Golpo ডার্ক রোমান্স ডার্ক সাইড অফ লাভ

ডার্ক সাইড অফ লাভ পর্ব ২৩ (১৮+ এলার্ট ❌)


ডার্কসাইডঅফ_লাভ 🖤

দূর্বা_এহসান


অদ্ভূত ভাবে হেঁটে ড্রয়িংরুমের দিকে আসছে মৃন্ময়। তার ড্রয়িংরুমের দিকে এগিয়ে আসার দৃশ্যটা অনেকটা স্লো-মোশন সিনেমার কোনো কমেডি দৃশ্যের মতো মনে হচ্ছিল। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামলেও সে নিজের ঘরের কোণ থেকে এক পা-ও নড়েনি।
নড়ার তো উপায় ছিল না। তরুকে বারবার অনুরোধ করেছিল রাতের খাবারটা ঘরে দিয়ে যেতে, কিন্তু তরু তো তরুই। খুব ইনোসেন্ট মুখ করে সে বলে দিয়েছে,

— “ওরা প্রথমবার এ বাসায় এসেছে।সবাই একসাথে টেবিলে বসতে হবে!”

তরুর এই চালটা মৃন্ময় বেশ ভালোই ধরেছে, কিন্তু এখন তার প্রতিবাদ করার মতো শারীরিক বা মানসিক,কোনো শক্তিই অবশিষ্ট নেই।সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় মৃন্ময়ের প্রতিটি কদম ছিল চরম সতর্কতায় ভরা। তার হাঁটার ভঙ্গিটা এখন এতটাই অদ্ভূত যে, যে কেউ দেখলে ভাববে সে হয়তো রোবট হওয়ার প্রশিক্ষণ নিচ্ছে অথবা মরুভূমির তপ্ত বালুর ওপর দিয়ে খালি পায়ে হাঁটছে। ব্য থা র তীব্রতায় তার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছে। দাঁত দিয়ে নিজের ঠোঁট কামড়ে ধরে সে কোনোমতে নিজের ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছিল। সিঁড়ির প্রতিটি ধাপ যেন এক একটা হিমালয় পর্বত জয়ের মতো কঠিন মনে হচ্ছিল তার কাছে।

ডাইনিং টেবিলে তখন উৎসবমুখর পরিবেশ। অরু আর আরবাজ বেশ আয়েশ করে বসে রাতের খাবারের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু মৃন্ময়কে সিঁড়ি দিয়ে নামতে দেখে সবার হাতের নাড়াচাড়া হঠাৎ থেমে গেল। চার জোড়া বড় বড় চোখ এখন মৃন্ময়ের অদ্ভূত চালচলনের ওপর নিবদ্ধ। ডাইনিং রুমের নিস্তব্ধতা যেন আরও ভারী হয়ে উঠল। মৃন্ময় বুঝতে পারছে তাকে এখন কিরকম অদ্ভূত লাগছে , কিন্তু এই মুহূর্তে মান-সম্মানের চেয়েও শরীর সামলানোটা তার কাছে বেশি জরুরি।

ঠিক সেই সময় টেবিলের এক কোণে দাঁড়িয়ে তরু মিটিমিটি হাসছে। তার চোখেমুখে এক ধরনের পৈশাচিক আনন্দ। কিছুক্ষণ আগে সে মৃন্ময়কে যে ‘সর্ষেফুল’ দেখিয়েছে, তার রেশ এখনো কাটেনি। বেচারা মৃন্ময় তখন যন্ত্রণায় কঁকিয়ে উঠলেও তরু এক মুহূর্ত দেরি না করে ঘর থেকে চম্পট দিয়েছিল। যাওয়ার সময় একবার পেছনে ফিরেও তাকায়নি যে তার ‘ছোট মিয়া’র কী হাল হলো। মৃন্ময় দাঁত চেপে নিজের রাগ আর যন্ত্রণা দুই-ই দমন করার চেষ্টা করছে।

তার প্রচণ্ড ইচ্ছা করছে তরুর সামনে গিয়ে কানের নিচে কষে একটা চড় বসিয়ে দিতে। অন্তত তার হাসিমুখটা যদি একটু ম্লান করা যেত! কিন্তু মৃন্ময় ভালো করেই জানে, এখন হাত তোলা তো দূরের কথা, জোরে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেও তার শরীরের বাকি কলকব্জা বিদ্রোহ শুরু করে দেবে। নিজের ইজ্জত টুকু বাঁচিয়ে কোনোমতে চেয়ারে গিয়ে বসতে পারাটাই এখন তার কাছে জীবনের সবচাইতে বড় লক্ষ্য মনে হচ্ছে।

অরু জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাতেই মৃন্ময় জোর করে মুখে একটা কাঁচুমাচু হাসি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করল। কিন্তু তরুর সেই বিদ্রূপাত্মক হাসির সামনে তার সব অভিনয় যেন ফিকে হয়ে আসছিল।

—কি হয়েছে?এভাবে হাঁটছো কেন?

অরুর তীক্ষ্ণ জিজ্ঞাসু দৃষ্টি যখন মৃন্ময়ের ওপর পড়ল, মৃন্ময় তখন ঘামছে। তার হাঁটার ধরনটা এমন ছিল যেন সে কাঁচের ওপর দিয়ে হাঁটছে অথবা তার দুপায়ের মাঝে কোনো অদৃশ্য বিস্ফোরক রাখা আছে। আরবাজ আর ডাইনিং টেবিলে খাবার সাজাতে থাকা রেশমার কৌতূহলী চোখ তাকে বিদ্ধ করছে। মৃন্ময় দাঁত চেপে একটা কাঁচুমাচু হাসি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করল, যেন সবকিছু খুব স্বাভাবিক। কিন্তু তার শরীরের আড়ষ্টতা আর কপালে জমে থাকা বিন্দু বিন্দু ঘাম অন্য কথা বলছিল।

চেয়ারে বসতে গিয়েও যেন সে বসতে পারছে না। শরীরের নিচের অংশের প্রচণ্ড ব্যথা তাকে জানান দিচ্ছে যে, কিছুক্ষণ আগে তরুর সেই ‘অপ্রত্যাশিত হামলা’ কতটা ভয়াবহ ছিল। কোনোমতে একটা হাত চেয়ারের হাতলে রেখে টাল সামলে সে বসে পড়ল।

অরু আবার জিজ্ঞেস করল,
— “শরীর খারাপ নাকি?”

মৃন্ময় তরুর দিকে একবার আড়চোখে তাকাল। তরু তখন টেবিলের এক কোণে দাঁড়িয়ে গ্লাসে পানি ঢালছিল আর মুখ টিপে হাসছিল। তার সেই বিদ্রূপাত্মক হাসি মৃন্ময়ের যন্ত্রণাকে যেন আরও বাড়িয়ে দিল। মৃন্ময় নিজেকে সামলে নিয়ে হালকা হেসে জবাব দিল,
—” তেমন কিছু না। রুমে একটা বড়সড় পোকা ঢুকেছিল, ওটাই পায়ে কামড়ে দিয়েছে। বিষটা একটু বেশি ছিল, চনচন করছে, তাই ঠিকমতো পা ফেলতে পারছি না।”

কথাটা বলেই মৃন্ময় আবার তরুর দিকে তাকাল। তার চোখের দৃষ্টিতে ছিল স্পষ্ট হুঁশিয়ারি। কিন্তু মৃন্ময়ের এই ‘পোকা’ উপমাটা তরুর সহ্য হলো না। সে এমনিতেই জেদি আর চটপটে মেয়ে, তার ওপর মৃন্ময় তাকে পরোক্ষভাবে ‘পোকা’ বলে গাল দিচ্ছে এটা হজম করা তার পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ল। তরুর মেজাজ মুহূর্তেই সপ্তমে চড়ে গেল। সে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে গ্লাসটা টেবিলের ওপর জোরে নামিয়ে রেখে গলা উঁচিয়ে বলে উঠল,

—”কী বললেন! আমি পোকা? আপনার সাহস তো কম না!”

কথাটা বলেই তরু বুঝতে পারল সে কত বড় ভুল করে ফেলেছে। ডাইনিংয়ে থাকা সবার কথা বলা আর হাসি তৎক্ষণাৎ থেমে গেল। পিনপতন নিস্তব্ধতা নেমে এল ঘরজুড়ে। হা করে তরুর দিকে তাকিয়ে আছে সবাই।আর অরু হাত ধোয়া বন্ধ করে বড় বড় চোখে তাকে দেখছে। সবাই যেন মনে মনে অঙ্ক মেলাতে শুরু করেছে,মৃন্ময় বলল পোকা কামড়েছে, আর তরু বলছে ‘আমি কি পোকা?’ তার মানে আসল পোকাটা কে, সেটা বুঝতে আর কারও বাকি রইল না।

পরক্ষণেই তরু নিজের মুখে হাত চাপা দিল। লজ্জায় তার ফর্সা মুখটা একেবারে লাল টকটকে হয়ে উঠল। সে বুঝতে পারছে, রাগের মাথায় নিজের গোপন অপরাধ সে নিজেই সবার সামনে কবুল করে ফেলেছে। তার ইচ্ছা করছে মাটির ভেতরে ঢুকে যেতে। ডাইনিং টেবিলে হঠাৎ হাসির রোল উঠল। অরু হাসতে হাসতে চেয়ারে হেলান দিলো।

—”ও আচ্ছা! তাহলে পোকাটা বাইরে থেকে আসেনি, ঘরেই ছিল?”

মৃন্ময় এবার একটু স্বস্তি পেল। এতক্ষণ সে যন্ত্রণায় মরছিল, কিন্তু এখন তরুর এই অপ্রস্তুত অবস্থা দেখে তার মনে যেন প্রশান্তির হাওয়া বইতে শুরু করল। যেমন কর্ম তেমন ফল’। তরু এখন লজ্জায় ডাইনিং টেবিল ছেড়ে পালাবার রাস্তা খুঁজছে, কিন্তু চারদিকের হাসাহাসি তাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলেছে। ছোট মিয়াকে কষ্ট দেওয়ার শাস্তি যে এভাবে প্রকাশ্যে ‘পোকা’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া দিয়ে হবে, সেটা বোধহয় তরু স্বপ্নেও ভাবেনি।
অরুর হাসি যেন থামছেই না। সে মৃন্ময়ের দিকে তাকিয়ে টিপ্পনী কেটে বলল,

— “তা পোকাটা কি খুব বিষাক্ত ছিল মৃন্ময়? হাঁটতে তো পারছো না একদম!”

মৃন্ময় এখন বিজয়ীর হাসি হাসছে। সে চেয়ারে একটু হেলান দিয়ে বসার চেষ্টা করে বলল,

—”বিষ তো অবশ্যই আপু, তবে অ্যান্টিডোট যখন পেয়ে গেছি, তখন ব্যথা কমে যাবে দ্রুত।”

তরু আর এক মুহূর্ত সেখানে না দাঁড়িয়ে সোজা নিজের ঘরের দিকে দৌড় দিল। পেছনে ফেলে গেল একরাশ হাসাহাসি আর মৃন্ময়ের তৃপ্তিময় চাহনি। তবে মনে মনে মৃন্ময় এটাও জানে, এই ‘পোকা’ একবার সামলে উঠলে তার ওপর আরও ভয়ংকর প্রতিশোধ নিতে পারে, তাই সাবধান থাকাটাই এখন বুদ্ধিমানের কাজ।

আরবাজের পাশেই বসেছে মৃন্ময়। আরবাজ চোখ ঘুরিয়ে তার দিকে মনোযোগ দিল। আর কেউ না বুঝুক, সে ছেলে হয়ে বুঝে গেছে হয়তো।

—ব্রো, সব ঠিক ঠাক আছে তো? না মানে সেকেন্ড বার সুন্নাতে খৎনা হয়ে যায়নি তো আবার?

মৃন্ময় তড়িঘড়ি তাকালো তার দিকে। হাসতে দেখে মেজাজ আরো চটে গেলো তার।একই সুরে নিজেও বললো,

— একটু সামলে ব্রো।রুমে তো থাকা যাচ্ছে না….

এ যেনো মুখের উপ্রে বাঁশ দেওয়া। দুজনই চুপ হয়ে গেলো।


তরু ওয়াশরুমে দরজা আটকে রেখেছে।কোনো ভাবেই সে বাইরে বের হবে না। কারণ মৃন্ময় হাতে বরফ আর মেডিসিন নিয়ে দাড়িয়ে আছে দরজার পাশেই।তরু বুঝে গেছে কি করাবে এখন তাকে দিয়ে।এই লোক আর তার বেয়াদবটাকে শাস্তি দেয়ার পরেও কিভাবে সাহস দেখাচ্ছে তরুকে দিয়ে এই কাজ করানোর। নাহ্ তরু আজকে বেরোবে না।কিছুতেই না।

—দরজা খোলো তরু।
—না না না।খুলবো না।আপনি চলে যান তারপর খুলবো।
—খুলতে বলেছি তোমাকে।
—না বলেছি।

মৃন্ময় বুঝলো তরু বেরোবে না এমন করলে। সে একদম চুপ করে দাঁড়িয়ে পড়লো দরজা থেকে একটু দূরে।বেশ কয়েক মিনিট ধরে কোনো শব্দ পেলো না তরু।ভাবলো চলে গেছে মৃন্ময়। সে দড়জা খুলে আস্তে বেরিয়ে এলো।সাথে সাথেই মৃন্ময় ওয়াশরুমের দরজা লক করে দিল। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো তরু। পালাতে চাইলে মৃন্ময় ধরে ফেললো তার হাত।

—কষ্ট হচ্ছে জান।লাগিয়ে দেও।

আকুল কন্ঠ। মূখটা ইনোসেন্ট বানিয়ে বললো মৃন্ময়।তরু অবাক হয়ে তাকালো তার পানে। সে যেনো হিপনোটাইজ হয়ে গেলো। অতঃপর আবারো হলো ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি। তরুর হাতে বরফ,আর চোখ বন্ধ করে থাকা মৃন্ময়।

চলবে…..

(নেক্সট পার্ট আসবে কঠিন কালা🌚 মিস করবেন না যেনো। তাড়াতাড়ি ৩k করে ফেলুন)

২৩ পর্বের স্পয়লার দেওয়া ভিডিওটা ২৪ পার্ট এ আসবে। ডিলিট হয়ে গেছে।

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply