Golpo আমার আলাদিন কষ্টের গল্প

আমার আলাদিন পর্ব ৫


আমার_আলাদিন

জাবিন_ফোরকান

পর্বসংখ্যা৫

হাসপাতাল থেকে মাত্রই ফোন এসেছে। জরুরী এক পেশেন্টকে দেখতে হবে। তাই বিশ্রাম অসম্পূর্ণ রেখেই সামিয়া হন্তদন্ত হয়ে নিজের রুম থেকে তৈরি হয়ে এলেন। ড্রাইভারকে কল দিয়ে গাড়ি রেডি রাখতে বলেছেন। চোখের চশমাটা লাগিয়ে সদর দরজার সামনে যেতেই অদ্ভুত দৃশ্যটা চোখে পড়ল তার। সাইবান এবং ইরাম দুজন পাশাপাশি হেঁটে বাড়ির ভেতরে ঢুকছে। সাইবানের মুখটা দেখে অপরাধবোধ হলো সামিয়ার। গতকাল রাতে ঐভাবে ছেলের উপর চিৎকার করাটা উচিত হয়নি তার। সাইবান তার ইচ্ছায় বিয়ে করতে নাই চাইতে পারে, তবে সামিয়া নিজের মেজাজ হারিয়ে ঠিক করেননি। তাই এত ব্যস্ততার মাঝেও ছেলের মুখোমুখি দাঁড়ালেন।

“মম সরি।”

সাইবান থামল। ভ্রু তুলে জননীর দিকে চেয়ে রইল। ইরাম তাদের পাশ কাটিয়ে খানিকটা দূরে সরে দাঁড়াল। সামিয়া একটি নিঃশ্বাস ফেলে দ্রুত বললেন,

“আমি জবরদস্তি করে ঠিক করছিনা। গত রাতে আমার কি হয়ে গিয়েছিল জানিনা। মনে হচ্ছে আমি সঠিকটাই ভাবছি। আবার এখন এটাও মনে হচ্ছে আমি নিজের ছেলের সঙ্গে জোরাজুরি করে ফেলছি। তাই মম সরি। আমি সবার ভালোটা ভাবছি তবে তোদের কারো মনের কথা ভাবছিনা। শুধু চেয়েছি, ইযান নামের নিষ্পাপ বাচ্চাটা একটা সুন্দর ভবিষ্যত পাক। মমের উপর অভিমান করিস না। তোকে রুষ্ট দেখলে আমার কষ্ট হয়।”

একটি নিঃশ্বাস ফেলল সাইবান। দুহাত তুলে জননীর কাঁধে রাখল,

“সরিটা আর মাত্র দুই মিনিট সতেরো সেকেন্ড আগে বললে ভালো হত ব্রো।”

“কেন ব্রো?”

বাঁকা হাসল সাইবান। একনজর তীর্যক দৃষ্টি নিক্ষেপ করল ইরামের দিকে।

“কোর্ট ম্যারেজ করবে নাকি ধুমধাম অনুষ্ঠান করবে?”

কয়েক মুহূর্ত ইরাম এমনকি সামিয়া অবধিও প্রতিক্রিয়া করতে পারলেন না। দুজনই ফ্যালফ্যাল করে অবিশ্বাস মাখা দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল সাইবানের দিকে। বান্দা নিশ্চল, বিনোদিত। যেন এইমাত্র সে কোনো বি*স্ফোরণ ঘটায়নি! সামিয়া আর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেন না। দুইটা লাফ দিয়ে বসলেন বয়স্ক শরীরেও। বিরাট হাসিতে উজ্জ্বল হয়ে পড়ল তার চেহারা। উত্তেজনা সামাল দিতে না পেরে কাঁপতে কাঁপতে ছেলেকে বললেন,

“হাসপাতালে পেশেন্ট অপেক্ষা করছে। আমি এক্ষুনি যাচ্ছি। ট্রিটমেন্ট শেষে সবাইকে মিষ্টি খাইয়ে বাসায় ফিরেই প্ল্যানিংয়ে বসব! লাভ ইউ ব্রো!”

“ওরে পিরিত রে! সম্পত্তির ভাগটা যেন কপালছাড়া না হয় সেই চিন্তায় সারারাত ঘুম হয়নি, আপনাকে এখন আমার প্রতি পিরিত দেখাতে হবেনা। শুধু প্রপার্টি পেপারে সাইন করে দিলেই চলবে। ক্লিন ডিল!”

চোখ টিপ দিল সাইবান। খিলখিল করে হেসে তাকে জড়িয়ে ধরে পিঠে কয়েকটা উৎসাহী চাপড় দিয়ে সামিয়া দ্রুত এগোলেন। বাইরে অপেক্ষা করা গাড়িতে চড়ে বসলেন। খোলা দরজা দিয়ে যতক্ষণ তার গাড়িটা দেখা গেল ততক্ষণ হাসিমুখে চেয়ে থাকল সাইবান। তারপরই তার ঠোঁটের হাসিটুকু মুছে গেল, ভর করল গম্ভীরতা।

অদূরে দাঁড়ানো ইরামের দিকে ফিরে তাকাল সাইবান। ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ কন্ঠে বলল,

“একদম ফালতু চিন্তা মাথায় ঢোকাবেন না। আমি আজ অবধি মমের কোনো কথা অমান্য করিনি, কোনো ইচ্ছা অপূর্ণ রাখিনি, মৃত্যুর আগ অবধি মম মুখ থেকে যা একবার উচ্চারণ করবে তাই আমি তার জন্য করব এটাই আমার প্রতিজ্ঞা। মম যদি আমার কলিজা কেটে তার পায়ের সামনে রাখতে বলে, আমি সেটাও করব। সেখানে আপনাকে বিয়ে করাটা বিশেষ ব্যাপার না। মাথায় রাখবেন, আই ডোন্ট কেয়ার অ্যাবাউট ইউ অর দ্যাট চাইল্ড!”

ইরাম নিঃশব্দে শুনে গেল। সাইবান কথাগুলো বলে ডাইনিং টেবিলের কাছে গিয়ে দাঁড়াল। চুপচাপ একটা ব্রেডের প্যাকেট খুলে ফ্রিজ থেকে জ্যামের কৌটা নিয়ে এসে ব্রেডে লাগাতে লাগাতে দ্বিতীয় দফায় বলল,

“আপনার একটা টাইটেল দরকার, আমি আপনাকে আমার স্ত্রীর টাইটেলটা দেব। ব্যাস। এটুকুই। আপনি আপনার মত, আমি আমার মত। আমার পার্সোনাল লাইফে দখলদারি করতে আসবেন না, আমিও আপনার পার্সোনাল লাইফে যাবনা। আর ওই বাচ্চাটাকে যত সম্ভব আমার কাছ থেকে দূরে রাখবেন। বাচ্চা গাচ্চা একদম ভালো লাগেনা আমার। সারাটা জীবন এসব বইতে…”

“এক বছর।”

ইরামের শান্ত কন্ঠস্বর ভেসে এলো। সাইবান জমে গেল। ভ্রু তুলে তাকিয়ে দেখল রমণীকে। একদৃষ্টে তাকেই দেখছে।

“পারডন?”

ইরাম হেঁটে টেবিলের কাছে এসে দাঁড়াল। বলল,

“এক বছর আলাদিন, বড়জোর দুই বছর। এটুকু সময়ই তোমাকে আমাকে আর আমার বাচ্চাকে সহ্য করতে হবে।”

“মানে?”

“আমার তোমায় স্ত্রীর টাইটেলের প্রয়োজন নেই। আমার একটা শক্ত ভিত্তির দরকার, আর্থিক এবং সামাজিক। যেটা ঠিক এই মুহূর্তে গড়ে তুলতে আমি অপারগ। পারবনা যে তা নয়, তবে সময় লাগবে। সেই সময়টায় আমার ছেলে কষ্টে কষ্টে জর্জরিত হবে সেটা আমি মা হয়ে সইতে পারবনা। খালামণি চায় আমরা বিয়ে করি, তুমি চাও তোমার মায়ের ইচ্ছা পূরণ করতে, আমি চাই আমার ছেলের জীবনটা সহজ করতে। ব্যাস, এক দুই বছর দরকার শুধু আমার। কথা দিচ্ছি, যেদিন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারব, যেদিন নিজের একটা শক্ত ভিত্তি গড়তে পারব, যেদিন অসহায়ের মত হাত না পেতে নিজের সামর্থ্যে নিজের ছেলেকে মানুষ করার ক্ষমতা অর্জন করব, সেদিন তোমার জীবন থেকে আমি আর ইযান দুজনই চলে যাব, আলাদিন। যদি তুমি না চাও আমরা থাকব না। তুমি তোমার মত করে বাঁচতে পারবে, মুক্তভাবে। একটা মানবিকতার সম্পর্কের বাঁধন থেকে মুক্তি পাবে। তুমি ছেলে মানুষ। তাছাড়া তোমার যে পরিচিতি এবং চেহারা, তাতে তোমার জন্য ভবিষ্যতে মেয়ের অভাব পড়বেনা। ডিভোর্স মেয়েদের জন্য শেষ, কিন্তু ছেলেদের জন্য নতুন শুরু।”

“আপনি নিজের ক্যারিয়ার গড়তে পারলে আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দেবেন, ইরাম আপু?”

“হ্যাঁ। না তুমি আমাকে চাও, না আমি তোমাকে চাই। কিন্তু আমার তোমাকে ব্যবহার করতে হবে, কিছুদিনের জন্য হলেও তোমার অনুগ্রহ নিতে হবে, সেজন্য আমি দুঃখিত। আমি পারিনা তোমার উপর বোঝা হয়ে বসতে। আমি চাইও না তুমি এমন একটা সম্পর্কের বোঝা আজীবন টেনে যাও যেটা তুমি কোনোদিন মন থেকে মেনে নিতে পারবেনা। তাই ভালো এটাই, আমাদের দুজনের উদ্দেশ্য পূরণ হয়ে গেলে ভিন্ন পথে চলে যাওয়া। যদি আমরা এই বিয়েটাকে টিকিয়ে রাখতে না পারি, তাহলে ডিভোর্সই সই। এটা আমাদের সিক্রেট কনট্র্যাক্ট, খালামণিকে জানানোর প্রয়োজন নেই।”

পাক্কা এক মিনিট সাইবান হা করে ইরামের দিকে চেয়ে রইল। চেহারায় এমন একটা ভাব দেখা গেল যেন এই অট্টহাসি হেসে উঠবে! অথচ সাইবান হাসল না। সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে একটি নিঃশ্বাস ফেলে বলল,

“বেশ। নট ব্যাড ডিল অ্যাট অল! জীবনের কিছু বছর একটা চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাটানো? আই অ্যাম অল ইন!”

সহজাত হাসিটি ফিরে এলো সাইবানের ঠোঁটে। ইরাম এগিয়ে গিয়ে নিজের ডান হাতটা বাড়িয়ে দিলো করমর্দনের উদ্দেশ্যে,

“ডিল?”

সাইবান জিভ দিয়ে ঠোঁট চেটে তীর্যক হেসে খপ করে তার হাতটা ধরল। ঝাঁকিয়ে দিয়ে বলল,

“পারফেক্ট ডিল।”

তবে সঙ্গে সঙ্গে ইরামের হাতটা ছাড়লনা সাইবান। ইরাম এক মুহূর্ত কি যেন ভাবল, তারপর বলে উঠল,

“তবে একটা কথা, আমাদের ডিভোর্স পরের ব্যাপার, এই বিয়ের সময়সীমা চলাকালীন আমার কিছু শর্ত আছে, সেসব তোমাকে মেনে চলতে হবে।”

“ওহ! আমি এখন সত্যিই বুঝতে পারছিনা আপনি আমার অনুগ্রহ নিচ্ছেন নাকি আমি আপনার? সব ফরমায়েশ ইচ্ছা আপনিই জাহির করে যাচ্ছেন তখন থেকে। আমারটার কি হবে?”

“তোমারটাও শুনব আমি। আগে আমারগুলো শোনো।”

ইরামের হাতটা এতক্ষণে ছাড়ল সাইবান। বুকে দুবাহু বেঁধে একইসাথে বিনোদন এবং মনোযোগ নিয়ে তাকাল। ইরাম একটি দীর্ঘ প্রশ্বাস টেনে শুধাল,

“প্রেম করো? প্রেমিকা আছে?”

সাইবান কেশে উঠল। গলায় মাছের কাঁটা আটকে গিয়েছে তার এমন ভঙ্গিতে কয়েকবার গলা খাঁকারি দিয়ে বলে উঠল,

“Wtf!”

ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইল ইরাম।

“ডব্লিউ টি এফ কি?”

মাথা ঝাঁকাল সাইবান।

“কিছুনা। আপনার মতন মিলেনিয়াল এসব বুঝবেনা।”

“আচ্ছা, তাহলে বলো। প্রেম করো? করেছ কখনো?”

রীতিমত হাতের আঙুলের কর গুনতে আরম্ভ করল সাইবান।

“ক্লাস সিক্সে একটা, ক্লাস এইটে ব্রেকআপ, ক্লাস এইটের শেষেই আরেকটা, ক্লাস নাইনে একটা, ক্লাস টেনে এস এস সির জ্বালায় পারিনি। কলেজ লাইফে ছয় মাস ছয় মাস করে চারটা। এরপর…”

“হয়েছে! আর বলতে হবেনা! থামো!”

ইরামের গাল দুটো লাল হয়ে উঠেছে। কি আজব চীজ! এভাবে নির্দ্বিধায় প্রেমিকার ফর্দ দিয়ে যাচ্ছে তার সামনে? কয়টা হলো? ইরাম গোণার সময়ও পায়নি! মাথা ঝাঁকিয়ে নিজের অযাচিত লাজটুকু ঝেড়ে সামান্য কন্ঠ পরিষ্কার করে সে জিজ্ঞেস করল,

“অতীতের লিস্ট দিতে হবেনা। এখন করো নাকি সেটা বলো।”

বিরাট হাসল সাইবান। এক কামড়ে গোটা একটা পাউরুটি মুখে ঢুকিয়ে দিয়ে চিবুতে চিবুতে জানাল,

“এখন একটা সিচুয়েশনশিপ চলছে, আরেকটা বেঞ্চিং।”

মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠল ইরামের। হায় খোদা! নিজেকে বুড়ি দাদী মনে হচ্ছে তার সাইবানের সামনে। আজকালকার ছেলেমেয়েরা এসব কোন ভাষায় কথা বলে? সাইবান কত সালে যেন জন্ম নিয়েছে? ২০০১? হয়ত। এদের জেনারেশনের একটা নাম আছে। কি যেন বলে?

“গেঞ্জি না তুমি?”

সাইবানকে ভয়ানক মাত্রায় অপমানিত মনে হলো। দুহাত দুদিকে শাহরুখ খান স্টাইলে ছড়িয়ে ঝাঁকিয়ে সে জোর গলায় বলল,

“জেন জি! নট গেঞ্জি ইউ অশিক্ষিত মিলেনিয়াল!”

সাইবানের অতি নাটকীয় প্রতিক্রিয়ায় ইরামের হাসি পেয়ে গেল। স্মিত হেসে সে দুহাত আত্মসমর্পণের ভঙ্গিতে তুলে বলল,

“সরি সরি। আসলে আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় তেমন একটিভ না, তাই আধুনিক জিনিসপত্র থেকে বহু দূরে। মুখে মুখে গেঞ্জি শব্দটাই শুনেছি।”

“গেঞ্জি হবে ওদের বাপের! আমরা প্রাউড জেন জি! আমাদের মত তেজী জেনারেশন এই পৃথিবী পাঁচবার ধ্বংস হয়ে নতুনভাবে সৃষ্টি হলেও পাবে না, বুঝেছেন?”

“বুঝেছি বুঝেছি।”

ইরাম হাসি চাপা দিয়ে ব্যক্ত করল,

“এবার বলো এই সিচুয়েশনশিপ কি জিনিস? আমাদের সময় শুধু রিলেশনশিপ হত।”

এতক্ষণে একটু ঠাণ্ডা হয়েছে সাইবান। টেবিল থেকে বোতল তুলে ঢকঢক করে গিলে নিয়ে সে উত্তর করল,

“ওসব আপনাকে বুঝতে হবেনা, আপু। আপনি আপনার কথা বলুন। আমার প্রেম পিরিতের হিসাব নিয়ে কি বলতে চাইছিলেন?”

এবার শান্ত অথচ দৃঢ় গলায় ইরাম বলল,

“হয়ত আমাদের বিয়ের মেয়াদ থাকবে, তবে বিয়েটাকে আমরা দুজনই সম্মান করব, আলাদিন। তুমি চেয়েছ তাই আমি কখনো তোমার ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ করবনা। তবে যতদিন তুমি আমার নামে কালেমার বন্ধনে থাকবে, ততদিন সংযত হয়ে চলবে। দ্বিতীয় কোনো নারীর ব্যাপারে যেন আমি না শুনি, না বুঝি। বাকি সব দিকে তুমি স্বাধীন, কিন্তু এই এক নারীঘটিত ব্যাপার যেন না ঘটে। ক্লিয়ার?”

“আর ইউ জেলাস, মাই ডিয়ার আপু?”

থমকে গেল ইরাম। সাইবানের চেহারা পাল্টে গিয়েছে। তাতে অদ্ভুতুড়ে এক অভিব্যক্তি দেখা যাচ্ছে। অত্যন্ত ধীরে সময় নিয়ে শিকারীর ভঙ্গিতে হেঁটে হেঁটে টেবিল ঘুরে ইরামের সামনে এলো সে। ইরাম একটি ঢোক গিললো না পারতে। কাছ থেকে সাইবানের শারীরিক গঠন আরো স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। ছেলেটা জিম করে। শরীরের মাংসপেশী বেশ ফোলা এবং শক্তিশালী। টপের টাইট কাপড়ের উপরে খাঁজকাটা পেশীর গাঁথুনি প্রকাশ পাচ্ছে। ইরাম হয়ত বয়সে বড়, তবে সাইবানের ভারী পুরুষালী কাঠামোর সামনে সে একটা পাটকাঠি বাদে আর কিছুই না। তার গলা সামান্য কেঁপে উঠল যখন সে প্রতিবাদ করতে চাইলো,

“জেলাস হব কিসের জন্য? তোমার মাথা খারাপ? আমি তো শুধু…”

শেষ করার সুযোগ ইরাম পেলো না। সাইবান হঠাৎ করে ঝুঁকে এলো। টেবিলের দুই পাশে নিজের দুটি হাত রেখে ইরামকে মাঝখানে আবদ্ধ করে ফেলল। ইরামের ফিনফিনে পাতলা শরীরে উপর নুয়ে আসতেই রমণী সরতে চাইলো, টেবিলের উপর রীতিমত আধশোয়া হয়ে পড়ল। সাইবানের চোখে চোখে তাকাতে পারছেনা সে। একটা ধমক দেবে নাকি ছেলেটাকে? সাইবানের ঠোঁটজুড়ে তীর্যক হাসি, একটি হাতের আঙুল তুলে সে বিব্রত হয়ে যাওয়া ইরামের শুকনো মুখের পাশ থেকে একগুচ্ছ চুল সরিয়ে কানের পিছনে গুঁজে দিল।

“আপনি যদি পজেজিভ হন আমি ওভারপজেজিভ ইরাম আপু! আমি ওভার প্রোটেকটিভ, ওভারজেলাস, ওভার থিংকার, ওভার টক্সিক, ওভার এভরিথিং! আমি আমার সিচুয়েশনশিপের কাছ থেকে অন্য ছেলেদের তিনশো হাত দূরে রাখি। তাহলে আমি আপনার সঙ্গে কি করতে পারি, বলুন তো?”

নিঃশ্বাস আটকে ফেলল ইরাম। এতটা কাছ থেকে সাইবানের চোখে চোখ পড়তেই সে আটকে গেল। ছেলেটার কথা মন্ত্রের মত, সম্মোহিত হয়ে যেতে হয় তাতে। ভ্রুর উপরের পিয়ার্সিং টা জ্বলজ্বল করে উঠল তার, জিভ গালে ঠেকিয়ে ভীষণ রকমের অদ্ভুত এক ভঙ্গি করল সে। ইরামের চোখে চোখ রেখে ঘোষণা করল,

“আ’ম নট আ রেড ফ্ল্যাগ, আ’ম আ ড্যাম ব্ল্যাক ফ্ল্যাগ!”

লাল পতাকা, কালো পতাকা এসবের অর্থ ইরামের জানা নেই। ছেলেটা আবার গেঞ্জি…উঁহু, জেন জি মার্কা কথা বলছে। তবে ইরাম চাইলেও কিছু বলতে পারলনা, ঠোঁট নড়ল ঠিকই কিন্তু শব্দ বেরোলনা। সাইবান তার এতটা কাছে ঝুঁকে এলো যে তাদের দুজনের মাঝে শুধু ইঞ্চি কয়েকের ব্যবধান রইল। অজান্তেই ইরাম টেবিলম্যাট আঁকড়ে ধরল দুহাতে।

“আমার জন্য পরনারী নিষিদ্ধ হলে আপনার জন্যও পরপুরুষ নিষিদ্ধ, ঝুঁকিপূর্ণ, বিপদজনক, হানিকারক, হারাম।”

একটু থেমে একটি হাতে অত্যন্ত আলতোভাবে ইরামের গাল ছুঁয়ে দিয়ে সাইবান দৃঢ় গলায় বলল,

“যতদিন আলাদিনের জীবনে থাকবেন, ততদিন আলাদিনের হয়েই থাকবেন। মনের ভেতর কোনো জঙ্গলের অবশিষ্টাংশ থাকলে জঙ্গলটা উজাড় করার দায়িত্বটাও এই আলাদিনের।”

                                 —চলবে—

[ জানি পর্ব ছোট হয়েছে। ব্যস্ত ছিলাম ব্যাপক, তবুও আপনাদের কন্টিনিউ মেসেজ আর কমেন্টে যতটুকু পারি লিখে দিয়েছি। আমি ভালো না? পড়লে তাই অবশ্যই রিয়েক্ট কমেন্ট করে যাবেন, নাহলে খেলব না, হুহ !😞🙌🏻

আর আরেকটা কথা, আজকের কথাবার্তায় অনেকের মনে হতে পারে সাইবান এবং ইরামের মাঝে কনট্র্যাক্ট ম্যারেজ হতে চলেছে যেটা আসলে ধর্মীয়ভাবে নিন্দনীয়। তবে ব্যাপারটা তেমন না, ভালো করে পড়লে দেখবেন ইরাম বলছে বারবার, তুমি না চাইলে, তুমি চাইলে কথাটা। সে তার ব্যক্তিত্ব এবং অপরাধবোধ থেকেই বলেছে। তাই এটা ঠিক কনট্র্যাক্ট এর মাঝে পড়ছে না। এটা করা যায়, যদি বিয়ে টিকবে কিনা এই নিয়ে মনে সন্দেহ থাকে। আশা রাখছি আপনারা আমার উদ্দেশ্য বুঝবেন। ভালোবাসা।❤️🫶🏻]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply