নুসরাতসুলতানাসেঁজুতি
গুণে গুণে দশদিন পর বাড়ি ফিরেছে অয়ন। বলেছিল পরশু,অথচ পাক্কা দশদিনের মাথায় আজ ওকে দেখা গেল সৈয়দ নিবাসের দোরগোড়ায়। তখন সন্ধ্যে নামার মূহুর্ত। ইউশা সোফায় দুই পা তুলে হেলান দিয়ে বসেছে। কোলে ফিজিক্সের মোটা বই। পাশে ক্যালকুলেটর, নোটবুক। পড়ায় মন নেই,কিন্তু ইউশা চেষ্টা করছে পড়তে। মুখে নেয়া কলমের গোড়াটা কামড়ে কামড়ে অন্যমনস্ক নজর বইয়ের কালিতে ধরে রাখল ও।
হঠাৎ ধুপ করে ভারি মতো কিছু পড়ল পাশে। নড়ে উঠল মেয়েটা। চাইল ঘাড় ঘুরিয়ে।
অয়ন কাঁধ থেকে ব্যাগ নামিয়ে রেখেছে। ও তাকাতেই ভ্রু উঁচিয়ে বলল,
“ পড়ছিস? না ফাঁকি বাজি হচ্ছে?”
ইউশা নাক ফুলিয়ে বলল,
“ এই তোমার দুদিন? পরশু ফিরব বলে দশদিন কাটিয়ে দিলে?”
অয়ন মুখোমুখি সোফায় গিয়ে বসল। শকস খুলতে খুলতে জানাল,
“ ওখানকার বাচ্চারা খুব অসুস্থ। প্যান্ডেমিকের মতো হাম দেখা দিচ্ছে। তাই ক্যাম্পেইন দুদিনের জায়গায় পাঁচদিন করার সিদ্ধান্ত নিলো।”
“ আর বাকি পাঁচদিন থাকলে যে?”
অয়নের হাতটা থামল। কী যেন ভাবল মেঝের দিকে চেয়ে। পরপরই সেই ব্যস্ত গলায় বলল
‘’ এমনি।”
ইউশা আর প্রশ্ন করল না। উৎকণ্ঠা মিইয়ে গেল কেমন। নিজের মতো ভাবল,অয়ন ভাইয়ের হয়ত বাসায় মন টেকে না। হয়ত আর ভালো লাগে না এখানে আসতে। লাগার কথাও তো নয়। এখানে তুশি সারাক্ষণ চোখের সামনে থাকবে, মেজো ভাইয়ার সাথে ওর খুনশুঁটি চলবে, এসব দেখলে অয়ন ভাইয়ের কষ্ট হবে না?
যাকে ভালোবাসলো অন্যের সাথে তার সংসার দেখার সাহস তো সবার নেই। তক্ষুনি একটা প্রশ্ন যেন ছুটে এলো কোত্থেকে। জিজ্ঞেস করল,
“ তাহলে তুই যে তুশির সাথে অয়নের বিয়ে দিতে যাচ্ছিলি,তুই সইতি কী করে?”
ওই তিক্ত প্রশ্নে ইউশার সারা শরীর ঝাঁকুনি দেয়। ভিজে যায় বুক। প্রহৃত শ্বাসে ভাবে,ও সইতে পারতো! কারণ যেদিন অয়ন ভাই তুশির জন্যে কাবিননামায় সই করবে সেদিন থেকেই ইউশার নাম উঠতো মরা মানুষের খাতায়। আর মৃত মানুষ কখনো কষ্ট পায় নাকি!
তক্ষুনি রান্নাঘর হতে চপল পায়ে বেরিয়ে এলো তুশি। সেই গতিটা অল্প কমল অয়নকে দেখে। এগিয়ে এলো আস্তে। কফির মগটা ইউশাকে দিয়ে বলল,
“ নাও।”
কণ্ঠ পেয়ে অল্প ঘাড় তুলে আড়চোখে চাইল অয়ন। তুশির পরনে সবুজ জামদানি শাড়ি। আঁচল মায়ের মতো ঘাড়ে তুলে রাখা। চুল খোলা। দেখতে অন্যরকম লাগছে! নাকে নাকফুল,হাতে দুটো মোটা মোটা বালা। দশদিনে গাল ফুলেছে একটু। রোগা থেকে অল্পস্বল্প মোটা হচ্ছে মেয়েটা। ও কি এখন সব সময় শাড়ি পরে? বউ বউ লাগছে একদম! পরপরই নজর নামিয়ে নিলো অয়ন। চেষ্টা করল আর না তাকাতে।
ইউশা কফি হাতে নিয়ে হাসল। বলল,
“ বোসো?”
তুশি বলল,
“ না। কাজ আছে। তুমি পড়ো।”
মেয়েটা যেতে নিয়েও থামল। রয়েসয়ে ইতস্ততবোধ চাপা দিয়ে শুধাল,
“ আপনার কি কিছু লাগবে, অয়ন ভাই?”
অয়ন মাথা তোলে না।
ছোটো করে বলল,
“ না।”
তুশি ফের রান্নাঘরে ঢুকতেই, ইউশা দীর্ঘশ্বাস ফেলল। একটু আগে তুশি বলেছিল,কফি নিয়ে এসে ওর সাথে গল্প করবে। আর এখন কেমন কাজের ছুঁতোয় পালিয়ে গেল! বাড়িটা আহামরি বদলে গেছে এখন। তুশির অস্বস্তি হয়,অয়ন ভাইয়ের অস্বস্তি হয়। হয়ত বা অয়ন ভাইকে দেখলে ইউশারও আজ অস্বস্তি হতো! যদি না সেদিন অত সুন্দর করে ওকে বোঝাতো সে। ইউশা কফির মগটা ঠোঁটের কাছে ধরতে গিয়েও থামল। অয়ন জুতো খুলে শার্টের কলার আলগা করে হেলান দিয়ে চোখ বুজেছে।
ইউশা মগ বাড়িয়ে দিয়ে বলল,
“ খাবে,অয়ন ভাই?”
“ না, তুই খা।”
ও আর কথা বাড়াল না।
তনিমা হাজির হলেন সেসময়। ভারি স্ফূর্ত শোনাল গলার স্বর,
“ অয়ন এসছে নাকি?”
অয়ন চোখ মেলে চাইল,
“ কেমন আছো, মামুনি?”
তনিমা ভেজা হাতটা শাড়িতে মুছতে মুছতে ওর পাশে এসে বসলেন।
“ তুই কেমন আছিস?”
“ ভালো।”
“ এত দেরি হলো কেন ফিরতে? বেশি কাজ ছিল?”
“ হ্যাঁ।”
“ মুখচোখ শুকনো লাগছে কেন এত,খিদে পেয়েছে?”
অয়ন কিছু বলল না। একবার দোতলায় দেখে বলল,
“ ভাইয়া বাসায় নেই?”
“ না।”
ও জিভে ঠোঁট চুবিয়ে বলল,
“ ওরা কি ভালো আছে এখন?”
তনিমার হাসিটা কমে যায়। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
“ আছে। এইত কালই ফিরল।”
অয়ন ভ্রু কুঁচকে বলল,
“ফিরল বলতে, কোথায় গিয়েছিল?”
“ বেড়াতে।”
“ ওহ!”
ইউশা চুপ করে আছে। মা-ছেলের কথার মাঝে ওর তো বলার কিছু নেই।
তনিমা বললেন,
“ আমি তো সেদিনই বললাম, ওরা ওদের মতো এগিয়ে গেছে। এবার তোরও এগোনো উচিত।”
“ আমি পিছিয়ে নেই,মামুনি।”
“ তাই?”
অয়ন চোখ গোছাল,
“ সন্দেহ হচ্ছে? ”
“ হচ্ছে। শুধু আমার একার না, সবার হচ্ছে। ইউশাকে জিজ্ঞেস কর,ও একই কথা বলবে। না রে ইউশা?”
ইউশা মহাবিপন্ন হয়ে বলল,
“ আমি মানে,আমি…”
অয়ন হেসে ফেলল,
“ এখন তোমাদের সন্দেহ কমাতে কী করতে পারি?”
“ নতুন করে কী বলব বাবা? আমার তো একটাই কথা, জীবনটা গুছিয়ে নে। বয়স তো হয়েছে। আমি জানি তুই ইচ্ছে করেই দুদিনের বদলে দশদিন সিলেট কেন থেকে এসেছিস। এভাবে কি জীবন চলে? বাস্তবতা থেকে কত দিন পালাবি? কত দিন লুকোবি নিজেকে? তুই যত একা থাকবি, তোর তুশির জন্যে তত খারাপ লাগবে। ভাইয়ের প্রতি রাগ বাড়বে। এর চেয়ে ভালো হবে,এবার অন্য কিছু ভাব।”
“ অন্য কিছু বলতে?”
তনিমা রয়েসয়ে বললেন,
“ বলিস তো, তোর জন্য একটা মেয়ে দেখি বাবা?”
ইউশা বইয়ের লাইন মার্ক করছিল,থমকে গেল হাতটা। চোরা, কাঁপা চোখ তুলে চাইল অয়নের উত্তর শোনার আশায়। সে বলল,
“ মেয়ে দেখবে?”
“ তুই বললে দেখব। এমন মেয়ে আনব, যে আমার ছেলেকে নিজের সব টুকু দিয়ে আগলে রাখবে,ভীষণ ভালোবাসবে। যার কাছে থাকলে আমার অয়নের মনেই হবে না, ভালোবাসার কমতি আছে কোথাও। দেখব, বল?”
অয়ন আড়চোখে ইউশার দিকে চাইল। মেয়েটার সারা মুখ লালচে। নাকের ডগাটা তিরতির করছে। নিচের দিক চেয়ে ঢোক গিলছে বারবার। হঠাৎ সব বইখাতা গুছিয়ে উঠে দাঁড়াল সে। অমন কাঁপা, ব্যস্ত গলায় বলল,
“ আমি রুমে যাই, বড়ো মা।”
খুব অস্থির পায়ে হাঁটা ধরল ইউশা। কফি পড়ে থাকতে দেখে তনিমা পিছু ডেকে বললেন,
“ কফিটা নিলি না?”
“ খাব না।”
ইউশা চলে যায়, এক রকম পালায় এই কঠিন পরিস্থিতি থেকে। তনিমা এসব বুঝলেন না। বরং অধৈর্য হয়ে বললেন,
“ কিছু তো বল, অয়ন। মরার আগে তোর একটা গতি দেখে যাই।”
অয়ন নির্লিপ্ত নয়নে তখনো চেয়ে রইল ইউশার যাওয়ার দিকে। তারপর মায়ের দিকে নজর ফিরিয়ে আনল। মুচকি হেসে বলল,
“ দেখি, জানাব।”
সামনে খোলা বই,বাতাসে পৃষ্ঠা গুলো শব্দ করে উড়ছে। কখনো ক্লান্ত হয়ে হেলে পড়ছে পরের পৃষ্ঠার বুকে,তবুও ওদের ইউশার মনোযোগ পাওয়া হয় না। টেবিলের কাঠে মাথায় হাত ঠেকিয়ে বসে থাকতে থাকতে একটা সময় ঠোঁটদুটো প্রচণ্ড কান্নায় ভেঙে এলো ওর। টলমল চোখ ভরে ঝাপসা হলো সজোরে। অয়নকে ও যতই বলুক ওর খারাপ লাগে না,কষ্ট হয় না কিন্তু আল্লাহ জানেন,অয়নের পাশে কাউকে ভাবতেও ওর বুকখানা ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। দুই খণ্ড হয়ে কোনো ধারালো তলোয়ার যেন পিঠ ফুড়ে বেরিয়ে যায় বাইরে। কিন্তু সত্যিটা তো ইউশার মেনে নেয়া উচিত। একদিন কোনো না কোনো মেয়ের সাথে অয়নের বিয়ে হবে। একদিন খুব সুখে সংসার করবে সে। কিন্তু শুধু ইউশার পাওয়া হবে না তাকে। অয়ন ভাই তো বলেই দিয়েছে, কোনোদিন ওকে ভালোবাসবে না। বাসবেও বা কী করে? যাকে এক কালে ছোটো বোন ভেবে এসেছে,হুট করে তার ডাকে সাড়া দেয়া যায় না। চাইলেও পালটানো যায় না ওই দৃষ্টি। অয়নের চোখে সেদিন যে অবিশ্বাস ছিল, যে বিস্ময় ছিল,যেন সে ভাবতেই পারছে না ইউশা ওকে ভালোবাসতে পারে। এমন বোকামি করবে ইউশা এ যেন ভাবাও পাপ,শোনাও ভুল।
ইউশার শেষ পরীক্ষা এই মাসের আট তারিখ। ও চোখ-মন টেনেহিঁচড়ে এনে পড়ায় মন দিতে চাইল,হচ্ছিল না। ব্যর্থ প্রেমের তোড়ে বারবার বুক ধ্বসে যাচ্ছে।
তক্ষুনি লম্বা লম্বা পা ফেলে ঘরের ভেতর ঢুকল কেউ একজন। কেমন তেড়েমেরে এসেই এক হ্যাচকা টানে ইউশার কনুই ধরে চেয়ার থেকে টেনে তুলল সে। কান্নায় মত্ত মেয়েটার বুক ছ্যাৎ করে উঠল। ভড়কে যাওয়া চোখ ঝাপ্টে চাইতেই,দেখল দাঁড়িয়ে আছে অয়ন।
তার চোখমুখ স্থির। অচপল কুচকুচে কালো মনি দুটো। জিজ্ঞেস করল নিষ্প্রভ গলায়,
“ ওভাবে চলে এলি যে?”
ইউশা মাথা নুইয়ে নেয়,
জিভে ঠোঁট চুবিয়ে বলে,
“ তোমরা,তোমরা কথা বলছিলে তো,পড়তে পারছিলাম না।”
অয়ন ঠোঁটে টেনে হাসল। হাত এগিয়ে টেবিলে রাখা উলটো বইটা সোজা করে দিতেই, ইউশার মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল। বেখেয়ালে বই এতক্ষণ উলটো মেলে বসেছিল? অস্বস্তিতে ইউশা মরে যায়। অগোছালো চোখটা এদিক-ওদিক ফেলে চেষ্টা করে প্রসঙ্গ কাটাতে।
জিজ্ঞেস করে,
“ কিছু কি বলবে তুমি?”
অয়ন জবাব দিলো না। চেয়ে রইল এক যোগে। আস্তেধীরে চোখদুটো ইউশার ফরসা মুখে ঘোরাল। ইউশা ঘাবড়ে গেল এবার। গুরুতর হয়ে বলল,
“ কিছু হয়েছে,অয়ন ভাই?”
অয়ন উত্তরের বদলে আর্দ্র স্বরে ডাকল,
“ ইউশা!”
এই ডাক ইউশার সহ্য হয় না। বুক ধরে যায়,কান ঝিমঝিম করে। জড়িয়ে যাওয়া কণ্ঠ দিয়ে বলল,,
“ জিইই?”
অয়ন একবার শ্বাস টানল,পরপর টেনে নেয়া দমটাই ঝাড়ল ফোস করে। ভণিতাহীন বলল,
“ ভেবে দেখলাম, আমাকে তোর পাওয়া উচিত!”
থমকে চাইল মেয়েটা। ,
“ মানে?”
অয়ন বলল,
“ এই দশ দিন আমি বাড়ি থেকে দূরে ছিলাম,নিজেকে সময় দেয়ার জন্যে। এই দিনগুলোর প্রতিটা সেকেন্ড,প্রতি মিনিট,প্রত্যেকটা ঘন্টা আমি ভেবেছি,বারবার ভেবেছি! আর যতবার জিজ্ঞেস করেছি, প্রতিবার শুধু একটাই উত্তর এসেছে,আমাকে তোর পাওয়া উচিত।”
ইউশার ভেতর ঝড় উঠল। তোলপাড় জাগল বুকের মাঝে। কাঁপা গলায় বলল,
“ কী,
কী বলতে চাইছ, অয়ন ভাই?”
অয়ন সোজাসাপটা বলল,
“ আমায় বিয়ে করবি?”
আকাশ থেকে ছিটকে পড়ল মেয়েটা। ভীষণ গতিতে দুই ঠোঁট ফাঁকা হয়ে গেল।
কিংকর্তব্যবিমুঢ় বনে বলল,
“ কীহ!”
অয়নের হাতটা ইউশার কনুই থেকে কব্জিতে নেমে আসে। এবার মোমের মতো করে ধরল সে।
বিষণ্ণ গলায় বলল,
“ আমি তো আমার ভালোবাসা পাইনি,তোকে তোর ভালোবাস পাইয়ে দিই চল।”
ইউশা স্তম্ভিত হয়ে চেয়ে রইল। দুচোখ ছাপানো অবিশ্বাসের সাথে নির্বুদ্ধিতা যেন! সৎবিৎ ফিরল অদূর থেকে ভেসে আসা গায়েবি কোনো শব্দে। চিবুক নুইয়ে নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে,
হাতটা ছাড়িয়ে নিলো সে। নীচু স্বরে বলল,
“ তা হয় না, অয়ন ভাই!”
“ কেন? ভালোবাসিস না আমাকে?”
“ তুমি তো বাসো না।”
“ তাতে কী এসে যায়?”
“ এসে যায় না? ভালোবাসা ছাড়া সংসার হয়!”
অয়ন উদাস কণ্ঠে বলল,
“ এখন বাসি না। কিন্তু ভবিষ্যতে হয়ত বাসতেও পারি।”
“ তার কি কোনো নিশ্চয়তা আছে?”
“ জানি না। থাকতেও পারে। ভাইয়াকে দেখে বুঝিসনি? ভাইয়া তো এক সময় তুশিকে সহ্যই করতে পারতো না। দুজনের কেউ চাইতো না কাউকে। অথচ আজ দেখ, তুশির জন্যে ও আমার বিপক্ষে চলে গেল। আজ যেন তুশি ছাড়া ও কিছু ভাবতেই পারছে না। ভাইয়া যদি অমন অনীহা সত্ত্বেও তুশিকে আজ এত প্রচণ্ড মাত্রায় ভালোবাসতে পারে,আমিও নিশ্চয়ই পারব।”
ইউশা কাষ্ঠ হেসে বলল,
“ মেজো ভাইয়া পেরেছিল,কারণ তার জীবনে দ্বিতীয় কেউ ছিল না। ভাইয়ার হৃদয়ে জায়গা ছিল। কিন্তু তোমার তা নেই। যেখানে অন্য একজনের বাস, সেখানে আমি গিয়ে কোথায় থাকব?”
“ ইউশা, এত কিছু ভাবলে চলবে না। লাইফ ইজ নট আ ক্যালকুলেটর!
আমার মনে হয়েছে আমি যদি তোকে ফিরিয়ে দিই; জীবনের সঙ্গে, তোর সঙ্গে অনেক বড়ো একটা অন্যায় হয়ে যাবে। এত ভালোবাসিস, জেনেবুঝেও তা আমি ফেরাই কী করে?”
ইউশা একইরকম হেসে বলল,
“ করুণা করছো?”
“ উহু, মুভ অন করতে চাইছি। আর মুভ অন একা একা হয় না। এটা একটা রাস্তার মতো। খুব পিচ্ছিল একটা রাস্তা। যেখানে এক পা হাঁটতে গেলে দশবার হড়কে যাওয়ার ভয় থাকে। কিন্তু সেই পথে যদি পাশে কেউ দাঁড়ায়, যে শক্ত করে হাত ধরে রাখবে, ভরসা দেবে,তখন আর পিছলে যেতে হয় না। বরং ওই হাত ধরে ফের উঠে দাঁড়ানো যায়,সামনে এগিয়ে যাওয়া যায়। ইউশা আমি চাইছি, আমার সেই রাস্তাটায় ওই হাত বাড়ানো মানুষটা তুই হয়ে আয়।”
“ কিন্তু আমি তো কারো অপশন হতে চাই না, অয়ন ভাই।”
অয়ন উদ্বেগ নিয়ে বলল,
“ ইউশা,আমি তোকে আমার জীবনের অপশন বানাচ্ছি না। এটুকু বিশ্বাস রাখ। আমাকে একটু সময় দে। আমি ঠিক পারব,দেখিস। তুই শুধু আমায় একটু সাহায্য কর প্লিজ!”
ইউশার কণ্ঠে প্রাণ নেই। শুধু বলল,
“ আর বাড়ির লোকেরা? তারা কী ভাববে অয়ন ভাই? বাবা মা,বড়ো মা,চাচ্চু, দিদুন কী বলবে? কী জবাব দেবো সবাইকে? দুদিন আগে যার সাথে আমার বোনের বিয়ে হওয়ার কথা ছিল,যে আমার বোনের জন্যে এতটা উন্মাদ, আজ আমি তাকে বিয়ে করতে চাই? এমন বেহায়াপনা আমাকে দিয়ে হবে না। এসব আমি মুখে আনবও বা কী করে?”
অয়ন চিবুক শক্ত করে বলল,
“ সেটা আমি বুঝব। তুই তোর কথা বল। তুই রাজি কিনা আমার কাছে সেটা ম্যাটার করছে।”
ইউশা মাথা নত করল। ছটফটে চিত্ত শান্ত করে বলল,
“ আমি জানি না।”
অয়ন থম ধরে চেয়ে রইল ওর মুখের দিকে। তড়বড় করে বেরিয়ে গেল পরপর। অমনি ধপ করে চেয়ারে বসে পড়ল ইউশা। ধাঁধায়, দ্বিধায়, দোটানায় ভুগতে ভুগতে হুহু করে মাথা ঠেসে কেঁদে উঠল জোরে।
তখন ঘড়িতে সাড়ে দশটা ক্রস করেছে। মাত্রই ফিরেছে সার্থ। দোরগোড়া থেকে ঢুকতে গিয়ে শওকত আর ও পাশাপাশি হলো। থামল দুজনেই। সার্থ বাবার দিকে না তাকালেও,শওকত বললেন,
“ যাও।”
সার্থ কোনো ভদ্রতা দেখাল না। বাবার পাশ কাটিয়ে নিস্পৃহ চিত্তে ঢুকে গেল ভেতরে। ছেলের এত পাথুরে হাবভাব দেখে,পোড়া
শ্বাস টানলেন ভদ্রলোক। একটা পুরোনো স্মৃতি ভেসে উঠল চোখে। সেবার ঈদ-উল-আযহার সময়, কোরবানি দেয়ার জন্য সবাই গ্রামের বাড়ি ছিল। শওকতও ফিরলেন ক্যান্টনমেন্ট থেকে। হাঁট থেকে গোরু নিয়ে আসার পর, উঠোনে বেঁধে রাখা হলো৷ সায়ন দাঁড়িয়ে ছিল দূরে। ওর পাশেই ছোট্টোখাট্টো অয়ন। খালি গায়ে বসে বসে কলা খাচ্ছে ছেলেটা! দিদুন মাত্রই গোসল করিয়ে দিয়েছেন। গোরুর বড়ো বড়ো শিং, আর গাট্টাগোট্টা কালো শরীর দেখে ভীষণ ভয় লাগে সায়নের। সেজন্যে কাছে যাচ্ছে না। সার্থর আবার ভয়-ডর নেই। গোরুর পাশে আসন করে বসে ঘাস খাওয়াচ্ছিল ও। সায়ন বলল,
“ চলে আয় না। লাথি মারলে কী হবে?”
সার্থ গোরুর পিঠে হাত বুলিয়ে সায়নকে দেখিয়ে বলল,
“ ওই ভীতু টাকে একটা গুঁতো দিয়ে আয়,তো।”
আঁতকে উঠল সায়ন। গোরু বাঁধা, অথচ না না বলে আর্তনাদ ছুড়ল সে।
সার্থ মজা পেয়ে গেল। গোরুর রশিতে হাত দিয়ে বলল, “ এই দিলাম,খুলে দিলাম!”
সায়ন ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে বলল,
“ না না,প্লিজ! এমন করিস না।”
শওকত ওর চ্যাঁচানো শুনে এগিয়ে এলেন। শুধালেন,
“ কী হয়েছে?
আবার কী করেছ তুমি সার্থ?”
সার্থ বাবাকে দেখেই ভদ্র হয়ে,মাথা নত করে দাঁড়াল। অয়ন কলা চিবোতে চিবোতে বলল,
“ মেজো ভাইয়া বলো ভাইয়াকে গোলু ছেলে দেয়াল ভয় দিচ্চে!”
সায়ন দুপাশে ঘাড় নেড়ে বলল,
“ না না বাবা,ভয় দিচ্ছে না। আমরা তো খেলছিলাম!”
তক্ষুণি গোরুটা ছুট লাগাল। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল সবাই। সার্থ বোকা হয়ে গেল সবার আগে। চেয়ে দেখল গোরুর রশি ছুটে গেছে। জিভ বেরিয়ে এলো ওর। ও তো ভয় দেখাতে গিয়েছিল,রশি খুলল কী করে?
ততক্ষণে গোরু গেইট পেরিয়ে চলে গেছে। সেই সাথে বদলেছে বাড়ির পরিবেশ। শওকত সহ বাড়ির পুরুষ ছুটতে হলো সকলকে। টানা দুই ঘন্টা ছোটাছুটি আর টানাহেঁচড়ার পর ঐ বিশাল মাপের ষাঁড়কে আয়ত্বে আনা গেল। কিন্তু সার্থ বাঁচলো না। ওর দুটো হাত ক্রস করে ধরে,ইচ্ছেমতো বকলেন শওকত। ধমকে ধমকে বললেন,
“ আর এরকম ফাজলামো করবে?”
সার্থ আনত হয়ে দুপাশে নাড়ল মাথাটা। তারপর বাবার কথায় চারবার কান ধরে ওঠবসও করল। শওকতের হাত-পা ছিলে গেছে। কনুই থেকে চামড়া উঠে গেছে এক হাতের। তনিমা স্যাভলন লাগালেন,শেক দিয়ে দিলেন। এরপর রুমে গিয়ে,বিছানায় শুয়ে একটু চোখ বুজলেন তিনি। আজই ফিরেছিলেন,আর আজই এসব। ক্লান্তিতে জুতো অবধি খোলার ইচ্ছে হলো না। কিছুক্ষণ পর টের পেলেন দুটো নরম হাত পড়েছে পায়ে। চোখটা হালকা করে একটু খুললেন শওকত। দেখলেন, সার্থ খুব আস্তে আস্তে ওনার বুট খুলে দিচ্ছে। মাঝে একবার ঘাড় উঁচিয়ে দেখল বাবা সজাগ কিনা। যখনই ও তাকায়,শওকত চোখ বুজে নেন। ভান করেন ঘুমের। সার্থ ওনার গোড়ালিতে লেগে থাকা ধুলো নিজের পরনের টিশার্ট দিয়ে মুছে দিলো। এরপর জুতো জোড়া গুছিয়ে রেখে এলো শেল্ফে । বাবার পায়ের নিচে কোলবালিশ পেতে দিলো যাতে ঘুমোতে আরাম হয়। বাবার মুখে আলো পড়ছিল বলে,পর্দাটাও টেনে দিলো সে। ফ্যানের স্পিডটা বাড়িয়ে রাখল একটু। সব শেষে ফিরে যেতে নিলেই,শওকত ডাকলেন,
“ এই যে,চোর ছেলে!”
সার্থ দাঁড়িয়ে গেল। ফিরে চাইল ভয়ে ভয়ে। শওকত উঠে বসলেন। মোলায়েম কণ্ঠে ডাকলেন,
“ এদিকে এসো।”
সার্থ হাতের বল দেখিয়ে বলল,
“ আমি তো শুধু বলটা নিতে এসছিলাম,তোমাকে বিরক্ত করতে চাইনি।”
“ এসো এদিকে।”
সার্থ এগিয়ে এলো। দাঁড়াল মাথা নুইয়ে। শওকত ওর হাত টেনে পাশে বসালেন। অথচ একবারও মাথা তুলল না ছেলেটা। ভদ্রলোক বললেন,
“ এত ভয় পাও কেন আমাকে? আমি কি তোমাকে মারি?”
সার্থ চুপ।
“ বেশি দুষ্টুমি করো দেখেই তো বকতে হয়। সায়নের মতো একটু ভদ্র হলেও তো পারো। এই যে আজ যে কাজটা করলে,কত মানুষের ঝক্কি পোহাতে হলো দেখেছ?”
সার্থ মিনমিন করে বলল,
“ সরি বাবা!”
শওকত খেয়াল করলেন ছেলের হাতের বলটা পুরোনো হয়ে গেছে। মানিব্যাগ থেকে একটা নতুন নোট তুললেন তিনি। ওর হাতে দিয়ে বললেন,
“ নাও,আরেকটা বল কিনে নিও।”
সার্থর কাচুমাচু চেহারায় চাঁদ উঠল অমনি। দুগাল ভরে হেসে বাবার দিকে চাইল সে। টাকা হাতে নিয়ে বলল,
“ থ্যাংকিউ বাবা!”
শওকত হেসে মাথায় হাত বোলালেন। সার্থ পুরোনো বলটা ছুড়ে ফেলে দিয়ে বলল,
“ তাহলে এটাকে আর লাগবে না।”
কিন্তু ওটা গিয়ে পাশের দেওয়ালে বাড়ি খেয়ে ফেরত এলো,উড়ে এসেই শওকতের ঘাড়ের ওপর পড়ল। ব্যথায় ছিটকে উঠলেন ভদ্রলোক। ঘাড় চেপে ধরলেন এক হাতে। রেগে রেগে বললেন,
“ এজন্যেই তুমি বকা খাও। যাও,যাও এখান থেকে।”
সার্থ জিভ কাটল। আতঙ্ক আর ধমকে ভো দৌড় দিয়ে ছুটে বেরিয়ে গেল সবেগে।
“ কী হলো ভাইজান? চলো?”
শওকতের ধ্যান ছুটল। নড়ে উঠলেন। সাইফুল ভেতরে ঢুকে গেছে। এপাশ ফিরে আলগোছে ভেজা চোখটা মুছে নিলেন তিনি। এসে বসলেন সোফায়। আড়চোখে দেখলেন সার্থকে। বাইরে এত গরম! তাই আসা মাত্রই তনিমা সবাইর সামনে ঠান্ডা শরবত রেখেছেন। সার্থ মায়ের সাথে কথা বলতে বলতে একবার আশেপাশে দেখল। জিজ্ঞেস করল,
“ চোরটা কোথায়?”
“ চোর আবার কী রে? ওর নাম নেই?”
সার্থ গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে হাসল একটু।
তুশি একটা বড়ো ট্রে হাতে ছুটে এলো তখনই। রেহণূমা বললেন,
“আস্তে আস্তে পড়ে যাবে।”
মেয়েটা স্ফূর্তি চিত্তে ট্রে এনে সবার সামনের ছোট টেবিলটাতে রেখে বলল,
“ বাবা দেখো!
শওকত অবাক হয়ে বললেন,
“ এত সুন্দর কেক, তুশি বানিয়েছে?”
তুশি বুক ফুলিয়ে বলল,
“ইয়েস! আজ মায়ের থেকে একটুও সাহায্য নিইনি। একা একা করেছি।”
সাইফুল নিজেই কেটে এক টুকরো পিরিচে নিলেন।
“ দেখতে তো ডিলিশাস, খেয়ে দেখি। কিন্তু কী উপলক্ষে এটা?”
মিন্তু লাফঝাঁপ দিয়ে বলল,
“ আমি পাশ করেছি তো,সেজন্যে।”
সাইফুল হতাশ শ্বাস ফেলে বললেন,
“ ৩৩ পেয়ে?”
“ না। ম্যাথ বাদে সব গুলোতে এ মাইনাস পেয়েছি।”
সাইফুল আশ্চর্য হয়ে গেলেন। রেহণূমার দিক তাকাতেই বললেন,
“ ঘটনা সত্যি।”
ভদ্রলোক অবাক হয়ে বললেন,
“ তুই এত মার্কস কী করে পেলি? নিশ্চয়ই পাশেরজনের টা দেখে?”
তুশি ভাইয়ের কাঁধে হাত রেখে বলল,
“ আরে বাবা, আমার ভাই এমনিই….”
মিন্তু এগিয়ে দিলো,
“ ট্যালেন্টেড!”
“ হ্যাঁ হ্যাঁ!”
সার্থ বলল,
“ একদম,মিন্তু আসলেই তোমার ভাই। দুজনের ট্যালেন্ট একইরকম!”
তুশি বুঝতে পারল এটা প্রশংসা নয়। নির্ঘাত ঘোর বেইজ্জতি হবে।
ভ্রু কুঁচকে বলল,
“ আমি যথেষ্ট…”
মিন্তু আবার এগিয়ে দেয়, “ ট্যালেন্টেড!”
“ হ্যাঁ হ্যাঁ!”
তারপর এক টুকরো কেক পিরিচে নিয়ে সার্থকে দিতে ঝুঁকল সে। চোখাচোখি হতেই সার্থ ভ্রু নাঁচাল। একবার সবাইকে দেখে আস্তে করে বলল,
“ শরীর ঠিক হয়েছে?”
“ সারাদিনে কতবার জিজ্ঞেস করলেন!”
ও ফোস করে শ্বাস ফেলে বলল,
“ একদিন খেয়ে দশদিন অভুক্ত থাকা কত কষ্টের তুমি জানো?”
তুশি ঠোঁট হাঁ করে ফেলল। সতর্ক চোখ ঘুরিয়ে সবাইকে দেখল আরেকবার।
রেহণূমা বললেন,
“ আচ্ছা ইউশা কোথায়? কতবার ডাকলাম, এখনো নিচে নামেনি? ইউশা, এই ইউশা? সবাই এখানে তুই ঘরে কী করছিস? আজকে খুব পড়া বেড়েছে না তোমার?”
ইউশা আর বসে থাকতে পারল না। পিলপিলে পায়ে ঘর ছেড়ে বের হলো। অথচ দরজার চৌকাঠ ছুঁতেই,মুখোমুখি বেরিয়ে এলো অয়ন। বুকটা ধক করে ওঠায়,থামল ইউশা। তবে অয়ন ওর দিকে তাকাল না আজও। নিজের মতো নেমে এলো নিচে। ইউশার মন ঝুপ করে তলিয়ে গেল বিষাদে। অয়ন ভাই নিশ্চয়ই কষ্ট পেয়েছেন,রাগ করেছেন খুব! কিন্তু ইউশা তো তা চায়নি। ওর বোধ হয় হ্যাঁ বললেই ভালো হতো! এমনিই অয়ন ভাই বিষণ্ণ হয়ে আছেন। অন্তত আবারো তার মন ভাঙতো না। ইউশার জীবন শূন্য করে হলেও অয়ন ভাই পূর্ণ থাকুক,তাও ভালো থাকুক।
শওকত অয়নকে দেখে বললেন,
“ তুমি কখন এলে?”
“ সন্ধ্যায়।”
তারপর সে সোজাসুজি মায়ের দিকে চাইল। বলল,
“ মামুনি, তুমি আমার জন্যে মেয়ে খুঁজতে চাইলে না?”
এই সময়, এমন প্রসঙ্গ তাও অয়নের মুখে? সবার মনোযোগ, তটস্থ বেগে ঘুরে এলো অমনি। তনিমা বিভ্রান্ত চিত্তে বললেন,
“ চাই-চাইলাম তো।”
সিঁড়িতে ইউশার পা আর চলছে না। বুক শুকিয়ে গেছে প্রায়। ও না করাতেই কি অয়ন ভাই এখন অন্য কাউকে বিয়ের কথা বলবে?
কোনোরকম কদম টেনেটুনে সিঁড়ির একদম কোণে এসে থামল মেয়েটা। অয়ন শওকতের দিক চেয়ে বলল,
“ বাবা, আমি বিয়ে করতে চাচ্ছি।”
শওকত বিভ্রমের তোড়ে বিস্মিত হয়ে চেয়ে রইলেন। চেষ্টা করলেন ঘটনা বুঝতে। একইরকম ভাঁজ পড়ল সার্থর কপালে। ব্যাপারটা চট করে কেউই ধরতে পারল না! তবে সাইফুল খুশি হয়ে বললেন,
“ বাহ,এটা তো ভালো খবর।”
জয়নব একবার সার্থর দিকে চাইলেন। সে তো নিজেই প্রশ্ন নিয়ে চেয়ে। এদিকেও তুশিও কিছু বুঝতে পারছে না। অয়ন-ইউশার মাঝে কিছু ঘটলে ইউশা তো ওকে জানাতো। কই,এতবার দেখা হলো,কিছু বলেনি যে!
তনিমা বললেন,
“ সত্যি বিয়ে করবি? মজা করছিস না তো?”
“ না,আম সিরিয়াস। আমি বিয়ে করতে চাই।”
জয়নব বললেন,
“ হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত কেন দাদুভাই?”
সাইফুল বললেন,
“ থাক না আম্মা,ওকে এত প্রশ্ন আমরা না করি। ও বিয়ে করবে বলছে যখন,ভাবি আপনি ওর জন্যে মেয়ে দেখা শুরু করুন। আমরাও খোঁজ নিই।”
অয়ন বলল,
“ খোঁজ নিতে হবে না।”
রেহণুমা বললেন,
“ তাহলে? যেখানে গেলি সেখানে কাউকে পছন্দ হয়েছে?”
“ না।”
শওকত অধৈর্য হয়ে বললেন,
“ মেয়েও দেখব না,তোমারও পছন্দ নেই,
আমাদের তাহলে কী করতে বলছো,নিজেই বা কী করতে চাইছ?”
ইউশা দাঁড়িয়ে ছিল অয়নের চেয়ে কয়েক হাত দুরুত্বে। মেয়েটা যখন শুষ্ক-ফাঁকা বুক নিয়ে হাহুতাশে মরছিল,অয়ন ওর কনুইয়ে এক টান মেরে নিজের পাশে এনে বলল,
“ আমি ওকে বিয়ে করব!”
চলবে…
Share On:
TAGS: কাছে আসার মৌসুম, নুসরাত সুলতানা সেঁজুতি
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৫৮
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৬৩.১
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৬০.১
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৬
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ১৫
-
হেই সুইটহার্ট পর্ব ৭
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৫২
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ৬০
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ২৬
-
কাছে আসার মৌসুম পর্ব ১১