Golpo romantic golpo মন বোঝে না

মন বোঝে না পর্ব ১


কু/কু/রের ধাওয়া খেয়ে নিজেকে বাঁচাতে হুশ জ্ঞান হারিয়ে প্রাণপণে দৌড় শুরু করেছিল সারাহ। নিজেকে বাঁচিয়ে নিলেও অন্য একজনকে ধাক্কা দিয়ে সোজা ময়লার ড্রেনে ফেলে দিয়েছে। স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে তার কিছুটা সময় লাগল এটা বুঝতে যে তার ধাক্কায় একজন ছেলে ড্রেনে পড়ে গেছে। আর সেই একজন ছেলে তারই ভার্সিটির সিনিয়র।
ছেলেটার বন্ধুরা হাঁ করে একবার ড্রেনের দিকে তাকাচ্ছে আরেকবার সারাহর দিকে তাকাচ্ছে। সারাহকে আতঙ্কিত দেখাচ্ছে, ভয়ের কারণে চোখমুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেছে। জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছে, আর থরথর করে কাঁপছে।

আশপাশ থেকে অনেকেই এগিয়ে এলো। ড্রেনের ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো একটা হাত, তারপর জেগে উঠল মাথা। কাদা ময়লায় মাখামাখি ছেলেটার পুরো শরীর। একজন তাকে টেনে তুলল ড্রেন থেকে। তাকে এমন অবস্থায় দেখে হায় হায় করে উঠল বাকি বন্ধুরা। সারাহ ভয়ার্ত দৃষ্টিতে এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখল কু/কুর চলে গেছে। মূলত এখানে মানুষ দেখেই সে এদিকে দৌড়ে এসেছিল বাঁচার জন্য। কু/কুর সে ভীষণ ভয় পায়, আর সেই কু/কুর তাকে ধাওয়া করেছিল।
সারাহ টু শব্দ না করে দ্রুত পায়ে সরে গেল এখান থেকে। ভয়ের চোটে সে সরিও বলল না।

*****

সারাহ ভার্সিটিতে এলো পুরো এক সপ্তাহ পর। এই এক সপ্তাহে সে এক মিনিটের জন্যও বাড়ির বাইরে বের হয়নি। ভয়ের চোটে তার জ্বর চলে এসেছিল সেদিন রাতেই। দুদিন জ্বরে ভুগে সুস্থ হয়েছে সে।
গেইটের ভেতর প্রবেশ করে চোরা চোখে চারদিকে নজর বুলাল। এখন তার ভয় লাগছে এটা ভেবেই যে সিনিয়ররা তাকে শাস্তি দিবে। এই সিনিয়ররাই তাকে ভার্সিটির প্রথমদিকে ডেকে নিয়ে র‍্যাগ দিয়েছিল। আজকে তাকে ধরতে পারলে নাজানি কী করবে! ভয়ে সারাহ-র গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে।

সবগুলো ক্লাস ভালোভাবেই শেষ করেছে সারাহ। যা নিয়ে সে ভয় পাচ্ছিল তেমন কিছুই হয়নি।
ভার্সিটি থেকে বেরিয়ে দ্রুত রিকশা ডেকে বাড়ির পথে রওনা হলো।

বাড়ির সামনে এসে রিকশা ভাড়া পরিশোধ করে গেইটে নক করতেই দারোয়ান দ্রুত খুলে দিলো গেইট। দীর্ঘশ্বাস ফেলে ভেতরে প্রবেশ করে এগোল দরজার দিকে। কলিং বেল চাপার কিছুক্ষণ পর কাজের মেয়েটা এসে দরজা খুলে দিলো।
সিঁড়ির দিকে এগোতেই সারাহর ছোটো ভাই ফাহিম দৌড়ে এলো তার কাছে। আপু আপু বলে ডাকতেই সারাহ কোলে তুলে নিলো ছোটো ভাইকে। আদর করতে করতে বলল,

“কী হয়েছে?”

“পড়া শেষ?”

“হুম।”

“আমারও পড়া শেষ।”

সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে উঠতে সারাহর দেখা হলো বড়ো ভাই ফারিশের সঙ্গে। তাকে দেখেই মাথা নিচু করে একপাশে দাঁড়াল সারাহ। ফারিশ গম্ভীর মুখে সারাহর দিকে একবার তাকিয়ে ধীর পায়ে নিচে চলে গেল। পেছন থেকে ফারিশের দিকে তাকিয়ে পুনরায় উপরে উঠতে শুরু করল সারাহ। বড়ো ভাইকে দেখলে কেন যেন তার ভয় ভয় লাগে।

*****

সিনিয়রকে ধাক্কা দিয়ে ড্রেনে ফেলার পনেরো তম দিন আজ। রিকশা থেকে নেমে গেইটের দিকে পা বাড়াতেই সারাহর কানে ভেসে এলো একটা ডাক।

“এ্যাই মেয়ে, এদিকে এসো।”

সারাহ এদিক সেদিক তাকাল। দেখল একজন ছেলে তার দিকে এগিয়ে আসছে। তাকেই ডাকছে নাকি অন্য কাউকে? সারাহ মুখ ফিরিয়ে পুনরায় গেইটের দিকে পা বাড়াতেই ছেলেটা আবার ডেকে উঠল।

“এ্যাই মেয়ে, ডাকছি না? এদিকে এসো।”

সারাহ পুনরায় ছেলেটার দিকে তাকিয়ে নিজেকে দেখিয়ে বলল,

“আমি?”

“হ্যাঁ। তুমিই।”

সারাহর বুকের ভেতর ধুকপুক করতে শুরু করল। তাকে ডাকছে কেন? এই ছেলেটাই বা কে?
ছেলেটা কাছে এগিয়ে এসে বলল,

“চলো আমার সঙ্গে।”

সারাহ মিনমিন করে বলল,

“কোথায় যাব, ভাইয়া?”

“গেলেই জানতে পারবে, এখন চলো।”

সারাহ যেতে চাইল না, ছেলেটাও তাকে ছাড়ল না। ছেলেটার পাশে আরো দুজন ছেলে এসে যোগ দিয়েছে। বাধ্য হয়েই তিনজনের সঙ্গে পা বাড়াল আল্লাহ আল্লাহ ডাকতে ডাকতে।
তিনজনের সঙ্গে আসতে আসতে সারাহর নজরে এলো সিনিয়রদের। তিনজন তাকে নিয়ে সিনিয়রদের দিকেই এগোচ্ছে। সারাহর ভয় বেড়ে গেল, ইয়া নাফসি ইয়া নাফসি করতে করতে এসে দাঁড়াল সিনিয়রদের সামনে। সারাহ তিরতির করে ঘামছে, থরথর করে কাঁপতে শুরু করেছে হাত-পা। সিনিয়রদের মধ্য থেকে একজন বলল,

“আবরার, সেদিন এই মেয়েই তোকে ড্রেনে ফেলে দিয়েছিল।”

আবরার গম্ভীর অথচ শীতল দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সারাহর মুখের দিকে। সারাহ আবরারের মুখের দিকে তাকাল। আবরারের চোখমুখ শুকিয়ে গেছে আগের চেয়ে। সারাহ র‍্যাগিং-এর শিকার হওয়ার পরও বেশ কয়েকবার দেখেছে আবরারকে। সেদিন কাদা ময়লা লেগে থাকায় চিনে উঠতে পারেনি। কম্পিত স্বরে বলল,

“স স সরি, ভাইয়া।”

পাশ থেকে একজন বলল,

“সরি দিয়ে কী হবে? তোমার জন্য আমাদের বড়ো ভাইকে কত কষ্ট পেতে হয়েছে জানো?”

সারাহ তাকাল ছেলেটার দিকে। সারাহর চোখে পানি টলমল করছে। সে কী ইচ্ছে করে ফেলেছিল নাকি? আবরারের বন্ধু জুনায়েদ বলল,

“তোমার জন্য আবরারকে তিনদিন হাসপাতালে থাকতে হয়েছে। দশদিন ঠিকভাবে হাঁটতে পারেনি। পিঠে কালো হয়ে গেছে ড্রেনের সঙ্গে বাড়ি লেগে, ও ঠিকভাবে শুতেও পারে না।”

“আ আমি ইচ্ছে করে ফেলেনি, ভাইয়া।”

বন্ধুদের মধ্য থেকে সবচেয়ে চঞ্চল প্রকৃতির মৃন্ময় বলল,

“তাহলে কিচ্ছে করে ফেলেছিলেন, আআআপায়ায়ায়া? ওহ সরি, কীসের জন্য ফেলেছিলেন আপা?”

“ভু ভু ভুল করে ধাক্কা লেগে গিয়েছিল।”

“ভু ভু ভু ভুল করে অন্য কাউকে কেন ধা ধাক্কা দিয়ে ফেললেন না? আমার বন্ধুকেই কেন ধা ধাক্কা দিয়ে গুয়ের ড্রেনে ফেললেন?”

আবরার রেগে বলল,

“চুপ করবি?”

“কেন চুপ করব? তোকে গুয়ের ড্রেনে ফেলে গু খাইয়ে দিলো আর আমি কিচ্ছু বলব না?”

আবরার দাঁতে দাঁত চেপে বলল,

“ওটা গুয়ের ড্রেন না, ময়লার ড্রেন।”

“ওটাতে গু আর ময়লা দুটোই আছে।”

“তুই চুপ করবি কী?”

“চুপ করতে বলছিস কেন? তোর হয়েই তো কথা বলছি।”

আবরার সারাহর দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বলল,

“ওভাবে ধাক্কা দিয়েছিলে কেন?”

আবরারের শান্ত গলার স্বর শুনে মনে একটু সাহস পেল সারাহ। জড়তা কাটিয়ে দ্রুত কন্ঠে বলল,

“ভাইয়া, আমি ইচ্ছে করে ফেলিনি আপনাকে। কুকুর ধাওয়া দিয়েছিল আমাকে, তাই দৌড় দিয়ে আপনাদের কাছে গিয়েছিলাম বাঁচার জন্য, ভুল করে ধাক্কা লেগে গিয়েছিল আপনার সঙ্গে।”

“এর পর থেকে ভুল করেও কাউকে ধাক্কা দিবে না। মনে থাকবে?”

সারাহ মাথা কাত করে বলল,

“হ্যাঁ।”

“যাও, ক্লাসে যাও।”

সারাহ দ্রুত পা চালিয়ে চলে গেল সকলের সামনে থেকে। আবরারের বন্ধুরা হাঁ করে তাকিয়ে রইল তার মুখের দিকে। কী হলো এটা? মেয়েটাকে এত সহজে ছেড়ে দিলো কেন কিছু না বলে?
জুনায়েদ বলল,

“কিরে আবরার, মেয়েটাকে ছেড়ে দিলি কেন?”

আবরার গা ছাড়া ভাব নিয়ে বলল,

“কী করব তাহলে?”

“কী করবি মানে? শাস্তি দিবি না মেয়েটাকে? তোকে কীভাবে ড্রেনে ফেলে দিলো! আবার অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে আছিস। এসবের শোধ নিবি না?”

মৃন্ময় বলল,

“এখনো ঠিকভাবে হাঁটতে চলতে পারিস না, আর মেয়েটাকে সোজা হেঁটে চলে যেতে দিলি? তুই বলেছিলি এসবের শোধ নিবি তুই।”

“তো কী করতে বলছিস এখন? মেয়েটাকে নিয়ে ড্রেনে চুবাই?”

“হ্যাঁ। এটাই করবি।”

বাকিরাও মৃন্ময়ের সঙ্গে তাল মেলাল। জুনিয়রদের মধ্য থেকে ইউনূস বলল,

“ওই মেয়েকে নিয়ে আসবো আবার?”

আবরার গম্ভীর গলায় বলল,

“প্রয়োজন নেই।”

সবাই আরেক দফায় হাঁ করে চাইল তার মুখের দিকে। এই ছেলের কী হয়েছে আজ? সারাহ আসার আগ মুহূর্ত পর্যন্তও বেশ রেগে ছিল, অথচ সারাহকে দেখে পল্টি নিয়ে নিল। শাস্তি না দিয়ে, কিছু না বলে শান্ত গলায় দুটো কথা বলে ছেড়ে দিলো কি সুন্দর করে!

সবগুলো ক্লাস শেষ করে গেইটের বাইরে আসতেই সারাহকে ডাকা হলো আবার। এবার সবাই গেইটের বাইরে বাইকের উপর বসে আছে। সারাহ ভয়ে ভয়ে এসে দাঁড়াল সকলের সামনে। আশপাশের অনেকেই তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।
আবরারের আরেক বন্ধু জাহিদ সারাহর দিকে তাকিয়ে বলল,

“নাম কী?”

“সারাহ মেহজাবিন চেরি।”

“চেরি! এই চেরি ফেরি কে রেখেছে?”

“আব্বু।”

“সে কোথায়?”

সারাহ আকাশের দিকে দেখাল। তার বাবা বেঁচে নেই। তার সঙ্গে বাকিরাও আকাশের দিকে তাকিয়ে তার মুখের দিকে তাকাল। তীব্র গরমে সারাহর ধবধবে ফরসা গাল দুটো গাঢ় গোলাপি রঙের হয়ে গেছে। গোলাপি ওষ্ঠজোড়া শুষ্ক হয়ে রয়েছে। এখন বাবার কথা স্মরণ করে ফ্যাকাশে চেহারা মলিন হয়ে গেছে।
জুনায়েদ হাত দিয়ে ইশারা করে বলল,

“যাও।”

সারাহ চলে গেল তাদের সামনে থেকে। পেছন থেকে সবাই তাকিয়ে রইল তার যাওয়ার পথে।
আবরার শব্দবিহীন ঠোঁট নাড়িয়ে বলল,

“চেরি! চেরি ব্লসম। সাদা আর গাঢ় গোলাপি রঙের কম্বিনেশনে টাটকা স্নিগ্ধ জীবন্ত চেরি ব্লসম।”

রিকশা ভাড়া পরিশোধ করে গেইটে নক করবে ঠিক তখনই শুনতে পেল বাইকের হর্ন। পিছু ফিরে তাকিয়ে দেখল বড়ো ভাইয়া আসছে বাইক নিয়ে। ফারিশ বাইক থামাল সারাহর পাশে। ছোটো একটা প্যাকেট সারাহর দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,

“এটা ছোটো আম্মুকে দিও।”

সারাহ প্যাকেটটা হাতে নিয়ে বলল,

“আপনি ভেতরে যাবেন না, ভাইয়া?”

“বাইরে একটু কাজ আছে। তুমি ভেতরে যাও।”

ফারিশ বাইক ঘুরিয়ে চলে গেল নিজের কাজে। দারোয়ান নিজে থেকেই গেইট খুলে দিয়েছে। সারাহ ভেতরে প্রবেশ করল দ্রুত পায়ে।
এটা তার নিজের বাড়ি না। মায়ের দ্বিতীয় স্বামীর বাড়ি। ফারিশ তার নিজের ভাই না, সৎ ভাই। ফারিশের ছোটো ভাই আছে একটা, তার নাম ফাইয়াজ। ফাহিম আর সারাহ এক মায়ের পেটের, তবে দুজনের বাবা আলাদা।
ফারিশের বয়স পঁচিশ বছর, ফাইয়াজের বয়স বিশ, সারাহর বয়স উনিশ, ফাহিমের বয়স চার। সারাহ এই বাড়িতে এসেছে সাত বছর হলো। তার মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছে তেরো বছর ধরে। মায়ের দ্বিতীয় বিয়ের পর বারো বছর বয়স পর্যন্ত সারাহ নানা-নানির কাছেই ছিল।

সারাহর বাবা অ্যাকসিডেন্টে মা’রা গেছেন। সারাহর বয়স তখন মাত্র চার। বাবাকে খুব একটা মনে নেই সারাহর, শুধু এতটুকু মনে আছে তার বাবা তাকে আদর করে চেরি বলে ডাকতেন। মাঝে মধ্যে ডাকতেন মিষ্টি চেরি। তার মা তাকে এখনো চেরি বলে ডাকেন, বাকিরা সারাহ বলেই ডাকে। ফারিশ সারাহকে একেক সময় একেক নামে ডাকে, কখনো সারাহ, কখনো মেহজাবিন, কখনো বা চেরি। তবে সারাহ আর চেরি বলেই বেশি ডাকে। খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া সারাহর সঙ্গে কথা বলে না ফারিশ। সারাহ-ও প্রয়োজন ছাড়া কথা বলে না তার সঙ্গে, প্রয়োজনের বাইরে তার সামনেও যায় না খুব একটা।

*****

রাত আটটার পর ড্রয়িংরুমে এলো সারাহ। সোফায় বসে ফাহিমকে খাওয়াচ্ছেন সারাহর মা নিতু সুলতানা। পাশের সোফায় বসে ভিডিও গেম খেলছে ফাইয়াজ। অন্য সোফায় বসে কার সঙ্গে যেন ফোনে কথা বলছেন ফারিশের বাবা ফুয়াদ হাসান।
সারাহ এসে মায়ের পাশে বসতেই ফুয়াদ হাসান বললেন,

“সারাহ, তোমার বড়ো ভাইয়াকে ডেকে নিয়ে এসো।”

বসা থেকে উঠে আবার সিঁড়ির দিকে এগোল সারাহ। বড়ো ভাইয়ের রুমের সামনে এসে দরজা নক করল। ভেতর থেকে সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা ঠেলে ভেতরে উঁকি দিলো। ফারিশ রুমের মেইন লাইট অফ করে ডিম লাইট জ্বালিয়ে খাটের উপর বসে গিটার বাজাচ্ছে। গান গাইছে না, শুধু সুর তুলছে।
সারাহ দরজা পুরোপুরি খুলে জোরে ডাকল ভাইয়া বলে। ফারিশ গিটার বাজানো বন্ধ করে সারাহর দিকে তাকাল। সারাহ বলল,

“আব্বু ডাকছেন আপনাকে।”

ফারিশ আস্তে ধীরে গম্ভীর গলায় বলল,

“গিয়ে বলো বিশ মিনিট পর আসছি।”

“আচ্ছা।”

সারাহ দরজা ভিজিয়ে দিতে উদ্যত হতেই ফারিশ ডাকল তাকে।

“সারাহ।”

সারাহ থামল, ফারিশের দিকে তাকিয়ে বলল,

“হ্যাঁ, ভাইয়া।”

“তুমি নাকি কাকে ধাক্কা মে’রেছিলে?”

সারাহ জিহ্বা কা’মড় দিলো। এখান অবধি খবর পৌঁছে গেছে তাহলে? বলল,

“হ্যাঁ।”

“কবে?”

“পনেরো দিনের মতো হয়েছে।”

“রাস্তা দিয়ে কীভাবে চলাচল করো যে পথচারীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দাও?”

সারাহর বুক কাঁপতে শুরু করেছে, কন্ঠ আটকে আসছে। জোর করে গলা দিয়ে শব্দ বের করে বলল,

“কু/কুরের ধাওয়া খেয়ে ভয়ে দৌড় দিয়েছিলাম, ভুল করে ওই ভাইয়ার সঙ্গে ধাক্কা লেগে গিয়েছিল।”

“কু/কুর ধাওয়া দিয়েছিল?”

“হ্যাঁ।”

“কীভাবে দিলো?”

গড়গড় করে দ্রুত সব খুলে বলল সারাহ। ফারিশ বলল,

“আগামীকাল থেকে আমি তোমাকে ভার্সিটিতে দিয়ে আসবো আবার নিয়ে আসবো। আমি না থাকলে ফাইয়াজ নয়তো ড্রাইভার আনা নেয়া করবে।”

“আচ্ছা।”

বলেই দরজা ভিজিয়ে দিয়ে দ্রুত চলে গেল সারাহ।

গল্পের নাম মূলত “মন বোঝে না” আবরার সাহিল চরিত্রের নাম সেটা তো বুঝতেই পেরেছেন। কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না কেমন লেগেছে গল্পটা।

চলবে……….

#মন_বোঝে_না (০১)
#সানা_শেখ

Share On:

TAGS:



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply