অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫৬
লেখিকাফারহানানিঝুম
(🚫 দূর্বল হৃদয়ের পাঠকদের জন্য গল্পটা একদম নয় এবং প্রাপ্তমনস্কদের জন্য উন্মুক্ত)
(🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।)
এহসান মঞ্জিল
ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে স্মাইলি ,চোখে অপার বিস্ময়। ভেতরে প্রবেশ করতেই ধড়ফড়িয়ে উঠে বুকের ভেতর। এই রাজকীয় মঞ্জিল টা এত সুন্দর? বাংলাদেশের বুকেও যে এমন রাজকীয় ভিলার উপস্থিতি থাকাতে পারে তা সম্পর্কে অজ্ঞাত স্মাইলি। সে দেখেছে এরকম মঞ্জিল।লুসিফারের এল এ বি প্যালেসটা কোনো অংশে কম নয়,তবুও এই মঞ্জিল ভিন্ন। নিঃসন্দেহে মঞ্জিলের মালিকের রুচি আছে বলতে গেলে।নয়তো এমন কালোর মাঝে সবুজ আর্টিফিশিয়াল কারুকার্য কে করে আজকাল? অভ্যন্তরে প্রবেশ করতেই হৃদস্পন্দন ক্রমাগত বাড়ছে। ধুকপুক ধ্বনিতে কেঁপে উঠলো সমগ্র সত্ত্বা।
মেইর ডোর দিয়ে ইলহাম ন্যান্সি অ্যাঞ্জেলিনা প্রবেশ করা মাত্রই অপরিমেয় উল্লাসে তিতলি দৌড়ে এলো তার দিকে।
“ইলহাম আপুউউউ।”
প্রতিটি কথায় উচ্ছলতা ও স্নেহের বহিঃপ্রকাশ স্পষ্ট।
স্মাইলিকে পাশ কাটিয়ে দৌড়ে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরল তিতলি। রীতিমতো উপেক্ষা করেছে স্মাইলি নামক কন্যাকে।
স্মাইলি স্থবির নিঃশব্দ, নির্বাক , এতদিন ধরে ইলহাম কে সে চিনে উঠতে পারেনি। ধরতে পারেনি তার প্রকৃত সত্তা কে সে? এ বাড়ির সাথে কিসের সম্পর্ক তার? আর তারাই বা এখানে এলো কেন?
অজানা রহস্যের আবরণে আবদ্ধ হয়, স্মাইলির মন। দাঁড়িয়ে রইল নীরব দর্শক হয়ে। ভাবখানা এমন সে শুধু দেখার জন্যে এখানে উপস্থিত হয়েছে।
“আমি ভালো আছি পাগলী। তুমি কেমন আছো?”
কথা শেষ হওয়া মাত্রই হুহু শব্দে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল মেয়েটার অক্ষিপুট থেকে। রুদ্ধ কন্ঠে বলে,
“তোমাকে ভীষণ মিস করছি ,ইলহাম আপু।”
পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা ঈশান তীক্ষ্ণ বিদ্বকারী দৃষ্টিতে দৃশ্যটি পর্যবেক্ষণ করল। অন্তঃকরণে এক প্রকার ক্ষীণ ক্ষোভের সঞ্চার হলো। কি শয়তান মেয়ে তার জন্য কখনো কাঁদে না অথচ সে কিন্তু ভবিষ্যৎ স্বামী তার। একবার জিজ্ঞেস করলো না ঠিক আছি কি-না? তার জন্য বিন্দুমাত্র বিচলিত দেখা গেল না কন্যাকে!
ক্রমে একে একে সবাই ড্রয়িং রুমে নেমে এলো। মাইমুনা এহসান বিনা পূর্বাভাসে স্নিগ্ধ, কোমল কন্ঠে ন্যান্সির উদ্দেশ্যে বলল,
“কেমন আছো ইলহাম?”
আলতো করে গিয়ে ন্যান্সি কে জড়িয়ে ধরলেন তিনি। ন্যান্সি স্বভাবজাত মৃদু , সংযত স্বরে বলল।
“ভালো মা। আপনি কেমন আছেন?”
ঠোঁটের কোণে মেকি হাসির রেখা প্রস্ফুটিত করে বললেন,
“ফাইন।”
কল্পনা সম্পূর্ণ রূপে উপেক্ষা করল উপস্থিত সকলকে। মনে ক্রোধের উষ্মা দাউদাউ করে জ্ব’লছে। কি এমন রাজ কার্য করে এসেছে সে? সেই তো পলাতক বধূ আবারো ফিরেছে। তার উচিত তাকে চপোঘাত করা।এত দুঃসাহস দেখায় কি করে বাড়ির বউ হয়ে?
অথচ হচ্ছে ঠিক তার বিপরীত।
নীলাদ্রি ন্যান্সির প্রতি সরাসরি কোনো বক্তব্য করল না। রীতিমতো উপেক্ষা করে গেল তাকে। ইদ্রানের প্রতি উদ্দেশ্যে বলে উঠে,
“ওয়েল কাম ব্যাক এল এ বি।”
ইদ্রান চারি পাশে অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টি বুলিয়ে গম্ভীর স্বরে শুধোয়,
“মাফিয়া কিং কোথায়?”
এই প্রশ্নের উত্তরে উপরে দোতলার রেলিং ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা আফরিদ এতক্ষন যাবত প্রিয় স্ত্রীকে অবলোকন করতেই নিমগ্ন ছিলো। অন্যদের প্রতি বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই তার। তার সম্মুখে সেই নারী দাঁড়িয়ে আছে যাকে দেখলে বেঁচে থাকার ইচ্ছে দ্বিগুণ বেড়ে যায়। তাকে সামনের রেখে অনর্থ দৃষ্টি নিক্ষেপ করা যেনো ঘোরতর অপরাধ।
“হেই বিউটিফুল লেডি লুক অ্যাট মি।”
সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য এই একটি বাক্য যথেষ্ট ছিলো।
বিস্ফারিত নেত্রে উপরে আফরিদের দিকে তাকালো ন্যান্সি। তাকে আফরিদ রেলিং আঁকড়ে দাঁড়িয়ে আছে, ন্যান্সির দিকে তাকিয়ে দুষ্টুমি ভরা হেসে চোখ টিপে। ঠোঁটের কিনারায় লেপ্টে আছে চিরচেনা সেই স্বচ্ছ হাসি টুকু।
লজ্জায় হাঁসফাঁস করে উঠে মেয়েটা। লজ্জা, বিরক্তি আর অস্বস্তির প্রতিক্রিয়ায় ন্যান্সির সমগ্র দেহ যেন অস্থির হয়ে উঠল! অন্তরের বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় সঞ্চার,এত দিন পরেও স্বভাব বদলায় নি একটুও।
অবশেষে রাগে দুঃখে আবেগাপ্লুত হয়ে সদর দরজা দিয়ে বাইরে বেরিয়ে গেলো ন্যান্সি।
আফরিদ অল্প স্বরে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল। এই হাসিটা নিবেদিত তার একান্ত প্রাণ প্রিয় পরাণের জন্য।
স্মাইলি স্তব্ধ,নির্বাক , চারিদিকে দৃষ্টি ঘুরিয়ে নিরীক্ষণ করে চলেছে। এখানের কাউকেই তো সে চেনে না।
আফরিদ গম্ভীর স্বরে ঈশানের উদ্দেশ্যে নির্দেশ নিক্ষেপ করলে বলে উঠে।
“আমার শ’ত্রুর থাকার ব্যবস্থা কর ঈশান।”
ইদ্রান ভ্রুকুটি করে ব্যঙ্গাত্মক কন্ঠে বলে উঠে।
“টু মাচ মাফিয়া।”
আফরিদ তাতে কর্ণপাত করল না মোটেও ,আপাতত তার অন্তরের দহন প্রশমনের নিমিত্ত তার নায়িকার সান্নিধ্যে যাওয়াই শ্রেয়। পাখি আবার কখন যে উড়ে যায় তার নিশ্চয়তা নেই । চটজলদি তাকে আপন খাঁচায় বন্দী করাই উত্তম।
সোফায় বসলো ইদ্রান ,তার ঠিক সামনেই বসেছে স্মাইলি। চোরা চোখে বারংবার দেখছে ইদ্রান কে। সে তো তাকে ধোঁকা দিয়েছে! অন্তরে তীব্র আ’শঙ্কা এখন ইদ্রান কি তাকে মে রে ফেলবে?
তিতলি দৌড়ে কিচেনে গেল , সবার জন্য গরম গরম খাবার বানাতে হবে এই মূহুর্তে। তিতলির পিছু পিছু ঈশান এগিয়ে গেল। বাকি সার্ভেন্ট গুলোর সাথে নিজেও হাত লাগিয়েছে তিতলি। কটমট করে তাকালো ঈশান , হিসহিসিয়ে বলে উঠে।
“এই বেয়াদব মেয়ে একবারও আমার খোঁজ নিয়েছো?”
ব্যস্ত হাতটা থামলো তিতলির। বিস্ময়াভিভূত স্বরে উত্তর করল,
“ওমা আপনার আবার আলাদা খোঁজ নিতে হবে নাকি?”
তেতে উঠল ঈশান ,ঠাস করে মাথায় বসিয়ে দিলো তিতলির। আরো একদফা বিস্ময়াবিষ্ট নয়নে তাকালো রমণী। তৎক্ষণাৎ কর্ণকুহুতে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে ভেসে এলো,
“বেয়াদব কোথাকার আমি তোমার ভবিষ্যৎ স্বামী।”
হো হো করে হেসে উঠলো তিতলি। তার এই অট্টহাস্যে ক্রো’ধে জ্বলে উঠল চোখ দুটো ঈশানের। সেই আ’গুনে ঘি দেওয়ার মতোই বলল,
“আপনি হলেন ভবিষ্যতে কুরবানী দেওয়া গরু।”
🌿____🌿
দূরে দূরে সুরে সুরে
কাছে আসি ঘুরেফিরে,
পথে পথে পায়ে পায়ে
ফিরে আসি এঘরে
চারটা লাইন বড্ড মানানসই ন্যান্সির সাথে। অন্তত এই পরিস্থিতিতে তাই মনে হচ্ছে কন্যার।
চুপচাপ বাগানের নিস্তব্ধতায় দাঁড়িয়ে আছে ন্যান্সি। মস্তিষ্ক জুড়ে এটাই ভাবনা। মিস্টার আলবার্টের সাথে কিসের সম্পর্ক তার? তার পরিবার কোথায়? কেনো বা মিস্টার আলবার্ট এর সাথে তার ছবি রয়েছে ছোট বেলার?
চারপাশে ছড়িয়ে আছে নরম আলো আর অদ্ভুত শান্তি। তার পরণে সাদামাটা অথচ ভীষণ আভিজাত্যে ভরা পোশাক হালকা ফিটিং ওয়েস্ট শার্ট, তার সঙ্গে মানানসই গাঢ় রঙের প্যান্ট, উপরে লেদার জ্যাকেট। অচেতনেই কাঁধের কাছে ঝুলে থাকা চুলের গোছা নেমে এসেছে হাঁটু অব্দি, আলতো বাতাসে দুলছে।
বাগানের ফুলগুলো থেকে আসা মিষ্টি সুবাস মিলেমিশে যাচ্ছে ন্যান্সির নিজের শরীরের স্বাভাবিক সৌরভে। দু’হাত ভাঁজ করে বুকের কাছে জড়িয়ে রেখেছে সে, যেন কোনো অজানা চিন্তায় ডুবে আছে। মঞ্জিলের সবকিছু বদলে গিয়েছে। নতুন করে সজ্জিত হয়েছে। ঠিক একই ভাবে বাগানেও পরিবর্তন এসেছে।ওইতো শুভ্র রঙা দোলনা। এর আগে এটা এখানে ছিলোনা,হয়তো নতুন লাগানো হয়েছে বাগানে। দোলনাটা বেশ মনে ধরেছে কন্যার। গিয়ে বসার এক সুপ্ত বাসনা উদয় হয় মন কাননে।
এক পা এগুতেই
ঠিক তখনই আকস্মিক ভেসে এলো এক গম্ভীর, গাঢ় পুরুষালী স্বর।
“তোর শরীরের মিঠা মিঠা ঘ্রাণটা একটু বেশি টানে। আমি মিস করেছি এই খুশবু।”
ক্ষণমাত্র সারা দেহে শিহরণ জাগল মেয়েটার। নিঃশ্বাসরুদ্ধ বিস্ময়ে সে হঠাৎই ফিরে দাঁড়াল। দৃষ্টি সম্মুখে উদ্ভাসিত হলো এক অচেনা অথচ অদ্ভুতভাবে পরিচিত পুরুষের উপস্থিতি।
নাকের পাটা ফুলিয়ে সেই চিরচেনা রূপে বলে ওঠে,
“আর আপনার শরীরের ঘ্রাণ তো কেরোসিন তেলের মতো।”
ফিচলে হাসে আফরিদ। দুহাত পকেটে গুঁজে টানটান ভঙ্গিতে দাঁড়ালো। কন্ঠ খাদে নামিয়ে বলল,
“অথচ সেই ঘ্রাণ সমগ্র সত্ত্বায় মিশে আছে, জা-ন-কি বাচ্চা।”
ডাকটি টেনে টেনে বলল আফরিদ। নিগূঢ় তার চাহনি।ওই তীক্ষ্ণ চোখের চাহনিতে অন্তর্নীলের তীব্র ঘূর্ণিঝড় আঁচড়ে পড়ে কন্যার।তা কি জানে ওই পুরুষ?
“সেখান থেকে শুরু করছিলি সেখানেই চলে এলি।”
ন্যান্সি স্থির । নিরুত্তর , নির্বিকার দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে। নেই কোনো অস্বস্তি। লোকটার গাঢ় নীলচে সমুদ্রের নয়ন দুটি খুব করে টানে।
আফরিদের ঠোঁটের কোণে খেলা করছে বিকৃত, পৈ’শাচিক হাসি।
“তোকে শাস্তি দেওয়া এখনো বাকি আছে। আমাকে ঠকিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অপরাধে শাস্তি তো পেতেই হবে।”
বুকের ভেতর কেঁপে উঠলো ন্যান্সির। সে ভয় পায় মারাত্মক ভয় পায় আফরিদ কে। সেই ভয়টা আবারো গ্রাস করেছে তাকে। যে লোকটা তার সামনে একজন কে খু’ন করতে পারে। অন্য একজনের হাতের আ’ঙ্গুল কাটতে বাধ্য করে সে সব কিছু পারে। নিষ্ঠুরতার সীমা অজানা। তার বিভৎস রূপ আর কত দেখবে , কে জানে।
ভীরু মেয়েটা পকেট থেকে রিভলবার বের করে তাক করে আফরিদের দিকে। দাঁতে দাঁত পিষে বলে।
“তার আগেই যদি আমি আপনাকে শেষ করে দেই তাহলে?”
আফরিদ গা দুলিয়ে হেসে উঠলো। ঘাড় ম্যাসাজ করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলল,
“বাহ্ বাহ্ দারুন ব্যাপার,তুই মাইরি চালাক হইয়া গিয়েছিস। তোকে দেখে গর্বে গর্ভবতী হয়ে গেলাম।”
আফরিদের অপ্রাসঙ্গিক কথায় থম মে রে গেল ন্যান্সি।
আফরিদ এক পা এগিয়ে এলো।
“চালা গু’লি।”
ন্যান্সি ক্রমাগত পিছিয়ে যাচ্ছে। কাঁপা কাঁপা গলায় বলল।
“সত্যি বলছি আমি কিন্তু চালিয়ে দেব।”
আফরিদ রাগলো ,অক্ষি জোড়া যেনো ক্রোধের জ্বা’লামোখা অগ্নুৎ’পাত হয়ে উঠেছে।
তীব্র আক্রোশ নিয়ে বলল,
“মা’রলে তো মে রে দিতি , এত নাটক করে কেন?শ্যুট মি।”
ন্যান্সি তটস্থ ভঙ্গিতে পিছিয়ে চলেছে। কানের পাশ বেয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে নোনাজল। ঘর্মাক্ত মুখটার দিকে একদৃষ্টিতে চেয়ে আছে আফরিদ।
আরো এক পা এগুলো আফরিদ। বজ্রনিনাদে গর্জে বলে।
“নিশানা ভুল হলে তোর খবর আছে। শ্যুট মি,আই সেইড শ্যুট মিইই। “
এমন বাজখাঁই গলায় ধমক খেয়ে কম্পিত ন্যান্সি ট্রিগার প্রেস করে দিলো । সহসা বিকট শব্দে বিস্ফোরিতধ্বনি ছড়িয়ে পড়ল চারিদিকে। এক ঝাঁক পাখি উড়ে গেল। আতংক আর ডালে বসাল জো নেই। সেই স্বস্তি টুকু গু’লির শব্দ কেড়ে নিয়েছে।
চলবে……….।🌿
(📌😒 একদল এসে বলবে ন্যান্সি বেশি বেশি করছে। আর আমি বলব আফরিদ ইজ ট্রুলি ক্র্যাজি। আদারওয়াইজ, হু লাভস হিজ ওয়াইফ দ্যাট মাচ?)
আমার আইডি Farhana Nijum
কভার ফটো ফ্রম @Picchi Mim 😚
Share On:
TAGS: অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা, ফারহানা নিঝুম
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৬
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৮(শেষ অর্ধেক)
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ২৬
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩১
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ১৬
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫৩
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৩৯
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫২
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৫৬ প্রথম অর্ধেক
-
অ্যাঞ্জেল অ্যাঞ্জেলিনা পর্ব ৪৯