিছু ভুল হতে পারে ভেবে ফের এলোমেলো রুমটার দিকে তাকাল মায়া টলমল চোখে। কিন্তু মায়ার অবিশ্বাস্য মন যেন কিছুতে বিশ্বাস করতে পারছে না মেয়েটির উপস্থিত রিদের রুমে। তাও এমন নগ্ন অবস্থায়। মায়ার কন্ঠনালি চেপে আসা কষ্টটা দ্বিগুণ করলো যখন দেখল রিদ ওয়াশরুমের দরজা খুলে গোসল করে বের হলো খালি গায়ে মাথা মুছতে মুছতে। মায়া চোখ পড়ল রিদের উম্মুক্ত বুক-পিঠে লালচে আছড়ের দিকে। অনূভুতি শূন্য টলমল চোখে উপচে পড়ল নোনাজল। মায়া শুকনো ঢুক গিলতে গিয়েও বাঁধা পড়ল গলায়। কষ্টের দারুণ ব্যথা গুলো নোনাজল হয়ে চোখ বেয়ে পড়ছে গালে। রিদ মাথা মুছতে মুছতে ওয়াশরুমের দরজা টেনে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকাল মায়ার দিকে। মায়াকে এই মূহুর্তে নিজের রুমে দেখে চোখ বুলালো মায়ার ব্যথিত অশ্রু সিক্ত অবিশ্বাস দৃষ্টিতে। এক পলক মায়াকে পযবেক্ষণ করে কপাল কুঁচকে এলো তার। তীক্ষ্ণ গলায় প্রশ্ন করলো…
—” কি চাই এখানে?

কি চাই? মায়ার এখানে চাই? সেটা আদৌও ভেঙ্গে বলার প্রয়োজন আছে মায়ার? এটা মায়ার রুম? মায়ার সংসার! আর নিজের সংসারে একটা মেয়ে কি চাইতে পারে সেটারও কৈফিয়ত দারি করতে হয়? তাহলে মায়ার এই মূহুর্তে কি চাওয়া আছে এখানে? অস্বাভাবিক কিছু চাওয়া নেই সবটাই স্বাভাবিক চাওয়া। তাহলে মায়া কৈফিয়ত কেন দিবে? শারীরিক দূর্বলতা থেকে বেশি মানসিক চাপে পড়ে গেল মায়া। অসুস্থ মনের ভারে মুখ থেকে কথা বের হচ্ছে না। ভিষণ গলা কাপছে! রিদকে উত্তর করতে গিয়েও পারছে না গলায় দলা পাকিয়ে আসা অসহনীয় ব্যথায়। কম্পিত ঠোঁট নাড়িয়েও মায়া কিছু বলতে পারল না অবশেষে। শুধু দেয়ালে গা এলিয়ে দাঁড়িয়ে থাকল। রিদ মায়াকে কিছু বলতে না দেখে এবার খানিকটা বিরুক্তি নিয়ে শব্দ করে বলল…
—” এই মেয়ে বলছো না কেন কি চাই এখানে? প্রাইভেসি বলতেও একটা কথা আছে। দরজা নক করলে না কেন?

থমকে দাঁড়াল মায়া রিদের পরিবর্তনে। এতোটা অপমান, কিন্তু কেন? রিদের চেঁচানোতে ঘুম ভেঙ্গে গেল বিদেশি মেয়েটির। ঘাড় উঁচিয়ে তাকাল রিদ মায়ার দিকে। দুজন মধ্যে হওয়া বিষয়টি বুঝতে না পেরে মেয়েটিও মাথা চেপে উঠে বসল বিছানায়। রিদকে উদ্দেশ্য করে ঢুলতে ঢুলতে মিষ্টি স্বরে বলল…
—” বেবি! মাই হেড ইজ টু মাচ পেইন।
মায়া রিদের দিকে তাকিয়ে কাঁপা কাঁপা হাতে আঙ্গুল তাক করলো মেয়েটির দিকে কম্পিত স্বরে বলল…

—” এই মেয়েটি কে? আমার বিছানায় কি করছে? আপনারা কি একসঙ্গে…
মায়ার কথা শেষ করতে না দিয়ে রিদ সম্মতি জানিয়ে বলল…
—” হ্যাঁ।

মায়া থমকে দাঁড়াল অনূভুতি চোখে। মূহুর্তেই যেন আকাশ ভাঙ্গল মায়ার মাথায়। দূর্বল শরীরটা যেন নিস্তব্ধ হয়ে গেল। শরীরের রোম রোম জাগ্রত হলো কম্পন ও তীব্র অপমান। মায়ার কিছু বলার রা রইল না। তবে আক্রোশ রাগ জেগে উঠল নিজের উপর। মায়ার সংসার সবেমাত্র বাইশ দিন হলো আর এতেই পর নারীর সঙ্গ নিল ওর স্বামী। তীব্র ঘৃণা আর জেদ মনে জড়িত হলো। মায়া সব মেনে নিতে পারে কিন্তু ব্যবিচার কখনো না। মরে যাবে তারপর ব্যবিচারে মাথা নত করবে না কারও সামনে। মায়া কিছু করার আগে পুনরায় রুমের গঠিত সবকিছু সত্যায়িত যাচাই করতে চাইল। রাগান্বিত চোখে মেয়েটির দিকে তাকাতেই বিছানায় বসা বৈদেশি মেয়েটি রিদকে উদ্দেশ্য করে বলল…
—” বেবি হু ইজ সি?
রিদের সোজাসাপ্টা উত্তর…
—” মাই এক্স ওয়াইফ!

এক্স ওয়াইফ? লাইক সিরিয়াসলি? মায়া এক্স ওয়াইফ? কাল পযন্ত যে বিছানায় মায়া স্থান ছিল আজ সময়ে ব্যবধানে অন্য নারীর টায় হলো। কাল পযন্ত যে শরীরে মায়ার চিহ্ন থাকতো আজ অন্য নারীর স্পর্শ তাতে লেগে আছে। মায়া কি ভুল করলো বাবার বিরুদ্ধে, পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে একজন গ্যাংস্টারকে ভালোবেসে বিয়ে করে। মায়া বাবা তো ওকে সাবধান করেছিল গ্যাংস্টারা একাদিক নারী প্রিয় হয় তাহলে মায়া কেন বুঝতে চাইল না বাবার কথাটা। ভালোবাসায় কি অন্ধ ছিল নাকি রিদের প্রতি বিশ্বাসটা বেশি ছিল। মায়ার নিজের সত্তা হারিয়ে চোখ মুখ শক্ত করে রিদকে বলে উঠল..

—” মেয়েটি কে?

রিদ দু-কদম এগিয়ে হাতের ভিজা টাওয়ালটি বিছানার উপর রাখতে রাখতে বলল..

—” মাই সেকেন্ড ওয়াইফ।

মায়া জায়গায় থেকে নড়ে উঠল। বাঁধ ভাঙ্গা চোখের পানি গাল গড়িয়ে গলা অবধি পৌছাল। রিদের মুখে ‘মাই সেকেন্ড ওয়াইফ কথাটা শুনে নিজের আর ঠিক রাখতে পারল না মায়া। মুখ চেপে হু হু করে কেঁদে উঠে বলল..

—” আপনি মিথ্যা বলছেন আমি বিশ্বাস করি না।

রিদ ঘাড় ঘুরিয়ে মায়া দিকে তাকিয়ে বিরক্তি গলায় বলল…

—” বিশ্বাস করা, না করা একান্ত তোমার ব্যক্তিগত ইস্যু। নাউ ইউ জাস্ট একজিস্ট ফর মি। তুমি আমার সাথে যা করেছো তার রিটার্ন ফিরত দিলাম আমি। পাওয়া রাখি না আমি শোধ আসলে ফিরত দেয়। নাউ ইউ গেইট লস্ট।
রিদের কথার অর্থ না বুঝে মায়া মুখের উপর থেকে হাত সরিয়ে বলল…
—” আপনি কেন আমার সাথে এমন করছেন? কেন আমাকে ঠকালেন? কি করেছি আমি? কিসের শাস্তি দিচ্ছেন আমাকে?

দুজনের কথোপকথনের মধ্যে উঠে দাঁড়াল মেয়েটি। ফ্লোর থেকে শার্ট নিয়ে গায়ে জড়াতে জড়াতে মায়ার দিকে এগিয়ে এসে বলল…

—” হে ইউ ডামগার্ল! ইউ জাস্ট গেট লস্ট। কেন চকাল(সকাল) চকাল ডিস্টার্ব করিস (করছিস) মোদের..

রিদ পিছন থেকে মেয়েটির ভাষা ঠিক করে বলল..

—” আমাদের।
মেয়েটিও একই ভাবে বলল…
—” হ্যা আমাডের।

দুজনের সখ্যতা ভাবটা পছন্দ হলো না মায়ার। একের পর এক চমককে থমকে যাওয়া মায়া আচানক এ কান্ড করে বসল। মায়ার পাশে দেয়ার সাথে সাজিয়ে রাখা ফুলের ভাজটি দু’হাতে তুলে হঠাৎ সজোরে ভারি মারল মেয়েটির মাথায়। মায়ার হঠাৎ কান্ডে থমকে যায় রিদও। বিষয়টি কি হয়েছে বুঝতে বুঝতে মেয়েটি সজোরে চিৎকার করে দু’হাতে মাথা চেপে ধরে লুটিয়ে পড়ল ফ্লোরে মায়ার পায়ের কাছে। অঝোরে রক্ত ঝরতে ঝরতে জ্ঞান হারাল মেয়েটির। আর তাতেও মায়ার বিশেষ পরিবর্তন হলো না। বরং আক্রোশ ফেটে পরল রাগে। রিদ থমকানো ভঙ্গিতে মায়াকে ধমকে উঠে বলল…

—” হেই কি করেছ তুমি এটা হ্যা? সবকিছুতে….

রিদের কথা গুলো শেষ করতে পারলো না মায়ার হঠাৎ আক্রমণের কারণে। রিদ সরে যেতে চাইলেও সম্পূর্ণ সরতে পারেনি বলে রিদের হাতে ভাজলো মায়ার হঠাৎ ছুঁড়ে দেওয়া ফ্লাওয়ার ভাজটির। রিদ আঘাত পেয়ে মৃদু স্বরে চেঁচাল ‘শিট’ বলে। বামহাতটি ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে ডামহাতে চেপে ধরে মায়ার দিকে রাগান্বিত চোখে তাকাল। রিদ কিছু বলবে তার আগেই মায়া হামলে পড়ল রিদের গায়ে। দু’হাত ছুটিয়ে রিদকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে করতে বলল…

—” কি ভেবেছেন ছেড়ে দিব আপনাকে? আমাকে ঠকিয়ে অন্যকাউকে নিয়ে সুখে সংসার করবেন? আমি তা হতে দিব? আমি নিজেরও মরবো সাথে আপনাকে নিয়ে। তারপরও অন্য কারও সাথে সুখে সংসার করতে দুনিয়াতে রেখে যাব না। কোনো দিন না।

মায়ার এলোপাতাড়ি আঘাতে রিদ মায়ার দুহাত আঁটকে ধরে রাগের রি রি করে ওর বাহু চেপে টেনে মায়াকে রুম থেকে করতে করতে চিবিয়ে চিবিয়ে বলল…

—” তোর সাথে সব সম্পর্ক আমার এখানেই ইতি। যাহ গিয়ে মর যেখানে পারিস। আমার তীর সীমানায় তোকে আর দেখতে চাই না। ফের আমার চোখের সামনে আসলে সেদিনই জানে মেরে দিব তোকে।

মায়াকে ধাক্কা দিয়ে রুম থেকে বের করে মুখের উপর দরজাটা বন্ধ করে দিল রিদ। মায়া আঘাত করা রিদের ব্যথিত হাতটা কেটে সেখান থেকে রক্ত ঝড়ছে। রিদ হাত ঝাঁকিয়ে তাকাল ফ্লোরে পরে থাকা মেয়েটির দিকে মৃদু স্বরে আওড়াল ‘শিট!। আবার নতুন উদ্ভট ঝামেলায় পরে রিদ বিরক্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে মেয়েটিকে ঠেঙ্গিয়ে এগিয়ে গেল বিছানা দিকে। চারপাশে তাকিয়ে ফোনটি খুঁজতে খুঁজতে বিড়বিড় করে বলল ‘আরিফ! আসিফ! বলে..
~~
ঠাস’ সজোরে দাপটে চড় বসাল ছেলেটির গালে অর্ধ বয়স্ক লোকটি। তেতে উঠে ছেলেটির কলার চেপে ধরে ঝাঁকিয়ে বলল…

—” হাউ ডেয়ার ইউ। সাহস কি করে হয় আয়নকে আঘাত করার। তোদেটকে নিষেধ করেছিলাম না আয়নকে এসবের মাঝে না টানতে তারপরও কেন টানলি। কেন ওকে আঘাত করলি বল?

আকস্মিক থাপ্পড়ে বামেদিকে ঝুঁকে পড়ল ছেলেটি। কিন্তু তার পর মূহুর্তে সোজা হয়ে দাড়িয়ে ক্ষুব্ধ চোখে তাকাল অর্ধ বয়স্ক লোকটির দিকে। নিজের কলার চেপে ধরাটা পছন্দ হয়নি তার। তাই নিজের কলার ছাড়াতে ছাড়াতে রাগান্বিত কন্ঠে বলল…

—” তোমার ছেলেকে আমরা আঘাত করেনি নাহিদ চৌধুরী। সে গাড়ি এক্সিডেন্ট করেছে। অথযা আমাদের দোষারোপ করা বন্ধ করো। নয়তো আমি হিতের বিপরীত গিলে তোমার জন্য মঙ্গলকর হবে না বলে দিলাম।

ছেলেটির হুমকি স্বরুপ কথায় তেতে উঠে চেঁচাল নাহিদ চৌধুরী। ফের ছেলেটির গলার ঝাঁকিয়ে বলতে চাইল…

—” ইউ বাস্টার্ড…

—” আহ! নাহিদ করি করছো? রাফিনের উপর কেন রাগ দেখাচ্ছো? আয়নকে কেউ সত্যি আঘাত করেনি। সে গাড়ি এক্সিডেন্ট করেছে কিন্তু মাঝ থেকে মায়াটা বেঁচে গেল তোমার ছেলের জন্য। নয়তো আজ রাতেই ঝামেলা শেষ হয়ে যেত হারামজাদিটার।

রাফিনের গলা শার্ট ছেড়ে নাহিদ চৌধুরী ঘাড় বাকিয়ে তাকাল হসপিটালের বিছানায় শায়িত আয়েশা আব্দুল্লাহ দিকে। নিখুঁত নৈপূন্য সেই বৈদশিনীর চেহারার গঠন। চেহারা দেখে বয়সের আন্দাজ করা মুসকিল। তিনি এগিয়ে গেল আয়েশা আব্দুল্লাহ দিকে। ডানহাতের বাহুতে মোটা করে ব্যান্ডেজ করা। আসিফের তখন গুলি করাতে কোনো রকম জান নিয়ে পালিয়ে এসেছিল তারা নয়তো আজ সেখানেই হয়তো জীবনের শেষ মূহুর্তে গুনতে হতো উনার। নাহিদ চৌধুরী রাগ নিজের মধ্যে চেপে রেখে বেডের সামনে চেয়ারটা টেনে বসতে বসতে সন্দিহা গলা বলল…

—” আমাদের প্ল্যানিং মতোই তো এগোচ্ছিল সবকিছু। তাহলে হঠাৎ করে আমরা হেরে গেলাম কিভাবে? আমাদের তো ভয় পেয়ে পালিয়ে আসার কথা ছিল না। কারণ পার্টিতে না হলেও শতেকের বেশি মুখোশ দারি গুন্ডা ছিল, যারা আমদের একটা ইশারায় হামলা করতো রিদ ও তাদের দলবলে উপর। তাহলে বলা যায় আমাদের নয় বরং রিদ খানের হারটা নির্ধারিত ছিল। সেখানে আমরা হারলাম কিভাবে? রিদ খান তো আমাদের সাথে লড়াই করা পরিস্থিতি ছিল না। কারণ সে ড্রাগসে আক্রান্ত ছিল। সে চাইলেও নিজের পরিবারের কাউকে বাঁচাতে পারতো না। সবদিক থেকেই আমাদের জয় নিশ্চিত ছিল তাহলে সেখানে এতোটা বাজে ভাবে হারলাম কিভাবে সেটাই বুঝতে পারছিনা যে আমাদের ভুলটা কোথায় হলো। আচ্ছা এই সবকিছুর পিছনে রিদ খানের হাত নেই তো? সে পূবে থেকে আমাদের প্ল্যানিং সম্পর্কে অবগত ছিল নাতো?

নাহিদ চৌধুরী কথা বেশ চিন্তত হলো রাফিন ও আয়েশা আব্দুল্লাহ। আসলে তাঁরাও বুঝতে পারছে না হঠাৎ করে কি থেকে কি হলো? আর তাছাড়া উনারাই বা কেন হঠাৎ করে পালিয়ে আসল। আরিফ যখন উনাকে গুলি করল তখন তাঁরা কেন পাল্টা হামলা আসিফের উপর না করে কায়ারের মতো পালিয়ে আসল। তাদের তো অনেক বড় দলবল নিয়ে গিয়েছিল হামলার জন্য তাহলে হুট করে সবকিছু পাল্টে গেল কেন? এতোটা ভয় পেয়েও বা কেন পালাল? এখানে তো ভয়ে কিছু ছিল না। রিদ খান তো পার্টিতেই ছিল না তাহলে?
আয়েশা আব্দুল্লাহ এলোমেলো চিন্তায় মুখ খুলল রাফিন। অন্তত তীক্ষ্ণ গলায় বলল…

—” আপাতত হারে কারণটা বলতে পারছি না। তবে তোমাদের মূখ্যতার জন্য এবার জানটা যাবে সবার। রিদ খান এমনই বসে থাকবে না। এতক্ষণে হয়তো সবটা সে বুঝে গেছে সে। এবং কাকে কিভাবে লটকিয়ে মারবে সেই পরিকল্পনায় আঁটছে শালা। আমারই ভুল এসব মূখ্য মানুষের সাথে হাত মিলানোটা। কাজের কাজ কিছু হলো না অকাজের ঢেকি সব।

রাফিনের দিকে রাগান্বিত চোখে তাকাল নাহিদ ও আয়েশা। নাহিদ চৌধুরী কিছু বলতে চাইলে বাঁধা দেয় আয়েশা আব্দুল্লাহ। তিনি নিজেদের মধ্যে ঝামেলা চাচ্ছে না। এতে আগ্রত বিপদের হাল মিলবে না বরং আরও ঝামেলা হবে নিজেদের মধ্যে। তিনি ঝামেলা চাই না। নিজের সুন্দর সুস্থ মেয়েকে পাগল বানানোর জন্য রিদ থেকে প্রতিশোধ চাই। রিদ মায়ার জন্য তো মেহুকে পাগল বানিয়ে ছেড়ে দিয়েছিল মরতে। মা হয়ে তিনি দিনের পর দিন একটা মাত্র আদুরের মেয়েকে পাগলামো করতে দেখে যাচ্ছে আজ বিগত চব্বিশ দিন ধরে। অসয্য যন্ত্রণায় হয় যখন তিনি মেহুকে বন্দী ঘরে পরে থেকে চিৎকার করতে দেখে, আবুল তাবোল বলতেদ দেখে, আলোকে ভয় পায়, মানুষকে ভয় পায়। কাউকে দেখলে অকারণে চিৎকার করে। এমনকি ডাক্তার দেখিয়েও লাভ হচ্ছে না। কারণ ডাক্তারা সবাই উনাদের নিরাশ করছেন। নিশ্চয়তা দিচ্ছে না কবে মেহু ভালো হবে সেটির। আর এসব বিষয় গুলো থেকেই তিনি আক্রোশে হিংস্র হয় যতক্ষণ না পযন্ত মায়াকে রিদের জীবন থেকে নিঃশেষ করছে ততক্ষণ পযন্ত স্বস্তিরে নিঃশ্বাস ফেলবেন না তিনি। সেই প্রচেষ্টা আজ তিনি প্ল্যানিং করে মায়াকে ড্রাগস সেবন করাতে চেয়েছিল কিন্তু মায়া সেবন না করে আয়নের সাথে চলে যায় বাহিরে। তারপরও তারা দমে যায়নি। আয়নের জায়গায় রুমের ভিতর আয়ন মায়ার মতো করে অন্য একজোড়া ছেলেমেয়ে পাঠাল মায়া আর আয়নের কৃত্রিম ভয়েস রেকর্ড বাজিয়ে দিয়ে। এই দিয়ে ড্রাগস কৃত রিদের মাইন্ড ডাইভার্ট করতে চাইল। সবকিছু ঠিকঠাক চলছি। তিনিও আজ মায়াকে মারতে নিয়েছিল কিন্তু আসিফের জন্য সফল হতে পারেনি। সবকিছু মূলই এই আসিফ! ঢাল হয়ে দাড়িয়ে থাকে রিদের কার্ধ হয়ে। এজন্য মূলত উনারা হেরেছে আজ। না এই আসিফের আগে একটা বিহিত করা চাই। সারাক্ষণ ভাই! ভাই! করে না? এই আসিফকে দিয়েই চাল খাটিয়ে রিদকে ধ্বংস করে কবরে পাঠাবে তাঁরা। আয়েশা আব্দুল্লাহ শান্ত কন্ঠে নাহিদ চৌধুরী দিকে তাকিয়ে বলল…

—” আসিফের পরিবার বলতে কে কে আছে কিছু জানো তুমি?

আয়েশার বেখেয়ালি প্রশ্নে বিরক্তি প্রকাশ করলো নাহিদ চৌধুরী। চাপা স্বরে বলল…

—” কেন?
—” কারণ এবার আসিফকে দিয়েই রিদ খানের শেষ পথ গুনবো। রিদ খান অবধি আমরা সহজে না পৌছাতে পারলেও আসিফ কিন্তু রিদ খানের বিশ্বাস্ত লোক। তাই আসিফকে দিয়েই রিদ খানে কপালে বন্দুক ঠেকাবো। রিদের আশেপাশে তো সারাক্ষণ আসিফই তাকে তাই না। তাহলে রিদকে মারতে ওর দুই সেকেন্ড লাগবে না। বরং খুব সহজেই মারতে পারবে…

আয়েশার তীক্ষ্ণ বুদ্ধির জোরে চমকে উঠল রাফিন ও নাহিদ চৌধুরী। তারা সত্যি এভাবে কখনো ভেবে দেখেনি। আসিফের মতো বিশ্বাস্ত লোক আর কেউ নেই রিদের। তাছাড়া সবসময় তো আসিফ রিদের সাথে লেগে থাকে। তাহলে আসিফকে ব্যবহার করে রিদকে মারাটা তাদের আরও সহজ হবে।
~~
আঘাতে দুই দিন পরে মায়া খানিকটা শারিরীক সুস্থ হলেও মানসিক ভাবে বিধস্ত। থেকে থেকে হঠাৎ হঠাৎ ফুপিয়ে উঠে কান্নায়। বাড়ির কারও সামনে কাঁদে না শক্ত মনোবলেই বসে থাকে। তবে সবার আসা যাওয়া মায়ার রুমে থাকলেও। বিশেষ একটা সময় থাকে না কেউ মায়ার সাথে বরং বাড়ির সবাই হসপিটালেরই বেশি সময় কাটায় আয়নের পাশে। আয়নের অপারেশন সাকসেসফুল হলেও এখনো লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে ওকে। কথা বার্তা বলছে না তবে জ্ঞান ফিরেছিল আরও একদিন আগেই। মায়ার পরিবার বলতে আরিফ, জুই, আর ফিহাই আছে এখনো পযন্ত ঢাকা। ভাইয়ের এক্সিডেন্টের জন্য সেকি বেহাল দশা ফিহা। অতিরিক্ত কান্না জন্য মাঝে একবার জ্ঞান হারিয়ে ছিল। তবে এখন ভালো আছে। ছেলের করুন দশা দেখে পূবে থেকে জ্ঞান হারিয়ে হসপিটালের এডমিট ছিল মেহেরবান। তিনি অতিরিক্ত চাপ নিতে পারে না। কিন্তু উনার সাথেই এমনটা হয়। প্রথমবার ফিহা আত্মহত্যা চেষ্টা অন্যবার আয়নের করুণ এক্সিডেন্টে উনি যেন ভিতর থেকে ভেঙ্গে পরেছেন। এসবের মাঝে নেহাল চৌধুরী অপরাধীর মুখ পাথর মূতি হয়ে বসে থাকল সবটা সময়। উনি যেন বুঝতেই পারল না কি থেকে কি হলো? কি করতে চেয়েছিল আর কি হলো। আয়ন এসবে মাঝে ফেঁসে যাবে তিনি ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি। যদি জানত তাহলে আরও সর্তক থাকতো। কিন্তু কিভাবে কি হলো কিছুই যেন বুঝল না। অস্থিরতায় ধুঁকে ধুঁকে যেন আরও জ্বলে উঠল প্রতিহিংসায় রিদের উপর। এই সবকিছু জন্য রিদকেই দ্বায়ি করল। আজ আয়নের এই বেহাল দশা শুধুমাত্র রিদের জন্য। না রিদের উপর তিনি প্রতিশোধ নিতে চাইতো আর না উনার ছেলে এমন দশা হতো। ভিতরকার হিংস্র প্রাণীটা জন্য চোয়াল শক্ত হলো। রিদকে নিঃশেষ করতে মনে মনে তীব্র প্রতিজ্ঞা করে নিল। সবকিছু এমনই এমনই ছেড়ে দিবেন না তিনি, এর শেষ দেখেই ছাড়বে। রিদের ধ্বংস হবে উনার সুখের ঠিকানা। কটুক্তি বুদ্ধিতে বাকা হাসল তিনি। সেই হাসিটা নজরে ভিড়ল জুইয়ের। তিনি চোখ তুলে উপরে তাকাতেই থমথম খেয়ে যায় জুইকে একই ভাবে তাকিয়ে থাকতে দেখে। দ্রুত সঙ্গে নিজেকে সামলিয়ে উঠে অন্যথায় চলে যায় তিনি। জুই অশ্রু সিক্ত চোখে তাকিয়ে রইল নাহিদ চৌধুরীর যাওয়ার দিকে। মূলত জুই বুঝল না হুট করে নাহিদ চৌধুরীর পরিবর্তিত আচারণটা। মূলত জুইয়ের এলোমেলো মস্তিষ্কের চিন্তা ভাবনায় এই মূহুর্তে ভেঙ্গে পড়েছে নিজের মধ্যে আয়নকে মৃত্যুশয্যায় দেখে। বিগত দুই দিনের জুই বুঝতে পেরেছে সেদিন রাতে পার্টিতে রুমে ভিতর মায়া আর আয়ন নয় বরং অন্য কেউ ছিল। মায়া আয়নের সাথে অন্য কোথাও যেতে চেয়েই এক্সিডেন্টটা হয় তাদের। আর জুই সেটা বুঝতে না পেরে মায়াকে ভুল বুঝল। এমনকি অতিরিক্ত মানসিক চাপে পড়ে মায়ার সাথে বাজে ব্যবহার করে অভিশাপ পযন্ত দিয়ে দিল। যার জন্য এখন জুই নিজের ভুল বুঝতে পেরে অপরাধতায় ভোগছে। না মায়ার সাথে চোখ মেলাতে পারছে আর না আয়নের সাথে। আয়ন কোনো কিছু না জানলেও নিজের মধ্যে তীব্র অনুশোচনা কাজ করছে এই ভেবে মায়া আয়নের জন্য জুইয়ের কাছে হেল্প চাইতে এসেছিল কিন্তু জুই মায়াকে সাহায্য করেনি বরং রাগের মাথায় উল্টো আঘাত করেছিল। এখন কোন মুখে জুই মায়ার সামনে দাঁড়াবে ক্ষমা চাইতে।

মায়া গায়ে ব্ল্যাঙ্কেট মুড়িয়ে বিছানায় কাত হইয়া শুয়ে রইল। বিগত দুই দিন একভাবে নিজের রুমে শুয়া অবস্থায় কেটেছে ওর। চুপচাপ আর নির্ঘুম। মায়া মানসিক ভাবে আঘাত পেলে হুট করেই যেন চুপচাপ হয়ে যায়। তবে মায়ার এতো চুপচাপ থাকাটা বেশ জোড়ালো ভাবে নিল না হেনা খান আর আরাফ খান তারা কেউই। স্বাভাবিক ভাবেই নিল। মূলত এজন্য অন্য দৃষ্টিতে নেইনি কারণ তাঁরা ভাবল হয়তো মায়া অসুস্থতার জন্য সারাদিন শুয়ে বসে থাকে রুমে। বিষয়টা তারা স্বাভাবিক ভাবেই নিল আয়নের চিন্তায় চিন্তায়। কারণ হেনা খান দিনে অর্ধেকটা সময় মায়ার সাথে কাটালেও বাকি অর্ধেকটা সময় থাকেন হসপিটালের আয়নের পাশে। তখন মায়ার কাছে মালাকে রেখে যায়। এই দুইদিন মায়ার সাথে রিদের মোটেও দেখা হয়নি। রিদের বাড়িতে আসা যাওয়া সম্পর্কে মায়া কিছু জানে না। মায়া শুধু নিজের রুমেই পরে থাকে। কাঁদতে চাই না। কিন্তু হঠাৎ হঠাৎ করে ফুপিয়ে কেঁদে উঠে রিদ পুনরায় বিয়ে করেছে বিষয়টি ভেবে। মায়ার বিশ্বাস হয়না আবার হয়। কারণ রিদ মায়াকে কখনো মিথ্যা বলে না। রিদের সবকিছুই মায়া বিশ্বাস করে তাহলে এমন সিরিয়াল মূহুর্তে তো আর রিদ এমনই এমনই মায়াকে মিথ্যা বলে মজা করবে না তাই না? রাত গড়িয়ে সকাল হলো বিয়ের পঁচিশ দিনের মাথায় মায়া শুনলো টিয়া অপহরণ হয়েছিল ঠিক একদিন আগে। কে বা কারা টিয়াকে অপহরণ করে, গনধর্ষন করে পুড়িয়ে মেরে কলেজ গেইটের সামনে ফেলে যায়। আর তাতে হৈচৈ পরে যায় কলেজে। এই বিষয়ে ছায়া খান বাড়ির টেলিফোনে ফোন করে জানায় মায়াকে। উত্তেজনায় মায়া অস্থির ভঙ্গিতে ছুটল কলেজের দিকে। এলোমেলো বোখরা পড়েই গেল কলেজে। তবে মায়া সঙ্গে বডিগার্ডরা গিয়েছিল পিছন পিছন। মায়াকে একা ছাড়েনি। মায়া যখন কলেজে পৌছাল তখন দুপুর বারোটা ছিল। হেনা খান বাসায় না থাকায় মায়াকে কেউ আটকাতে পারেনি। তাড়াহুড়ো মায়া কলেজ ঢুকে ছায়াকে পেল নিজের ক্লাস রুমেই। বসে বসে কাঁদছিল অঝোর ধারায়। মায়াকে দেখে যেন আরও উদ্বিগ্নতায় কাঁদল ওকে জড়িয়ে ধরে। মায়া বন্ধুমহলে সবচেয়ে শক্ত মনেরই ছিল ছায়া। আজ ছায়ার ভেঙ্গে পড়া দেখে মায়াও ফুপিয়ে উঠল। একে একে মায়ার পছন্দ মানুষ গুলো যেন হঠাৎ করেই হারিয়ে যাচ্ছে কোথায়। সবকিছু যেন হুট করে এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে মায়ার সাথে। আচ্ছা মায়াদের এই অবস্থা হলে আসিফের কি অবস্থা হচ্ছে ভালোবাসার মানুষটিকে চিরতলে হারিয়ে। নিশ্চয়ই করুন পরিস্থিতি তার। টিয়াকে তো আসিফ সত্যি ভালোবাসত। মায়া বাসায় ফিরার সময় বডিগার্ড ও মানুষদের সমাগমে আড়ালে মায়ার হাতে চিঠি ধরিয়ে দিল মায়ার ক্লাস ম্যাম তানিসা। মায়া চমকিত মুখে তাকাতেই তিনি চোখের ইশারায় মায়াকে রিয়েক্ট করতে না করতে। তিনি মায়ার বইয়ের ভাজে চিঠি রেখে মায়াকে চুপিসারে দিয়ে দিল। মায়া সবটা দেখেও অবুঝ নেয় আচরণ করল দেখেনি বলে বডিগার্ড সামনে। ওকে কেন ওর ম্যাডাম চিঠি দিয়েছে বিষয়টি সন্দেহ দৃষ্টিতে দেখেও ব্যাগের ভিতর বইটি ঢুকিয়ে দিল। মনে মনে চিন্তা করলো অবশ্যই জরুরি কিছু হবে হয়তো মায়ার জন্য নয়তো এমনই এমনই তো আর মায়ার ম্যাডাম চিঠি দিবে না। ছেলে হলে না-হয় বুঝতো প্রেম নিবেদন করতে চাইছে মায়াকে। কিন্তু ম্যাডাম হয়ে কিভাবে কি?

( বাজে মন্তব্য করবে না। রিদেরও একটা দিক অবশ্যই আছে। কাল গল্প না দেয়ার জন্য সরি। সকাল সকাল ঘুমিয়ে পড়ায় কিছু বলতে পারিনি ধন্যবাদ সবাইকে)

চলিত….

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply