ইরিন_নাজ
পর্ব_৫
আরসালানের রুমের নরম তুলতুলে বিছানায় এলোমেলো ভঙ্গিতে বসে আছে তোহফা। নিঃশব্দে পর্যবেক্ষণ করছে আরসালানের বিলাসবহুল বেডরুম। শুভ্রতায় মোড়ানো বিশাল বড় বেডরুম আরসালানের। যা সম্পূর্ণ পরিপাটি এবং গোছানো। রুমের প্রতিটি কোণে আভিজাত্যের ছোঁয়া স্পষ্ট।
এই খান বাড়িতে একাধিকবার আসা হলেও আরসালানের রুমে আজ প্রথমবার এসেছে তোহফা। তাও আরসালানের স্ত্রী হিসেবে। আরসালানকে ভয় পাওয়ায় এবং অপছন্দ করার কারণে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও তার রুমে কখনো প্রবেশ করে নি তোহফা। অথচ আজ থেকে এই আরসালানের রুমেই পার্মানেন্টলি থাকতে হবে তার। বেড শেয়ার করতে হবে রাক্ষস, বড্ড অপছন্দের লোকটার সাথে। বেড শেয়ার করার কথা ভাবতেই বুঁকের ভেতরটা ধক করে উঠল তোহফার। শুকনো ঢোক গিলল সে। তবে আরসালান রুমে নেই বলে খানিকটা স্বস্তি বোধ করল। তাকে রুমে রেখে বেরিয়েছে আরসালান। এখনো ফিরে আসে নি। অবশ্য যতো লেট করে আসবে, ততোই ভালো তার জন্যে। না আসলে আরও ভালো।
কিন্তু শরীরটা বড্ড ম্যাজ ম্যাজ করছে তোহফার। কোমরের ব্যথা কমলেও মাথা ব্যথা একটুও কমে নি। বরং বাড়ছে। এই মুহূর্তে শাওয়ার নিয়ে হালকা কিছু পড়তে পারলে বড্ড ভাল্লাগতো বোধহয়। কিন্তু সেটা তো অসম্ভব এখন। রাগে-দুঃখে সাথে করে কিচ্ছুই আনে নি সে। এক কাপড়ে চলে এসেছে। এখন অবধি কিছু মুখেও তোলে নি। ফলাফলসরূপ প্রচুর ক্ষুধাও লেগেছে তার। কিন্তু এতসব সমস্যা কাকে বলবে সে! কিভাবে বলবে! এসব ভেবে পুনরায় মনটা বিষিয়ে উঠল তোহফার। চোখ দুটো পানিতে পরিপূর্ণ হলো। দুহাতে হাঁটু জড়িয়ে তার উপর মুখ গুজল সে ।
দরজা খোলার শব্দে হাঁটুর ভাঁজ থেকে মুখ উঠালো তোহফা। টলমলে নয়নে দেখলো আরসালান এসেছে। হাতে খাবারের প্লেট। আরসালান এক পলক তোহফাকে দেখে খাবারের প্লেট বেডসাইড টেবিলে রাখলো। অতঃপর পুনরায় তোহফার দিকে দৃষ্টি স্থির করে বলল,
“যাও, ফ্রেশ হয়ে এসো। নাকি কোলে করে দিয়ে আসতে হবে?”
থমথমে হলো তোহফার মুখ। আস্তে ধীরে বিছানা ছেড়ে নামলো সে। কিন্তু উশখুশ করতে করতে নখ দিয়ে ফ্লোর খুটতে লাগলো। আরসালান কিছু একটা আঁচ করতে পারলো বোধহয়। সে কাবার্ড থেকে কিছু জিনিস নিয়ে ফিরে আসলো। তোহফা আড়নয়নে তাকাতেই আরসালান নিজের হাতে থাকা জিনিসগুলো বাড়িয়ে দিলো তোহফার দিকে। গোল গোল চোখে ওগুলোর দিকে তাকালো তোহফা। কারণ আরসালানের হাতে একটা শুভ্র টাওয়েল এর পাশাপাশি রয়েছে তার একটি শার্ট এবং প্যান্ট। তোহফাকে ওভাবে তাকাতে দেখে ভ্রু কুঁচকালো আরসালান। বলল,
“ইচ্ছে হলে এগুলো পড়তে পারো। এছাড়া আপাতত কোনো অপশন নেই। আর যদি ইচ্ছে না হয়, তবে শাড়ি পড়েই থাকো। ইওর উইশ।”
তোহফা ঠোঁট উল্টালো। এই শাড়িটা বড্ড প্যারা দিচ্ছে তাকে। তার উপর সে শাওয়ার নিবে এখন। শাওয়ার না নিলে মোটেও শান্তি পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু শাওয়ার নিয়ে পুনরায় শাড়ি কিভাবে পড়বে! শাড়ি তো পড়তে জানে না সে। সবকিছু ভেবে তোহফা, আরসালানের কাছ থেকে তার শার্ট-প্যান্ট এবং টাওয়েল নিলো। সাবধানে হেঁটে চলল ফ্রেশ হতে।
আধা ঘন্টা হয়ে যাওয়ার পরও তোহফা বের হচ্ছে না দেখে বিরক্ত হলো আরসালান। ফ্রেশ হতে গিয়ে ঘুমিয়ে গেল কিনা, ভেবে পেলো না সে। তবে আর অপেক্ষা করতে হলো না তার। খট করে দরজা খোলার শব্দে বিরক্ত চোখে সেদিকে তাকালো সে। কিন্তু তোহফাকে দেখে চোখ থেকে বিরক্তিভাব উবে গেলো তার। অদ্ভুত দৃষ্টিতে তোহফাকে পা থেকে মাথা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করলো সে। আরসালানের ওমন দৃষ্টি দেখে মুখটা কাচুমাচু হলো তোহফার। নিজেকে জোকার মনে হলো তার। কারণ তাকে দেখতে এই মুহূর্তে তো জোকারের মতোই লাগছে। আরসালানের বিশাল পোশাকে তলিয়ে আছে সে। না হাত দেখা যাচ্ছে, আর না দেখা যাচ্ছে পা। দেখা যাচ্ছে কেবল তার ছোট্ট গোলগাল মুখটা। যা এমন পরিস্থিতিতে পড়ে রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে।
তোহফা দাঁড়ালো না। প্যান্টটা কোনোমতে উঁচু করে অদ্ভুত ভঙ্গিতে হেঁটে বিছানা অবধি আসলো। কিন্তু সে অবধি আসতেই ঘটে গেলো এক অনাকাঙ্খিত ঘটনা। আরসালান, তোহফার হাত শক্তভাবে ধরে ওকে ছুড়ে ফেললো বেডে। সম্পূর্ণ শরীর কেঁপে উঠল তোহফার। ভয়ে ভয়ে বলে উঠল,
“কি করছেন…”
আরসালান বাঁকা হাসলো। তোহফার দিকে সামান্য ঝুঁকলো সে। ওর গালে লেপ্টে থাকা ভেজা চুলগুলো এক আঙুলের সাহায্যে আলতোভাবে সরিয়ে ফিসফিসিয়ে বলল,
“কি মনে হচ্ছে? কি করছি আমি?”
শিউরে উঠল তোহফা। ভয়ের মাত্রাটা বাড়লো। বিছানার সাথে মিশে যেতে চাইলো সে। কিন্তু সেটা হতে দিলো না আরসালান। টেনে সোজা করে বসালো তোহফাকে। নিজে হাঁটু ভাঁজ করে বসলো ফ্লোরে। অতঃপর তোহফার হাত টেনে নিয়ে আলতোভাবে ফোল্ড করতে লাগলো শার্ট এর হাতা। নিভু নিভু চোখ মেললো তোহফা। অবাক হয়ে দেখতে লাগলো আরসালানকে। লোকটা আবার গম্ভীর মুডে ফিরে এসেছে। খুবই সিরিয়াস ভঙ্গিতে তার শার্ট এর হাতা ফোল্ড করছে। এত কাছ থেকে আরসালানকে দেখে কেমন এক ঘোরে ডুবে গেলে তোহফা। মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে রইলো। লোকটা অতি মাত্রায় সুদর্শন। সৃষ্টিকর্তা রূপ যেনো ঢেলে দিয়েছেন এই পুরুষকে। কিন্তু ব্যবহার! সেটা তো বড়ই বিচ্ছিরি। নাকি কেবল তার সাথেই এমন আচরণ করে! এই যে মিনিট দুয়েক আগেও তার প্রাণপাখিটা উড়ে যাচ্ছিলো এই লোকের জন্য! আচ্ছা লোকটা কি তার কেয়ার করছে! এই যে এত গুছিয়ে সব ঠিকঠাক করে দিচ্ছে, এটা কি কেয়ার? নিজেকেই নিজে প্রশ্ন করলো তোহফা।
আরসালান ততক্ষনে তোহফার শার্ট এর পাশাপাশি প্যান্টও সুন্দর করে ফোল্ড করে দিয়েছে। এখন বেশ স্বাভাবিক দেখাচ্ছে তোহফাকে। কিন্তু ওকে একদৃষ্টিতে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে পুনরায় ওর দিকে ঝুঁকল আরসালান। তাতে থতমত খেলো তোহফা। নজর অন্যত্র হটালো। আরসালান তোহফার দুপাশে হাত রেখে গম্ভীর স্বরে বলল,
“নিজ দোষে আছাড় খেয়ে পরে আমার এবং আমার পোশাকের দোষ দিতে। তাই একটু ঠিকঠাক করে দিলাম। যাক গে সেসব কথা। খাবারটা খেয়ে নাও, ফাস্ট।”
অপমানে ভেতরটা ফুসে উঠল তোহফার। নাকের পাটা ফুলে উঠল। নিজেকে ধিক্কার জানালো সে কিছুক্ষন আগের চিন্তা-ভাবনার জন্য। দু-চারটে গালি ছুড়ে দিলো মনে মনে। এই লোক করবে তার কেয়ার! অসম্ভব, অসম্ভব! এই লোক তাকে উঠতে-বসতে অপমান করার জন্যই বোধহয় বিয়েটা করেছে। তোহফা রাগে-ক্ষোভে আঙুল উঁচিয়ে কিছু বলতে চাইলো। কিন্তু পাত্তা দিলো না আরসালান। কাবার্ড থেকে জামাকাপড় নিয়ে ফ্রেশ হতে চলে গেলো সে।
তোহফা কয়েকটা মিনিট থম মেরেই বসে রইল। কিন্তু খাবারের প্লেটের দিকে নজর যেতেই পেটের ভেতরটা কেমন ঘুরপাক খেয়ে উঠল তার। রাগ আর ধরে রাখতে পারলো না সে। আরাম করে খেতে বসলো।
চলবে,
(কেমন লেগেছে আজকের পর্ব, জানাবেন অবশ্যই। আর ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইল।)
পেজ লিংক :
https://www.facebook.com/profile.php?id=100084228455276
গ্রুপ লিংক:
https://www.facebook.com/groups/793917018458290/?ref=share
আইডি লিংক:
https://www.facebook.com/profile.php?id=100078880801895
Share On:
TAGS: ইরিন নাজ, প্রেমের নিঃশব্দ সূচনা
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
প্রেমের নিঃশব্দ সূচনা পর্ব ৩
-
প্রেমের নিঃশব্দ সূচনা পর্ব ১
-
প্রেমের নিঃশব্দ সূচনা পর্ব ৪
-
প্রেমের নিঃশব্দ সূচনা পর্ব ২
-
প্রেমের নিঃশব্দ সূচনা পর্ব ৬
-
প্রেমের নিঃশব্দ সূচনা গল্পের লিংক