Golpo romantic golpo চেকমেট সিজন ২

চেকমেট সিজন ২ পর্ব ১৪


চেকমেট সিজন ২ পর্ব ১৪

সারিকা_হোসাইন


ক্যালিফোর্নিয়ার স্বচ্ছ আকাশ সন্ধ্যার ঝাপসা কালোয় ঢেকে গিয়েছে বেশ খানিক আগে।আল্পাইন এরিয়া ঘন গাছ আর পাহাড়ে বেষ্টিত থাকার কারনে এখানে রাত নামে আরো দ্রুত।চারপাশে নিকষ আধার।অদূরে একটা ক্ষুধার্ত নেকড়ে করুন সুরে ডেকে চলেছে অনবরত।সেই নেকড়ের আর্তনাদে টিকতে না পেরে বার্চ গাছের মোটা ডালে বসে বসে ঝিমুনো পাখির দল ডানা মেলে কোথায় যেনো পালিয়ে গেলো।ধীরে ধীরে আলপাইন ফরেস্টে নেমে এলো গহীন রাত।চারিধার নীরব, নির্ভার ।কোথাও যেন একটা চাপা আর্তনাদ গুমরে গুমরে কাঁদছে।

নিজের ঘরে একাকী বসে আছে শাহরান।কক্ষের দরজা জানালা সব খোলা।বাহিরের ভারী শীতল হাওয়া দরজা জানালার ভারী পর্দা উঠিয়ে আছড়ে পড়ছে শাহরানের বৃহৎ কামরায়।কিন্তু মানুষটার কোনো হেলদোল নেই।শরীর শিউরে ফুলে উঠছে সেই বিষাক্ত ঠান্ডা হাওয়ায়।তবুও সে নির্বিকার।কানে শুধু বেজে চলেছে রূপকথার চিৎকার

“নিজেকে শোধরাতে না পারলে পিতৃপরিচয় ভুলে যাও।

আহ কি নিদারুণ কঠিন কথা!মা বুঝি এতোই কঠিন হয়?শাহরান আর ভাবতে পারলো না।উঠে দাঁড়ালো।এগিয়ে গেলো খোলা বেলকনিতে।এখান থেকে আলপাইন ফরেস্টের বিশালতা পরিমাপ করা যায়।অন্ধকারে আড়াল করা অরণ্যের পানে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে তাচ্ছিল্য গলায় শাহরান শুধালো

“আমার বুকে জমানো দুঃখ কষ্টের চাইতেও তোমার বিশালতা বিস্তর?

জবাব এলো না নিশ্চুপ অরণ্য থেকে।শাহরান অতীত মনে করে কষ্টে বিষিয়ে উঠা ফাঁকা ঢোক গিললো।খামোখা কত পাগলামিই না সে করলো এত গুলো বছর!অযথা সময় নষ্ট হলো,ভালোবাসা নষ্ট হলো,নিজের গায়ে কলঙ্কের কালো দাগ লাগলো, জেল অবধি খাটতে হলো।এতেই কি সব শেষ?পুরো পরিবারের হয়রানি সেই সঙ্গে মাথা আর বুক উঁচু করে চলা সারফরাজ শাহজাইন এর অবনত মস্তক।এত এত অন্যায়ের দায় কিভাবে নিজের কাঁধে তুলে নেবে শাহরান?বিবেকের তাড়না আর অসম কষ্টে নিজের চুল খামচে ধরলো শাহরান।চিৎকার করে কেঁদে নিজের বুকের জমানো পাথর হটাতে চাইলো।কিন্তু পারলো না।পেছন থেকে ভেসে এলো আদুরে স্বর

“পাপাকে জড়িয়ে কাঁদতে পারো।পাপা সব সামলে নেবে।

পেছনে ত্বরিত তাকালো শাহরান।সারফরাজ দাঁড়িয়ে আছে তার থেকে হাত তিনেক দূরে।বাবার আস্কারা পেয়ে শাহরান ছুটে এলো।জাপটে ধরলো ছোট শিশুর ন্যয়।এরপর সারফরাজ এর কাধে মুখ ডুবিয়ে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে উঠলো।সারফরাজ ছেলেকে শক্ত করে চেপে চোখ বুঝে নিলো।এই চিৎকরের যন্ত্রণা তার চাইতে আর কে বেশি জানে?শাহরানের তো জড়িয়ে ধরে চিৎকার করার অবলম্বন আছে।আর সারফরাজ?সে কি কোনো অবলম্বন পেয়েছিল বুকের কষ্ট উজাড় করার জন্য এই টুকুন বয়সে?সারফরাজ এর উগলে দেয়া কষ্ট শুধু নীরবে গিলে নিয়েছে অন্ধকার রাত আর খোলা আকাশ।কঠিন পাহাড়ে বাড়ি খেয়ে হেথায় সেথায় ঘুরে প্রকৃতিতে মিশে গেছে আর্তনাদ জড়িত হাহাকার।নিজের মন্দ ভাগ্য এভাবে তার ছেলের পিছুও নিলো?সারফরাজ এর চোখ জলে ভরে উঠলো।শাহরান কে শক্ত করে বুকে মিশিয়ে অশ্রু গিলে নিয়ে সারফরাজ ভারী গলায় বলল

“সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সব ঠিক হয়ে যাবে।
বলেই শাহরানের পিঠে হাত বুলালো।

মিনিট দুই পরে শাহরান নিজেকে সামলাল।সারফরাজ এর কাঁধে মাথা রেখেই বলে উঠলো

“এখানেই আমার ফাইনাল পরীক্ষা দেবার ব্যবস্থা করো।আমি লেখা পড়ায় ফোকাস করতে চাই।

সারফরাজ তপ্ত দীর্ঘ শ্বাস ছুড়ে শুধালো

“তোমার স্বপ্ন ছিলো সিঙ্গার হবার।

শাহরান নিজেকে বাবার বন্ধন থেকে ছাড়িয়ে বলে উঠলো

“স্বপ্ন বদলেছি।আজকাল ফিজিক্স সাবজেক্ট টা খুব ভালো লাগছে।

সারফরাজ কথা বাড়ালো না।ছেলেকে স্পেস দিয়ে প্রস্থান নিতে নিতে বললো

“অ্যাজ ইউ উইস।


টানা এক সপ্তাহ পর রোদ ভার্সিটিতে এলো।এসেই জানতে পারলো প্রিয়ন্তী মেয়েটি আজ ভার্সিটি থেকে লিভ নিচ্ছে।তার ফ্যামিলি অস্ট্রেলিয়া শিফট হচ্ছে।তাই এখানে তার লেখাপড়া করা আর পসিবল নয়।খবর টা শুনেই রোদের মন ভার হলো।সে ছুটে গেলো ক্লাসে।গিয়ে জানতে পারলো প্রিয়ন্তী প্রিন্সিপাল এর রুমে।রোদ ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে ছুটলো প্রিন্সিপাল এর কক্ষের দিকে।এরপর হাঁপাতে হাঁপাতে হাঁপাতে এসে থামলো দরজার সামনে।অপেক্ষা করতে লাগলো প্রিয়ন্তীর বেরিয়ে আসার।মিনিট দশেক পর প্রিয়ন্তী নিজের দরকারি ট্রান্সফারের কাগজ পত্র নিয়ে বেরিয়ে এলো।এসেই রোদকে দরজার সামনে দেখে ঠোঁট এলিয়ে হাসলো।বললো

“এসেছো ভালোই হয়েছে।অনেক দিন আসোনি।আজ আমি চলে যাচ্ছি।ভেবেছিলাম যাবার আগে হয়তো আমাদের আর দেখা হবে না।বাট দেখা হয়ে গেলো।অনেক খুশি হলাম তোমাকে দেখতে পেয়ে।

রোদ নিভে যাওয়া গলায় বলল

“তুমি সত্যিই চলে যাচ্ছ?

প্রিয়ন্তী হাতের কাগজ দেখিয়ে বলল

“এই যে!

“তোমার খারাপ লাগবে না এই শহরের জন্য?

প্রিয়ন্তী একটু ভাবুক হয়ে হাটতে হাটতে বললো

“তা তো লাগবেই।কিন্তু কি আর করা বলো?এখন না গেলে পরে আমার জন্য ঝামেলা হয়ে যাবে।

রোদ কথা বলার মতো ভাষা পেলো না।তার অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছে।ভেতরে ভেতরে গুমরে উঠছে হৃদপিন্ড।যেন সব হারিয়ে ফেলছে সে।সে ফাঁকা দৃষ্টিতে একবার পুরো ভার্সিটি নজর বুলালো।সবাই কেমন ব্যস্ত।কেউ দৌড়ে ক্লাসে ঢুকছে,কেউ আড্ডায় মজেছে কেউ বা আবার ক্লাস বাংক দিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে।কোথাও কোনো প্রাণ নেই আনন্দ নেই।সব যেন সাধারণ বিষয়।প্রিয়ন্তী রোদের নজর খেয়াল করে বলে উঠলো

“শাহরান যাবার পর থেকে ভার্সিটি প্রাণ হীন হয়ে পড়েছে।একজন হাস্যজল মানুষ সবাইকে সতেজ রাখতে পারে।তার অনুপস্থিতিতে সব মলিন জীর্ণ হয়ে পরে।

রোদ আনমনে হু বলে ফেললো।অথচ বিগত দিনে সে ভার্সিটিতে আসেই নি।প্রিয়ন্তী ফিক করে হেসে বলে উঠলো

“মানলে তবে?

চমকিত রোদ শুধালো

“হু?

প্রিয়ন্তী দীর্ঘশ্বাস ফেললো।এরপর বললো

“ওহ হ্যা তোমাকে তো একটা কথা বলাই হয় নি।জনকে শাহরান খু **ন করেনি।বন্য কোনো জ। *ন্তু এ। ট্যাক করেছে।পুলিশ সব খুঁজে বের করেছে।তুমি অযথাই তাকে দোষী ভাবলে।আসলে আমরা কত তাড়াতাড়ি মানুষকে জাজ করে ফেলি তাই না?ভাগ্গিস তার বাবা ঠিক সময়ে এসে ছেলেকে নিয়ে ফেরত গেছে।নয়তো কি হতো কে জানে?

রোদ বিস্ময়ে তাকিয়ে রইলো প্রিয়ন্তীর দিকে।ভেতরে কেমন অদ্ভুত এক তোলপাড় হচ্ছে।কেমন যেন অনুশোচনা আর অপরাধ বোধের ভাব।কিন্তু কেন?
প্রিয়ন্তী আর দাঁড়াতে পারলো না।তার ফোন বেজে উঠলো।ফোনটা সাইলেন্ট করে প্রিয়ন্তী বলে উঠল

“আমাকে আজ যেতে হবে।মা ফোন করছে।ভবিষতে আমাদের আবার দেখা হবে।আর সোশ্যাল মিডিয়ায় কথা হবে।ভালো থেকো।পারলে নিজেকে একটু ম্যাচিউর করার চেষ্টা করবে।তুমি এখন ও বড্ড ছেলে মানুষে।

হেটে অনেক দূর এগিয়ে গেলো প্রিয়ন্তী।ফিরলো আবারো পেছনে।জিভ দিয়ে ঠোঁট ভিজিয়ে রোদের গাল টিপে বলে উঠলো

“বোকা মেয়ে হেলায় খাঁটি ভালোবাসা হারালে।অমন ভাগ্য কজনের হয়?খাঁটি হীরে হারালে কয়লা জুটে জানো না?

বলেই রোদ কে বুকে জড়িয়ে আলিঙ্গন করে আরো কিছু বন্ধু বান্ধব পরিচিত টিচার এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষ করে প্রিয়ন্তী বিদায় নিলো।প্রিয়ন্তীর যাবার পানে তাকিয়ে নিঃশব্দে কেঁদে ফেললো রোদ।তার এই কয়েক মাসের ভার্সিটি জীবনে প্রিয়ন্তী ছিলো ছায়ার মতো।মেয়েটা তাকে টেক কেয়ার করেছে,ভুল চিনিয়েছে,সঠিক সত্য বুঝিয়েছে।মেয়েটি চলে গেলে রোদ একা হয়ে যাবে।গ্রাজুয়েশনের এত গুলো বছর একাকী কিভাবে পাড় করবে সে?

ভার্সিটিতে রোদের আর মন টিকলো না আজ।প্রিয়ন্তীর পিছু পিছু সেও বেরিয়ে এলো।এরপর গাড়ি করে বাড়িতে।ঘরে ঢুকতেই একরাশ বিষণ্নতা চারপাশ থেকে ঘিরে ধরলো তাকে।ধপ করে নিজের বিছানায় শুয়ে চোখ বন্ধ করে রাখলো।এমন সময় প্রিয় খরগোশ দুটোর কথা মনে পড়লো।গত রাতে বারান্দায় নিয়ে গেছিলো সে তাদের।কিন্তু ঘরে ঢুকাতে বেমালুম ভুলে গিয়েছে।গত রাতে বৃষ্টি হয়েছে সারা রাত সেই সঙ্গে বরফের ন্যয় ঝড়ো বাতাস।চট করে বিছানা থেকে উঠে রোদ উদভ্রান্তের ন্যয় বারান্দায় এলো।তার প্রাণ পাখি উড়ে গেলো।অজানা শঙ্কায় হাত পা অবশ হয়ে এলো।এরপর বারান্দায় এসে যা দেখলো তা দেখে নিজেকে আর স্থির রাখতে পারল না সে।কেঁদে উঠলো চিৎকার করে।

মেয়ের চিৎকার শুনে চুপকথা দৌড়ে এলো।বেলকনিতে খরগোশ দুটো ম *রে শক্ত হয়ে পরে আছে।চুপকথার শরীর কেঁপে উঠলো এই দৃশ্যে।জলে ভিজে উঠলো চোখ।বৃষ্টিতে ভিজে চুপসে রয়েছে অবলা প্রাণী দুটো।নাদুস নুদুস ভাব নেই এখন তাদের মধ্যে।চপল চঞ্চল আদুরে প্রাণী দুটো আজ কেবল নিথর দেহ।রোদ দুই হাতে খরগোশ দুটোকে বুকে জড়িয়ে হামলে কাঁদলো।তার কেবলই মনে হতে লাগলো অজানা কোনো পাপে বিধাতা তাকে ধীরে ধীরে একাকী বানিয়ে দিচ্ছে।


এক মাসের মধ্যে শাহরান নিজেকে পুরোদস্তুর গুছিয়ে ফেললো।নিজেকে পূর্বের ন্যয় প্রণোচ্ছল আর পাংচুয়াল হিসেবে প্রদর্শন করলো।সুফিয়ান চৌধুরী এবার চিন্তা মুক্ত হলেন।অবশেষে নাতির মাথা থেকে মেয়েটার ভুত নেমেছে ভেবেই স্বস্তির শ্বাস ফেললেন।সারফরাজ ছেলেকে ভালো রাখার সমস্ত বন্দোবস্ত করে ফেলেছে ইতোমধ্যে।রূপকথার ব্যস্ততা বেড়েছে আগের চাইতে কয়েক গুণ।তবুও নিয়ম করে মা ছেলের মাখামাখি চলে।দুজনে গ্রোসারি শপে গিয়ে ইচ্ছে মতো বাজার করে এরপর রান্না করে ছেলের পছন্দ সই খাবার।সকলেই আপাতত যেন ভুলে গিয়েছি মাস খানেক আগের দুর্ঘটনা।সংসারে কেবলই এখন আনন্দ আর খুশি।

দেখতে দেখতে শাহরানের ফাইনাল এক্সামের সময় ঘনিয়ে এলো।নিজের ক্ষমতা বলে অন্য স্টেট থেকে এখানে পড়াশোনার ব্যবস্থা করতে বেশ বেগ পোহাতে হয়েছে সারফরাজ কে।কিন্তু অবশেষে সে সাকসেস।ছেলের মেধার প্রতি তার আস্থা বরাবরই ভালো।যাই হোক ছেলের মেধার কাছে কেউ টিকতে পারবে না এত টুকুন বিশ্বাস তার আছে।শাহরানের পূর্বের একাডেমিক রেজাল্ট আর সাকসেস দেখে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি তাকে এখান থেকে গ্রাজুয়েশন কমপ্লিট করার চান্স দিয়েছে।এখান থেকে পড়াশোনা শেষ করতে পারলে শাহরান কে আর পিছু তাকিয়ে দেখতে হবে না।জন্মই তার সোনার চামচ মুখে নিয়ে,আর কি চাই?


রোদ ধীরে ধীরে বিষন্নতায় মুড়িয়ে গেলো।ভালো খারাপের তফাৎ গুলিয়ে ফেললো।ভার্সিটিতে কখনো যায় কখনো যায়না।ভালো পড়াশোনা সমস্ত টাই মাথা থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে গেলো।নিজের মনের সঠিক অনুভূতি আজকাল টের পায় না।রুদ্র সবটাই খেয়াল করলো মেয়ের পরিবর্তন।চেষ্টা করলো মেয়েটাকে সুস্থ করার।কিন্তু কোথাও যেন একটা খামতি থেকে গেলো।ধীরে ধীরে নিজেকে সঙ্গী হীনতায় গুটিয়ে নিলো রোদ।হারিয়ে গেল তার সমস্ত চঞ্চলতা।খাওয়া দাওয়ার অনিয়ম।ঠেলে ঠুলে সামান্য পড়াশোনা নিয়ে বসলো প্রথম সেমিস্টারের এক্সামে।রেজাল্ট এলো ফেইল।স্টার ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট পাশ করতে পারলো না একটি সাবজেক্ট ও।নিজের রেজাল্ট শিট দেখে জ্ঞান হারিয়ে ভার্সিটির মাঠে পরে গেলো সে।বন্ধুহীন রোদকে কেউ ধরতেও এগিয়ে এলো না।ভার্সিটির নার্স ছুটে এসে স্টুডেন্ট দের হেল্প নিয়ে মেডিকেল রুমে নিয়ে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা চালাল।সেই সঙ্গে কল করলো রুদ্ররাজ কে।

“এবার অন্তত মেয়েটাকে সময় দিন।সব কিছুতেই সে পিছিয়ে যাচ্ছে।


মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে চুপকথা আর রুদ্ররাজ।আজ চুপকথার চোখে মুখে কোন ভয় নেই।যা আছে তা আজীবনের জমানো ক্ষোভ।সে রুদ্রের মুখের উপর হাত ইশারায় বলে উঠলো

“মেয়েকে নিয়ে ফিরে যাচ্ছি ক্যালিফোর্নিয়া।বাবার ওখানে থাকবো।তুমি যেহেতু মুখ লুকিয়ে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্য করো তবে তুমি একাকী ই এখানে থাকো।

বলেই গুছানো লাগেজ হাতে নিয়ে রোদের হাত ধরে হিরহির করে টেনে নিয়ে বেরিয়ে যেতে চাইলো।পেছন থেকে রুদ্র ডেকে শুধালো

“তুমি কি চাও রোদসী?

বিষন্ন মন মরা রোদসী কাতর গলায় বলল

“একটু দম ছেড়ে বাঁচতে চাই বাবা।আর প্রাণ খুলে কথা বলার মতো বন্ধু।

চলবে

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply