Love_or_Hate
|#পর্ব ৩৪
ইভেলিনা_তূর্জ
⛔কপি করা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ
⛔প্রাপ্ত বয়স্ক ও মুক্ত মনস্ক দের জন্যে
ঘন জঙ্গলের তীব্র বাতাস, গুলির কড়া গন্ধ আর বারুদের বিকট শব্দের মাঝে ইউভান রোজের কানের কাছে মুখ নিয়ে, রোজের ঘন বাদামী কেশযুগল আলতো করে সরিয়ে দিয়ে, এক ভয়াবহ শান্ত স্বরে ফিসফিসালো।ইউভানের পাথুরে মন ভেদ করে এক সিম্বলিক শব্দ বের হলো।
—-“Rose 5201314.< 3”
ইউভানের কণ্ঠস্বর যেনো আজ হিমবাহের বুক চিরে আসা এক ঝোড়ো বাতাস, যা রোজের শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে গিয়ে তার কলিজায় গিয়ে বিঁধলো। সেই শীতলতায় কোনো স্নিগ্ধতা নেই, আছে শুধু হাড়কাঁপানো এক স্তব্ধতা। রোজ তার সজল বাদামী চোখে হাড়হিম করা এক চাহনি ছুঁড়ে দিলো ইউভানের দিকে।এতোটা বরফ শীতল তো ইউভানের গলারধ্বনি না তাহলে? তার অবাধ্য ঠোঁট জোড়া কেঁপে উঠলো এক অমোঘ প্রশ্নে-
—”এই সংখ্যাগুলোর মানে কি?”
ইউভান এক ঝলক রোজের আঁখিপল্লবে ঘোর লাগা চাহনিতে তাকিয়ে মাথা এ পাশ-ও পাশ কাত করলো।ইউভান জানতো রোজ কোডের মানে ধরতে পারবে না। অতর্কিতে রোজকে গাছের খসখসে বাকলে চেপে ধরলো ইউভান। দু-হাতে রোজের পালানোর সব পথ রুদ্ধ করে সে এক আদিম শিকারির মতো দাঁড়িয়ে রইলো রোজকে আবদ্ধ করে।রোজ দৃষ্টি সরিয়ে নিলো।ইউভানের অগ্নিধূসর অক্ষীপলে রোজ তাকাতে পারে না।যখনি দৃষ্টি ফেলে মনে হয় এখনি বুঝি ভস্মীভূত হয়ে যাবে তার সর্বাঙ্গ।রোজকে মুখ ফিরিয়ে নিতে দেখে ইউভান রোজের থুঁতনি চেপে ধরলো তর্জুনি আর মধ্যা আঙুল দিয়ে।
—–“নাথিং!ইট’স মিন নাথিং।মিনিংল্যাস ফিলিংল্যাস ঠিক আমার মতো।মন চাইলো তাই বললাম।”
রোজ ইউভানের কব্জি ধরে হাতটা সরিয়ে দেয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করে ঘৃণা মেশানোর স্বরে উদ্ধৃত হয়ে সুধালো।
—–“আপনার মন ও আছে?হাস্যকর হয়ে গেলো না ব্যপারটা??সৎ সাহস থাকলে প্রকৃত মানে বলুন সংখ্যাগুলোর।”
—-“বান্দী তুই একটা চিজ মাইরী অসৎ পুরুষ থেকে সৎ সাহসের আশাও করিস।এগেইন হাস্যকর হয়ে গেলো না ব্যপারটা?”
ক্ষণকাল পরেই ইউভানের সেই কৌতুকময় ভাবটা উবে গিয়ে সেখানে ভর করল এক ভয়ঙ্কর গাম্ভীর্য।ইউভান রোজের দুই কাঁধ খামচে ধরে এক ঝটকায় নিজের বক্ষপিঞ্জরের সাথে পিষে ধরলো। রোজের সজল চোখে চোখ রেখে সে দপ করে জ্বলে ওঠা দাবানলের মতো শান্ত অথচ তীক্ষ্ণ স্বরে গর্জন করে উঠলো-
—–”যদি ভয় পেতে হয় তবে শুধু আমায় পাবি, আর পৃথিবীর বাকি ন*রকের কীটগুলোকে ভয় পাওয়া তোর জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ! জাস্ট ফোকাস অন ইয়োর এনিমি, little Dove!
—“কোনো শু*য়রের জাত তোর এক ফোঁটা অশ্রুরও যোগ্য না। তোর ভয়ের ওপর শুধু আমার একচ্ছত্র অধিকার।”
ইউভানের চোয়াল শক্ত হয়ে এলো, গলার রগগুলো টানটান হয়ে উঠলো।ইউভান রোজের উপর ঝুঁকে রোজের কানের লতি ঘেঁষে তার নিগূঢ় রণকৌশল রোজের মগজের গভীরে বিষের মতো গেঁথে দিলো।
—-”বিপরীত পক্ষ যদি কোনোদিনও তোর সামর্থ্যের বাইরে হয়, দ্যান অলওয়েজ রিমেম্বার,কিপ ইয়োর আইজ অন দ্য শ্যাডোস, নট দ্য লাইট।”
এক মুহূর্ত বিড়ম্বনা না করে ইউভান রোজের হাতের আঙুলগুলো রিভলভারের গ্রিপের ওপর আরও শক্ত করে বসিয়ে দিলো। তার পেশিবহুল হাত দিয়ে রোজের কব্জিটা এমনভাবে লক করলো যাতে গুলির ঝটকায় হাত মচকে না যায়।অতঃপর এক ঝটকায় এলোপাতাড়ি ফায়ারিং করতে লাগলো।অনবরত গুলিট শব্দ রোজের মস্তিষ্ক কান চিবিয়ে খেতে লাগলো।ইউভান রোজের হাতটা ধরে ৩৬০° অ্যাঙ্গেলে শূন্যে এক পাক ঘুরিয়ে দিলো। রোজের মনে হলো সে কোনো এক ধ্বংসলীলার ঘূর্ণাবর্তে পড়েছে। ইউভানের হাতের চাপে রোজের তর্জনী ট্রিগারে চাপ দিলো- ‘ঠাটিয়ে… ঠাটিয়ে! পরপর তিনটি বুলেট লক্ষ্যভেদ করলো। ওপরের ডাল থেকে একজন স্নাইপার গোঙানি দিয়ে নিচে আছড়ে পড়লো। রোজ আতঙ্কে চোখ বুজে চিৎকার করে ইউভানের জ্যাকেট খামচে ধরলো।
—–”থামুন! প্লিজ স্টপ!আপনি খুব খারাপ, ভীষণ করমের খারাপ!i hate you Yuvan”
—-“রিক ফা’ক ইউর হে’ইট ইউ!ইয়েস আমি খুবই খারাপ রোজ, তোর ভাবনার থেকেও আরও ভয়ঙ্কর। আমার ধ্বংসলীলার এক-অংশও দেখিস নি তুই।জানে মেরে ফেললো তোর ঠোঁট থেকে কোনো পরপুরুষের নাম বের হলে তোর ওই আল্লার জিহ্বাটা টেনে ছিঁড়ে বের করতেও দু’বার ভাববো না আমি।”–ইউভান আর এক মুহূর্ত দেরি করলো না। রোজের কব্জিটা লোহার শিকলের মতো শক্ত করে ধরে সে টানতে টানতে জঙ্গলের কর্দমাক্ত পথ দিয়ে এগিয়ে চললো। ইউভানের পদক্ষেপের ভারে শুকনো লালচে পাতাগুলো খচখচ শব্দ করে উঠলো।
আশ্চর্যজনকভাবে, যেই স্নাইপাররা এতক্ষণ বারূদের বৃষ্টি ঝরাচ্ছিলো, তারা এখন নিথর মূর্তির মতো রাস্তার দুই পাশে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো। ইউভানের প্রতিটি কদমে তারা মাথা নিচু করে কুর্নিশ জানালো। এই দৃশ্য দেখে রোজের রক্ত হিম হয়ে গেলো।রোজ এক পলক সেই রক্তাক্ত স্নাইপারদের দিকে তাকালো, তারপর অন্য হাত দিয়ে ইউভানের চওড়া বুকে এলোপাথাড়ি কিলঘুষি মারতে শুরু করলো। রোজের কণ্ঠস্বর যন্ত্রণায় বুজে আসছিলো
—-”নাটকবাজ! কাপুরুষ! নিজের ক্ষমতা দেখানোর জন্য এই রক্তগঙ্গা বইয়ে দিলেন?”
ইউভান রোজের কিলঘুষিকে পাত্তা না দিয়ে এক পৈশাচিক হাসি হাসলো। তার চোখের মণি তখন নেশাতুর কোনো দানবের মতো জ্বলছে। সে রোজের কানের কাছে ফিসফিস করে বললো।
—-”কাপুরুষ? সুপুরুষ যে তার প্রমাণ চাই তোর? যা দেখছিস তা কেবল তোর প্রতি আমার অধিকারবোধের সামান্য নজরানা। তুই আমার, আর যা আমার, তার জন্য আমি পুরো পৃথিবীকে শ্মশান বানাতে পারি।”
রোজ যন্ত্রণায় নীল হয়েও মাথা নোয়ালো না। বিদ্রুপের সুরে হেসে উঠলো-
—-”হাহ! আমার মতো এক অযোগ্য নারীকে তবে আত্মরক্ষার কৌশল শেখাচ্ছিলেন? আপনি বোধহয় ভুলে যাচ্ছেন আমি আসলে কী চাই। যদি সত্যিই বীর পুরুষ হয়ে থাকেন, তবে আপনার এই বিষাক্ত গ্রাস থেকে বাঁচার কৌশলটাও শিখিয়ে দিন না!”
ইউভান রোজের চুলের মুঠি ধরে তার মুখটা নিজের খুব কাছে টেনে আনলো।
—-”আমার থেকে বাঁচতে হলে তোকে মরতে হবে সুইটহার্ট। তাছাড়া তোর জন্য এই পৃথিবীর আর কোনো অপশন আমি খোলা রাখিনি।”
রোজের নেত্রপল্লবে নোনা জলের বারুদ জ্বলছে।তবে স্বয়ং ইউভানের অক্ষীপলের দিকে তাকিয়ে কোনো কথাই বলে উঠেতে পারে না রোজ।কেন পারে না তার উত্তর হয়তো-বা তারও জানা নেই। রোজ সর্বশক্তি দিয়ে চেঁচিয়ে উঠলো-
—-”আপনি স্বামী হওয়ার যোগ্যই নন! পবিত্র সম্পর্ককে আপনি আপনার কুৎসিত লালসা দিয়ে কলঙ্কিত করেছেন। মনে রাখবেন, রোজ অপশন হিসেবে মৃত্যুকে বেছে নেবে, কিন্তু আপনাকে কোনোদিনও না!”
ইউভান ক্রোর হাসলো। রোজের ললাটে কপাল ঠেকিয়ে এক ভয়ার্ত শান্ত স্বরে ফিসফিসালো।
—-”পুনর্জন্ম বলে কিছু না-ও থাকতে পারে, তবে মৃত্যুর পরও আমি তোর পিছু নিবো। তোর আত্মাটাকে আমি পরকালেও শান্তিতে থাকতে দিবো না।”
রোজ থমকে দাঁড়িয়ে পড়লো। ইউভানের হাতের সেই লোহার শিকলের মতো বাঁধন থেকে নিজেকে ছাড়ানোর এক তীব্র চেষ্টা করে সে গর্জে উঠলো।মেইলি কন্ঠ স্বরের তিব্র আওয়াজে গাছের ডালে বসা পাখির ঝাঁকও উড়ে পালালো।
—-”জাহান্নামে যান আপনি! মরে যেতে পারেন না? স্রষ্টা কেন আপনাকে তুলে নেয় না? আপনি নিঃশেষ হয়ে গেলেই তো আমি এই ন*রক থেকে বেঁচে যাই!”
—–“মৃত্যু ভয় পায় না রিক।তবে আমি মরলে দু’দিনও টিকতে পারবি না তুই ধরনীতে।দুনিয়াটা আমার থেকে আরও নিকৃষ্ট নিষ্টুর তবে তোকে সেই নিষ্ঠুরতা উপলব্ধি করার সুযোগ দিতে চাই না আমি।”
ইউভান রোজের কথাতে গুরুত্বারোপ না করে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা স্নাইপারদের দিকে হাত উঁচিয়ে ইশারা করতেই তারা নিমেষের মধ্যে জায়গা ফাঁকা করে দিলো। ইউভান রোজকে হিড়হিড় করে টেনে এনে রেড ওয়াইন রঙা গাড়িতে। এক ঝটকায় পেছনের সিটের দরজা খুলে রোজকে ভেতরে সজোরে আছাড় মেরে ফেলে দিলো। রোজের মাথা সিটের কোণায় লেগে ঝিমঝিম করে উঠলো।
ইউভান বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা তার অনুচরদের দিকে এক হিমশীতল দৃষ্টি ছুড়ে দিলো। তার কণ্ঠস্বর তখন কবরের স্তব্ধতার মতো শান্ত হলেও হাড়কাঁপানো।
—–”লিভ দিস প্লেস! গাড়ি থেকে কিছুক্ষণ পর শোরগোল আর স্বরবর্ণ উচ্চারিত হতে পারে, যা শোনার যোগ্যতা তোমাদের নেই। লিভ!”
ইউভানের আদেশে মুহূর্তের মধ্যে ছায়ার মতো মিলিয়ে গেলো তার দলবল।ইউভান গাড়ির ভিতর ঢুকেই ডোর লক করে দিলো।তিমিরে ঢাকা রাত।গাড়ির ভেতরে তখন নিবদ্ধ বাতাসের গুমোট উত্তাপ আর ইউভানের শরীরের সেই উগ্র পুরুষালী ঘ্রাণে রোজের নিঃশ্বাস প্রায় রুদ্ধ হয়ে আসছে। ইউভান এক পৈশাচিক আবেশে রোজের ওপর ঝুঁকে পড়লো, তার ধূসর চোখে তখন এক শিকারি তৃষ্ণা। রোজ পিছিয়ে যাওয়ার বৃথা চেষ্টা করতেই ইউভান তার মসৃণ ফর্সা পা দুটো হেঁচকা টানে নিজের দিকে টেনে আনলো।
রোজের সর্বাঙ্গ শিউরে উঠলো।আত্মরক্ষার তাগিদে গাড়ির সিটটা প্রাণপণ মুষ্টিবদ্ধ করে ধরলো রমণী। কিন্তু ইউভান এক নিমেষেই রোজের হাতটা গাড়ির ডোর গ্লাসে সজোরে চেপে ধরে ফেলে। কাঁচের ওপারে অন্ধকারের নিস্তব্ধতা আর ভেতরে ইউভানের এক চিলতে ক্রূর হাসি,মুহূর্তটা তামাটে ভয়ানক।
—–”ভীষণ ভয় করছে??কাছে এলে এতো তেজ কই যায় তোর?কাঁপাকাঁপি শুরু করে দিস। চোখে চোখ রেখে দুটো কথা বলতে দশবার ভাবিস আবার গলা বাজিও করিস।রিক আলবার্ট কি এমন ওয়াইফি ডিজার্ভ করে??”
রোজের অঁধর তিরতির করে কাঁপছে, কথা বলার শক্তিটুকুও যেন লোপ পেয়েছে। এই বুঝি ইউভান তার আদিম ক্ষুধায় ঝাঁপিয়ে পড়বে তার ওপর। ইউভানের মতো পুরুষ কি তার অসুস্থতার কথা একটুও ভাবে কখনোই না।ঠিক তখনই ইউভান অতি ক্ষিপ্রতায় রোজের উদরাঞ্চলের শাড়ির ভাঁজটা সরিয়ে দিলো। রোজের সেই শুভ্র ত্বকের এক কোণে জেগে আছে কাঁচা লাল রঙের সেই ক্ষত যেখানে ইউভান ক্ষত করে দিয়েছিলো তার নামের আদ্যক্ষর, ‘U.V’।
ইউভান এক মুহূর্ত ঘোরলাগা দৃষ্টিতে অপলক তাকিয়ে রইলো নিজের করা সেই নিষ্ঠুর শিল্পের দিকে। তারপর ধীরলয়ে ঝুঁকে পড়ে সেই ক্ষতচিহ্নের ওপর নিজের ঠোঁট চেপে ধরলো। একের পর এক উগ্র চুম্বনে রোজের উদরাংশ ভিজে চ্যাটচ্যাট করে দিলো।দেহের ভিতরের জ্বলা যন্ত্রণায় রোজের শরীরটা ধুনুকের মতো বেঁকে গেলো।ইউভান মুখ তুলে রোজের ঘর্মাক্ত ললাটের দিকে তাকিয়ে তৃপ্তির স্বরে বললো।
——” আমার দেওয়া এই ক্ষতচিহ্নগুলোই সাক্ষী তুই কার!”
রোজের শ্বাস তখন গলায় আটকে যাচ্ছে। মুখাবয়বের ওপর লেপ্টে থাকা দুটো অবাধ্য চুল থেকে ঘাম বেয়ে নেমে যাচ্ছে তার শুভ্র গলদেশে। অসহ্য যন্ত্রণায় চোখ বুজে দাঁতে দাঁত চেপে কোনোমতে বলে উঠলো।
—–“আপনি… আপনি শুধু এই পাশবিক জোরই খাটাতে পারবেন। এর বাইরে আপনার আর কোনো ক্ষমতা নেই।”
ইউভানের রোজকে এমনভাবে সিটের সাথে চেপে ধরেছে যে রোজের হাড়গোড় বুঝি এখনই মটমট করে ভেঙে যাবে। ইউভানের দৃষ্টি তখন কামনার চরম সীমায় পৌঁছে রোজের ব’ক্ষপিঞ্জরের বিভাজিকার ওপর স্থির হয়ে রইলো।
রোজ কুঁকড়ে গিয়ে নিজের দু-হাত দিয়ে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করলো। কিন্তু ইউভান এক ঝটকায় তার হাত দুটো মাথার ওপরে লক করে দিলো।ইউভান পৈশাচিক শান্ত স্বরে সে রোজের কানের একদম কাছে গিয়ে ফিসফিসালো
—–“তোর মনটা বড্ড ছোট রোজ, ঠিক তোর ওই সংকীর্ণ ভাবনার মতো।আফ্টার অল তোর এই ক্ষুদ্র মনে আমাকে জায়গা না দিলেও আমার কিছু যায় আসে না…”
রোজের বুক দ্রুত ওঠা-নামা করতে লাগলো যেনো খাঁচায় বন্দি কোনো আহত পাখি ছটফট করছে।ইউভান সেদিকে ইঙ্গিত করে অত্যন্ত গাঢ় স্বরে যোগ করলো।
—–“বাই দ্য ওয়ে, আমার হাত দুটো কিন্তু যথেষ্ট বড় সুইটহার্ট ইউ নো তোর মনকে মুঠোর ভেতরে বন্দি করে নেওয়ার মতো সামর্থ্য আমার আছে।”
ইউভানের সেই তপ্ত নিঃশ্বাস আর আঙুলের ডগা যখন রোজের নরম ত্বকের ওপর দিয়ে ধীরে ধীরে নিচে নামতে শুরু করলো।রোজ নিজেকে সংযত করে ঘৃণা মিশ্রিত স্বরে বললো।
—-“আপনি… আপনি একটা নরপিশাচ!একটু ভালো হওয়ার চেষ্টা তো করতে পারেন!আর কতোদিন এমন বেজন্মা থাকবেন??”
রোজ বাক্যেউক্তি শেষ করার ইতিপূর্বে ইউভান চট করে লাফ মেরে ড্রাইভিং সিটে বসে পড়লো।আচমকা এমন ঘটনায় রোজ কিছু বুঝতে পারলো না।ইউভান যেমন তার থেকে তার একেকটা কাজ কর্ম অস্বাভাবিক।ইউভানের চরিত্রের এই বৈপরীত্যই রোজকে সবচেয়ে বেশি অস্থির করে তোলে। রোজ যখনি মনে করে সে ইউভানের কৌশলের নাগাল পেয়েছে, তখনই ইউভান এমন কিছু করে বসে যা রোজের ধরাছোঁয়ার বাইরে। ইউভান যেন সেই দুর্ভেদ্য মহীরুহ, যার ডালে ডালে সে বিচরণ করে, আর রোজ সেই গাছের পাতায় পাতায় হাঁটার এক বৃথা চেষ্টা চালিয়ে যায়। তবে ইউভান তার প্রতিটি কাজ দিয়ে নিষ্ঠুরভাবে বুঝিয়ে দেয়।
”গাছের ডালে চড়া সম্ভব হলেও, ভঙ্গুর পাতায় ভর দিয়ে কোনোদিনও হাঁটা সম্ভব নয়,ঠিক যেমন ইউভানের গোলকধাঁধায় রোজের জয়ী হওয়া অসম্ভব।সেই শুরু থেকে ইউভান রোজকে নিজের শিকড় দিয়ে আঁকড়ে ধরে রেখেছে।”
ইউভান স্টিয়ারিং হুইলে তার’ হাত দুটো রাখলো। তার দৃষ্টি এখন সামনের ওই কুয়াশাচ্ছন্ন ধূসর রাস্তার দিকে। আয়নায় রোজের বিধ্বস্ত প্রতিচ্ছবির দিকে তাকিয়ে সে এক বিচিত্র নির্লিপ্ত গলায় বললো।সেই বাক্যেধ্বনি রোজের কান অব্দি পৌঁছালো না।
“—গ্রিন শাড়িতে যেদিন প্রথম দেখেছিলাম,সেদিন পরিস্থিতি ছিলো আলাদা।সবুজ শাড়িতে তুই ছিলি আমার জীবনের প্রথম দেখা কোন এক সজীব অরণ্য।আর আজ এক অন্যরকম মোহ।সেদিন তোর সেই প্রস্ফুটিত অবয়বের পিছন দিকটা দেখে ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করতে পারিনি যে, সম্মুখপানে তুই এতটা লাস্যময়ী, এতটা অপরূপা হতে পারিস!”
ইউভান আয়নার ভেতর দিয়েই রোজের হানি ব্রাউন নেত্রপল্লবের দিকে নিজের শিকারি দৃষ্টি নিবদ্ধ করলো। তার চোখে তখন কামনার চেয়েও বেশি এক আদিম উপাসনার ছাপ।হালজা নিচু স্বরে আরও যোগ করলো।
—-”কিন্তু আজ… এই গাঢ় কালো শাড়িতে তুই আমার ভাবনার সমস্ত সীমানা চুরমার করে দিয়েছিস। তুই কি জানিস কালো রঙ তোকে কতটা প্রলয়ংকরী করে তুলেছে? তুই আজ আমার কল্পনার চাইতেও ঢের বেশি বিউটিফুল রোজ। আই সুয়্যার! ইউ আর ফা’কিং বিউটিফুল! মনে হচ্ছে যেন কোনো এক অভিশপ্ত রাতে পূর্ণিমার চাঁদ আজ এই অন্ধকার গাড়িতে এসে বসে আছে।ড্যাম বিউটিফুল। Trust me my eyes only see you!i only thirsty for you!”
গাড়ির ভেতরের স্তব্ধতা ভেঙে ইউভানের সেই সম্মোহনী বিড়বিড়ানি রোজের কানে বিষের মতো ঢুকলো। সে একবার আড়চোখে ইউভানের সেই জ্বলন্ত দৃষ্টির দিকে তাকিয়েই থতমত খেয়ে গেলো। পরক্ষণেই দৃষ্টি সরিয়ে গাড়ির জানালার কাঁচের ওপারে দ্রুত ধাবমান সরু রাস্তার দিকে স্থির করলো। রোজের গলার স্বরে তখন এক অদ্ভুত কাঁপন, অথচ তাতে মেশানো প্রবল আপত্তি।
—–“নিজের দৃষ্টি সংযত করুন। ওভাবে তাকাবেন না একদম! এভাবে অসভ্যের মতো তাকিয়ে থাকা কে শিখিয়েছে আপনাকে?আপনার কি জাত অসভ্য ছিলো??”
ইউভান স্টিয়ারিংয়ে এক হাত রেখে অন্য হাত দিয়ে নিজের ঠোঁট ছুঁয়ে এক কুটিল হাসি হাসল। আয়নায় রোজের বিচলিত মুখচ্ছবি দেখে সে নিচু স্বরে পালটা প্রশ্ন ছুড়ল।
——“কেন? ভয় হয়?”
—“কিসের ভয়?”
— “ফল ইন লাভ-এর? আমার এই দৃষ্টিতে পুড়ে ছারখার হওয়ার ভয়?”
–“আপনি কি অসুস্থ!নেশার প্রভাব এখনো যায় নি না????”
–“ভাগ্যিস, ভালোবাসায় বিশ্বাসী নই আমি। না হলে এতক্ষণে ফলস্বরূপ বুকের বাম দিকটায় এক ভয়াবহ জ্বলন শুরু হয়ে যেত।”
রোজ এবার সত্যিই স্তব্ধ হয়ে গেল। সে চলন্ত গাড়ির ভেতর শরীরের সমস্ত শক্তি সঞ্চয় করে ইউভানের দিকে সোজা হয়ে বসলো। তার চোখে তখন এক বিরাট জিজ্ঞাসা
“—কে আপনি??”
—“ইংলিশ মুভির ভিলেন,সিরিয়াল কিলার,ভিনদেশী।”-ইউভান হাসলো।
–“হাসবেন না!একদম হাসবেন না।”
ইউভান তার কুটিল হাসি থামালো না। তার আচরণের সেই চিরাচরিত রুক্ষতা নিয়ে এক মুহূর্ত দেরি করলো না। রোজের দ্বিধাগ্রস্ত হওয়ার সুযোগ না দিয়েই ইউভান গাড়ির দরজা খুলে হ্যাঁচকা টানে রোজকে বাইরে বের করে আনলো। রোজের পাঁ মাটিতে ছোঁয়ার আগেই ইউভান তাকে পাঁজাকোলে করে কোলে তুলে নিলো। রোজের শরীর পাথরের মতো শক্ত হয়ে গেল, সে ছটফট করে নামার চেষ্টা করতেই ইউভান তার বাহুবন্ধন আরও শক্ত করলো।”
ইউভান রোজকে কোলে নিয়েই ফার্মহাউসের ভেতরে ঢুকে পড়লো। ইউভানের পকেটে থাকা ফোনটা অবিরাম নোটিফিকেশনের শব্দ বাজতে লাগলো। ইউভান রোজকে সোফার ওপর ছুঁড়ে ফেলার মতো করে নামিয়ে দিয়ে পকেট থেকে ফোনটা বের করলো। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়েই তার চোয়াল শক্ত হয়ে গেলো। দ্রুত হাতে ইয়ারপিসটা কানে গুঁজে দিয়ে কানেক্ট করে নিলো।
ইউভান রোজের চোখের দিকে এক জোরালো ধমকের স্বরে তাকিয়ে আদেশ দিলো।
“এক পাঁ বাইরে বের করবি না।বের করলে তার পরিণাম ভাবার শক্তিও তোর নেই।”
ইউভান দ্রুত পায়ে বেরিয়ে যেতে যেতে ইয়ারপিসে কারোর সাথে সংযোগ স্থাপন করলো। তার গলার স্বর তখন বারুদের মতো তপ্ত। ওয়াকিটকিতে দামিয়ানের উদ্দেশ্যে গম্ভীর কণ্ঠে বললো যেনো ফার্ম হাউজেই থাকে।এদিকে তুষারও পাকিস্তান। তুষার আসবে কাল সূর্যাস্তের পর।তবে তার আগে ইউভান তুষারকে অনড় হাতে আঙুল ঘুরিয়ে টেক্সট পাঠালো।তুষার রাতে কম ঘুমায়।ঘুমায় না বললেই চলে।তবে নেটওয়ার্কের কারণে তুষারের কাছে বার্তাটাও ঠিক মতো পৌঁছালো না।রোজ বললো।
“কোথায় যাচ্ছেন এতো রাতে??”
তবে ইউভান কোনো উত্তর প্রদান না করে এক সেকেন্ড সময় নষ্ট করলো না। রোজ কিছু বুঝে ওঠার আগেই দেখলো ইউভান ঝড়ের গতিতে গাড়িতে গিয়ে বসল। ইঞ্জিনের এক বিকট গর্জন তুলে গাড়িটা ধুলো উড়িয়ে ফার্মহাউসের সীমানা ছাড়িয়ে বেরিয়ে গেলো।
পুরো ফার্মহাউস যেনো এক অতল গহ্বর, ঘুটঘুটে অন্ধকারে নিমজ্জিত। বাইরের ঝোড়ো বাতাসের আর্তনাদ ছাড়া আর কোনো প্রাণের স্পন্দন নেই। রোজ সোফায় জড়সড় হয়ে বসে রইলো, বিষণ্ণতা আর যন্ত্রণার এক অসহ্য ভার তার বুকে চেপে বসেছে। হঠাৎ করেই মাথার ভেতরটা সহস্র কামারের হাতুড়ির মতো পিটতে শুরু করলো, সাথে পেটের হঠাৎ শুরু হলো তীব্র যন্ত্রণাটা মোচড় দিয়ে উঠলো মেয়েটার।
ঘণ্টাখানেক পর, অসহ্য যন্ত্রণাকে সঙ্গী করে রোজ টলমল পায়ে উত্তরের করিডোর বেয়ে রাহার রুমের দিকে এগিয়ে গেলো। সে ক্ষীণ স্বরে দুই-একবার হায়াকে ডাকলো, কিন্তু কোনো উত্তর এলো না। রাতটা আরও বাড়তে লাগলো।
অবশেষে রোজ রাহার রুমে টোকা দিলো। ভেতরে ড্রিম লাইটের টিমটিমে নীল আলো জ্বলছে।ডোর লক নেই আর তা সজোরে খুলে যেতেই রোজ দেখলো হায়া অঘোরে ঘুমাচ্ছে,রাহা সেখানে নেই। রোজ কোনোমতে বিছানার কিনারায় গিয়ে হায়াকে নাড়া দিলো।
—–“আপি… আপি একটু শোনো। তোমার কাছে কি কোনো পেইনকিলার হবে?”
হায়া ঘুমের আচ্ছন্নতা কাটিয়ে ধড়ফড় করে উঠে বসলো। চোখের পাতা কচলাতে কচলাতে রোজের বিধ্বস্ত মুখাবয়ব দেখে সে আঁতকে উঠলো।
—-“রোজ! এত রাতে তুমি এই রুমে? হুয়াট হেপেন্ড?এই অবস্থা কেন তোমার।মুখটা এতো শুকনো লাগছে যে?”
হায়া বিছানা থেকে নেমে রোজকে নিজের পাশে বসিয়ে দিলো। হাতটা রোজের কপালে ছোঁয়াতেই হায়া শিউরে উঠলো। রোজের শরীর যেনো আগ্নেয়গিরির তপ্ত লাভার মতো পুড়ে যাচ্ছে। মুহূর্তেই রোজের শরীরটা এলিয়ে পড়ল হায়ার কাঁধে, তার চেতনা যেনো ঝাপসা হয়ে আসছে। হায়া দ্রুত থার্মোমিটার বের করে মেপে দেখলো।
—-“হায় আল্লাহ! তোমার তো একশ তিন ডিগ্রি জ্বর!” গায়ের চামড়া তো পুড়ে যাচ্ছে। রিক ভাইয়া নিশ্চয়ই বাসায় নেই, তাই না? আমি তো মিস্টার দামিয়ানকেও রাতে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে যেতে দেখেছিলাম।”
হায়া তড়িঘড়ি করে ড্রয়ার থেকে একটা পেইনকিলার বের করে রোজকে দিলো।অতঃপর এক বাটি জল আর তোয়ালে নিয়ে রোজের কপালে জলপট্টি দিতে শুরু করলো। রোজ জ্বরের ঘোরে বিড়বিড় করছে, তার ঠোঁট দুটো ফ্যাকাশে হয়ে গেছে।রোজ জ্বরের ঘোরে ইউভানের নাম জপতে লাগলো।
ফার্মহাউসের নিস্তব্ধতা চিরে হঠাৎ এক বিকট যান্ত্রিক গর্জন শোনা গেলো।গাড়ি থেকে নামল তুষার। পাকিস্তান থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে এসেছে ভোরে আসার কথা হলেও তুষার রাতেই চলে এসেছে। ভোরের আলো এখনো ফোটেনি, এখনো রাতের শেষ প্রহর বহমান
ফার্মহাউসে পা রাখতেই তুষারের কেনো জানি অদ্ভুত লাগলো।হাতের দামী রিস্টওয়াচটা খুলতে খুলতে সিঁড়ি বেয়ে নিজের রুমে দিকে পা বাড়ালো।
পার্সোনাল ফোনের ব্যাটারি লো হয়ে অনেক আগেই বন্ধ হয়ে আছে, একেবারেই ডেড।
তুষার নিজের রুমে ঢুকে আবছা অন্ধকারে রিভলভার আর দামী পারফিউমের বোতলের পাশে ঘড়িটা রাখলো। ক্লান্ত শরীরে ফ্রেশ হওয়ার জন্য ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়াতে যাবে, ঠিক তখনই তার দৃষ্টি স্থির হলো কালো মখমলে বেডের দিকে।
হাড়হিম করা এক বিস্ময় নিয়ে তাইওয়ান দেখলো, বিছানার ওপর কেউ শুয়ে আছে। রাহা!সোনালী কেশের রমণীর পড়নে শর্ট হ’ট প্যান্ট আর টপ। অত্যন্ত আয়েশি ভঙ্গিতে বিছানায় শুয়ে জানালার ওপর পা তুলে শুয়ে আছে। মেয়েটা বড্ড ছন্নছাড়া।নেশা করার অভ্যাস তো আছেই।তর্জুনি মধ্যা আঙুলের ফাঁকে জ্বলন্ত নিকোটিনে ধোঁয়া উড়াতে লাগলো।তাইওয়ান নেই বলেই রাহা এখানে এসেছে তবে কে জানতো যে সে আজ রাতেই চলে আসবে।
তুষার নিঃশব্দে বিছানার পাশে এসে দাঁড়ালো।বুঝতে পারলো জানালার উপর রাখা অর্ধনগ্ন শুভ্র পাঁ গুলো আর কারোর না রাহার।অবশ্য রাহা ছাড়া তাইওয়ানের রুমে আর কোন রমণী বা আসবে।তুষারের লম্বাটে পুরুষালীর ছায়া রাহাকে স্পর্শ করতেই মেয়েটা ধড়ফড় করে উঠে বসলো। তুষারকে এই অসময়ে তাও এতো রাতে সামনে দেখে রাহার হাত থেকে সিগারেটটা প্রায় পড়ে যাচ্ছিলো। সোয়া থেকে উঠেই তড়িঘড়ি করে জানলা দিয়ে সিগারেটটা বাইরে ফেলে দিয়ে বেড ছেড়ে লাফিয়ে দাঁড়িয়ে পড়লো।
[রাশিয়া, ভোলচর]
রাতের অমাবস্যা আকাশ চিরে এক দানবীয় গর্জন ধেয়ে আসছে। রাশিয়ার বরফশীতল বাতাসের বুকে ডানা ঝাপটে ইউভানের ব্যক্তিগত হেলিকপ্টারটা ভলচোর শ্বেতশুভ্র প্রান্তরে ল্যান্ড করলো, চারপাশ যেনো কোনো এক আসন্ন প্রলয়ের ভয়ে থমকে গেলো। প্রপেলারের ঝোড়ো বাতাসে বরফ আর ধুলো উড়তে লাগলো। হেলিকপ্টার থেকে ইউভান নিচে নামলো এক লাফে,অগ্নি ধূসর অক্ষীপলে যেনো জ্বলন্ত অঙ্গার।প্রলয়ংকরী ক্রোধ।
ভেজা ঘাসে আছড়ে পড়লো একজন গুপ্তচর। পালানোর শেষ চেষ্টা করলো। কিন্তু ইউভান এক নিমিষেই চিতার ক্ষিপ্রতায় স্পাইয়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লো। কোনো রিভলভার নয়, কোনো ধারালো ছুরি না ইউভান নিজের ভারী বুট জুতোর গুপ্তচরের বুকের ওপর চেপে ধরলো। হাড় মড়মড় করার শব্দটা বনের নিস্তব্ধতায় প্রতিধ্বনিত হলো।
ইউভান পৈশাচিক উন্মাদনায় লোকটার গলদেশে হাঁটু চেপে ধরলো। ইউভানের পড়নে থাকা চামড়ার গ্লাভসগুলো রক্তে ভিজে উঠলো। একের পর এক থাপ্পড় আর ঘুষি বর্ষণ করতে লাগলো স্পাইয়ের মুখে। প্রতিটা আঘাতে সেই স্পাইয়ের দাঁত ভেঙে ছিটকে পড়তে লাগলো ভেজা মাটিতে, গাল ফেটে র*ক্তের ফোয়ারা ছুটছে। ইউভানের চোখে দয়ার ল্যাস মাত্র তো নেই আছপ শুরু প্রলয়ংকারী ধ্বংসলীলা। হাত দুটো এক একটা লোহার হাতুড়ির মতো কাজ করছে। স্পাইয়ের গোঙানি শব্দ মিলিয়ে শুধু শোনা যাচ্ছে মাং/সের ওপর হাড়ের আঘাতের কর্কশ শব্দ। ইউভান যখন স্পাইকে ছাড়লো, তখন তার মুখাবয়ব চেনার কোনো উপায় অবশিষ্ট নেই।এতোটাই ক্ষত করে ছেড়েছে ইউভান।
নিজের রক্তমাখা হাত দুটো পকেট থেকে রুমাল বের করে মুছতে মুছতে ইউভান রয়্যাল বিল্ডিংয়ের ভেতর প্রবেশ করলো। দীর্ঘ করিডর পেরিয়ে লিফট করে যখন মাস্টারের গোপন কক্ষের দরজায় এসে দাঁড়ালো, তখন চারপাশ এক অদ্ভুত অন্ধকারে ঘেরা।
বিশাল এক কাঠের টেবিলের ওপর একটা হলুদ বাতি টিমটিম করে জ্বলছে, টেবিলের ওপাশে একটা রাজকীয় চেয়ারে বসা এক পুরুষালী অবয়ব। কক্ষের আবছা আলোয় পুরুষটার মুখ দেখা যাচ্ছে না, শুধু তার বাম হাতের অনামিকা আঙুলে জ্বলজ্বল করছে একটা নীল পাথরের আংটি।
টেবিলের ওপর বিছানো দাবার ছক। সেই আংটি পড়া আঙুল দিয়ে পুরুষটা অত্যন্ত ধীরলয়ে একটা দাবার ঘুটি চাল দিলো–কিস্তি!’
ইউভান ভারী কদমে এগিয়ে আসতেই সেই পুরুষালী অবয়বটি নড়েচড়ে বসলো। কালো ওভার কোটটা টেনেটুনে নিচু হয়ে আসতেই হলদেটে আলোয় তার শ্যামলা মুখাব্য়ব স্পষ্ট হয়ে উঠলো।সেই কালজয়ী গম্ভীর শান্ত চেহারা। অত্যন্ত ধীর আর গভীর স্বরে বলে উঠলো
”ওয়েলকাম! ওয়েলকাম!সৌম্যন্ধীর ব্যাটা।”
ইউভান রক্তমাখা গ্লাভসটা হাত থেকে টেনে খুলে সে দাবার ছকের ওপর ছুঁড়ে মারলো।মুখ ভর্তি থুঃথুঃ ছুৃঁড়ে মেঝেতে ফেললো। “—শুয়োরের বাচ্চা!
চলবে??!
কে হতে পারে??🌚❤️🔥চুপিচুপি পড়া বাদ দিয়ে রিয়েক্ট দিয়ে যাবেন।তাহলেই তাড়াতাড়ি দিয়ে দিবো।
Share On:
TAGS: Love or hate, ইভেলিনা তূর্জ
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
Love or hate পর্ব ৮
-
Love or hate গল্পের লিংক
-
love or hate পর্ব ১
-
Love or Hate পর্ব ৩১
-
Love or Hate পর্ব ৩৩
-
Love or hate পর্ব ১২
-
Love or hate পর্ব ১১
-
Love or hate পর্ব ২
-
Love or hate পর্ব ১৭
-
Love or Hate পর্ব ৩২