Golpo romantic golpo দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ

দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৪৯


দ্যা আনপ্রেডিক্টেবল লাভ পর্ব ৪৯

জাহিরুলইসলামমাহির

🌿

“বিকেল চারটা। রায়হান, আদ্রিজা আর আরশ কে নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছে। একটা সুন্দর পার্কের সামনে এসে গাড়ি ব্রেক করে রায়হান। মিহির উৎসুক চোখে তাকায়।”

“ওয়াহ পাপা এই পার্ক টা তো তুব তুন্দর মনে হচ্ছে। পাপা তালাতালি ভিতলে তলো।”

“আরশের কথায় রায়হান আর আদ্রিজা দুজনে হেঁসে উঠে।”
–“চলো তাহলে ভিতরে যাওয়া যাক।

—“হুম পাপা তালাতালি চলো।

রায়হান আদ্রিজা আর আরশ কে নিয়ে পার্কের ভেতরে ঢুকে পড়ে, চারপাশের সবুজ গাছ আর ফুলের সৌন্দর্যে আরশ আরও খুশি হয়ে ওঠে।”

“পাপা, পাপা! ওই যে রাইতগুলো! আমি চড়বো!” আরশ রায়হানের কোলেই লাফাতে থাকে।”

“রায়হান হেসে বলে, “ঠিক আছে মাই সান, তা কোনটায় চড়বে? মেরি-গো-রাউন্ড নাকি ট্রেনটা?”

“আরশের চোখ বড় বড় হয়ে যায়, “মেরি-তো-লাউত!

“আদ্রিজা ও হাসে, আর বলে”..
–“আমি তোমার সাথে মেরি তো লাউতে উঠবো।”

“রায়হান টিকেট কেটে আরশ কে নিয়ে মেরি-গো-রাউন্ডে ওঠে, আদ্রিজা পাশে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে দেখে। আরশ ঘোড়ায় বসে চিৎকার করে, “ওয়াহ! পাপা দেতো, আমি উতছি!”

“রায়হান আর আদ্রিজা হাসতে হাসতে আরশের ছবি তোলতে থাকে।”

–“রাইড শেষে আরশ নেমে এসে বলে”..
“পাপা, এখন আইতিম তাবো!”

“নো মাই সান, আইসক্রিম খাওয়া যাবে না। আইসক্রিম খেলে তোমার ঠান্ডা লাগতে পারে।”

“রায়হানের কথায় আরশ একটু হতাশ হয়ে যায়, “আহ পাপা… তেনো?”

“আদ্রিজা বলে, “ঠিকই বলেছে পাপা, আইসক্রিম খেলে তোমার ঠান্ডা লাগবে। তাঁর চেয়ে বরং তুমি চকলেট খাও। পার্কের ওইদিকে একটা চকলেটের দোকান আছে।”

–“মাই সান চলো তাহলে চকলেট খাবো আজ।”

“আরশের মুখ আবার উজ্জ্বল হয়ে উঠে”.
–“তিক আতে পাপা তলো।”

“রায়হান, আরশ আর আদ্রিজা কে নিয়ে চকলেটের দোকানের দিকে হাঁটতে থাকে, দোকানে ঢুকে আরশের পছন্দ মতো আরশ কে অনেক গুলো চকলেট কিনে দেয় রায়হান।”

“কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করে আদ্রিজা আর আরশ কে নিয়ে পার্ক থেকে বের হয়ে আসে রায়হান।”

🌿
“চট্টগ্রাম শহরের সন্ধ্যা নামছে। বন্দর নগরীর সবচেয়ে অভিজাত কমিউনিটি সেন্টার ‘দ্য রুফটপ রয়্যাল’-এর ছাদটা আজ রায়হান আর আদ্রিজার ম্যারেজ অ্যানিভার্সারির জন্য পুরো রাজকীয় সাজে সেজেছে।”

“ছাদে ঢুকতেই সাদা আর শ্যাম্পেইন গোল্ড রঙের বিশাল ফ্লোরাল আর্চ। হাজার হাজার সাদা গোলাপ, অর্কিড আর পাম্পাস গ্রাস দিয়ে মোড়ানো। আর্চের দুপাশে ক্রিস্টাল ঝাড়বাতি ঝুলছে। ফ্লোরে লাল গালিচা বিছানো, তার উপর সোনালি গ্লিটারে লেখা “Rayhan & Adriza – Forever Together”।
“পুরো ছাদ জুড়ে ফেয়ারি লাইটের ঝালর। ছাদের রেলিং থেকে নিচ পর্যন্ত ঝুলে আছে ওয়ার্ম গোল্ডেন স্ট্রিং লাইট। মাঝখানে ৩টা বিশাল ক্রিস্টাল শ্যান্ডেলিয়ার, যেগুলোর আলো পড়ে পুরো ছাদ ঝলমল করছে। চারপাশে মিরর প্যানেল বসানো, যাতে লাইট রিফ্লেক্ট করে জায়গাটা আরো বড় আর আলোকিত লাগে।”
“মাঝখানে রায়হান আর আদ্রিজার জন্য সাদা মার্বেলের রাউন্ড টেবিল। টেবিলের উপর সোনালি ক্যান্ডেলস্ট্যান্ড, সাদা রোজ আর অর্কিডের সেন্টারপিস। চেয়ারগুলো গোল্ড মেটাল ফ্রেমের, সাদা ভেলভেট কুশন দিয়ে মোড়ানো।
” একপাশে ছোট্ট স্টেজ। ব্যাকড্রপে সাদা আর নেভি ব্লু ড্রেপস, তার মাঝখানে নিয়ন সাইনে জ্বলছে “R & A”। পুরো ব্যাকড্রপ ফ্রেশ হোয়াইট রোজ আর ব্লু হাইড্রেঞ্জিয়া দিয়ে বর্ডার করা। স্টেজের সামনে কোল্ড ফায়ারওয়ার্কস এর ব্যবস্থা।”
” শ্যাম্পেইন গোল্ড, পার্ল হোয়াইট আর রয়্যাল ব্লু। সব ফুল, কাপড়, লাইট এই তিন রঙের কম্বিনেশনে।”
” ভায়োলিন আর পিয়ানো সেটআপ, সফট মিউজিক বাজছে”
” কাঁচের বক্সে আদ্রিজার ফেভারিট হাজারটা নীল গোলাপ রাখা হয়েছে।
হালকা বাতাসে শ্যাম্পেইন কালারের পর্দা উড়ছে, চারপাশে মোমবাতির আলো, আর দূরে কর্ণফুলী নদীর ভিউ – পুরো ছাদটা দেখে মনে হচ্ছে কোনো বলিউড সিনেমার সেট।”

“আদ্রিজা বর্তমানে ছাঁদের একদমই মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে। আদ্রিজার পিছনে আরশ কে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে রায়হান। আদ্রিজা অবাক চোখে চারদিকে চোখ বুলিয়ে নিচ্ছে। আদ্রিজার মনে হচ্ছে সেই কোন রুপকথার রাজ্যে আছে।”

–“কি বেয়াইন থুক্কু আমার অর্ধাঙ্গিনী, আমার প্রিন্সের মাম্মাম ডেকোরেশন পছন্দ হয় নিই ?”

“আদ্রিজা রায়হানের দিকে তাকায়। চোখে পানি টলটল করছে। পলক ফেললেই গড়িয়ে পড়বে নোনাজল।”

–“প্রিন্সের মাম্মাম কথা বলছো না কেনো?”

“আদ্রিজা ঝাঁপিয়ে পড়ে রায়হানের বুকে। শরীরে সব শক্তি দিয়ে জড়িয়ে ধরে রায়হান কে। রায়হান ও আদ্রিজা কে আগলে নেয় নিজের বাহু ডুরে। মিনিট পাঁচেক পর রায়হান বুঝতে পারে যে আদ্রিজা কান্না করছে। তাই নিজের কাছ থেকে আদ্রিজা কে সরিয়ে নেয় রায়হান। আদ্রিজার চোখের পানি মুছে দিয়ে বলে”..

–“নো অর্ধাঙ্গিনী নো। তোমার চোখে জল মানাই না।”

“ছাদের ক্রিস্টাল শ্যান্ডেলিয়ারের আলোয় আদ্রিজার চোখ দুটো চিকচিক করছে।”

“এই দিনে কাঁদতে নেই, পাগলি। আজ আমাদের anniversary দিন। এই দিনেই কট খেয়ে তোমাকে নিজের অর্ধাঙ্গিনী হিসেবে পেয়েছিলাম। আজকের দিন টা আমার জন্য স্পেশাল একটা দিন। দেখো চারপাশে, সবকিছু তোমার হাসির জন্য সাজিয়েছি।”

আদ্রিজা ফুঁপিয়ে উঠে রায়হানের বুকে মুখ লুকায়। “আপনি এত কিছু আমার জন্য করেছেন?”

রায়হান আদ্রিজার কপালে চুমু খেয়ে বলে, “তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে দামি উপহার। তোমার এক ফোঁটা চোখের জল পড়লে এই সব শ্যান্ডেলিয়ার, গোলাপ, লাইট সব মিথ্যে হয়ে যায়। হাসো আমার অর্ধাঙ্গিনী, আজ শুধু হাসো।”

“পেছনে সফট ভায়োলিনে বাজছে ওদের প্রিয় গান। আর নীল গোলাপের বক্সটা থেকে আসা মিষ্টি সুবাসে ভরে আছে পুরো ছাদ।”

“অর্ধাঙ্গিনী চলো কেক টা কাটি।”

“আদ্রিজা হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়ায়। রায়হান আদ্রিজা আর আরশ কে নিয়ে টেবিলের দিকে এগিয়ে যায়। দুজনে মিলে কেক টা কাটে এবং একে অপর কে খাইয়ে দেয়।”

🌿

“রাত নয়টা। আধীর আর অর্ণি খেলা করছে। বাকিরা ডাইনিং রুমে বসে গল্প করছে। দৌড়াতে গিয়ে হঠাৎ করেই অর্ণি পড়ে যায় এবং পায়ে ব্যথা পায়। তা দেখে অর্ণির কাছে ছুটে যায় আদনান। আদনানের পিছু পিছু আদ্রিয়ানা আর জোবাইদা ও যায়। আদনান অর্ণি কে কোলে তুলে নেয়। পা কেটে গেছে রক্ত ও পড়ছে। আদ্রিয়ানা ছুটে যায় রুমের দিকে। ফাস্টটেস্ট বক্স আনতে। মিনিট দুয়েকের মধ্যে ফাস্টটেস্ট বক্স নিয়ে হাজির হয়। আদনান যত্ন সহকারে অর্ণির পা ফাস্টটেস্ট করে দেয়।”

–“আম্মু বেশি ব্যাথা লাগছে কি ?”

–“নো মাম্মাম এখন একটু ও ব্যাথা লাগছে না।”

–“মিথ্যা কথা বলছো কেন?”

–“মিথ্যা কথা না মাম্মাম সত্যি কথা। আর তুমি এতো হাইফার হচ্ছ কেন? সামান্য একটা ব্যাপার নিয়ে?”

“অর্ণির কথা শুনে আদনান বলে”..
“মাই ডিয়ার প্রিন্সেস এটা তোমার কাছে সামান্য ব্যাপার হলেও তোমার পাপা আর মাম্মামের কাছে সামান্য ব্যাপার না।”

“বুঝতে পারছি। পাপা, মাম্মাম আই অ্যাম সরি। আর কখনো এমন হবে না।”

“আদনান আর আদ্রিয়ানা মিলে মেয়ে কে চুমু দেয়। দেখতে দেখতে রাত দশটা টা বেজে যায়। রায়হানরা ও বাড়ি ফিরে আসে। রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আবার নিচে চলে আসে। জোবাইদা রাতের খাবার বাড়েন। সবাই খেতে বসে। খাওয়া শেষে যে যার রুমে চলে যায়।”

🌿

“বেবিদের কে বেডের এক পাশে দিয়ে বেডের একদমই মাঝখানে শুয়ে আছে আদনান। বারবার রুমের দরজা দিকে তাকিয়ে দেখছে আদ্রিয়ানা আসছে কি-না। না এখনো আসে নিই। আরো মিনিট পাঁচেক পর আদ্রিয়ানা রুমে আসে। আদনান কে বেডের মাঝখানে শুয়ে থাকতে দেখে আদ্রিয়ানা বলে”…

“মিস্টার পান্ডা সাহেব আপনি কি পাগল হয়ে গেছেন?”

“আজব আমি পাগল হতে যাবো কেনো?”

“তাহলে বেবিদের কে বেডের মাঝখানে না দিয়ে এক পাশে দিয়েছেন কেন? ওরা ছোট মানুষ ভুল বশত যদি বেড থেকে পড়ে যায় তাহলে ব্যাথা পাবে না।”

“পড়বে না পাশে কোল বালিশ দিয়ে দিয়েছি।”

“তাঁর পর ও ওদের কে মাঝখানে দিন আর আপনি সাইডে যান।”

“নাহ আমি সাইডে যাবো না। আমি তোমার পাশে শুয়ে তোমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমাবো।”

“নাটক বন্ধ করেন আর সাইডে যান।”

“নাহ বলছি না। আমি সাইডে যাবো না।”

“দূর আপনার মতো তাঁর ছিঁড়ার সাথে কথা বলা টাই বোকামি।”

“কথা টা বলেই বেডের অপর পাশে এগিয়ে যায় আদ্রিয়ানা। বেবিদের কে বেডের মাঝখানে দিয়ে কোন রোকমে বেডের সাইডে শুয়ে পড়ে আদ্রিয়ানা। তা দেখে আদনান উঠে বসে। বেবিদের দিকে তাকিয়ে দেখে বেবিরা হাসছে। আধীর আদ্রিয়ানার পাশে শুয়েছে দেখে অধীরের দিকে রাগী দৃষ্টিতে তাকায় আদনান। আর হাত দিয়ে ইশারা করে আধীর কে সরে যেতে বলে আদনান। তা দেখে আধীর বলে”..

“পাপা তুমি কি মাম্মামের পাশে ঘুমাতে চাও?”

“আদনান হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়ায়।”

“একটা শর্তে তোমাকে মাম্মামের পাশে ঘুমাতে দিতে পারি।”

“কি শর্ত তাড়াতাড়ি বলো!”

“আমাকে ফোন দেখতে দিলে তোমাকে মাম্মামের পাশে ঘুমাতে দিবো।”

“আদনান নিজের ফোন টার লক খুলে দিয়ে আধীরের দিকে এগিয়ে দেয়। আধীর ফোন নিয়ে আদ্রিয়ানার পাশ থেকে উঠে যায়। তা দেখে আদনান আধীরের কপালে একটা চুমু দিয়ে আদ্রিয়ানার পাশে শুয়ে পড়ে। আদ্রিয়ানার ঠোঁটে আলতো করে চুমু দিয়ে আদ্রিয়ানা কে জড়িয়ে ধরে আদনান। কিছুক্ষণের মধ্যেই আদনান আর আদ্রিয়ানা হারিয়ে যায় ঘুমের রাজ্যে।”

“রাত বারোটা বাজে। আধীর আর অর্ণি এখনো ফোন দেখছে। ঘুমানোর কোন নাম নেয়।”

“আধীর অনেত নাত হয়েছে এইবার ডুমিয়ে পতি তল।”

“ঠিক আছে চল।

“আদনানের ফোন টা রেখে দিয়ে দু’জনেই ঘুমিয়ে পড়ে।”

চলবে..

( ভুল ক্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন ধন্যবাদ )

Share On:

TAGS: ,



CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
Related Posts
 

0 Responses

Leave a Reply