Golpo romantic golpo কিস অফ বিট্রেয়াল

কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ২৬


কিস অফ বিট্রেয়াল পর্ব ২৬

লামিয়ারহমানমেঘলা

[ 🚫কপি করা সম্পূর্ণ নিষেধ ]
কুমিল্লার সদর উপজেলার আর্মি ক্যাম্পে পরপর তিনটা গাড়ি এসে থেমেছে।
অশ্চর্যের বিষয় হলো কলেজ বন্ধ থাকা কালিন বাহির থেকে কেউই ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনা।
তখন ক্যাম্পের সবাই নিজেদের বিকালের সময়টাকে উপভোগ করছিলো।
কেউ কেউ ক্রিকেট খেলছিলো আবার কেউ অন্য কিছু করছিলো।
বিলের পাশে কলেজ হওয়ায় ফুরফুরে বাতাস হচ্ছে প্রচুর।
তিনটা কালো গাড়ি দেখে উপস্থিত সকল আর্মি সোলজার নিজেদের স্থানে দাঁড়িয়ে যায়।
তারা কিছু বলবে তার আগেই মাঝের গাড়িটা থেকে বেরিয়ে আসে দু’জন সুদর্শন পুরুষ।
দু’জনের চোখের সানগ্লাস।
মৃদু এক ফালি রোদ দুজনের উপর এসে পড়েছে তাই দু’জনকে আরও আকর্ষণীয় দেখাচ্ছে।

কায়ান এবং হিমেল দু’জন গাড়ির দরজা লাগিয়ে সোজা হেঁটে যায় সামনের দিকে।
দু’জনের দৃপ্ত পদচারণায় যেন চারপাশের বাতাসও থমকে দাঁড়ায়; তাদের সেই প্রভাবশালী উপস্থিতিতে বিস্ময়ে স্তব্ধ হয়ে উপস্থিত সকলে নিঃশ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে থাকে।

হিমেল সোজা গিয়ে একজন সোলজারকে জিজ্ঞেস করে,
“ক্যাপ্টেন শাহারিয়ার কোথায়?”

“জি ক্যাপ্টেন নিজের রুমে বিশ্রাম নিচ্ছেন৷’

” রুমটা কোন দিকে?”

“সোজা গিয়ে বামে।”

“ওকে৷”

হিমেল ঠিকানা নিয়ে কায়ানের সাথে সেদিকে অগ্রসর হয়।
পেছনে থাকা আর্মি সৈনিকরা কানাঘুষা করতে থাকে এরা আসলে কারা সেটা নিয়ে।


শাহারিয়ার নিজের রুমে বসে নিজের ফোনের দিকে তাকিয়ে আছে।
হয়তবা সে ফোনে কিছু দেখছে।
খুনই মনোযোগ দিয়ে সে ফোনের দিকে তাকিয়ে আছে।
এমন সময় দরজা ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করলো কায়ান এবং হিমেল।
শাহরিয়ার ওদের দেখে ভ্রু কুঁচকে তাকায়।
ওর রুমে এভাবে পারমিশন ছাড়া কেউ ঢুকে গেলো। বাহিরে সৈনিক রা কি করছে।
কায়ান ভেতরে প্রবেশ করে শাহরিয়ার হাতের ফোনটার দিকে লক্ষ করে।
সেখানে সেরিনের ছবি।
বিষয়টা খেয়াল করেই কায়ানের মাথায় রক্ত উঠে যায়। সে প্রচন্ড ক্রোধে হাত মুঠো করে নেয়।
হিমেল বিষয়টা লক্ষ করে কায়ানের হাত ধরে রিলাক্স হতে ইসারা করে।
ততক্ষণে শাহরিয়ার বিরক্ত কন্ঠে জিনিস করে,
“আপনারা কারা? এভাবে আমার রুমে প্রবেশ করেছেন কেন?”

“আমি এ এসপি হিমেল।”

শাহারিয়ার ভ্রু কুঁচকে তাকায়,
“সরি কিন্তু আপনাকে চিনিনা৷”

“চেনার জন্য এখানে আসিনি মিস্টার শাহারিয়ার।
এখানে এসেছি একটা বিশেষ কারণে।’

” জানতে পারি কি কারণটা কি?”


শাহারিয়ার রুমেই কায়ান এবং হিমেলের অপর সাইডে শাহারিয়ার বসে আছে।
তিন জনের মুখশ্রীই গম্ভীর।
পরিবেশ থমথমে। পূর্বাভাস ঝড়ের। খানিকক্ষণের নীরবতা কাটিয়ে শাহারিয়ার গম্ভীর কন্ঠে বলে ওঠে,
“আপনি বলতে চাইছেন সেরিনকে ছেড়ে দিতে?
জানতে পারি কি আপনি সেরিনের কি হন মিস্টার?”

শাহারিয়ার প্রশ্নের উত্তরে কায়ান বাঁকা হেসে বলে,
“সি ইজ মাইন।
আমি ওর কে হই, কিভাবে হই, কখন হই থেকে বড় কথা হচ্ছে সে আমার৷ শুধুমাত্র আমার।”

“সরি টু সে, আপনি কি সেরিনকে কোন ভাবে নিজের পন্য মনে করছেন?”

“মিস্টার শাহারিয়ার, আপনাকে এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা এখানে আসিনি।
আমার সেরিনের থেকে দুরে থাকবেন। আমার সেরিন কাল আপনার জন্য অসুস্থ হয়ে পড়েছিলো। আমি চাইনা তার উপর আর কোন প্রেসার আসুক।
আপনি যদি ভালো মানুষের মত পিছিয়ে না জান তবে আমাকে অসৎ পথ অবলম্বন করতে হবে।’

শাহারিয়ার রেগে বসা থেকে উঠে দাঁড়ায়। সভাবত ধৈর্যশীল শাহারিয়ার তখন ধৈর্য হারা হয়ে চিৎকার করে বসে,
” আপনি যা বলবেন আমাকে সেটাই করতে হবে নাকি? আমি সেরিনকে ভালোবাসি। আমি ওকেই বিয়ে করব পারলে ঠেকান।”

হিমেল, এবার কিছুটূ ভয় পেয়ে যায়। এ জন্য নয় যে শাহারিয়ার ওদের ধমকাচ্ছে বরং এ জন্য যে কায়ান এবারনা একে এখানেই সুট করে দেয়।
তাহলেত বিপদ হয়ে যাবে। শাহারিয়ার একজন৷ আর্মি ক্যাপ্টেন । এই মার্ডার চাইলেও ধামাচাপা দেওয়া যাবেনা।
তবে হিমলকে অবাক করিয়ে দিয়ে কায়ান শান্ত কন্ঠে হেসে ওঠে।
গম্ভীর সে হাসি। যেন শব্দ শুনেই শরীর হিম শীতল হয়ে আসবে।
“মিস্টার শাহারিয়ার, সেরিন আমার পাগলামি।
আপনাকে শান্ত মেজাজে বললাম শুনলেন না।
পরবর্তীতে আমি যা করব সেটা সহ্য করার জন্য প্রস্তুতি নিন।
মনে রাখবেন সিকদার কায়ান মাহাবুবের জিনিসে চোখ দেওয়া মানে জীবন থেকে হাত ধুয়ে বসা৷”

শেষ কথাটা বলে কায়ান উঠে দাঁড়ায়।
বেরিয়ে যায় রুম থেকে। হিমেলও কায়ানের পিছু পিছু বেরিয়ে যায়।
শাহারিয়ার তাকিয়ে রয় সেদিকে।
সিকদার কায়ান মাহাবুব নামটা সে শুনেছে।
কিছুটা মাথা খাটিয়ে শাহারিয়ার বুঝতে পারে এটা কে ছিলো।
খানিকটা ভয় পেয়ে যায় সে।
তবে সে দ্রুতই সার্চ করে। কায়ানের বউ বাচ্চা আছে এটা শুনেছিলো। সিওর হবার জন্য সে সার্চ করে কায়ান সম্পর্কে।
হ্যাঁ কায়ানের বউ বাচ্চা আছে।
শাহারিয়ার মাথায় কিছুই ঢুকছে না।
সে সেরিনের সাথে কথা বলবে ঠিক করে।
তাই সে গাড়ির চাবি নিয়ে বেরিয়ে যায় তখনি।
বাহিরে থাকা সৈনিক রা দেখে ওই তিনটা গাড়ি চলে গেলে শাহারিয়ার ও বেরিয়ে গেলো।
তবে এ বিষয়ে ওরা বেশি মাথা ঘামায় না।


গাড়িতে বসে হিমেল, কায়ানকে জিজ্ঞেস করে,
“কি করবি এখন?”

“মেহেরীণকে ডিভোর্স দিব৷’

” সাইন করিয়েছিস?”

কায়ান বাঁকা হাসে,
“হ্যাঁ এই সাইনটার জন্যইত এত দিন সহ্য করলাম ওকে।”

“কিভাবে করালি সাইন?”

কায়ান বাঁকা হাসে,
অতীত,
সেদিন কায়ান বাড়িতে এসে কিছু কাগজ নিয়ে মেহেরীণের রুমে যায়।
মেহেরীণ তখন ফোন স্ক্রোল করছিলো।
কায়ান ভেতরে গিয়ে মেহেরীণের সামনে বসে,
“হেই মেহেরীণ! “

মেহেরীণ কায়ানের কন্ঠ শুনে ফোন থেকে মাথা তুলে তাকায়৷
“তুমি এখানে?”

“কেন স্ত্রী এর রুমে আসাটা কি বারণ?”

“আরে না না। তা কেন? বসো।’

কায়ন বসে মেহেরীণের সামনে।
” আজকাল কি দিচ্ছো ফেইসে? বড্ড বাচ্চা বাচ্চা দেখায় তোমাকে।”

মেহেরীণ হেসে ফেলল,
“সিক্রেট বলব না৷”

“আহ ঠিক আছে। আমার কাছে তোমার জন্য একটা কাজ আছে।”

“কি কাজ?’

” আমার ফ্রেন্ড মডেল খুজছিলো তার ক্রিমের ব্রান্ডের জন্য।
তুমি কি ইচ্ছুক?’

“এই বয়সে মডেলিং? ‘

” তুমি স্টিল ইয়াং আছো। আর ও এমনটাই দেখাচ্ছে চাইছে বয়স বাড়বে কিন্তু চেহারায় বোঝা যাবে না৷”

“ওয়াউ তাহলেত করাই যায়৷”

কায়ান হাতে থাকা কাগজ গুলো মেহেরীণকে দেয়।

“একটু পড়ে দেখো ভালো লাগলে সাইন করো।’

মেহেরীণ কাগজ গুলো নিয়ে নেয়।
এরপর কায়ান যেমনটা আশা করেছিলো। প্রথম দু পৃষ্ঠা এব শেষের পৃষ্ঠা পড়েই মেহেরীণ এগ্রিমেন্টে সাইন করে দেয়।
তার মাঝেই ছিলো ডিভোর্সের কাগজ।
মেহেরীণ খুবই চালাক। কিন্তু সে জানেনা কায়ান তার থেকেও ভয়ঙ্কর চালাক।

বর্তমান,
হিমেল পুরো কাহিনি শুনে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে।

” আল্লাহ ভাই কি বলিস এসব? আজকে তাহলে খেলা হবে।”

“হ্যাঁ ওর বাপ ভাইও আসতেছে।”

“মাই গড, আমি শুধু ভাবি এই ৪৫ বছরের বুড়ি মহিলাটার কত সাধ জীবনে।”

কায়ান হাসে।
দু’জন এরপর চট্রগ্রামে সিকদার নিবাসের দিকে রওনা করে।


সেরিন উঠান ঝাড় দিচ্ছিলো কোমড়ে ওড়না বেঁধে।
এমন সময় ওর সামনে উপস্থিত হয় শাহারিয়ার।
শাহারিয়ারকে দেখে সেরিনের বুকের ভেতরটা ধক করে ওঠে।
সে সোজা হয়ে দাঁড়ায়।
শাহারিয়ার, সেরিনের চেহারা দেখে বুঝতে পারে সেরিন তাকে দেখে খুশি হয়নি।
তবুও সে এগিয়ে যায় সেরিনের দিকে।
“হ্যালো সেরিন৷”

“হাই৷”

“কেমন আছো?”

“আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আপনি?’

” ভালো। সেরিন বলছিলাম তোমার সাথে আমার কিছু কথা ছিলো৷”

সেরিন একটু ইতস্তত বোধ করে বলে,
“জি বলুন৷’

শাহারিয়ার দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,
” এখানে নয় সেরিন। একটু বাহিরে যাই চলো।”

“না আম্মা রাজি হবেন না৷”

“আন্টিকে আমি বুঝিয়ে বলব৷”

শাহারিয়ার গিয়ে সেরিনের আম্মাকে জিজ্ঞেস করতে সেরিনের আম্মা রাজি হয়ে যায়। সেরিন বড্ড বিরক্ত হয়। কেন তার আম্মাকে রাজি হতে হবে।
তবে তার কাছে না করার আর কোন উপায় নেই। যেতে হবে তাকে।


বিলের পাশে একটি ছোট্ট বাশের তৈরি গ্রাম্য ক্যাফে।
দক্ষিণ দিক থেকে ফুরফুরে বাতাস আসছে ভেতরে।
চারিদিকে বেশ নানান রঙের গোলাপ গাছ।
সেরিন এবং শাহারিয়ার বসে আছে মুখোমুখি। শাহারিয়ার কফি অর্ডার করেছে।
কফি দিয়ে গিয়েছে ওয়েটার কিন্তু সেরিন হাত দেয়নি কফিতে।
শাহারিয়ার কফি কাপে চুমুক বসিয়ে বলে,
“কি হলো খাও।”

সেরিন মৃদু হেসে কাপটা হাতে নেয়,
“জি বলুন কি বলবেন?”

“সিকদার কায়ান মাহাবুবের সাথে তোমার কি সম্পর্ক? “

চলবে?

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply