দ্যাব্ল্যাকমার্ক
লেখনীতেআশুও_নিশু
পর্বসংখ্যা_১৪
দুপুর ১২ টা।
তুবা রান্নাঘরে আতিয়া বেগমকে রান্নায় সাহায্য করছে।
হঠাৎ পেছন থেকে গম্ভীর আওয়াজে কেউ ডেকে উঠে,
“তুবা?”
তুব পেছনে তাকায়।
“জ্বী কিছু লাগবে?”
নিহান বুকে হাত গুজে বলে,
“রান্নাঘরে এসেছ কেন?”
“রান্না করতে।”
নিহান এবার ধমকের সুরে বলে,
“তোমার জ্বর এখনো ভালো হয়নি তো রান্নাঘরের কাজ করলে আরো বেড়ে যাবে।নিজের শরীরের কথা নিজেই তো ভাবো না।”
তুবা শান্ত ভাবে বলে,
“আমি কেয়ারটেকার আমার কথা আপনার ভাবলেও চলবে।”
নিহান তীক্ষ্ণ চোখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে তুবার দিকে।
তুবা কিছু বলে না ওদিকে ফিরে কাজ করতে লাগল।নিহান কিছুক্ষণ পর রান্নাঘর ছেড়ে নিজের রুমে চলে যায়।তুবা দীর্ঘ শ্বাস নেয়।নিহান রুমে গিয়ে বিছানার উপর বসে পড়ে।
দাঁত দাঁত চেপে বলে,
“আসলেই কেয়াটেকার কেয়ারটেকার এর মতোই থাক আমারিই উচিত হয়নি রাস্তার একটা মেয়েকে নিয়ে এতো ভাবা।”
নিহান এসব বলতো বলতে দরজায় কেউ নক করে।
“আসব নিহান?”
“হুম আসো।”
নিশান ভেতরে ঢুকে।নিহানকে দেখে বলে,
“রেগে আছিস নাকি কোনো কারণে?”
নিহান হালকা ভ্রু কুচকালো।
“না,রেগে থাকবো কেন।”
“আচ্ছা যা বলতে এসেছিলাম।আজ রাতের ফ্লাইটে কানাডা যাচ্ছি।”
“কেনো?”
“অফিসের কাজে।আমি,নাহিয়ান আর তুই।”
“আমি যাবোনা।”
“কেনো?ওই কেয়ারটেকার টার জন্য।”
নিহান পকেটে থাকা হাত মুষ্টিবদ্ধ করল।আর স্বাভাবিক কন্ঠে বলে,
“কোনো কেয়ারটেকার এর জন্য না। আমি অফিসে বসব।”
“ওকে ফাইন!”
“নোভাকে নিয়ে যাবানা?”
“না।ও এখানেই থাকবে।আর শোন কড়া নজর রাখবি ওর উপর।পালিয়ে গেলে পরে বিপদ হবে।”
“আমি কীভাবে নজর রাখবো?আমি পারবোনা এসব।তুমি তোমার সাথে নিয়ে যাও।”
“আচ্ছা দেখতেছি।”
নিশান চলে যাওয়ার পর নিহান রুমের দরজা লাগিয়ে ড্রিংক্সের বোতলে হাত দেয়।পুরনো নেশাটা আবার জেগে উঠছে নিহানের মনে।তুবা যখন থেকে এসেছে নিহান ডিংক্স ছুঁয়েও দেখেনি কিন্তু আজ সে নিজ থেকেই ডিংক্স করছে।নিহানও জানে না তার এমন করার মানে।
★★★
নোভা বেলকনিতে দাড়িয়ে আছে।নিশান পেছন থেকে এসে বলে,
“ব্যাগপত্র গুছিয়ে নাও।”
নোভা হঠাৎ ভয় পেয়ে উঠে।কিছুক্ষণ চুপ থেকে নিশানকে বলে,
“বাসায় যাওয়ার জন্য?”
“কানাডা যাচ্ছি।”
নোভা তাড়াতাড়ি করে বলে,
“কীহ্?আপনি গেলে যান আমি বাসায় যাবো।”
নিশান হেসে বলে,
“তুমি জানো যে তুমি আর কোনোদিন বাসায় যেতে পারবেনা তাও কেমো বারবার একি কথা বলে আমার মাথা গরম করো?”
নোভা এবার রেগে বলে,
“চুপ করুন।আমি আপনার দাসী নয় যে এখানে থাকব।আমার এই বাড়িতে কোনো পরিচয় নেই।শুধু একটাই পরিচয় ছিলো আপনি আমার অফিসের স্যার ছিলেন আর আমি আপনার এসিট্যান্ট।এটুকুতেই।”
নিশান নোভার কানের কাছে মুখ নিয়ে যায় আর ফিসফিস করে বলে,
“এছাড়াও আরেকটা পরিচয় আছে সেটা নাহয় গোপন থাক।”
নোভা নিশানের মুখকে নিজের কানের কাছ থেকে হাত দিয়ে দূরে সরিয়ে দেয়।নিশান জোড়ে হেঁসে উঠে।নোভা রাগে ফুসতে ফুঁসতে বলে,
“আপনার মতো নিলর্জ্জ দুনিয়াতে একটাও দেখিনি।”
নিশান গর্ভ করে বলে,
“কারণ নিশান এহসান পৃথিবীতে একপিস।”
নোভা বিড়বিড়ি করে বলল,
“বেয়াদব লোক।”
নিশান আদেশ করে বলে,
“তুমি রেডি হয়ে থাকবে আজ রাতের ফ্লাইটে কানাডা যাচ্ছি।সত্যিই!”
“ফাজলামো পেয়েছেন?”
“যেটা বলেছি সেটা করবে নাহলে অবস্থা খারাপ করে দেবো।”
নোভা দমে যায়।লোকটার সাথে তর্ক করে লাভ নেই।আসলেই কিচ্ছুই করার নেই।সুযোগ বুঝে কিছু করবেই করবে সে।
★★★
নাহিয়ান বের হয়েছিল নিজের জন্য কিছু শপিং করতে।
আজ গাড়ি নিয়ে বের হয়নি সে।মনটা কেমন ভার ভার লাগছে।হঠাৎ কারো সাথে ধাক্কা খেয়ে রাস্তায় পড়ে গেল।
নাহিয়ান নিচে আর মেয়েটি তার উপরে।পুরে মুখ ডেকে আছে চুল দিয়ে।নাহিয়ান বিরক্তিতে ‘চ’ সূচক শব্দ করল।
বিরক্ত কন্ঠে বলে,
“চোখে দেখতে পান না?”
মেয়েটি মুখ থেকে চুল সরিয়ে দেয়।নাহিয়ান দুি-তিন সেকেন্ড তাকাতেই দেখে তিশা।মুখে রাগের ছাপ স্পষ্ট।তিশা অন্তত রেগে বলে,
“নিজে অন্ধ হয়ে আবার আমাকে অন্ধ বলছেন?”
“একটা থাপ্পড় দিবো।”
তিশা সমান তালে বলে,
“সেম টু ইউ।”
“আমার উপর থেকে উঠো।”
তিশা উঠতে চেষ্টা করছে তখনিই পায়ে পিছলা কিছু পেয়ে আবারও নাহিয়ানের বুকের উপর পড়ে গেল।নাহিয়ান ধমকের সুরে বলে,
“এ্যাই মেয়ে?এত নাটক করছো কেন?আমার বুকের উপর পড়ে থাকতে খুব ভালো লাগে বুঝি?”
তিশা রাগী চোখে তাকায় নাহিয়ানের দিকে।আবারও উঠার চেষ্টা করে এবার সফল হয়।তিশা উঠার সাথে সাথে নাহিয়ান ও উঠে পড়ে।
“ভাগ্য ভালো রাস্তার মাঝখানে পড়িনাই নাহলে এখন গাড়ির নিচে পিষে ম*রতা।”
“আপনার ই দোষ।”
“আমার দোষ না তোমার দোষ।”
“তুবা আজকেও আসেনি কেনো?
” ও অসুস্থ।”
“আচ্ছা।”
বলেই সামনের দিকে হাটতে শুরু করল তিশা।নাহিয়ান ও নিজের কাজে যায়।
★★★
নিহান নেশাক্ত অবস্থায় বিছানায় শুয়ে আছে।নিজের মবে বিড়বিড় করে কি যেনো বলছে।তুবা দরজা নক করে বাইরে থেকে।নিহান টলমল পায়ে গিয়ে দরজা খুলে।চোখ ঝাপসা ঝাপসা লাগছে নিহানের।তুবা নিহানকে দেখে কেমন ছন্নছাড়া লাগছে দেখতে,চুলগুলো এলোমেলো।তুবার বুকটা ধক করে উঠে। মনে মনে বলে,’এখানে আসাই তো ভুল হয়েছে।’
নিহান নেশাক্ত কন্ঠে বলে,
“কাছে আসো।”
তুবা থমমত খেয়ে বলে,
“ইয়ে না মানে আমি আসি এখন।”
নিহান তুবার হাত ধরে টান দিয়ে রুমের ভেতরে নিয়ে আসে।তুবা ভয়ে চোখ মুখ কুঁচকে ফেলে।নিহান চোখ একটু একটু বন্ধ করে মুচকি হাসে। তুবা বিড়বিড় করে বলে,
“কী বিপদে ফাসলাম।এই সা’ইকোটার রুমে ঢুকাই ভুল।”
“কিছু বললে?”
“উহু।”
“কাছে আসো।”
“আম..আমার কাজ আছে।ছ..ছাড়ুন প্লিজ।”
নিহান তুবার হাতে আবারো টান দেয় যার ফলে তুবা নিহানের বুকের সাথে মিশে যায়।নিহান এক হাত দিয়ে তুবার চুলের হাত বুলাতে থাকে।নিহানের কড়া পারফিউমের ঘ্রাণ তুবার নাকে লাগছে।ছটফট করতে থাকে নিহানের বুক থেকে উঠার জন্য। নিহান যেনো নিজের মাঝেই নেই।তুবা কোনোমতে নিহানের বুক থেকে মাথা তোলে।নিহান হাস্কি স্বরে বলে,
“উফ্!এমন করছো কেন?সোনা?”
তুবা বিস্মিত নজরে তাকায় নিহানের দিকে।নিহান নিষ্পলক
ভাবে তাকিয়ে আছে তুবার দিকে।তুবা গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আছে।কোনো কিছুর আভাস পেতেই ছুটতে মন চাইছে।তুবা পালাতে যাবেই তখন নিহান তুবার কোমড় জড়িয়ে কাছে টেনে নেয়।তুবা আমতা আমতা করে বলে,
“আ..আপনি নেশায় আছেন ছাড়ুন আমাকে।আমি সমান্য কেয়ারটেকার আর আপনি তো মালিক।”
নেশায় থাকার পর ও নিহান চটে যায়।কোমড় ছেড়ে দুহাত দিয়ে তুবার গালের দুপাশ আলতো করে ধরে।তুবা কেঁপে উঠে। নিহান তুবার ঠোঁট নিজের ঠোঁটের সাথে চেপে ধরে।চেপে ধরে বললে ভুল হবে। নিহান কামড়াচ্ছে বারবার।নিহান এসব করলেও তুবার মনে বারবার সকালের কথাগুলে বাজঝে।তুবা ছটফট করছে দেখে নিহান আর এক হাত কোমড়ে নিয়ে যায়।তুবা কিছু বলতে না পেরে পা দিয়ে নিহানের পায়ে নখ বসিয়ে দেয়।নিহান হালকা ব্যাথা পেয়ে তুবার ঠোঁট ছেড়ে দেয়।এক আঙুল দিয়ে ঠোঁট মুছে নেয়।
নিহানের এক হাত এখন ও তুবার কোমড়ে।আরেক হাত দিয়ে কোমড় ধরে আবারও। দুই হাত দিয়ে কোমড় ধরে
হালকা উপরে তুলে তুবার পা জোড়া নিহানের পায়ের উপর রাখে।তুবা কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলে,
“ঘেন্না করি আমি আপনাকে?শুনেছেন?ঘেন্না করি আপনাকে।ছাড়ুন আমাকে।”
“ঘেন্না করোই যখন আরো ঘেন্না করার মতো কাজেই করছি সোনা।”
“কাজের লোককে সোনা বলতে কাজের লোজের কাছে আসতে লজ্জা করছেনা।”
“না।কাজের লোক যদি এমন হ*ট হয় তাহলে লজ্জা করার কথা না।”
তুবা এবার রাগান্বিত চোখে তাকায়।নিহান ঠোঁট কামড়ে হাসে।নিহান খেয়ার করল তুবার ঠোঁট থেকে হালকা হালকা রক্ত বের হচ্ছে। নিহান বুড়ো আঙুল দিয়ে ঠোঁটের রক্তটুকু কে নেয়।তুবার পা এখনো নিহানের পায়ের উপর।অস্বস্তি, রাগ,ভয়ে তুবা শেষ হয়ে যাচ্ছে।
“এটা কেমন সম্পর্ক?বলবেন?আমি সামান্য কাজের লোক আর আপনি মালিক আর কাজের লোকের সাথে এসব করছেন।লোকে শুনলে আপনার মুখে থুথু দিবে।আমার পবিত্র সত্তাটুকুকে অপবিত্র বানাতে আপনার বাধলো না?বলুন?একবারো বাঁধলো না?আমার আপনাকে দেখে থুথু দিতে ইচ্ছে করে।আপনি অমানুষের খাতায় আপনার নাম সবার প্রথমে থাকবে নিহান এহসান।”
নিহান হো হো করে হেঁসে উঠে।
“ভালোই!আমাকে অমানুষ যেহেতু বলেছো আসো অমানুষের পরিচয় আরো বাড়তি হোক।আমি অমানুষ আমি নিজেই বলি।চলো অরো ভালোকরে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি।”
তুবা রেগে বলে,
“একদম নাটক করবেন না।আপনার মতো অমানুষের সাথে আমার কথা বলতেও ঘেন্না লাগে।”
“ঠিকই তো আমার কাছে আসতে চাও।আমার গায়ের সাথে লাগতে চাও।রাস্তার মেয়ে কোথাকার!আমি যদি তোমাকে এখানে না আনতাম প’তিতালয়ে ই থাকতা।”
তুবার চোখের কোণে হালকা পানি জমে।তাকে কিনা শেষ পর্যন্ত রাস্তায় বলল।কোনো কিছু বলার মতো খুজে পেল না।বুকে চিনচিন ব্যাথা করছে।নিহান থেকে এই কথাটা হজম করতে পারলোনা ঠিক।কেঁদে ফেলল তুবা।
চলবে?
(কালকে ৭ টার দিকে পর্ব আসবে ইনশাআল্লাহ। ১ কে রিয়েক্ট করে দিয়েন সবাই।)
Share On:
TAGS: আশু ও নিশু, দ্যা ব্ল্যাক মার্ক
CLICK HERE GO TO OUR HOME PAGE
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৬
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৩(প্রথমাংশ +শেষাংশ)
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক গল্পের লিংক
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২০
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১২
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ২১
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১৮
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ৭
-
দ্যা ব্ল্যাক মার্ক পর্ব ১১