চেকমেট_২ ||১৭||
সারিকা_হোসাইন
নিজ কক্ষে বিধস্ত অবস্থায় শুয়ে আছে রোদ।মুহূর্তের ব্যবধানে সব কিছু কেমন যেনো বিষাদে ছেয়ে গিয়েছে।চাইলেও কিছু পুরোনো স্মৃতি মন থেকে সরানোর যাচ্ছে না।রোদ উপুড় হয়ে বালিশে মুখ গুজে শুয়ে আছে।সব কিছু বিচ্ছিরি বিতৃষ্ণা ঠেকেছে তার কাছে।মনে হচ্ছে সে স্বাভাবিক মানুষ থেকে ধীরে ধীরে পাগলে রূপান্তরিত হচ্ছে।রোদ চোখ বুজে নিলো।আলোর ছটা তার ভালো লাগছে না।চোখ বন্ধ করতেই মস্তিষ্কে ভেসে উঠলো সেদিনের সেই নিষ্ঠুর ঘটনা।কোন বাছবিচার ছাড়াই শাহরানের গালে সপাটে আঘাত করেছিলো সে।মানুষটা কতোটা সম্মান দিয়েছিলো তাকে।বিন্দুমাত্র প্রতিবাদ তো দূর তার চোখে চোখ পর্যন্ত রাখেনি।তারপর?তারপর ধীরে ধীরে যোজন যোজনের দূরত্ব তৈরি করলো সব কিছুর সাথে।মুহূর্তেই কেমন পাল্টে গেলো।তার এক মিথ্যে সাক্ষীর জন্য ছেলেটার জেলে যেতে হলো।এবং শেষ পরিণতি হলো দেশ ছাড়া।
আর ভাবতে পারে না রোদ।কোন মোহে পরে ছেলেটার সাথে এতগুলো অন্যায় করেছে সে জানেনা।হয়তো আত্ম অহমিকা একটু বেশিই ছিলো।তার সাথে চাইলেই বুঝিয়ে সবটা মিট করা যেত।একজনের একজনকে ভালো লাগতেই পারে।কিন্তু রোদ যেটা করেছে সেটা অন্যায়।হয়তো শাহরান এখনো তার পিছু পিছু ঘুরলে রোদ এখনো তাকে অপমান অপদস্থ্যে ডুবিয়ে মারত।
ধীরে ধীরে রোদের জীবন থেকে হারিয়ে গেছে সব কিছু।বন্ধু,পড়াশোনা,সম্মান সব।শাহরানের নামে সাক্ষী দেবার পর প্রিয়ন্তী তাকে এড়িয়ে চলেছে হাজার গুণ।ভার্সিটির মেয়ে গুলো তাকে এভোয়েড করা শুরু করেছে।হাজার হাত বাড়িয়েও তাদের সাথে বন্ধুত্ত্ব করা যায়নি।প্রিন্সিপাল পর্যন্ত অসহযোগী আচরণ উপহার দিয়েছে তাকে।রোদের ডিপ্রেশন কি এমনি এমনি বেড়েছে?সব কিছু হারিয়ে সে একাকী।বোবা প্রাণী দুটোও তাকে ফেলে হারিয়ে গেছে।কি আছে আর এই জীবনে?পড়াশোনাটাও তো ঠিকঠাক যাচ্ছে না।একটা সেমিস্টার বেহুদা নষ্ট হলো।সবাই সেকেন্ড সেমিস্টারে চলে গেলো।সে ফেইল করে পিছিয়ে রইলো আগত নতুন দের মাঝে।
নিজের কপালের অদৃষ্টে রোদের চোখ ফেটে জল এলো।ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো সে।শোয়া থেকে উঠে বসে হাতের তালু দিয়ে চোখ মুছে নিলো।এমন সময় দৃষ্টিতে কিছু লাগলো।দুই হাত মেলে সামনে ধরলো রোদ।তার চোখ কোটর ছেড়ে বেরিয়ে আসার উপক্রম হলো।ভ্রু সরু হলো।মসৃন কপাল জুড়ে বিস্ময়ের ভাঁজ।কেপে উঠলো গোলাপি ঠোঁট জোড়া।ছলছল হলো স্বচ্ছ সমুদ্র চোখ।
রোদের দুই হাতেই লাল কালি দিয়ে টেনে টেনে লিখা
“লাভ টু হ্যাট ইউ”
লেখাটা দেখেই রোদের মস্তিষ্ক ঘুরিয়ে উঠলো।সে ঘষে ঘষে লেখা গুলো তুলতে চাইলো।উঠলো না একবিন্দু।দৌড়ে ওয়াশরুমের বেসিনে গিয়ে দুহাত ভর্তি সাবান মাখলো।এরপর জোড়ে জোড়ে ঘষলো।লাল কালি তাকে তাচ্ছিল্য করে ফর্সা হাতেই স্থায়ী হয়ে গেড়ে রইলো।রোদ হ্যাট কথাটা নিতে পারছে না।সে হিতাহিত জ্ঞান শূন্য উন্মাদ হলো।চিৎকার করে কেঁদে উঠলো।এরপর বাইরে বেরিয়ে ফল কা*/টার চা/কু দিয়ে ফালি ফালি করলো দুই হাত।চুপকথা মেয়ের এহেন হিংস্র রূপে দৌড়ে এলো।মেয়েকে থামানোর চেষ্টা করলো।নাতনির চিৎকার চেঁচামেচি তে রূপকথার নানা ও দৌড়ে এলো।কেড়ে নিল চা/কু
রোদ চিৎকার করে হাত মেলে ধরে শুধালো
“কে লিখেছে এই কঠিন কথা গুলো?
হাতে এখন আর কোনো লেখা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না।পুরো হাত জুড়ে তরল রঞ্জনের ছড়াছড়ি।চুপকথা স্তব্ধ দাঁড়িয়ে রইলো।চোখের সামনে মেয়ের পতন দেখতে পাচ্ছে সে।রুদ্রের অভিশাপ মেয়ের উপর পতিত হয়েছে।বরবাদ হবার জন্য আর কি চাই?পাপ তো বাপকেও ছাড়ে না।
এদিকে চুপকথার বাবা সরে গিয়ে রুদ্রের নম্বরে কল করলেন।জানালেন
“তোমার মেয়ের পাগলের চিকিৎসা প্রয়োজন রুদ্ররাজ চৌধুরী।মেয়েকে বাঁচাতে চাইলে ফিরে এসো।
[দুই বছর পর]
ডিপ্রেশন, হাইপার একটিভিটি আর মস্তিস্ক হ্যালুসিনেশন এর মত বড় বড় জটিল সমস্যা কাটাতে রোদের দুটো বছর লেগে গেলো পুরোপুরি।মুহূর্তের ব্যবধানেই মেয়েটির জীবন থেকে কিভাবে যেনো বিধ্বংসী সুনামির ন্যয় দুটো বছর চলে গেলো।সেই সাথে লন্ডভন্ড করে দিয়ে গেলো সব কিছু।এই দুই বছরে অনেক কিছু পাল্টেছে।শেষমেশ নিজের দম্ভ ভেঙে রুদ্র ক্যালিফোর্নিয়ায় শিফট হয়েছে।সারফরাজ এর পরিবারের সঙ্গে মিটেছে সমস্ত দূরত্ব।ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের বাড়িতেই পরিবার নিয়ে বাস করছে রুদ্র।চুপকথা সমস্ত অভিমান ভুলে গিয়ে রুদ্রকে ক্ষমা করে দিয়েছে।রূপকথার সাথে প্রায়শই দেখা সাক্ষাৎ চলে তাদের।প্রতিনিয়ত সারফরাজ রুদ্রের যাতায়াত চলে নিজেদের বাড়িতে।মনের টানে সারফরাজ এর বাড়িতে প্রায়শই চুপকথা সময় কাটায়।এত এত কিছুর মধ্যে শুধু শাহরানের বিষয়ে কথা উঠলে চেপে যায় রূপকথা।চুপকথা বুঝতে পারে ছেলের জন্য রূপকথার চাপা কষ্ট।এজন্য সেও নতুন আলাপ উঠায়।এভাবেই চলছে জীবন।ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটিতে রোদের নতুন করে এডমিশনের জন্য দৌড়াদৌড়ি করছে রুদ্র।সব কিছু ছাপিয়ে নতুন করে নিজের জীবন গড়ার জন্য রোদ পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়েছে।নিয়ম করে প্রতিদিন আশেপাশের বাচ্চাদের সঙ্গে সময় কাটায় সে।পরিচিত অপরিচিত সকলের সঙ্গেই বিভিন্ন দেশের ট্যুরে যায়।রুদ্র মেয়ের উপর বেঁধে দেয়া সমস্ত শিকল অনেক আগেই কে*টে দিয়েছে।রোদ এখন কেবল একটা উড়ন্ত দুরন্ত ছটফটে পাখি।
নিজের ব্যাগ পত্র সব গুছিয়ে রুম থেকে বেরিয়ে এলো রোদ।আগের মতো বোকাটি নেই সে এখন আর।নিজের ভালোমন্দ থেকে শুরু করে একা একা চলাফেরা সব কিছুই নিজেই করতে পারে।কারো উপর সহায় হয়ে এখন আর সে চলতে চায়না।মেয়ের এই আমূল পরিবর্তন চুপকথার মুখে খুশি এনে দিয়েছে।মেয়েকে সে এমনটাই দেখতে চেয়েছিলো।অবশেষে তার স্বপ্ন যেনো সত্যি হলো।
মেয়েকে লাগেজ সমেত দেখে রুদ্র উঠে দাঁড়ালো।বললো
“গাড়ি বের করছি অপেক্ষা করো।
সহসাই জবাব দিলো রোদ
“আমি একাই যেতে পারবো।তোমার যেতে হবে না।
রুদ্র চুপ রইলো ক্ষণকাল।এরপর নমনীয় গলায় বলল
“এটলিস্ট এয়ারপোর্ট পর্যন্ত পৌঁছে দেই।
“নো নিড পাপা।আমার বন্ধুরা অপেক্ষা করছে।ওদের সাথেই যেতে পারবো আমি।
রুদ্র ঠোঁট কামড়ে মাথা নিচু করলো।এরপর বললো
“দুদিন বাদে এডমিশন অস্ট্রেলিয়া যাওয়া খুব জরুরি এখন?
“দেরি হয়ে যাচ্ছে।
বলেই রুদ্রকে পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে গেলো রোদ।যাত্রা পথে জ্ঞানের বাণী শুনতে ইচ্ছে হচ্ছে না।রোদ লম্বা পা ফেলে চলে গেলো।চুপকথা তপ্ত শ্বাস ফেলে নিজের কাজে গেলো।রুদ্র চুপচাপ সোফায় বসে খবরের চ্যানেলে নিউজ দেখায় মনোযোগ দিলো।মেয়েটা হঠাতই বড় হয়ে গেলো।আজকাল তার কাছে গিয়ে দুটো কথা বলাই দুষ্কর।
প্রায় বিশ ঘন্টা উড্ডয়নের পর বিমান থামলো সিডনি কিংসফোর্ড বিমান বন্দরে।বিমান থামতেই ধীরে ধীরে যাত্রীরা বিমান থেকে নেমে ছড়িয়ে গেলো এয়ারপোর্ট জুড়ে।শুরু হলো নীরব হৈচৈ।একেক জনের গন্তব্য একেক জায়গায়।সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত হওয়া এক ট্যুরিস্ট গ্রূপএর সঙ্গে বেশ সক্ষতা জমেছে রোদের।এদের সঙ্গেই নিজেকে ভালো রাখার জন্য পাহাড়,অরণ্য,সমুদ্রে ঘুরে বেড়ায় সে।আজ তারা যাত্রা করেছে ব্লু মাউন্টেইন সিডনি দেখার জন্য।
এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়েই গাইডের সহায়তায় তারা গাড়ি ঠিক করলো।ব্লু মাউন্টেইন এখান থেকে একশত কিলোমিটার এর মত সর্পিল বৃহৎ রাস্তা ধরে গাড়িতে গেলে দুই ঘণ্টার মতো লাগবে।সকলেই গাড়িতে উঠে ছুটলো গন্তব্যে।শহর মাড়িয়ে প্রশস্ত রাস্তা পেরিয়ে ছুটে চলেছে গাড়ি।সকলেই উচ্ছাস নিয়ে উপভোগ করছে সেই সৌন্দর্য।কিন্তু রোদ কোনো এক ভাবনায় বুদ হয়ে বসে আছে।লিনা নামের এক মেয়ে রোদ কে ধাক্কা দিয়ে শুধালো
“আর ইউ ওকে?
রোদ মাথা দুলালো অল্প।এরপর সিটে হেলান দিয়ে চোখ বুজল।
প্রায় দুই ঘন্টা বিশ মিনিট পর গাড়ি থামলো ব্লু মাউন্টেইন রিসোর্ট এর সামনে।এখানে রেস্ট নিয়ে সকলেই বিকেলের দিকে হাইকিংয়ে যাবে।সেই মোতাবেক যার যার জন্য বুক করা রুমে সকলেই যাবার জন্য ব্যস্ত হলো।হোটেলে প্রচুর চাপের কারনে ম্যানেজার নিজের তালগোল হারিয়ে ফেললো।সকলের রুমের চাবি সকলকে দিয়ে হোটেল বয় দিয়ে পাঠিয়ে দিলো লিফটে।নির্দিষ্ট একটা কক্ষের সামনে এসে থামল হোটেল বয়।রোদের হাতে একটা কার্ড দিয়ে নমনীয় ভাবে ছেলেটি বলে উঠলো
“ম্যাম ভেতরে সব গুছানো আছে আপনি রেস্ট নিন।
রুম নম্বরটা একবার পরখ করলো রোদ।তাকে বলা হয়েছিল তার রুম নম্বর 809 কিন্তু এটা 806।রোদ ক্লান্তিতে এতোটা পাত্তা দিলো না।কার্ড লকে ঢুকিয়ে রুম আনলক করে ভেতরে ঢুকে গেলো সে।রুমে ঢুকে চারপাশে নজর বুলালো রোদ।বিশাল বড় একটা কক্ষ।সঙ্গে বিশাল বড় বেলকনি।কিন্তু হোটেল থেকে জানানো হয়েছিল বেলকনি ওয়ালা রুম অবশিষ্ট নেই।রোদ কপাল কুচকালো এহেন অদ্ভুত সিচুয়েশনে।হোটেল বয় বলে গিয়েছিলো রুম গোছানো।কিন্তু রুম পুরোপুরি গোছানো নয়।বিছানা অগোছালো।মনে হচ্ছে সবেই কেউ ঘুম থেকে উঠে চলে গিয়েছে।রোদ নিজের লাগেজ কক্ষের এক কোণে রেখে ব্যগ থেকে কাপড় বের করে এগিয়ে গেলো ওয়াশরুমের দিকে ।ঢুলু ঢুলু মস্তিষ্কে ওয়াশরুমের দরজা খুলতেই রোদের চক্ষু চড়ক গাছ হলো।গোলাপি ঠোঁট জোড়া ঈষৎ ফাঁক হলো।তার হাত পা কেঁপে উঠলো।চিৎকার করতে চাইলো রোদ কিন্তু পারলো না।রোদ ওয়াশরুমের দরজায় হেলান দিয়ে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো।
উন্মুক্ত গায়ে কোমরে টাওয়েল পেঁচিয়ে শাওয়ারে ভিজে চলেছে যুবক।যুবকের জিম করা মাসেল গুলো পরম যত্নে ছুঁয়ে যাচ্ছে জলের ধারা।ফর্সা ত্বক নিংড়ে অবলীলায় ঝড়ে যাচ্ছে জল বিন্দু।চকচকে শরীর গড়িয়ে অদ্ভুত মোহ ঠিকরে পরছে।রোদ ভারসাম্য হারাতে চাইলো।উক্ত যুবক নিশ্চিন্তে হাত নাড়িয়ে শরীর বুলিয়ে হট শাওয়ার নিচ্ছে।লজ্জায় চোখ ঢেকে ফেললো রোদ।ওই অনিন্দ্য সৌন্দর্য বেহায়া নেত্র পুনরায় দেখতে চাইলো।কিন্তু চোখ খুললো না রোদ।সে চুপি চুপি পা টিপে বেরিয়ে এলো।এসে বেড রুমের এরিয়ায় হুমড়ি খেয়ে মেঝেতে পরে গেলো।শরীরের ধাক্কায় টেবিলে সাজানো ফুলের টব টাইলসে পরে ঝনঝন শব্দে আলোড়ন তুললো।মুহূর্তেই সেই শব্দ হানা দিলো ওয়াশ রুমে।শাওয়ারের নব বন্ধ করে দ্রুত বাথ রোব জড়িয়ে পেছনে তাকাতেই চোয়াল ঝুলে যাবার উপক্রম হলো।ওয়াশ রুমের দরজা পুরোটাই খোলা।যুবক এবার সতর্ক হলো।রুম সার্ভিসের কেউ নক না করে ঢুকবে না।তবে কি চুর এলো।সন্তর্পনে যুবক বেরিয়ে এলো বাইরে।হাত শক্ত মুঠিবদ্ধ করে এগিয়ে গেলো সামনের দিকে ।বেড রুমের দিকে এগিয়ে আসতেই মেঝেতে এক মানবী দৃষ্টিতে আটকালো।উপুড় হয়ে পড়ার কারণে তার চোখ মুখ দেখা যাচ্ছে না।যুবক একটা ফুলদানি হাতে তুলে ভারী গলায় ধমকে উঠলো
“হু আর ইউ?
এহেন গম্ভীর ধমকে কেঁপে উঠলো রোদ।নিজেকে বাঁচানোর জন্য সে পড়িমরি করে উঠে বসলো।এরপর নিজের আলুথালু চুল ঠিক করে উঠে দাঁড়ালো।তাকালো যুবকের দিকে।হোটেল ম্যানেজমেন্ট সমস্যা বিশ্লেষণ করার আগেই চোখাচোখি হলো দুজনের।রোদ চমকিত হলো।গিললো ফাঁকা শুকনো ঢোক।দু কদম পিছিয়ে গেলো সে।সামনের মানব ও এগিয়ে এলো দু কদম।পিছাতে পিছাতে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলো রোদের।সামনে দাঁড়ানো বিশালদেহী মানব দেয়ালে দুই হাত ঠেস দিয়ে ঠোঁট বাকিয়ে তাচ্ছিল্য হাসলো।এরপর শীতল গলায় বলে উঠলো
“একটু ভালোবাসা জাহির করেছি বলে সরাসরি আমার ওয়াশরুম পর্যন্ত এসে হানা দিয়েছো রোদসী অরোরা?তা কি কি দেখলে শুনি?
রোদ ঘাবড়ে গেলো।সে থতমত করে বলে উঠলো
“বি বি বি বিশ্বাস করুন আমি কিছুই দেখিনি আই মিন ইচ্ছে করে এই রুমেই ঢুকিনি।
“তোমাকে জোর করে ভুতে এসে রেখে গেছে এখানে?
রোদ মাথা ঝাঁকালো।শাহরান কপাল কুচকালো।এরপর হোটেল ম্যানেজার এর কাছে ফোন করে গর্জে উঠলো
“একজন আউটসাইডার মেয়ে মানুষকে আমার রুমে পাঠিয়েছেন কোন সাহসে?
ম্যানেজার কেঁপে উঠলো সেই ধমকে।এরপর চেক করলো বুকিং লিস্ট।মুহূর্তেই তার মাথা ঘুরে উঠলো।লিফট ধরে ছুটে এলো তারা।ততক্ষনে রোদ কে আরেকটু কুক করে নিলো শাহরান
“ঘুরতে আসার সমস্ত মোড নষ্ট করে দিলে।পুরো ট্রিপ বরবাদ করলে।তোমার এহেন বিশ্রী চেহারা দেখানোর জন্য আমার রুমটাই পেলে?আর কোথাও যেতে পারলে না?
শাহরানের কঠিন কথায় রোদের চোখে জল জমলো।সে বিড়বিড় করে বললো
“আমার চেহারা বিশ্রী?
শাহরান চোয়াল শক্ত করে বলে উঠলো
“আলবাত।একদম শেয়ালের পটির মতো।তোমার গা থেকে জংলী পশুর হিসুর গন্ধ আসছে।আমার পুরো ঘর সেই গন্ধে ভরে গেছে
রোদ কথা বলার ভাষা হারালো।অপমানে তার ম*রে যেতে ইচ্ছে হলো।এমন অপমান আর কুৎসিত কথা পুরো জিন্দেগীতে শুনেনি সে।রোদ বললো
“আ আ আপনি আমাকে ক্ষেপানোর জন্য এসব বলছেন তাই না?
শাহরান হা হা করে হাসলো।এরপর বললো
“তোমার মতো গন্ডারের প্রেমে কি করে পরলাম ভেবেই লজ্জা পাচ্ছি।তোমার চুল গুলো ভাঙা পাখির বাসার মতো।তোমার চোখ গুলো নেকড়ের মতো ইয়াক।তোমার ঠোঁট জলহস্তীর মতো।আমার তো মনে হয় বিধাতা তোমাকে ডাইনোসর বানাতে গিয়ে ভুলে মানুষ বানিয়ে ফেলেছে।এমন বিশ্রী চেহারা মানুষকে দেখিও না।ভয় পাবে।ছি হ।
রোদ এর চোখ থেকে ঝরঝর করে জল ঝরে পড়লো।শাহরানের উপর অসম ক্ষোভ জন্মালো।বলতে চাইলো অনেক কিছু।কিন্তু তার আগেই দরজায় নক হলো।শাহরান রোদ কে ছেড়ে তেড়ে গিয়ে দরজা খুলে ম্যানেজার কে ইচ্ছেমতো শাসালো।এরপর রোদের সামনে দাঁড়িয়ে বলে উঠলো
“গেট লস্ট ফ্রম হেয়ার।
চলবে
Share On:
TAGS: চেকমেট সিজন ২, সারিকা হোসাইন
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৪
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩৭
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৮
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১৫
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ১০
-
চেকমেট সিজন ২ পর্ব ৯
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩
-
চেকমেট সিজন ২ পর্ব ২
-
ভালোবাসার সমরাঙ্গন পর্ব ৩৩
-
চেকমেট সিজন ২ পর্ব ১