অসম্ভবরকমভালোবাসি_তোমায়
লেখিকাসুমিচৌধুরী
পর্ব ৪৫
শুভ্রর কাছে প্রতিটি মুহূর্ত তখন এক একটি যুগের মতো মনে হচ্ছিল। ‘ইট ওয়াজ লাইক আ লিভিং হেল’। ইমার্জেন্সি ফ্লাইট বুক করে সে পাগলের মতো বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। তার পুরো শরীর থরথর করে কাঁপছে, রাগে চোখ দুটো রক্তের মতো লাল হয়ে গেছে। শুভ্র নিজের মনকে বারবার বোঝাচ্ছে, ঈশান নিশ্চয়ই তার সাথে কোনো ‘সিক জোক’ করছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য হয়তো রিদি আর ঈশান মিলে এই চাল চেলেছে। শুভ্র কাঁপা কাঁপা হাতে ঈশানকে মেসেজ পাঠাল।
“এয়ারপোর্টে অপেক্ষা করো। ‘আই অ্যাম কামিং’!”
দীর্ঘ এক যন্ত্রণাময় যাত্রার পর সকাল সকাল ফ্লাইট বাংলাদেশে অবতরণ করল। শুভ্র ভিড় ঠেলে পাগলের মতো দৌড়ে বিমান থেকে নামল। তার ভেতরে তখন এক প্রলয় চলছে। এয়ারপোর্ট থেকে বের হতেই সে দেখল ঈশান গাড়ি নিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। শুভ্র এগিয়ে গিয়ে ঈশান কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার শার্টের কলার শক্ত করে চেপে ধরল। দাঁতে দাঁত চেপে গর্জে উঠল শুভ্র।
“তোমার সাহস কী করে হয় রিদিকে নিয়ে এই কথা বলার? ‘হাউ ড্যায়ার ইউ ঈশান’!”
ঈশান কোনো প্রতিবাদ করল না, শুধু এক চিলতে ম্লান হাসল। সেই হাসিতে কোনো আনন্দ ছিল না, ছিল একরাশ বিষাদ। ঈশানের ওই নির্লজ্জ হাসি দেখে শুভ্রর শরীরের রক্ত যেন টগবগ করে ফুটে উঠল। সে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে পকেট থেকে রিভলভার বের করে ঈশানের কপালে ঠেকিয়ে ধরল। চিৎকার করে বলল।
“আমি তোকে শ্রদ্ধা করি, ভাই হিসেবে আপন ভাবি তাই বলে আমার দুর্বলতা নিয়ে তুই মজা করলে তোকে আমি ছেড়ে দেব না! ‘ডোন্ট ইউ ডেয়ার টু প্লে উইথ মাই ইমোশনস’!”
ঈশান একটুও ভয় পেল না। তার চোখেমুখে এক অদ্ভুত নিস্পৃহতা। সে শান্ত গলায় বলল।
“রাগ কন্ট্রোল করুন বস। ‘দিস অ্যাঙ্গার ইজ ইউজলেস নাও’। এই রাগ দিয়ে এখন কিছুই হবে না। যখন দরকার ছিল তখন আপনি পাশে ছিলেন না। আপনি সত্যি অদ্ভুত বস,।”
শুভ্র নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলল। এয়ারপোর্টে শত শত মানুষের সামনেই সে রিভলভার উঁচিয়ে ওপরের দিকে গুলি ছুড়ল।
‘ঠাসসসসসস’—বিকট একটা শব্দে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হলো। মানুষজন ভয়ে থমকে দাঁড়াল, চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল। শুভ্র ঈশানের দিকে তাকিয়ে আর্তনাদের মতো ডুকরে উঠল।
“দিস ফা*কিং ইউ ঈশান! ‘স্টপ দিস ননসেন্স রাইট নাও’! মজা বন্ধ না করলে আমি কিন্তু তোকে সত্যি সত্যি খুন করে ফেলব।”
ঈশান এবার নিজেকে সামলাতে পারল না। এতক্ষণ যে সম্মান আর ধৈর্য ধরে রেখেছিল, তা যেন মুহূর্তেই ধুলোয় মিশে গেল। সে পাল্টা শুভ্রর কলার শক্ত করে চেপে ধরে দাঁতে দাঁত চেপে বলল।
“তোর সাথে মজা করতে আমার বয়েই গেছে! বিশ্বাস না হলে যা, তুই এই দুনিয়া কেন, এই মহাবিশ্বের কোথাও আর রিদিকে খুঁজে পাবি না। রিদিকে হারিয়েছিস তুই, চিরতরে হারিয়েছিস! ‘ইউ হ্যাভ লস্ট হার ফরএভার’! ফেলে রেখে গিয়েছিলি না মেয়েটাকে? একা একা কাঁদিয়েছিলি? এবার বুঝবি তুই হারানোর যন্ত্রণা কতটা কষ্টকর হয়। ‘নাউ ইউ উইল ফিল দ্য রিয়েল পেইন’।”
ঈশানের এমন সাহসী কথা শুনে শুভ্র হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলল। তার ভেতরে তখন এক পাগলাটে দানব জেগে উঠেছে। সে সজোরে ঈশানের নাক বরাবর এক ঘুষি বসাল। ঈশান কয়েক ফুট দূরে ছিটকে গিয়ে পড়ল। কিন্তু শুভ্রর রাগ তাতেও শান্ত হলো না। সে পুনরায় তেড়ে গিয়ে ঈশানের কলার চেপে ধরে টেনে তুলল এবং দ্বিতীয় ঘুষিটা মেরে গর্জনে ফেটে পড়ল।
“কু*ত্তার বাচ্চা! কী বললি তুই? আমি রিদিকে হারিয়ে ফেলেছি? শুনে রাখ, রিদি শুধু আমার! ‘রিদি বিলংস অনলি টু মি’! এই শহর ধ্বংস করে দেব আমি যদি রিদি আমার না হয়। রিদির অস্তিত্বে শুধু এই সাইফান শুভ্র চৌধুরীর নাম বয়ে বেড়াবে। আমার কাছ থেকে রিদিকে কেড়ে নেওয়ার কারো বাপের পোলার বুকের পাটা নেই। ‘নো ওয়ান ক্যান টেক হার অ্যাওয়ে ফ্রম মি’।”
ঈশানের নাক দিয়ে তখন গলগল করে রক্ত ঝরছে। ঠোঁটের কোণে জমাট বাঁধা রক্ত নিয়ে সে এক বীভৎস তাচ্ছিল্যের হাসি হাসল। মাটির দিকে তাকিয়ে ভাঙা গলায় বলল।
“অলরেডি নিয়ে নিছে। ‘দে হ্যাভ অলরেডি টেকেন হার’। তুই শুধু তোর ইগো নিয়ে পড়ে থাক শুভ্র, তোর রিদি এখন অন্য কারো।”
শুভ্রের কলিজাটা যেন ছিঁড়ে ফেটে যাচ্ছে। সে ঈশানকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে দূরে সরিয়ে দিয়ে আর্তনাদের মতো চিৎকার করে বলল।
“কেন মজা করছিস এইভাবে? কেন? ‘হোয়াই আর ইউ হার্টিং মি লাইক দিস’? কেন আমার দুর্বলতা নিয়ে বারবার আঘাত করছিস তুই?”
ঈশান এবার পুরোপুরি শান্ত হয়ে এল। সে হাত দিয়ে নাকের রক্ত মুছে নিয়ে স্থির দৃষ্টিতে শুভ্রের দিকে তাকাল। তার কণ্ঠে এবার কোনো রাগ নেই, আছে শুধু একরাশ করুণা। সে বলল।
“আমি কোনো মজা করছি না বস। ‘আই এম ডেড সিরিয়াস’। রিদির বিয়ে হয়ে গেছে। আপনি দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর এখানে অনেক কিছু ঘটে গেছে যা আপনি জানেন না।”
শুভ্র দুই কানে হাত দিয়ে চিৎকার করে উঠল। তার মস্তিস্ক এই সত্যটা গ্রহণ করতে অস্বীকার করছে।
“না না! আমি বিশ্বাস করি না! ‘এভরিথিং ইজ অ্যা লাই’! সব মিথ্যা! রিদি শুধু আমার, সে আমার স্ত্রী। তুমি সব মিথ্যা বলছো ঈশান, সব মিথ্যা!”
শুভ্র আর এক মুহূর্ত সেখানে দাঁড়াল না। সে পাগলের মতো ছুটে গিয়ে গাড়িতে উঠল। স্টার্ট দিয়েই সে এক্সিলারেটরে সজোরে চাপ দিল। গাড়ির স্পিডমিটারের কাঁটা যেন মুহূর্তেই আকাশ ছুঁতে চাইল। সে উন্মত্তের মতো ছুটল রিদিদের বাড়ির দিকে। রাস্তার ট্রাফিক আইন, সিগন্যাল কিছুই তার চোখে পড়ছে না। গাড়িটি এতই দ্রুত চলছে যে আশেপাশের চালকরা ভয়ে গাড়ি সাইড করে দিচ্ছে। কেউ কেউ চিৎকার করে বলছে।
“এই ছেলের কি নিজের জীবনের মায়া নেই?”
শুভ্রের সত্যি নিজের জীবনের আর কোনো ভয় নেই। ‘হি হ্যাজ নাথিং টু লুজ নাউ’। সে এখন এক উন্মাদ প্রেমিক, এক বিধ্বংসী সত্তা যে তার প্রেয়সীর জন্য গোটা শহর জ্বালিয়ে দিতে পারে। তার চোখে তখন শুধু রিদির মুখটা ভাসছে আর কানে বাজছে ঈশানের সেই বিষাক্ত কথাগুলো। স্টিয়ারিং হুইলটা সে এমনভাবে চেপে ধরেছে যে তার হাতের শিরাগুলো নীল হয়ে ফুলে উঠেছে।
২০ মিনিটের মধ্যে গাড়ি সোজা রিদিদের বাসার সামনে এসে থামল। ব্রেকের সজোরে চাপে টায়ারের ঘর্ষণে রাস্তার বুক চিরে এক বিকট শব্দ হলো। শুভ্র হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে গাড়ি থেকে নামল, ঝড়ের বেগে তার হাতের ধাক্কায় গাড়ির দরজাটা প্রচণ্ড শব্দে বন্ধ হলো। সে টলমল পায়ে বাসার মেইন দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। তার আঙুলগুলো থরথর করে কাঁপছে, সেই কাঁপা হাতেই সে পাগলের মতো কলিং বেল বাজাতে লাগল।
সেখানে প্রতিটি সেকেন্ড যেন তার কাছে এক একটি অনন্তকাল। দরজা খুলতে দেরি হচ্ছে দেখে শুভ্র তার হিতাহিত জ্ঞান পুরোপুরি হারিয়ে ফেলল। তার ভেতরের তপ্ত রক্ত তখন টগবগ করে ফুটছে। সে সজোরে দরজায় লাথি মারতে শুরু করল। কয়েকটা প্রচণ্ড আঘাতের পর এক বিকট শব্দে কাঠের দরজাটা ভেঙে চৌচির হয়ে গেল। শুভ্র ঝড়ের বেগে হলরুমের মাঝখানে গিয়ে দাঁড়াল এবং নিজের গলার সমস্ত জোর দিয়ে চিৎকার করে উঠল।
“রিদি! ‘হোয়ার আর ইউ রিদি’? এই রিদি কই তুই? আমার সাথে মজা নিস? ‘স্টপ দিস শ*ট রাইট নাউ’! খালি একবার সামনে আয়, তোর সব মজা আমি বের করমু!”
শুভ্রের গলার আওয়াজ পুরো নিস্তব্ধ বাড়িতে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। তার বুকের ভেতরটা তখন ধক ধক করে জ্বলছে, চোখ দুটো আগুনের গোলার মতো লাল। সে পাগলের মতো চারদিকে তাকাচ্ছে, রিদির একটা ছোঁয়া বা তার কণ্ঠস্বর শোনার জন্য সে এখন মরিয়া।
“বাইরে আয় রিদি! ‘আই নো ইউ আর হেয়ার’! লুকায়ে থাকিস না, রিদি বাইরে আয়!”
ইমন সিঁড়ি দিয়ে ধীরপায়ে নেমে এল। শুভ্রকে হঠাৎ এই বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখে সে কিছুটা থতমত খেয়ে গেল। অস্ফুট স্বরে বলল।
“ভাইয়া, তুমি!”
শুভ্র কোনো উত্তর দিল না। সে রাগে ফুঁসছে, তার বুকটা হাপরের মতো ওঠানামা করছে। সে পাগলের মতো রিদির নাম ধরে চিৎকার করে ডাকতে থাকল। শুভ্রর চিৎকারে রাবেয়া এহসানের ঘুম ভেঙে গেল। তিনি রুম থেকে বের হয়ে শুভ্রকে দেখে আঁতকে উঠলেন। কিন্তু পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নিয়ে মুখটা কঠিন করলেন। শীতল গলায় বললেন।
“কী হয়েছে? কোত্থেকে হঠাৎ করে এসে ষাঁড়ের মতো এমন চিল্লাচ্ছিস কেন?”
শুভ্র তপ্ত চোখে ফুপির দিকে তাকাল। তার গলার শিরাগুলো ফুলে উঠেছে। সে চিৎকার করে বলল।
“ফুপি, রিদিকে বের হতে বলো! নাহলে আমি ওকে মেরে ফেলব, আর আমিও মরবো! ‘আই অ্যাম গোয়িং ক্রেজি ফুপি, জাস্ট কল হার’!”
রাবেয়া এহসান এবার তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলেন। গম্ভীর গলায় বললেন।
“রিদি তোর কে হয় যে তাকে আমি বের করে দেব? তাছাড়া রিদিকে কোথায় পাবি তুই? রিদির তো বিয়ে হয়ে গেছে, জানিস না তুই? অবশ্য জানবিই বা কীভাবে, ফোন-টোন বন্ধ করে তো লাপাত্তা ছিলি!”
শুভ্রর ধৈর্যের বাঁধ এবার ভেঙে গেল। সে রাগে অন্ধ হয়ে টেবিলের ওপর থাকা ফুলদানিটা তুলে সজোরে আছাড় মারল। কাঁচের ঝনঝনানি শব্দের সাথে সে গগনবিদারী চিৎকার করে উঠল।
“বিয়ে বিয়ে বা*ল বিয়ে! রিদিকে বের করো! মেজাজ খারাপ করো না আমার ফুপি! ‘আই উইল ডেসট্রয় এভরিথিং ইফ ইউ ডোন্ট ব্রিং হার আউট’!”
ইমন এবার ভয়ার্ত গলায় বলল।
“আপু তো বাড়িতে নেই ভাইয়া। আপু তো দুলাভাইয়ের সাথে আছে এখন।”
শুভ্র এবার নিজের কান চেপে ধরল। তার মনে হচ্ছে মাথাটা এখনই ফেটে যাবে। সে আর্তনাদ করে বলল।
“আহহহহহহহহ স্টপ দিস! বন্ধ করবি তোরা এসব মজা? ভালোই ভালোই বলছি, আমার রিদিকে আমার সামনে এনে দে।”
শুভ্রের এমন পাগলামির খবর পেয়ে সোহান চৌধুরী, সাহেরা চৌধুরী, শুভ্রা এবং ঈশানও সেখানে হাজির হলো। কিছুক্ষণের মধ্যে ইকবাল এহসানও খবর পেয়ে হন্তদন্ত হয়ে বাড়িতে আসলেন। হলরুমের বিধ্বস্ত অবস্থা আর শুভ্রের উন্মাদনা দেখে সবাই স্তম্ভিত।
শুভ্রের এমন হিতাহিত জ্ঞানহীন রাগ দেখে সোহান চৌধুরী চি-ৎ-কা-র করে উঠলেন।
“কী হয়েছে তোর? এমন করছিস কেন?।”
শুভ্র তপ্ত চোখে সবার দিকে তাকিয়ে আর্তনাদ করে বলল।
“ওরা মজা কেন করে আমার সাথে? রিদির বিয়ে হয়ে গেছে মানে? ‘দিস ইজ নট আ জোক’! এসব কোন ধরনের মজা?”
সোহান চৌধুরী কঠোর গলায় বললেন।
“তোর সাথে কোন কারণে মজা করতে যাবে? তুই কি সবার বেয়াই লাগিস যে সবাই তোর সাথে মজা করবে? যা সত্যি তাই বলছে ওরা।”
শুভ্র এবার গলার সমস্ত জোর দিয়ে চিৎকার করে উঠল।
“রিদির বিয়ে হয় কী করে? ‘শি ইজ মাই ওয়াইফ’! রিদি আমার স্ত্রী, ওকে আমি তিন কবুল বলে বিয়ে করেছি! আপনারা সবাই মিলে মজা করছেন। ভালোই ভালোই বলছি, ‘স্টপ দিস ননসেন্স’! মজা না করে আমার রিদিকে এনে দেন!”
ইকবাল এহসান এগিয়ে এসে শান্ত করার চেষ্টা করে বললেন।
“শুভ্র, দেখো তুমি আমার সুমন্দির ছেলে, তোমাকে আমি নিজের ছেলের মতোই দেখি। কিন্তু বাবা এমন পাগলামি করো না। রিদি মা আমার অনেক সুখে আছে। তোমার এমন পাগলামির খবর ওর শ্বশুরবাড়ির লোক জানাজানি হলে ওর সংসারে ঝামেলা লাগবে।”
‘শ্বশুরবাড়ি’ শব্দটা শোনা মাত্রই শুভ্রের ধৈর্যের বাঁধ পুরোপুরি ভেঙে গেল। তার ভেতরের পশুটা যেন এবার খাঁচা ভেঙে বেরিয়ে আসতে চাইছে। হলরুমে সাজানো যা দামী জিনিসপত্র ছিল, সবকিছু ভাঙতে ভাঙতে সে উন্মত্তের মতো চিৎকার করে বলল।
“আল্লাহর ওয়াস্তে আমার রিদিকে এনে দেন! ‘জাস্ট ব্রিং হার টু মি’! নাহলে আমি সবকিছু জ্বালিয়ে দিবো! ‘আই উইল বার্ন এভরিথিং ডাউন’! শেষ করে দিবো সব কিছু!”
শুভ্রের এমন বিধ্বংসী রূপ দেখে ঈশান আর চুপ করে থাকতে পারল না। সে দ্রুত এগিয়ে এসে শুভ্রের হাত ধরার চেষ্টা করে বলল।
“বস, আপনি শান্ত হন! পাগলামি করবেন না, আগে সব কিছু শুনুন।”
শুভ্র ঈশানের কথা কানেই তুলল না। তার সামনে হলরুমে থাকা বিশাল বড় এলইডি টিভিটা ছিল, সে সেটা দুই হাতে তুলে নিয়ে সজোরে মেঝেতে আছাড় মারল। বিকট এক শব্দে কাঁচ আর প্লাস্টিক চারদিকে ছিটকে পড়ল, সেই শব্দে উপস্থিত সবাই ভয়ে কান চেপে ধরল। শুভ্র উন্মত্তের মতো চিৎকার করে উঠল।
“আমার মাথা পুরোপুরি খারাপ হওয়ার আগে আমার রিদিকে এনে দেন বলছি।”
সোহান চৌধুরী ছেলের এমন বেয়াদবি আর ঔদ্ধত্য দেখে রাগে ফেটে পড়লেন। তিনি কঠোর গলায় বললেন।
“না এনে দিলে কী করবি? মেরে ফেলবি আমাদের?”
শুভ্র এবার হঠাৎ নিস্তেজ হয়ে পড়ল। । বাবার দিকে তাকিয়ে আর্তি জানাল
“আব্বু প্লিজ… ‘আই ক্যান্ট টেক দিস এনিমোর’। আমি নিতে পারছি না আব্বু। প্লিজ সবাই এই জঘন্য মজাটা বন্ধ করেন। আমার রিদিকে এনে দেন। যদি কোনো সমস্যা হয়ে থাকে, তবে আমি রিদিকে নিয়ে অনেক দূরে চলে যাবো, ‘আই উইল গো ফার অ্যাওয়ে উইথ হার’। কিন্তু প্লিজ, আমার রিদিকে এনে দেন!”
শুভ্রর এমন করুণ আর্তি দেখে সেখানে উপস্থিত সবার কলিজা যেন কেঁপে উঠল। শুভ্রা এবার আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারল না। সে প্রায় কেঁদে ওঠা গলায় বলল।
“ভাইয়া, তোমার সাথে কেউ কোনো মজা করছে না। সত্যি রিদির বিয়ে হয়ে গেছে। তুমি চলে যাওয়ার পর এখানে অনেক কিছু ঘটে গেছে যা তুমি জানো না।”
রানিং…!
অনেকে বলো যে আটমাস বিদেশ থেকেছে বেশি হয়ে গিয়েছে তোমরা হয়তো ভুলে গেছো গল্পে আমি শুভ্র বাহিরে গেলে মন খারাপ থাকলে সেখানেও কয়েক মাস একা থেকে দেশে আসে আর বিদেশ তো এখানে না যে গেলাম আর আসলাম তাই আমি আট মাস দিছি একটু বেশি দিছি এইটা আমার একটা প্ল্যান, আর অনেকে বলে শুভ্রের ভালোবাসা না, বুঝি না ভাই ভালোবাসা নিয়ে কেন কথা তুলে,শুভ্র যে ভুল করছে এইটা তো আমিও জানি,অনেক কিছু ভুল থেকেই শিক্ষা হয় মনে রাখবেন,আর যদি কেউ গল্প নিয়ে উল্টা পাল্টা কথা বলেন সোজা ব্যান্ড করবো আমি, আজকে দশজনকে করছি, আগেও বলেছি যেসব পাঠিকা গল্প পড়বেও আবার হুদাই একটা ফালতু কথা বলবে সেরকম পাঠিকা আমার দরকার নাই,তাই ভালো না লাগলে চুপচাপ সরে যাবেন উসকানি কেন দিতে আসেন,নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে আসেন,,,
আবার একজন বলছে,, “বলছি শুভ্র রিদিকে কষ্ট দিবেন না আমি কষ্ট কেন দিচ্ছি এই আমার অপরাধ, আবার বলে ওরা মরে যাওয়ার আগে আমি যেন মরে যাই, আবার আরেক জনে বলল শুভ্রের এতই পাওয়ার তাহলে বাবার পায়ের কাছে কেন পড়ে,আবার আরেক জনে বলে আপনি শুভ্রকে মারার কথা বলে আবার পোস্ট ডিলেট করে দিলেন আপনিও তো নাটক কম জানেন না শুভ্রের মতো নাটক করেন,
(এইসব কি পাঠিকার জাত,বলে মনে হয়,,,ফালতু মনে হয় আমার। আপনারাই বলে যান কি সমস্ত কথা বলেছে,আরে ভাই ভাল লাগবে না চইলা যাবি খোঁচা কেন দিতে আসিস নিজের ফালতু ট্যালেন্ট দেখাতে😠😠)
Share On:
TAGS: অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায়, সুমি চৌধুরী
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৮০
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬০
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৫৮
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ২৫
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ২১
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৩৯
-
নির্লজ্জ ভালোবাসা পর্ব ৬৩
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ১২
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ৪২
-
অসম্ভব রকম ভালোবাসি তোমায় পর্ব ১১