Golpo romantic golpo কিস অফ বিট্রেয়াল

কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ২৭


কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ২৭

লামিয়ারহমানমেঘলা

[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ]
সিকদার নিবাস, চট্টগ্রাম।
লিভিং রুমে খানিকটা নীরবতা।
পুরো সিকদার পরিবার তখন এক জায়গায় বসে।
শিমুলের দু পাশে জারিফ জিনু বসে।
আহি কায়ানের আয়োজন দেখে কিছুটা ধারণা করেছে এরপর কি ঘটতে চলেছে৷
মেয়েটা একটু বেশিই বোঝে।
আহি দু হাত বুকের কাছে বেধে দাঁড়িয়ে আছে।
বানু মির্জা সবার সামনে বসে।
তিনি কায়ানের দিকে তাকিয়ে বললেন,
“কায়ান কি হয়েছে বাবা? “

কায়ান, একবার হিমেলের দিকে তাকায়। হিমেল ওকে ইসারা করে।
কায়ান এবং হিমেলের এই ইসারা ধরে ফেলেছে মেহেরীণ।
সে বুঝতে পেরেছে ওদের ভেতর কিছু চলছে। তবে সে এই মুহুর্তে চুপচাপ বসে আছে৷
কায়ান একবার মেহেরীণের দিকে তাকিয়ে টেবিলের উপর দু’টো কাগজ রাখে।
মেহেরীণ ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
“এটা কি?”

কায়ান একবার আহির দিকে ফিরে চায়,
“আহি।”

“জি ভাই৷’

” জারিফ, জিনুকে নিয়ে যাও।”

“আচ্ছা ভাই।”

আহি সেখান থেকে জারিফ, জিনুকে নিয়ে চলে যায়। এখন সেখানে শুধু বড়োরা উপস্থিত।
জেবরান কোথাও না কোথাও কায়ানের পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত।
শিমুল ফিসফিসিয়ে জিজ্ঞেস করে,
“কি করতে চাইছে ভাইয়া?”

“জানিনা তবে যাই করবে না কেন আমি ভাই এর পাশে আছি৷’

শিমুল আর কিছু বলেনা।

মেহেরীণ কাগজ গুলো হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করে।
প্রথমটা কন্ট্রাক্ট পেপার, যেই পেপার খানা মেহেরীণের বাবা বানিয়েছিলো কায়ান এবং মেহেরীণের বিয়ের আগে।
এবং পরের টা ডিভোর্স পেপার।
তাতে মেহেরীণের সাক্ষর স্পষ্ট।
মেহেরীণ উঠে দাঁড়ায় বসা থেকে,
” ইয়ারকি করছো আমার সাথে? এগুলো কি কায়ান? আমি তোমাকে এত সহজে ছাড়ব না শুনে রাখো। আমার সাথে এসব তুমি ঠিক করছো না।’

মেহেরীণের চিৎকার শুনে কোন প্রকার প্রতিক্রিয়া দেখায় নি কায়ান। সে শান্ত দৃষ্টিতে মেহেরীণের দিকে তাকিয়ে।
মেহেরীণ চিৎকার করতে করতে এক পর্যায়ে কায়ানের প্রতিক্রিয়া না পেয়ে বিরক্ত হয়ে বসে পড়ে,
“আম্মা আপনি কায়ানকে বলুন এসব নাটক বন্ধ করতে।’

কায়ান তখন হিমেলকে ইসারা করে। হিমেল উঠে লিভিং রুমের দেয়ালে লেগে থাকা বড়ো এলিডি টিভিতে একটা ক্যাবল সেট করে একটি ভিডিও অন করে।
কিছু অডিও ক্লিপস ও আছে।
স্পষ্ট কথোপকথন মেহেরীণ এবং ওই লোক গুলোর। যারা কায়ান এবং সেরিনকে মারতে চেয়েছিলো।
কায়ান কিং স্টাইলে পায়ের উপর পা তুলে বসে আছে। তার ভেতর কোন হেলদুল নেই।
মেহেরীণ সবটা দেখে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে।
বানু মির্জা সব কিছু দেখলেন শান্ত হয়ে।
এরপর নিজের বসা থেকে উঠে দাঁড়ালেন।
মেহেরীণের কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঠাস ঠাস করে দু চারটা চড় পড়ে তার গালে।
মেহেরীণের চুল গুলো এলোমেলো হয়ে ওর মুখের সামনে চলে আসে।
আরেকটা থাপ্পড় মারার আগে শিমুল শ্বাশুড়িকে ধরে বসে।

” আম্মা থামুন।”

বানু মির্জা হুঙ্কার ছেড়ে উঠেন। যেন কায়ানের প্রতিরূপ,
“ছাড়ো আমাকে বউমা। কাল নাগিনী পুষেছি আমি এত বছর। এর থেকে তাজা শাপ পুষলেও মনকে শান্তনা দেওয়া যেত৷
এত বড় বেহায়া নির্লজ্জ মেয়ে। তোকে তোর বাপ আমার ছেলের উপর থুপে দিয়েছিলো শুনেছিস তুই। অসভ্য মেয় আমার ছেলেকে মারতে গুন্ডা পাঠাস। হিমেল ওকে এরেস্ট করার ব্যবস্থা কর।”

হিমেল বাঁকা হাসে, মেহেরীণের সামনে এগিয়ে এসে বলে,
“সিওর আন্টি কিন্তু তার আগে একটু জিজ্ঞেস করে দেখুনত, কায়ানকে ছাড়বে কিনা সহজ কথায়। নাহলে আমাকে অন্য পথ বাছতে হবে।’

মেহেরীণ নিজের আশেপাশের পরিস্থিতি বুঝতে পারছে। সে সম্পূর্ণ দিক দিয়েই আটকা পড়ে গিয়েছে এই মুহুর্তে বাঁচার একটাই পথ। এদের থেকে দুরে যাওয়া।
যা ভাবা তাই কাজ। মেহেরীণ বানু মির্জার পায়ের কাছে বসে পড়ে।
” ক্ষমা করে দিন মা। আমি চলে যাচ্ছি। আমি চলে যাব প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দিন।”

বানু মির্জা মুখ ফিরিয়ে নিলেন,
“ওই মুখে আমাকে মা ডাকবে না। বেরিয়ে যাও এক্ষুনি এ বাড়ি থেকে। তোমার বাপকে বলে দিও এবার আমার সাথে ত্যাড়ামি করলে এই বানু মির্জা সব ধ্বংস করে দেবে।
স্বামী হিন সেই অসহায় বানু মির্জা মরে গিয়েছে।’

মেহেরীণ মাথা নামিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো।
বানু মির্জা হনহনিয়ে ভেতরের দিকে চলে গেলেন যেতে যেতে বললেন,
” এক্ষুনি বেরিয়ে যাবা এ বাড়ি থেকে। আমার ছেলে তোমাকে তালাক দিয়েছে তুমিও দিয়েছো। তুমি এ বাড়ির আর কেউ নও।”

মেহেরীণ ছলছল দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো সেদিকে। একে একে উপস্থিত সবাই যে যার কাজে চলে গেলো।
কায়ান এবং হিমেল উপরে তার রুমে চলে গেলো।
মেহেরীণ ফোন বের করে ভাই মাহমুদকে কল করে,
“হ্যালো মাহমুদ।”

“হ্যাঁ আপু বল।’

” একটু চট্টগ্রামের দিকে এগিয়ে আয় আমি আসছি আমাকে রিসিভ করিস৷”

“কি হয়েছে তোর কন্ঠ এমন শোনায় কেন?”

“বাড়িতে গিয়ে বলব৷ আমি জারিফ, জিনুকে নিয়ে আসতেছি৷”

“ওকে।’

মেহেরীণ উপরে গিয়ে দেখে জারিফ জিনু, আহির সাথে খেলছে।
মেহেরীণ কিছু না বলে বড়ো একটা লাগেজে ওর আর দুই বাচ্চার ড্রেস প্যাক করতে থাকে।
জারিফ, জিনু তা দেখে এগিয়ে যায় মায়ের কাছে,
” মম প্যাকিং কিসের? আমারা কোথাও যাচ্ছি?’

“হ্যাঁ বাবা আমরা নানা বাড়ি যাচ্ছি।’

” পাপাও যাবে?”

“না তোমাদের পাপা যাবেনা।”

কথাটা বলে মেহেরীণ আবারো প্যাকিং শুরু করলো। কিন্তু আহি মেহেরীণের কথা শুনে কোন প্রশ্ন করলো না।
বরং সে বেরিয়ে গেলো রুম থেকে।
এবং ছোট ভাবির রুমে গিয়ে সবটা জিজ্ঞেস করতে লাগলো।


কুমিল্লা,

“সিকদার কায়ান মাহাবুব। কি হয় তোমার?”

প্রশ্নটা যেন সেরিনকে কিছুক্ষণের জন্য থমকে দিলো। সে তাকিয়ে রইলো শাহারিয়ার দিকে।
শাহারিয়ার, সেরিনকে কিছু বলতে না দেখে আবার বলে,
“দেখো সেরিন তুমি ভয় পয়ো না। ছেলেটা যদি বদমাস হয় তবে আমি অবশ্যই সেই ব্যবস্থা নিব।”

সেরিন আখন বিরক্ত হয়।
“সে কোন বদমাশ নয়।’

শাহারিয়ার অবাক হয় সেরিনের হটাৎ পরিবর্তন দেখে,
” তবে সে কে?’

“সে কি বলেছে আপনাকে?”

“সে বলেছে সে তোমাকে ভালোবাসে।”

“মিথ্যা বলেছে।”

কথাটা শুনে শাহারিয়ার চোখ দু’টো উজ্জ্বল হয়ে যায়। কিন্তু সেরিন পরক্ষণেই বলে ওঠে,
“আমিও তাকে ভালোবাসি।’

শাহারিয়ার অবাক পানে তাকিয়ে রইলো সেরিনের দিকে।
সেরিন দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতে শুরু করে,
” আমি জানি আমি যা বলতে চলেছি তা শুনে আপনার মনে নানান ধরনের প্রশ্ন আসবে। কিন্তু এর পেছনের কাহিনি আপনাকে এত ডিটেইলসে বলতে পারছি না আমি।
আমি তাকে ভালোবাসি। হয়তবা অবাক হচ্ছে তার বিয়ে আছে বউ আছে বাচ্চা আছে তাও আমি বেহায়ার মত বলছি ভালোবাসি।
কিন্তু আমি ভালোবাসি কেন ভালোবাসি কিভাবে ভালোবাসি এত উত্তর দিতে পারছি না।
কিন্তু তাকে আমি ভালোবাসি।’

কথা গুলো শুনে শাহারিয়ার স্তব্ধ হয়ে গেলো।
তার ভেতরে ঝড় শুরু হয়েছে।
সে কি বলবে বুঝতে পারছে না।
সেরিন এবার কফিকে চুমুক দেয়।
“আমি কি এবার বাড়িতে যেতে পারি?”

শাহারিয়ার ধ্যান ফিরে। সে মাথা নাড়ায়।

“হ্যাঁ।”

সেরিন আর কোন কথা বললো না। সে সেখান থেকে উঠে চলে গেলো বাড়ির দিকে।
শাহারিয়ার তাকিয়ে রইলো সেরিনের দিকে।
চোখে এক রাস রাগ ভর করলো তার,
“সেরিন, তুমি আমার প্রথম প্রেম আমি পারব না এত সহজে তোমায় ছেড়ে দিতে।
দু বাচ্চার বাবাকেই কেন ভালোবাসতে হবে তোমাকে? আমাকে কেন নয় সেরিন কেন নয়।’

চিৎকার করে ওঠে শাহারিয়ার। ওর চিৎকার শুনে উপস্থিত সবাই অবাক হয়ে তাকাশ।
শাহারিয়ার আর কিছু না বলে বেরিয়ে যায় সেখান থেকে।


সেরিনের আজ বড্ড হালকা হালকা লাগছে।
শাহারিয়ারকে সব বলে এত শান্তি লাগবে ভাবেনি সেরিন।

সেরিন বাড়িতে পৌঁছে মায়ের সাথে হাতে হাতে কাজ করে দেয়।

রাতে খাবার টেবিলে সবাই একসাথে বসে খাবার খায়।
এরপর সেরিন ঘুমাতে চলে যায়। আজ ভালো ঘুম হবে। মাথায় কোন চাপ নেই তার৷
ভাবতে ভাবতে ফুরফুরে সেরিনের একটু দ্রুতই ঘুম চলে আসে।

মাঝ রাত, চারিদিকে নিস্তব্ধতা আর কিছু ঝিঝি পোকার ডাক। গ্রামে তখন বেশ গভীর রাত। সকলে ঘুমে মগ্ন।
এমন সময় সেরিনের রুমে একটি ছায়ামূর্তির দেখা মিললো।
ঘুমন্ত সেরিন বুঝতে পারলো না কেউ তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে নিঃশব্দে।

চলবে?

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply