Golpo romantic golpo জেন্টাল মন্সটার

জেন্টাল মনস্টার পর্ব_৫৬


জেন্টাল_মনস্টার

লামিয়ারহমানমেঘলা

পর্ব_৫৬

[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ কঠোর ভাবে নিষেধ ]
১০ তলা বিল্ডিংয়ের পার্কিং এড়িয়াতে আদ্রিসের কালো গাড়িটা প্রবেশ করতে পাশ থেকে একজন গার্ড এসে দরজা খুলে দেয়।
কিং স্টাইলে গাড়ি থেকে বের হয় সে। চেহারায় তার চিরচেনা গম্ভীরতা৷
তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে সামনের দিকে তাকিয়ে সোজা নিজের কেবিনের দিকে অগ্রসর হয় সে।
আদ্রিসের উপস্থিতিতে সকল এমপ্লয়ি উঠে দাড়ায়।
আদ্রিসের সে সব দিকে কোন খেয়াল নেই।
আদ্রিসের অফিসে আসার কিছুক্ষণ পরেই সায়েরও প্রবেশ করে।
সায়েরের সাথে পার্কিং লডে রেভেনের দেখা হয়।
রেভেন তড়িঘড়ি করে বের হচ্ছিলো তখনি সায়েরের সাথে ধাক্কা খায় ছেলেটা৷
অজ্ঞাত রেভেন মাথা তুলে তাকাতে সায়েরকে দেখে দাঁড়িয়ে যায়।
“আপনি এখনো অফিসে জান নি?”

“যাচ্ছিলাম তুই বাঁধা দিলি৷”

“লেট আমি আজকে।”

“কেন রে তুইত লেট হস না।”

“রাতে ঘুমাতে দেরি করেছি৷”

সায়ের ভ্রু কুঁচকে তাকায়,
“কেন?”

রেভেন একটা শুঁকনো ঢোক গিলে বলে,
“এত ডিটেকটিভ গিরি করিয়েন না বস। আমার বস আমার জন্য অপেক্ষা করছে। তার রাগ নাকি নাকের ডগায় ঝুলে আছে। আর একটু দেরি হলে আমাকেই সুট করে দিবে নিশ্চিত।”

কথা গুলো বলে রেভেন দৌড়ে বেরিয়ে গেলো অফিসের দিকে। সায়েরও পিছু পিছু গেলো।


আদ্রিসের কেবিনের বাহিরে এসে রেভেন নক করে।
আদ্রিস গম্ভীর কন্ঠে জবাবা দেয়,
“কাম ইন৷”

রেভেন ভারি নিঃশ্বাসের সাথে ভেতরে প্রবেশ করে,
“বস। সরি ফর লেট৷”

আদ্রিসের মুখশ্রী দেখে বোঝা যাচ্ছে তার মুড আজকে একটুও ভালো নেই।
এই ঝাঝ শুধু এই গম্ভীর মুখশ্রী দেখে শেষ হবেনা৷ এই ঝাঝ উঠবে সমস্ত এমপ্লয়িদের উপর। তাদের ভেতর রেভেনও আছে।
রেভেন তাই বেশি কথা বলছে না আজ।
আদ্রিস হাতের হাত শেষ করে রেভেনের দিকে তাকায়,
“জানিস কলা কি হয়েছিলো?”

“না”

আদ্রিসের চোয়াল শক্ত হয়ে আসে।
টেবিলের উপর জোরে হাতের রেখে সিংহের ন্যায় হুঙ্কার ছাড়ে সে,
“ওই কুত্তার বাচ্চা আমার বউকে তুলে নিয়ে গেছিলো। আমার বউকে আমার গাড়ি শহ তুলি নিয়ে গেছিলো৷”

রেভেন ভয় পেয়ে যায় হটাৎ আদ্রিসের বজ্রকন্ঠের হুঙ্কার শুনে।
সে ঠায় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। নিঃশ্বাস নিতেও ভয় লাগছে। সকাল সকাল কার মুখ দেখে দিন শুরু করেছিলো সে জানে। আদ্রিসকে আজকেই এমন ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করতে হলো।

“হি ইজ গিভিং মি ওপেন চ্যালেঞ্জ রেভেন৷
আমার আদ্রিতাকে তুলে নেওয়া পর্যন্ত ঘটে গেছে। বুঝতে পারছিস৷”

রেভেন কিছু বলার আগেই পেছন থেকে সায়েরের কন্ঠ শোনা গেলো।
“ওই হারামজাদার এত বড় সাহস আমার বোনকে তুলে নিয়ে যায়৷ ওকেত আমি নিজের হাতে খুন করব।’

রেভেন নিজের বুকে হাত রাখে। ভয় পেয়ে গেছিলো সে। এতক্ষণ গুহাতে একটা সিংহ ছিলো এখন দু’টো হলো।

” রিলাক্স হন আপনারা। এভাবে কিছুই করা যাবে না এটা রাশিয়া বাংলাদেশ না। টোটোর অকালমৃত্যুও ঘটাতে গেলে ভেবে চিন্তে প্লান বানাতে হবে।’

আদ্রিস এবং সায়ের উভয় রেভেনের দিকে চায়। রেভেনের মুখশ্রীও গম্ভীর। সে সরাসরি আদ্রিস এবং সায়েরের দিকে চায়,
“ভাবুন আদ্রিতাকে ওরা তুলে নিয়ে গিয়েছে এত বড় পদক্ষেপ নিয়ে নিয়েছে। নিশ্চয়ই ও ভেবে চিন্তে কিছু করেছে।
রাগের মাথায় এমন কিছু করিয়েন না যার ইতে বিপরীত হয়ে যায়।”

সায়ের এবং আদ্রিস উভশ বিষয়টাকে বুঝতে পারে। দু’জনই বসে পড়ে চেয়ারে।
রেভেন দীর্ঘশ্বাস ফেলে,
“আমাদের এখন উচিত টোটের প্লান কি এটা বের করা। এভাবে হাত রেগে সিদ্ধান্ত নিলেই সেটা ভুল হবে।”

“ঠিক বলেছে রেভেন। কাল আমিও ছিলাম না আশেপাশে। নিশ্চয়ই এই খবরটা টোটোকে কেউ দিয়েছে। ভেতর থেকে কেউ যদি আদ্রিতার বাহিরে আসার খবর না দেয় তবে সে খবর পেয়েছে কোথায়? এই কালপিট টাকে খুজে বের করতে হবে আগে।”

“আই সোয়ার ভাই, যেই হোক তাকে আমি মেরেই ফেলব৷”


দুপুর গড়িয়ে বিকাল হবে বলছে।
মিসেস মিহু জোহরের নামাজ পড়তে দেরি করে ফেলেছেন।
সূর্যের তেজ কমেছে।
হাতে তসবিহ নিয়ে তিনি আদ্রিতার কথা ভাবছেন। মেয়েটা লাঞ্চ করেছে কি।
দেখলেন না যে।
কথাটা মনে পড়তে নিজেকে বকতে থাকেন তিনি,
“কেমন মা আমি। মেয়েটা আমার খেলো কিনা দেখলাম না যে একবার৷”

মিসেস মিহু দ্রুত রুম থেকে বেরিয়ে আদ্রিসের রুমের সামনে চলে আসে।
রুমের দরজা তখনো লাগানো। মিসেস মিহু আদ্রিতাকে আওয়াজ দিতে লাগলেন,
“আদ্রিতা, আম্মাজান আমার দরজা খুলেন।”

মায়ের কন্ঠ শুনে সদ্য ঘুম থেকে জাগা আদ্রিতা দরজার দিকে তাকায়।
চোখ মুখ ফুলে উঠেছে তার। চোখের পানি গাল বেয়ে পড়েছে সেই দাগ গুলোও গালে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।
আদ্রিতা নিজের মুখটা একটু মুছে দরজা খুলে দিলো।
মিসেস মিহু আদ্রিতাকে এমন এলোমেলো দেখে ভ্রু কুঁচকে তাকালেন।
মেয়ের অবস্থা তার কাছে ভালো ঠেকলো না। মা যে সবই বুঝতে পারে।
মিসেস মিহু, আদ্রিতাকে জড়িয়ে ধরলো।
আদ্রিতা মায়ের কাঁধে মাথা রেখে চোখ বন্ধ করে নিলো।
মিসেস মিহু মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললেন,
“কি হয়েছে আম্মাজান?”

“মা আমার ভালো লাগছে না। ‘

আদ্রিতা যবে দেখে বাংলাদেশ থেকে রাশিয়াতে এসেছে একটা বারও বলেনি এ কথা। মেয়েটা এত চঞ্চল সভাবের যা সম্পূর্ণ সুবহান ভিলাকে মাতিয়ে রাখে।
আজ সেই মেয়ের মুখে এমন কথা শুনে চিন্তিত হয়ে গেলেন মিসেস মিহু৷
তিনি আদ্রিতাকে নিয়ে বিছনায় বসলেন। আদ্রিতার হাত দু’টো ধরে সেখানে চুমু খেলেন। এরপর জিজ্ঞেস করলেন,
” কি হয়েছে মা? মাকে খুলে বলো সব।”

আদ্রিতা তাকিয়ে রইলো মায়ের দিকে। সে কি বলবে নাকি বলবে না বুঝতে পারছে না। ছোট থেকে মা না পাওয়া মেয়েটা কখনো নিজের ভালো মন্দ মন খুলে বলেনি কাউকে। খারাপটা আদ্রিসের চোখে পড়লেন আড়াল থেকে আদর করেছে। সামনেত সব সময় তাচ্ছিল্যই করেছে। যদিও তখন আদ্রিসের হাতেও কিছু ছিলোনা। বাবা যদি দেখত একটা কুড়িয়ে পাওয়া মেয়েকে আদ্রিস যত্ন করে তাহলে আদ্রিতার ঠায় হতো সেই গ্রামে।
তখন আদ্রিস চাইলেও কিছু করতে পারত না।

আদ্রিতাকে চুপ দেখে মিসেস মিহু ফের জিজ্ঞেস করলেন
“আম্মাজান বলো কিছু। আমি তোমার মা। এখন ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তোমার সাথে তোমার মা আছে। আদ্রিস কিছু বলেছে?”

আদ্রিতা নিজেকে সামলে রাখতে পারলো না। মাকে জড়িয়ে ধরে ফের চোখের পানি ছেড়ে দিলো। মিসেস মিহু চিন্তিত হয়ে যাচ্ছেন মেয়ের পরিস্থিতি দেখে। তার উপরে মুখ ফুটে কিছু বলছেও না।
“আম্মাজান বলো কি হয়েছে।”

“মা, আমাকে নিয়ে একটু ঘুরতে যাবা? আজকে আমি তোমার সাথে থাকব। ওনার মুখও দেখব না। আমাকে নিয়ে যাবা কেথাও?”

মেয়ের মুখে এমন কথা শুনে আরও বেশি চিন্তিত হয়ে গেলেন মিসেস মিহু। কিন্তু তিনি বুঝতে পারলেন মেয়ের সাথে আদ্রিসের কোন ঝামেলা হয়েছে।
মেয়েটা কেঁদেছে সকালে আদ্রিসের মুডও ভালো ছিলোনা৷
আদ্রিতা এখন একা নয়। সে সানা সুবহান আলভি কথাটা কি আদ্রিস ভুলে গিয়েছে। তার মেয়েকে এখনো কষ্ট দেয় কোন সাহসে। কথা গুলো ভাবতে মিসেস মিহু প্রচন্ড পরিমাণ রেগে যাচ্ছে।
কিন্তু রাগের মাথায় কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া বা কাজ করা মহিলা মিসেস মিহু নয়।
তাই তিনি আদ্রিতার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন,
“যাও গোসল করে নাও। আমি ড্রেস বের করে দিচ্ছি আজ আমরা ঘুরতে যাব। শুধু তুমি আর আমি।”

আদ্রিতা খুশি হলো।
মায়েরা বুঝি এমনই হয়।
আদ্রিতা দ্রুত গিয়ে গোসল সেরে নেয়। একটা সুন্দর সাদা ফ্রক পরে সে।
মিসেস মিহু মিরাকে বলে আদ্রিস এবং সায়ের আসলে যেন বলে তারা মা মেয়ে ঘুরতে গিয়েছে।
মিরা মাথা নাড়ায়। তবে হটাৎ মিসেস মিহুর আদ্রিতাকে নিয়ে বের হবাটা বুঝলো না সে। আদ্রিসের যে রাগ। জিজ্ঞেস না করে আদ্রিতা বের হলে ফিরে আবার এলাহী কান্ড শুরু করবে।
মির আমতা আমতা করে প্রশ্ন করলো,
“আন্টি ইয়ে মানে আদ্রিস জানে?”

প্রশ্নটা শুনে ভ্রু কুঁচকে নিলেন মিসেস মিহু।
“কেন মা? আদ্রিসকে জানতে হবে কেন? ফিরলে বলে দিও আদ্রিতাকে ওর মা নিয়ে গিয়েছে। যা বলার আমাকে যেন বলে।”

কথাটা বলে মিসেস মিহু গাড়িতে উঠে বসলেন। তিনি ড্রাইভ করবেন গাড়ি।
তবে পেছনে এবং সামনে দুটো গার্ডের গাড়ি থাকবে।
মিরা মিসেস মিহুর রিয়াকশন দেখে কিছু বলতে গিয়েও বললো না।
সে বুঝতে পেরেছে ঘটনা কিছু ঘটেছে।


সারাটা দিন অফিসে ক্লান্ত হয়ে রাত ৮ টার দিকে ফেরে আদ্রিস এবং সায়ের বাড়িতে।
আজ আদ্রিস সাথে করে ফুল আর চকলেট নিয়ে এসেছে আদ্রিতার জন্য।
সকালে বকেছে মেয়েটা নিশ্চয়ই কান্না করেছে।
সায়ের, আদ্রিসকে হটাৎ ফুল কিনতে দেখে জিজ্ঞেস করে কেন ফুল কিনছে। আদ্রিসও বলে দেয় কালকে সে বকেছে আদ্রিতাকে৷ এবং একটা দুটো থাপ্পড়ও মেরেছে।
সায়ের ভ্রু কুঁচকে তাকায়,
“কি এভাবে তাকাচ্ছো কেন? আমার জায়গায় তুমি থাকলে কি করতে? আমাকে বলেও নি ভাবতে পারো?”

সায়ের বুঝে বিষয়টা সে হলে হয়ত আরও কিছু করে ফেলত। দু’জন দু’জনের রাগ সম্পর্কে বেশ ভালোই অবগত। তার উপর আদ্রিতা যা করেছে তা ঠিক করেনি।
তাই সায়ের বেশি কিছু বলেনা।
দু’জন মেনশনে পৌঁছে গেলে আজ আদ্রিতাকে লিভিং রুমে না দেখে আদ্রিস ভাবে আদ্রিতা হয়ত রাগ করেছে।
তাই সে উপরে চলে যায়।
উপরে রুমে আদ্রিতাকে না দেখে আদ্রিস ভাবে হয়ত গাল ফুলিয়ে মিরার কাছে গিয়েছে তার বেড়াল ছানা। তাই সে মিরার রুমে যায়৷
“আপু আদ্রিতা কোথায়?”

মিরা কিছু পেপার ওয়ার্ক করছিলো। আদ্রিসকে দেখে সে মাথা তুলে তাকায়। কাগজের উপর পেপার ওয়েট দিয়ে উঠে দাঁড়ায়,
“ও তুই চলে এসেছিস? চল নিচে চল খাবার দিচ্ছি।”

“আপু আদ্রিতা কেথায়?”

“আদ্রিতা আন্টির সাথে গিয়েছে ঘুরতে আন্টি বলল আজকে লেট হবে।”

কথাটা শোনা মাত্র আদ্রিসের মাথায় পুনরায় রাগ উঠে গেলো। মেয়েটা আবার ওকে না বলে বেরিয়েছে।
“কখন বেরিয়েছে?”

“বিকালে, তুই খাবিত চল আজ খাবার দিচ্ছি।”

“না খাব না। তুমি সায়ের ভাইকে খাবার দাও।”

আদ্রিস ফিরে যেতে নিলে মিরা পেছন থেকে বলে,
“রাগছিস কেন? আদ্রিতা ওর মায়ের সাথে গিয়েছে একা যায় নি। বকবি না একদম। তোর সভাবই খারাপ হয়ে যাচ্ছে দিন দিন।”

আদ্রিস কথা গুলো শুনেও দাঁড়ায় না। নিজের রুমের দিকে চলে যায়। মিরা দীর্ঘশ্বাস ফেলে।

চলবে?

[ রেসপন্স করবা নাকি? সত্যি বলো আমার কিন্তু আর সহ্য হচ্ছে না। ]

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply