ডার্কসাইডঅফ_লাভ (18+এলার্ট ⭕)
দূর্বা_এহসান
তরুর বুকের ভেতরটা কেমন যেন মোচড় দিয়ে উঠল। মাথার ভেতর যেন এক লহমায় চক্কর দিয়ে উঠল, আর চারপাশের সবকিছু ঝাপসা হতে শুরু করল। হাত থেকে বরফের টুকরোটি ফসকে ঝনঝন করে মেঝেতে পড়ে গেল। তরুর দু’চোখ অন্ধকার হয়ে এল। আর এক মুহূর্তও সে সেখানে দাঁড়াতে পারল না। কোনোমতে নিজেকে সামলে নিয়ে সে ছুটে গেল ভেতরের ওয়াশরুমের দিকে।
ওয়াশরুমের দরজা সে পুরোটা বন্ধ করার সময় পেল না। গিয়েই সে বেসিন ধরে ঝুঁকে পড়ল এবং গলগল করে বমি করতে লাগল। শরীরটা যেন একদম নিস্তেজ ও দুর্বল হয়ে আসছে। পাকস্থলী থেকে যেন সবকিছু বেরিয়ে আসার উপক্রম হলো। তরুর মনে হচ্ছিল, তার শরীরের সমস্ত শক্তি কেউ যেন এক নিমেষেই শুষে নিয়েছে।মৃন্ময় দ্রুত টাওয়েল জরিয়ে ছুটে গেলো ওর পিছে।
—”কী হলো তরু? হঠাৎ এমন কী হলো?”
মৃন্ময়ের কণ্ঠে তীব্র উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট । সে তরুর পিঠে আলতো করে হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। কিন্তু তরুর শরীর থরথর করে কাঁপছে। বমির বেগ যেন থামার কোনো নামগন্ধই নেই। তরুর চোখ দিয়ে অনবরত পানি গড়িয়ে পড়ছে। সে আর সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না।
মৃন্ময় এবার আরও খানিকটা এগিয়ে এসে তরুর নাভির কাছে আলতো করে আঙুল ঠেকিয়ে ধরল, একটা নির্দিষ্ট পয়েন্টে চাপ দিয়ে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করল। চিন্তিত মুখে মৃন্ময় বলল,
—”একটু শান্ত হও, তরু। আমি আছি তো। লম্বা একটা শ্বাস নাও, সব ঠিক হয়ে যাবে।”
তরু কাঁপা কাঁপা গলায় বলল,
—”জানি না মৃন্ময়, হঠাৎ করেই যেন সবকিছু উল্টেপাল্টে গেল। বড্ড দুর্বল লাগছে, মনে হচ্ছে যেন আর পারছি না।”
হঠাৎ করেই তরু চোখ উল্টে মেঝেতে লুটিয়ে পড়ল। সে পুরোপুরি অজ্ঞান হয়ে গেছে।
মৃন্ময় দিশেহারা হয়ে পড়ল। সে বুঝে উঠতে পারছিল না কী করবে। তার মনে হচ্ছিল তরুর কিছু একটা হয়ে গেছে। সে চিৎকার করে ডাকতে লাগল,
—”ডাক্তার! কেউ ডাক্তার ডাকো! তরু! চোখ খোল তরু!”
মৃন্ময়ের এই চিৎকার ও চেঁচামেচি পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ল। সে তোয়ালে পরা অবস্থাতেই বাইরে যাওয়ার জন্য দরজার দিকে ছুটতে চাইল, কিন্তু আবার ফিরে এসে তরুর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে লাগল। তার মুখের ভাষা যেন হারিয়ে গিয়েছে।
মৃন্ময়ের চিল্লাপাল্লা ও অস্থিরতা শুনে আরবাজ, অরু আর রেশমা তাদের নিজ নিজ রুম থেকে একযোগে ছুটে এল। তারা প্রায় হন্তদন্ত হয়ে তরুর ওয়াশরুমের দরজার সামনে এসে দাঁড়াল। দৃশ্যটি দেখে তারা সকলেই চমকে উঠল।তরু মেঝের ওপর অচেতন হয়ে পড়ে আছে। আর মৃন্ময় তোয়ালে পরা অবস্থায় তরুর মাথাটা নিজের কোলে তুলে নিয়ে বিলাপের সুরে ডাকছে।আরবাজ দ্রুত এগিয়ে এসে মৃন্ময়ের কাঁধে হাত রাখল।
—”মৃন্ময়, শান্ত হও। এভাবে চিৎকার করলে কোনো লাভ হবে না। আগে ওর মাথায় পানি ঢালো।”
রেশমা সাথে সাথে ঠান্ডা পানি নিয়ে এল এবং তরুর মাথায় দিল। অন্যদিকে অরু তরুর দুই হাত নিজের হাতে নিয়ে ঘষছে, যাতে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়।
আরবাজ মৃন্ময়কে ধরে একটু সরিয়ে বলল,
— “ভাই, তুমি একটু স্থির হও। রেশমা ফ্যামিলি ডাক্তারকে কল করো।”
এদিকে মৃন্ময় তোয়ালে পরা অবস্থাতেই বসে আছে। তার চোখ দিয়েও পানি গড়িয়ে পড়ছে। তরুকে বেডে নেওয়া হলো।
মৃন্ময় পানি খেল এবং নিজেকে কিছুটা সামলে নেওয়ার চেষ্টা করল। সে ফিসফিস করে বলল,
—”আমি ওর এই অবস্থা আগে কখনো দেখিনি। “
অরু তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বলল,
— “চিন্তা করবেন না, ভাইয়া। গরমের দিনে এমনটা হতেই পারে। ডাক্তার আসছেন।”
বাড়ির সামনের দরজায় পরিচিত গাড়ির হর্ন শোনা গেল। আরবাজ দ্রুত পায়ে গিয়ে দরজা খুলে দিল। পারিবারিক চিকিৎসক ডা. রফিক ভেতরে প্রবেশ করলেন। তাঁর কাঁধে ঝুলছে কালো ব্যাগ
আরবাজ তাঁকে সোজা তরুর ঘরে নিয়ে এল। ঘরে ঢুকেই ডাক্তার সাহেব পরিস্থিতিটা বোঝার চেষ্টা করলেন। মৃন্ময় তখনো তোয়ালে পড়া অবস্থায় বিছানার একপাশে স্তব্ধ হয়ে বসে আছে, তার চোখেমুখে গভীর আতঙ্ক। অরু আর রেশমা তরুর মাথার কাছে দাঁড়িয়ে তাকে বাতাস করছিল।
—”কী হয়েছে, একটু খুলে বলো তো?”
ডাক্তার রফিক মৃন্ময়ের দিকে তাকিয়ে শান্ত কণ্ঠে জানতে চাইলেন।মৃন্ময় কাঁপা কাঁপা গলায় সবটা খুলে বলল।ডাক্তার তরুর বিছানার পাশে বসলেন। তিনি স্টেথোস্কোপ কানে গুঁজে তরুর বুক পরীক্ষা করলেন। এরপর রক্তচাপ মাপার যন্ত্রটি দিয়ে রক্তচাপ পরীক্ষা করলেন এবং নাড়ির গতি দেখলেন। কিছুক্ষণ খুঁটিয়ে দেখার পর ডাক্তার রফিকের মুখে এক চিলতে মিষ্টি হাসি ফুটে উঠল। তিনি স্টেথোস্কোপটি গুটিয়ে নিলেন এবং ঘরের সবাইকে আশ্বস্ত করলেন।
—”ভয়ের কোনো কারণ নেই, মৃন্ময়। তরু সম্পূর্ণ সুস্থ আছে।”
ডাক্তার রফিক হাসিমুখে কথাগুলো বললেন।ঘরে থাকা সবাই যেন এক লহমায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। কিন্তু ডাক্তার এরপর যা বললেন, তা কেউ আশা করেনি। তিনি মৃন্ময় এর দিকে তাকিয়ে বললেন,
—”অভিনন্দন, তোমরা খুব শীঘ্রই বাবা-মা হতে চলেছ।এই ধরনের বমি ভাব আর মাথা ঘোরানো এই সময়ে খুবই স্বাভাবিক।”
এই কথাটি শোনার পর পুরো ঘরে যেন পিনপতন নীরবতা নেমে এল। কিন্তু সবার চেয়ে সবচেয়ে বেশি চমকে উঠল মৃন্ময়। সে যেন পাথরের মতো জমে গেল। তার মস্তিষ্ক এই বিশাল আনন্দের খবরটি গ্রহণ করতে কিছুটা সময় নিচ্ছিল। সে একদম স্তব্ধ হয়ে গেল। মৃন্ময়ের চোখ দুটো বড় বড় হয়ে গেল এবং সে ফ্যালফ্যাল করে ডাক্তারের দিকে তাকিয়ে রইল। তার ভেতর কোনো কথা বা শব্দ যেন আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। সে যেন এক ঘোরের মধ্যে চলে গেছে।
মৃন্ময়ের এই স্তব্ধতা ভাঙতে কয়েক সেকেন্ড সময় লাগল। যখন তার মনের ভেতর ‘বাবা’ হওয়ার অনুভূতিটা পুরোপুরি গেঁথে বসল, তখন তার ভেতর থেকে বাঁধভাঙা আনন্দের জোয়ার উপচে পড়ল। সে আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। এক লাফে সে বিছানার পাশ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে গেল । খুশিতে নাচবে অবস্থা
—”আমি বাবা হচ্ছি! আমি বাবা হচ্ছি!”
আনন্দে চেঁচিয়ে উঠল মৃন্ময়।কিন্তু তার এই উন্মাদনার মাঝেই ঘটল এক অসস্তিকর ঘটনা। তাড়াহুড়ো করে লাফানোর কারণে তার কোমরে জড়ানো তোয়ালেটি আলগা হয়ে খুলে যাওয়ার উপক্রম হলো। তোয়ালেটি যখন প্রায় খসে পড়ার মুখে, ঠিক তখনই মৃন্ময়ের খেয়াল হলো। সে এক হাতে তোয়ালেটির প্রান্ত শক্ত করে ধরে ফেলল।এই পরিস্থিতি দেখে ঘরে থাকা অন্যরাও আর হাসি চেপে রাখতে পারল না। আরবাজ, অরু, রেশমা,সবাই হাসতে শুরু করল। মৃন্ময়ের এমন কাণ্ড দেখে ডাক্তার রফিকও মৃদু হাসলেন। মৃন্ময় নিজেও তার এই লজ্জাজনক কিন্তু হাস্যকর অবস্থা দেখে বিব্রত হয়ে পড়ল। হাসতে হাসতে বলল,
—”কী আর করব, আনন্দে তো সব ভুলেই গিয়েছিলাম!”
________
রাত বাড়ার সাথে সাথেই সবাই রুম ছাড়ল ওদের।তরুর তখনো জ্ঞান ফেরেনি।মৃন্ময় তরুর এক হাত ধরে বসে আছে। খুশিতে বেচারা তোয়ালে বদলাতেও ভুলে গেছে।তরুর কপালে সে আলতো করে চুমু দিল। ধীরে ধীরে চোখ খুলে তাকালো তরু ।
মুখের সামনেই মৃন্ময়ের হাসিমাখা মুখটা দেখে অবাক নয়নে তাঁকিয়ে রইলো।তরুর জ্ঞান ফিরেছে দেখে মৃন্ময় যেনো প্রাণ ফিরে পেলো। উঠে বসতে চাইলো তরু, মৃন্ময় সাহায্য করলো ওকে ।
—”চোখ মুখে এত উচ্ছ্বাস কিসের?”
প্রশ্ন করলো তরু।গা গুলাচ্ছে না এখন আর।শরীর মোটামুটি ঠিক লাগছে।
—”কজ উই আর প্রেগন্যান্ট। “
মূখটা কুচকে গেলো তরুর।কি বলছে! মৃন্ময় নিজের ভুল বুঝতে পারলো। খুশির ঠ্যালায় ইংলিশের ইজ্জত শেষ করে দিচ্ছে। সে আবারও বলল,
—”বিকজ উই আর প্যারেন্টস।”
—”কি বলছেন?”
—” ধুরো ইংলিশের গুষ্ঠির মাইরে বাপ।আমরা বাবা মা হতে যাচ্ছি তরু।তুমি প্রেগন্যান্ট”
তরুর দুইগাল হাতে নিয়ে বলল মৃন্ময়।তরুর চোখমুখ চিকচিক করে উঠলো। আশ্চর্য্য ও কম নয়।
—”সত্যিই?”
—”ইয়েহ”
মৃন্ময়এর বুকে আনন্দে ঝাঁপিয়ে পড়লো তরু। উদাম বুক খামচে ধরে বেচারি কেঁদে ফেললো।এত খুশি খুশি কেন লাগছে? মা হওয়ার সুক বুঝি এরকম? মৃন্ময় আটকালো না। কাদতে দিলো। তরু বুক থেকে মুখ তুলে মৃন্মএর ঠোঁটে শক্ত করে ঠোঁট চেপে ধরলো। মিনিট খানেক সে একনাগাড়ে চেপে ধরেই রাখলো।
—”তরু”
—”উউ”
—”ছাড়ো। শরীর ঠিক নেই তোমার।ছোটমিয়া বেসামাল হয়ে যাচ্ছে।”
—”হোক”
—”কিছু করে ফেলবো”
—”করুন। আই নিড”
চলবে……
Share On:
TAGS: ডার্ক সাইড অফ লাভ, দূর্বা এহসান
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রিয়া আমার পর্ব ২
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ১৩
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ৮
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ২
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ৮
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ৯
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ১
-
ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ২৩ (১৮+ এলার্ট ❌)
-
ডার্ক ডিজায়ার গল্পের লিংক
-
ডার্ক ডিজায়ার পর্ব ৩(প্রথমাংশ + শেষাংশ)