কিসঅফবিট্রেয়াল
পর্ব_১৫
লামিয়ারহমানমেঘলা
[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ]
বসে থাকতে থাকতে কখন চোখ লেগে এসেছে সেরিন বুঝতে পারেনি।
বিকালের দিকে দোকানির স্ত্রী মনিরা বেগম এসে দরজায় টোকা দেয়।
“বউ ও বউ ঘুম থেইকা উঠলা নাকি?”
সেরিন শব্দ শুনে নড়েচড়ে উঠলেও ঘুম ভাঙে না তার। কায়ান অবশ্য শব্দ শুনে উঠে পড়ে ঘুম থেকে।
কায়ান বিছনায় বসে। সেরিনকে খাটের সাথে হেলান দিয়ে ঘুমাতে দেখে সে মৃদু হাসে।
সেরিনকে ডিসটার্ব না করে কায়ান দরজা খুলে দেয়।
“কি আন্টি? “
“বউ কই? ওরে নিয়ে বিলে যাইতাম। ওর দেখার শখ ছেলো আমাগো বিল খেত খামার৷”
কায়ান ফিরে চায় পেছনে।
এমন সময় তারা আর পাবেনা। ঘুমত বেচে থাকলে আসবে আর যাবে।
কায়ান মৃদু হেসে মনিরা বেগমকে বলে,
“আপনি জান আমি ওকে তুলে দিচ্ছি।”
“তুমিও চলো।’
” ও গেলে আমিও যাব৷”
মনিরা বেগম হাসলেন গাল ভরে,
“মাসআল্লাহ মাইয়াডা কপাল কইরা বর পাইছে লো।”
মনিরা বেগম এত সুন্দর একটা কমপ্লিমেন্ট দিয়ে চলে গেলেন।
মনিরা বেগমের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো কায়ান৷
কিছুক্ষণ পর সে সেরিনের পাশে এসে দাঁড়ায়,
“সেরিন। সেরিন৷”
আলতো করে সেরিনকে ধাক্কা দিতে সেরিন চোখ মেলে তাকায়।
“কি হয়েছে?”
“কিছু না৷ যেতে চাও বিল ঘুরতে?”
সেরিন সোজা হয়ে বসে। চোখে তার ঘুম। চোখ দু’টো তখনো লাল। কায়ান সেরিনের উত্তরের অপেক্ষায় আছে।
সেরিন ঘুম ঘুম চোখে ফিরে তাকিয়ে বলে,
“কোথায় যাবো?”.
” বিলে।”
“ও হ্যাঁ বলেছিলো আন্টি। ঠিক আছে চলুন৷”
সেরিন উঠে দাঁড়ায়। শুতি শাড়ি হলেও সেরিনের সামলাতে বেশ কষ্ট হচ্ছে।
কখনো কোমড় থেকে নেমে পিঠ দেখা যাচ্ছে আবার কখনো আচলটা একটু সরে যাচ্ছে।
তবে সেরিন সম্পূর্ণ চেষ্টা করছে সামলাতে।
সেরিনের খেয়ালই নেই যে সে ব্যতীত কায়ানও ঘরে উপস্থিত।
সেরিন পিঠ থেকে নেমে যাওয়া আচলটা ঠিক করতে থাকে।
ওদিকে কায়ান সে দৃশ্য দেখে থ মেরে দাঁড়িয়ে আছে। চোখ দু’টো চাইলেও সরাতে পারছে না সে।
কিছুক্ষণ পর সেরিন আঁচল ঠিক করে ফিরে তাকায়। কায়ানকে দেখে সেরিন থতমত খেয়ে যায়৷
কায়ান ঘোরলাগা দৃষ্টিতে তার দিকেই তাকিয়ে আছে।
সেরিন কিছু বলবে তার আগেই কায়ান বেরিয়ে যায় রুম থেকে।
সেরিন বুঝতে পেরে কিছুটা লজ্জা পায়।
বিকাল বেলায় বসন্তের বিল যেন এক অপূর্ব সৌন্দর্যের আসর বসায়। চারদিকে সবুজ ঘাস আর নতুন পাতার গন্ধে বাতাস ভরে থাকে। মৃদু হাওয়ায় বিলের পানি আলতো ঢেউ তুলে রোদের আলোকে ঝিলমিল করে তোলে। দূরে সাদা বক আর নানান পাখি জলের ধারে দাঁড়িয়ে থাকে, মাঝে মাঝে ডানা মেলে আকাশে উড়ে যায়।
বিলের চারপাশে কচি গাছপালা বসন্তের রঙে সেজে ওঠে। কোথাও কচি সবুজ, কোথাও আবার ফুলের রঙিন ছোঁয়া। বিকেলের নরম সোনালি রোদ পানির উপর পড়ে পুরো পরিবেশকে স্বপ্নের মতো সুন্দর করে তোলে।
মৃদু বাতাসে গাছের পাতা দুলে ওঠে, আর সেই দোলার সাথে যেন প্রকৃতি নিজের সুরে গান গায়। এমন বিকেলে বসন্তের বিল শান্ত, স্নিগ্ধ আর মায়াময় এক দৃশ্য হয়ে মানুষের মনকে অজান্তেই ভালো করে দেয়।
কায়ান এখানে এসে অবাক হয় চারিদিকে দেখে।
এখানে মনিরা বেগমের সাথে তার আরও কিছি আশেপাশের প্রতিবেশী আছে।
জঙ্গল পেরিয়ে এত সুন্দর ধানি জমি তা না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না।
বিলে এসেই অনেকে খোটা শাক তুলতে ব্যাস্ত হয়ে পড়ে।
সেরিন চারিদিকের অপূর্ব সৌন্দর্যের মাঝে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছে পুরোটা।
প্রকৃতি এমন এক জায়গা যাকে মানুষ একটু দিলেই হাজার গুন ফিরিয়ে দেয়। অথচ মানুষ ডেই প্রকৃতি ধ্বংস করতে ব্যস্ত আজকাল।
সেরিন এদিক ওদিক ঘুরছে।
কায়ান সেটা দেখছে মুগ্ধ নয়নে।
চোখের দেখায় তার তৃষ্ণা মেটেনা। সে জানে এভাবে দেখে তার ভেতরের তৃষ্ণা টা বড্ড বেড়ে যায়৷
কিন্তু তাও এই মুহুর্তে কিছুই করার নেই। এভাবেই তৃষ্ণা মেটাতে হবে তাকে।
সেরিন একটা ছাগলের বাচ্চার সাথে খেলছে। কায়ান ফোন বের করে বেশ কিছু ছবি তুলে নেয়।
এখানে তেমন নেটওয়ার্ক নেই। তবে বিলের মাঝে একটু আধটু নেটওয়ার্ক পায় কায়ান। এতেই ফোনে নোটিফিকেশন আসতে শুরু করে।
মেহেরীণ কল করেছে ১০০ বারের বেশি৷
কায়ান বিরক্ত হয়।
“জাস্ট ওয়েট মেহেরীণ চট্টগ্রাম ফিরে তোমাকে তোমার আসল জায়গা দেখাব আমি।’
কায়ান এসব বিরবির করছিলোই এমন সময় সেরিন দৌড়ে আসে কায়ানের কাছে।
” দেখুন এত্ত কিউট কিউট সব ঘাসফুল।”
সেরিন হাতে করে বেশ কিছু ঘাসফুল তুলে নিয়ে এসেছে। কায়ান তা দেখে মিষ্টি হাসে। সেখান থেকে একটা তুলে সেরিনের কানে পরিয়ে দেয়।
সেরিন মিষ্টি হাসে,
“ছবি তুলে দিন৷”
কায়ান ফোন বের করে। সেরিন পোস দেয়।
কায়ান মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে দেখে সেটা। মনে মনে ভাবে,
“ভাবতেই অবাক লাগছে, সৃষ্টিকার্তা আমার জন্য এত সুন্দর একটা মুহুর্তে তৈরি করে রেখেছে যেখানে এত সুন্দর প্রকৃতির সাথে আমার পাশে আছে আমার জীবনের একমাত্র শুখ সেরিন। তাও এমন একটা গ্রামে যেখানে সবাই তাকে আমার স্ত্রী বলে সম্বোধন করছে। ইচ্ছে করছে কোন অলৌকিক ক্ষমতার সাথে এই সময়টাকে থামিয়ে দেই। আর ওকে এভাবেই আমার বউ বানিয়ে রাখি বাকিটা জীবন। হোক সেটা কষ্টের। “
বিকালে বেশ সুন্দর সময় কাটায় ওরা।
আবার যখন মকবুল মিয়ার বাড়িতে ফিরে আসে ওরা তখন সন্ধ্যা প্রায়।
এই গ্রামে অনেক গাছ পালা। তবে মকবুল মিয়ার বাড়ির উঠানের মাঝে কিছুটা অংশ ফাকা।
উঠানে বসলে বেশ পরিষ্কার মেঘমুক্ত আকাশ দেখা যায়৷
মনিরা বেগম রাতের খাবার রান্না করছেন। সেরিন তাকে সাহায্য করছে।
মকবুল মিয়া এবং কায়ান উঠানে বসে বসে কথা বলছে। এ গ্রামে তেমন কারেন্টের ব্যবস্থা নেই।
আছে যা তাও দোকানে দোকানে। লোডশেডিং হয় ভীষণ। তাইত মকবুল মিয়া ফোন চার্জ দেওয়ার দোকান দিয়েছে। ওখানে ওনার একটা সোলার ব্যাটারি আছে।
এখনো লোডশেডিং হয়েছে। হারিকেনের আলোয় ওরা কাজ করছে।
উঠান থেকে রান্নাঘরটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। সেরিন পিড়েতে বসে কাজ করছে।
মকবুল মিয়া অনেক কথা বললেও কায়ানের দৃশ্য সেরিনের দিকে স্থির। সে ওই রমনছে আর হু হা তে জবাবা দিচ্ছে।
মকবুল মিয়া হটাৎ একটা অনাকাঙ্ক্ষিত প্রশ্ন করে বসলেন,
“আচ্ছা বাপ তোমাগো বিয়ে কয় দিনের?”
কায়ান প্রশ্ন টা শুনে ফিরে চায়, মকবুল মিয়ার দিকে। মকবুল মিয়া মিষ্টি হেসে তারই দিকে তাকিয়ে আছে। কায়ান দীর্ঘশ্বাস ফেলে,
“এই ২ মাস৷”
“ও ২ মাস। তা বাপ ছেলে মাইয়া নিবা না?”
কায়ান অবাক হয় কথাটা শুনে। বললত মাত্র ২ মাস।
তাও বাচ্চার প্রসঙ্গ। গ্রামের মানুষত৷
কায়ানকে চুপ দেখে মকবুল মিয়া ফের বলা শুরু করলেন,
“তোমারে দেখলে বোঝা যায় তোমার বয়স হইছে। বউমা বাচ্চা। হেইডাও বোঝা যায়৷ যদিও তুমি খুবই সুন্দর পোলা। চোখ সরানো যায় না। কিন্তু বেডি মানষের মন বলাও যায়না৷
তোমার চাচি মনিরা হেরেও বিয়া করছিলাম ১৪ বছর বয়সে। হের ১৪ আমার সেই ২৫।
ভারি জ্বালাত। তয় আমি হেরে ভালোবাসতাম।
ফের আমারে আমার এক বন্ধু কইলো মনিরা বয়সে ছোট। এহন না আটকাইলে পরে পাখি ফুড়ুৎ। পরে আমাগো প্রথম বাচ্চা হইলো মনিরার ১এ বছর বয়সে। মাইয়া মানুষ আর যাই হোক সন্তানরে ছাড়তে পারেনা। হাজার হোক নারী চেরা ধন।
তাই কচ্ছিলাম যে, বউমার রূপ আছে।
পারলে একটা বাচ্চা নিয়াই নেও। বাইধা ফেলবা এইভাবে।”
কায়ান অবাক তবে বুদ্ধি গুলো শুনে মনের ভেতরে থাকা শয়তান তা নাড়া দিয়ে উঠে। যদিও এসব অনৈতিক। কিন্তু প্রসঙ্গ যখন সেরিন তখন পৃথিবীর সকল ভুলকে সঠিক বানিয়ে দেবে কায়ান৷
এরপর বেশ কিছু কথাবার্তা চলল তাদের মাঝে।
কিছুক্ষণ পর মনিরা বেগম সবাইকে রাতের খাবার দিলেন৷
সময় তখন রাত ৯ টা।
গ্রামের বাড়িটা নিস্তব্ধ তখন।
আশেপাশে গুটি কয়েক পাখি পেঁচা আর ঝিঝি পোকার শব্দ বাদে আছে শুধু নিঃশ্বাসের শব্দ।
বিপত্তি ঘটল তখন যখন ওদের এক রুমে দেওয়া হলো।
দুপুরেত কোন মতে শুয়েছে। কিন্তু রাতেত ঠিকঠাক শুতে হবে।
রুমে একটাই কম্বল দেওয়া।
গ্রামের শীত যেতেও যায়নি। রাতে বেশ ঠান্ডা পড়ে।
সেরিন ভাবছে কি করবে।
এমন সময় কায়ান ভেতরে প্রবেশ করে। কায়ানকে দেখে সেরিন ফিরে চায়৷ সেরিনকে চিন্তিত দেখে কায়ান বলে,
“কি হয়েছে?”
“ইয়ে মানে ঘুমাব কিভাবে?”
“এটা কেমন প্রশ্ন অবশ্যই চোখ বন্ধ করে।”
সেরিন বিরক্ত হলো,
“একটাই খাট কম্বলও একটা৷”
কায়ান মৃদু হাসে। মনে মনে মকবুল মিয়াকে ধন্যবাদ দিচ্ছে কয়েকশো।
“আরে চিন্তা নেই শুয়ে পড়ো।”
সেরিন ইতস্তত বোধ করছে। কায়ান তা দেখে বলে,
“তুমি তাহলে ঘুমাও। আমি নিচে শুই৷”
“না না কাল সারাটা রাত আপনি ঘুমোন নি।”
“তাহলে কি করব?”
“শুয়ে পড়ো। দু’জন দু কোণায় তাহলেই হলো।”
সেরিন উপায় না পেয়ে এক কোণায় নিজেকে গুটিয়ে শুয়ে পড়ে। কায়ান তা দেখে কিছু বলেনা। সেও অন্য পাশে শুয়ে পড়ে।
চলবে?
[ এত ঘুম।নিয়েও শেষ করলাম। রেসপন্স না কডলে খবর আছে। গ্রামের পর্ব এখানেই শেষ হলো]
Share On:
TAGS: কিস অফ বিট্রেয়াল, লামিয়া রহমান মেঘলা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ১৭
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৪২
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৯
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ১০
-
জেন্টাল মন্সটার পর্ব ৬
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৪৩
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ২২
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩৬
-
জেন্টাল মনস্টার পর্ব ৩৩
-
কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ৭